চুম্বক কীভাবে কাজ করে? ম্যাগনেটের অদৃশ্য ক্ষমতা

সর্বাধিক আলোচিত

চুম্বক একটি বিস্ময়কর বস্তু যা লোহা, কোবাল্ট এবং নিকেলের মতো ধাতব পদার্থকে অদৃশ্যভাবে আকর্ষণ করে । শিশু থেকে বিজ্ঞানী পর্যন্ত সবার কাছেই “চুম্বক কীভাবে কাজ করে” এই প্রশ্ন চিরকালের কৌতূহলের বিষয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ফ্রিজের দরজায় আটকানো চুম্বক থেকে শুরু করে স্পিকার, কম্পাস, মোটর এমনকি হাসপাতালে ব্যবহৃত এমআরআই মেশিন পর্যন্ত সর্বত্র চুম্বকের উপস্থিতি রয়েছে । প্রাচীনকালে গ্রিসের ম্যাগনেশিয়া অঞ্চলে প্রথম প্রাকৃতিক চুম্বক (ম্যাগনেটাইট) আবিষ্কৃত হয়েছিল, যা নাবিকদের দিক নির্ণয়ে সাহায্য করত। এই নিবন্ধে আমরা জানব চুম্বক কীভাবে কাজ করে, এর প্রকারভেদ, পারমাণবিক গঠন, চৌম্বক ক্ষেত্রের ধারণা এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে এর অসাধারণ ব্যবহার সম্পর্কে ।​

মূল বিষয় সংক্ষিপ্ত তথ্য
চুম্বক কী যে বস্তু চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে এবং নির্দিষ্ট ধাতুকে আকর্ষণ করে
চৌম্বক মেরু উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু (বিপরীত মেরু আকর্ষণ, সমমেরু বিকর্ষণ)
চৌম্বকীয় পদার্থ লোহা, কোবাল্ট, নিকেল, নীডিয়ামিয়াম
প্রধান ব্যবহার ইলেকট্রনিক্স, মোটর, জেনারেটর, চিকিৎসা যন্ত্র

চুম্বক কী? মৌলিক ধারণা

চুম্বক হলো এমন একটি পদার্থ যা তার চারপাশে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে এবং লোহা, কোবাল্ট, নিকেলের মতো চৌম্বকীয় পদার্থকে আকৃষ্ট করতে পারে । প্রতিটি চুম্বকের দুটি মেরু থাকে – উত্তর মেরু (N) এবং দক্ষিণ মেরু (S) । এই মেরুগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ভিন্নমেরু একে অপরকে আকর্ষণ করে এবং সমমেরু একে অপরকে বিকর্ষণ করে । যদি একটি চুম্বককে ভেঙ্গে দুই টুকরো করা হয়, তবে প্রতিটি টুকরোই দুই মেরুবিশিষ্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ চুম্বকে পরিণত হয়, যার অর্থ একক মেরুবিশিষ্ট চুম্বক পাওয়া সম্ভব নয় ।​

চুম্বকের এই অদৃশ্য শক্তির কারণ হলো পারমাণবিক স্তরে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন এবং তাদের সুবিন্যস্ত অবস্থান। কিছু পদার্থের পরমাণুতে ইলেকট্রনের বিন্যাস এমনভাবে হয় যে তারা একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, যা আমরা চুম্বকীয় শক্তি হিসেবে অনুভব করি ।​

চুম্বকের বৈশিষ্ট্য বিবরণ
মেরু উত্তর (N) ও দক্ষিণ (S) – ভিন্নমেরু আকর্ষণ, সমমেরু বিকর্ষণ
চৌম্বক ক্ষেত্র চুম্বকের চারপাশের অদৃশ্য শক্তির ক্ষেত্র
আকর্ষণ ক্ষমতা লোহা, কোবাল্ট, নিকেল আকৃষ্ট করে
বিভাজন বৈশিষ্ট্য ভাঙলেও প্রতিটি অংশ দুই মেরুবিশিষ্ট থাকে

চৌম্বক ক্ষেত্র কী এবং কীভাবে কাজ করে?

চৌম্বক ক্ষেত্র হলো চুম্বকের চারপাশে সৃষ্ট একটি অদৃশ্য বলের ক্ষেত্র যা অন্য চৌম্বকীয় পদার্থের উপর প্রভাব ফেলে । এই ক্ষেত্রকে চৌম্বক রেখা বা ফিল্ড লাইন দিয়ে প্রকাশ করা হয়, যা উত্তর মেরু থেকে বেরিয়ে দক্ষিণ মেরুতে প্রবেশ করে । একটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে এই ক্ষেত্র দেখা যায় – একটি কাগজের নিচে চুম্বক রেখে কাগজের উপর লোহা গুঁড়া ছিটিয়ে দিলে গুঁড়াগুলো নির্দিষ্ট প্যাটার্নে সাজিয়ে যায়, যা চৌম্বক ক্ষেত্রের রেখা প্রদর্শন করে।​

চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তি চুম্বক থেকে দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে কমতে থাকে। চুম্বকের মেরুর কাছে চৌম্বক ক্ষেত্র সবচেয়ে ঘন এবং শক্তিশালী থাকে । চৌম্বক ক্ষেত্রের একক হলো টেসলা (T) বা গাউস (G), যেখানে ১ টেসলা = ১০,০০০ গাউস। পৃথিবীর প্রাকৃতিক চৌম্বক ক্ষেত্র প্রায় ০.৫ গাউস, যেখানে একটি রেফ্রিজারেটর ম্যাগনেট প্রায় ৫০-১০০ গাউস শক্তিসম্পন্ন হয়।​

চৌম্বক ক্ষেত্রের বৈশিষ্ট্য তথ্য
সংজ্ঞা চুম্বকের চারপাশের অদৃশ্য শক্তির ক্ষেত্র
দিক উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু
শক্তি মেরুতে সর্বোচ্চ, দূরত্ব বাড়লে কমে
একক টেসলা (T), গাউস (G)

পরমাণু স্তরে চুম্বকীয় শক্তি – ভেতরের বিজ্ঞান

চুম্বক কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে হলে পরমাণু স্তরে যেতে হবে। প্রতিটি পরমাণুতে ইলেকট্রন থাকে যা নিজস্ব অক্ষে ঘূর্ণন করে (স্পিন) এবং নিউক্লিয়াসের চারপাশে কক্ষপথে ঘোরে । এই ঘূর্ণন এবং কক্ষপথ থেকে একটি ক্ষুদ্র চৌম্বক মুহূর্ত তৈরি হয়। বেশিরভাগ পদার্থে এই ইলেকট্রনগুলো এলোমেলো দিকে সাজানো থাকে, ফলে তাদের চৌম্বকীয় প্রভাব একে অপরকে নাকচ করে দেয়।​

কিন্তু লোহা, কোবাল্ট, নিকেলের মতো ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থে ইলেকট্রনগুলো একই দিকে সাজানো থাকে, ফলে তাদের চৌম্বক ক্ষেত্র যোগ হয়ে শক্তিশালী চুম্বক তৈরি করে । চৌম্বকীয় ডোমেইন হলো পদার্থের ক্ষুদ্র অঞ্চল যেখানে সব পরমাণুর চৌম্বক মুহূর্ত একই দিকে থাকে। যখন এই ডোমেইনগুলো একই দিকে সাজানো হয়, তখন পদার্থটি চুম্বকে পরিণত হয় ।​

পদার্থের চৌম্বকীয় ধর্ম অনুযায়ী তিন ধরনের শ্রেণিবিভাগ রয়েছে:

  • ফেরোম্যাগনেটিক: লোহা, কোবাল্ট, নিকেল – শক্তিশালী চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্য
  • প্যারাম্যাগনেটিক: অ্যালুমিনিয়াম, প্ল্যাটিনাম – দুর্বল আকর্ষণ
  • ডায়াম্যাগনেটিক: সোনা, রূপা, তামা – চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিকর্ষিত হয়
চৌম্বকীয় পদার্থের প্রকার উদাহরণ বৈশিষ্ট্য
ফেরোম্যাগনেটিক লোহা, কোবাল্ট, নিকেল শক্তিশালী আকর্ষণ, স্থায়ী চুম্বক হতে পারে
প্যারাম্যাগনেটিক অ্যালুমিনিয়াম, প্ল্যাটিনাম দুর্বল আকর্ষণ, চৌম্বক ক্ষেত্রে সামান্য আকৃষ্ট
ডায়াম্যাগনেটিক সোনা, রূপা, তামা চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিকর্ষিত

ম্যাগনেটের প্রকারভেদ – কত রকমের চুম্বক আছে?

স্থায়ী চুম্বক কী?

স্থায়ী চুম্বক হলো এমন চুম্বক যা সবসময় তার চৌম্বক ক্ষেত্র বজায় রাখে এবং বাহ্যিক শক্তির প্রয়োজন হয় না । এই চুম্বকগুলো হার্ড ম্যাগনেটিক উপাদান দিয়ে তৈরি যেখানে চৌম্বকীয় ডোমেইনগুলো একবার সাজালে সেভাবেই থেকে যায়। নীডিয়ামিয়াম চুম্বক বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী স্থায়ী চুম্বক, যা মোবাইল ফোন, হার্ডডিস্ক, ইলেকট্রিক গাড়ির মোটরে ব্যবহৃত হয়। অ্যালনিকো (অ্যালুমিনিয়াম, নিকেল, কোবাল্ট মিশ্রণ) এবং ফেরাইট চুম্বকও জনপ্রিয় স্থায়ী চুম্বক যা স্পিকার, হেডফোন এবং ফ্রিজ ম্যাগনেটে ব্যবহৃত হয়।​

অস্থায়ী চুম্বক কী?

অস্থায়ী চুম্বক শুধুমাত্র বাহ্যিক চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতে চুম্বকীয় ধর্ম প্রদর্শন করে । নরম লোহা এবং ইস্পাত অস্থায়ী চুম্বকের উদাহরণ – যখন এদের একটি স্থায়ী চুম্বকের কাছে রাখা হয় তখন এরা চুম্বকে পরিণত হয় কিন্তু চুম্বক সরিয়ে নিলে চৌম্বকত্ব হারায়। শিল্পক্ষেত্রে ক্রেনে ভারী লোহা তোলার জন্য অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয় কারণ প্রয়োজন শেষে সহজেই তাদের চৌম্বকত্ব বন্ধ করা যায়।​

ইলেক্ট্রোম্যাগনেট বা বৈদ্যুতিক চুম্বক

ইলেক্ট্রোম্যাগনেট হলো এমন চুম্বক যা বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করে তৈরি হয় । একটি লোহার দণ্ডের চারপাশে অন্তরিত তামার তার কুণ্ডলী আকারে জড়িয়ে তার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে লোহার দণ্ডটি চুম্বকে পরিণত হয় এবং বিদ্যুৎ বন্ধ করলে চৌম্বকত্ব লোপ পায় । ইলেক্ট্রোম্যাগনেটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সুইচের মাধ্যমে একে চালু-বন্ধ করা যায় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ বাড়িয়ে শক্তি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ইলেকট্রিক মোটর, রিলে, হার্ডডিস্ক, এমআরআই মেশিন এবং শিল্প ক্রেনে ইলেক্ট্রোম্যাগনেট ব্যবহার করা হয় ।​

প্রাকৃতিক চুম্বক

প্রাকৃতিক চুম্বক বা লোডস্টোন হলো ম্যাগনেটাইট (Fe₃O₄) খনিজ যা প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে চীনা এবং গ্রিক সভ্যতা এই প্রাকৃতিক চুম্বক ব্যবহার করে কম্পাস তৈরি করত। তবে বর্তমানে শক্তি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কৃত্রিম চুম্বকই বেশি ব্যবহৃত হয়।

চুম্বকের ধরন বৈশিষ্ট্য উদাহরণ ও ব্যবহার
স্থায়ী চুম্বক সবসময় চৌম্বকত্ব বজায় রাখে নীডিয়ামিয়াম, ফেরাইট – স্পিকার, হার্ডডিস্ক
অস্থায়ী চুম্বক বাহ্যিক ক্ষেত্রে চুম্বকীয় হয় নরম লোহা, ইস্পাত – শিল্প ক্রেন
ইলেক্ট্রোম্যাগনেট বিদ্যুৎ দিয়ে চালু-বন্ধ করা যায় মোটর, রিলে, এমআরআই মেশিন
প্রাকৃতিক চুম্বক প্রকৃতিতে পাওয়া যায় ম্যাগনেটাইট – প্রাচীন কম্পাস

চুম্বক কীভাবে তৈরি হয়?

কারখানায় স্থায়ী ম্যাগনেট তৈরির প্রক্রিয়া

স্থায়ী চুম্বক তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয় সঠিক উপাদান নির্বাচন থেকে। লোহা, কোবাল্ট, নিকেল, নীডিয়ামিয়াম এবং বোরনের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয় শক্তিশালী চুম্বক তৈরির জন্য। প্রথমে এই উপাদানগুলো উচ্চ তাপমাত্রায় গলিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা হয়, তারপর নির্দিষ্ট আকারে ঢালাই করা হয়। মিশ্রণ ঠান্ডা হওয়ার সময় একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখা হয় যাতে চৌম্বকীয় ডোমেইনগুলো একই দিকে সাজানো হয়। এরপর চুম্বকটিকে আরেকবার উচ্চ তাপমাত্রায় তাপ চিকিত্সা দেওয়া হয় এবং পুনরায় একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রে চুম্বকায়ন করা হয়, যা এর স্থায়ী চৌম্বকত্ব নিশ্চিত করে।

ঘরে বা শিক্ষামূলকভাবে সরল চুম্বক তৈরির উদাহরণ

ঘরে বসে সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে অস্থায়ী চুম্বক তৈরি করা যায়। একটি লোহার পেরেককে একটি স্থায়ী চুম্বকের সাথে একই দিকে ৩০-৪০ বার ঘষলে পেরেকটি অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত হয় এবং ছোট পিন বা ক্লিপ আকর্ষণ করতে পারে। একটি সরল ইলেক্ট্রোম্যাগনেট তৈরি করতে একটি বড় পেরেকের চারপাশে তামার তার ৫০-১০০ বার পেঁচিয়ে তারের দুই প্রান্ত একটি ব্যাটারির সাথে সংযুক্ত করুন – পেরেকটি তখন চুম্বকের মতো কাজ করবে এবং ছোট ধাতব বস্তু আকর্ষণ করবে।

নিরাপত্তা সতর্কতা: ইলেক্ট্রোম্যাগনেট তৈরির সময় তার গরম হতে পারে, দীর্ঘ সময় ব্যাটারির সাথে সংযুক্ত রাখবেন না এবং শর্ট সার্কিট এড়াতে সাবধান থাকুন। শিশুরা অবশ্যই বড়দের তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষা করবে।

চুম্বক তৈরির ধাপ বিবরণ
উপাদান নির্বাচন লোহা, কোবাল্ট, নিকেল, নীডিয়ামিয়াম মিশ্রণ
গলন ও ঢালাই উচ্চ তাপে গলিয়ে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া
চুম্বকায়ন শক্তিশালী ক্ষেত্রে রেখে ডোমেইন সাজানো
তাপ চিকিৎসা স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য বিশেষ তাপ প্রয়োগ

পৃথিবী নিজেই একটি বিশাল চুম্বক

Earth’s magnetic field

পৃথিবী নিজে একটি বিশাল চুম্বক যার নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র রয়েছে। পৃথিবীর কেন্দ্রে থাকা গলিত লোহা ও নিকেলের ঘূর্ণন এই চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র উত্তর গোলার্ধের কাছে একটি চৌম্বক দক্ষিণ মেরু এবং দক্ষিণ গোলার্ধের কাছে একটি চৌম্বক উত্তর মেরু তৈরি করে। কম্পাসের কাঁটা এই চৌম্বক ক্ষেত্র অনুসরণ করে উত্তর দিক নির্দেশ করে, যা হাজার বছর ধরে নৌযান এবং ভ্রমণকারীদের পথ দেখিয়েছে ।​

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র আমাদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর সৌর বিকিরণ এবং সৌর ঝড় পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিচ্যুত হয়ে যায়, যা পৃথিবীর জীবন রক্ষা করে। মেরু অঞ্চলে অরোরা বা নর্দার্ন লাইটস এই চৌম্বক ক্ষেত্রের ফলাফল – যখন সৌর কণাগুলো পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে তখন আকাশে রঙিন আলোর খেলা দেখা যায়।

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র তথ্য
উৎস পৃথিবীর কেন্দ্রে গলিত লোহা ও নিকেলের ঘূর্ণন
শক্তি প্রায় ০.২৫-০.৬৫ গাউস (পৃষ্ঠে)
কম্পাসে ব্যবহার চৌম্বক কাঁটা উত্তর-দক্ষিণ দিক নির্দেশ করে
সুরক্ষা সৌর বিকিরণ থেকে রক্ষা, অরোরা সৃষ্টি

দৈনন্দিন জীবনে চুম্বকের ব্যবহার

ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিতে ম্যাগনেট

চুম্বক কীভাবে কাজ করে তা বুঝলে আধুনিক প্রযুক্তির অনেক রহস্য উন্মোচিত হয়। স্পিকার এবং হেডফোনে চুম্বক অপরিহার্য – বৈদ্যুতিক সংকেত চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন ঘটায় যা কয়েলকে কম্পিত করে এবং শব্দ তৈরি করে । ইলেকট্রিক মোটর চৌম্বক ক্ষেত্র এবং বিদ্যুৎ প্রবাহের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া ব্যবহার করে ঘূর্ণন শক্তি তৈরি করে – ফ্যান, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, গাড়ি সবখানে মোটর ব্যবহৃত হয় । কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে চৌম্বকীয় পদ্ধতিতে ডেটা সংরক্ষণ করা হয় এবং ক্রেডিট কার্ডের ম্যাগনেটিক স্ট্রাইপেও একই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।​

বিদ্যুৎ উৎপাদনে জেনারেটর ব্যবহার করা হয় যেখানে বিশাল চুম্বককে তারের কুণ্ডলীর মধ্যে দ্রুত ঘোরানো হয়, যা ফ্যারাডের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইনডাকশন নীতি অনুসরণ করে বিদ্যুৎ তৈরি করে । আমাদের ঘরে যে বিদ্যুৎ পৌঁছায় তার পেছনে চুম্বকের অবদান অপরিসীম।​

মেডিকেল ও বৈজ্ঞানিক ব্যবহার

চিকিৎসা ক্ষেত্রে এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং) মেশিন শক্তিশালী চুম্বক ব্যবহার করে শরীরের ভেতরের বিস্তারিত ছবি তৈরি করে । এমআরআই মেশিনে ১.৫ থেকে ৩ টেসলা শক্তির চুম্বক ব্যবহার করা হয় যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের চেয়ে ৩০,০০০ গুণ শক্তিশালী। গবেষণাগারে পার্টিকল অ্যাক্সেলারেটরে অতি শক্তিশালী ইলেক্ট্রোম্যাগনেট ব্যবহার করে উপপরমাণু কণাকে ত্বরান্বিত করা হয়। ল্যাবরেটরিতে ম্যাগনেটিক স্টিরার রাসায়নিক দ্রবণ মিশ্রণের জন্য চুম্বক ব্যবহার করে।​

শিল্পক্ষেত্র ও দৈনন্দিন কার্যকলাপ

শিল্পক্ষেত্রে বিশাল ইলেক্ট্রোম্যাগনেট ক্রেন ভারী লোহা ও ইস্পাতের টুকরো তুলতে ব্যবহৃত হয় – বিদ্যুৎ চালু করলে চুম্বক সক্রিয় হয়ে লোহা ধরে এবং বন্ধ করলে ছেড়ে দেয়। ম্যাগনেটিক দরজার তালা, সেন্সর এবং অ্যালার্ম সিস্টেমে ছোট চুম্বক ব্যবহার করা হয় নিরাপত্তার জন্য। রান্নাঘরে ফ্রিজের দরজায় ম্যাগনেট, হোয়াইটবোর্ডে নোট আটকানো, টুল হোল্ডার – সর্বত্র চুম্বকের ব্যবহার।

ব্যবহারের ক্ষেত্র চুম্বকের প্রয়োগ
ইলেকট্রনিক্স স্পিকার, হেডফোন, মোটর, হার্ডডিস্ক, ক্রেডিট কার্ড
বিদ্যুৎ উৎপাদন জেনারেটর, ট্রান্সফরমার
চিকিৎসা এমআরআই মেশিন, ম্যাগনেটিক থেরাপি
শিল্প ক্রেন, সেপারেটর, সেন্সর
দৈনন্দিন ফ্রিজ ম্যাগনেট, দরজার তালা, হোয়াইটবোর্ড

চুম্বকের কিছু কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন ও ভুল ধারণা

চুম্বক কি সব ধাতুকে আকর্ষণ করে?

অনেকে মনে করেন চুম্বক সব ধাতুকে আকর্ষণ করে কিন্তু এটি ভুল ধারণা। চুম্বক শুধুমাত্র ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ যেমন লোহা, কোবাল্ট এবং নিকেলকে শক্তিশালীভাবে আকর্ষণ করে । সোনা, রূপা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, পিতল এবং ব্রোঞ্জের মতো ধাতু চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না কারণ তাদের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস চৌম্বকীয় নয়। এজন্য সোনার গহনা বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র ফ্রিজে আটকে থাকে না।​

চুম্বক কি সময়ের সঙ্গে শক্তি হারায়?

হ্যাঁ, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চুম্বক তার চৌম্বকত্ব হারাতে পারে । উচ্চ তাপমাত্রা চুম্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু – যখন চুম্বককে কুরি তাপমাত্রার (লোহার জন্য ৭৭০°সে) উপরে উত্তপ্ত করা হয় তখন চৌম্বকীয় ডোমেইনগুলো এলোমেলো হয়ে যায় এবং চুম্বক তার চৌম্বকত্ব হারায় । শক্ত আঘাত বা বারবার পড়ে যাওয়াও চুম্বককে দুর্বল করতে পারে। অপর একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রে বিপরীত দিকে রাখলেও চুম্বক দুর্বল হতে পারে। তবে ভালো মানের নীডিয়ামিয়াম চুম্বক স্বাভাবিক পরিবেশে শত বছর ধরে তার শক্তি বজায় রাখতে পারে।​

চুম্বক কি মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে?

সাধারণ ফ্রিজ ম্যাগনেট বা ছোট ইলেক্ট্রোম্যাগনেট সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং মানুষের স্বাস্থ্যে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। তবে অতি শক্তিশালী চুম্বক যেমন এমআরআই মেশিনে সতর্কতা প্রয়োজন – যাদের হৃদপিণ্ডে পেসমেকার আছে তারা এমআরআই করতে পারেন না কারণ শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র পেসমেকারের কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে । শক্তিশালী চুম্বক মোবাইল ফোনের কম্পাস সেন্সর এবং হার্ডডিস্কের ডেটা নষ্ট করতে পারে তবে আধুনিক ইলেকট্রনিক্স এবং ব্যাংক কার্ড সাধারণ চুম্বকের বিরুদ্ধে অনেক বেশি প্রতিরোধী।​

প্রশ্ন উত্তর
সব ধাতু কি আকৃষ্ট হয়? না, শুধু লোহা, কোবাল্ট, নিকেল আকৃষ্ট হয়
চুম্বক শক্তি হারায়? হ্যাঁ, তাপ, আঘাত, বিপরীত ক্ষেত্রে দুর্বল হয়
স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে? সাধারণ চুম্বক নিরাপদ, অতি শক্তিশালী চুম্বকে সাবধানতা প্রয়োজন

চুম্বক, বিদ্যুৎ ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিজম – সম্পর্ক কী?

চুম্বক কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে হলে বিদ্যুৎ এবং চৌম্বকত্বের মধ্যে সম্পর্ক জানা জরুরি। ১৮২০ সালে বিজ্ঞানী হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওরস্টেড আবিষ্কার করেন যে বৈদ্যুতিক প্রবাহ একটি চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। যখন কোনো তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তখন তারের চারপাশে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় – এটিই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটের মূল নীতি ।​

মাইকেল ফ্যারাডে ১৮৩১ সালে বিপরীত প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন – যখন একটি চুম্বক একটি কুণ্ডলীর ভেতর দিয়ে দ্রুত চলাচল করে তখন কুণ্ডলীতে বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। এই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইনডাকশন নীতিই আধুনিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভিত্তি। পাওয়ার প্ল্যান্টে টারবাইন ঘুরিয়ে জেনারেটরের বিশাল চুম্বককে ঘোরানো হয় যা তারের কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে । ট্রান্সফরমার ভোল্টেজ বাড়াতে বা কমাতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইনডাকশন ব্যবহার করে, যা দূরপাল্লায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অপরিহার্য।​

সম্পর্ক ব্যাখ্যা ব্যবহার
বিদ্যুৎ → চুম্বক বৈদ্যুতিক প্রবাহ চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে ইলেক্ট্রোম্যাগনেট, মোটর
চুম্বক → বিদ্যুৎ চুম্বকের গতি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে জেনারেটর, পাওয়ার প্ল্যান্ট
পারস্পরিক উভয় একে অপরের সাথে সম্পর্কিত ট্রান্সফরমার, ওয়্যারলেস চার্জিং

শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ পরীক্ষা

চুম্বক নিয়ে ঘরে বসে কিছু মজার এবং শিক্ষামূলক পরীক্ষা করা যায়। একটি সাদা কাগজের নিচে একটি বার ম্যাগনেট রেখে কাগজের উপর লোহা গুঁড়া ছিটিয়ে দিন – লক্ষ করুন কীভাবে গুঁড়াগুলো চৌম্বক ক্ষেত্রের রেখা অনুসরণ করে সুন্দর প্যাটার্ন তৈরি করে। বিভিন্ন বস্তু যেমন কাগজ, কাঠ, প্লাস্টিক, লোহা, স্টেইনলেস স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, তামা পরীক্ষা করে দেখুন কোনটি চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় এবং কোনটি হয় না।

একটি সাধারণ কম্পাস নিয়ে পরীক্ষা করুন – চুম্বক কম্পাসের কাছে নিলে কাঁটা কীভাবে বিচ্যুত হয় তা পর্যবেক্ষণ করুন, এটি পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র এবং চুম্বকের ক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়া দেখায়। দুটি চুম্বক নিয়ে পরীক্ষা করুন – কখন তারা আকর্ষণ করে (বিপরীত মেরু) এবং কখন বিকর্ষণ করে (সমমেরু)। স্কুল প্রজেক্টের জন্য একটি সাধারণ ইলেক্ট্রোম্যাগনেট তৈরি করুন এবং ব্যাটারি সংযুক্ত করে দেখান কীভাবে বিদ্যুৎ চৌম্বকত্ব সৃষ্টি করে ।​

পরীক্ষা উদ্দেশ্য প্রয়োজনীয় উপকরণ
ফিল্ড লাইন দেখা চৌম্বক ক্ষেত্রের আকার বোঝা চুম্বক, কাগজ, লোহা গুঁড়া
বস্তু পরীক্ষা কোন পদার্থ চৌম্বকীয় তা জানা চুম্বক, বিভিন্ন ধাতব ও অধাতব বস্তু
কম্পাস পরীক্ষা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র বোঝা কম্পাস, চুম্বক
ইলেক্ট্রোম্যাগনেট বিদ্যুৎ ও চুম্বকের সম্পর্ক পেরেক, তামার তার, ব্যাটারি

চুম্বকের ভবিষ্যৎ – আধুনিক গবেষণা ও উদ্ভাবন

চুম্বকের প্রযুক্তি ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও অসাধারণ ব্যবহার আসছে। সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট হলো অতি শীতল তাপমাত্রায় কাজ করা চুম্বক যা প্রচলিত চুম্বকের চেয়ে হাজার গুণ শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। ম্যাগলেভ (ম্যাগনেটিক লেভিটেশন) ট্রেন প্রযুক্তি চৌম্বক বিকর্ষণ ব্যবহার করে ট্রেনকে রেলের উপরে ভাসিয়ে রাখে এবং ঘর্ষণহীনভাবে ৬০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে চলতে পারে – জাপান এবং চীনে এই প্রযুক্তি ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটারে অতি সংবেদনশীল চৌম্বকীয় সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে যা ভবিষ্যতের সুপার কম্পিউটিং সম্ভব করবে। ডেটা স্টোরেজে চৌম্বকীয় ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহার করে আরও ঘনত্বপূর্ণ এবং দ্রুত স্টোরেজ ডিভাইস তৈরি হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনে জেনারেটর এবং উইন্ড টারবাইনে উন্নত চুম্বক ব্যবহার করে দক্ষতা বাড়ানো হচ্ছে। মহাকাশ গবেষণায় শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে মহাকাশযানকে মহাজাগতিক বিকিরণ থেকে রক্ষা করার গবেষণা চলছে।

ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি বর্ণনা সম্ভাব্য প্রভাব
সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট অতি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র চিকিৎসা, গবেষণা, শক্তি উৎপাদন
ম্যাগলেভ ট্রেন ঘর্ষণহীন দ্রুতগতির পরিবহন দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত
কোয়ান্টাম কম্পিউটার চৌম্বকীয় কিউবিট অতি শক্তিশালী কম্পিউটিং
উন্নত স্টোরেজ ন্যানো ম্যাগনেটিক কণা অধিক ডেটা ধারণক্ষমতা

অদৃশ্য ক্ষমতার দৃশ্যমান প্রভাব

চুম্বক কীভাবে কাজ করে তা বোঝা মানে প্রকৃতির একটি মৌলিক শক্তিকে বোঝা । পরমাণুর ইলেকট্রনের ঘূর্ণন থেকে শুরু করে পৃথিবীর বিশাল চৌম্বক ক্ষেত্র পর্যন্ত, চৌম্বকত্ব আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। ফ্রিজের দরজার সাধারণ ম্যাগনেট থেকে শুরু করে হাসপাতালের এমআরআই মেশিন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে মোবাইল ফোনের স্পিকার – সর্বত্র চুম্বকের অদৃশ্য কিন্তু অপরিহার্য উপস্থিতি । চুম্বকের এই বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। আশা করি এই নিবন্ধ থেকে চুম্বকের রহস্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন এবং এই অদৃশ্য শক্তির প্রতি আপনার কৌতূহল আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।​

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)

চুম্বক কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

চুম্বক হলো এমন একটি বস্তু যা তার চারপাশে চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে এবং লোহা, কোবাল্ট, নিকেলের মতো ধাতুকে আকর্ষণ করে । চুম্বক কীভাবে কাজ করে তা নির্ভর করে পরমাণুর ইলেকট্রনের ঘূর্ণন এবং তাদের সুবিন্যস্ত চৌম্বকীয় ডোমেইনের উপর যা একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে ।​

চৌম্বক ক্ষেত্র বলতে কী বোঝায়?

চৌম্বক ক্ষেত্র হলো চুম্বকের চারপাশের একটি অদৃশ্য শক্তির ক্ষেত্র যা চৌম্বকীয় বস্তুর উপর প্রভাব ফেলে । এই ক্ষেত্রকে চৌম্বক রেখা দিয়ে প্রকাশ করা হয় যা উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুতে প্রবাহিত হয় এবং লোহা গুঁড়া দিয়ে দৃশ্যমান করা যায় ।​

ইলেক্ট্রোম্যাগনেট আর স্থায়ী চুম্বকের মধ্যে পার্থক্য কী?

স্থায়ী চুম্বক সবসময় তার চৌম্বকত্ব বজায় রাখে এবং বাহ্যিক শক্তির প্রয়োজন হয় না, যেমন নীডিয়ামিয়াম বা ফেরাইট ম্যাগনেট । ইলেক্ট্রোম্যাগনেট বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করে চৌম্বকত্ব তৈরি করে এবং বিদ্যুৎ বন্ধ করলে চৌম্বকত্ব লোপ পায়, যা সুইচের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় ।​

কোন কোন জিনিসে আমরা দৈনন্দিন জীবনে চুম্বক ব্যবহার করি?

আমরা প্রতিদিন অনেক জায়গায় চুম্বক ব্যবহার করি – ফ্রিজের দরজায় ম্যাগনেট, মোবাইল ফোন ও হেডফোনের স্পিকার, ইলেকট্রিক মোটর (ফ্যান, এসি, গাড়ি), কম্পিউটার হার্ডডিস্ক, ক্রেডিট কার্ড, দরজার ম্যাগনেটিক লক এবং এমআরআই মেশিনে চুম্বক ব্যবহৃত হয় ।​

চুম্বক কি মোবাইল, হার্ডডিস্ক বা ব্যাংক কার্ড নষ্ট করতে পারে?

সাধারণ ফ্রিজ ম্যাগনেট বা ছোট চুম্বক আধুনিক মোবাইল বা ব্যাংক কার্ডের কোনো ক্ষতি করে না কারণ আজকাল এগুলো চৌম্বকীয় হস্তক্ষেপ প্রতিরোধী করে তৈরি হয় । তবে অতি শক্তিশালী নীডিয়ামিয়াম চুম্বক সরাসরি এবং দীর্ঘ সময় হার্ডডিস্কের কাছে রাখলে ডেটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আধুনিক চিপভিত্তিক ব্যাংক কার্ড চৌম্বক প্রভাব থেকে সুরক্ষিত।​

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র না থাকলে কী হতো?

পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র আমাদের সূর্যের ক্ষতিকর সৌর বিকিরণ এবং মহাজাগতিক রশ্মি থেকে রক্ষা করে। এই ক্ষেত্র না থাকলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ধীরে ধীরে মহাকাশে উড়ে যেত, প্রাণীর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হতো এবং জীবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ত। কম্পাস কাজ করত না এবং নেভিগেশন অসম্ভব হয়ে পড়ত।

সর্বশেষ