দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি, ফ্রিজ, আইপিএস/ব্যাটারি, সোলার সেটআপ—সবকিছুই দ্রুত বদলাচ্ছে, আর পুরনোগুলো জমে উঠছে “ই-বর্জ্য” হিসেবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যা বছরে প্রায় ৩০% হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার টনে পৌঁছাবে।
ই-বর্জ্যকে শুধু বর্জ্য হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এতে স্বর্ণ, রুপা, প্ল্যাটিনাম, প্যালাডিয়াম, নিডোমিয়ামসহ বিভিন্ন মূল্যবান ধাতু থাকে, তাই একে ‘আরবান মাইন’ বা শহুরে খনি বলা হয়। কিন্তু এই খনিতে সীসার মতো পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ধাতুও রয়েছে, যা সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা না করলে বিপজ্জনক হতে পারে।
এই সম্ভাবনাময় ই-বর্জ্য স্রোতের বড় অংশ এখনো টোকাই–ভাঙারি–স্ক্র্যাপ ডিলারদের হাতে ঘুরে বেড়ালেও, ভবিষ্যৎ যাচ্ছে লাইসেন্স, ট্রেসেবিলিটি, নিরাপদ রিসাইক্লিং ও EPR (Extended Producer Responsibility)-এর দিকে।
বর্তমানে উৎপাদিত ই-বর্জ্যের মাত্র ০.৫-৩% আনুষ্ঠানিকভাবে (formally) রিসাইকেল করা হয়, বাকি ৯৭% ইনফরমাল বা সনাতন পদ্ধতিতে ব্যবস্থা করা হয়। ফলে এই খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবসা শুরু করা এখন বাস্তবসম্মতভাবে লাভজনক একটি উদ্যোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে “স্ক্র্যাপ ব্যবসা” নয়—আইন, নিরাপত্তা, সাপ্লাই-চেইন, এবং নির্ভরযোগ্য ক্রেতা/রিফাইনার নেটওয়ার্ক—সব মিলিয়ে একটি ব্যবসায়িক সিস্টেম হিসেবে পরিকল্পনা করতে হবে।
বাংলাদেশে ৬০০০ কোটি টাকার আলোচিত এই ইলেক্ট্রনিক-বর্জ্য বাজারে কীভাবে বাস্তবসম্মতভাবে ব্যবসা শুরু করা যায়: কোন ব্যবসায়িক মডেল কিভাবে কাজ করে, লাইসেন্স/নীতিমালা, সাপ্লাই-চেইন, আয়, খরচ, ঝুঁকিসহ সবকিছুর খুঁটিনাটি জানানোই এই লেখার উদ্দেশ্য।
ই-বর্জ্য কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
ই-বর্জ্য বলতে বোঝায় যেকোনো পুরনো, নষ্ট বা অব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যা আর ব্যবহারযোগ্য নেই। এর মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টিভি, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার থেকে শুরু করে ছোট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি। এই বর্জ্যের মধ্যে থাকে মূল্যবান ধাতু যেমন সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম—যা পুনরুদ্ধার করে বিক্রি করা যায়। একই সাথে এতে থাকে সীসা, পারদ, ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর উপাদান যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।
ই-বর্জ্যের প্রধান উৎস ও ঝুঁকি
| ই-বর্জ্যের ধরন | প্রধান উৎস | পরিবেশগত ঝুঁকি |
| মোবাইল ফোন ও ট্যাবলেট | ব্যক্তিগত ব্যবহারকারী, কর্পোরেট অফিস | লিথিয়াম, কোবাল্ট, সীসা দূষণ |
| কম্পিউটার ও ল্যাপটপ | অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি | পারদ, ক্রোমিয়াম, প্লাস্টিক বিষাক্ততা |
| টিভি ও মনিটর | গৃহস্থালি, হোটেল, রেস্তোরাঁ | সীসা গ্লাস, ফসফর দূষণ |
| ফ্রিজ ও এসি | বাসাবাড়ি, বাণিজ্যিক স্থাপনা | CFC গ্যাস, কম্প্রেসার তেল |
| টেলিকম সরঞ্জাম | মোবাইল অপারেটর, টাওয়ার | ইলেকট্রনিক বোর্ড, ব্যাটারি অ্যাসিড |
বাংলাদেশে অবৈজ্ঞানিক উপায়ে ই-বর্জ্য পোড়ানো বা মাটিতে ফেলে দেওয়ার ফলে মাটি ও পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মিশছে। অন্যদিকে, সঠিক প্রক্রিয়ায় রিসাইক্লিং করলে প্রতি কেজি ই-বর্জ্য থেকে ১ ডলারের বেশি মূল্যের কাঁচামাল উদ্ধার করা সম্ভব।
বাংলাদেশে ই-বর্জ্য বাজারের বর্তমান চিত্র
বাংলাদেশের ই-বর্জ্য বাজার এখন একটি উত্থানশীল খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশে ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজার বছরে ১৫% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ২০১৭ সালে ছিল ৪ বিলিয়ন ডলার। এর সাথে সাথে ই-বর্জ্যের পরিমাণও দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ বছরে ১৭০ মিলিয়ন থেকে ৬০০ মিলিয়ন কেজি পর্যন্ত ই-বর্জ্য তৈরি করে, যদিও সবচেয়ে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী এই পরিমাণ ৩৬৭ মিলিয়ন কেজি।
বাজারের পরিসংখ্যান
| সূচক | পরিমাণ/হার | সূত্র |
| বার্ষিক ই-বর্জ্য উৎপাদন | ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার টন | Global E-waste Monitor (২০২৪) এবং স্থানীয় বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের গবেষণা |
| বাজার সম্ভাবনা | ৬০০০ কোটি টাকা (~$৫০০ মিলিয়ন) | WEEE (Waste Electrical and Electronic Equipment) সোসাইটি বাংলাদেশ |
| বার্ষিক বৃদ্ধির হার | ৩০% (ই-বর্জ্য), ১৫% (ইলেকট্রনিক বাজার) | ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) |
| আনুষ্ঠানিক রিসাইক্লিং | ০.৫-৩% | ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) |
| অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা | ৯০% এর বেশি | ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) |
| টেলিকম খাতের আনুষ্ঠানিক সংগ্রহ | ৩০০০ টন/বছর | BTRC তথ্য |
বাংলাদেশে মাথাপিছু ই-বর্জ্য উৎপাদন ১.২ কেজি/বছর, যা প্রতিবেশী দেশ ভারত (২.৪ কেজি) ও মালয়েশিয়ার (১১.১ কেজি) তুলনায় কম। তবে জনসংখ্যার আকার ও ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে মোট ই-বর্জ্যের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষত ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীর মতো বড় শহরগুলোতে এই বর্জ্যের সিংহভাগ উৎপন্ন হয়।
আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের পার্থক্য
বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দুটি সমান্তরাল ধারায় চলছে—আনুষ্ঠানিক (ফরমাল) এবং অনানুষ্ঠানিক (ইনফরমাল) খাত। আনুষ্ঠানিক খাত পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিয়ে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে কাজ করে, যেখানে অনানুষ্ঠানিক খাত টোকাই, স্ক্র্যাপ ডিলার ও মেরামতকারীদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অনানুষ্ঠানিক খাত দেশের ৯০% এর বেশি ই-বর্জ্য পরিচালনা করে, যদিও তাদের কাজে পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বেশি থাকে।
আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের তুলনা
| বৈশিষ্ট্য | আনুষ্ঠানিক খাত | অনানুষ্ঠানিক খাত |
| বাজার শেয়ার | ০.৫-৩% এর কম | ৯০% এর বেশি |
| প্রধান সংগঠক | লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানি (JR Enterprise, Azizu Recycling) | টোকাই, স্ক্র্যাপ ডিলার, মেরামতকারী |
| প্রক্রিয়া | আন্তর্জাতিক মান (R2, ISO), পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি | হস্তচালিত বিভাজন, অ্যাসিড গলন, অনিরাপদ পোড়ানো |
| সুবিধা | উচ্চ মূল্য পুনরুদ্ধার, EPR চুক্তি, রপ্তানি সুবিধা | কম খরচ, বিস্তৃত সংগ্রহ নেটওয়ার্ক, দ্রুত নগদায়ন |
| ঝুঁকি | উচ্চ বিনিয়োগ, সরবরাহ সমস্যা, ক্ষমতা অব্যবহৃত থাকা | পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্য ঝুঁকি, মূল্য হ্রাস, আইনি জটিলতা |
| বিনিয়োগ প্রয়োজন | ১০-১৫০ কোটি টাকা | ৫০ হাজার – ১০ লাখ টাকা |
আনুষ্ঠানিক খাতের কোম্পানিগুলো বড় কর্পোরেট ক্লায়েন্ট যেমন গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এবং ওয়ালটন, কিয়াম, পলি ক্যাবলসের মতো উৎপাদনকারীদের সাথে কাজ করে। তারা ই-বর্জ্য থেকে উদ্ধার করা কাঁচামাল স্থানীয় শিল্পে সরবরাহ করে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিদেশে রপ্তানি করে। অন্যদিকে, অনানুষ্ঠানিক খাত ছোট মেরামত দোকান, খুচরা যন্ত্রাংশের বাজার এবং ভাঙারি দোকানের মাধ্যমে সার্কুলার ইকোনমি তৈরি করেছে, যেখানে প্রায় ৯০% পণ্য মেরামত, পুনর্ব্যবহার বা কাঁচামাল হিসেবে ফিরে আসে।
বাংলাদেশে বিদ্যমান ই-বর্জ্য ব্যবসাগুলো
বাংলাদেশে বর্তমানে কয়েকটি আনুষ্ঠানিক কোম্পানি ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে, যারা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করছে। এই কোম্পানিগুলো টেলিকম অপারেটর, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ করে। পাশাপাশি, অনানুষ্ঠানিক খাতে হাজারো ছোট উদ্যোক্তা মেরামত, পুনঃবিক্রয় এবং ভাঙারির কাজ করছে।
প্রধান ই-বর্জ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
| প্রতিষ্ঠানের নাম | খাতের ধরন | সেবা ও বিশেষত্ব | ক্ষমতা/বিনিয়োগ | রাজস্ব মডেল |
| Azizu Recycling & E-Waste Company Ltd | আনুষ্ঠানিক | সম্পূর্ণ রিসাইক্লিং, মেটাল রিকভারি, সিঙ্গাপুরের TES-AMM সাথে অংশীদারত্ব | ৭০০০ টন/বছর, ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ | কাঁচামাল বিক্রয়, কর্পোরেট চুক্তি, EPR |
| JR Recycling Solutions Ltd | আনুষ্ঠানিক | টেলিকম সরঞ্জাম, সরকারি প্রতিষ্ঠান সেবা, R2 সার্টিফাইড | ২০১১ সাল থেকে, বৃহত্তম | সংগ্রহ ফি, রিসাইক্লিং বিক্রয় |
| M/S Zaman Enterprise | আনুষ্ঠানিক | ইলেকট্রনিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার | মধ্যম আকার | পুনর্বিক্রয়, যন্ত্রাংশ সরবরাহ |
| SGS Bangladesh Limited | আনুষ্ঠানিক | কর্পোরেট স্তরে মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ রিসাইক্লিং | বড় কর্পোরেট ক্লায়েন্ট | পরিদর্শন ও রিসাইক্লিং সেবা |
| Yousuf Enterprise | আনুষ্ঠানিক | স্থানীয় পর্যায়ে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ | স্থানীয় নেটওয়ার্ক | স্ক্র্যাপ সংগ্রহ ও বিক্রয় |
| Array Consortium | আনুষ্ঠানিক | ই-বর্জ্য রিসাইক্লিং সেবা | নতুন প্রবেশকারী | মাল্টি-সেক্টর সেবা |
| টোকাই নেটওয়ার্ক | অনানুষ্ঠানিক | দরজায় দরজায় সংগ্রহ, প্রাথমিক বিভাজন | সারাদেশে বিস্তৃত | নগদ ক্রয়, ভাঙারি বিক্রয় |
| মেরামত ও পুনঃবিক্রয় হাব | অনানুষ্ঠানিক | মোবাইল/ল্যাপটপ মেরামত, যন্ত্রাংশ বাজার | ঢাকা, চট্টগ্রামে কেন্দ্রীভূত | সার্ভিস ফি, যন্ত্রাংশ বিক্রয় |
Azizu Recycling বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক রিসাইক্লিং সুবিধা নিয়ে কাজ করছে, যা নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। তাদের বার্ষিক ৭০০০ টন প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা থাকলেও, অপর্যাপ্ত সংগ্রহ ব্যবস্থার কারণে বর্তমানে মাত্র ৩০% ক্ষমতায় কাজ করছে। JR Enterprise ২০১১ সাল থেকে প্রধানত টেলিকম খাতে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক R2 সার্টিফিকেট পেয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খাতে টোকাই ও মেরামতকারীদের নেটওয়ার্ক প্রতিটি শহরে ছড়িয়ে আছে, যারা দ্রুত সংগ্রহ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণে দক্ষ।
সরকারি নীতিমালা ও উদ্যোগ
বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সালে “Hazardous Waste (E-waste) Management Rules, 2021” প্রণয়ন করেছে, যা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করে। এই নীতিতে Extended Producer Responsibility (EPR) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যেখানে উৎপাদকদের প্রথম বছর ১০% এবং পঞ্চম বছরের মধ্যে ৫০% ই-বর্জ্য সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া, সরকার ৫৭ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৮০ কোটি টাকা) বিনিয়োগে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে একটি আধুনিক ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে, যা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে বাস্তবায়িত হবে।
সরকারি উদ্যোগ ও সুবিধা
| উদ্যোগের নাম | উদ্দেশ্য | উদ্যোক্তাদের সুবিধা |
| E-Waste Management Rules 2021 | উৎপাদক দায়বদ্ধতা, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা | আইনি কাঠামো, ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা |
| Extended Producer Responsibility (EPR) | উৎপাদকদের ১০-৫০% সংগ্রহ লক্ষ্য | নিশ্চিত চুক্তি, দীর্ঘমেয়াদী আয় |
| কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক প্রকল্প | ৫৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি | PPP সুবিধা, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ |
| পরিবেশ অধিদপ্তর লাইসেন্স | অনুমোদিত রিসাইক্লার তালিকা | বৈধতা, কর্পোরেট চুক্তি, রপ্তানি অনুমতি |
| আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ | অবৈধ ই-বর্জ্য আমদানি বন্ধ | স্থানীয় বাজার সুরক্ষা |
EPR নীতির অধীনে, ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী যেমন ওয়ালটন, সিঙ্গার, স্যামসাং এবং টেলিকম অপারেটর যেমন গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংককে তাদের বিক্রিত পণ্যের ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বিশাল সুযোগ, কারণ এসব বড় কোম্পানি লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিসাইক্লারদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে বাধ্য। কালিয়াকৈর প্রকল্পটি বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি এবং আইসিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে, যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত সহায়তা পাবে।
রাজস্ব মডেল: কীভাবে আয় হবে?

ই-বর্জ্য ব্যবসায় আয়ের বিভিন্ন উৎস রয়েছে, যা ব্যবসার ধরন ও বিনিয়োগের আকারের উপর নির্ভর করে। প্রধান আয়ের মডেলগুলো হলো মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার ও বিক্রয়, পুনঃসংস্কার করে পণ্য বিক্রয়, কাঁচামাল সরবরাহ, সংগ্রহ ফি এবং EPR চুক্তি। প্রতিটি মডেলের লাভজনকতা ভিন্ন এবং বিভিন্ন মাত্রার দক্ষতা প্রয়োজন।
রাজস্ব মডেল ও মুনাফাযোগ্যতা
| রাজস্ব মডেল | প্রাথমিক বিনিয়োগ | প্রয়োজনীয় দক্ষতা | লাভের সম্ভাবনা |
| মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার (সোনা, রূপা, তামা) | ৫০ লাখ – ১০ কোটি টাকা | রাসায়নিক প্রক্রিয়া, মেটালার্জি | প্রতি কেজি ১+ ডলার, ২০-৩০% মার্জিন |
| পুনঃসংস্কার ও পুনঃবিক্রয় | ১০ হাজার – ৫ লাখ টাকা | মেরামত দক্ষতা, বাজার জ্ঞান | ৩০-৫০% মার্জিন (মোবাইল/ল্যাপটপ) |
| কাঁচামাল সরবরাহ (প্লাস্টিক, ধাতু, তার) | ১-৫ লাখ টাকা | বিভাজন, বাছাই, নেটওয়ার্কিং | ১৫-২৫% মার্জিন |
| সংগ্রহ ফি (কর্পোরেট/বাসাবাড়ি) | ৫০ হাজার – ২ লাখ টাকা | যানবাহন, লজিস্টিকস | প্রতি কেজি ১০-৫০ টাকা |
| EPR চুক্তি (দীর্ঘমেয়াদী) | ১০ লাখ – ৫০ লাখ টাকা | লাইসেন্স, প্রযুক্তি, রিপোর্টিং | স্থিতিশীল, ২৫-৪০% মার্জিন |
| যন্ত্রাংশ বাজার | ২ লাখ – ১০ লাখ টাকা | প্রযুক্তিগত জ্ঞান, মজুদ ব্যবস্থাপনা | ৪০-৬০% মার্জিন |
মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার সবচেয়ে লাভজনক, কারণ শুধু মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের PCB (Printed Circuit Board) থেকে সোনা, রূপা, প্যালাডিয়ামের মতো ধাতু পাওয়া যায়, যার মূল্য প্রতি টন ১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে ২০৩০ সালের মধ্যে। Azizu Recycling তাদের রিসাইক্লিং থেকে প্রাপ্ত কাঁচামাল ওয়ালটন, কিয়াম, পলি ক্যাবলস এবং রি-রোলিং মিলে সরবরাহ করে নিয়মিত আয় করছে। পুনঃসংস্কার মডেলে, পুরনো মোবাইল ফোন ৫০০-২০০০ টাকায় কিনে মেরামত করে ২০০০-৬০০০ টাকায় বিক্রয় সম্ভব, যা ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য আদর্শ।
ধাপে ধাপে ই-বর্জ্য ব্যবসা শুরুর গাইড
ই-বর্জ্য ব্যবসা শুরু করতে চাইলে সঠিক পরিকল্পনা, বাজার গবেষণা এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। আপনার বিনিয়োগ ক্ষমতা ও লক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে ছোট (মেরামত/সংগ্রহ), মাঝারি (আঞ্চলিক রিসাইক্লিং) বা বড় (সম্পূর্ণ রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট) স্কেলে শুরু করতে পারবেন। প্রতিটি স্তরের জন্য ভিন্ন প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ধাপ ১: বাজার গবেষণা ও পরিকল্পনা
আপনার এলাকায় কোন ধরনের ই-বর্জ্যের সরবরাহ বেশি তা চিহ্নিত করুন। শহরাঞ্চলে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বেশি পাওয়া যায়, আর শিল্পাঞ্চলে টেলিকম সরঞ্জাম ও বড় যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়। স্থানীয় স্ক্র্যাপ ডিলার, মেরামতকারী এবং কর্পোরেট অফিসের সাথে কথা বলে সরবরাহ ও চাহিদা বুঝে নিন।
ধাপ ২: সরবরাহকারী ও ক্রেতা নেটওয়ার্ক তৈরি
ই-বর্জ্য সংগ্রহের জন্য টোকাই, স্ক্র্যাপ ডিলার, কর্পোরেট অফিস, মেরামত দোকান এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের সাথে যোগাযোগ তৈরি করুন। কাঁচামাল বিক্রয়ের জন্য স্থানীয় ফ্যাক্টরি, প্লাস্টিক কারখানা, তার কারখানা এবং রি-রোলিং মিলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করুন।
ধাপ ৩: আইনি লাইসেন্স ও অনুমোদন
আনুষ্ঠানিক খাতে কাজ করতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE) থেকে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লাইসেন্স নিতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সার্টিফিকেট এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড (যদি রাসায়নিক প্রক্রিয়া করেন) অনুসরণ করুন। ছোট স্কেলে শুরু করলে প্রথমে শুধু ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে শুরু করে পরে DoE লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
ধাপ ৪: সরঞ্জাম ও স্থান
মেরামত/সংগ্রহ ব্যবসার জন্য প্রয়োজন ছোট দোকান (১০০-৫০০ বর্গফুট), মৌলিক হাতিয়ার (স্ক্রু ড্রাইভার, প্লায়ার্স), ওজনের যন্ত্র এবং সংরক্ষণ বক্স। মাঝারি রিসাইক্লিং প্ল্যান্টের জন্য ৫০০০-১০০০০ বর্গফুট জায়গা, শ্রেডিং মেশিন, বিভাজন টেবিল এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রয়োজন। বড় প্ল্যান্টে আরও প্রয়োজন গলানোর চুল্লি, রাসায়নিক ট্যাংক এবং বর্জ্য জল শোধনাগার।
ধাপ ৫: নিরাপত্তা মানদণ্ড ও প্রশিক্ষণ
কর্মীদের জন্য সুরক্ষা সরঞ্জাম (গ্লাভস, মাস্ক, গগলস, জুতা) বাধ্যতামূলক, কারণ ই-বর্জ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্জ্য নিষ্কাশন ও সংরক্ষণ করুন। কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য DoE এবং WEEE Society Bangladesh-এর প্রোগ্রামে যোগ দিতে পারেন।
ই-বর্জ্য ব্যবসার শুরুর ধাপ ও খরচ (ক্ষুদ্র ও মাঝারি স্কেল)
| ধাপ | মূল কাজ | আনুমানিক খরচ (২০২৬ দর) | সময় |
| বাজার গবেষণা | কোন এলাকায় ই-বর্জ্য বেশি (যেমন: আইডিবি ভবন বা শিল্প এলাকা) তা যাচাই। | ৫ – ১০ হাজার টাকা | ২-৩ সপ্তাহ |
| লাইসেন্সিং ও লিগ্যাল | ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র (NOC)। | ২৫ – ৫০ হাজার টাকা | ১-৩ মাস |
| স্থান ভাড়া | ৫০০-১০০০ বর্গফুটের গুদাম (৩-৬ মাস অগ্রিমসহ)। এলাকাভেদে ভিন্ন হয়। | ৮০ হাজার – ১.৫ লাখ টাকা | ১ মাস |
| সরঞ্জাম ক্রয় | ওজন মাপার বড় যন্ত্র, ডিসমেন্টলিং টুলস (ড্রিল, স্ক্রু-ড্রাইভার), পেষণ যন্ত্র। | ৫০ হাজার – ১ লাখ টাকা | ২ সপ্তাহ |
| প্রাথমিক মজুদ | অন্তত ১-২ টন ই-বর্জ্য (ল্যাপটপ, মোবাইল বা মাদারবোর্ড) সংগ্রহ। | ২ – ৫ লাখ টাকা | চলমান |
| নিরাপত্তা (PPE) | ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্লাভস, মাস্ক, চশমা এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। | ১৫ – ২০ হাজার টাকা | ১ সপ্তাহ |
| লজিস্টিকস | ছোট ভ্যান বা পিকআপ ভাড়া বা ডাউনপেমেন্ট। | ৩০ – ৬০ হাজার টাকা | ১ সপ্তাহ |
বিনিয়োগ, ঝুঁকি ও নিরাপত্তা বিবেচনা
ই-বর্জ্য ব্যবসায় বিনিয়োগের পরিমাণ আপনার লক্ষ্যের স্কেল অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা থেকে ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ছোট মেরামত ও সংগ্রহ ব্যবসায় ৫০ হাজার – ৫ লাখ টাকা, মাঝারি রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে ১০-৫০ লাখ টাকা এবং বড় সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টে ৫০ লাখ – ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি, এই ব্যবসায় বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে যা আগে থেকে বুঝে পরিকল্পনা করা জরুরি।
খরচ, ঝুঁকি ও সমাধান
| খরচের ধরন / ঝুঁকি | বিবরণ | আনুমানিক পরিমাণ / প্রভাব | প্রশমন কৌশল |
| প্রাথমিক বিনিয়োগ (ছোট) | দোকান, সরঞ্জাম, লাইসেন্স | ১-৫ লাখ টাকা | ক্ষুদ্র ঋণ, নিজস্ব সঞ্চয়, অংশীদারত্ব |
| প্রাথমিক বিনিয়োগ (মাঝারি) | জায়গা, যন্ত্রপাতি, কর্মী | ১০-৫০ লাখ টাকা | ব্যাংক ঋণ, সরকারি স্কিম, বিনিয়োগকারী |
| প্রাথমিক বিনিয়োগ (বড়) | সম্পূর্ণ প্ল্যান্ট, প্রযুক্তি | ৫-১৫০ কোটি টাকা | PPP মডেল, বিদেশি অংশীদার, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল |
| পরিচালন খরচ (মাসিক) | ভাড়া, বেতন, বিদ্যুৎ, পরিবহন | ৫০ হাজার – ১০ লাখ টাকা | দক্ষ সরবরাহ শৃঙ্খল, স্বয়ংক্রিয়করণ |
| সরবরাহ অনিশ্চয়তা | অনিয়মিত ই-বর্জ্য প্রাপ্তি | ক্ষমতার ৩০-৭০% অব্যবহৃত | বহু সরবরাহকারী, EPR চুক্তি, সংগ্রহ কেন্দ্র |
| স্বাস্থ্য ঝুঁকি | ভারী ধাতু, রাসায়নিক বিষক্রিয়া | দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা | নিরাপত্তা গিয়ার, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বায়ুচলাচল |
| পরিবেশগত দায় | অনুপযুক্ত নিষ্কাশন, দূষণ | জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল | DoE নিয়ম মানা, বর্জ্য জল শোধন, প্রশিক্ষণ |
| মূল্য অস্থিরতা | ধাতু ও কাঁচামালের দাম ওঠানামা | ১০-২৫% মার্জিন পরিবর্তন | বৈচিত্র্যময় পণ্য, দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি |
স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ই-বর্জ্যে থাকা সীসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি এবং প্রজনন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই কর্মীদের জন্য পূর্ণ সুরক্ষা সরঞ্জাম, কর্মস্থলে বায়ুচলাচল ব্যবস্থা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। Azizu Recycling তাদের প্ল্যান্টে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অনুসরণ করছে এবং সিঙ্গাপুরের TES-AMM-এর সাথে অংশীদারিত্ব করে প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। সরবরাহ অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় একাধিক উৎস থেকে ই-বর্জ্য সংগ্রহ এবং বড় কোম্পানির সাথে EPR চুক্তি করা জরুরি।
উদ্যোক্তাদের জন্য বাস্তব পরামর্শ
ই-বর্জ্য ব্যবসায় সফল হতে হলে শুধু বিনিয়োগ নয়, সঠিক কৌশল ও নেটওয়ার্কিং দরকার। নতুন উদ্যোক্তারা প্রায়ই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করে সরবরাহ সমস্যায় পড়ে। তাই ছোট স্কেল থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে বাড়ানো বুদ্ধিমানের কাজ।
ছোট থেকে শুরু করুন: প্রথমে শুধু একটি নির্দিষ্ট ধরনের ই-বর্জ্য (যেমন মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার) নিয়ে কাজ শুরু করুন। এতে আপনি ওই পণ্যের বাজার, যন্ত্রাংশ মূল্য ও মেরামত প্রক্রিয়া ভালোভাবে শিখতে পারবেন। অভিজ্ঞতা অর্জনের পর অন্যান্য পণ্যে সম্প্রসারণ করুন।
নেটওয়ার্কিং অপরিহার্য: টোকাই, স্ক্র্যাপ ডিলার, মেরামতকারী এবং কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করুন। WEEE Society Bangladesh, শিল্প সংস্থা এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কে যুক্ত হন। নিয়মিত টেলিকম অফিস, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ রাখুন যারা পুরনো সরঞ্জাম বদলায়।
প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করুন: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড যেমন R2 (Responsible Recycling) বা ISO সার্টিফিকেশন নিলে বড় কর্পোরেট ক্লায়েন্ট পাওয়া সহজ। কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিন এবং নিরাপত্তা নিয়ম কঠোরভাবে মানুন।
অংশীদারিত্ব বিবেচনা করুন: একা সম্পূর্ণ প্ল্যান্ট করা কঠিন, তাই বড় রিসাইক্লারদের সাথে সরবরাহকারী বা সংগ্রহকারী হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন। Azizu বা JR Enterprise-এর মতো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির সাথে সাপ্লাই চেইন অংশীদার হওয়া লাভজনক।
সামাজিক সচেতনতা তৈরি করুন: স্থানীয় পর্যায়ে ই-বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব ও সঠিক নিষ্কাশন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করুন। বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ সেবা চালু করলে নিয়মিত সরবরাহ পাবেন। স্কুল-কলেজে ক্যাম্পেইন করলে তারা আপনার নিয়মিত গ্রাহক হতে পারে।
মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা রাখুন: ব্যবহারকারীদের ই-বর্জ্যের জন্য ন্যায্য মূল্য দিন, যাতে তারা আপনার কাছে নিয়মিত আসে। কর্পোরেট ক্লায়েন্টদের জন্য স্বচ্ছ রিপোর্টিং ও সার্টিফিকেট প্রদান করুন, যা তাদের EPR নীতি মেনে চলতে সাহায্য করে।
শেষ কথা
বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবসার সুযোগ বড়—কারণ উৎপাদন বাড়ছে, আর বাজারের বড় অংশ এখনও অনানুষ্ঠানিক হলেও সরকার ২০২১ সালের কাঠামোর মাধ্যমে ফরমাল ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে চাইছে। সফল হতে হলে “যে কোনোভাবে স্ক্র্যাপ কেনা” নয়—সোর্সিং চেইন, কমপ্লায়েন্স, নিরাপত্তা, এবং নির্ভরযোগ্য অফটেকার—এই চারটি পিলারের ওপর দাঁড়াতে হবে।
এই খাতে সবচেয়ে টেকসই উদ্যোক্তা হবে সেই ব্যক্তি/দল—যারা ছোট পরিসরে নিয়ম মেনে শুরু করে, ধীরে ধীরে ট্রেসেবিলিটি-ভিত্তিক সার্ভিস ও পার্টনারশিপ গড়ে তোলে, এবং নিরাপত্তা-কমপ্লায়েন্সকে ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে।


