ছবির অল্ট টেক্সট লিখবেন কীভাবে: অ্যাক্সেসিবিলিটি ও এসইও একসঙ্গে

সর্বাধিক আলোচিত

কোনো ছবির অল্ট টেক্সটে ঠিক কী লিখবেন—এখানেই বেশির ভাগ বিভ্রান্তি। ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে তার সবকিছু লিখে দেবেন, নাকি এসইওর জন্য মূল কিওয়ার্ডটি বসাবেন? আবার ছবি যদি শুধু নকশার অংশ হয়, সেখানেও কি বর্ণনা দিতে হবে?

একটি সহজ নিয়ম দিয়ে শুরু করা যায়: ছবিটি না দেখতে পারলে পাঠক যে দরকারি তথ্য বা কাজের ইঙ্গিত হারাবেন, অল্ট টেক্সটে সেটিই লিখুন।

এই নিয়ম মেনে চললে ইমেজ অল্ট টেক্সট এসইও এবং অ্যাক্সেসিবিলিটিকে আলাদা দুইটি কাজ হিসেবে সামলাতে হয় না। অর্থবহ বর্ণনা স্ক্রিন রিডার ব্যবহারকারীর কাজে আসে, আর গুগলও ছবির বিষয় বোঝার সময় অল্ট টেক্সটের পাশাপাশি পেজের আশপাশের লেখা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ বিবেচনা করতে পারে। সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন বর্ণনার জায়গা দখল করে কিওয়ার্ডের তালিকা।

অল্ট টেক্সট আসলে কী?

এইচটিএমএলে একটি ছবির কোড এমন হতে পারে:

<img src=”seo-dashboard.jpg”

     alt=”ওয়েবসাইটের অর্গানিক ট্রাফিক দেখানো এসইও ড্যাশবোর্ড”>

এখানে alt-এর ভেতরে থাকা লেখাই ছবিটির বিকল্প লেখা বা অল্ট টেক্সট।

ছবি কোনো কারণে প্রদর্শিত না হলে এই লেখা বিকল্প তথ্য দিতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, স্ক্রিন রিডারের মতো সহায়ক প্রযুক্তি এর মাধ্যমে ছবিটি কী বোঝাচ্ছে বা কী কাজ করছে, সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারে।

ডব্লিউসিএজি ২.২-এর নন-টেক্সট কনটেন্ট নীতিতেও অর্থবহ ছবির জন্য উপযুক্ত বিকল্প লেখার কথা বলা হয়েছে।

এসইওর ক্ষেত্রেও অল্ট টেক্সট প্রাসঙ্গিক, তবে এটিকে আলাদা কোনো র‍্যাঙ্কিং কৌশল ভাবা ঠিক হবে না। গুগল ছবির বিষয় বুঝতে অল্ট টেক্সটের সঙ্গে পেজের লেখা, ক্যাপশন, ছবির শিরোনাম, ফাইলের নাম এবং কম্পিউটার ভিশনের মতো অন্যান্য সংকেতও ব্যবহার করতে পারে।

অর্থাৎ একটি দুর্বল পেজকে শুধু অল্ট টেক্সট বদলে শক্তিশালী করা যাবে—এমন প্রত্যাশার ভিত্তি নেই।

আগে ছবির কাজ বুঝুন, তারপর বর্ণনা লিখুন

আগে ছবির কাজ বুঝুন, তারপর বর্ণনা লিখুন

একটি ছবির জন্য ভালো অল্ট টেক্সট অন্য পেজে একই ছবির জন্যও ভালো হবে—এমন নয়। ছবিটি কোথায় এবং কেন ব্যবহার করা হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ।

ধরা যাক, একটি ছবিতে ল্যাপটপের পর্দায় ওয়েবসাইটের ট্রাফিক রিপোর্ট দেখা যাচ্ছে।

এভাবে লেখা যেতে পারে:

“ম্যান ল্যাপটপ কম্পিউটার অফিস ডিজিটাল মার্কেটিং এসইও”

শব্দগুলো বিষয়-সংশ্লিষ্ট হলেও বাক্যটি কোনো পরিষ্কার তথ্য দিচ্ছে না। এটি বর্ণনার চেয়ে কিওয়ার্ডের স্তূপ বেশি।

একই ছবির জন্য—

“ল্যাপটপে ওয়েবসাইটের অর্গানিক ট্রাফিক রিপোর্ট বিশ্লেষণ করছেন একজন মার্কেটার”

—অনেক বেশি অর্থবহ, যদি ছবিটি সত্যিই সেই প্রসঙ্গে ব্যবহার করা হয়।

এখানে একটি ছোট প্রশ্ন কাজে দেয়: ছবিটি সরিয়ে দিলে বাকিটা পড়েও কি একই তথ্য পাওয়া যাবে?

যদি উত্তর “না” হয়, হারিয়ে যাওয়া তথ্যটিই অল্ট টেক্সটে গুরুত্ব পাবে।

আইকনের ক্ষেত্রে চেহারার চেয়ে কাজ গুরুত্বপূর্ণ

ধরা যাক, একটি ওয়েব অ্যাপে ট্র্যাশ ক্যানের আইকনে চাপ দিলে ফাইল মুছে যায়। আইকনটির একমাত্র কাজ যদি সেটিই হয়, তাহলে—

“লাল ট্র্যাশ ক্যান আইকন”

লেখার চেয়ে—

“ফাইল মুছুন”

ব্যবহারকারীর জন্য বেশি কাজে আসে।

কারণ এখানে ব্যবহারকারী মূলত আইকনটি দেখতে কেমন তা জানতে চান না; সেটি চাপলে কী হবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। ডব্লিউ৩সি-ও কাজের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত ছবির ক্ষেত্রে তার কাজ বা গন্তব্য বোঝানোর ওপর জোর দেয়।

ছবিতে যত কিছু আছে, সব লিখতে হবে না

অল্ট টেক্সট লেখা অনেক সময় ছবির তালিকা বানানোর কাজে পরিণত হয়। ডেস্কে যদি ল্যাপটপ, ফোন, কফির কাপ, গাছ, জানালা ও একজন মানুষ থাকে, তার মানে এই নয় যে ছয়টি বিষয়ই উল্লেখ করতে হবে।

একটি সফটওয়্যার নির্দেশিকায় যদি ছবিটি নির্দিষ্ট একটি সেটিং কোথায় পাওয়া যাবে তা দেখানোর জন্য থাকে, তখন সেই সেটিংটাই মূল তথ্য। পাশের কফির কাপ কোন রঙের, তা বাদ গেলেও পাঠক কিছু হারাচ্ছেন না।

এ কারণেই “অল্ট টেক্সট অবশ্যই অমুক সংখ্যক অক্ষরের মধ্যে হতে হবে”—এ ধরনের কঠোর নিয়ম ধরে লেখা খুব উপকারী নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত যত কম কথায় প্রয়োজনীয় অর্থ পরিষ্কার করা যায়।

তবে সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দেওয়া যাবে না। চার্ট বা জটিল ইনফোগ্রাফিকের ক্ষেত্রে এক লাইনের অল্ট টেক্সট দিয়ে পুরো তথ্য বোঝানো সম্ভব না হলে আলাদা ব্যাখ্যা দরকার হবে।

কিওয়ার্ড বসাবেন, কিন্তু ছবির সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে

এসইওর জন্য অল্ট টেক্সটে কিওয়ার্ড ব্যবহার করা যায়। সমস্যা কিওয়ার্ডে নয়, সমস্যা অস্বাভাবিক ব্যবহারে।

ধরা যাক, ছবিতে ওয়ার্ডপ্রেসে ছবির অল্ট টেক্সট সম্পাদনার জায়গাটি দেখানো হয়েছে।

স্বাভাবিক বর্ণনা হতে পারে:

“ওয়ার্ডপ্রেসে ছবির অল্ট টেক্সট সম্পাদনার সেটিং”

কিন্তু এমন লেখা—

“ইমেজ অল্ট টেক্সট এসইও এসইও বাংলা গুগল সার্চ ওয়েবসাইট ট্রাফিক ইমেজ অপটিমাইজেশন বেস্ট এসইও”

পাঠককে ছবির বিষয়ে প্রায় কিছুই জানায় না।

গুগল অল্ট অ্যাট্রিবিউটে অস্বাভাবিকভাবে কিওয়ার্ড ভরে দেওয়া এড়িয়ে চলতে বলে। তাই মূল কিওয়ার্ডটি বসানোর জন্য বাক্যকে বিকৃত করার দরকার নেই। ছবির অর্থের মধ্যে শব্দটি স্বাভাবিকভাবে থাকলে ব্যবহার করুন; না থাকলে বাদ দিন।

সব ছবিকে একইভাবে দেখলে ভুল হবে

সব ছবিকে একইভাবে দেখলে ভুল হবে

পেজের ছবি মোটামুটি কয়েক ধরনের ভূমিকা নিতে পারে। এখানেই অল্ট টেক্সটের সিদ্ধান্ত বদলে যায়।

  • তথ্যবহুল ছবি: ছবিটি যদি নতুন বা প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়, সেই তথ্যের অর্থ বর্ণনা করুন।
  • সাজসজ্জার ছবি: ছবিটি সরিয়ে দিলেও তথ্য বা কাজের কোনো পরিবর্তন না হলে খালি alt=”” যথেষ্ট হতে পারে।
  • লিংক বা বোতামের ছবি: ছবিটি কোথায় নিয়ে যাবে বা কী কাজ করবে, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
  • লেখাযুক্ত ছবি: ছবির ভেতরের লেখা বোঝা জরুরি হলে প্রয়োজনীয় অংশ বিকল্প লেখায় পৌঁছে দিন।
  • চার্ট বা জটিল ডায়াগ্রাম: সংক্ষিপ্ত অল্ট টেক্সটের সঙ্গে বিস্তারিত লেখার ব্যাখ্যা দিন।

এই পার্থক্যটি মনে রাখলে বেশির ভাগ অল্ট টেক্সট সিদ্ধান্তই সহজ হয়ে যায়।

সাজসজ্জার ছবিতে বর্ণনা না দেওয়াই কখনও সঠিক সিদ্ধান্ত

ধরা যাক, একটি নিবন্ধের দুই অংশের মাঝখানে শুধু নকশার জন্য ঢেউয়ের আকৃতির একটি ছবি আছে। সেটি বাদ গেলেও পাঠকের কোনো তথ্য হারাবে না।

এ ক্ষেত্রে লিখতে পারেন:

<img src=”decorative-shape.png” alt=””>

খালি alt=”” দেওয়া আর alt বাদ দেওয়া একই বিষয় নয়।

এই কোডে—

<img src=”image.jpg” alt=””>

ব্রাউজার ও সহায়ক প্রযুক্তিকে জানানো হচ্ছে যে ছবিটির জন্য কোনো বিকল্প বর্ণনা প্রয়োজন নেই।

কিন্তু এখানে—

<img src=”image.jpg”>

alt অ্যাট্রিবিউটই নেই।

প্রয়োজনীয় ছবিতে alt বাদ পড়লে অ্যাক্সেসিবিলিটি সমস্যা তৈরি হতে পারে। কিছু স্ক্রিন রিডার এমন অবস্থায় ছবির ফাইলের নামও ঘোষণা করতে পারে। ফলে banner-final-v3.jpg-এর মতো একটি ফাইলের নাম ব্যবহারকারীর কাছে পড়ে শোনানো হতে পারে—যা কোনো অর্থবহ বর্ণনা নয়।

ডব্লিউ৩সি সাজসজ্জার ছবিতে খালি অল্ট ব্যবহারের উদাহরণ দেয়। একেবারে নকশামূলক ছবি হলে সিএসএস দিয়ে সেটি যোগ করাও অনেক ক্ষেত্রে পরিষ্কার পদ্ধতি।

আরও পড়ুন: SEO Title লিখবেন কীভাবে: Clickbait ছাড়াই CTR বাড়ানোর কৌশল

চার্টের সব সংখ্যা অল্ট টেক্সটে ঢোকাবেন না

এই জায়গায় আরেক ধরনের ভুল দেখা যায়। পাঁচ বছরের একটি গ্রাফে থাকা প্রতিটি সংখ্যা এক লাইনের অল্ট টেক্সটে বসানোর চেষ্টা করলে ফল দাঁড়ায় দীর্ঘ, ক্লান্তিকর একটি বাক্য।

ধরা যাক, চার্টটিতে ২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত মাসিক ওয়েবসাইট ট্রাফিক দেখানো হয়েছে।

অল্ট টেক্সট হতে পারে:

“২০২২ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত মাসিক ওয়েবসাইট ট্রাফিকের পরিবর্তনের চার্ট”

এতেই চার্টটির পরিচয় পাওয়া গেল। কিন্তু পাঠকের সিদ্ধান্তের জন্য যদি নির্দিষ্ট সংখ্যা, ওঠানামার ধরণ বা তুলনা জানা জরুরি হয়, সেই তথ্য চার্টের নিচে সাধারণ লেখায় বা টেবিলে দিন।

এতে শুধু স্ক্রিন রিডার ব্যবহারকারী নন, দ্রুত চার্টের অর্থ বুঝতে চাওয়া অন্য পাঠকরাও সুবিধা পান। জটিল ছবি নিয়ে কাজ করার সময় সংক্ষিপ্ত পরিচয় এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যাকে আলাদা রাখা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পরিষ্কার সমাধান।

ছবির ভেতরে লেখা থাকলে আগে দেখুন সেটি অন্য কোথাও আছে কি না

ধরা যাক, একটি পোস্টারে লেখা আছে:

ওয়েবিনার: ১৫ সেপ্টেম্বর, সন্ধ্যা ৭টা”

একই তথ্য যদি পেজের সাধারণ লেখায় আগে থেকেই থাকে, ছবির প্রতিটি শব্দ আবার অল্ট টেক্সটে কপি করার প্রয়োজন নাও থাকতে পারে। কিন্তু পোস্টারটিই যদি তারিখ ও সময় জানার একমাত্র জায়গা হয়, তাহলে সেই তথ্য বিকল্প লেখায় পৌঁছানো দরকার।

আরও ভালো প্রশ্ন হলো: গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি আদৌ ছবির মধ্যেই আটকে রাখা দরকার কি না। সম্ভব হলে প্রয়োজনীয় লেখা সাধারণ এইচটিএমএল টেক্সট হিসেবেও পেজে দিন। এতে তথ্য খুঁজে পাওয়া, পড়া ও ব্যবহার করা সহজ হয়।

ছবিটি লিংক হলে বর্ণনার ধরন বদলান

একটি ম্যাগনিফাইং গ্লাসের ছবিতে ক্লিক করলে যদি “এসইও অডিট” গাইড খোলে, তাহলে ছবির রং বা আকারের চেয়ে গন্তব্যটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণ:

<a href=”/seo-audit/”>

  <img src=”audit-icon.png” alt=”এসইও অডিট গাইড পড়ুন”>

</a>

এখানে—

“নীল ম্যাগনিফাইং গ্লাস”

লিখলে ছবিটি দেখতে কেমন বোঝা যায়, কিন্তু ক্লিক করলে কী হবে বোঝা যায় না।

গুগল ছবিকে লিংক হিসেবে ব্যবহার করা হলে তার alt-এর লেখাকে অ্যাঙ্কর টেক্সট হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ডব্লিউ৩সি-ও কাজের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত ছবির বর্ণনায় তার উদ্দেশ্য বা গন্তব্য বোঝানোর পরামর্শ দেয়। তবে লিংকের পাশেই যদি একই গন্তব্য স্পষ্ট করে লেখা থাকে, তখন ছবির বর্ণনা আবার পড়ানো অপ্রয়োজনীয় হতে পারে। প্রসঙ্গ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

যে কয়েকটি ভুল প্রকাশের আগে ধরা উচিত

একই ধরনের সমস্যা বারবার দেখা যায়, কিন্তু সবগুলোর সমাধান “আরও বেশি লিখুন” নয়।

প্রতিটি অল্ট টেক্সট “একটি ছবি যেখানে…” দিয়ে শুরু করা: বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরাসরি মূল তথ্য দিয়ে শুরু করা যায়।

যেমন—

“একটি ছবিতে একজন নারী ল্যাপটপ ব্যবহার করছেন”

এর চেয়ে, নিবন্ধটি যদি বাড়ি থেকে কাজ নিয়ে হয়—

“বাড়ির ডেস্কে ল্যাপটপে ভিডিও মিটিং করছেন একজন কর্মী”

আরও নির্দিষ্ট।

  • নিশ্চিত না হয়েও ব্র্যান্ড বা মডেল যোগ করা: সাধারণ একটি স্মার্টফোনের ছবিতে শুধু এসইওর সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট ফোনের মডেল লিখে দেওয়া উচিত নয়। অল্ট টেক্সট অনুমান করার জায়গা নয়।
  • ক্যাপশন হুবহু কপি করা: ক্যাপশন পাঠককে বাড়তি প্রসঙ্গ, উৎস বা ব্যাখ্যা দিতে পারে। অল্ট টেক্সট ছবিটির প্রয়োজনীয় বিকল্প অর্থ দেয়। কাজ দুইটির মধ্যে মিল আছে, কিন্তু এক নয়।
  • প্রতিটি ছবিতে একই কিওয়ার্ড: একটি নিবন্ধে ১০টি ছবির কাজ যদি আলাদা হয়, তাদের ১০টি অল্ট টেক্সটও এক রকম হওয়ার কথা নয়। একই কিওয়ার্ড বারবার বসাতে গিয়ে ছবির প্রকৃত অর্থ হারালে সেটি অপটিমাইজেশন নয়।

একটি ছবির অল্ট টেক্সট ঠিক আছে কি না দ্রুত বুঝবেন যেভাবে

প্রকাশের আগে আলাদা কোনো দীর্ঘ চেকলিস্টের দরকার নেই। ছবিটির দিকে তাকিয়ে কয়েকটি বিষয় মিলিয়ে নিলেই বেশির ভাগ সমস্যা ধরা পড়ে। ছবিটি সরালে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারাচ্ছে কি না দেখুন। হারালে সেই তথ্য অল্ট টেক্সটে এসেছে কি না পরীক্ষা করুন। ছবিটি শুধু সাজসজ্জার হলে খালি alt=”” যথেষ্ট কি না ভাবুন।

এরপর দেখুন ব্যবহৃত কিওয়ার্ডটি সত্যিই ছবির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না। শুধু সার্চের জন্য যোগ করা শব্দ থাকলে সরিয়ে দিন। ছবিটি যদি লিংক, বোতাম, চার্ট বা ইনফোগ্রাফিক হয়, সাধারণ ফটোর নিয়মে লেখা বর্ণনা যথেষ্ট নাও হতে পারে। তখন ছবির কাজ, গন্তব্য বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আর একই তথ্য পাশের অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে থাকলে সেটি আবার হুবহু পড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করুন।

অল্ট টেক্সট বদলালেই ট্রাফিক বাড়বে—এমন হিসাব করবেন না

অল্ট টেক্সট ছবির বিষয় বুঝতে গুগলকে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু এটিই পুরো ইমেজ এসইও নয়।

পেজের বিষয়বস্তু, ছবির আশপাশের লেখা, ক্যাপশন, ছবির গুণমান, ক্রলিং ও ইনডেক্সিংয়ের অবস্থা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ও প্রাসঙ্গিক। তাই কয়েকটি ছবির অল্ট টেক্সট বদলে নির্দিষ্ট পরিমাণ গুগল ইমেজ ট্রাফিক পাওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবসম্মত নয়।

এই জায়গায় সম্পাদকীয় অগ্রাধিকারটি পরিষ্কার রাখা ভালো: প্রথমে ছবিটির অর্থ ঠিকভাবে জানান, তারপর দেখুন প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ডটি স্বাভাবিকভাবে সেখানে মানায় কি না। উল্টো পথে গেলে অল্ট টেক্সট দ্রুত কিওয়ার্ডের তালিকায় পরিণত হয়।

পুরোনো ওয়েবসাইটে কোথা থেকে কাজ শুরু করবেন

শত শত বা হাজারো ছবি থাকা ওয়েবসাইটে এক দিনে সব অল্ট টেক্সট সংশোধনের চেষ্টা করার দরকার নেই।

প্রথমে এমন পেজগুলো দেখুন যেখানে ছবিটি ছাড়া নির্দেশনা বোঝা কঠিন, গুরুত্বপূর্ণ পণ্য বা সেবার ছবি আছে, অথবা চার্ট ও ইনফোগ্রাফিকের মাধ্যমে তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে ভুল অল্ট টেক্সটের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।

প্রতিটি ছবির সামনে তিনটি প্রশ্ন রাখুন: এটি নতুন কোনো তথ্য দিচ্ছে কি, একই তথ্য পাশের লেখায় আছে কি, এবং ছবিটি কোনো কাজ বা লিংকের অংশ কি না।

উত্তর অনুযায়ী কখনও বর্ণনামূলক অল্ট টেক্সট লিখবেন, কখনও alt=”” দেবেন, আবার জটিল ছবির ক্ষেত্রে আলাদা বিস্তারিত ব্যাখ্যা রাখবেন।

ইমেজ অল্ট টেক্সট এসইও ভালো করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ কিওয়ার্ড দিয়ে শুরু করা নয়। শুরু করুন ছবিটির উদ্দেশ্য দিয়ে। সেই উদ্দেশ্য পরিষ্কার হলে কী লিখতে হবে—এবং কী না লিখলেও চলে—দুটিই অনেক সহজে বোঝা যায়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ছবির বিকল্প লেখা কতটা দীর্ঘ হওয়া উচিত?

এর জন্য নির্দিষ্ট অক্ষরসংখ্যার বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। ছবিটি না দেখেও প্রয়োজনীয় অর্থ বোঝা যায়—এতটুকু তথ্যই সংক্ষেপে দেওয়া উচিত। জটিল ছক, রেখাচিত্র বা তথ্যচিত্রের সব তথ্য এক বাক্যে ধরার চেষ্টা না করে কাছাকাছি জায়গায় বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়া ভালো।

প্রতিটি ছবির জন্য কি বর্ণনামূলক বিকল্প লেখা দিতে হবে?

না। যে ছবি শুধু সাজসজ্জার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং বাদ দিলেও কোনো তথ্য বা কাজের অর্থ বদলায় না, সেখানে খালি বিকল্প লেখার মান ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু তথ্যবহুল ছবি, নির্দেশনামূলক ছবি বা কোনো কাজ সম্পাদনের জন্য ব্যবহৃত ছবিতে প্রয়োজনীয় অর্থ জানানো উচিত।

ছবির বিকল্প লেখায় মূল অনুসন্ধান-শব্দ রাখা কি জরুরি?

জরুরি নয়। মূল অনুসন্ধান-শব্দটি ছবির বিষয় ও লেখার প্রসঙ্গের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিললে ব্যবহার করা যায়। শুধু অনুসন্ধান ফলাফলে সুবিধা পাওয়ার আশায় অপ্রাসঙ্গিক শব্দ যোগ করলে বর্ণনাটি দুর্বল হয়ে যায়।

ছবির নিচের বর্ণনা এবং বিকল্প লেখা কি একই হবে?

সব সময় নয়। ছবির নিচের বর্ণনা দৃশ্যমান পাঠককে অতিরিক্ত প্রসঙ্গ, ব্যাখ্যা বা উৎস জানাতে পারে। বিকল্প লেখার কাজ হলো ছবি দেখতে না পারা অবস্থায় প্রয়োজনীয় অর্থ পৌঁছে দেওয়া। তাই দুই জায়গার লেখা প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।

ছবির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ লেখা থাকলে কী করা উচিত?

ছবির লেখাটি যদি তথ্য বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় হয় এবং একই তথ্য পৃষ্ঠার অন্য কোথাও না থাকে, তাহলে সেই তথ্য বিকল্প লেখায় দিতে হবে। সম্ভব হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শুধু ছবির মধ্যে আটকে না রেখে সাধারণ লেখাতেও প্রকাশ করা ভালো।

পুরোনো ওয়েবসাইটের সব ছবির বিকল্প লেখা কি একসঙ্গে ঠিক করতে হবে?

না। আগে এমন পৃষ্ঠাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া বেশি বাস্তবসম্মত, যেখানে নির্দেশনামূলক ছবি, পণ্য বা সেবার গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ছক, রেখাচিত্র কিংবা তথ্যচিত্র রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে অন্য পৃষ্ঠার ছবিগুলো পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

সর্বশেষ