বলিউডের সিনেমা মানেই এখন হাজার কোটি রুপির হিসাব। শুধু ভারতেই নয়, উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীন পর্যন্ত নানা বাজারে হিন্দি সিনেমার দর্শক বেড়েছে। বাজেট ও মুক্তির পরিসর বাড়ার পাশাপাশি ছবির বিশ্বব্যাপী আয়ের অঙ্কও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তাই দর্শকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল কাজ করে, আয়ের দিক থেকে কোন ছবি কাকে পেছনে ফেলল? কোন সিনেমা এখনও শীর্ষে আছে? সাম্প্রতিক ব্লকবাস্টারগুলো কি পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে?
আজ আমরা কথা বলব বলিউডের বক্স অফিস ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০টি ছবি নিয়ে। এই সিনেমাগুলো শুধু দর্শকদের আকর্ষণ করেনি, বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসেও বড় রেকর্ড তৈরি করেছে।
এই তালিকা ১৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত Bollywood Hungama-এর “Including China” বিশ্বব্যাপী গ্রস আয়ের হিসাব অনুসারে সাজানো হয়েছে। বক্স অফিসের অঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন ট্র্যাকারের মধ্যে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। তাই একই তালিকার সব ছবির ক্ষেত্রে একটি উৎসের হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে তুলনাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।
১. দঙ্গল (Dangal) – বক্স অফিসের মুকুটহীন সম্রাট
আমির খানের দঙ্গল নিয়ে নতুন করে বলার খুব বেশি কিছু নেই। নিতেশ তিওয়ারি পরিচালিত এই স্পোর্টস ড্রামা ভারতীয় বক্স অফিসে সাফল্যের পর চীনের বাজারে এক অভাবনীয় রেকর্ড তৈরি করে।
হরিয়ানার কুস্তিগির মহাবীর সিং ফোগাট এবং তার দুই মেয়ে গীতা ও ববিতা ফোগাটের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটি তৈরি করা হয়। আমির খানের পাশাপাশি ফাতিমা সানা শেখ, সানিয়া মালহোত্রা ও সাক্ষী তানওয়ার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন।
আয়ের মূল কারিশমা
Bollywood Hungama-এর হিসাব অনুযায়ী, দঙ্গল বিশ্বব্যাপী প্রায় ₹১,৯৬৮.০৩ কোটি আয় করেছে। এর মধ্যে ভারতের গ্রস আয় ₹৫৩৮.০৩ কোটি এবং বিদেশি বাজারের আয় প্রায় ₹১,৪৩০ কোটি।
বিদেশি আয়ের বড় অংশ এসেছে চীন থেকে। চীনের বাজারে অসাধারণ সাফল্য না পেলে ছবিটি বর্তমান উচ্চতায় পৌঁছাতে পারত না। মুক্তির প্রায় এক দশক পরও এটি বলিউডের সর্বোচ্চ আয় করা ছবি হিসেবে প্রথম স্থানে রয়েছে।
| প্রধান বিষয় | বিবরণ |
| মুক্তির বছর | ২০১৬ |
| পরিচালক | নিতেশ তিওয়ারি |
| প্রধান চরিত্র | আমির খান, ফাতিমা সানা শেখ, সানিয়া মালহোত্রা |
| বিশ্বব্যাপী মোট আয় | ₹১,৯৬৮.০৩ কোটি |
| মূল আকর্ষণ | বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত গল্প ও চীনের বাজারে রেকর্ড সাফল্য |
২. ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ (Dhurandhar: The Revenge) – দঙ্গলের রেকর্ডের সবচেয়ে কাছাকাছি
২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় বলিউড চমক ছিল ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ। আদিত্য ধর পরিচালিত ছবিটি ২০২৫ সালের ধুরন্ধর-এর সরাসরি ধারাবাহিকতা।
১৯ মার্চ ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই অ্যাকশন-থ্রিলারে রণবীর সিংয়ের সঙ্গে অভিনয় করেন সারা অর্জুন, অক্ষয় খান্না, সঞ্জয় দত্ত, আর মাধবন ও অর্জুন রামপাল। প্রথম ছবির গল্প, চরিত্র ও সংঘাতকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়া হয় এই সিক্যুয়েলে।
আয়ের মূল কারিশমা
ছবিটি ভারতে ₹১,১০৮.০৯ কোটি নেট এবং ₹১,৩৭৬.৫১ কোটি গ্রস আয় করেছে। বিদেশি বাজার থেকে এসেছে আরও ₹৪৭৫.৯৩ কোটি।
সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী এর আয় দাঁড়িয়েছে ₹১,৮৫২.৪৪ কোটি। এই অঙ্ক ছবিটিকে বলিউডের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমায় পরিণত করেছে। এটি দঙ্গল-এর রেকর্ড ভাঙতে না পারলেও ব্যবধান কমিয়ে প্রায় ₹১১৫.৫৯ কোটিতে নিয়ে এসেছে।
| প্রধান বিষয় | বিবরণ |
| মুক্তির বছর | ২০২৬ |
| পরিচালক | আদিত্য ধর |
| প্রধান চরিত্র | রণবীর সিং, সারা অর্জুন, অক্ষয় খান্না, সঞ্জয় দত্ত |
| বিশ্বব্যাপী মোট আয় | ₹১,৮৫২.৪৪ কোটি |
| মূল আকর্ষণ | প্রথম ছবির ধারাবাহিকতা ও বৃহৎ পরিসরের অ্যাকশন |
৩. ধুরন্ধর (Dhurandhar) – নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির বিস্ফোরক শুরু
আদিত্য ধর পরিচালিত ধুরন্ধর ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে মুক্তি পায়। রণবীর সিং অভিনীত ছবিটি অ্যাকশন ও থ্রিলার ঘরানার গল্পকে বড় পরিসরে উপস্থাপন করে।
ছবিতে রণবীর সিংয়ের পাশাপাশি সারা অর্জুন, অক্ষয় খান্না, সঞ্জয় দত্ত, আর মাধবন ও অর্জুন রামপালের মতো বড় অভিনয়শিল্পীরা ছিলেন। দীর্ঘ রানটাইম ও প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী সনদ থাকা সত্ত্বেও ছবিটি ভারত ও বিদেশে শক্তিশালী ব্যবসা করে।
আয়ের মূল কারিশমা
Bollywood Hungama-এর হিসাবে, ধুরন্ধর ভারতে ₹৮৯৫.৯৬ কোটি নেট এবং ₹১,০৫৭.৮০ কোটি গ্রস আয় করেছে। বিদেশি বাজারে ছবিটির আয় ছিল ₹২৯৩.০৩ কোটি।
সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী ছবিটি ₹১,৩৫০.৮৩ কোটি আয় করে। পরের বছর এর সিক্যুয়েল দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসায় একই ফ্র্যাঞ্চাইজির দুটি ছবি এখন সর্বকালের তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
| প্রধান বিষয় | বিবরণ |
| মুক্তির বছর | ২০২৫ |
| পরিচালক | আদিত্য ধর |
| প্রধান চরিত্র | রণবীর সিং, অক্ষয় খান্না, সঞ্জয় দত্ত, আর মাধবন |
| বিশ্বব্যাপী মোট আয় | ₹১,৩৫০.৮৩ কোটি |
| মূল আকর্ষণ | বড় এনসেম্বল কাস্ট ও অ্যাকশন-থ্রিলার গল্প |
৪. জাওয়ান (Jawan) – কিং খানের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
২০২৩ সালটি ছিল শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল বছর। অ্যাটলি পরিচালিত জাওয়ান দিয়ে তিনি অ্যাকশন, সামাজিক বার্তা এবং দক্ষিণ ভারতীয় বাণিজ্যিক সিনেমার নির্মাণশৈলীকে একসঙ্গে নিয়ে আসেন।
শাহরুখ খানের একাধিক চরিত্র ও লুকের পাশাপাশি নয়নতারা, বিজয় সেতুপতি, প্রিয়ামণি ও সানিয়া মালহোত্রা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। দীপিকা পাড়ুকোনও একটি বিশেষ চরিত্রে ছিলেন।
আয়ের মূল কারিশমা
বিশ্বব্যাপী ₹১,১৪৮.৩২ কোটি আয় করে ছবিটি বর্তমানে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এর ভারতের গ্রস আয় প্রায় ₹৭৬১.৯৮ কোটি এবং বিদেশি আয় ₹৩৮৬.৩৪ কোটি।
ভারত ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় একই সময়ে বড় পরিসরে মুক্তি পাওয়ায় ছবিটি দ্রুত হাজার কোটি রুপির ঘর অতিক্রম করে।
| প্রধান বিষয় | বিবরণ |
| মুক্তির বছর | ২০২৩ |
| পরিচালক | অ্যাটলি |
| প্রধান চরিত্র | শাহরুখ খান, নয়নতারা, বিজয় সেতুপতি |
| বিশ্বব্যাপী মোট আয় | ₹১,১৪৮.৩২ কোটি |
| মূল আকর্ষণ | শাহরুখের একাধিক চরিত্র, অ্যাকশন ও সামাজিক বার্তা |
৫. পাঠান (Pathaan) – রেকর্ড ভাঙা কামব্যাক
দীর্ঘ বিরতির পর শাহরুখ খান পাঠান দিয়ে কেন্দ্রীয় চরিত্রে বড় পর্দায় ফিরে আসেন। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত এই স্পাই-অ্যাকশন ছবিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেন দীপিকা পাড়ুকোন ও জন আব্রাহাম।
যশ রাজ ফিল্মসের স্পাই ইউনিভার্সের অংশ হিসেবে ছবিটিতে সালমান খানের টাইগার চরিত্রের বিশেষ উপস্থিতিও ছিল। মুক্তির আগে নানা বিতর্ক থাকলেও ছবিটি ভারতে এবং বিদেশে বড় ব্যবসা করে।
আয়ের মূল কারিশমা
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া পাঠান বিশ্বব্যাপী ₹১,০৫০.৩০ কোটি আয় করে। এর ভারতের গ্রস আয় প্রায় ₹৬৫৪.২৮ কোটি এবং বিদেশি আয় ₹৩৯৬.০২ কোটি।
হাজার কোটি রুপি অতিক্রম করা ছবিটি বর্তমানে সর্বকালের বলিউড তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
| প্রধান বিষয় | বিবরণ |
| মুক্তির বছর | ২০২৩ |
| পরিচালক | সিদ্ধার্থ আনন্দ |
| প্রধান চরিত্র | শাহরুখ খান, দীপিকা পাড়ুকোন, জন আব্রাহাম |
| বিশ্বব্যাপী মোট আয় | ₹১,০৫০.৩০ কোটি |
| মূল আকর্ষণ | শাহরুখের প্রত্যাবর্তন, স্পাই ইউনিভার্স ও স্টাইলিশ অ্যাকশন |
৬. বজরঙ্গি ভাইজান (Bajrangi Bhaijaan) – আবেগ ও মানবতার জয়গাথা
সালমান খান মানেই শুধু মারামারি ও অ্যাকশন, এই ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছিল বজরঙ্গি ভাইজান। কবির খান পরিচালিত ছবিটি একটি বাক্প্রতিবন্ধী পাকিস্তানি শিশুকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মানবিক যাত্রা নিয়ে তৈরি।
সালমান খানের সঙ্গে কারিনা কাপুর খান, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী ও হার্ষালি মালহোত্রা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। ছোট্ট মুন্নির চরিত্রে হার্ষালির অভিনয় ছবির আবেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
আয়ের মূল কারিশমা
ছবিটি বিশ্বব্যাপী ₹৯১৮.১৮ কোটি আয় করেছে। এর ভারতের গ্রস আয় প্রায় ₹৪৪৪.৯২ কোটি এবং বিদেশি আয় ₹৪৭৩.২৬ কোটি।
প্রথম দফার আন্তর্জাতিক মুক্তির পর চীনে প্রদর্শিত হওয়ায় ছবিটির বিদেশি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই মুহূর্তে এটি তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
| প্রধান বিষয় | বিবরণ |
| মুক্তির বছর | ২০১৫ |
| পরিচালক | কবির খান |
| প্রধান চরিত্র | সালমান খান, হার্ষালি মালহোত্রা, কারিনা কাপুর খান |
| বিশ্বব্যাপী মোট আয় | ₹৯১৮.১৮ কোটি |
| মূল আকর্ষণ | মানবিক গল্প, হার্ষালির অভিনয় ও বিদেশি বাজারে সাফল্য |
৭. অ্যানিমেল (Animal) – বাবা-ছেলের সংঘাত ও সহিংস প্রতিশোধ
সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা পরিচালিত অ্যানিমেল মুক্তির পর থেকেই ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি করেছিল। রণবীর কাপুরের চরিত্র, সহিংস দৃশ্য এবং বাবা-ছেলের জটিল সম্পর্ক ছিল গল্পের প্রধান ভিত্তি।
ছবিতে রণবীর কাপুরের পাশাপাশি অনিল কাপুর, রাশমিকা মান্দানা, তৃপ্তি দিমরি ও ববি দেওল গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন।
আয়ের মূল কারিশমা
বিশ্বব্যাপী ₹৯১৭.৮২ কোটি আয় করে ছবিটি তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে। এর ভারতের গ্রস আয় ₹৬৬২.৩৩ কোটি এবং বিদেশি আয় ₹২৫৫.৪৯ কোটি।
বজরঙ্গি ভাইজান-এর তুলনায় ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় মাত্র ₹০.৩৬ কোটি কম। ফলে দুটি ছবির অবস্থানের ব্যবধান অত্যন্ত সামান্য।
| প্রধান বিষয় | বিবরণ |
| মুক্তির বছর | ২০২৩ |
| পরিচালক | সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা |
| প্রধান চরিত্র | রণবীর কাপুর, অনিল কাপুর, রাশমিকা মান্দানা, ববি দেওল |
| বিশ্বব্যাপী মোট আয় | ₹৯১৭.৮২ কোটি |
| মূল আকর্ষণ | রণবীরের অভিনয়, বাবা-ছেলের সংঘাত ও তীব্র অ্যাকশন |
৮. সিক্রেট সুপারস্টার (Secret Superstar) – স্বপ্নের উড়ান ও মাতৃত্বের গল্প
ছোট বাজেটের ছবিও যে বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে বড় সাফল্য তৈরি করতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ সিক্রেট সুপারস্টার। অদ্বৈত চন্দন পরিচালিত ছবিটি একটি কিশোরীর গায়িকা হওয়ার স্বপ্ন এবং তার মায়ের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে তৈরি।
জাইরা ওয়াসিম ও মেহের ভিজ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। আমির খান একজন সংগীত ব্যক্তিত্বের বিশেষ চরিত্রে ছিলেন।
আয়ের মূল কারিশমা
ছবিটির ভারতের গ্রস আয় ছিল প্রায় ₹৮১.২৮ কোটি। কিন্তু বিদেশি বাজার থেকে এটি প্রায় ₹৭৯৪.৫০ কোটি আয় করে।
বিশ্বব্যাপী মোট ₹৮৭৫.৭৮ কোটি আয়ের বড় অংশই এসেছে চীন থেকে। ভারতে তুলনামূলক সীমিত আয় করেও শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের শক্তিতে ছবিটি সর্বকালের তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছে।
| প্রধান বিষয় | বিবরণ |
| মুক্তির বছর | ২০১৭ |
| পরিচালক | অদ্বৈত চন্দন |
| প্রধান চরিত্র | জাইরা ওয়াসিম, মেহের ভিজ, আমির খান |
| বিশ্বব্যাপী মোট আয় | ₹৮৭৫.৭৮ কোটি |
| মূল আকর্ষণ | মা-মেয়ের সম্পর্ক ও চীনের বাজারে অসাধারণ সাফল্য |
৯. স্ত্রী ২ (Stree 2) – হরর-কমেডির অবিশ্বাস্য জাদু
অমর কৌশিক পরিচালিত স্ত্রী ২ প্রমাণ করেছে, সর্বকালের বক্স অফিস তালিকায় উঠতে সব সময় বিশাল অ্যাকশন তারকা বা স্পাই ইউনিভার্সের প্রয়োজন হয় না।
২০১৮ সালের স্ত্রী ছবির এই সিক্যুয়েলে রাজকুমার রাও, শ্রদ্ধা কাপুর, পঙ্কজ ত্রিপাঠী, অভিষেক ব্যানার্জি ও অপারশক্তি খুরানা নিজেদের পরিচিত চরিত্রে ফিরে আসেন।
আয়ের মূল কারিশমা
বিশ্বব্যাপী ছবিটি ₹৮৭৪.৫৮ কোটি আয় করে। এর ভারতের নেট আয় ₹৬২৭.০২ কোটি, ভারতের গ্রস আয় ₹৭৪০.২৮ কোটি এবং বিদেশি আয় ₹১৩৪.৩০ কোটি।
ভারতের বাজার থেকেই ছবিটির আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে। একটি হরর-কমেডি হিসেবে এই সাফল্য বলিউডের প্রচলিত বক্স অফিস সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
| প্রধান বিষয় | বিবরণ |
| মুক্তির বছর | ২০২৪ |
| পরিচালক | অমর কৌশিক |
| প্রধান চরিত্র | রাজকুমার রাও, শ্রদ্ধা কাপুর, পঙ্কজ ত্রিপাঠী |
| বিশ্বব্যাপী মোট আয় | ₹৮৭৪.৫৮ কোটি |
| মূল আকর্ষণ | হরর ও কমেডির মিশ্রণ, পরিচিত চরিত্র ও সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি |
১০. ছাভা (Chhaava) – ইতিহাসভিত্তিক ব্লকবাস্টার
লক্ষ্মণ উতেকর পরিচালিত ছাভা ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে মুক্তি পায়। ছবিটি মারাঠা শাসক ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজের জীবন ও মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে তার লড়াইকে কেন্দ্র করে তৈরি।
ভিকি কৌশল সম্ভাজি মহারাজের চরিত্রে অভিনয় করেন। রাশমিকা মান্দানা ইয়েসুবাই এবং অক্ষয় খান্না আওরঙ্গজেবের চরিত্রে ছিলেন।
আয়ের মূল কারিশমা
ছবিটির ভারতের নেট আয় ₹৬০০.১০ কোটি এবং ভারতের গ্রস আয় ₹৭০৮.৫০ কোটি। বিদেশি বাজার থেকে এসেছে আরও ₹৮৮.৮৪ কোটি।
সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী ₹৭৯৭.৩৪ কোটি আয় করে ছবিটি সর্বকালের তালিকার দশম স্থান দখল করেছে। এর সাফল্যের কারণে পিকে এখন শীর্ষ দশের বাইরে চলে গেছে।
| প্রধান বিষয় | বিবরণ |
| মুক্তির বছর | ২০২৫ |
| পরিচালক | লক্ষ্মণ উতেকর |
| প্রধান চরিত্র | ভিকি কৌশল, রাশমিকা মান্দানা, অক্ষয় খান্না |
| বিশ্বব্যাপী মোট আয় | ₹৭৯৭.৩৪ কোটি |
| মূল আকর্ষণ | সম্ভাজি মহারাজের ঐতিহাসিক কাহিনি ও ভিকি কৌশলের অভিনয় |
এক নজরে মেগা ব্লকবাস্টারগুলোর কালেকশন
নিচে এই চোখ ধাঁধানো ছবিগুলোর আয়ের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো। এক নজরেই বুঝতে পারবেন কোন ছবি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।
| অবস্থান | ছবির নাম | মুক্তির বছর | লিড অভিনেতা | বিশ্বব্যাপী মোট আয় |
| ১ | দঙ্গল | ২০১৬ | আমির খান | ₹১,৯৬৮.০৩ কোটি |
| ২ | ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ | ২০২৬ | রণবীর সিং | ₹১,৮৫২.৪৪ কোটি |
| ৩ | ধুরন্ধর | ২০২৫ | রণবীর সিং | ₹১,৩৫০.৮৩ কোটি |
| ৪ | জাওয়ান | ২০২৩ | শাহরুখ খান | ₹১,১৪৮.৩২ কোটি |
| ৫ | পাঠান | ২০২৩ | শাহরুখ খান | ₹১,০৫০.৩০ কোটি |
| ৬ | বজরঙ্গি ভাইজান | ২০১৫ | সালমান খান | ₹৯১৮.১৮ কোটি |
| ৭ | অ্যানিমেল | ২০২৩ | রণবীর কাপুর | ₹৯১৭.৮২ কোটি |
| ৮ | সিক্রেট সুপারস্টার | ২০১৭ | জাইরা ওয়াসিম | ₹৮৭৫.৭৮ কোটি |
| ৯ | স্ত্রী ২ | ২০২৪ | রাজকুমার রাও | ₹৮৭৪.৫৮ কোটি |
| ১০ | ছাভা | ২০২৫ | ভিকি কৌশল | ₹৭৯৭.৩৪ কোটি |
বক্স অফিসের এই অঙ্কগুলো বিশ্বব্যাপী গ্রস টিকিট বিক্রির হিসাব। প্রেক্ষাগৃহ, পরিবেশক, কর ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার আগে এই অর্থ গণনা করা হয়। তাই বিশ্বব্যাপী গ্রস আয়কে সরাসরি প্রযোজকের লাভ হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না।
শেষ কথা
বক্স অফিসের এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায়, বলিউড এখন শুধু ভারতের বাজারের ওপর নির্ভর করে না। চীন, উত্তর আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজার একটি ছবির চূড়ান্ত অবস্থান বদলে দিতে পারে।
দঙ্গল, বজরঙ্গি ভাইজান ও সিক্রেট সুপারস্টার-এর মতো ছবির রেকর্ডে চীন বড় ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে জাওয়ান, পাঠান, অ্যানিমেল, ধুরন্ধর এবং ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ মূলত ভারত ও প্রচলিত বিদেশি বাজারে বড় ব্যবসা করেছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ধুরন্ধর ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে। একই ফ্র্যাঞ্চাইজির দুটি ছবি এখন তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে ছাভা শীর্ষ দশে ঢুকে যাওয়ায় পিকে, গদর ২ ও সুলতান আগের অবস্থান হারিয়েছে।
তবে এই তালিকা স্থায়ী নয়। নতুন ছবির মুক্তি, বিদেশি বাজারে পুনর্মুক্তি এবং বক্স অফিস হিসাব সংশোধনের কারণে অবস্থান বদলাতে পারে। ১৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০টি ছবি-এর তালিকায় দঙ্গল এখনও সবার ওপরে রয়েছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. দঙ্গল চীনে এত ব্যবসা করেছিল কীভাবে?
দঙ্গল-এর বিশ্বব্যাপী আয়ের বড় অংশ এসেছে চীন থেকে। ছবিটির পারিবারিক সম্পর্ক, খেলাধুলা, মেয়েদের এগিয়ে যাওয়া এবং কঠোর অভিভাবকত্বের মতো বিষয়গুলো চীনা দর্শকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। আমির খানের আগের কয়েকটি ছবিও সেখানে পরিচিতি পেয়েছিল। তবে কোনো ছবির সাফল্যকে একটি মাত্র কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। বড় পরিসরের মুক্তি, দর্শকের মুখে মুখে প্রচার এবং ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা একসঙ্গে কাজ করেছিল।
২. বাহুবলী ২, কেজিএফ ২ বা পুষ্পা ২ তালিকায় নেই কেন?
এই তালিকাটি মূলত বলিউড বা হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পে নির্মিত ছবির জন্য। Baahubali 2 ও Pushpa 2 মূলত তেলুগু ভাষার এবং KGF: Chapter 2 মূলত কন্নড় ভাষার সিনেমা। এগুলোর হিন্দি ডাব সংস্করণ বিপুল ব্যবসা করলেও এগুলোকে বলিউডের মূল হিন্দি সিনেমা হিসেবে গণনা করা হয়নি।
৩. নতুন ছবিগুলো এত দ্রুত হাজার কোটি রুপি আয় করছে কীভাবে?
বর্তমানে বড় ছবি একই দিনে ভারতসহ বহু আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তি পায়। পর্দার সংখ্যা, প্রিমিয়াম ফরম্যাট এবং গড় টিকিটের দামও পুরোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। ব্যাপক প্রচারণা ও আগাম টিকিট বিক্রিও প্রথম কয়েক দিনের আয় দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে।
তবে পুরোনো ও নতুন ছবির আয় সরাসরি তুলনা করার সময় মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করা প্রয়োজন। এই তালিকার অঙ্কগুলো মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি।
৪. OTT আসার পর কি সিনেমা হলের আয়ে প্রভাব পড়েনি?
OTT প্ল্যাটফর্ম মানুষের সিনেমা দেখার অভ্যাস বদলেছে। মাঝারি বা কম আলোচিত কিছু ছবির প্রেক্ষাগৃহের চাহিদায় এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে বড় তারকা, পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি, অ্যাকশন, হরর, সংগীত বা বড় পর্দার অভিজ্ঞতানির্ভর ছবির জন্য দর্শকের আগ্রহ এখনও শক্তিশালী।
সব ছবির ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কোনো ছবি হলে কতটা সফল হবে, তা গল্প, প্রচারণা, মুক্তির সময়, টিকিটের দাম, প্রতিযোগিতা এবং দর্শকের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
৫. বিশ্বব্যাপী বক্স অফিস আয় কি প্রযোজকের মোট লাভ?
না। বিশ্বব্যাপী গ্রস আয় হলো প্রেক্ষাগৃহে বিক্রি হওয়া টিকিটের মোট মূল্য। এই অর্থ থেকে প্রেক্ষাগৃহের অংশ, পরিবেশকের অংশ, কর এবং বিভিন্ন খরচ বাদ যায়।
ছবির নির্মাণ বাজেট ও প্রচারণার খরচও আলাদা। OTT, টেলিভিশন, সংগীত এবং অন্যান্য স্বত্ব বিক্রির আয় যোগ করার পর প্রকৃত লাভের হিসাব করা হয়।



