কিছু সিনেমা আছে যেগুলো একবার, দুইবার নয়, বরং দশ-পনেরো বার দেখলেও একঘেয়ে লাগে না। FiveThirtyEight-এর একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, সিনেমা প্রেমীরা তাদের প্রিয় সিনেমাগুলো গড়ে ২৯ বার পর্যন্ত দেখেন। এই সিনেমাগুলোর গল্প বলার ধরন, চরিত্রের গভীরতা, সংলাপের শক্তি এবং আবেগের তীব্রতা এমন যে প্রতিবার দেখার সময় নতুন কিছু আবিষ্কার করা যায়। আজকের এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব এমন দশটি সিনেমা নিয়ে যেগুলো বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে বারবার দেখার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়।
সিনেমার জগতে “রিওয়াচেবিলিটি” বা পুনর্দর্শনযোগ্যতা একটি বিশেষ গুণ যা প্রতিটি সিনেমার থাকে না। Ranker-এর সাম্প্রতিক জরিপে লক্ষাধিক সিনেমা প্রেমী তাদের মতামত দিয়েছেন এবং নির্বাচিত করেছেন সেই সব সিনেমা যেগুলো তারা জীবনে অসংখ্যবার উপভোগ করেছেন। এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সিনেমা – থ্রিলার, ড্রামা, সাই-ফাই, ফ্যান্টাসি এবং অ্যাকশন।
দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন
১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ফ্র্যাঙ্ক ডারাবন্ট পরিচালিত “দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন” আজও IMDB-তে সর্বকালের সেরা সিনেমার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। টিম রবিন্স এবং মরগান ফ্রিম্যান অভিনীত এই সিনেমাটি জেলখানার প্রাচীরের মধ্যে আশা, বন্ধুত্ব এবং মুক্তির এক অসাধারণ গল্প বলে। FiveThirtyEight-এর সমীক্ষায় এটি ৪২টি ভোট পেয়ে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে সবচেয়ে বেশি বার দেখা সিনেমা হিসেবে।
সিনেমাটির প্রতিটি দৃশ্য এত নিপুণভাবে তৈরি যে বারবার দেখলেও নতুন কিছু খুঁজে পাওয়া যায়। অ্যান্ডি ডুফ্রেনের ধৈর্য, রেডের বর্ণনা এবং সেই বিখ্যাত শেষ দৃশ্য প্রতিবার একই আবেগ নিয়ে আসে। সিনেমাটি ব্যবসায়িক সাফল্য না পেলেও পরবর্তীতে স্ট্রিমিং এবং টিভিতে প্রচারের মাধ্যমে কালজয়ী মর্যাদা পেয়েছে।
ফরেস্ট গাম্প
টম হ্যাঙ্কসের ক্যারিয়ার সেরা অভিনয়ের একটি, “ফরেস্ট গাম্প” ১৯৯৪ সালের আরেকটি মাস্টারপিস। রবার্ট জেমেকিস পরিচালিত এই সিনেমা আমেরিকান ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্য দিয়ে একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ জীবনযাত্রা তুলে ধরে। FiveThirtyEight-এর তথ্য অনুযায়ী, “ফরেস্ট গাম্প” ৩৩টি সাবমিশন পেয়ে সবচেয়ে বেশি বার দেখা সিনেমার তালিকায় একাদশ স্থানে রয়েছে।
“লাইফ ইজ লাইক আ বক্স অফ চকলেট” – এই বিখ্যাত সংলাপটি সিনেমার দর্শনকে প্রতিফলিত করে। সিনেমাটির আবেগময় গল্প, হাস্যরসাত্মক মুহূর্ত এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর সুন্দর সমন্বয় একে বারবার দেখার উপযুক্ত করে তোলে। প্রতিটি দর্শনে ফরেস্টের সারল্য এবং জেনির সাথে তার সম্পর্কের জটিলতা নতুন মাত্রা পায়।
দ্য ডার্ক নাইট

ক্রিস্টোফার নোলানের ২০০৮ সালের “দ্য ডার্ক নাইট” শুধু একটি সুপারহিরো সিনেমা নয়, এটি অপরাধ-থ্রিলারের এক অনন্য উদাহরণ। হিথ লেজারের জোকার চরিত্রে অবিস্মরণীয় অভিনয় সিনেমা ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে আছে। Los Angeles Times-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মুক্তির দশ বছর পরেও সিনেমাটি IMAX থিয়েটারে পুনঃপ্রদর্শিত হয় এবং প্রচুর দর্শক আকৃষ্ট করে।
সিনেমাটির জটিল আখ্যান, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং অসাধারণ অ্যাকশন সিকোয়েন্স প্রতিবার দেখার সময় নতুন অর্থ খুঁজে পায়। নোলানের পরিচালনা শৈলী এমনভাবে বিশৃঙ্খলাকে উপস্থাপন করে যে দর্শক প্রতিবার এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা লাভ করে। জোকারের মনস্তাত্ত্বিক খেলা এবং ব্যাটম্যানের নৈতিক সংগ্রাম একে কালজয়ী করে তুলেছে।
ব্যাক টু দ্য ফিউচার
রবার্ট জেমেকিসের ১৯৮৫ সালের “ব্যাক টু দ্য ফিউচার” সায়েন্স ফিকশন এবং অ্যাডভেঞ্চারের এক নিখুঁত মিশ্রণ। মাইকেল জে. ফক্স এবং ক্রিস্টোফার লয়েডের কেমিস্ট্রি এবং সময় ভ্রমণের জটিল কিন্তু সহজবোধ্য গল্প একে পরিবারের জন্য আদর্শ সিনেমা করে তুলেছে। FiveThirtyEight-এর সমীক্ষায় এটি ৪৭টি ভোট পেয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
সিনেমাটির প্রতিটি উপাদান – ডকের টাইম মেশিন, মার্টির ১৯৫০-এর দশকে যাত্রা, এবং ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের উত্তেজনা – প্রতিবার সমান আকর্ষণীয় থাকে। সিনেমার ডিটেইলড ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিং এবং চরিত্রের বিকাশ এমনভাবে করা যে টিভিতে সম্প্রচারিত হলে দর্শকরা না থামিয়ে পারেন না।
ইনসেপশন
ক্রিস্টোফার নোলানের ২০১০ সালের মাস্টারপিস “ইনসেপশন” মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার এবং সায়েন্স ফিকশনের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত এই সিনেমা স্বপ্নের মধ্যে স্বপ্নে প্রবেশের জটিল ধারণাকে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে যে প্রতিবার দেখার সময় নতুন তথ্য আবিষ্কৃত হয়। সিনেমাটির জটিল প্লট সত্ত্বেও, নোলান দর্শকদের বিভ্রান্ত করার চেয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বেশি সময় ব্যয় করেছেন।
সিনেমার অসাধারণ ভিজ্যুয়াল এফেক্ট, হ্যান্স জিমারের মনমুগ্ধকর সাউন্ডট্র্যাক এবং শেষ দৃশ্যের রহস্যময়তা প্রতিবার একই রোমাঞ্চ সৃষ্টি করে। প্রতিটি স্তরের স্বপ্নের ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম এবং সময়ের গতি বোঝার জন্য বারবার দেখা প্রায় আবশ্যক হয়ে পড়ে।
গুডফেলাস
মার্টিন স্করসেসির ১৯৯০ সালের “গুডফেলাস” অপরাধ-ড্রামার এক অনন্য সৃষ্টি। রবার্ট ডি নিরো, রে লিওটা এবং জো পেসির অসাধারণ অভিনয় এবং স্করসেসির পরিচালনা শৈলী একে কালজয়ী করে তুলেছে। FiveThirtyEight-এর তথ্য অনুযায়ী, “গুডফেলাস” সবচেয়ে বেশি বার দেখা সিনেমার তালিকায় ২২টি ভোট পেয়ে ২৩তম স্থানে আছে।
সিনেমাটির দ্রুত গতির সম্পাদনা, বিখ্যাত ওয়ান-টেক শট এবং বাস্তবসম্মত সংলাপ প্রতিবার দেখার সময় নতুন নুয়ান্স প্রকাশ করে। হেনরি হিলের মাফিয়া জীবনে প্রবেশ থেকে পতন পর্যন্ত যাত্রা এত নিপুণভাবে দেখানো হয়েছে যে দর্শকরা বারবার এই গল্পে ফিরে আসেন।
পাল্প ফিকশন
কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর ১৯৯৪ সালের “পাল্প ফিকশন” সিনেমা নির্মাণের ধারণা পরিবর্তন করে দিয়েছিল। অরৈখিক গল্প বলার পদ্ধতি, স্মরণীয় সংলাপ এবং অসাধারণ চরিত্র চিত্রায়ণ একে অবিস্মরণীয় করে তুলেছে। IMDB-র তালিকা অনুযায়ী, এটি সবচেয়ে বেশি পুনর্দর্শিত সিনেমাগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে।
জন ট্রাভোল্টা, স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন এবং উমা থারম্যানের আইকনিক পারফরম্যান্স প্রতিবার নতুন উপভোগ্যতা নিয়ে আসে। সিনেমার বিভিন্ন স্টোরিলাইন একসাথে জুড়ে যাওয়ার পদ্ধতি এমন যে দ্বিতীয়বার দেখলে অনেক সূক্ষ্ম ডিটেইল ধরা পড়ে।
দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস
পিটার জ্যাকসনের “দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস” ট্রিলজি ফ্যান্টাসি সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী এবং সফল প্রকল্প। তিনটি সিনেমা মিলে প্রায় ১০ ঘণ্টার এই মহাকাব্য FiveThirtyEight-এর সমীক্ষায় ৫২টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। মিডল-আর্থের বিশাল জগত, জটিল চরিত্রগুলো এবং মহাকাব্যিক যুদ্ধ দৃশ্যগুলো প্রতিবার দেখার সময় নতুন মাত্রা পায়।
সিনেমার প্রতিটি ফ্রেম এত যত্নসহকারে তৈরি যে প্রতিবার দেখলে নতুন কিছু আবিষ্কার করা যায়। হাওয়ার্ড শোরের অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক, নিউজিল্যান্ডের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং অভিনেতাদের নিবেদিত পারফরম্যান্স একে অমর করে রেখেছে।
স্টার ওয়ার্স
জর্জ লুকাসের “স্টার ওয়ার্স” ফ্র্যাঞ্চাইজ, বিশেষত মূল ট্রিলজি, পপ কালচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। FiveThirtyEight-এর তথ্য অনুযায়ী, “স্টার ওয়ার্স” সিরিজ ৫৮টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সবচেয়ে বেশি বার দেখা সিনেমার তালিকায়। মহাকাশ যুদ্ধ, ফোর্সের রহস্য এবং ভালো-মন্দের চিরন্তন লড়াই প্রজন্মের পর প্রজন্ম দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছে।
সিনেমার বিশাল ইউনিভার্স, স্মরণীয় চরিত্র যেমন ডার্থ ভেডার, ইয়োডা এবং লুক স্কাইওয়াকার এবং অসাধারণ ভিজ্যুয়াল এফেক্ট প্রতিবার দেখার সময় একই রোমাঞ্চ সৃষ্টি করে। জন উইলিয়ামসের আইকনিক থিম মিউজিক শোনামাত্র দর্শকরা সেই জগতে হারিয়ে যান।
দ্য গডফাদার
ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার ১৯৭২ সালের “দ্য গডফাদার” শুধুমাত্র একটি মাফিয়া সিনেমা নয়, এটি পরিবার, ক্ষমতা এবং আনুগত্যের এক জটিল আখ্যান। মারলন ব্র্যান্ডো এবং আল পাচিনোর অভিনয় সিনেমা ইতিহাসের সেরা পারফরম্যান্সের মধ্যে গণ্য। FiveThirtyEight-এর সমীক্ষায় এটি ৪৫টি ভোট পেয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
সিনেমার ধীর গতি, চরিত্রের গভীর বিকাশ এবং নৈতিক জটিলতা প্রতিবার দেখার সময় নতুন অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। ভিটো এবং মাইকেল কর্লিওনের যাত্রা, পারিবারিক বন্ধন এবং ক্ষমতার মূল্য এমনভাবে উপস্থাপিত যে দর্শকরা বারবার এই গল্পে ফিরে আসতে বাধ্য হন।
সবচেয়ে বেশি বার দেখা সিনেমার পরিসংখ্যান

| সিনেমার নাম | মুক্তির বছর | FiveThirtyEight ভোট | IMDB রেটিং |
|---|---|---|---|
| স্টার ওয়ার্স সিরিজ | ১৯৭৭-২০১৯ | ৫৮ | ৮.৬/১০ |
| দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড | ১৯৮৭ | ৪৫ | ৮.০/১০ |
| দ্য গডফাদার | ১৯৭২ | ৪৫ | ৯.২/১০ |
| ব্যাক টু দ্য ফিউচার | ১৯৮৫ | ৪৭ | ৮.৫/১০ |
| দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন | ১৯৯৪ | ৪২ | ৯.৩/১০ |
| ফরেস্ট গাম্প | ১৯৯৪ | ৩৩ | ৮.৮/১০ |
| গুডফেলাস | ১৯৯০ | ২২ | ৮.৭/১০ |
কেন এই সিনেমাগুলো বারবার দেখা হয়?

গবেষণা অনুযায়ী, মানুষ সিনেমা বারবার দেখার পেছনে বেশ কয়েকটি মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, পরিচিত গল্প আরাম এবং নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়। দ্বিতীয়ত, জটিল আখ্যানের সিনেমা প্রতিবার নতুন স্তর উন্মোচন করে। তৃতীয়ত, স্মরণীয় সংলাপ এবং দৃশ্যগুলো আবেগময় সংযোগ তৈরি করে যা দর্শকরা বারবার অনুভব করতে চান।
Reddit-এর বিভিন্ন আলোচনায় দেখা যায়, সিনেমা প্রেমীরা তাদের প্রিয় সিনেমাগুলো প্রায়ই ব্যাকগ্রাউন্ডে চালিয়ে রাখেন বা নির্দিষ্ট কোনো মুড তৈরির জন্য দেখেন। অনেকে নির্দিষ্ট সিনেমা বছরে ৬-৮ বার পর্যন্ত দেখেন, যা তাদের জীবনযাপনের একটি অংশ হয়ে গেছে।
পুনর্দর্শনযোগ্যতার কারণ
একটি সিনেমা বারবার দেখার উপযুক্ত হওয়ার জন্য কিছু বিশেষ গুণ থাকা আবশ্যক। শক্তিশালী চরিত্র নির্মাণ, যেখানে দর্শকরা চরিত্রগুলোর সাথে গভীর সংযোগ অনুভব করেন, একটি প্রধান কারণ। স্মরণীয় সংলাপ যা কোট করা যায় এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করা যায়, সিনেমাকে সংস্কৃতির অংশ করে তোলে।
অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফি এবং ভিজ্যুয়াল স্টাইল যা প্রতিবার নতুন ডিটেইল আবিষ্কার করতে দেয়, পুনর্দর্শনকে পুরস্কৃত করে। জটিল প্লট যা একবার দেখায় সম্পূর্ণ বোঝা যায় না, দর্শকদের আবার দেখতে উৎসাহিত করে। আবেগময় গভীরতা যা বিভিন্ন বয়সে এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন অর্থ প্রদান করে, দীর্ঘমেয়াদী আবেদন তৈরি করে।
ডিজিটাল যুগে পুনর্দর্শনের প্রবণতা
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের উত্থান সিনেমা পুনর্দর্শনের ধরণ পরিবর্তন করে দিয়েছে। MovieLens ডেটাসেট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পুরনো সিনেমাগুলোর ভিউয়ারশিপ সাধারণত সময়ের সাথে কমে যায়, কিন্তু কিছু ক্লাসিক সিনেমা এই নিয়ম ভাঙে। যেমন “দ্য উইজার্ড অফ অজ” ২০১৯ সালে থিয়েট্রিকাল রি-রিলিজের সময় প্রথম দিন ১.২ মিলিয়ন ডলার আয় করে, যা অনেক আধুনিক সিনেমার মোট আয়ের চেয়ে বেশি।
নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম এবং ডিজনি+ এর মতো প্ল্যাটফর্মে ক্লাসিক সিনেমাগুলোর সহজলভ্যতা নতুন প্রজন্মকে এই সিনেমাগুলো আবিষ্কার করতে এবং পুরনো দর্শকদের পুনরায় উপভোগ করতে সাহায্য করছে। অ্যালগরিদম-ভিত্তিক সুপারিশ সিস্টেম ব্যবহারকারীদের তাদের প্রিয় সিনেমা আবার দেখতে উৎসাহিত করে।
সিনেমা সংগ্রহের মনোবিজ্ঞান
সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে একটি প্রবণতা দেখা যায় যে তারা তাদের সবচেয়ে প্রিয় এবং বারবার দেখা সিনেমাগুলো ফিজিক্যাল মিডিয়ায় (ব্লু-রে, ডিভিডি) সংগ্রহ করেন। Ranker-এর জরিপে দেখা গেছে, পুনর্দর্শনযোগ্য সিনেমাগুলো সবচেয়ে বেশি কেনা এবং সংগৃহীত হয়। এটি মালিকানা এবং সহজ প্রবেশাধিকারের একটি মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা প্রতিফলিত করে।
অনেক দর্শক জানান যে তারা নির্দিষ্ট সিনেমা টিভিতে দেখলে চ্যানেল পরিবর্তন করতে পারেন না, এমনকি যদি সিনেমার অর্ধেক অংশ শেষ হয়ে গিয়ে থাকে। এই ঘটনা কমফোর্ট ভিউয়িং হিসেবে পরিচিত, যেখানে পরিচিত সিনেমা মানসিক শান্তি এবং স্বস্তি প্রদান করে।
সিনেমা শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, স্মৃতি এবং আবেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যে সিনেমাগুলো আমরা বারবার দেখি, সেগুলো আমাদের জীবনের সাথে এমনভাবে জড়িয়ে যায় যে প্রতিটি দর্শন একটি পুনর্মিলনের মতো অনুভূত হয়। উপরে আলোচিত দশটি সিনেমা বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ দর্শকের হৃদয় জয় করেছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের জাদুতে মুগ্ধ হচ্ছে। এই সিনেমাগুলোর শিল্পগত উৎকর্ষতা, আবেগময় গভীরতা এবং কালজয়ী আবেদন তাদের সিনেমা ইতিহাসের অমর সৃষ্টিতে পরিণত করেছে। স্ট্রিমিং যুগে এসে এই ক্লাসিক সিনেমাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং পুরনো দর্শকদের স্মৃতিরোমন্থনের সুযোগ দিচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে প্রকৃত শিল্প কখনো পুরনো হয় না।


