মানব ইতিহাসের হাজার বছরের লিখিত রেকর্ডে ২৪ আগস্ট দিনটি একটি অন্যতম রূপান্তরমূলক বা যুগান্তকারী দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ভাবলে অবাক হতে হয়, মাত্র ২৪ ঘণ্টার একটি সাধারণ চক্রে কত সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন ঘটেছে, কত আধুনিক রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে, আর প্রযুক্তি, সাহিত্য এবং মহাকাশ বিজ্ঞানে কত অভাবনীয় বিপ্লব সাধিত হয়েছে।
৪১০ খ্রিষ্টাব্দে এই দিনেই ভিসিগোথরা রোমের দুর্ভেদ্য দেয়াল ভেঙে প্রবেশ করেছিল, চূর্ণ করে দিয়েছিল রোমান সাম্রাজ্যের অজেয় থাকার মিথ। এর শত শত বছর পর, ১৯৯১ সালের ঠিক এই দিনটিতেই ইউক্রেন নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করে এবং মিখাইল গর্বাচেভ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন—যার মধ্য দিয়ে মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়া হয়।
আবার ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট মাইক্রোসফট বাজারে আনে তাদের যুগান্তকারী অপারেটিং সিস্টেম ‘উইন্ডোজ ৯৫’, যা মানুষের কম্পিউটার ব্যবহারের ধারণাই চিরতরে পাল্টে দেয়। অন্যদিকে ২০০৬ সালের এই দিনেই বিজ্ঞানীরা প্লুটোকে তার ‘গ্রহ’ হওয়ার মর্যাদা থেকে চিরতরে ছাঁটাই করেন।
হোর্হে লুইস বর্হেসের শান্ত সাহিত্যিক গোলকধাঁধা থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিপ্লবী যুদ্ধক্ষেত্র পর্যন্ত—চলুন ২৪ আগস্টের ইতিহাস, ব্যক্তি ও ঘটনাবলীর এক বিস্তৃত, বৈশ্বিক ও গভীর পর্যালোচনায় ডুব দেওয়া যাক।
বাঙালি পরিমণ্ডল ও দক্ষিণ এশীয় উপমহাদেশ
ভারতীয় উপমহাদেশে ২৪ আগস্ট দিনটি বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন, আইনি বিতর্ক এবং বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের এক নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।
ঐতিহাসিক মাইলফলকসমূহ:
-
১৬৯০ – কলকাতা প্রতিষ্ঠার বিতর্কিত দিন: ১৬৯০ সালের ২৪ আগস্ট ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এজেন্ট জব চার্নক হুগলি নদীর তীরে সুতানুটি গ্রামে এসে নোঙর করেন। তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ইতিহাসে এই দিনটিকে কলকাতার আনুষ্ঠানিক জন্মদিন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০০৩ সালে, ওই অঞ্চলের ঐতিহাসিক জমিদার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট ঐতিহাসিক এক রায় দেন। রায়ে বলা হয়, কলকাতা মূলত কালিকাটা, সুতানুটি এবং গোবিন্দপুর—এই তিনটি আগে থেকে টিকে থাকা গ্রামের সমন্বয়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে; কোনো একক বিদেশি ব্যক্তির দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো দিনে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
-
১৯৬৯ – ভি.ভি. গিরির ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ: বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি (ভি.ভি. গিরি) আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের চতুর্থ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার এই জয়টি ছিল ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক জলবিভাজিকা; কেননা তিনিই এখন পর্যন্ত ভারতের একমাত্র নির্দলীয় বা স্বাধীন প্রার্থী যিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর গোপন সমর্থনে তিনি কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী নীলম সঞ্জীব রেড্ডিকে পরাজিত করেন।
-
১৯৭১ – বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কূটনৈতিক কৌশল: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যখন চরম আকার ধারণ করেছে এবং ভারতে শরণার্থীদের ঢল নেমেছে, তখন উদ্ভূত মানবিক সংকটের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ২৪ আগস্ট চীনের প্রিমিয়ার চৌ এন-লাইয়ের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বার্তা পাঠান। ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম শীর্ষ পর্যায়ের একটি কূটনৈতিক যোগাযোগ। এই বার্তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের ওপর যে বিপুল শরণার্থী বোঝা চাপানো হয়েছে তা ব্যাখ্যা করা এবং পূর্ব পাকিস্তানের সংঘাতে ইন্ধন জোগানো থেকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে সতর্ক করা।
এই অঞ্চলের বিখ্যাত জন্ম ও মৃত্যু:
-
বীণা দাস (জন্ম: ২৪ আগস্ট, ১৯১১ – মৃত্যু: ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৬): একজন অকুতোভয় বাঙালি বিপ্লবী এবং জাতীয়তাবাদী নেত্রী। ১৯৩২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি বাংলার তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর স্যার স্ট্যানলি জ্যাকসনকে লক্ষ্য করে পরপর পাঁচটি গুলি ছোঁড়েন। যদিও গভর্নর ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন, কিন্তু বীণা দাসের এই নির্ভীক বিদ্রোহ ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনকে প্রবলভাবে আলোড়িত করেছিল। পরবর্তীতে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সমাজকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে।
-
আইভি রহমান (মৃত্যু: ২৪ আগস্ট, ২০০৪): বাংলাদেশের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভানেত্রী এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের এক রাজনৈতিক সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ২৪ আগস্ট তিনি মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় ট্র্যাজেডি।
আন্তর্জাতিক দিবস ও জাতীয় ছুটিসমূহ

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ২৪ আগস্ট দিনটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ছুটি এবং সাংস্কৃতিক দিবস হিসেবে পালিত হয়।
| দিবস / ছুটির নাম | আওতা / ধরন | তাৎপর্য |
| ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস | ইউক্রেন (জাতীয় দিবস) | ১৯৯১ সালের ২৪ আগস্ট ইউক্রেনের পার্লামেন্ট (Verkhovna Rada) ইউএসএসআর (সোভিয়েত ইউনিয়ন) থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। দিনটি সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করে। |
| জাতীয় ওয়াফল দিবস | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (সাংস্কৃতিক) | ১৮৬৯ সালের ২৪ আগস্ট নিউইয়র্কের ট্রয়ের অধিবাসী কর্নেলিয়াস সোয়ার্টউউটের নামে প্রথম ইউ.এস. ওয়াফল আয়রন প্যাটেন্ট ইস্যু করা হয়। সেই দিনটির স্মরণে এটি পালিত হয়। |
| ভিসুভিয়াস দিবস | বৈশ্বিক / ঐতিহাসিক | ৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মাউন্ট ভিসুভিয়াসের সেই ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনাকে স্মরণ করে, যা পম্পেই, হারকিউলেনিয়াম এবং স্ট্যাবিয়া শহরকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল। |
| আন্তর্জাতিক অদ্ভুত সঙ্গীত দিবস | বৈশ্বিক (সাংস্কৃতিক) | সুরকার প্যাট্রিক গ্রান্ট এই দিবসটি প্রতিষ্ঠা করেন, যাতে মানুষ তাদের চেনাজানা গণ্ডির বাইরের এবং পরীক্ষামূলক সঙ্গীত শুনতে উৎসাহিত হয়। |
বৈশ্বিক ইতিহাস: অঞ্চলভিত্তিক প্রধান ঘটনাবলী
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বিশ্ব
-
৭৯ খ্রিষ্টাব্দ – পম্পেই ও হারকিউলেনিয়াম ধ্বংস (ঐতিহ্যবাহী তারিখ): মাউন্ট ভিসুভিয়াস এক ভয়ংকর বিস্ফোরণের মাধ্যমে সুপারহিটেড ছাই, পাথর ও পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহ উগলে দেয়। এই বিপর্যয় পম্পেই, হারকিউলেনিয়াম এবং স্ট্যাবিয়া শহরকে জীবন্ত কবর দেয়। হাজার হাজার মানুষ তাদের জীবনের শেষ মুহূর্তের অবস্থায় ছাইয়ের নিচে জমে যায়। ঐতিহাসিক নোট: প্লিনি দ্য ইয়াঙ্গারের চিঠিতে এই অগ্ন্যুৎপাতের তারিখ ২৪ আগস্ট উল্লেখ থাকলেও আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ (যেমন কয়লার শিলালিপি এবং শরতের ফলের অবশিষ্টাংশ) ইঙ্গিত দেয় যে এটি সম্ভবত ৭৯ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরের শেষের দিকে ঘটেছিল।
-
৪১০ খ্রিষ্টাব্দ – ভিসিগোথদের হাতে রোমের পতন: রাজা প্রথম আলারিকের নেতৃত্বে ভিসিগোথরা স্যালারিয়ান গেট ভেঙে ফেলে এবং তিন দিন ধরে রোম শহর ধ্বংস ও লুটপাট করে। প্রায় ৮০০ বছরের মধ্যে এই প্রথম পশ্চিমা সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু কোনো বাহ্যিক শত্রুর হাতে পতিত হয়। এই ঘটনা প্রাচীন বিশ্বে এক বিশাল ধাক্কা দেয় এবং পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের অপরিবর্তনীয় পতনের সংকেত দেয়।
-
১২১৫ – পোপ তৃতীয় ইনোসেন্ট কর্তৃক ম্যাগনা কার্টা বাতিল: বিদ্রোহী ব্যারনদের চাপে ইংল্যান্ডের রাজা জন রানিমোডে ঐতিহাসিক ম্যাগনা কার্টা বা মহাসনদ স্বাক্ষর করার কয়েক মাস পরই, পোপ তৃতীয় ইনোসেন্ট একটি নির্দেশিকা জারি করে এই সনদটিকে অবৈধ, বাতিল এবং লজ্জাজনক বলে ঘোষণা করেন। পোপ যুক্তি দেন যে রাজাকে বাধ্য করে এটিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছে, যা প্রথম ব্যারন যুদ্ধের জন্ম দেয়।
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ
-
১৫৭২ – ফ্রান্সে সেন্ট বার্থোলোমিউ ডে গণহত্যা: ২৪ আগস্ট ভোরে প্যারিসে ফরাসি ক্যালভিনিস্ট প্রোটেস্ট্যান্টদের (যাদের হুগেনট বলা হতো) ওপর পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। রাজমাতা ক্যাথরিন ডি মেডিসি এবং রাজা নবম চার্লস এর প্ররোচনা দিয়েছিলেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই সহিংসতা পুরো ফ্রান্সে এক উন্মত্ততায় রূপ নেয়, যাতে ১০,০০০ থেকে ৩০,০০০ হুগেনটের প্রাণহানি ঘটে এবং এটি ফরাসি ধর্মের যুদ্ধকে তীব্রতর করে।
-
১৮৭৫ – ম্যাথিউ ওয়েব-এর ইংলিশ চ্যানেল জয়: ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন ম্যাথিউ ওয়েব কোনো রকম কৃত্রিম ভাসমান সহায়ক বস্তু ছাড়াই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পার হওয়ার রেকর্ড গড়েন। তিনি ডোভার থেকে ক্যালেস পর্যন্ত ৩৯ মাইলের এক আঁকাবাঁকা পথ ২১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে পাড়ি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া তারকায় পরিণত হন।
-
১৯৪৪ – প্যারিসের মুক্তি শুরু (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ): জেনারেল ফিলিপ লেক্লার্কের ২য় আর্মার্ড ডিভিশনের নেতৃত্বে ফরাসি ও মিত্রবাহিনীর সৈন্যরা (যাদের সাথে স্প্যানিশ রিপাবলিকান ভেটেরানরাও ছিল) প্যারিসের কেন্দ্রে প্রবেশ করে। ফরাসি প্রতিরোধ বাহিনীর অভ্যুত্থানকে সমর্থন জোগানোর মাধ্যমে তারা পরের দিনই প্যারিসে জার্মানদের পূর্ণাঙ্গ আত্মসমর্পণের পথ প্রশস্ত করে।
-
১৯৮৯ – পোল্যান্ডে প্রথম অ-কমিউনিস্ট প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত: পোলিশ পার্লামেন্ট ‘সলিডারিটি’ ট্রেড ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা তাদেউস মাজোভিয়েকি-কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে। চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে তিনি হন প্রথম অ-কমিউনিস্ট সরকার প্রধান, যা ছিল ‘আয়রন কার্টেন’ বা লৌহ যবনিকা পতনের একটি অন্যতম বড় টার্নিং পয়েন্ট।
উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা)
-
১৮১৪ – ব্রিটিশ সেনাদের ওয়াশিংটন ডিসি পোড়ানো: ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় মেজর জেনারেল রবার্ট রসের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বাহিনী ব্লাডেন্সবার্গের যুদ্ধে আমেরিকানদের পরাজিত করে ওয়াশিংটন ডিসি-তে প্রবেশ করে। আপার কানাডায় আমেরিকানদের আক্রমণের প্রতিশোধ হিসেবে ব্রিটিশরা ইউএস ক্যাপিটল ভবন, রাষ্ট্রপতির বাসভবন (বর্তমান হোয়াইট হাউস) এবং অন্যান্য সরকারি ভবন আগুনে পুড়িয়ে দেয়। পালানোর ঠিক আগে ফার্স্ট লেডি ডলি ম্যাডিসন গিলবার্ট স্টুয়ার্টের আঁকা জর্জ ওয়াশিংটনের বিখ্যাত পূর্ণাবয়ব প্রতিকৃতিটি সাহসিকতার সাথে বাঁচিয়েছিলেন।
-
১৮৫৭ – ওয়াল স্ট্রিটে ১৮৫৭-এর মন্দা: ওহিও লাইফ ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড ট্রাস্ট কোম্পানির নিউইয়র্ক শাখার হঠাৎ পতনের ফলে ব্যাংকে গ্রাহকদের টাকা তোলার হিড়িক পড়ে এবং বাজারে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। এর ফলে এক গভীর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সূচনা হয়। আমেরিকান রেলওয়ে শিল্পের অতিরিক্ত সম্প্রসারণ এবং কৃষিপণ্যের ইউরোপীয় চাহিদা কমে যাওয়া ছিল এর মূল কারণ।
-
১৯৩২ – অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের ঐতিহাসিক ট্রান্সকন্টিনেন্টাল একক ফ্লাইট: প্রখ্যাত বৈমানিক অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে টানা ১৯ ঘণ্টা ৫ মিনিটে ২,৪৪৭ মাইল উড়ে এসে নিউ জার্সির নিওয়ার্কে অবতরণ করেন। তিনিই প্রথম নারী যিনি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিরতিহীন একক বিমান চালনা সম্পন্ন করেন।
-
১৯৯২ – হারিকেন অ্যান্ড্রুর আঘাত: ‘ক্যাটাগরি ৫’ মাত্রার ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হারিকেন অ্যান্ড্রু ফ্লোরিডার হোমস্টেডের কাছে আঘাত হানে। এর বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬৫ মাইলের বেশি। এটি মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল ও ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছিল, যাতে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ৬৩,০০০-এর বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়।
-
১৯৯৫ – মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ৯৫ রিলিজ: দ্য রোলিং স্টোনস-এর বিখ্যাত গান “Start Me Up” সম্বলিত এক বিশাল বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞাপন প্রচারণার মধ্য দিয়ে মাইক্রোসফট ‘উইন্ডোজ ৯৫’ লঞ্চ করে। স্টার্ট মেনু, টাস্কবার এবং বড় ফাইলের নাম সেভ করার সুবিধা নিয়ে এসে এই অপারেটিং সিস্টেমটি পার্সোনাল কম্পিউটিংয়ে এক বিশাল বিপ্লব ঘটায় এবং সফটওয়্যার বাজারে মাইক্রোসফটের একচ্ছত্র আধিপত্য মজবুত করে।
রাশিয়া ও সোভিয়েত পরবর্তী অঞ্চল
-
১৯৯১ – মিখাইল গর্বাচেভের পদত্যাগ ও ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব: কট্টরপন্থী কমিউনিস্টদের দ্বারা সংঘটিত আগস্ট অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পরপরই মিখাইল গর্বাচেভ সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দেন। ঠিক একই দিনে ইউক্রেনের সুপ্রিম সোভিয়েত ‘ইউক্রেনের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ পাস করে। এই ঘটনাগুলো এমন এক অপরিবর্তনীয় চেইন রিঅ্যাকশন তৈরি করে যা ওই বছরের ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের আনুষ্ঠানিক পতনের দিকে নিয়ে যায়।
চীন ও পূর্ব এশিয়া
-
১৯৩৮ – কুইলিন দুর্ঘটনা: জাপানি যুদ্ধবিমান চীনের গুয়াংজুর কাছে চায়না ন্যাশনাল এভিয়েশন কর্পোরেশনের (CNAC) পরিচালিত একটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করে। এতে ১৪ জন যাত্রী ও ক্রু নিহত হন। বিমান চলাচলের ইতিহাসে সামরিক বাহিনী কর্তৃক কোনো বাণিজ্যিক বেসামরিক ফ্লাইট ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি করে নামানোর এটাই ছিল প্রথম রেকর্ড।
লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা
-
১৮২১ – কর্ডোবা চুক্তি (মেক্সিকো): স্প্যানিশ ভাইসরয় হুয়ান ও’দোনোহু মেক্সিকান বিপ্লবী নেতা আগুস্তিন দে ইতুরবিদের সাথে ‘ট্রিটি অব কর্ডোবা’ স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে মেক্সিকোর স্বাধীনতা যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং মেক্সিকান সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়।
-
১৯২৯ – হেবরন গণহত্যা: ১৯২৯ সালে ফিলিস্তিনে দাঙ্গা চলাকালে একদল আরব উন্মত্ত জনতা প্রাচীন শহর হেবরনে বসবাসরত ইহুদিদের ওপর হামলা চালায়। এতে ৬৫ জনের বেশি নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীন থাকা এই ঘটনার পর হেবরন থেকে শত শত বছরের পুরনো ইহুদি সম্প্রদায়কে পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হয়।
-
১৯৫৪ – ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেতুলিও ভার্গাসের আত্মহত্যা: একটি রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির মাঝে সামরিক ও রাজনৈতিক মহলের প্রবল চাপের মুখে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেতুলিও ভার্গাস রিও ডি জেনেইরোর ক্যাটেট প্রাসাদে নিজের বুকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন। তিনি একটি আবেগপূর্ণ সুইসাইড নোট রেখে গিয়েছিলেন, যার শেষ লাইনটি ছিল বিখ্যাত: “আমি জীবন ছাড়ছি ইতিহাসে প্রবেশ করার জন্য।”
বিজ্ঞান, মহাকাশ ও প্রযুক্তি
-
২০০৬ – আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইউনিয়নের প্লুটোকে অবনমন: প্রাগে অনুষ্ঠিত জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন (IAU) “গ্রহ” শব্দটির একটি নতুন বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা গ্রহণ করে। যেহেতু প্লুটো তার কক্ষপথের চারপাশের এলাকা পরিষ্কার করতে পারেনি, তাই একে আনুষ্ঠানিকভাবে “বামন গ্রহ” (dwarf planet) হিসেবে পুনর্শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। এর ফলে আমাদের সৌরজগতের স্বীকৃত গ্রহের সংখ্যা নয়টি থেকে আটটিতে নেমে আসে।
-
২০১৬ – প্রক্সিমা সেন্টোরি বি আবিষ্কার: ইউরোপীয় সাউদার্ন অবজারভেটরি (ESO) ‘প্রক্সিমা বি’-এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করার ঘোষণা দেয়। এটি একটি পাথুরে, পৃথিবীর মতো ভরের এক্সোপ্ল্যানেট, যা আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরির বাসযোগ্য অঞ্চলের (habitable zone) মধ্যে প্রদক্ষিণ করছে। এটি আমাদের থেকে প্রায় ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
উল্লেখযোগ্য জন্ম ও মৃত্যু
২৪ আগস্ট বিশ্বকে উপহার দিয়েছে অনেক প্রভাবশালী লেখক, বিজ্ঞানী, সমাজসংস্কারক এবং শিল্পী। আবার এই দিনেই অনেক কালজয়ী মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।
জন্মদিন (২৪ আগস্ট)
| ব্যক্তি | জীবনকাল | জাতীয়তা | পেশা / প্রধান অবদান |
| উইলিয়াম উইলবারফোর্স | ১৭৫৯ – ১৮৩৩ | ব্রিটিশ | রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, এবং ট্রান্সআটলান্টিক দাস ব্যবসা বাতিলের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা। |
| হোর্হে লুইস বর্হেস | ১৮৯৯ – ১৯৮৬ | আর্জেন্টাইন | সাহিত্যের দিকপাল, প্রাবন্ধিক এবং ছোটগল্পের মাস্টার (Ficciones, The Aleph); ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুকরী বাস্তবতার পথিকৃৎ। |
| আলবার্ট ক্লড | ১৮৯৯ – ১৯৮৩ | বেলজিয়ান | সেল বায়োলজিস্ট বা কোষ জীববিজ্ঞানী; কোষের গঠন নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৭৪ সালে চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। |
| ফার্নান্দ ব্রদেল | ১৯০২ – ১৯৮৫ | ফরাসি | অ্যানালস স্কুলের নেতৃস্থানীয় ইতিহাসবিদ; ‘লং ডুরে’ (longue durée) ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের ধারণার প্রবর্তক। |
| হাওয়ার্ড জিন | ১৯২২ – ২০১০ | আমেরিকান | ইতিহাসবিদ, লেখক এবং নাগরিক অধিকার কর্মী; ‘A People’s History of the United States’ বইটির জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। |
| আহমাদু আহিদজো | ১৯২৪ – ১৯৮৯ | ক্যামেরুনিয়ান | রাষ্ট্রনায়ক; ১৯৬০ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ক্যামেরুনের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। |
| ইয়াসির আরাফাত | ১৯২৯ – ২০০৪ | ফিলিস্তিনি | পিএলও-র চেয়ারম্যান, পিএনএ-র প্রেসিডেন্ট; ১৯৯৪ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সহ-বিজয়ী। |
| মার্শা পি. জনসন | ১৯৪৫ – ১৯৯২ | আমেরিকান | রূপান্তরকামী বা ট্রান্সজেন্ডার অধিকার কর্মী, ১৯৬৯ সালের স্টোনওয়াল দাঙ্গার মূল ব্যক্তিত্ব এবং গৃহহীন এলজিবিটিকিউ+ তরুণদের অধিকার আদায়ের প্রবক্তা। |
| পাওলো কোয়েলহো | জন্ম: ১৯৪৭ | ব্রাজিলিয়ান | বিশ্ববিখ্যাত গীতিকার এবং ঔপন্যাসিক; আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার ‘দ্য অ্যালকেমিস্ট’ (The Alchemist)-এর লেখক। |
| জ্যাঁ-মিশেল জারে | জন্ম: ১৯৪৮ | ফরাসি | ইলেকট্রনিক মিউজিকের পথিকৃৎ, সুরকার ও প্রযোজক; বিশাল উন্মুক্ত স্থানে লেজার ও সিন্থ কনসার্টের জন্য বিখ্যাত। |
| স্টিফেন ফ্রাই | জন্ম: ১৯৫৭ | ব্রিটিশ | প্রশংসিত অভিনেতা, লেখক, কৌতুকশিল্পী, বর্ণনাকারী (হ্যারি পটার অডিওবুক) এবং বুদ্ধিজীবী। |
| মার্লি ম্যাটলিন | জন্ম: ১৯৬৫ | আমেরিকান | অস্কারজয়ী অভিনেত্রী (Children of a Lesser God); বধির সম্প্রদায়ের জন্য বিশ্বব্যাপী একজন বিশিষ্ট সমাজকর্মী। |
| ডেভ চ্যাপেল | জন্ম: ১৯৭৩ | আমেরিকান | প্রশংসিত স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান, ব্যঙ্গাত্মক শিল্পী এবং আমেরিকান হিউমারের জন্য মার্ক টোয়েন পুরস্কার বিজয়ী। |
| রুপার্ট গ্রিন্ট | জন্ম: ১৯৮৮ | ব্রিটিশ | অভিনেতা; হ্যারি পটার চলচ্চিত্র সিরিজে ‘রন উইজলি’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে উদযাপিত। |
মৃত্যুবার্ষিকী (২৪ আগস্ট)
| ব্যক্তি | জীবনকাল | জাতীয়তা | উত্তরাধিকার / মৃত্যুর কারণ |
| সু শি (সু দংপো) | ১০ ৩৭ – ১১০১ | চীনা | পলিম্যাথ, ক্যালিগ্রাফার, প্রাবন্ধিক এবং সং রাজবংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। |
| পারমিজিয়ানিনো | ১৫০৩ – ১৫৪০ | ইতালীয় | বিখ্যাত ম্যানারিস্ট চিত্রশিল্পী এবং প্রিন্টমেকার (Madonna with the Long Neck); ৩৭ বছর বয়সে তীব্র জ্বরে মারা যান। |
| নিকোলাস লিওনার্ড সাদি কার্নোট | ১৭৯৬ – ১৮৩২ | ফরাসি | পদার্থবিজ্ঞানী ও সামরিক প্রকৌশলী; “থার্মোডাইনামিক্সের জনক” (কার্নোট সাইকেল); ৩৬ বছর বয়সে কলেরায় মারা যান। |
| রুডলফ ক্লসিয়াস | ১৮২২ – ১৮৮৮ | জার্মান | তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী এবং গণিতবিদ; ‘এন্ট্রপি’র ধারণা প্রবর্তন করেন এবং তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র প্রণয়ন করেন। |
| সিমোন ওয়েইল | ১৯০৯ – ১৯৪৩ | ফরাসি | দার্শনিক, খ্রিস্টান মরমী সাধক এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাজনৈতিক কর্মী; যক্ষ্মা এবং স্বেচ্ছায় অনাহারে মৃত্যুবরণ করেন। |
| কেনজি মিজোগুচি | ১৮৯৮ – ১৯৫৬ | জাপানি | মাস্টার চলচ্চিত্র পরিচালক (Ugetsu, The Life of Oharu); লং-টেক সিনেমাটোগ্রাফির পথিকৃৎ; লিউকেমিয়ায় মারা যান। |
| এলিজাবেথ কুবলার-রস | ১৯২৬ – ২০০৪ | সুইস-আমেরিকান | মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ‘On Death and Dying’ বইয়ের লেখক, যা বিশ্বজুড়ে শোকের “পাঁচটি পর্যায়” (Five Stages of Grief) ধারণাটি পরিচয় করিয়ে দেয়। |
| রিচার্ড অ্যাটেনবরো | ১৯২৩ – ২০১৪ | ব্রিটিশ | একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা (Gandhi) এবং প্রিয় অভিনেতা (Jurassic Park, Miracle on 34th Street)। |
| চার্লি ওয়াটস | ১৯৪১ – ২০২১ | ব্রিটিশ | কিংবদন্তি রক ড্রামার, যিনি প্রায় ছয় দশক ধরে বিখ্যাত ব্যান্ড ‘দ্য রোলিং স্টোনস’-এর ছন্দের মূল ভিত্তি ধরে রেখেছিলেন। |
“আপনি কি জানেন?” — ঐতিহাসিক ট্রিভিয়া (মজার তথ্য)
-
প্লুটোর পরিচয় সংকট: ২০০৬ সালের ২৪ আগস্ট যখন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন (IAU) প্লুটোকে গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দেয়, তখন আমেরিকান ডায়ালেক্ট সোসাইটি একটি নতুন ক্রিয়াপদ বা ভার্ব তৈরি করে: “to pluto” (বা “plutoed” হওয়া)। এর অর্থ হলো, “কাউকে বা কোনো কিছুকে তার পদ বা মর্যাদা থেকে অবনমিত করা বা অবমূল্যায়ন করা, ঠিক যেমনটা প্লুটোর ক্ষেত্রে করা হয়েছিল।”
-
ধ্বংসযজ্ঞের আগে নৈশভোজ: ১৮১৪ সালের ২৪ আগস্ট ব্রিটিশ সেনারা যখন হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করে, তখন তারা রাষ্ট্রপতির ডাইনিং রুমে ৪০ জনের একটি বিলাসবহুল নৈশভোজের আয়োজন দেখতে পায়, যা ফার্স্ট লেডি ডলি ম্যাডিসন সেখান থেকে পালানোর ঠিক আগে প্রস্তুত করেছিলেন। ব্রিটিশ অফিসাররা সেখানে বসে শান্তিতে রাষ্ট্রপতির খাবার খান, তার ওয়াইন পান করেন, নিজেদের বিজয়ে চিয়ার্স করেন এবং তার পরই কেবল ওই বিশাল প্রাসাদে আগুন লাগিয়ে দেন!
-
পটেটো চিপসের মিথ: রন্ধনশিল্পের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় ১৮৫৩ সালের ২৪ আগস্টকে প্রায়শই ‘পটেটো চিপস’ আবিষ্কারের দিন হিসেবে ধরা হয়। জনশ্রুতি আছে, নিউইয়র্কের সারাটোগা স্প্রিংসের শেফ জর্জ ক্রাম একজন বিরক্তিকর গ্রাহককে (যাকে প্রায়শই কর্নেলিয়াস ভ্যান্ডারবিল্ট বলা হয়) শিক্ষা দেওয়ার জন্য আলুকে কাগজের মতো পাতলা করে কেটে কড়া করে ভেজে দিয়েছিলেন। কারণ সেই গ্রাহক বারবার অভিযোগ করছিলেন যে তার ভাজা আলুগুলো খুব মোটা করে কাটা হয়েছে। যদিও ক্রাম এই খাবারটিকে জনপ্রিয় করেছিলেন, কিন্তু ১৯ শতকের অনেক পুরোনো রান্নার বইয়েও পাতলা করে কাটা ভাজা আলুর রেসিপির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
শেষ কথা
ক্যালেন্ডারের পাতায় ২৪ আগস্ট কেবলই আরেকটি সাধারণ দিন নয়—এটি এমন একটি দিন যা অসংখ্য অসাধারণ ইতিহাস, প্রভাবশালী ব্যক্তি, যুগান্তকারী মাইলফলক এবং এমন সব ঘটনা দিয়ে গড়া, যা পৃথিবীতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে। বিখ্যাত মানুষের জন্ম-মৃত্যু থেকে শুরু করে বৈশ্বিক বড় বড় রদবদল, ২৪ আগস্টের সাথে জড়িয়ে থাকা গল্পগুলো আমাদের দেখায় অতীত কীভাবে আজও আমাদের বর্তমানকে প্রভাবিত করে চলেছে।
আপনি ২৪ আগস্টে কী ঘটেছিল তা খুঁজছেন, নাকি এই দিনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ব্যক্তিদের কথা জানতে চাইছেন, বা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা আবিষ্কার করতে চাইছেন—এই দিনে মনে রাখার মতো গল্পের কোনো অভাব নেই। ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি তারিখেরই নিজস্ব একটি গল্প থাকে—এবং ২৪ আগস্টও নিশ্চিতভাবেই এর ব্যতিক্রম নয়।

