পড়তে বসেছেন। গণিতের ক্লাসটা কোন অ্যাপে ছিল মনে পড়ছে না। নোটটা হয়তো Google Docs-এ, আবার হতে পারে ফোনের Notes-এ। গত সপ্তাহে যে প্রশ্নগুলো ভুল হয়েছিল, সেগুলোর ছবি কোথায় রেখেছেন সেটাও খুঁজে পাচ্ছেন না। এর মধ্যে YouTube খুলতেই আরও দুটো “অবশ্যই দেখা উচিত” ভিডিও সামনে এল।
পড়া শুরু হওয়ার আগেই কয়েক মিনিট চলে গেল। Too many study apps-এর ঝামেলাটা অনেক সময় এমনই। ফোনে পাঁচটা অ্যাপ আছে না দশটা—সেটা আসল কথা নয়। সমস্যা হয় যখন একই পড়ার কাজ কয়েক জায়গায় ছড়িয়ে যায় এবং প্রতিবার বসার পর সেই ব্যবস্থাটাই আগে সামলাতে হয়।
অনলাইনে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি বা চাকরির পরীক্ষার্থী—সবার কাছেই এখন উপকরণ প্রচুর। একটা অধ্যায় না বুঝলে আরেকজন শিক্ষকের ভিডিও পাওয়া যায়। মক টেস্টের জন্য আলাদা অ্যাপ আছে, শব্দ মনে রাখার জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে, নোট নেওয়ারও অসংখ্য উপায়। শুনতে সুবিধার কথা। বাস্তবে এই সুবিধাই কখনো কখনো পড়া জটিল করে ফেলে।
সমস্যা বেশি অ্যাপে নয়, একই কাজের বেশি জায়গায়
একজন শিক্ষার্থীর ফোনে অভিধান, ক্যালকুলেটর, পিডিএফ রিডার, ভিডিও লেকচারের অ্যাপ এবং মক টেস্টের অ্যাপ থাকতেই পারে। এগুলো এক কাজ করছে না।
গোলমাল হয় অন্য জায়গায়। একই বিষয়ের দুটো পূর্ণ কোর্স চলছে। নোট লেখা হচ্ছে তিন জায়গায়। দুটি আলাদা কাজের তালিকায় একই অধ্যায়ের নাম আছে। চারটি প্লেলিস্ট সেভ করা, কিন্তু কোনটি ধরে শেষ পর্যন্ত এগোবেন সেটি ঠিক হয়নি।
এ অবস্থায় পড়ার উপকরণ কম নয়; বরং সিদ্ধান্ত বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি বা BCS-এর প্রস্তুতির কথাই ধরা যাক। বাংলা ব্যাকরণের একটি বিষয়ের ওপর YouTube-এ কয়েকজন ভালো শিক্ষকের ক্লাস পাওয়া গেল। প্রত্যেকেরই কিছু ভালো দিক থাকতে পারে। তাই বলে সবার পুরো সিরিজ দেখা দরকার হয় না। একটি মূল উৎস ধরে এগিয়ে গিয়ে, কোথাও আটকে গেলে অন্য ব্যাখ্যা দেখা অনেক সহজ।
নইলে একই অধ্যায় বারবার শুরু হয়। শেষ হয় কম। এই জায়গাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো উপকরণ সংগ্রহ করা এবং সিলেবাস এগিয়ে নেওয়া এক জিনিস নয়।
আরও পড়ুন: Learning Management System বা LMS কী: শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য সহজ ব্যাখ্যা
পড়া শুরুর আগে যদি প্রতিদিন খোঁজাখুঁজি করতে হয়
ধরা যাক, গতকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র লিখেছিলেন। আজ দরকার হচ্ছে, কিন্তু কোথায় লিখেছেন মনে নেই।
ভিডিও অ্যাপের নোটে?
নিজের Messenger-এ পাঠিয়েছিলেন?
পিডিএফে দাগ দেওয়া?
নাকি অন্য নোট অ্যাপে?
তথ্য হারিয়ে যায়নি। তবু ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
এমন ঘটনা নিয়মিত হলে বোঝা যায় পড়ার ব্যবস্থা একটু বেশি ছড়িয়ে গেছে।
শেখার মনোবিজ্ঞানে cognitive load নিয়ে যে আলোচনা আছে, তার একটি সহজ দিক এখানে কাজে লাগে। বিষয়টি বোঝার জন্য যতটা মানসিক পরিশ্রম দরকার, তার বাইরে অপ্রয়োজনীয় খোঁজাখুঁজি, আলাদা নিয়ম মনে রাখা বা একই তথ্য কয়েক জায়গা থেকে মিলিয়ে নেওয়ার কাজও মাথার ওপর চাপ বাড়ায়। একটা কঠিন অঙ্কের সূত্র মনে রাখাই যথেষ্ট কাজ। সূত্রটা কোন অ্যাপে লিখেছেন সেটাও যদি মনে রাখতে হয়, দ্বিতীয় কাজটির খুব একটা শিক্ষামূল্য নেই।
বারবার অ্যাপ বদলানোর ঝামেলাও জমে

ভিডিও চলছে। হঠাৎ নোটিফিকেশন এল। সেটি দেখে আবার ভিডিওতে ফিরলেন। এরপর নোট লিখতে অন্য অ্যাপ। তারপর প্রশ্নব্যাংক। মাঝখানে আরেকটি লিংক। প্রতিটি পরিবর্তন হয়তো খুব অল্প সময়ের। কিন্তু মনোযোগ বারবার জায়গা বদলায়।
কাজ বদলানো বা task switching নিয়ে মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় দীর্ঘদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে, একটি মানসিক কাজ থেকে অন্যটিতে গেলে আগের গতিতে ফিরতে একটু সময় লাগে। এই গবেষণা স্টাডি অ্যাপকে কেন্দ্র করে হয়নি, তাই এর বেশি কিছু দাবি করার দরকার নেই। পড়াশোনার জন্য ব্যবহারিক কথাটা হলো—যে বদলটি এড়ানো যায়, সেটি না করাই সুবিধাজনক।
এ কারণেই পড়ার সময় নোটিফিকেশনও একটু বেছে রাখা দরকার।
ক্লাসের সময় বদলেছে—জানা দরকার।
অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার শেষ সময়—দরকারি।
কিন্তু নতুন কোর্স এসেছে, স্ট্রিক ভেঙে যাবে, কমিউনিটিতে নতুন পোস্ট হয়েছে—এসব বার্তা পড়ার মাঝখানে দেখতেই হবে, এমন নয়। ফোনের নোটিফিকেশন মনোযোগনির্ভর কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে—এ নিয়ে পরীক্ষাগারভিত্তিক গবেষণাও আছে। তাই পুরো ফোন বন্ধ না করেও অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর নোটিফিকেশন কমিয়ে রাখা যায়। Android ও iPhone—দুটিতেই অ্যাপ ধরে নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা আছে।
পড়ার চেয়ে পড়ার ব্যবস্থা সাজাতে বেশি সময় যাচ্ছে?
এই সমস্যাটা একটু অন্য রকম। নতুন নোট অ্যাপ ইনস্টল করা হলো। বিষয়ভিত্তিক ফোল্ডার বানানো হলো। রঙ ঠিক করা হলো। সপ্তাহের পরিকল্পনার জন্য নতুন টেমপ্লেট নেওয়া হলো। Dashboard দেখতে বেশ সুন্দর।
দেখে মনে হচ্ছে কাজ এগিয়েছে।
কিন্তু পরীক্ষার খাতার জন্য কী এগিয়েছে?
এই প্রশ্নটা মাঝে মাঝে করা দরকার।
নোট গুছিয়ে রাখা অবশ্যই কাজে লাগে। কিন্তু এক ঘণ্টা ধরে নোটের রঙ, ট্যাগ আর ফোল্ডার ঠিক করার পর যদি পাঁচটি প্রশ্নও অনুশীলন না হয়, তাহলে পড়া আর পড়ার প্রস্তুতির মধ্যে পার্থক্যটা হারিয়ে যাচ্ছে। শেখার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণায় নিজেকে পরীক্ষা করা, বই বন্ধ রেখে মনে করার চেষ্টা করা এবং কিছু সময়ের বিরতিতে আগের বিষয় আবার অনুশীলন করার পক্ষে ভালো প্রমাণ আছে।
এর জন্য ঝকঝকে কোনো ড্যাশবোর্ড বাধ্যতামূলক নয়।
পুরোনো প্রশ্নপত্র নিন।
নিজেকে পাঁচটি প্রশ্ন করুন।
তিন দিন আগে পড়া অধ্যায়ের মূল পয়েন্ট লিখে দেখুন।
খাতায় করলে যেমন কাজ হবে, অ্যাপেও হতে পারে।
এখানে প্রযুক্তি সহায়ক। মূল কাজ নয়।
নোটের অন্তত একটি স্থায়ী জায়গা থাকা ভালো
নোট ছড়িয়ে যাওয়ার সমস্যা খুব সাধারণ। একটি সংজ্ঞা পিডিএফে highlight করা। দুটি সূত্র screenshot-এ। একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা নিজের কাছে WhatsApp-এ পাঠানো। আর মূল সারাংশ লেখা অন্য অ্যাপে।
পরীক্ষার আগে তখন সব তথ্য আছে, কিন্তু এক জায়গায় নেই। কাগজে নোট রাখবেন নাকি ডিজিটালভাবে—এটা আলাদা আলোচনা। যেটাই ব্যবহার করুন, অন্তত এমন একটি জায়গা থাকা দরকার যেখানে ফিরে গেলে বিষয়টির চূড়ান্ত নোট পাওয়া যাবে।
অন্য জায়গায় সাময়িক কিছু লেখা সমস্যা নয়।
ভিডিও দেখার সময় ছোট নোট নেওয়া যায়। পিডিএফে দাগও দেওয়া যায়। পরে দরকারি অংশ মূল নোটে নিয়ে এলে কাজ সহজ হয়। তাহলে অন্তত পরীক্ষার আগের রাতে চারটি অ্যাপ ঘুরে একই অধ্যায়ের তথ্য খুঁজতে হবে না।
নিজের ফোনে কোথায় বাড়তি জট তৈরি হয়েছে, দেখে নিন
এখানে নতুন কোনো productivity system বানানোর প্রয়োজন নেই। ফোনের শিক্ষাবিষয়ক অ্যাপগুলো একবার দেখে শুধু লিখুন—কোনটা কী কাজে লাগে।
মূল ক্লাস কোথায় করেন?
নোট কোথায় রাখেন?
মক টেস্ট?
ফ্ল্যাশকার্ড?
পিডিএফ?
ক্যালকুলেটর?
এবার একই কাজের পাশে যদি কয়েকটি অ্যাপের নাম পড়ে, তখনই আসল প্রশ্নটা সামনে আসবে।
তিনটি নোট অ্যাপই কি ব্যবহার করছেন?
দুটি আলাদা কোর্স প্ল্যাটফর্মে একই বিষয় শুরু করে রাখা দরকার?
গত কয়েক সপ্তাহে যে অ্যাপটি খোলেননি, সেটি এখনো মূল পড়ার ব্যবস্থার অংশ কেন? এখানে “দুই সপ্তাহ” বা “তিন সপ্তাহ” ধরে কোনো বৈজ্ঞানিক হিসাব করার দরকার নেই। সাম্প্রতিক ব্যবহারই যথেষ্ট ধারণা দেয়।
বিশেষ কাজের সফটওয়্যার অবশ্য অন্য ব্যাপার। প্রোগ্রামিংয়ের জন্য কোড এডিটর, প্রকৌশলের জন্য সিমুলেশন টুল কিংবা ভাষা শেখার জন্য উচ্চারণের অ্যাপ—এসবের কাজ আলাদা। তাই সব মিলিয়ে অ্যাপের সংখ্যা কমানো লক্ষ্য নয়। একই কাজের জন্য অকারণে কয়েকটি জায়গা ধরে রাখা কমানোই বেশি কাজে দেয়।
একটি মূল উৎস থাকলে পড়া অনেক সহজ হয়
প্রতিটি বিষয়ের জন্য কোথা থেকে মূল পড়া এগোবে, সেটি পরিষ্কার থাকলে অনেক সিদ্ধান্ত নিজে থেকেই কমে যায়।
ধরা যাক, একটি বই বা একটি অনলাইন কোর্সকে মূল ধরে পড়ছেন।
কোনো অংশ বুঝলেন না? অন্য শিক্ষক দেখুন।
আরও প্রশ্ন দরকার? প্রশ্নব্যাংক খুলুন।
কোনো ধারণার ছোট ব্যাখ্যা দরকার? YouTube-এ খুঁজুন।
কিন্তু মূল অগ্রগতি কোথায় হচ্ছে, সেটি বদলাবেন না।
এই পদ্ধতির বড় সুবিধা হলো, সহায়ক উৎস তখন সহায়কই থাকে। প্রতিবার নতুন ভালো ভিডিও পেলেই পুরো পড়ার রুটিন নতুন করে সাজাতে হয় না। অনলাইনে পড়ার সময় এই সংযমটা বেশ দরকার। কারণ ভালো উপকরণ কখনো শেষ হবে না। পরীক্ষার সময় অবশ্য শেষ হয়ে যাবে।
“এক বা দুইটি অ্যাপ” নয়, “এক বা দুইটি মূল জায়গা”

অনেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি মূল শেখার জায়গা এবং একটি মূল নোট বা পুনরাবৃত্তির জায়গাই পড়ার কেন্দ্র হতে পারে।
তার মানে ফোনে শুধু দুটি শিক্ষাবিষয়ক অ্যাপ থাকবে—এমন নয়।
পিডিএফ রিডার থাকবে। অভিধান থাকতে পারে। ক্যালকুলেটর লাগবে। মক টেস্টের আলাদা অ্যাপও থাকতে পারে।
মূল প্রশ্ন হলো: আপনার পড়ার কেন্দ্র কয় জায়গায়?
একটি বিষয় পড়তে যদি সব সময় পাঁচটি জায়গার হিসাব রাখতে হয়, সেখানে জটিলতা বাড়ার সুযোগ বেশি। আর একটি প্রধান কোর্স, একটি পরিচিত নোটের জায়গা এবং প্রয়োজনমতো কয়েকটি সহায়ক টুল থাকলে ব্যবস্থাটি সাধারণত সামলানো সহজ হয়।
অ্যাপ মুছতে গেলে সাবস্ক্রিপশনের কথাও মনে রাখুন
অপ্রয়োজনীয় কোনো অ্যাপ সরাতে চাইলে আগে ভেতরে দরকারি নোট বা ডাউনলোড আছে কি না দেখে নিন। নিশ্চিত না হলে সঙ্গে সঙ্গে মুছতে হবে না। হোম স্ক্রিন থেকে সরিয়ে রাখুন, নোটিফিকেশন বন্ধ করুন। কিছুদিন ব্যবহার না করেও যদি কোনো অসুবিধা না হয়, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ।
পেইড অ্যাপের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় জরুরি।
ফোন থেকে অ্যাপ আনইনস্টল করলেই সাবস্ক্রিপশন বাতিল হয় না।
Google Play বা Apple-এর মাধ্যমে সাবস্ক্রিপশন নেওয়া থাকলে সেটি আলাদাভাবে বাতিল করতে হয়। আর কোনো সেবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে সরাসরি পেমেন্ট করে থাকলে তাদের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। ফোন পরিষ্কার হলো, অথচ মাস শেষে টাকা কাটা গেল—এটা এড়ানোই ভালো।
অভিভাবকেরা অ্যাপ গুনে সিদ্ধান্ত নেবেন না
সন্তানের ফোনে অনেক স্টাডি অ্যাপ দেখে সব অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু আগে দেখতে হবে কোনটি স্কুল বা কোচিংয়ের কাজে বাধ্যতামূলক।
ক্লাস কোথায় হয়?
অ্যাসাইনমেন্ট কোথায় জমা দিতে হয়?
শিক্ষক নোট কোথায় দেন?
পরীক্ষার ফল কোথায় আসে?
এসব আলাদা হওয়ার কারণে কিছু শিক্ষার্থীর হাতে স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম থাকতে পারে। এরপরও যদি প্রতিদিন কোন কাজ বাকি তা বুঝতে কয়েকটি অ্যাপ ঘুরতে হয়, তখন নতুন আরেকটি অ্যাপ যোগ করার প্রয়োজন নেই। কাগজের একটি সাপ্তাহিক তালিকাও অনেক সময় যথেষ্ট।
কোন অধ্যায় শেষ হবে, কোন কাজ জমা দিতে হবে, কখন পুরোনো বিষয় দেখা হবে—এই তিনটি জিনিস চোখের সামনে থাকলে ছোট শিক্ষার্থীর জন্য ব্যবস্থাটি সহজ হয়। আর স্ট্রিক বা পয়েন্ট দেখে শেখার অগ্রগতি মাপা ঠিক নয়। বিষয়টি বই না দেখে বলতে পারছে কি না, প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে কি না, কয়েক দিন পরেও মনে আছে কি না—এসবের গুরুত্ব অনেক বেশি।
নতুন স্টাডি অ্যাপ দেখলে আগে নিজের সমস্যাটা ধরুন
নতুন একটি অ্যাপ কী কী পারে, সেটি দেখা সহজ।
তার চেয়ে দরকারি প্রশ্ন হলো: এটি আমার কোন সমস্যার সমাধান করবে?
নোট খুঁজে পাচ্ছেন না?
প্রশ্ন অনুশীলনের ব্যবস্থা নেই?
কোর্সের অগ্রগতি বোঝা যাচ্ছে না?
নাকি বর্তমান ব্যবস্থা মোটামুটি ঠিকই আছে, নতুন অ্যাপটি শুধু দেখতে আকর্ষণীয়?
শেষের ঘটনাটা হলে ইনস্টল না করলেও খুব একটা ক্ষতি নেই।
নতুন অ্যাপ যদি পুরোনো একটি টুলকে ভালোভাবে প্রতিস্থাপন করে, সেটি কাজে লাগতে পারে। কিন্তু পুরোনো সবকিছু রেখে শুধু আরেকটি অ্যাপ যোগ করলে সিস্টেম আরও ভারী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। স্টাডি অ্যাপ জমে যাওয়ার পেছনে অনেক সময় নতুন অ্যাপ নয়, পুরোনো অ্যাপ না সরানোর অভ্যাসটাই বড় কারণ।
পড়তে বসেই উত্তরটা পাওয়া যায়
Too many study apps নিয়ে শেষ পর্যন্ত খুব জটিল কোনো পরীক্ষা দরকার নেই।
একদিন স্বাভাবিকভাবে পড়তে বসুন।
কী পড়বেন, সেটা পরিষ্কার?
গতকাল কোথায় থেমেছিলেন জানেন?
নোট পেতে সমস্যা হচ্ছে না?
প্রশ্ন অনুশীলনের জায়গাটা জানা আছে?
তাহলে ফোনে শিক্ষাবিষয়ক অ্যাপ একটু বেশি থাকলেও সেটি নিয়ে আলাদা দুশ্চিন্তার কারণ নেই। আর যদি প্রতিদিন প্রথম কয়েক মিনিট যায় কোন কোর্স খুলবেন, কোন নোটটি আসল, কোন প্লেলিস্ট শেষ করবেন আর কোন reminder সরাবেন—তাহলে নতুন অ্যাপ খোঁজার আগে বর্তমান ব্যবস্থাটাই একটু হালকা করা দরকার।
একটি বিষয় দিয়ে শুরু করুন। তার মূল পড়ার জায়গা ঠিক করুন। নোট কোথায় থাকবে, সেটিও ঠিক করুন। বাকিটা ব্যবহার করতে করতেই পরিষ্কার হবে। যে অ্যাপটি সত্যিই দরকার, সেটি বারবার কাজে লাগবে। আর যেটি শুধু ফোনে পড়ে আছে, সেটিকে আলাদা করে চিনতে খুব বেশি সময় লাগবে না।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বেশি Study App ব্যবহার করলে কি পড়াশোনার ক্ষতি হয়?
শুধু অ্যাপের সংখ্যা বেশি হলেই পড়াশোনার ক্ষতি হবে—এমন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। সমস্যা দেখা দেয় যখন একই পড়ার কাজ কয়েকটি অ্যাপে ছড়িয়ে থাকে, বারবার প্ল্যাটফর্ম বদলাতে হয় বা প্রয়োজনীয় নোট ও অগ্রগতি খুঁজে পেতে সময় নষ্ট হয়।
পড়াশোনার জন্য কতটি অ্যাপ রাখা ভালো?
সবার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একটি মূল শেখার প্ল্যাটফর্ম এবং একটি নোট বা পুনরাবৃত্তির জায়গা দিয়েই বেশির ভাগ কাজ সামলানো যায়। পিডিএফ রিডার, অভিধান, ক্যালকুলেটর বা মক টেস্টের মতো বিশেষ কাজের অ্যাপ আলাদা থাকতে পারে।
কোন Study App মুছে ফেলা উচিত, কীভাবে বুঝব?
প্রথমে দেখুন একই কাজের জন্য একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করছেন কি না। কোনো অ্যাপ কয়েক সপ্তাহ ধরে খোলা হয়নি, একই কাজ অন্য অ্যাপে হয়ে যাচ্ছে বা সেটি পড়ার ব্যবস্থা আরও জটিল করছে—তাহলে সেটি সরিয়ে রাখার কথা ভাবতে পারেন। মুছে ফেলার আগে প্রয়োজনীয় নোট, ডাউনলোড ও সাবস্ক্রিপশন অবশ্যই দেখে নিন।
Study App-এর নোটিফিকেশন কি পড়ার মনোযোগ নষ্ট করতে পারে?
পড়ার সময় অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ক্লাসের সময় পরিবর্তন বা অ্যাসাইনমেন্টের সময়সীমার মতো দরকারি বার্তা চালু রেখে প্রচার, স্ট্রিক বা কমিউনিটি আপডেটের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা যেতে পারে।
নতুন Learning App ইনস্টল করার আগে কী দেখা উচিত?
প্রথমে ঠিক করুন অ্যাপটি আপনার কোন বর্তমান সমস্যার সমাধান করবে। একই কাজের জন্য আগে থেকেই কার্যকর কোনো টুল থাকলে নতুন অ্যাপটি সত্যিই বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে কি না দেখুন। শুধু নতুন বলে আরেকটি অ্যাপ যোগ করলে পড়ার ব্যবস্থা আরও ছড়িয়ে যেতে পারে।

