১২ জানুয়ারি—বছরের এমন এক দিন, যা ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে ‘পরিবর্তনের দ্বার’ হিসেবে চিহ্নিত। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি তরুণ শক্তি, নাগরিক উদ্যম এবং চিন্তার অনন্ত প্রভাবের প্রতীক। আফ্রিকায় এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় এক বিপ্লবের স্মৃতি—যা জাঞ্জিবারকে বদলে দিয়ে আধুনিক তানজানিয়ার ভিত্তি তৈরি করেছিল। ইউরোপের যুদ্ধকালীন ইতিহাসে এই দিনের পাতা ভারী সোভিয়েত বাহিনীর বীরত্বে, আর আমেরিকা মহাদেশে ১২ জানুয়ারি মনে পড়ে যায় সংস্কৃতিগত বিপ্লব—মোটাউন মিউজিকের জন্ম এবং ২০১০ সালের হাইতির ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে।
১২ জানুয়ারি তাই শুধু ইতিহাস নয়—এটা একটি প্রতীক, যে শেখায় কেন অতীত আজও আমাদের জীবনে প্রাসঙ্গিক।
এক নজরে ১২ জানুয়ারি
| বছর | স্থান | কী ঘটেছিল | কেন গুরুত্বপূর্ণ |
|---|---|---|---|
| ১৮৬৩ / ১৯৮০ দশক থেকে | ভারত (কলকাতা / সারাদেশ) | স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম; পরে এই দিনকে “জাতীয় যুব দিবস” ঘোষণা | একজন আধ্যাত্মিক নেতার জন্মদিন জাতীয় সেবা ও যুব উদ্দীপনার প্রতীকে পরিণত |
| ১৯৬৪ | জাঞ্জিবার | জাঞ্জিবার বিপ্লবের সূচনা | উপসাগরীয় রাজনীতির দৃশ্যপট পাল্টে দেয়; পরবর্তীতে তানজানিয়ার জন্মে ভূমিকা |
| ১৯৪৩ | সোভিয়েত ইউনিয়ন (লেনিনগ্রাদ ফ্রন্ট) | অপারেশন ইস্ক্রার সূচনা | লেনিনগ্রাদের অবরোধ শিথিল করতে রক্তক্ষয়ী প্রচেষ্টা, মানবিক বেঁচে থাকার সংগ্রাম |
| ১৯৫৯ | যুক্তরাষ্ট্র (ডেট্রয়েট) | মোটাউনের জন্ম | কৃষ্ণাঙ্গ মালিকানাধীন সঙ্গীত ব্যবসা বিশ্ব সংস্কৃতিতে বিপ্লব ঘটায় |
| ২০১০ | হাইতি | ৭.০ মাত্রার ভূমিকম্প | বিপর্যস্ত রাষ্ট্র কাঠামো, দারিদ্র্য ও বৈষম্যের মধ্যকার মানবিক ট্র্যাজেডির প্রতীকি রূপ |
স্বামী বিবেকানন্দ: জন্ম থেকে জাতীয় যুব দিবস
১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি, কলকাতায় জন্ম নেন নরেন্দ্রনাথ দত্ত—যাকে পৃথিবী চেনে স্বামী বিবেকানন্দ নামে। তাঁর জন্মদিনকে ভারত সরকার ১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, এবং ১৯৮৫ সাল থেকে তা পালন শুরু হয়।
-
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়, বিবেকানন্দের দর্শন ও জীবনের আদর্শ ভারতীয় তরুণদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
-
১২ জানুয়ারি জুড়ে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শোভাযাত্রা, সেমিনার, বক্তৃতা, কুইজ, বিতর্ক, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, যোগাসন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
এই দিনটি শুধু জন্মতিথি স্মরণ নয়; বরং রাষ্ট্র সচেতনভাবে তরুণদের সামনে এক ধরনের নৈতিক–নাগরিক আদর্শ তুলে ধরছে—যেখানে আত্মনির্ভরতা, সেবা, যুক্তিবাদ এবং আধ্যাত্মিকতার ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাঙালি থেকে বিশ্বমঞ্চে
স্বামী বিবেকানন্দ বাঙালি ভাবচর্চাকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যান, বিশেষত ১৮৯৩ সালের শিকাগো ধর্মমহাসভার বিখ্যাত ভাষণের মাধ্যমে। সেখানে তিনি বেদান্ত ও যোগকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেন, যাতে তা কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং মানবমুক্তি, আত্মসম্মান ও সার্বজনীন মানবতার দর্শন হিসেবে উঠে আসে।
তাঁর বক্তৃতা ও লেখার ভিত্তিতে পরে অসংখ্য যুবসংগঠন, সেবা প্রকল্প, শিক্ষাচক্র গড়ে ওঠে—যার কিছু এখনও সক্রিয়। আজকের ভারতের অনেক সামাজিক উদ্যোগ, স্টার্টআপ সংস্কৃতি বা স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক সংগঠন জাতীয় যুব দিবসে তাঁর উদ্ধৃতি ও চিন্তাকে নিজেদের ভিশনের সঙ্গে জুড়ে দেখে।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা: সমকালীন রাজনৈতিক উপস্থিতি
১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি জন্ম প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রার। তিনি ভারতের নেহরু–গান্ধী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য এবং কংগ্রেস রাজনীতিতে শক্তিশালী প্রচারক ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত।
তাঁর জন্মদিনকে ঘিরে প্রায়ই যুবভিত্তিক রাজনৈতিক বার্তা, সংগঠন পুনর্গঠন এবং জনসংযোগ প্রচারণা দেখা যায়, যা সমকালীন ভারতীয় রাজনীতির জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে।
আফ্রিকা: জাঞ্জিবার বিপ্লব – রাতারাতি রাষ্ট্রযাত্রা বদলে যাওয়া
১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি জাঞ্জিবার দ্বীপপুঞ্জে শুরু হয় একটি সশস্ত্র বিদ্রোহ, যা ইতিহাসে Zanzibar Revolution নামে পরিচিত।
-
লক্ষ্য ছিল আরব সুলতানত ও তার সঙ্গে জড়িত সামাজিক–রাজনৈতিক বৈষম্যের অবসান ঘটানো।
-
কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সরকার ভেঙে পড়ে, বহু আরব ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষ নিহত বা বাস্তুচ্যুত হয়।
পরবর্তী মাসগুলোতে জাঞ্জিবার টাঙ্গানাইকার সঙ্গে একীভূত হয়ে গঠন করে যুক্ত তানজানিয়া প্রজাতন্ত্র, যা আজকের তানজানিয়ার ভিত্তি।
এই বিপ্লব দেখায়—দীর্ঘদিন জমে থাকা অর্থনৈতিক ও জাতিগত বৈষম্য কখনও হঠাৎ বিস্ফোরিত হতে পারে, আর বিপ্লবের পর রাষ্ট্রগঠন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভারসাম্য রক্ষা করা কত কঠিন চ্যালেঞ্জ।
ইউরোপ: অপারেশন ইস্ক্রা ও অবরুদ্ধ শহরের বাঁচার লড়াই

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক করুণ অধ্যায় হলো লেনিনগ্রাদ অবরোধ, যা ১৯৪১ থেকে ১৯৪৪ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি সোভিয়েত বাহিনী শুরু করে অপারেশন ইস্ক্রা—যার উদ্দেশ্য ছিল অবরুদ্ধ শহরের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের স্থলযোগ স্থাপন করা।
-
এই অবরোধে এক মিলিয়নেরও বেশি বেসামরিক মানুষ মারা যায়, অধিকাংশই ক্ষুধা, ঠান্ডা ও রোগে।
-
অপারেশন ইস্ক্রা পুরো ঘেরাও না ভাঙলেও শহরের জন্য খাদ্য ও সাহায্য যাওয়ার পথ খুলে দেয় এবং মানুষের মনোবল পুনর্গঠনের প্রতীক হয়ে ওঠে।
আজ যখন যুদ্ধের নীতি ও মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়, লেনিনগ্রাদ অবরোধের উদাহরণ সামনে আসে—অবরোধ কেবল সামরিক কৌশল নয়, তা এক ধরনের সম্মিলিত শাস্তি ও মানবিক বিপর্যয়। আর যেসব অভিযান সেই অবরোধ ভাঙে, সেগুলো রাষ্ট্রীয় স্মৃতিতে নৈতিক বিজয়ের উদাহরণ হিসেবে স্থান পায়।
আমেরিকা: সঙ্গীত বিপ্লব থেকে ভূমিকম্পের ধাক্কা
মোটাউন: ডেট্রয়েট থেকে বিশ্বসঙ্গীত
১৯৫৯ সালের শুরুতে ডেট্রয়েটের তরুণ উদ্যোক্তা বেরি গর্ডি একটি ছোট রেকর্ড কোম্পানিকে পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায় রূপ দিতে শুরু করেন, যা পরে Motown Records নামে বিশ্বখ্যাত হয়।
-
মোটাউন ছিল এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীরা নিজেদের গল্প, সুর ও ভাষা নিয়ে মূলধারার আমেরিকান পপ ও সোল সঙ্গীতে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিলেন।
-
“Hitsville U.S.A.” নামে পরিচিত স্টুডিওতে শিল্পীদের নিয়মিত ভোকাল ট্রেনিং, স্টেজ–প্রেজেন্টেশন, কোরিওগ্রাফি ও ইমেজ বিল্ডিং শেখানো হতো, যেন তারা বিশ্বমানের পারফর্মার হতে পারে।
মোটাউনের হাত ধরে মাইকেল জ্যাকসন, ডায়ানা রস, মারভিন গে, স্টিভি ওয়ান্ডারসহ অসংখ্য শিল্পী বিশ্বমঞ্চে উঠে আসেন। আজও যখন সংগীত–শিল্পে স্ট্রিমিং আয়, কপিরাইট, মাস্টার–অধিকার নিয়ে লড়াই হয়, তখন মোটাউন–মডেল আবার আলোচনায় আসে—করা কাজের মালিকানা ও লাভ আসলে কার হাতে থাকা উচিত, সেই প্রশ্নে।
হাইতি ভূমিকম্প ২০১০: নগর দুর্বলতার নির্মম পাঠ
২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি বিকেলে হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। কয়েক সেকেন্ডের কম্পনে পুরো শহর প্রায় ধসে পড়ে।
-
সরকারি বিভিন্ন হিসাবে, মৃত্যুর সংখ্যা দুই থেকে তিন লাখের মধ্যে ধরা হয়; কয়েক লাখ মানুষ আহত এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে।
-
প্রায় আড়াই লাখ আবাসিক ভবন ও কয়েক দশ হাজার বাণিজ্যিক স্থাপনা ধসে যায় বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হাইতির এই ভূমিকম্প দেখিয়ে দেয়—দুর্বল নির্মাণমান, অপরিকল্পিত নগরায়ন, অতিরিক্ত জনসংখ্যা ঘনত্ব ও দীর্ঘস্থায়ী দারিদ্র্য মিললে একটি প্রাকৃতিক কম্পন কত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা, দুর্নীতি, দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে নীতিগত ঘাটতি থাকলে ‘সাহায্য এসেছে’ আর ‘মানুষ টেকসইভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে’—এই দুই কথা এক নয়, সেটাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরবর্তী বছরগুলোতে হাইতি ভূমিকম্পকে দুর্যোগ–পরিচালনা, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ও নগর পরিকল্পনার ক্লাসে গুরুত্বপূর্ণ কেস স্টাডি হিসেবে পড়ানো হয়।
অন্য উল্লেখযোগ্য ঘটনা
-
১৬১৬ সালে ব্রাজিলের বেলেম শহর প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরে অ্যামাজন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
-
১৭২৩ সালে লন্ডনে জর্জ ফ্রিডেরিক হ্যান্ডেলের “Ottone” অপেরা প্রথম মঞ্চস্থ হয়, যা তখনকার ইউরোপীয় রাজদরবারের অপেরা–সংস্কৃতিকে আরও জনপ্রিয় করে।
-
১৯১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য আনীত একটি সংশোধনী বিল প্রতিনিধি পরিষদে পাস না হওয়ায় ব্যর্থ হয়; পরাজয় হলেও এই সংগ্রাম পরবর্তীতে ১৯২০ সালে নারী ভোটাধিকার অর্জনের পথ তৈরি করে।
-
১৯৯১ সালের ১২ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেস ইরাকের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়, যা অল্প সময়ের মধ্যেই গালফ যুদ্ধের সূচনায় পরিণত হয়।
জন্ম ও মৃত্যু: আরও কিছু নাম
উল্লেখযোগ্য জন্ম
-
জ্যাক লন্ডন (১৮৭৬) – “দ্য কল অব দ্য ওয়াইল্ড”–এর লেখক, যিনি শিল্পায়ন, শ্রেণি–বৈষম্য, অভিযাত্রা ও বেঁচে থাকার গল্প জনপ্রিয় ধারায় এনেছেন।
-
হারুকি মুরাকামি (১৯৪৯) – সমকালীন জাপানি কথাসাহিত্যের বিশ্বজনীন মুখ; তাঁর লেখায় একাকিত্ব, স্মৃতি, স্বপ্ন আর পপ–সংস্কৃতি একসঙ্গে মিশে থাকে।
-
জেফ বেজোস (১৯৬৪) – অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা; ই–কমার্স, ক্লাউড কম্পিউটিং ও লজিস্টিকস বদলে দেওয়া এক প্রভাবশালী উদ্যোক্তা, যিনি মহাকাশ উদ্যোগেও যুক্ত।
-
জায়ান মালিক (১৯৯৩) – ব্রিটিশ–পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত গায়ক; One Direction–এর সদস্য হিসেবে খ্যাতি পেয়ে পরে একক ক্যারিয়ারে আরঅ্যান্ডবি–ধারার পপ সাউন্ড জনপ্রিয় করেছেন।
উল্লেখযোগ্য মৃত্যু
-
পিয়ের দ্য ফার্মা (১৬৬৫) – ফরাসি গণিতবিদ; নাম্বার থিওরি ও বিশ্লেষণে তাঁর কাজ আধুনিক গণিতের ভিত্তি মজবুত করে, আর তাঁর “লাস্ট থিয়োরেম” শতাব্দীজুড়ে অমীমাংসিত ছিল।
-
আগাথা ক্রিস্টি (১৯৭৬) – রহস্য–উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী লেখিকা; তাঁর বই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি কপি বিক্রি হয়েছে এবং গোয়েন্দা সাহিত্যের ধারা তিনি নতুনভাবে গড়ে দিয়েছেন।
-
মরিস গিব্ব (২০০৩) – বিখ্যাত সঙ্গীতদল Bee Gees–এর সদস্য; ডিস্কো ও আধুনিক পপ–সাউন্ডের বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছেন।
-
লিসা মেরি প্রিসলি (২০২৩) – এলভিস প্রিসলির একমাত্র কন্যা, গায়িকা এবং রক অ্যান্ড রোল উত্তরাধিকার–বহনকারী এক সাংস্কৃতিক প্রতীক।
শেষকথা
১২ জানুয়ারি ইতিহাসে শেখায়—পরিবর্তন কখনও বিপ্লব হয়ে আসে, কখনও সংস্কৃতির সুরে গেয়ে ওঠে, আবার কখনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধ্বংসস্তূপে লুকিয়ে থাকে মানবতার পরীক্ষা।
এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সমাজ গড়ে ওঠে শুধু নেতাদের দ্বারা নয়, গড়ে ওঠে মানুষের কাজ, চিন্তা ও প্রতিদিনের সিদ্ধান্তের ধারায়।


