Group Study কাদের জন্য কাজে লাগে, কাদের সময় নষ্ট করে

সর্বাধিক আলোচিত

বন্ধুদের সঙ্গে পড়তে বসেছেন। বই-খাতা সবই খোলা, কিন্তু এক ঘণ্টা পর দেখা গেল পড়ার চেয়ে অন্য কথাই বেশি হয়েছে। আবার উল্টো ঘটনাও ঘটে—একাই অনেকক্ষণ চেষ্টা করেও একটি সূত্র বা ধারণা পরিষ্কার হচ্ছে না, অথচ সহপাঠীর পাঁচ মিনিটের ব্যাখ্যায় বিষয়টি ধরা পড়ে গেল।

এই দুই অভিজ্ঞতাই দেখায়, গ্রুপ স্টাডি নিজে ভালো বা খারাপ কোনো পদ্ধতি নয়। Group study effectiveness নির্ভর করে আপনি কোন কাজটি গ্রুপে করছেন এবং সেই গ্রুপ আসলে পড়াশোনার মতো চলছে কি না তার ওপর।

আলোচনা দরকার এমন বিষয়, প্রশ্নোত্তর, ভুল ধরার কাজ বা ভাইভা অনুশীলনে অন্যদের সঙ্গে পড়া বেশ কাজে লাগতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় মন দিয়ে পড়া, নিজের দুর্বল অধ্যায় শেষ করা কিংবা নিয়মিত অনুশীলনের জন্য অনেকেরই আলাদা সময় দরকার হয়।

তাই “আমি গ্রুপে পড়ি” বা “আমি একাই পড়ি”—এ দুটির একটিকে পরিচয় বানানোর দরকার নেই। কাজ অনুযায়ী পদ্ধতি বদলানোই বেশি বাস্তবসম্মত।

একই টেবিলে বসলেই গ্রুপ স্টাডি হয় না

গ্রুপ স্টাডির সবচেয়ে সাধারণ ভুল সম্ভবত এখানেই। কয়েকজন বন্ধু এক জায়গায় বই নিয়ে বসেছেন, তাই ধরে নেওয়া হচ্ছে সবাই পড়ছেন। বাস্তবে একটি কাজে লাগার মতো স্টাডি সেশনে খুব বেশি নিয়মের প্রয়োজন নেই। তবে অন্তত এটুকু পরিষ্কার থাকা দরকার—আজ কী শেষ করতে হবে।

ধরা যাক, চারজন বন্ধু বললেন, “আজ গণিত পড়ব।” এই পরিকল্পনা এতটাই বিস্তৃত যে আধা ঘণ্টা পরেও কেউ বুঝতে নাও পারেন কাজ কতটা এগোল।

এর বদলে লক্ষ্য হতে পারে:

“অধ্যায় ৬-এর প্রথম ১০টি সমস্যা সবাই আগে সমাধান করব। তারপর যেগুলোতে উত্তর মিলছে না, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব।” এখানে কাজটি স্পষ্ট। কে কী করবেন, সেটিও মোটামুটি বোঝা যাচ্ছে। শেষ হলে ফলও দেখা যাবে।

শিক্ষার্থীদের collaborative learning নিয়ে গবেষণায় এমন কাঠামোবদ্ধ যৌথ কাজের পক্ষেই বেশি সমর্থন পাওয়া যায়। শুধু পাশাপাশি বসে থাকা নয়, সদস্যদের অংশগ্রহণ এবং একটি নির্দিষ্ট কাজ থাকা জরুরি।

কতজন হলে ভালো?

ছোট গ্রুপ সাধারণত সামলানো সহজ। স্কুলশিক্ষার্থীদের নিয়ে Education Endowment Foundation-এর গবেষণা-পর্যালোচনায় ৩–৫ জনের দল সম্ভাবনাময় ফল দেখিয়েছে।

এই সংখ্যাকে অবশ্য পরীক্ষার সূত্রের মতো ধরে নেওয়ার কারণ নেই। দুজন খুব মনোযোগী শিক্ষার্থী অনেক সময় পাঁচজনের এলোমেলো দলের চেয়ে ভালো কাজ করতে পারেন।

সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সবাই কথা বলার ও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন কি না। একজন যদি পুরো সেশন বুঝিয়ে যান আর বাকিরা শুধু শুনে যান, সেটি আর সমান অংশগ্রহণের গ্রুপ স্টাডি থাকে না।

কোন পড়াগুলো একসঙ্গে করলে লাভ বেশি

কিছু কাজ আছে, যেখানে অন্য একজন শিক্ষার্থী পাশে থাকলে সত্যিই বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।

যেখানে “কেন” প্রশ্নটি দরকার

যেখানে “কেন” প্রশ্নটি দরকার

কোনো সূত্র মুখস্থ আছে, কিন্তু কেন সেটি ব্যবহার হচ্ছে তা পরিষ্কার নয়। ইতিহাসের একটি ঘটনা জানা আছে, কিন্তু কারণগুলোর মধ্যে সম্পর্ক গুছিয়ে বলা যাচ্ছে না।

এমন জায়গায় সহপাঠীর প্রশ্ন কাজে দেয়।

“এখানে এই সূত্রটাই কেন নিলে?”

“এই ঘটনার প্রধান কারণ আর তাৎক্ষণিক কারণ কি একই?”

“এই উত্তরটা অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?”

নিজের জানা বিষয় অন্য কাউকে বোঝাতে গেলেও দুর্বলতা বেরিয়ে আসে। মাথার মধ্যে পরিষ্কার মনে হওয়া একটি ধারণা মুখে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনেক সময় বোঝা যায়, মাঝখানে একটি ধাপ আসলে পরিষ্কার ছিল না। এই ধরনের আলোচনার জন্য গ্রুপের মূল্য আছে।

বই বন্ধ করে প্রশ্ন করার সময়

একটি অধ্যায় তিনবার পড়েছেন মানেই সেটি তিনবার শিখেছেন—এমন নয়। বই বন্ধ করার পর কতটা মনে থাকে, সেটাই বেশি কার্যকর পরীক্ষা। এই পদ্ধতিকে গবেষণায় retrieval practice বলা হয়। সহজ বাংলায়, উত্তর সামনে না রেখে নিজের স্মৃতি থেকে তথ্য বের করার চেষ্টা।

গ্রুপে এটি করা বেশ সুবিধাজনক। একজন প্রশ্ন করবেন, বাকিরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন। উত্তর না মিললে সঙ্গে সঙ্গে অন্য কেউ বলে না দিয়ে একটু সময় দেওয়া ভালো। পরে বই বা নোট খুলে মিলিয়ে নেওয়া যাবে।

এখানে একটি ছোট পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপ স্টাডি যদি শুধু “তুমি জানো না? আমি বলে দিচ্ছি” ধরনের হয়, তাহলে যে উত্তর দিচ্ছেন তাঁর অনুশীলন বেশি হচ্ছে; যে শুনছেন, তাঁর কম।

কঠিন সমস্যার সমাধান মিলিয়ে দেখতে

গণিত, হিসাববিজ্ঞান, প্রোগ্রামিং বা যুক্তিভিত্তিক প্রশ্নে একই উত্তরে পৌঁছানোর পথ আলাদা হতে পারে।

এই জায়গায় গ্রুপ বেশ কার্যকর হতে পারে—যদি সবাই আগে নিজে চেষ্টা করেন।

একজনের খাতা দেখে শুরু থেকেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করলে তুলনার সুযোগ থাকে না। আগে নিজের সমাধান, পরে অন্যের সমাধান—এই ক্রমটি বেশি কাজে দেয়।

ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায়

একটি উত্তর লিখতে পারা আর সামনে বসা একজন মানুষকে গুছিয়ে বলা এক বিষয় নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, চাকরির ভাইভা, মৌখিক পরীক্ষা, উপস্থাপনা বা ভাষা অনুশীলনে তাই অন্য কাউকে প্রশ্নকর্তার ভূমিকায় রাখা যায়। এতে অন্তত প্রশ্ন শুনে দ্রুত উত্তর সাজানোর অভ্যাস হয়।

কখন বুঝবেন গ্রুপটি আসলে পড়াশোনায় সাহায্য করছে না

এটি বোঝার জন্য খুব জটিল হিসাব দরকার নেই।

এক সপ্তাহ ধরে তিন দিন গ্রুপে পড়লেন। কিন্তু প্রতিবারই নির্ধারিত অধ্যায় অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে। আড্ডা হচ্ছে, নোট আদান-প্রদান হচ্ছে, কে কোন কোচিং করছে সেটিও আলোচনা হচ্ছে—শুধু যে কাজটির জন্য বসেছিলেন, সেটিই হচ্ছে না।

তাহলে সমস্যাটি পরিষ্কার।

আরও কয়েকটি লক্ষণ খেয়াল করা যায়।

একজন সব সময় শিক্ষক হয়ে যাচ্ছেন।
গ্রুপের একজন যদি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেন, বাকিরা খুব সহজেই তাঁর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।

কেউ প্রস্তুতি না নিয়ে আসছেন।
তখন আলোচনা শুরু করার বদলে প্রথম থেকেই পুরো অধ্যায় বুঝিয়ে দিতে হয়। এতে যিনি প্রস্তুত হয়ে এসেছেন, তাঁর সময়ের বড় অংশ অন্যদের শেখাতে চলে যেতে পারে।

সবার লক্ষ্য আলাদা।
একজন বিসিএসের জন্য বিস্তারিত পড়ছেন, অন্যজন আগামীকালের ক্লাস টেস্টের কয়েকটি প্রশ্ন শেষ করতে চান। একই সেশন দুজনের প্রয়োজন মেটাবে—এমন আশা সব সময় বাস্তবসম্মত নয়।

কেউ নিজের অংশের দায়িত্ব নিচ্ছেন না।
Group work নিয়ে গবেষণায় এটিকে social loafing বা free riding বলা হয়। সহজভাবে বললে, “অন্যরা তো করছে”—এই ভরসায় নিজের কাজ কমিয়ে দেওয়া।

ফোনও সমস্যা হতে পারে, তবে ফোন টেবিলে থাকাই সমস্যা নয়। প্রয়োজনীয় তথ্য, টাইমার বা নোটের কাজে ফোন ব্যবহার করা যায়। সমস্যা শুরু হয় যখন পড়ার মাঝখানে বারবার অন্য বার্তা বা সামাজিক মাধ্যমে মন চলে যায়।

আরও পড়ুন: অ্যাক্টিভ রিকল কী: শুধু পড়ার বদলে মনে করার অনুশীলন

Introvert হলে একা, Extrovert হলে গ্রুপে—এটা এত সহজ নয়

এ ধরনের পরামর্শ শুনতে খুব পরিষ্কার লাগে।

Introvert? একা পড়ুন।

Extrovert? গ্রুপে যান।

বাস্তবে মানুষের পড়ার অভ্যাস এতটা সরলভাবে ভাগ করা যায় না। কেউ সামাজিক পরিবেশ খুব পছন্দ করেন, কিন্তু বন্ধুদের পাশে বসলে পড়ায় মন রাখতে পারেন না। আবার কেউ বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন না, তবু কঠিন বিষয় নিয়ে দুই সহপাঠীর ছোট আলোচনায় ভালো শেখেন।

Extraversion ও গ্রুপে শেখা নিয়ে গবেষণাতেও একটি নির্দিষ্ট personality type-কে সব পরিস্থিতিতে এগিয়ে পাওয়া যায়নি। তাই নিজের পরিচয়ের চেয়ে কয়েকটি বাস্তব লক্ষণ বেশি কাজে দেয়। অন্যদের সামনে প্রশ্ন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন কি না, আলোচনা শেষে বিষয় পরিষ্কার হচ্ছে কি না, নিজের ভুল ধরছেন কি না—এগুলো দেখুন।

প্রয়োজনে পদ্ধতিটা মিশিয়ে নিন। আগে একা পড়লেন। যে অংশগুলো আটকে গেল, সেগুলো নিয়ে ছোট গ্রুপে আলোচনা করলেন। পরে আবার নিজের মতো করে রিভিশন করলেন। অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এই ব্যবস্থা “শুধু একা” বা “শুধু গ্রুপ”—দুটির চেয়েই ব্যবহারিক হতে পারে।

Visual, Auditory, Kinesthetic—এই লেবেল নিয়ে সাবধান

Visual, Auditory, Kinesthetic—এই লেবেল নিয়ে সাবধান

Learning Style নিয়ে বহুল প্রচলিত একটি ধারণা হলো, কেউ Visual learner, কেউ Auditory, কেউ আবার Kinesthetic। এরপর পরামর্শ দেওয়া হয়—নিজের ধরন খুঁজে বের করুন এবং শুধু সেই অনুযায়ী পড়ুন।

এখানেই সমস্যা। মানুষের পছন্দ থাকতে পারে। কেউ diagram দেখে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কেউ শুনে ব্যাখ্যা পছন্দ করেন। কিন্তু একজনকে স্থায়ীভাবে Visual বা Auditory learner হিসেবে চিহ্নিত করে ঠিক সেই পদ্ধতিতে শেখালে তিনি বেশি শিখবেন—এ দাবির পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক সমর্থন পাওয়া যায়নি।

তাই “আমি Visual learner, আলোচনা আমার কাজে লাগে না”—এভাবে নিজেকে সীমাবদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। বিষয় যা দাবি করে, সেই পদ্ধতি ব্যবহার করুন। মানচিত্র বুঝতে দেখতে হবে। উচ্চারণ শিখতে শুনতে হবে। অঙ্ক করতে হলে নিজে সমস্যা সমাধান করতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার জন্য কথা বলেও অনুশীলন করতে হবে। পছন্দ থাকতে পারে, কিন্তু পছন্দই শেখার একমাত্র নিয়ম নয়।

নিজের গ্রুপটি কাজ করছে কি না, তিন দিনেই কিছুটা বোঝা যায়

এখানে তিন দিন কোনো বৈজ্ঞানিক সীমা নয়। নিজের অভ্যাস ধরার জন্য একটি ছোট পরীক্ষা হিসেবে নেওয়া যায়।

পরপর কয়েকটি গ্রুপ সেশনের পর পাঁচটি প্রশ্ন লিখে রাখুন:

১. যে কাজটি ঠিক করেছিলাম, তার কতটা শেষ হয়েছে?
২. এমন কী বুঝেছি, যা আগে পরিষ্কার ছিল না?
৩. বই বন্ধ করে বিষয়টির মূল কথা বলতে পারছি?
৪. পড়ার বাইরে কতটা সময় গেছে?
৫. এমন কোনো ভুল ধরা পড়েছে কি, যা একা পড়লে চোখে পড়েনি?

উত্তরগুলো খুব দ্রুত একটি ছবি দেখাতে শুরু করবে।

সেশন শেষে যদি বারবার মনে হয় “আজ অনেকক্ষণ পড়েছি”, কিন্তু কী শেষ করেছেন বলতে না পারেন, সময়ের হিসাব নতুন করে দেখা দরকার। অন্যদিকে, গ্রুপ থেকে ফিরে যদি কঠিন প্রশ্ন সহজ লাগে, নিজের ভুল ধরা পড়ে বা বই ছাড়াই উত্তর দিতে পারেন, তাহলে সেই গ্রুপ রাখার যুক্তি আছে।

একা পড়া আর গ্রুপে পড়াকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবার দরকার নেই

কোন কাজ কোথায় করবেন, সেটাই ঠিক করা বেশি দরকার।

পড়ার কাজ ব্যবহারিক শুরু
নতুন অধ্যায়ের মূল ধারণা নিজের মতো পড়ে বা নির্দেশনা নিয়ে
কোনো ধারণায় আটকে গেছেন শিক্ষক, সহপাঠী বা ছোট গ্রুপ
তথ্য মনে আছে কি না দেখা একা বা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে
কঠিন অঙ্ক বা সমস্যা আগে নিজে চেষ্টা, পরে আলোচনা
মডেল টেস্টের ভুল আগে নিজে যাচাই, প্রয়োজনে আলোচনা
ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা অন্যদের সঙ্গে অনুশীলন
ব্যক্তিগত দুর্বল অধ্যায় নিরিবিলি নিজস্ব পড়ার সময়

এই ছককে কঠোর নিয়ম হিসেবে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। উদ্দেশ্য হলো, যে কাজে অন্য মানুষ সত্যিই বাড়তি মূল্য দিচ্ছে সেই কাজটি গ্রুপে রাখা।

একটি ভালো গ্রুপ সেশন কেমন হতে পারে

ধরা যাক, তিনজন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেশন শুরুর আগেই ঠিক হলো, আজ একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের ২০টি প্রশ্ন দেখা হবে। সবাই প্রথমে প্রশ্নগুলো নিজে চেষ্টা করলেন। এরপর শুধু যেগুলো ভুল বা সন্দেহ হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হলো।

কেউ একটি প্রশ্নে আটকে গেলে অন্যজন সরাসরি উত্তর বলে দিলেন না; আগে তাঁর যুক্তি শুনলেন। শেষে বই বন্ধ করে কয়েকটি প্রশ্ন আবার করা হলো। এই সেশনের কাজ স্পষ্ট। কে কতটা অংশ নিয়েছেন, সেটিও বোঝা যায়।

এর বিপরীতে, “বিকেলে সবাই মিলে পড়তে বসব”—এটুকুই যদি পুরো পরিকল্পনা হয়, সেশনটি আড্ডায় চলে যাওয়ার সুযোগ অনেক বেশি। একজনকে সময়ের দিকে নজর রাখার দায়িত্বও দেওয়া যেতে পারে। তাঁকে শিক্ষক হতে হবে না। শুধু মনে করিয়ে দেবেন, একটি প্রশ্নে অর্ধঘণ্টা চলে যাচ্ছে কি না বা নির্ধারিত কাজ থেকে আলোচনা সরে গেছে কি না।

পরীক্ষার কাছাকাছি সময়ে গ্রুপ ব্যবহারে একটু বাছাই করুন

পরীক্ষার আগে প্রত্যেকের ঘাটতি আলাদা হয়ে যায়। একজনের গণিত দুর্বল, আরেকজনের সাধারণ জ্ঞান, তৃতীয়জন বারবার একই ধরনের প্রশ্নে ভুল করছেন। এই অবস্থায় প্রতিদিন সবাইকে একই বিষয় পড়ানোর চেষ্টা করলে কারও কারও প্রয়োজনীয় কাজ পিছিয়ে যেতে পারে।

তাই ভর্তি পরীক্ষা, বিসিএস বা অন্য চাকরির পরীক্ষার শেষ পর্যায়ে গ্রুপকে নির্দিষ্ট কয়েকটি কাজে সীমিত রাখা সুবিধাজনক হতে পারে—কঠিন প্রশ্ন আলোচনা, মডেল টেস্টের ভুল দেখা, একে অন্যকে প্রশ্ন করা বা ভাইভা অনুশীলন। বাকি সময় নিজের দুর্বল জায়গা অনুযায়ী পড়ুন।

আপনার জন্য গ্রুপ স্টাডি রাখবেন কি না

Group study effectiveness বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজের ফল দেখা। গ্রুপ থেকে ফিরে যদি নিয়মিত মনে হয়, “একা থাকলে এর চেয়ে বেশি পড়তে পারতাম”, সেই অনুভূতিকে উপেক্ষা করার দরকার নেই। আগে সেশনের কাঠামো বদলান। কাজ নির্দিষ্ট করুন, সদস্য কমান, আড্ডার সময় আলাদা করুন। তাতেও ফল না হলে মূল পড়া একা করাই ভালো।

আবার এমনও হতে পারে, একা পড়লে যে প্রশ্নে আধা ঘণ্টা আটকে থাকতেন, গ্রুপে সেটি দ্রুত পরিষ্কার হচ্ছে। কিংবা অন্যকে উত্তর বোঝাতে গিয়ে নিজের ভুল বেরিয়ে আসছে। সেই ক্ষেত্রে গ্রুপটি আপনার সময় বাঁচাচ্ছে।

কাজেই Introvert, Extrovert, Visual বা Auditory—কোনো একটি পরিচয় দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার নেই। প্রথমে নিজের মতো পড়ুন। যেখানে অন্য মানুষের উপস্থিতি সত্যিই কাজে লাগে, সেখানে গ্রুপকে ব্যবহার করুন। আর একটি সেশন শেষে শুধু কতক্ষণ বসেছিলেন তা নয়—কী শিখলেন, কী শেষ করলেন এবং কোথায় ভুল ধরলেন, সেটাই হিসাব করুন।

প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন

গ্রুপ স্টাডি কি সবার জন্য কার্যকর?

না। গ্রুপ স্টাডি তখন বেশি কাজে লাগে, যখন আলোচনা, প্রশ্নোত্তর, কঠিন সমস্যা সমাধান বা একে অন্যের ভুল ধরার প্রয়োজন থাকে। যাঁরা অন্যদের উপস্থিতিতে সহজে মনোযোগ হারান বা নিজের গতিতে পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাঁদের মূল পড়ার বড় অংশ একা করাই সুবিধাজনক হতে পারে।

গ্রুপ স্টাডিতে কতজন সদস্য রাখা ভালো?

ছোট গ্রুপ সাধারণত পরিচালনা করা সহজ। স্কুলশিক্ষার্থীদের collaborative learning নিয়ে গবেষণা-পর্যালোচনায় ৩–৫ জনের দল সম্ভাবনাময় ফল দেখিয়েছে। তবে এটি সবার জন্য নির্ধারিত নিয়ম নয়। দুই বা তিনজন মনোযোগী শিক্ষার্থীর দলও কার্যকর হতে পারে। সদস্যসংখ্যার চেয়ে সবাই সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন কি না, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রুপ স্টাডিতে সময় নষ্ট হচ্ছে কি না কীভাবে বুঝব?

প্রতিটি সেশনের পরে দেখুন নির্ধারিত কাজ কতটা শেষ হয়েছে, নতুন কিছু পরিষ্কার হয়েছে কি না এবং বই বন্ধ করে মূল বিষয় মনে করতে পারছেন কি না। কয়েকটি সেশন ধরে কাজের তুলনায় আড্ডা বেশি হলে বা পড়া নিয়মিত অসম্পূর্ণ থাকলে গ্রুপের নিয়ম, সদস্য বা পড়ার পদ্ধতি বদলানো দরকার।

Introvert শিক্ষার্থীদের কি একা পড়াই ভালো?

শুধু introvert বা extrovert পরিচয়ের ভিত্তিতে পড়ার পদ্ধতি ঠিক করা উচিত নয়। একজন introvert শিক্ষার্থী ছোট ও লক্ষ্যভিত্তিক আলোচনায় ভালো করতে পারেন, আবার একজন extrovert শিক্ষার্থী বন্ধুদের সঙ্গে বসে সহজেই পড়ার বাইরে চলে যেতে পারেন। নিজের মনোযোগ ও শেখার ফল দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

সর্বশেষ