সাকরাইন: রং বেরঙের ঘুড়ির উৎসব, ঐতিহ্য ও তাৎপর্য

সর্বাধিক আলোচিত

পুরান ঢাকার আকাশ আজ আর নীল নেই; আজ তা আবির রঙা, আজ তা রঙিন কাগজের দখলে। বছরের ৩৬৪ দিন যে আকাশটা ধুলো আর ধোঁয়ায় কিছুটা ম্লান থাকে, পৌষের শেষ দিনে সেই আকাশটাই হয়ে ওঠে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাণবন্ত ক্যানভাস। বলছি ‘সাকরাইন’-এর কথা। পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি—নাম যাই হোক না কেন, ঢাকাবাসীর কাছে এটি আবেগের অপর নাম ‘সাকরাইন’।

২০২৬ সালের এই জানুয়ারির শীতে যখন কুয়াশা চাদর মুড়ি দিয়ে আছে শহর, তখন পুরান ঢাকার অলিগলি, ছাদ আর কার্নিশে চলছে এক মহাযজ্ঞ। এই উৎসব কেবল ঘুড়ি ওড়ানোর নয়; এটি একতা, ঐতিহ্য এবং তারুণ্যের এক অদ্ভুত মিশেল। আসুন, হারিয়ে যাই পুরান ঢাকার সেই জাদুকরী আবহে, যেখানে সুতোর টানে বাঁধা পড়ে আছে বাঙালির শতবর্ষের ইতিহাস।

সাকরাইন ২০২৬: এক নজরে

  • তারিখ: ১৪–১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (পৌষ সংক্রান্তি)
  • প্রধান এলাকা: শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, সূত্রাপুর, লক্ষ্মীবাজার, লালবাগ, গেন্ডারিয়া
  • প্রধান আকর্ষণ: ঘুড়ি উৎসব, ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি, ডিজে পার্টি
  • জনপ্রিয় খাবার: বিরিয়ানি/তেহারি, নানা ধরনের পিঠা, মুড়ির মোয়া, বাকরখানি
  • মূল স্লোগান/উল্লাস: ভো‑কাট্টা (ঘুড়ি কাটার আনন্দ)

ঐতিহ্যের শেকড়: পৌষ সংক্রান্তি থেকে সাকরাইন

সাকরাইন মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘পৌষ সংক্রান্তি’ উৎসবের একটি অংশ। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালিত হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞান মতে, এদিন সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করে, তাই একে ‘মকর সংক্রান্তি’ও বলা হয়।

গ্রাম বাংলায় এই দিনটি নতুন ফসলের উৎসব হিসেবে পালিত হলেও, পুরান ঢাকায় এটি রূপ নিয়েছে এক বিশাল নাগরিক উৎসবে। মোঘল আমল থেকেই ঢাকায় ঘুড়ি ওড়ানোর রেওয়াজ ছিল অভিজাতদের বিলাসিতা। তবে কালের বিবর্তনে এটি সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে ঢাকাইয়াদের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া এবং লালবাগের মতো এলাকাগুলোতে এই উৎসবের রং সবচেয়ে গাঢ়।

ইতিহাস বলছে, একসময় এটি ছিল শুধুই পূজা-পার্বণ আর পিঠা-পুলির উৎসব। কিন্তু পুরান ঢাকার আদি বাসিন্দারা, যাদের আমরা ভালোবেসে ‘ঢাকাইয়া’ ডাকি, তারা এই দিনটিকে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছেন। তাদের কাছে সাকরাইন মানেই আকাশে রঙের যুদ্ধ, আর ছাদে ছাদে বন্ধুত্বের মেলবন্ধন।

রংবেরঙের আকাশ: পুরান ঢাকার ছাদ থেকে দেখা দৃশ্য

২০২৬ সালের এই সাকরাইনের সকালটা শুরু হয়েছে কিছুটা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায়, কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তেজ আর মানুষের উৎসাহ—দুটোই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। আপনি যদি এই মুহূর্তে শাঁখারীবাজারের কোনো সরু গলি দিয়ে হাঁটেন, আপনার কানে আসবে একটাই শব্দ—”ভো-কাট্টা!”

ঘুড়ির বাহারি নাম ও নকশা

পুরান ঢাকার ঘুড়িগুলো কেবল কাগজের টুকরো নয়, এগুলোর একেকটি যেন একেকটি চরিত্র। অদ্ভুত সব নাম তাদের—

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ির পরিচিতি

ঘুড়ির নাম নকশা ও বিশেষত্ব
চোখদার ঘুড়ির দুই পাশে মানুষের চোখের মতো নকশা আঁকা থাকে।
চশমাদার চোখের চারপাশে চশমার ফ্রেমের মতো মোটা বর্ডার থাকে।
পঙ্খিরাজ পাখির মতো ডানা মেলা বা লেজওয়ালা বিশেষ ঘুড়ি।
প্রজাপতি হুবহু প্রজাপতির রঙ ও আকৃতিতে তৈরি।
পানদার তাসের ‘পান’ বা হার্ট শেপের নকশা করা।
মোমবাতি বিশেষ নকশা যা সন্ধ্যার আধো আলোয় জ্বলজ্বলে দেখায়।

আজকের বাজারে সিন্থেটিক ঘুড়ির দাপট থাকলেও, ঐতিহ্যবাহী কাগজের ঘুড়ির কদর কমেনি। বাঁশের কঞ্চি আর পাতলা কাগজে তৈরি এই ঘুড়িগুলো যখন আকাশে ওড়ে, তখন মনে হয় রংধনুটা ভেঙে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শহরে।

মানজা ও নাটাই: যুদ্ধের প্রস্তুতি

সাকরাইনের মূল আকর্ষণ হলো ‘ঘুড়ি কাটাকাটি’ বা প্যাঁচ খেলা। আর এই যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র হলো ‘মানজা’ দেওয়া সুতো। কাচ গুঁড়ো, আঠা, রং এবং বার্লি দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সুতোকে ধারালো করা হয়। যে সুতো যত ধারালো, আকাশে তার রাজত্ব তত বেশি। রঙিন নাটাই হাতে যখন যুবক বা কিশোররা ছাদের কার্নিশে দাঁড়ায়, তখন তাদের চোখেমুখে থাকে বিশ্বজয়ের উত্তেজনা। প্রতিপক্ষের ঘুড়ি কেটে দেওয়ার পর “ভো-কাট্টা” বলে যে চিৎকারটি ভেসে আসে, তা পুরান ঢাকার অলিগলি প্রতিধ্বনিত হয়ে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ তৈরি করে।

২০২৬-এর সাকরাইন: জমজমাট আকাশ, সতর্ক মাটি

Sakrain 2026 Celebration in Bangladesh

২০২৬ সালের সাকরাইনের সকালটা শুরু হয়েছিল চিরচেনা রূপেই। সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, শাঁখারীবাজার থেকে শুরু করে লালবাগ পর্যন্ত প্রতিটি বাড়ির ছাদ ছিল লোকে লোকারণ্য। ছোট-বড় সবার হাতে নাটাই, চোখে আকাশের সুদূর নীল। “ভোকাট্টা” চিৎকারে কেঁপে উঠছিল মহল্লা।

উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল সপ্তাহখানেক আগে থেকেই। শাঁখারীবাজারের ঘুড়ির দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এবারের বাজারে প্লাস্টিকের ঘুড়ির চেয়ে কাগজের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি—যেমন চোখদার, পতেঙ্গা, কাউঠাদার, আবদার—এর চাহিদা ছিল চোখে পড়ার মতো। ঘুড়ি বিক্রেতা রতন ধরের মতে, “মানুষ আবার সেই পুরনো আমেজে ফিরতে চাইছে। এবার মাঞ্জা দেওয়া সুতোর বিক্রিও গত কয়েক বছরের চেয়ে বেশি।” অর্থনৈতিকভাবে এই কয়েকদিন পুরান ঢাকার ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ছিল দারুণ চাঙ্গা সময়।

তবে সন্ধ্যার চিত্রটি ছিল ভিন্ন। সূর্য ডোবার সাথে সাথে ঘুড়ির জায়গা দখল করে নেয় ফানুস এবং আতশবাজি। সন্ধ্যার আকাশ যখন হাজারো ফানুসের আলোয় ঝলমল করে উঠল, তখন নিচের অলিগলিতে শুরু হলো ডিজে গান আর সাউন্ড সিস্টেমের রাজত্ব।

উৎসবের আমেজ: শব্দ, স্বাদ ও অনুভূতির গল্প

সাকরাইন কেবল দেখার উৎসব নয়, এটি অনুভবের উৎসব।

দৃশ্য: প্রতিটি বাড়ির ছাদ লোকে লোকারণ্য। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক দাদু-দিদিমা—সবাই আজ ছাদে। কেউ নাটাই ধরেছেন, কেউ ঘুড়ি উড়াচ্ছেন, আবার কেউবা কেবল তাকিয়ে আছেন আকাশের দিকে। নারীদের পরনে বাসন্তী বা লাল শাড়ি, ছেলেদের গায়ে পাঞ্জাবি বা টি-শার্টে ‘সাকরাইন’ লেখা।

শব্দ: উৎসবের আসল প্রাণ এর শব্দে। মাইকে বাজছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী গান, কিংবা আধুনিক ডিজে মিক্স। তার সঙ্গে মিশে আছে হাজারো মানুষের হুল্লোড়, বাঁশির শব্দ, আর ঘুড়ি কাটার বিজয়োল্লাস। ২০২৬ সালে এসে হয়তো সাউন্ড সিস্টেম অনেক আধুনিক হয়েছে, কিন্তু সেই চেনা ঢাকাইয়া বুলি—”আবে, ঠিকমতো টান দে!”—এখনও আগের মতোই জীবন্ত।

স্বাদ: ঢাকাইয়া উৎসব কি খাবার ছাড়া জমে? একদমই না। ছাদের এক কোণে হয়তো চলছে বারবিকিউ পার্টি, কিন্তু অন্দরমহলে ঠিকই তৈরি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পিঠা। ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পুলি পিঠা, পাটিসাপটা, আর সঙ্গে গরুর মাংসের ভুনা বা তেহারি। সাকরাইনে মুড়ির মোয়া আর তিলের খাজার কদরও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এই দিনে প্রতিবেশীদের বাড়িতে খাবার পাঠানো—সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন।

সামাজিক বন্ধন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

সাকরাইনের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এর সর্বজনীনতা। যদিও এটি হিন্দু ধর্মের একটি অংশের সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু পুরান ঢাকায় এর রূপ সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক। এখানে কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে খ্রিস্টান—তা বিচার করা হয় না।

একই ছাদের নিচে মুসলিম পরিবারের ছেলেটি তার হিন্দু বন্ধুর সঙ্গে নাটাই শেয়ার করছে। পাশের বাড়ির আন্টি হয়তো পিঠার বাটি নিয়ে আসছেন সবার জন্য। এই যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে মিশে একাকার হয়ে যাওয়া—এটাই সাকরাইনের আসল শক্তি। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উৎসবের কোনো ধর্ম নেই, আনন্দ সবার।

আধুনিকতা, পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ

কালের বিবর্তনে সাকরাইনের রূপেও লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি উৎসবের ধরনে বেশ কিছু পরিবর্তন।

আধুনিক সংযোজন

আগের দিনের শান্ত ঘুড়ি উৎসব এখন অনেক বেশি জমকালো। বিকেলের পর থেকেই শুরু হয় ‘লেজার শো’ এবং ‘ডিজে পার্টি’। ছাদের ওপর বড় বড় সাউন্ড সিস্টেম বসিয়ে চলে নাচ-গান। তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন ঘুড়ি ওড়ানোর চেয়ে সন্ধ্যার এই পার্টি বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

আগুনের খেলা ও ফানুস

সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে পুরান ঢাকার আকাশ আরেকবার রূপ বদলায়। দিনের বেলার ঘুড়ির জায়গা দখল করে নেয় হাজারো ফানুস আর আতশবাজি। মুখে কেরোসিন নিয়ে আগুন জ্বালানোর সেই দুঃসাহসিক ‘ফায়ার ব্রিদিং’ খেলা আজও দেখা যায়। লক্ষ্মীবাজার বা সূত্রাপুরের কোনো উঁচু ভবন থেকে তাকালে মনে হয়, পুরো শহরটা আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছে—এত আলো, এত রং!

বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সতর্কতা

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। ২০২৬ সালে কিছু বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন: 

১. পাখিদের জন্য বিপদ: বিকট শব্দের আতশবাজি এবং ফানুসের কারণে শহরের পাখিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেক সময় ফানুসের আগুনে গাছপালা বা পাখির বাসা পুড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। 

২. অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি: ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকায় ফানুস থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। এবছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফানুস ওড়ানোর ওপর কিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। 

৩. উচ্চ শব্দ: ডিজে পার্টির উচ্চ শব্দে বয়স্ক এবং অসুস্থদের সমস্যা হয়। এবছর অনেক মহল্লায় ‘নো সাউন্ড’ বা সীমিত সময়ের জন্য গান বাজানোর নিয়ম চালু করার চেষ্টা করা হয়েছে। 

সেকালের ঐতিহ্য বনাম একালের সাকরাইন

বৈশিষ্ট্য সেকালের ঐতিহ্য (আদি সাকরাইন) একালের চিত্র (২০২৬)
দিনের আকাশ শুধুই কাগজের তৈরি ঘুড়ি ও সুতোর প্যাঁচ। সিন্থেটিক ঘুড়ি, ড্রোন ক্যামেরা ও রঙিন ধোঁয়া।
রাতের আকাশ সীমিত ফানুস ও পারিবারিক আড্ডা। লেজার শো, হাজারো ফানুস ও ব্যাপক আতশবাজি।
শব্দ ও গান ঢাক-ঢোল, হুল্লোড় ও দেশীয় গান। হাই-ভোল্টেজ সাউন্ড সিস্টেম, ডিজে ও রিমিক্স গান।
খাবার বাড়িতে তৈরি পিঠা-পুলি, নাড়ু ও মুড়ি। ছাদেই বিরিয়ানি রান্না, বারবিকিউ পার্টি ও ফাস্টফুড।

নতুন বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া: 

এবারের সাকরাইনে একটি বিষয় খুব স্পষ্ট ছিল—উৎসবের ধরণ নিয়ে সামাজিক বিতর্ক। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও উচ্চস্বরে গান-বাজনা, অতিরিক্ত আতশবাজি এবং উৎসবের কিছু আধুনিক অনুষঙ্গ নিয়ে স্থানীয় কিছু মসজিদ কমিটি এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল। তাদের মতে, মাগরিবের আজানের সময় উচ্চস্বরে গান এবং কিছু অশালীন কার্যকলাপ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ক্ষুণ্ণ করে।

এই আপত্তির জেরে কিছু কিছু মহল্লায়, বিশেষ করে বংশাল এবং নাজিরাবাজারের কিছু অংশে, সন্ধ্যার উৎসব ছিল তুলনামূলক সংযত। স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ্ব মোঃ সোলায়মান বলেন, “আমরা উৎসবের বিরোধী নই, কিন্তু উৎসবের নামে উচ্ছৃঙ্খলতা কাম্য নয়। আমাদের বাপ-দাদারাও ঘুড়ি উড়িয়েছেন, পিঠা খেয়েছেন, কিন্তু এখনকার মতো ডিজে পার্টি করে মহল্লা মাথায় তোলেননি।”

শেষ কথা

সব বিতর্ক আর পরিবর্তনের ভিড়েও সাকরাইন তার স্বকীয়তা হারায়নি। এটি এমন এক দিন, যেদিন যান্ত্রিক ঢাকার মানুষগুলো তাদের স্মার্টফোন আর ল্যাপটপ সরিয়ে রেখে আকাশের দিকে তাকায়। যেদিন কংক্রীটের জঙ্গলে একচিলতে প্রাণের সঞ্চার হয়।

সাকরাইন আমাদের শেখায়, জীবনের সুতোটা মাঝে মাঝে ঢিল দিতে হয়, আবার সময়মতো টান দিতে হয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যতই উঁচুতে উড়ি না কেন, আমাদের শেকড় এই মাটিতেই, এই ঐতিহ্যেই।

আজকের এই সাকরাইনে, আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি—আমাদের এই হাজার বছরের ঐতিহ্যকে আমরা বাঁচিয়ে রাখবো, কিন্তু তা হবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে। আকাশটা রঙিন হোক, কিন্তু তা যেন কোনো পাখির মৃত্যুর কারণ না হয়। উৎসব মুখর হোক, কিন্তু তা যেন প্রতিবেশীর কষ্টের কারণ না হয়।

পুরান ঢাকার ছাদ থেকে ২০২৬-এর সাকরাইনের শুভেচ্ছা। ভো-কাট্টা!

সর্বশেষ