একটি প্রতিবেদনে কোনো তথ্যের পাশে উৎস লিংক দেওয়া খুব ছোট একটি কাজ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু ভুল জায়গায় লিংক দেওয়া, দুর্বল উৎস বেছে নেওয়া কিংবা সব বহির্মুখী লিংকে একসঙ্গে nofollow বসিয়ে দেওয়া—এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে একটি প্রকাশনার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এখানেই বহির্মুখী লিংকের এসইও এবং সম্পাদকীয় উৎস ব্যবস্থাপনা এক জায়গায় এসে মেলে। ভালো উৎস লিংক এমন হওয়া উচিত, যাতে পাঠক চাইলে দাবিটি নিজে যাচাই করতে পারেন। একই সঙ্গে লিংকটি কেন দেওয়া হচ্ছে—তথ্যের উৎস হিসেবে, বিজ্ঞাপনের অংশ হিসেবে, নাকি ব্যবহারকারীর দেওয়া লিংক হিসেবে—সেটিও কারিগরি দিক থেকে পরিষ্কার থাকা দরকার।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, বহির্মুখী লিংককে শুধু এসইও কৌশল হিসেবে না দেখা। এটি মূলত তথ্যের উৎস দেখানোর অংশ।
কোন তথ্যের পাশে উৎস লিংক দেওয়া দরকার
প্রতিটি বাক্যের শেষে লিংক বসানোর প্রয়োজন নেই। বরং যে তথ্যটি পাঠকের পক্ষে যাচাই করা যুক্তিসঙ্গত, সেই জায়গায় উৎস সবচেয়ে দরকারি।
গবেষণার ফল, জরিপ, পরিসংখ্যান, সরকারি সিদ্ধান্ত, আইন বা নীতির ব্যাখ্যা, কোনো প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা, পণ্যের কারিগরি বিবরণ, আদালতের নথি কিংবা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নথি থেকে নেওয়া তথ্য—এসব ক্ষেত্রে উৎস দেখানো উচিত।
অন্য কোনো সংবাদমাধ্যম প্রথম কোনো তথ্য প্রকাশ করলে বিষয়টি একটু আলাদা। সেখানে শুধু তথ্যটি পুনরায় লেখা যথেষ্ট নয়। সংবাদমাধ্যমটির মৌলিক প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হলে তাকে কৃতিত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সেই প্রতিবেদনে যদি সরকারি নথি, কোম্পানির বিবৃতি বা গবেষণাপত্রের উল্লেখ থাকে, সম্ভব হলে মূল নথিটিও দেখা উচিত।
সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্টসের নীতিতেও তথ্য প্রকাশের আগে যাচাই, উৎস স্পষ্ট করা এবং অন্যের লেখা নিজের নামে চালানো এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎস লিংকের উদ্দেশ্য তাই “আরও পড়ুন” ধরনের একটি অতিরিক্ত সুবিধা নয়। পাঠক যেন বুঝতে পারেন, দাবিটির ভিত্তি কোথায়।
আরও পড়ুন: SEO Title লিখবেন কীভাবে: Clickbait ছাড়াই CTR বাড়ানোর কৌশল
মূল উৎস পাওয়া গেলে সেখানে যাওয়া ভালো

ধরা যাক, একটি প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদে লেখা হয়েছে যে কোনো কোম্পানি তার গোপনীয়তা নীতি পরিবর্তন করেছে। নতুন নিবন্ধ তৈরির সময় সেই সংবাদমাধ্যমটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। কিন্তু নীতির ঠিক কোন অংশ বদলেছে, কখন থেকে কার্যকর হয়েছে—এসব জানতে কোম্পানির নিজস্ব নীতিমালা পৃষ্ঠা বা ঘোষণা দেখা বেশি নির্ভরযোগ্য।
তবে “সব সময় মূল উৎসই সেরা”—এমন সরল নিয়মও ঠিক নয়।
কোনো কোম্পানি নিজের পণ্য নিয়ে বড় ধরনের কার্যকারিতার দাবি করতে পারে। সেই দাবি কোম্পানির ওয়েবসাইটে পাওয়া গেলেও সেটির স্বাধীন মূল্যায়ন জানতে নির্ভরযোগ্য গৌণ প্রতিবেদন দরকার হতে পারে।
উৎস বাছাই তাই দাবির ধরন অনুযায়ী করতে হয়।
আইন বা সরকারি নীতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার ক্ষেত্রে মূল গবেষণাপত্র বা তথ্যভান্ডার। কোনো সফটওয়্যারের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক নথিপত্র। আবার কোনো কোম্পানির দাবি কতটা বাস্তবসম্মত, সেটি বোঝার জন্য স্বাধীন সংবাদ বা বিশ্লেষণও প্রয়োজন হতে পারে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সম্পাদকীয় নীতিতেও ইন্টারনেট থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই এবং সম্ভব হলে মূল উৎসে কৃতিত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
অনুসন্ধানের ফল নিজে উৎস নয়
একটি সাধারণ ভুল হলো গুগল নিউজের শিরোনাম, অনুসন্ধানের সংক্ষিপ্ত অংশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পর্দাচিত্র বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি সারাংশ দেখে তথ্যটি লিখে ফেলা। এসব জায়গা উৎস খুঁজে পাওয়ার পথ হতে পারে, কিন্তু সাধারণত যাচাইয়ের শেষ ধাপ হওয়া উচিত নয়।
কোনো ফেসবুক পোস্টে সরকারি প্রতিবেদনের একটি সংখ্যা দেখা গেলে প্রতিবেদনটি খুঁজে বের করাই ভালো। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে সংখ্যাটি ঠিক থাকলেও তার প্রেক্ষাপট বাদ পড়তে পারে।
একইভাবে অনুসন্ধানের সংক্ষিপ্ত অংশ কখনো পুরো বাক্য বা শর্ত দেখায় না। তাই সেটি দেখে দাবি নিশ্চিত না করে মূল পৃষ্ঠা খোলা নিরাপদ সম্পাদকীয় অভ্যাস।
লিংক কোথায় বসালে পাঠক বুঝতে পারবেন
উৎস লিংক এমন শব্দে বসানো ভালো, যেটি পড়েই গন্তব্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
“এখানে ক্লিক করুন” খুব বেশি তথ্য দেয় না।
এর বদলে বলা যায়:
“গুগলের বহির্মুখী লিংক নির্দেশনায় অর্থের বিনিময়ে দেওয়া লিংকের জন্য rel=”sponsored” ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।”
এখানে পাঠক আগে থেকেই জানেন লিংকটি কোথায় নিয়ে যাবে।
লিংকের দৃশ্যমান লেখার আরেকটি সমস্যা হলো এসইও কীওয়ার্ড জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া। এর কাজ হলো যুক্ত পৃষ্ঠাটি কী নিয়ে, সেটি বোঝানো। কীওয়ার্ড বসানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করলে বাক্য অস্বাভাবিক হয়ে যায়। উৎসটি যে দাবিকে সমর্থন করছে, লিংকটিও সেই দাবির কাছাকাছি রাখা ভালো। দীর্ঘ অনুচ্ছেদের শেষে পাঁচটি উৎস দিয়ে দিলে কোনটি কোন তথ্যের জন্য—তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
“ডুফলো” নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি
এসইও আলোচনায় “ডুফলো লিংক” শব্দটি খুব পরিচিত। কিন্তু সাধারণ এইচটিএমএল লিংকের জন্য rel=”dofollow” লিখতে হয় না।
স্বাভাবিক লিংক হতে পারে:
<a href=”https://example.com”>উৎসের নাম</a>
লিংকটি যদি অর্থের বিনিময়ে দেওয়া, পৃষ্ঠপোষকতামূলক বা ব্যবহারকারীর তৈরি না হয় এবং অন্য কোনো বিশেষ পরিচয় প্রয়োজন না থাকে, তাহলে সাধারণত আলাদা rel মান দরকার হয় না। এসইও আলোচনায় এ ধরনের লিংককেই প্রায়ই “ডুফলো” বলা হয়।
এখানে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা বাদ দেওয়া দরকার: বহির্মুখী ওয়েবসাইটে লিংক দিলেই সেটিকে nofollow করতে হবে—গুগল এমন কোনো নিয়ম দেয়নি। সরকারি প্রতিবেদন, মূল গবেষণা কিংবা প্রাসঙ্গিক সম্পাদকীয় উৎসে স্বাভাবিক লিংক দেওয়া যেতে পারে।
Nofollow, sponsored ও ugc এক জিনিস নয়
এই তিনটি কারিগরি নির্দেশক প্রায়ই একসঙ্গে আলোচনা করা হয় বলে অনেকের কাছে এগুলো একই ধরনের মনে হতে পারে। আসলে প্রতিটির ব্যবহার আলাদা। nofollow এমন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখানে sponsored বা ugc প্রযোজ্য নয় এবং প্রকাশক যুক্ত পৃষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্ক বা লিংক অনুসরণের সংকেত দিতে চান না।
উদাহরণ:
<a href=”https://example.com” rel=”nofollow”>উল্লেখিত ওয়েবসাইট</a>
ধরা যাক, কোনো প্রতিবেদনে একটি সন্দেহজনক ওয়েবসাইটের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে। পাঠকের জন্য সাইটটির উল্লেখ প্রয়োজন, কিন্তু প্রকাশনা সেটিকে সমর্থন করছে না। এমন পরিস্থিতিতে nofollow ব্যবহার যৌক্তিক হতে পারে।
তবে nofollow দিয়ে কোনো পৃষ্ঠাকে গুগল সার্চ থেকে সরানো যায় না। অন্য লিংক বা সাইটম্যাপ থেকে গুগল ঠিকানাটি খুঁজে পেতে পারে। নিজের পৃষ্ঠা সূচিভুক্ত হওয়া বন্ধ করতে হলে সূচিভুক্তি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আলাদা; nofollow তার বিকল্প নয়।
অর্থের বিনিময়ে লিংক হলে কী করবেন
বিজ্ঞাপন, পৃষ্ঠপোষকতা, অ্যাফিলিয়েট কমিশন কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সম্পর্কের কারণে লিংক দেওয়া হলে সেটি সাধারণ সম্পাদকীয় লিংক হিসেবে রাখা উচিত নয়।
গুগল অর্থের বিনিময়ে দেওয়া লিংকের জন্য rel=”sponsored” ব্যবহারের কথা বলে।
উদাহরণ:
<a href=”https://example.com” rel=”sponsored”>স্পনসরের ওয়েবসাইট</a>
এ ধরনের লিংকের ক্ষেত্রে nofollow এখনও গ্রহণযোগ্য। তবে সম্পর্কটি বাণিজ্যিক—এটি বোঝাতে sponsored বেশি নির্দিষ্ট। অ্যাফিলিয়েট লিংকও একই ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে পড়ে। তাই অ্যাফিলিয়েট লিংকের ক্ষেত্রে rel=”sponsored” ব্যবহারই বেশি পরিষ্কার পদ্ধতি।
আরেকটি বিষয় কারিগরি নিয়মের বাইরে। পৃষ্ঠপোষকতামূলক লেখা হলে পাঠকের কাছেও সেই সম্পর্ক গোপন রাখা উচিত নয়। বিজ্ঞাপন এবং স্বাধীন সম্পাদকীয় লেখার সীমা পরিষ্কার থাকা সাংবাদিকতার মৌলিক স্বচ্ছতার অংশ।
মন্তব্য বা ফোরামের লিংক
মন্তব্যের ঘর, ফোরাম, কমিউনিটি পোস্ট কিংবা অন্য ব্যবহারকারী-তৈরি জায়গায় ব্যবহারকারী নিজে লিংক যোগ করলে rel=”ugc” ব্যবহার করা যায়।
যেমন:
<a href=”https://example.com” rel=”ugc”>ব্যবহারকারীর দেওয়া লিংক</a>
প্রয়োজনে ugc ও nofollow একসঙ্গে ব্যবহার করাও সম্ভব।
তবে একাধিক নির্দেশক বসালেই লিংক “আরও নিরাপদ” হয়ে যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। কোন ধরনের লিংক, সেটিই আগে বুঝতে হবে। সাধারণভাবে নিয়মটি এভাবে মনে রাখা যায়: স্বাধীন সম্পাদকীয় উৎস হলে সাধারণ লিংক, আর্থিক সম্পর্ক থাকলে sponsored, ব্যবহারকারীর তৈরি লিংক হলে ugc, আর অন্য কোনো নির্দিষ্ট ধরন না মিললেও সম্পর্ক এড়ানোর প্রয়োজন থাকলে nofollow।
বহির্মুখী লিংক দিলে কি নিজের এসইও ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

এটি সম্ভবত বহির্মুখী লিংক নিয়ে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ভুল ধারণাগুলোর একটি। নির্ভরযোগ্য উৎসে লিংক করলেই নিজের সার্চ র্যাঙ্কিং কমে যাবে—গুগল এমন কোনো নিয়ম প্রকাশ করেনি। আবার উল্টো দিক থেকেও সতর্ক থাকা দরকার। কয়েকটি বড় ও কর্তৃত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটে লিংক বসালেই র্যাঙ্কিং বেড়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।
গুগলের লিংকবিষয়ক নির্দেশনায় প্রয়োজনমতো বহির্মুখী উৎস উল্লেখ করার কথা আছে। একটি ভালো উদ্ধৃতি পাঠকের কাছে তথ্যের ভিত্তি পরিষ্কার করতে পারে। কিন্তু এটিকে র্যাঙ্কিং বাড়ানোর সহজ কৌশল হিসেবে দেখলে মূল উদ্দেশ্যটাই হারিয়ে যায়।
বহির্মুখী লিংকের এসইও নিয়ে সম্পাদকের প্রশ্ন হওয়া উচিত: এই লিংকটি কি তথ্য যাচাইয়ে কাজে লাগছে?
উত্তর যদি না হয়, শুধু এসইওর জন্য লিংক দেওয়ার তেমন অর্থ নেই।
লিংক দিলেই লেখা চুরির দায় শেষ হয় না
এখানেও একটি ভুল ধারণা প্রায়ই দেখা যায়। অন্য নিবন্ধের কয়েকটি অনুচ্ছেদ সামান্য পরিবর্তন করে লিখে শেষে মূল লিংক দিয়ে দিলে সেটি নিজস্ব কাজ হয়ে যায় না। অন্যের প্রতিবেদন ব্যবহার করলে উৎসকে কৃতিত্ব দেওয়া দরকার, কিন্তু তার পাশাপাশি নিজের ভাষা ও কাঠামোয় তথ্যটি উপস্থাপন করাও জরুরি।
সরাসরি উদ্ধৃতি ব্যবহার করলে সেটি উদ্ধৃতি হিসেবেই পরিষ্কার থাকতে হবে। অন্য লেখার স্বতন্ত্র ভাষা বা কাঠামো নিজের লেখা হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়। কোনো সংবাদমাধ্যম মৌলিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রথম প্রকাশ করলে প্রয়োজনে সেটিও উল্লেখ করা উচিত।
এসপিজে লেখা চুরি এড়িয়ে যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়ার কথা বলে। এপি-ও অন্যের লেখা নিজের নামে চালানোর বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেয়।
গুগলের স্প্যাম নীতিতে অন্য সাইটের লেখা নতুন কোনো মূল্য না যোগ করে পুনঃপ্রকাশ করা বা সামান্য পরিবর্তন করে আবার প্রকাশ করাকে অপব্যবহারমূলক কনটেন্ট সংগ্রহের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অর্থাৎ হাইপারলিংক কৃতিত্ব দেওয়ার একটি উপায়। নকল করার অনুমতি নয়।
ভালো উৎস বাছতে পাঁচটি প্রশ্ন যথেষ্ট
উৎস দেখেই ওয়েবসাইটের নাম চিনতে পারা সুবিধাজনক, কিন্তু সেটাই শেষ বিচার নয়। প্রথমে দেখুন তথ্যটি আসলে কোথা থেকে এসেছে। বর্তমান পৃষ্ঠা নিজেই কি তথ্যটি প্রকাশ করেছে, নাকি অন্য কোথাও থেকে নিয়েছে?
তারপর তারিখ দেখুন। নীতি, দাম, পণ্যের বৈশিষ্ট্য বা সেবার প্রাপ্যতা পুরোনো হলে পুরো দাবিই ভুল হয়ে যেতে পারে। উৎসের নিজস্ব স্বার্থও বিবেচনায় রাখা দরকার। কোনো কোম্পানির আনুষ্ঠানিক পৃষ্ঠা তার নীতি বা বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করার জন্য ভালো উৎস। কিন্তু নিজের পণ্যের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কোম্পানির দাবি স্বাধীন মূল্যায়ন নয়।
এরপর সবচেয়ে সহজ প্রশ্ন: যুক্ত পৃষ্ঠাটি খুললে দাবিটি সত্যিই পাওয়া যাচ্ছে কি?
অনেক সময় পরিচিত ওয়েবসাইটের এমন একটি পৃষ্ঠায় লিংক দেওয়া হয়, যেখানে নিবন্ধের নির্দিষ্ট তথ্যটি নেই। এতে উদ্ধৃতি দেখতে ভালো লাগলেও যাচাই করা যায় না। সবশেষে দেখুন আরও সরাসরি কোনো মূল নথি আছে কি না। দশটি নিবন্ধ যদি একই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে লেখা হয়, মূল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি খুঁজে দেখা সাধারণত বেশি কার্যকর।
প্রকাশের আগে কয়েক মিনিটের উৎস যাচাই
প্রতিটি নিবন্ধের জন্য জটিল যাচাইব্যবস্থা দরকার নেই। ছোট একটি নিয়মিত প্রক্রিয়াই যথেষ্ট। প্রথমে সংখ্যা, তারিখ, গবেষণার ফল, উদ্ধৃতি, নীতি, পণ্যের বৈশিষ্ট্য এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যগুলো আলাদা করে দেখুন।
এরপর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস খুলুন। অনুসন্ধানের ফলের সংক্ষিপ্ত অংশ দেখে ধরে নেবেন না যে পুরো দাবিটিই সেখানে আছে। কোনো গৌণ নিবন্ধে গবেষণার উল্লেখ থাকলে মূল গবেষণাটি পাওয়া যায় কি না দেখুন। লিংকের দৃশ্যমান লেখা দেখে বোঝা যাচ্ছে কি না, সেটি কোথায় নিয়ে যাবে—তাও পরীক্ষা করুন।
বাণিজ্যিক লিংক থাকলে আবার দেখুন সেটি অ্যাফিলিয়েট, পৃষ্ঠপোষকতা নাকি স্বাধীন সম্পাদকীয় উল্লেখ। প্রয়োজন অনুযায়ী rel মান এবং প্রকাশ্য ঘোষণা ঠিক করুন।
সবশেষে লিংকটি কাজ করছে কি না দেখুন। পুরোনো নিবন্ধ হালনাগাদ করার সময় এই ধাপটি বিশেষভাবে দরকার। কারণ নিবন্ধের তারিখ বদলালেও উৎসের পৃষ্ঠা পরিবর্তিত হতে পারে, সরিয়ে নেওয়া হতে পারে অথবা নতুন নীতি এসে পুরোনো তথ্য অচল করে দিতে পারে।
একটি প্রকাশনার নিজস্ব লিংকিং নীতি থাকা ভালো
একজন লেখক একভাবে, আরেকজন অন্যভাবে বহির্মুখী লিংক দিলে সংবাদকক্ষে দ্রুত অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। তাই একাধিক লেখক কাজ করেন এমন প্রকাশনার জন্য ছোট একটি লিখিত লিংকিং নীতি রাখা বাস্তবসম্মত।
সেখানে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার থাকলেই যথেষ্ট: গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক দাবির মূল উৎস কোথায় খোঁজা হবে, মৌলিক প্রতিবেদন কীভাবে কৃতিত্ব পাবে, অর্থের বিনিময়ে বা অ্যাফিলিয়েট লিংক কীভাবে চিহ্নিত হবে, ব্যবহারকারী-তৈরি লিংকের নিয়ম কী এবং পুরোনো নিবন্ধ হালনাগাদের সময় বহির্মুখী লিংক আবার পরীক্ষা করা হবে কি না।
এতে লেখক, উপসম্পাদক এবং এসইও দল একই ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
লিংক দেওয়ার আগে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে কাজে লাগে
উৎস লিংক নিয়ে অনেক কারিগরি নিয়ম আছে, কিন্তু সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তটি তুলনামূলক সহজ। এই লিংক কি পাঠককে দাবিটি যাচাই করতে, মূল তথ্য দেখতে অথবা প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট বুঝতে সাহায্য করছে?
হ্যাঁ হলে উৎসটির মান দেখুন, দাবিটির সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজন হলে সঠিক rel মান দিন। বহির্মুখী লিংকের এসইওকে এর চেয়ে বেশি জটিল করে দেখার প্রয়োজন নেই। একটি ভালো প্রকাশনার জন্য উৎস লিংক প্রথমে বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়; এসইও তার পরের স্তর।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
একটি নিবন্ধে কতটি বহির্মুখী লিংক দেওয়া উচিত?
এর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। যে দাবি বা তথ্য যাচাই করার জন্য সত্যিই উৎস দরকার, সেখানে লিংক দিন। শুধু এসইওর জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক বহির্মুখী লিংক বসানো প্রয়োজন নেই।
সব বহির্মুখী লিংকে কি nofollow ব্যবহার করতে হবে?
না। সাধারণ সম্পাদকীয় উৎসে শুধু সেটি অন্য ওয়েবসাইটের লিংক বলে nofollow দেওয়ার প্রয়োজন নেই। লিংকের ধরন ও প্রকাশনার সঙ্গে তার সম্পর্ক দেখে rel মান ঠিক করতে হবে।
nofollow এবং sponsored-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
rel=”sponsored” মূলত বিজ্ঞাপন, পৃষ্ঠপোষকতা, অ্যাফিলিয়েট বা অন্য অর্থনৈতিক সম্পর্কের কারণে দেওয়া লিংক চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত হয়। nofollow ব্যবহার করা যায় এমন ক্ষেত্রে, যেখানে অন্য নির্দিষ্ট rel মান প্রযোজ্য নয় এবং প্রকাশক লিংকটির সঙ্গে সম্পর্কের সংকেত দিতে চান না।
উৎস লিংক দিলেই কি লেখা চুরির সমস্যা থাকে না?
না। মূল লেখার লিংক দেওয়া মানেই তার লেখা নকল করার অনুমতি পাওয়া নয়। অন্যের তথ্য বা প্রতিবেদন ব্যবহার করলে যথাযথ কৃতিত্ব দিতে হবে এবং নিজের ভাষা ও সম্পাদকীয় কাঠামোয় বিষয়টি উপস্থাপন করতে হবে।
মূল উৎস এবং অন্য সংবাদমাধ্যমের মধ্যে কোনটিতে লিংক দেওয়া ভালো?
এটি তথ্যের ধরনের ওপর নির্ভর করে। সরকারি নীতি, গবেষণা বা কোম্পানির ঘোষণার নির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করতে মূল নথি বেশি উপযোগী। অন্য সংবাদমাধ্যম যদি নিজস্ব অনুসন্ধান বা মৌলিক প্রতিবেদন করে থাকে, সেই কাজের জন্য সংবাদমাধ্যমটিকেও যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়া উচিত।

