ফেসটেড নেভিগেশন ই-কমার্স সাইট এ ইনডেক্স ব্লোট তৈরি করে কীভাবে?

সর্বাধিক আলোচিত

আপনার ই-কমার্স সাইটে ক্রেতাদের সুবিধার জন্য রং, সাইজ বা ব্র্যান্ড অনুযায়ী পণ্য খোঁজার ফিল্টার থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। ব্যবহারকারীরা সহজে পছন্দের পণ্য খুঁজে পেলেও, কয়েক মাস পর ওয়েবমাস্টার টুলের ড্যাশবোর্ডে গিয়ে হয়তো দেখলেন মূল পেজগুলোর ট্রাফিক ক্রমশ কমতে শুরু করেছে।

ইনডেক্সিং রিপোর্টে নানা ধরনের এরর জমে আছে, যা নির্দেশ করছে যে সার্চ ইঞ্জিন আপনার ওয়েবসাইটের পেজগুলো ঠিকমতো পড়তে পারছে না। এর পেছনের মূল অপরাধী হতে পারে সাইটের ওই দারুণ ফিল্টার সিস্টেমটিই—যাকে এসইও-এর ভাষায় বলা হয় ফ্যাসেটেড নেভিগেশন। এই ফিল্টারগুলো কীভাবে সার্চ ইঞ্জিনের চোখে বিভ্রাট তৈরি করে হাজার হাজার অপ্রয়োজনীয় ওয়েব ঠিকানা তৈরি করে এবং ক্রল বাজেট নষ্ট করে, তা বুঝতে না পারলে ওয়েবসাইটের র‍্যাংকিং ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। এই প্রযুক্তিগত দিক ও ইনডেক্স ব্লোট নিয়ন্ত্রণের কৌশল জানা তাই যেকোনো ই-কমার্স সাইট মালিক ও ডেভেলপারের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ফ্যাসেটেড নেভিগেশন কীভাবে ইউআরএল-এর পাহাড় তৈরি করে

ই-কমার্স ওয়েবসাইটে ক্রেতাদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতা সহজ করার জন্য বিভিন্ন ধরণের ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। যখন কোনো ক্রেতা নির্দিষ্ট রং, সাইজ বা ব্র্যান্ড নির্বাচন করেন, তখন ওয়েবসাইটের ব্যাকএন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নতুন ওয়েব ঠিকানা বা ইউআরএল তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ক্লিকের সাথে মূল ঠিকানার শেষে নতুন নতুন প্যারামিটার যুক্ত হতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, জুতার ক্যাটাগরিতে গিয়ে কেউ যদি কালো রং এবং দশ সাইজ নির্বাচন করেন, তবে সিস্টেম এমন একটি ঠিকানা তৈরি করে যা সার্চ ইঞ্জিনের কাছে সম্পূর্ণ নতুন একটি পেজ হিসেবে গণ্য হয়।

একটি সাধারণ সাইটে যদি দশটি রঙের বিকল্প, পাঁচটি সাইজ এবং বিশটি ব্র্যান্ড থাকে, তবে এগুলোর গাণিতিক বিন্যাস থেকে কয়েক হাজার নতুন ওয়েব ঠিকানার জন্ম হতে পারে। ক্রেতার কাছে এটি কেবল একটি ফিল্টার করা তালিকা হলেও, সার্চ ইঞ্জিনের বট এটিকে নতুন কনটেন্ট ভেবে ক্রল করতে শুরু করে। একাধিক ক্যাটাগরিতে এই ফিল্টারগুলো একসঙ্গে কাজ করলে একটি ছোট পরিসরের ই-কমার্স সাইটেও লাখ লাখ অপ্রয়োজনীয় ঠিকানার পাহাড় তৈরি হওয়া খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা। এভাবেই সাধারণ একটি সুবিধার ফিচার ওয়েবসাইটের প্রযুক্তিগত কাঠামোর জন্য এক বিশাল বোঝায় পরিণত হয়।

ইনডেক্স ব্লোট ওয়েবসাইটের জন্য কেন একটি বড় ফাঁদ

ইনডেক্স ব্লোট ওয়েবসাইটের জন্য কেন একটি বড় ফাঁদ

যখন কোনো ওয়েবসাইটের মূল পেজগুলোর চেয়ে এই ধরনের স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হওয়া অপ্রয়োজনীয় পেজের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং সার্চ ইঞ্জিন সেগুলো নিজেদের ডেটাবেসে জমা করতে শুরু করে, তখন সেই অবস্থাকে ইনডেক্স ব্লোট বলা হয়। এটি ই-কমার্স সাইটের এসইও কাঠামোর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, কারণ এটি ক্রল বাজেটের বিশাল অপচয় ঘটায়। সার্চ ইঞ্জিনের বট প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বা বাজেট বরাদ্দ রাখে, এবং তারা যখন হাজার হাজার ফিল্টার পেজ স্ক্যান করতে ব্যস্ত থাকে, তখন সাইটের নতুন বা গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলো নজরের আড়ালে থেকে যায়।

এর পাশাপাশি তৈরি হয় ডুপ্লিকেট কনটেন্টের সমস্যা, কারণ দাম অনুযায়ী সাজানো পেজ এবং সাধারণ ক্যাটাগরি পেজের ভেতরের পণ্যগুলো প্রায় একই রকম থাকে। সার্চ ইঞ্জিন যখন দেখে যে একই ধরনের কনটেন্ট অসংখ্য আলাদা ঠিকানায় বিদ্যমান রয়েছে, তখন তারা পেজগুলোর আসল মান নিয়ে বিভ্রান্ত হয় এবং মূল পেজের র‍্যাংকিং কমিয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় ক্ষতির জায়গাটি হলো লিংক ইকুইটি বা ব্যাকলিংকের ক্ষমতার বিভাজন। অন্য সাইট থেকে পাওয়া মূল্যবান লিংকের প্রভাব মূল পেজে জমা হওয়ার কথা থাকলেও, ব্লোটিংয়ের কারণে তা হাজার হাজার অপ্রয়োজনীয় পেজের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়, ফলে ওয়েবসাইটের ট্রাফিক উল্লেখযোগ্য হারে কমতে থাকে।

ক্যানোনিকাল ট্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে সমাধান

ইনডেক্স ব্লোট সমস্যা সমাধানের অন্যতম প্রধান ও প্রাথমিক উপায় হলো ক্যানোনিকাল ট্যাগের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। যখন ফিল্টারের কারণে তৈরি হওয়া অসংখ্য পেজে প্রায় একই ধরনের পণ্য বা কনটেন্ট দেখানো হয়, তখন এই ট্যাগটি সার্চ ইঞ্জিনকে জানিয়ে দেয় যে এই পেজগুলোর মধ্যে আসল বা মাস্টার পেজ কোনটি। প্রতিটি ফিল্টার করা পেজের কোডের ভেতর মূল ক্যাটাগরি পেজের ঠিকানাটি ক্যানোনিকাল হিসেবে যুক্ত করে দিলে, সার্চ ইঞ্জিন বুঝতে পারে যে এগুলো আলাদা কোনো পেজ নয় বরং একটি পেজেরই বিভিন্ন রূপ। এর ফলে ডুপ্লিকেট কনটেন্টের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায় এবং ছড়িয়ে পড়া লিংক ভ্যালু পুনরায় মূল পেজে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পায়।

তবে এখানে একটি বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কারণ সার্চ ইঞ্জিন এই ট্যাগটিকে সরাসরি কোনো নির্দেশ বা হুকুম হিসেবে না নিয়ে কেবল একটি পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করে। যদি ফিল্টার করা পেজটির বিষয়বস্তু মূল পেজের চেয়ে অনেকটাই আলাদা হয়ে যায়, তবে সার্চ ইঞ্জিন আপনার ক্যানোনিকাল পরামর্শ উপেক্ষা করে পেজটিকে স্বাধীনভাবে ইনডেক্স করে ফেলতে পারে। তাই শুধুমাত্র এই একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে ওয়েবসাইটের আকার ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমাধানের কথাও সমান্তরালভাবে ভাবতে হয়।

রোবটস ডট টিএক্সটি ফাইলের সাহায্যে ক্রলিং নিয়ন্ত্রণ

ক্রল বাজেট বাঁচানোর জন্য এবং সার্চ ইঞ্জিন বটকে অপ্রয়োজনীয় ঠিকানায় প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখার জন্য রোবটস ডট টিএক্সটি ফাইল অত্যন্ত শক্তিশালী একটি হাতিয়ার। ই-কমার্স সাইটের মালিকরা যদি নিশ্চিত হন যে নির্দিষ্ট কিছু ফিল্টার প্যারামিটার, যেমন দামের ক্রমানুসারে সাজানো বা পেজিনেশন, সার্চ ইঞ্জিনের ইনডেক্স করার কোনো প্রয়োজনই নেই, তবে তারা সরাসরি এই ফাইলের মাধ্যমে সেগুলো ব্লক করে দিতে পারেন। নির্দিষ্ট নিয়ম বা রুল লিখে দিলে সার্চ ইঞ্জিনের বট ওই প্যারামিটার যুক্ত কোনো লিংকে আর প্রবেশ করে না, ফলে সার্ভারের ওপর থেকে অযথা চাপ কমে যায় এবং ক্রলিংয়ের মূল্যবান সময় বাঁচে।

তবে এই পদ্ধতি প্রয়োগের আগে যথেষ্ট সতর্কতার প্রয়োজন, কারণ ব্লক করা পেজগুলোতে যদি এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের লিংক থাকে যা অন্য কোনো সাধারণ পথ ধরে পাওয়া যায় না, তবে ওই পণ্যগুলো চিরতরে সার্চ ইঞ্জিনের নজরের বাইরে থেকে যেতে পারে। এছাড়া মনে রাখতে হবে যে, ক্রলিং ব্লক করা মানেই ইনডেক্সিং বন্ধ করা নয়; যদি অন্য কোনো সাইট থেকে ওই ব্লক করা পেজে লিংক আসে, তবে সার্চ ইঞ্জিন পেজটির ভেতরের কনটেন্ট না পড়েই তাকে ইনডেক্স করে ফেলতে পারে। তাই ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরীণ লিংকিং কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই ফাইলের ব্যবহার চূড়ান্ত করা উচিত।

আরও পড়ুন: Technical SEO Audit কোথা থেকে শুরু করবেন: ধাপে ধাপে পূর্ণ গাইড

মেটা রোবটস নোইনডেক্স ট্যাগ এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

অনেক সময় সাইট মালিকরা চান যে সার্চ ইঞ্জিন ফিল্টার করা পেজগুলোতে প্রবেশ করুক এবং ভেতরের পণ্যের লিংকগুলো খুঁজে বের করুক, কিন্তু পেজটি যেন সার্চের মূল ফলাফলে না দেখায়। এই ধরনের সুনির্দিষ্ট চাহিদা পূরণের জন্য ফিল্টার পেজগুলোর হেডার সেকশনে মেটা রোবটস নোইনডেক্স ট্যাগ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই নির্দেশনার মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন বটকে বলা হয় পেজটি ক্রল করতে, কিন্তু ইনডেক্স তালিকা থেকে দূরে রাখতে, যা সাময়িকভাবে অত্যন্ত চমৎকার একটি সমাধান মনে হতে পারে। কিন্তু এই পদ্ধতির একটি বড় ধরনের বাস্তব অসুবিধা রয়েছে যা অনেক সাইট মালিকই এড়িয়ে যান।

সার্চ ইঞ্জিন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দীর্ঘ সময় ধরে কোনো পেজে নোইনডেক্স ট্যাগ যুক্ত থাকে, তবে সার্চ ইঞ্জিন ধীরে ধীরে ওই পেজের ভেতরের লিংকগুলোকে অনুসরণ করাও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। এর অর্থ হলো, কিছুদিন পর ট্যাগটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোইনডেক্স এবং নোফলো হিসেবে কাজ করতে শুরু করে, যার ফলে পেজটির মাধ্যমে অন্য পণ্যে লিংক ভ্যালু পৌঁছানো একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। একারণে ক্রল বাজেটের সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটানোর জন্য এই পদ্ধতিটি সবসময় নির্ভরযোগ্য নয় এবং এটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।

জাভাস্ক্রিপ্ট এবং এজ্যাক্স দিয়ে উন্নত নেভিগেশন তৈরি

জাভাস্ক্রিপ্ট এবং এজ্যাক্স দিয়ে উন্নত নেভিগেশন তৈরি

আধুনিক ওয়েব ডেভেলপমেন্টে ইনডেক্স ব্লোট ঠেকানোর জন্য জাভাস্ক্রিপ্ট এবং এজ্যাক্স প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে যখন কোনো ক্রেতা ফিল্টারে ক্লিক করেন, তখন পেজটি রিলোড না হয়েই বা ওয়েব ঠিকানা পরিবর্তন না করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন পণ্যের তালিকা স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। যেহেতু ওয়েব ঠিকানা বা ইউআরএল-এ কোনো নতুন প্যারামিটার যুক্ত হয় না, তাই সার্চ ইঞ্জিনের বট নতুন কোনো পেজের অস্তিত্ব খুঁজে পায় না এবং ইনডেক্স ব্লোট হওয়ার কোনো সুযোগই থাকে না।

তবে এই পদ্ধতিটি সঠিকভাবে কাজ করানোর জন্য ডেভেলপারদের কিছু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, কারণ আধুনিক সার্চ ইঞ্জিন বট জাভাস্ক্রিপ্ট পড়তে পারলেও অনেক সময় জটিল কোড রেন্ডার করতে ব্যর্থ হতে পারে। এজন্য এমনভাবে সাইটের কাঠামো তৈরি করতে হয় যেন ক্রেতাদের জন্য একটি আধুনিক ও দ্রুতগতির ফিল্টার ব্যবস্থা থাকে, পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিনের জন্যও সাধারণ এইচটিএমএল ভিত্তিক একটি পরিষ্কার পথ খোলা থাকে। নতুন কোনো ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির সময় শুরু থেকেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে পরবর্তীতে ফ্যাসেটেড নেভিগেশন সংক্রান্ত জটিলতাগুলো খুব সহজেই এড়ানো সম্ভব হয়।

দীর্ঘ লেজের কিওয়ার্ড এবং কৌশলগত ইনডেক্সিং

ফ্যাসেটেড নেভিগেশনের কারণে তৈরি হওয়া সব পেজই যে ক্ষতিকর, তা কিন্তু নয়; বরং কিছু কিছু পেজ অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে। অনেক ক্রেতা সার্চ ইঞ্জিনে সুনির্দিষ্ট পণ্য খোঁজার সময় দীর্ঘ লেজের কিওয়ার্ড ব্যবহার করেন, যেমন নির্দিষ্ট সাইজের ও নির্দিষ্ট রঙের চামড়ার জুতা। যদি আপনার ফিল্টার করা পেজগুলো এই ধরনের সুনির্দিষ্ট এবং উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন কিওয়ার্ডের সাথে মিলে যায়, তবে সেই পেজগুলোকে ইনডেক্স হতে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এই কৌশলগত ইনডেক্সিংয়ের মাধ্যমে আপনি এমন সব কিওয়ার্ডে র‍্যাংক করতে পারেন, যেগুলোর প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম কিন্তু ক্রেতাদের কেনার আগ্রহ অনেক বেশি।

তবে যে পেজগুলোকে আপনি সার্চ ফলাফলে দেখাতে চান, সেগুলোতে অবশ্যই স্বতন্ত্র টাইটেল, মেটা ডেসক্রিপশন এবং কিছুটা হলেও নতুন ও অনন্য কনটেন্ট যুক্ত করতে হবে। যেসব ফিল্টারের কোনো সার্চ ভ্যালু নেই, যেমন দামের ক্রম বা গ্রিড ভিউ, সেগুলোকে ব্লক করে রেখে শুধুমাত্র চাহিদাসম্পন্ন পেজগুলোকে অপ্টিমাইজ করার এই কৌশলটি ই-কমার্স এসইও-তে দারুণ ফলাফল এনে দেয়। এটি শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সমস্যাই সমাধান করে না, বরং অর্গানিক ট্রাফিক বৃদ্ধির একটি নতুন দুয়ার উন্মোচন করে।

সার্চ কনসোল দিয়ে ইনডেক্স ব্লোট সমস্যা চিহ্নিতকরণ

যেকোনো সমাধান প্রয়োগ করার আগে আপনার সাইটে আসলেই ইনডেক্স ব্লোট সমস্যা রয়েছে কি না, তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এই কাজটি করার জন্য সার্চ ইঞ্জিনের ওয়েবমাস্টার টুল বা সার্চ কনসোলের ইনডেক্সিং রিপোর্ট অত্যন্ত সহায়ক একটি মাধ্যম। সেখানে প্রবেশ করে দেখতে হবে ক্রল করা হয়েছে কিন্তু ইনডেক্স করা হয়নি অথবা বিকল্প পেজে সঠিক ক্যানোনিকাল ট্যাগ রয়েছে—এমন এররগুলোর সংখ্যা কত। যদি দেখা যায় যে এই ধরনের বাদ পড়া ঠিকানার সংখ্যা ওয়েবসাইটের প্রকৃত পণ্য বা পেজের সংখ্যার চেয়ে বহুগুণ বেশি এবং সেগুলোর বেশিরভাগই বিভিন্ন ফিল্টার প্যারামিটার দিয়ে তৈরি, তবে বুঝতে হবে সাইটটি মারাত্মক ইনডেক্স ব্লোটের শিকার।

এছাড়া সার্চ ইঞ্জিনে সরাসরি নির্দিষ্ট কমান্ড দিয়ে ডোমেইনের নাম লিখে খুঁজলে বোঝা যায় বর্তমানে কতগুলো অপ্রয়োজনীয় ফিল্টার পেজ সাধারণ মানুষের জন্য দৃশ্যমান রয়েছে। নিয়মিত সার্ভারের লগ ফাইল বিশ্লেষণ করেও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় যে সার্চ ইঞ্জিন বট আপনার ওয়েবসাইটের কোন অংশগুলোতে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করছে এবং কোথায় ক্রল বাজেটের চূড়ান্ত অপচয় ঘটছে। এই গভীর বিশ্লেষণের মাধ্যমেই কেবল একটি কার্যকরী ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ফ্যাসেটেড নেভিগেশন বা পণ্য খোঁজার ফিল্টারগুলো কি ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলা উচিত?

না, ক্রেতাদের খুব সহজে এবং দ্রুত তাদের পছন্দের পণ্য খুঁজে পাওয়ার জন্য এই ফিল্টারগুলো ওয়েবসাইটের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এগুলো মুছে ফেলার বদলে ক্যানোনিকাল ট্যাগ বা রোবটস ডট টিএক্সটি ফাইলের মতো প্রযুক্তিগত সমাধান ব্যবহার করে সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলিং ও ইনডেক্সিং নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। এতে ক্রেতাদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতাও ভালো থাকে এবং ওয়েবসাইটের এসইও কাঠামোরও কোনো ক্ষতি হয় না।

ইনডেক্স ব্লোট একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটের কী কী ক্ষতি করে?

এটি মূলত ওয়েবসাইটের ক্রল বাজেটের বিশাল অপচয় ঘটায়, যার ফলে সাইটের নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলো সার্চ ইঞ্জিনের ডেটাবেসে যুক্ত হতে অনেক দেরি হয়। এছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হওয়া হাজার হাজার ফিল্টার পেজ ডুপ্লিকেট কনটেন্ট তৈরি করে এবং ব্যাকলিংকের ক্ষমতা বা লিংক ভ্যালু বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় পেজের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে ওয়েবসাইটের মূল র‍্যাংকিং মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়।

জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে ফিল্টার তৈরি করলেই কি ইনডেক্স ব্লোট পুরোপুরি এড়ানো যায়?

জাভাস্ক্রিপ্ট বা এজ্যাক্স ব্যবহার করে উন্নত নেভিগেশন তৈরি করলে মূল ওয়েব ঠিকানা পরিবর্তন হয় না বলে ইনডেক্স ব্লোটের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তবে আধুনিক সার্চ ইঞ্জিন বট অত্যন্ত উন্নত এবং তারা জটিল কোড রেন্ডার করার ক্ষমতা রাখে। তাই কোডিং করার সময় সতর্ক না থাকলে এবং সার্চ ইঞ্জিনের জন্য সঠিক নির্দেশনা না রাখলে সমস্যা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নাও হতে পারে।

মেটা নোইনডেক্স ট্যাগ দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করা কি ওয়েবসাইটের জন্য ক্ষতিকর?

হ্যাঁ, সাময়িকভাবে এটি ফিল্টার পেজগুলোকে সার্চ ফলাফল থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ওয়েবসাইটের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘসময় ধরে কোনো পেজে এই ট্যাগ যুক্ত থাকলে সার্চ ইঞ্জিন একসময় ওই পেজের ভেতরের লিংকগুলোকে অনুসরণ করা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ওই পেজের মাধ্যমে অন্য কোনো পেজে লিংক ভ্যালু পৌঁছায় না এবং ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরীণ লিংক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।

ফিল্টার করা পেজগুলো কি কখনো সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স করানো উচিত?

যে সকল নির্দিষ্ট ফিল্টার বা ক্যাটাগরির (যেমন নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড, রং বা সাইজের মিশ্রণ) ক্রেতাদের কাছে ব্যাপক চাহিদা বা সার্চ ভলিউম রয়েছে, সেগুলো ইনডেক্স করানো ওয়েবসাইটের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। এই ধরনের কৌশলগত ইনডেক্সিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ লেজের কিওয়ার্ডে সহজে র‍্যাংক করা যায় এবং সাইটে প্রচুর অর্গানিক ট্রাফিক আনা সম্ভব হয়। তবে যেগুলোর কোনো সার্চ চাহিদা নেই, সেগুলো ব্লক করে রাখাই উত্তম।

সর্বশেষ