১৪ জানুয়ারি – ইতিহাসের এই দিনে – বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা, জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী

সর্বাধিক আলোচিত

১৪ জানুয়ারি এমন একটি দিন, যেখানে একই তারিখে দেখা যায় যুদ্ধ ও কূটনীতি, কৃষি ও উৎসব, রাজনীতির উত্থান-পতন থেকে শুরু করে মহাকাশ অভিযানের মতো বড় স্বপ্ন।

বাঙালি জীবনযাত্রায় এটি শীতের নরম রোদ, নবান্নের ঘ্রাণ, ঘুড়ির উৎসব আর পারিবারিক মিলনমেলার সময়, আর বিশ্বপরিসরে দেখা যায় রাজাদের বিয়ে, রাজ্যের পতন, শান্তিচুক্তি ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার গঠন।

সময়রেখা: ১৪ জানুয়ারির বড় কিছু ঘটনা

বিশ্ব ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনা

  • ১২৩৬ – ইংল্যান্ডের রাজা হেনরি তৃতীয় এলিনর অব প্রোভঁসকে বিয়ে করেন, যা রাজদরবারের জোট রাজনীতি ও ইউরোপীয় ক্ষমতার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে।

  • ১৩০১ – হাঙ্গেরির রাজা অ্যান্ড্রু তৃতীয়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হাঙ্গেরির আরপাদ রাজবংশের সমাপ্তি ঘটে এবং দেশটি উত্তরাধিকার সংকটে পড়ে।

  • ১৭৬১ – ভারতের পানিপথে আফগান দুররানি সাম্রাজ্যের আহমদ শাহ আবদালি ও মারাঠা শক্তির মধ্যে তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ হয়; এটি ১৮শ শতাব্দীর বৃহত্তম স্থলযুদ্ধগুলোর একটি এবং উত্তর ভারতের ক্ষমতার মানচিত্র বদলে দেয়।

  • ১৭৮৪ – মার্কিন কংগ্রেস ব্রিটেনের সঙ্গে প্যারিস চুক্তি অনুমোদন করে; এদিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রে Ratification Day বলা হয় এবং আমেরিকান স্বাধীনতা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হিসেবে ধরা হয়।

  • ১৭৯৭ – রিভোলির যুদ্ধে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের নেতৃত্বে ফরাসি বাহিনী অস্ট্রিয়ান বাহিনীকে পরাজিত করে; এর মাধ্যমে ইতালিতে ফরাসি প্রভাব প্রতিষ্ঠার পথ আরও প্রশস্ত হয়।

  • ১৮১৪ – কিয়েল চুক্তির মাধ্যমে ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডরিক ষষ্ঠ নরওয়ে-কে সুইডেনের রাজা চার্লস ত্রয়োদশের কাছে হস্তান্তর করেন; স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসে।

  • ১৮৫৮ – ইতালীয় সন্ত্রাসী ফেলিসে অরসিনি প্যারিসে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন তৃতীয়–এর ওপর বোমা হামলা চালালেও সম্রাট প্রাণে বেঁচে যান; ইউরোপে সন্ত্রাসবাদ, জাতীয়তাবাদ ও নিরাপত্তা নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়।

  • ১৯১৭ – পোল্যান্ডে একটি অস্থায়ী সংসদ (Provisional Parliament) গঠিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন পোলিশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

  • ১৯৪৩ – মরোক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের ঐতিহাসিক কাসাব্লাঙ্কা সম্মেলন শুরু হয়; এখানে মিত্রশক্তির পরবর্তী সামরিক কৌশল ও “unconditional surrender” নীতি নির্ধারিত হয়।

  • ১৯৪৩ – একই দিনে জাপান গাদালক্যানাল থেকে বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার অপারেশন (Operation Ke) শুরু করে, যা পরবর্তীতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধে শক্তির ভারসাম্য বদলে দেয়।

  • ২০০৫ – ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির হুইগেনস প্রোব শনি গ্রহের উপগ্রহ টাইটানে সফলভাবে অবতরণ করে; এটি পৃথিবীর বাইরে বহিঃগ্রহীয় কোনো উপগ্রহে মানবজাতির প্রথম অবতরণ।

  • ২০১১ – তিউনিসিয়ায় দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট জাইন আল আবিদিন বেন আলি গণআন্দোলনের মুখে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন; এই ঘটনা আরব বিশ্বে পরবর্তী গণবিক্ষোভ ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউ তৈরি করে।

বাঙালি ও উপমহাদেশীয় প্রেক্ষাপটে ১৪ জানুয়ারি

তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ: শক্তির ভারসাম্যের মোড়–ফেরানো দিন

১৭৬১ সালের ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধকে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক মহাগুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখা হয়।

মারাঠা সাম্রাজ্যের মূল বাহিনী এই যুদ্ধে বিধ্বস্ত হয়, তাদের উত্তরমুখী সম্প্রসারণ থেমে যায় এবং মুঘল–পরবর্তী ভারতে উদীয়মান আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন করে শক্তির হিসাব-নিকাশ শুরু হয়।

এর ফলে একদিকে মারাঠা প্রভাব কমে, অন্যদিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।

সূর্য, ফসল ও সংক্রান্তি: দক্ষিণ এশিয়ার বড় উৎসবগুচ্ছ

১৪ জানুয়ারি সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশকে সামনে রেখে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানা নামে উৎসব পালিত হয়। মৌলিক বিষয় তিনটি –

  • সূর্যের উত্তরায়ণ যাত্রা (Uttarayana)

  • ফসল তোলার সময় ও কৃষিজীবনের আনন্দ

  • নদীস্নান, দান–ধর্ম ও সামাজিক মিলনমেলা

বিভিন্ন অঞ্চলের নাম ও রীতি আলাদা হলেও দিনটির মৌলিক ভাব একই থাকে – প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক উদযাপন।

শাকরাইন, পৌষ সংক্রান্তি ও বাঙালির শীতের উৎসব

শাকরাইন, পৌষ সংক্রান্তি ও বাঙালির শীতের উৎসব

পুরান ঢাকার শাকরাইন

পুরান ঢাকায় ১৪ জানুয়ারি ঘিরে যে শাকরাইন উৎসব পালিত হয়, তা এখন ঢাকার নগর-সংস্কৃতির বিশেষ পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ছাদের পর ছাদে ঘুড়ি-ওড়ানো, ডোরকাটা লড়াই, “গ্যাছ!” চিৎকার আর বাঁশির শব্দ—পুরো এলাকা এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশে বদলে যায়।

  • সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় আতশবাজি, ফানুস, ডিজে মিউজিক, বিশেষ কাবাব-পোড়া মাংস–সহ নানা খাবারের আয়োজন থাকে।

শাকরাইন কোনো সরকারি ছুটি বা আনুষ্ঠানিক জাতীয় উৎসব নয়, তবু স্থানীয় মানুষের কাছে এটি শহরের স্মৃতি ও পরিচয়ের অংশ।

এ উৎসব দেখায় কীভাবে নগরবাসী নিজেরাই নিজেদের সংস্কৃতি তৈরি ও সংরক্ষণ করে, রাষ্ট্রীয় ঘোষণার বাইরে থেকেও।

পশ্চিমবঙ্গে পৌষ সংক্রান্তি ও পৌষ পার্বণ

পশ্চিমবঙ্গে ১৪ জানুয়ারি বা তার আশপাশের দিনগুলোতে পালিত হয় পৌষ সংক্রান্তি ও পৌষ পার্বণ।

  • গ্রামবাংলায় এই সময় ধান কাটা প্রায় শেষ হয়; নতুন চাল দিয়ে ঘরে ঘরে তৈরি হয় পিঠা–পুলি—চিতই, ভাপা, পাটিসাপ্টা, দুধপুলি, ক্ষীরের নানা পদ।

  • মন্দির ও আশ্রমকেন্দ্রিক মেলা বসে; লোকসংগীত, বাউলগান, কীর্তন, কবিগান–সহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকে।

  • শহরাঞ্চলে পিঠা উৎসব, ফুড ফেস্ট, বইমেলা বা মেলা–মেলাতেও এই উৎসবের ছোঁয়া দেখা যায়।

এই সব মিলিয়ে ১৪ জানুয়ারি ও আশেপাশের কিছুদিন বাঙালির জন্য হয়ে ওঠে “শীতের শেষ ভাগের আনন্দমুখর ফেস্টিভাল সিজন।”

দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ১৪ জানুয়ারির উৎসব

একই দিনকে কেন্দ্র করে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন নামে পালিত হয় উৎসবগুলোঃ

  • মকর সংক্রান্তি (ভারত) – গঙ্গা বা অন্যান্য পবিত্র নদীতে স্নান, তিল–গুড়ের মিষ্টি, ঘুড়ি উড়ানো ও দান–ধর্মের মাধ্যমে উদযাপন।

  • উত্তরায়ণ (গুজরাট, রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড) – বিশেষ করে গুজরাটে আন্তর্জাতিক আকর্ষণীয় kite festival, যেখানে দেশ–বিদেশ থেকে মানুষ এসে অংশ নেয়।

  • মাঘ বিহু (অসম) – আগের দিন উরুকা ভোজ, আজকের দিন ফসলের আনন্দ, গৃহস্থালি পূজা ও গ্রামীণ ফুর্তি।

  • মাঘে সংক্রান্তি (নেপাল) – নদীস্নান, তিল–লাড্ডু, ঘি–চিড়া ও শীতকালীন খাবার খাওয়া, যা স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক।

  • মাঘি (পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ) – শিখ ঐতিহ্যে শহীদ সেনাদের স্মরণ, পাশাপাশি গুরদুয়ারায় ধর্মীয় আচার ও লঙ্গর।

  • পোঙ্গাল (তামিলনাড়ু) – ফসল উৎসবের মূল দিন; নতুন চাল, দুধ ও গুড় দিয়ে পোঙ্গাল রান্না করে সূর্যদেব ও গৃহদেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদন।

এই বৈচিত্র্যময় উৎসবগুলো দেখায়, একই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা—সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশ—কীভাবে বিভিন্ন ভাষা, খাদ্য ও রীতির ভেতর দিয়ে ভিন্ন রূপে প্রকাশ পায়।

আন্তর্জাতিক দিবস, জাতীয় দিবস ও উৎসব

বিশ্ব লজিক দিবস (World Logic Day)

১৪ জানুয়ারি পালিত হয় বিশ্ব লজিক দিবস, যার লক্ষ্য –

  • যুক্তিবিদ্যা, গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও দর্শনে লজিকের গুরুত্ব তুলে ধরা

  • সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, তথ্য যাচাই ও প্রমাণ–ভিত্তিক আলোচনা উৎসাহিত করা

এই দিনটি একদিকে কার্ট গ্যোডেল–এর মতো বিশিষ্ট লজিশিয়ানের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে আধুনিক যুগে ভুয়া খবর ও ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে যুক্তিনিষ্ঠ চিন্তার প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

জাতীয় ও আঞ্চলিক দিবসসমূহ

কিছু উল্লেখযোগ্য উদযাপন হলোঃ

  • Defender of the Motherland Day (উজবেকিস্তান) – জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠার স্মরণে উদযাপিত দিন।

  • Flag Day (জর্জিয়া) – রাষ্ট্রের পতাকা ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক উদযাপনের দিন।

  • National Forest Conservation Day (থাইল্যান্ড) – বন সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষার ওপর সচেতনতা বৃদ্ধির দিন।

  • Old New Year – জুলিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহারকারী কিছু অর্থডক্স খ্রিস্টানপ্রধান দেশে এই দিনে পুরোনো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নতুন বছর পালন করা হয়; পরিবারে ভোজ, প্রার্থনা ও ছোট পরিসরের উৎসব হয়।

  • বিভিন্ন পপ–কালচারাল পর্যবেক্ষণ তালিকায় ১৪ জানুয়ারিকে Diary Day, Dress Up Your Pet Day, National Undhiyu Day, Ratification Day–এর মতো মজাদার থিমযুক্ত দিন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বিবিধ “আজকের দিনে”

  • ১৬৯০ সালের আশেপাশে ক্লারিনেট নামের সুরযন্ত্রের আবিষ্কারের উল্লেখ ১৪ জানুয়ারি দিনটির সঙ্গে যুক্ত থাকে; এটি পশ্চিমা ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক অর্কেস্ট্রায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে।

  • ১৭২৪ সালে স্পেনের রাজা পঞ্চম ফিলিপ সিংহাসনত্যাগ করেন, যা স্পেনের রাজবংশীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

  • আধুনিক যুগে এই দিনে নানান আবিষ্কার, জাহাজ উদ্বোধন, সামরিক জাহাজ নামকরণ, এমনকি অ্যান্টার্কটিকায় কিছু ভূখণ্ড দাবির ঘটনাও লিপিবদ্ধ রয়েছে।

জন্মদিন: ১৪ জানুয়ারিতে জন্ম নেওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি

বিশ্ব ইতিহাসের নানা সময়ের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্মদিন ১৪ জানুয়ারির সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ

নাম জন্ম সাল পরিচিতি
জেমস গ্যারার্ড ১৭৪৯ আমেরিকান কৃষক, ব্যাপটিস্ট মন্ত্রী ও কেন্টাকির গবর্নর
জর্জ পিয়ার্স ১৮৭০ অস্ট্রেলীয় রাজনীতিক, দীর্ঘসময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী
আলবার্ট শোয়াইটজার ১৮৭৫ চিকিৎসক, দার্শনিক, অর্গানবাদক ও নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মানবতাবাদী
ইউকিও মিশিমা ১৯২৫ জাপানের প্রভাবশালী আধুনিক লেখক ও নাট্যকার
মহাশ্বেতা দেবী ১৯২৬ ভারতীয় সাহিত্যিক, দলিত ও আদিবাসী অধিকারের সংগ্রামী কণ্ঠস্বর
ফে ডানাওয়ে ১৯৪১ অস্কারজয়ী আমেরিকান অভিনেত্রী
হাওয়ার্ড স্টার্ন ১৯৫৪ স্পষ্টভাষী রেডিও ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব
এমিলি ওয়াটসন ১৯৬৭ ব্রিটিশ চলচ্চিত্র ও মঞ্চ অভিনেত্রী
এল এল কুল জে ১৯৬৮ হিপ–হপ সংগীতশিল্পী, অভিনেতা ও টেলিভিশন উপস্থাপক
ডেভ গ্রোল ১৯৬৯ রক ব্যান্ড ফু ফাইটার্স–এর ফ্রন্টম্যান, Nirvana–এর সাবেক ড্রামার
জেসন বেটম্যান ১৯৬৯ আমেরিকান অভিনেতা ও পরিচালক
এই তালিকা থেকে বোঝা যায়, ১৪ জানুয়ারি একইসঙ্গে সাহিত্য, রাজনীতি, সংগীত, চলচ্চিত্র ও মানবসেবার প্রতিনিধিদের জন্মদিন বহন করে।

মৃত্যুবার্ষিকী: স্মৃতিতে ১৪ জানুয়ারি

১৪ জানুয়ারি বহু গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ, শিল্পী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনও বটে।

নাম মৃত্যু সাল পরিচিতি
জর্জ বার্কলে ১৭৫৩ আইরিশ দার্শনিক, যিনি অভিজ্ঞতাবাদী আদর্শবাদ বা Berkeleyan idealism–এর জন্য পরিচিত
ফ্রেডরিক V ১৭৬৬ ডেনমার্ক ও নরওয়ের রাজা
জ্যঁ–অগুস্ত–দোমিনিক অগ্র ১৮৬৭ ফরাসি চিত্রকর, ক্ল্যাসিক্যাল স্টাইলের জন্য প্রসিদ্ধ
চার্লস হেরমিট ১৯০১ ফরাসি গণিতবিদ, বিশেষত Hermite polynomial–এর প্রবর্তক
আর্নস্ট আব্বে ১৯০৫ জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ও অপটিক্স বিশেষজ্ঞ
হামফ্রে বোগার্ট ১৯৫৭ হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা, “Casablanca”–সহ বহু ছবিতে অভিনয়
অ্যান্থনি ইডেন ১৯৭৭ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, সুয়েজ সংকট–কালের ভূমিকার জন্য পরিচিত
কার্ট গ্যোডেল ১৯৭৮ অস্ট্রিয়ান–আমেরিকান যুক্তিবিদ, incompleteness theorem–এর জন্য বিশ্বখ্যাত
অ্যালান রিকম্যান ২০১৬ ব্রিটিশ অভিনেতা, চরিত্রাভিনয়ের অসামান্য দক্ষতার জন্য খ্যাত
গ্যোডেল ও লুইস ক্যারলের মতো মনীষীদের কারণে ১৪ জানুয়ারি একদিকে লজিক ও গণিতের, অন্যদিকে কল্পনা ও গল্প বলারও প্রতীকী দিন হয়ে ওঠে।

শেষকথা

১৪ জানুয়ারি প্রমাণ করে, ক্যালেন্ডারের একটি দিন কখনো শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি একসাথে ফসল কাটার আনন্দ, ঘুড়ি উৎসবের উচ্ছ্বাস, যুদ্ধ–কূটনীতির উত্তেজনা আর মহাকাশ অভিযানের বিস্ময় বহন করতে পারে।

একই তারিখে কেউ নদীতে পুণ্যস্নান করে নতুন সূর্যকে স্বাগত জানায়, কেউ পুরান ঢাকার ছাদে ঘুড়ি উড়িয়ে হাসি ছড়ায়, আবার কোথাও রাষ্ট্র ভেঙে নতুন রাষ্ট্র গড়ে, কোনো শাসক ক্ষমতা হারায়, কোনো জাতি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়।

১৪ জানুয়ারির গল্প তাই শেখায়—ইতিহাস একক নয়, বহুস্বরের; একই দিনে বিজয় ও পরাজয়, উদযাপন ও প্রতিবাদ, সৃষ্টিশীলতা ও ধ্বংস সবই পাশাপাশি থাকতে পারে।

এই কারণেই “আজকের দিন” ধরনের লেখা কেবল তথ্যের তালিকা নয়; প্রতি বছর একই তারিখ ফিরে এলে আমরা নতুন চোখে দেখি, নতুন প্রশ্ন করি, আর নতুনভাবে বুঝতে চেষ্টা করি—আমাদের সময়, আমাদের সমাজ, আর আমাদের নিজেদের অবস্থান এই দীর্ঘ ইতিহাসের ভেতরে কোথায়।

সর্বশেষ