দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা এখন আর শুধু আঞ্চলিক বাজারের মধ্যে আটকে নেই। তেলুগু, তামিল, কন্নড় ও মালয়ালম ভাষার ছবি একই দিনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। বড় তারকা, বহু ভাষায় ডাবিং এবং সুপরিকল্পিত প্রচারণা এই বাজারকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায় বক্স অফিসে। বাহুবলী ২, পুষ্পা ২, আরআরআর, কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২ এবং কল্কি ২৮৯৮ এডি এক হাজার কোটি রুপির মাইলফলক ছুঁয়েছে বা ছাড়িয়েছে। কয়েক বছর আগেও একটি দক্ষিণ ভারতীয় ছবির জন্য এমন ব্যবসা প্রায় অকল্পনীয় ছিল।
এই নিবন্ধে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবি নিয়ে ১৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। এখানে শুধু প্রেক্ষাগৃহ থেকে পাওয়া বিশ্বব্যাপী গ্রস আয় ধরা হয়েছে। ওটিটি, স্যাটেলাইট, সংগীত, রিমেক বা ডিজিটাল স্বত্বের অর্থ বক্স অফিসের সঙ্গে যোগ করা হয়নি।
একই ছবির আয় নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে বড় পার্থক্য থাকায় তুলনামূলক রক্ষণশীল হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে বাহুবলী ২ ও পুষ্পা ২-এর প্রথম স্থান নিয়ে উৎসভেদে ভিন্ন দাবি রয়েছে। তাই এই তালিকাকে একটি স্বচ্ছ ও সতর্ক ট্রেড-ভিত্তিক র্যাঙ্কিং হিসেবে দেখা উচিত।
তালিকা তৈরির পদ্ধতি এবং আয় নিয়ে সতর্কতা
ভারতের বক্স অফিসের জন্য সবার স্বীকৃত একক সরকারি ট্র্যাকিং ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশক, ট্রেড বিশ্লেষক ও বক্স অফিস ওয়েবসাইটের হিসাব প্রায়ই এক হয় না। একই ছবির আয় কয়েকটি সূত্রে কয়েক শ কোটি রুপি পর্যন্ত আলাদা দেখা যেতে পারে।
এই তালিকা সাজাতে বিশ্বব্যাপী থিয়েট্রিক্যাল গ্রসকে ভিত্তি ধরা হয়েছে। অর্থাৎ ভারতের করসহ মোট টিকিট বিক্রির সঙ্গে বিদেশের থিয়েট্রিক্যাল আয় যোগ করা হয়েছে। কোনো ছবির আয় নিয়ে বড় বিরোধ থাকলে তুলনামূলক কম এবং বিশ্বাসযোগ্য ট্রেড হিসাবকে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তি করা হয়েছে।
এই পদ্ধতির কারণে পুষ্পা ২-এর প্রযোজক-ঘোষিত ₹১,৮৩১ কোটি সরাসরি চূড়ান্ত অঙ্ক হিসেবে ধরা হয়নি। স্বাধীন ট্রেড ট্র্যাকিংয়ে ছবিটির আয় প্রায় ₹১,৭৩৮ কোটি দেখানো হয়েছিল। একইভাবে সালার, জেলার ও ২.০-এর প্রচারণামূলক সর্বোচ্চ অঙ্কের বদলে রক্ষণশীল হিসাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
| ব্যবহৃত পরিমাপ | তালিকায় অন্তর্ভুক্ত | ব্যাখ্যা |
| বিশ্বব্যাপী থিয়েট্রিক্যাল গ্রস | হ্যাঁ | ভারত ও বিদেশে মোট টিকিট বিক্রির আয় |
| ভারতীয় নেট কালেকশন | না | কর বাদ দেওয়ার পর ভারতের আয় |
| পরিবেশকের শেয়ার | না | হল মালিক ও কর বাদ দেওয়ার পর অংশ |
| ওটিটি স্বত্ব | না | থিয়েট্রিক্যাল আয় নয় |
| স্যাটেলাইট ও সংগীত স্বত্ব | না | বক্স অফিসের বাইরে আলাদা আয় |
| মূল্যস্ফীতির সমন্বয় | না | সংশ্লিষ্ট সময়ের রিপোর্ট করা অঙ্ক |
| পুনঃমুক্তির আয় | নির্ভরযোগ্য হলে | মোট থিয়েট্রিক্যাল আয়ের সঙ্গে যোগ হতে পারে |
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবি: শীর্ষ ১০
বর্তমান তালিকার প্রথম পাঁচটি ছবিই এক হাজার কোটি রুপির বেশি বা তার কাছাকাছি বিশ্বব্যাপী ব্যবসা করেছে। ষষ্ঠ স্থানে থাকা কান্তারা: চ্যাপ্টার ১ প্রায় ₹৮৫২ কোটি আয় করে কন্নড় সিনেমার বাজারকে আরও বড় করেছে।
তালিকার শেষ চারটি অবস্থান সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত। ২.০, সালার, জেলার এবং বাহুবলী: দ্য বিগিনিং-এর আয় নিয়ে একাধিক অঙ্ক পাওয়া যায়। রক্ষণশীল হিসাব অনুযায়ী এগুলো যথাক্রমে সপ্তম থেকে দশম স্থানে রয়েছে।
২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া কান্তারা: চ্যাপ্টার ১ ছাড়া সাম্প্রতিক আর কোনো ছবি শীর্ষ দশে ঢুকতে পারেনি। লিও প্রায় ₹৫৯৫ থেকে ₹৬১৫ কোটি আয় করলেও রক্ষণশীল তুলনায় দশম স্থানের বাহুবলী: দ্য বিগিনিং-এর নিচে রয়েছে।
| অবস্থান | সিনেমার নাম | মূল ভাষা | বছর | রক্ষণশীল বিশ্বব্যাপী আয় |
| ১ | বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন | তেলুগু ও তামিল | ২০১৭ | প্রায় ₹১,৭৮৮–১,৮১০ কোটি |
| ২ | পুষ্পা ২: দ্য রুল | তেলুগু | ২০২৪ | প্রায় ₹১,৭৩৮–১,৮৩১ কোটি |
| ৩ | আরআরআর | তেলুগু | ২০২২ | প্রায় ₹১,২৩০ কোটি |
| ৪ | কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২ | কন্নড় | ২০২২ | প্রায় ₹১,২১৫ কোটি |
| ৫ | কল্কি ২৮৯৮ এডি | তেলুগু | ২০২৪ | প্রায় ₹১,০৪২ কোটি |
| ৬ | কান্তারা: চ্যাপ্টার ১ | কন্নড় | ২০২৫ | প্রায় ₹৮৫২ কোটি |
| ৭ | ২.০ | তামিল | ২০১৮ | প্রায় ₹৬৯১–৭০০ কোটি |
| ৮ | সালার: পার্ট ১, সিজফায়ার | তেলুগু | ২০২৩ | প্রায় ₹৬১৭–৬১৮ কোটি |
| ৯ | জেলার | তামিল | ২০২৩ | প্রায় ₹৬০৫ কোটি |
| ১০ | বাহুবলী: দ্য বিগিনিং | তেলুগু ও তামিল | ২০১৫ | প্রায় ₹৬০০ কোটি |
প্রথম থেকে পঞ্চম: হাজার কোটি ক্লাবের দক্ষিণ ভারতীয় ছবি
শীর্ষ পাঁচটি ছবি দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার বাণিজ্যিক পরিধি নতুনভাবে নির্ধারণ করেছে। এগুলোর সাফল্য শুধু তারকা বা বাজেটের কারণে আসেনি। প্রতিটি ছবি দর্শকের সামনে আলাদা একটি জগৎ, শক্তিশালী চরিত্র এবং বড় পর্দায় দেখার মতো অভিজ্ঞতা হাজির করেছে।
এই পাঁচটির চারটিই তেলুগু চলচ্চিত্রশিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কন্নড় সিনেমার একমাত্র প্রতিনিধি কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২। এস এস রাজামৌলির দুটি ছবি প্রথম পাঁচে থাকায় আধুনিক প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমার উত্থানে তাঁর প্রভাবও পরিষ্কার।
১. বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন (Baahubali 2: The Conclusion)
এস এস রাজামৌলি পরিচালিত বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন ২০১৭ সালে মুক্তি পায়। রক্ষণশীল হিসাবে ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ₹১,৭৮৮ কোটি। কয়েকটি সূত্রে আয় ₹১,৮১০ কোটির বেশি দেখানো হয়েছে। এটি বিশ্বব্যাপী এক হাজার কোটি রুপি আয় করা প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র ছিল।
প্রথম ছবির শেষে কাটাপ্পা কেন বাহুবলীকে হত্যা করেছিল, সেই প্রশ্ন দেশজুড়ে বিরাট আগ্রহ তৈরি করে। দ্বিতীয় ছবির উদ্বোধনী ব্যবসার পেছনে এই অপেক্ষা বড় ভূমিকা রাখে। তবে ছবির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য এসেছে অমরেন্দ্র বাহুবলী, দেবসেনা, শিবগামী ও ভল্লালদেবের মধ্যকার পারিবারিক ও রাজনৈতিক সংঘাত থেকে।
প্রভাস, রানা দাগ্গুবতী, আনুশকা শেঠি, সত্যরাজ ও রাম্যা কৃষ্ণনের চরিত্রগুলো দর্শকের কাছে আলাদা পরিচয় তৈরি করে। যুদ্ধদৃশ্য, সেট, আবহসংগীত এবং আবেগনির্ভর গল্প ছবিটিকে ভাষার সীমার বাইরে নিয়ে যায়।
২. পুষ্পা ২: দ্য রুল (Pushpa 2: The Rule)
সুকুমার পরিচালিত পুষ্পা ২: দ্য রুল ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পায়। আল্লু অর্জুনের পুষ্পরাজ চরিত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবির আয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক রয়েছে।
স্বাধীন ট্রেড হিসাব অনুযায়ী ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ₹১,৭৩৮ কোটি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মৈত্রী মুভি মেকার্স ₹১,৮৩১ কোটির বেশি আয় দাবি করেছিল। পরবর্তী কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে আরও বেশি অঙ্কও উল্লেখ করা হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এখানে কম ট্রেড হিসাবকে মূল ভিত্তি ধরা হয়েছে।
পুষ্পরাজের হাঁটার ধরন, সংলাপ, পোশাক ও আত্মবিশ্বাস চরিত্রটিকে আলাদা ব্র্যান্ডে পরিণত করে। ছবিটির হিন্দি সংস্করণ বিশেষভাবে সফল হয়। তেলুগু বাজারের তুলনায় উত্তর ও মধ্য ভারতের অনেক অঞ্চলে এর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা আরও শক্তিশালী ছিল।
৩. আরআরআর (RRR)
এস এস রাজামৌলির আরআরআর ২০২২ সালে মুক্তি পায়। ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ₹১,২৩০ কোটি বলে সাম্প্রতিক বড় ট্রেড তালিকাগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। জাপানে দীর্ঘ সময় ধরে চলায় ছবিটি আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জন্য নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করে।
ছবির গল্প বাস্তব দুই ভারতীয় বিপ্লবী আল্লুরি সীতারাম রাজু ও কমারাম ভীমকে নিয়ে তৈরি হলেও ঘটনাগুলো কাল্পনিক। রাম চরণ ও জুনিয়র এনটিআরের বন্ধুত্ব, সংঘাত এবং একে অন্যের জন্য আত্মত্যাগ গল্পটির আবেগ তৈরি করে।
বড় অ্যাকশন দৃশ্যের পাশাপাশি “নাটু নাটু” গান বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়। ছবিটি ভারতের বাইরেও নিয়মিত দর্শক, সমালোচক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আলোচনায় আসে। এই আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা দক্ষিণ ভারতীয় ছবির বিদেশি পরিবেশনার পথ আরও বিস্তৃত করেছে।
৪. কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২ (KGF: Chapter 2)
প্রশান্ত নীল পরিচালিত কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২ কন্নড় চলচ্চিত্রশিল্পের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সাফল্য। বর্তমান বহুল ব্যবহৃত ট্রেড হিসাবে ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ₹১,২১৫ কোটি।
যশ অভিনীত রকি চরিত্রটি প্রথম অধ্যায়েই বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। দ্বিতীয় অধ্যায়ে চরিত্রটির ক্ষমতা, প্রতিপক্ষ এবং রাজনৈতিক সংঘাত আরও বড় করা হয়। সঞ্জয় দত্তের অধীরা ও রবিনা ট্যান্ডনের রমিকা সেন গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেন।
দ্রুত সম্পাদনা, গাঢ় ভিজ্যুয়াল, উচ্চমাত্রার আবহসংগীত এবং স্মরণীয় সংলাপ ছবিটির নিজস্ব স্টাইল তৈরি করে। হিন্দি ডাব সংস্করণের সাফল্য দেখিয়ে দেয় যে কন্নড় ভাষার একটি ছবিও সর্বভারতীয় বাজারের মূলধারায় নেতৃত্ব দিতে পারে।
৫. কল্কি ২৮৯৮ এডি (Kalki 2898 AD)
নাগ অশ্বিন পরিচালিত কল্কি ২৮৯৮ এডি ২০২৪ সালের অন্যতম বড় সিনেমা। রক্ষণশীল হিসাবে এর বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ₹১,০৪২.২৫ কোটি। অন্য কিছু সূত্রে আরও বেশি অঙ্ক দাবি করা হলেও সাম্প্রতিক বড় বক্স অফিস তালিকায় ₹১,০৪২ কোটির হিসাবটি নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে।
ছবিটি ভারতীয় পুরাণ, মহাভারতের চরিত্র এবং ভবিষ্যতের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীকে একই গল্পে এনেছে। প্রভাসের সঙ্গে অমিতাভ বচ্চন, দীপিকা পাড়ুকোন ও কমল হাসানের উপস্থিতি বিভিন্ন ভাষার দর্শকের আগ্রহ বাড়ায়।
ভ্যারাইটির হিসাবে ছবিটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, পৌরাণিক উপাদান এবং বড় বাজেটের ভিজ্যুয়াল এফেক্টের সংমিশ্রণ ছবিটিকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও গ্রহণযোগ্য করে।
| সিনেমা | পরিচালক | প্রধান বাণিজ্যিক শক্তি |
| বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন | এস এস রাজামৌলি | প্রথম ছবির রহস্য ও মহাকাব্যিক সমাপ্তি |
| পুষ্পা ২: দ্য রুল | সুকুমার | পুষ্পরাজ চরিত্র ও হিন্দি বাজার |
| আরআরআর | এস এস রাজামৌলি | বন্ধুত্ব, অ্যাকশন ও আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা |
| কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২ | প্রশান্ত নীল | রকি চরিত্র ও স্টাইলিশ নির্মাণ |
| কল্কি ২৮৯৮ এডি | নাগ অশ্বিন | পুরাণ ও ভবিষ্যৎ বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মিশ্রণ |
ষষ্ঠ থেকে দশম: রেকর্ড গড়া আরও পাঁচটি ছবি
তালিকার দ্বিতীয়ার্ধের ছবিগুলোর আয়ের ব্যবধান তুলনামূলক কম। এখানে ব্যবহৃত অঙ্কগুলো নিয়ে প্রযোজক, ট্রেড বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সে কারণে প্রতিটি ছবির ক্ষেত্রে রক্ষণশীল হিসাব আলাদাভাবে দেখা হয়েছে।
এই অংশে কন্নড়, তামিল ও তেলুগু তিনটি চলচ্চিত্রশিল্পের ছবি রয়েছে। কান্তারা: চ্যাপ্টার ১ স্থানীয় লোকবিশ্বাসকে বড় বাণিজ্যিক ছবিতে রূপ দিয়েছে। ২.০ প্রযুক্তিনির্ভর সিনেমার বাজার দেখিয়েছে। সালার ও জেলার তারকাকেন্দ্রিক অ্যাকশন ছবির শক্তি ধরে রেখেছে।
৬. কান্তারা: চ্যাপ্টার ১ (Kantara: Chapter 1)
ঋষভ শেঠি পরিচালিত ও অভিনীত কান্তারা: চ্যাপ্টার ১ ২০২৫ সালে মুক্তি পায়। এটি ২০২২ সালের কান্তারা-র আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে নির্মিত একটি প্রিক্যুয়েল। ছবিটি কর্ণাটকের লোকবিশ্বাস, ভূমি, ক্ষমতা এবং স্থানীয় আচারকে গল্পের কেন্দ্রে রেখেছে।
ছবিটির চূড়ান্ত বিশ্বব্যাপী আয় নিয়ে ₹৮৪২ কোটি থেকে ₹৮৫৫ কোটি পর্যন্ত হিসাব পাওয়া যায়। পরবর্তী ভারতীয় সংবাদ প্রতিবেদনে এর আজীবন বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ₹৮৫২.২৭ কোটি বলা হয়েছে। এই তালিকায় সেই অঙ্ক ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সংস্কৃতিকে সহজ বা সাধারণ করে না দেখিয়ে নিজস্ব পরিচয় ধরে রাখাই ছবিটির বড় শক্তি। ডাব সংস্করণগুলোও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভালো ব্যবসা করে। এটি বর্তমানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা কন্নড় ছবি।
৭. ২.০ (2.0)
শংকর পরিচালিত ২.০ ২০১৮ সালে মুক্তি পায়। এটি ২০১০ সালের এন্থিরান-এর পরবর্তী ছবি। রজনীকান্ত বিজ্ঞানী ভাসিগরণ ও রোবট চিট্টির চরিত্রে ফেরেন। অক্ষয় কুমার অভিনয় করেন পক্ষীরাজন চরিত্রে।
ছবিটির আয় নিয়ে ₹৬৬৬ কোটি থেকে ₹৮০০ কোটি পর্যন্ত দাবি রয়েছে। স্যাকনিলকের বিস্তারিত হিসাবে বিশ্বব্যাপী গ্রস প্রায় ₹৬৯১ কোটি। বক্স অফিস ইন্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত বহুল ব্যবহৃত হিসাব প্রায় ₹৬৯৯.৮৯ কোটি। তাই রক্ষণশীল তালিকায় প্রায় ₹৬৯১ থেকে ₹৭০০ কোটি ধরা হয়েছে।
থ্রিডি নির্মাণ, ভিজ্যুয়াল এফেক্ট এবং রজনীকান্ত-অক্ষয় কুমারের মুখোমুখি সংঘর্ষ ছবিটির প্রধান আকর্ষণ ছিল। গল্পের বিজ্ঞানভিত্তিক কিছু দাবি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে এটি দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ আয় করা তামিল ছবি ছিল।
৮. সালার: পার্ট ১, সিজফায়ার (Salaar: Part 1 – Ceasefire)
প্রশান্ত নীল পরিচালিত সালার: পার্ট ১, সিজফায়ার ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর মুক্তি পায়। প্রভাস ও পৃথ্বীরাজ সুকুমারন অভিনীত ছবিটি কাল্পনিক খানসার সাম্রাজ্যের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং দুই বন্ধুর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নির্মিত।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রায় ₹৬৫০ কোটি বা তার বেশি আয় দাবি করেছিল। তবে পিঙ্কভিলার চূড়ান্ত বাজারভিত্তিক হিসাবে ভারতের ₹৪৯০ কোটি গ্রস এবং বিদেশের ₹১২৭ কোটি মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী আয় ছিল প্রায় ₹৬১৭ কোটি। বক্স অফিস ইন্ডিয়া প্রায় ₹৬১২ কোটির হিসাব দিয়েছিল। জাপানের পরবর্তী আয় যোগ করে রক্ষণশীল মোট প্রায় ₹৬১৮ কোটি ধরা যায়।
অন্ধকার ভিজ্যুয়াল, ভারী অ্যাকশন এবং প্রভাসের তারকা-ইমেজ ছবিটির উদ্বোধনী ব্যবসায় বড় ভূমিকা রাখে। তবে ছবিটির আয় নিয়ে প্রকাশিত সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন অঙ্কের মধ্যে প্রায় ₹৮০ কোটির পার্থক্য রয়েছে।
৯. জেলার (Jailer)
নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত জেলার ২০২৩ সালে মুক্তি পায়। রজনীকান্ত এখানে মুথুভেল পান্ডিয়ান নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলারের চরিত্রে অভিনয় করেন। গল্পে শান্ত পারিবারিক মানুষের আড়ালে থাকা তার কঠোর পুরোনো পরিচয় ধীরে ধীরে সামনে আসে।
ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় নিয়ে ₹৬০৫ কোটি থেকে ₹৬৫০ কোটি পর্যন্ত দাবি রয়েছে। বক্স অফিস ইন্ডিয়া প্রায় ₹৬০৫ কোটি এবং কয়েকটি ট্রেড আপডেট ₹৬০৭ কোটির কাছাকাছি হিসাব দিয়েছিল। পরবর্তী প্রচারণামূলক দাবিতে ₹৬৫০ কোটি বলা হয়। এই তালিকায় কম ট্রেড হিসাবটি ব্যবহার করা হয়েছে।
মোহনলাল ও শিবরাজকুমারের বিশেষ উপস্থিতি ছবিটিকে মালয়ালম ও কন্নড় বাজারে বাড়তি আকর্ষণ দেয়। অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের আবহসংগীত এবং “কাভালা” গানের জনপ্রিয়তাও প্রচারণাকে শক্তিশালী করে।
১০. বাহুবলী: দ্য বিগিনিং (Baahubali: The Beginning)
২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া বাহুবলী: দ্য বিগিনিং আধুনিক প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছবিগুলোর একটি। এস এস রাজামৌলি ছবিটি তেলুগু ও তামিল ভাষায় নির্মাণ করেন। পরে হিন্দি ও অন্যান্য ভাষায় ডাব করে বড় আকারে মুক্তি দেওয়া হয়।
বিশ্বব্যাপী আয় নিয়ে প্রায় ₹৫৯৯.৭২ কোটি থেকে ₹৬৫০ কোটি পর্যন্ত হিসাব পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রায় ₹৬৫০ কোটির অঙ্ক ব্যবহৃত হলেও রক্ষণশীল ট্রেড হিসাবে প্রায় ₹৬০০ কোটি গ্রহণ করা হয়েছে।
মাহিষ্মতী রাজ্য, বিশাল জলপ্রপাত, যুদ্ধ এবং বাহুবলী ও ভল্লালদেবের দ্বন্দ্ব দর্শকের সামনে নতুন ধরনের ভারতীয় মহাকাব্যিক সিনেমা হাজির করে। ছবির অসমাপ্ত সমাপ্তি দ্বিতীয় অধ্যায়ের জন্য বিরাট আগ্রহ তৈরি করেছিল।
| সিনেমা | রক্ষণশীল আয় | মূল সাফল্যের জায়গা |
| কান্তারা: চ্যাপ্টার ১ | প্রায় ₹৮৫২ কোটি | স্থানীয় সংস্কৃতি ও বহু ভাষার দর্শক |
| ২.০ | প্রায় ₹৬৯১–৭০০ কোটি | থ্রিডি ও ভিজ্যুয়াল এফেক্ট |
| সালার: পার্ট ১, সিজফায়ার | প্রায় ₹৬১৭–৬১৮ কোটি | প্রভাস ও প্রশান্ত নীলের অ্যাকশন জগৎ |
| জেলার | প্রায় ₹৬০৫ কোটি | রজনীকান্ত ও বহু ভাষার ক্যামিও |
| বাহুবলী: দ্য বিগিনিং | প্রায় ₹৬০০ কোটি | প্যান-ইন্ডিয়া ফ্র্যাঞ্চাইজির ভিত্তি |
এই ছবিগুলো এত বেশি আয় করল কেন?
বড় বাজেট একা কোনো ছবিকে রেকর্ডধারী বানায় না। দক্ষিণ ভারতে অনেক ব্যয়বহুল ছবি বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। শীর্ষ দশের ছবিগুলোর সাফল্যের পেছনে কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
প্রথমত, এগুলো বড় পর্দার জন্য তৈরি। যুদ্ধ, অ্যাকশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্ট, সংগীত এবং তারকা-উপস্থাপন এমনভাবে করা হয়েছে, যা দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে যেতে উৎসাহিত করে। দ্বিতীয়ত, ছবিগুলো বহু ভাষায় একই সময়ে মুক্তি পেয়েছে।
বহু ভাষায় একই সঙ্গে মুক্তি
বাহুবলী, কেজিএফ, পুষ্পা ও কল্কি শুধু ডাব করা হয়নি। প্রতিটি ভাষার জন্য আলাদা ট্রেলার, পোস্টার, সংবাদ সম্মেলন এবং প্রচারণা চালানো হয়েছে।
হিন্দি সংস্করণের সাফল্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর ভারতের দর্শককে শুরু থেকেই লক্ষ্য করে মুক্তির পরিকল্পনা করায় প্রথম সপ্তাহেই বড় বাজার পাওয়া গেছে।
স্মরণীয় চরিত্র
রকি, পুষ্পরাজ, বাহুবলী, চিট্টি এবং মুথুভেল পান্ডিয়ানের মতো চরিত্র শুধু গল্পের অংশ থাকেনি। তাদের পোশাক, অঙ্গভঙ্গি, সংলাপ ও সংগীত আলাদা জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়েছে।
দর্শক যখন অভিনেতার পাশাপাশি চরিত্রকেও মনে রাখেন, তখন সিক্যুয়েলের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। পুষ্পা ২, কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২ ও বাহুবলী ২ এই সুবিধা সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে।
স্থানীয় পরিচয় ধরে রাখা
কান্তারা: চ্যাপ্টার ১ নিজের কন্নড় সাংস্কৃতিক পরিচয় লুকায়নি। পুষ্পা ২ অন্ধ্র প্রদেশের লাল চন্দন পাচারের জগৎকে ধরে রেখেছে। আরআরআর ঔপনিবেশিক ভারতের পটভূমি ব্যবহার করেছে।
স্থানীয় পরিবেশের মধ্যে পরিবার, বন্ধুত্ব, সম্মান, প্রতিশোধ ও ক্ষমতার মতো সর্বজনীন আবেগ রাখায় ভিন্ন ভাষার দর্শকও গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ও অপেক্ষা
শীর্ষ দশের বেশির ভাগ ছবিই কোনো না কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ। প্রথম ছবিতে দর্শক তৈরি হওয়ার পর দ্বিতীয় ছবিকে নতুন করে পুরো জগৎ পরিচয় করাতে হয়নি।
তবে শুধু সিক্যুয়েল হলেই সাফল্য নিশ্চিত নয়। প্রথম ছবির চরিত্র ও অসমাপ্ত সংঘাত যথেষ্ট শক্তিশালী না হলে দর্শক পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য অপেক্ষা করেন না।
| সাফল্যের কারণ | কীভাবে আয় বাড়িয়েছে | উদাহরণ |
| বহু ভাষায় মুক্তি | একই দিনে বড় জাতীয় বাজার | বাহুবলী ২, আরআরআর |
| জনপ্রিয় কেন্দ্রীয় চরিত্র | পুনরায় দেখার আগ্রহ ও ব্র্যান্ড মূল্য | পুষ্পা ২, কেজিএফ ২ |
| ফ্র্যাঞ্চাইজি | আগে থেকেই প্রস্তুত দর্শক | বাহুবলী ২, পুষ্পা ২ |
| স্থানীয় সংস্কৃতি | অন্য ছবির থেকে আলাদা পরিচয় | কান্তারা: চ্যাপ্টার ১ |
| বড় পর্দার দৃশ্য | প্রেক্ষাগৃহে দেখার প্রয়োজন | কল্কি ২৮৯৮ এডি, ২.০ |
| গান ও আবহসংগীত | সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত প্রচার | আরআরআর, জেলার |
ভাষাভিত্তিক হিসাবে কোন শিল্প এগিয়ে?
শীর্ষ দশে তেলুগু বা তেলুগু-তামিল দ্বিভাষিক ছবির সংখ্যা ছয়টি। বাহুবলী সিরিজ, পুষ্পা ২, আরআরআর, কল্কি ২৮৯৮ এডি এবং সালার তেলুগু চলচ্চিত্রশিল্পের প্রতিনিধিত্ব করছে।
কন্নড় সিনেমার দুটি ছবি তালিকায় রয়েছে। কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২ ও কান্তারা: চ্যাপ্টার ১ দেখিয়েছে, তুলনামূলক ছোট স্থানীয় বাজার থেকেও দেশজুড়ে বিপুল ব্যবসা করা সম্ভব।
তামিল সিনেমার প্রতিনিধি ২.০ ও জেলার। দুটি ছবিতেই রজনীকান্ত প্রধান চরিত্রে আছেন। মালয়ালম সিনেমা সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত বড় হলেও এখনো সর্বকালের এই শীর্ষ দশে জায়গা পায়নি।
| ভাষা বা শিল্প | শীর্ষ দশে সংখ্যা | প্রধান ছবি |
| তেলুগু বা তেলুগু-প্রধান | ৬ | বাহুবলী ২, পুষ্পা ২, আরআরআর |
| কন্নড় | ২ | কেজিএফ ২, কান্তারা: চ্যাপ্টার ১ |
| তামিল | ২ | ২.০, জেলার |
| মালয়ালম | ০ | এখনো শীর্ষ দশের বাইরে |
শেষ কথা
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার বক্স অফিস উত্থান কোনো সাময়িক প্রবণতা নয়। বাহুবলী: দ্য বিগিনিং বহু ভাষায় বড় মুক্তির পথ দেখিয়েছিল। বাহুবলী ২ সেই কৌশলকে ঐতিহাসিক সাফল্যে রূপ দেয়। এরপর কেজিএফ, আরআরআর, পুষ্পা, কল্কি ও কান্তারা নিজেদের গল্প ও ভিজ্যুয়াল পরিচয় দিয়ে বাজার আরও বড় করেছে।
রক্ষণশীল ট্রেড হিসাব অনুযায়ী ১৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবি। তবে প্রযোজক-ঘোষিত অঙ্ক ব্যবহার করলে পুষ্পা ২: দ্য রুল প্রথম স্থানে উঠে যেতে পারে। এই পার্থক্যটি বাদ দিয়ে কোনো একটি অঙ্ককে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে তুলে ধরা ঠিক হবে না।
তালিকার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, একটি সিনেমাকে সর্বভারতীয় হওয়ার জন্য তার স্থানীয় পরিচয় বাদ দিতে হয় না। বরং শক্তিশালী স্থানীয় গল্প, সহজে বোঝা যায় এমন আবেগ, স্মরণীয় চরিত্র এবং বড় পর্দার উপযোগী নির্মাণ একসঙ্গে থাকলে ভাষাই ছবিটির সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পুষ্পা ২ কি বাহুবলী ২-এর রেকর্ড ভেঙেছে?
উৎসের ওপর উত্তরটি নির্ভর করে। পুষ্পা ২-এর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ছবিটি ₹১,৮৩১ কোটির বেশি আয় করেছে, যা বাহুবলী ২-এর কিছু হিসাবের চেয়ে বেশি। তবে স্বাধীন ট্রেড ট্র্যাকিংয়ে পুষ্পা ২-এর আয় প্রায় ₹১,৭৩৮ কোটি এবং বাহুবলী ২-এর আয় প্রায় ₹১,৭৮৮ কোটি দেখানো হয়েছে। তাই রক্ষণশীল তালিকায় বাহুবলী ২ প্রথম।
বাহুবলী ২ কি এখনো ভারতের ভেতরে সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবিগুলোর একটি?
হ্যাঁ। বিশ্বব্যাপী অবস্থান নিয়ে পার্থক্য থাকলেও ভারতের প্রেক্ষাগৃহে বাহুবলী ২ এখনো সর্বোচ্চ আয় করা ছবিগুলোর একটি। পরবর্তী সময়ে পুষ্পা ২ ভারতীয় বাজারে বড় রেকর্ড গড়েছে।
মূল্যস্ফীতি অনুযায়ী আয় সমন্বয় করলে তালিকা কি বদলাবে?
অবশ্যই বদলাতে পারে। পুরোনো ছবির টিকিটের মূল্য বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক কম ছিল। মূল্যস্ফীতি, দর্শকসংখ্যা ও বর্তমান টিকিটের দাম অনুযায়ী হিসাব করলে পুরোনো কয়েকটি দক্ষিণ ভারতীয় ছবি অনেক ওপরে উঠে আসতে পারে।
লিও কেন শীর্ষ দশে নেই?
লিও-র বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ₹৫৯৫ কোটি থেকে ₹৬১৫ কোটির মধ্যে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। রক্ষণশীল হিসাব অনুযায়ী এটি বাহুবলী: দ্য বিগিনিং-এর প্রায় ₹৬০০ কোটির অল্প নিচে থাকে। তাই বর্তমান তালিকায় লিও একাদশ স্থানের কাছাকাছি।
ওটিটি থেকে পাওয়া অর্থ কি বক্স অফিসে যোগ করা হয়?
না। নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মের কাছে বিক্রি করা ডিজিটাল স্বত্ব বক্স অফিস আয় নয়। এটি ছবির মোট ব্যবসার অংশ হতে পারে, কিন্তু বিশ্বব্যাপী থিয়েট্রিক্যাল গ্রসের অংশ নয়।
পুনঃমুক্তির আয় কি মূল আয়ের সঙ্গে যোগ হয়?
সাধারণভাবে যোগ করা যায়, যদি অঙ্কটি নির্ভরযোগ্যভাবে রিপোর্ট করা হয়। তবে সব ট্রেড ট্র্যাকার একই সময় পুনঃমুক্তির আয় আপডেট করে না। এ কারণে আরআরআর, সালার বা জাপানে মুক্তি পাওয়া অন্যান্য ছবির মোট অঙ্কে সামান্য পার্থক্য দেখা যায়।
সবচেয়ে বেশি এক হাজার কোটি রুপির ছবি কোন দক্ষিণ ভারতীয় শিল্পে রয়েছে?
তেলুগু চলচ্চিত্রশিল্প সবচেয়ে এগিয়ে। বাহুবলী ২, পুষ্পা ২, আরআরআর এবং কল্কি ২৮৯৮ এডি এক হাজার কোটি রুপির সীমা অতিক্রম করেছে। কন্নড় সিনেমা থেকে কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২ এই তালিকায় রয়েছে।



