আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট বা ব্লগে হাজার হাজার প্রোডাক্ট কিংবা আর্টিকেল থাকা খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। কিন্তু গুগলে সার্চ করলে যদি তার অর্ধেকের বেশি খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে বুঝতে হবে সাইটের নেভিগেশন কাঠামোতে বড় কোনো কারিগরি ত্রুটি রয়েছে।
অনেক বেশি কনটেন্ট এক পেজে দেখানো কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে ডেভেলপাররা সাধারণত পেজিনেশন অথবা ইনফিনিট স্ক্রল পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিংয়ের জন্য এই ফিচারগুলো বেশ সুবিধাজনক হলেও, সার্চ ইঞ্জিন বটের কাছে এগুলো প্রায়ই গোলকধাঁধার মতো আচরণ করে। গুগল বট সাইটের ভেতরের পেজগুলোতে পৌঁছাতে না পারলে গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্ট কখনোই ইনডেক্স হয় না।
ফলে মানসম্মত কনটেন্ট থাকা সত্ত্বেও ওয়েবসাইটটি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্গানিক ট্রাফিক আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। ওয়েবসাইটের এসইও কাঠামো ঠিক রাখতে এবং ক্রলিং সমস্যা সম্পূর্ণরূপে এড়াতে এই কারিগরি নিয়মগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। এই নিবন্ধে আমরা গুগল সার্চের সর্বশেষ তথ্য এবং বাস্তব এসইও গাইডলাইন অনুসরণ করে এই সমস্যাগুলোর বিস্তারিত সমাধান আলোচনা করব।
পেজিনেশন যেভাবে ওয়েবসাইটের এসইও কাঠামোতে কারিগরি সমস্যা তৈরি করে
ক্রল ডেপথ বেড়ে যাওয়া এবং ইনডেক্সিং বাধাগ্রস্ত হওয়া
গুগল বট সাধারণত ওয়েবসাইটের হোমপেজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন লিঙ্কে প্রবেশের মাধ্যমে ভেতরের পেজগুলো স্ক্যান করে থাকে। আপনার ওয়েবসাইটে যদি কয়েকশ বা হাজার হাজার পেজ থাকে, তবে বটকে প্রতিটি পেজে যাওয়ার জন্য বারবার নেক্সট বাটনের লিঙ্কে প্রবেশ করতে হয়। হোমপেজ থেকে ভেতরের দিকের কোনো পেজের দূরত্ব যত বেশি হতে থাকে, সার্চ ইঞ্জিনের কাছে সেই নির্দিষ্ট পেজটির গুরুত্ব তত দ্রুত কমতে শুরু করে।
একটি আদর্শ ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী বা বট যেন সর্বোচ্চ তিন থেকে চারটি ক্লিকের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত পেজে পৌঁছাতে পারে, সেই ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি। পেজিনেশনের সংখ্যা অনেক বেশি হলে গুগল বট শেষ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই ক্রল করা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে। ফলস্বরূপ পেজিনেশনের শেষের দিকের পেজগুলোতে থাকা অতি গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টগুলো ইনডেক্স হওয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়ে যায়।
সার্চ ইঞ্জিন বুঝতে পারে না যে ওই নির্দিষ্ট পেজগুলোতে নতুন বা মানসম্মত কোনো তথ্য রয়েছে কি না। এভাবেই অতিরিক্ত পেজিনেশন ওয়েবসাইটের ক্রল ডেপথ অযথাই বাড়িয়ে দেয় এবং সার্বিক এসইও পারফরম্যান্সের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। সঠিক নেভিগেশন না থাকলে সাইটের শতভাগ কনটেন্ট সার্চ রেজাল্টে নিয়ে আসা কখনোই সম্ভব হয় না।
ক্রল বাজেটের অপচয় এবং নতুন কনটেন্ট আড়ালে থাকা

প্রতিটি ওয়েবসাইটের আকার এবং জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে গুগল একটি নির্দিষ্ট ক্রল বাজেট বরাদ্দ করে থাকে। এই ক্রল বাজেট বলতে বোঝায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সার্চ ইঞ্জিন বট আপনার ওয়েবসাইটের ঠিক কতগুলো পেজ পরিদর্শন করবে। পেজিনেশনের কাঠামো ঠিক না থাকলে গুগল বট একই ক্যাটাগরির একাধিক পেজে বারবার ঘুরে বেড়াতে পারে এবং অযথাই নিজের বরাদ্দকৃত সময় নষ্ট করে ফেলে।
এর ফলে ওয়েবসাইটে নতুন প্রকাশিত হওয়া ব্লগ পোস্ট বা প্রোডাক্টগুলো ইনডেক্স হওয়ার সুযোগ থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বঞ্চিত হয়, কারণ বটের কাছে তখন নতুন পেজে যাওয়ার মতো আর কোনো ক্রল বাজেট অবশিষ্ট থাকে না। ডেভেলপাররা যদি পেজিনেশন লিঙ্কের ক্ষেত্রে সঠিক নির্দেশিকা ব্যবহার না করেন, তবে এই অপচয় প্রতিনিয়তই ঘটতে থাকে।
বিশেষ করে বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে এটি একটি নিয়মিত সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। সঠিক ইউআরএল প্যারামিটার এবং লিঙ্কিং ব্যবস্থা না থাকলে ক্রল বাজেটের অপচয় ঠেকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাই পেজিনেশনের ক্ষেত্রে ক্রল বাজেট বাঁচানো এবং নতুন কনটেন্ট দ্রুত গুগলে যুক্ত করার কৌশলগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রয়োগ করতে হয়।
ডুপ্লিকেট কনটেন্টের বিভ্রান্তি এবং র্যাঙ্কিং পতন
পেজিনেশনের ফলে তৈরি হওয়া প্রতিটি পেজকে সার্চ ইঞ্জিন আলাদা পেজ হিসেবে বিবেচনা করে, কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় পেজ এক, পেজ দুই এবং পেজ তিন—সবগুলোর মেটা টাইটেল এবং মেটা ডেসক্রিপশন হুবহু একই রাখা হয়েছে। গুগলের চোখে একই টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন থাকা মানেই হলো সেগুলো ডুপ্লিকেট কনটেন্ট বা অনুলিপি। যখন একাধিক পেজের মূল বিষয়বস্তু এবং মেটা ট্যাগ একই রকম হয়, তখন ব্যবহারকারীর সার্চের ফলাফলে কোন পেজটিকে সামনে আনা উচিত, তা নিয়ে সার্চ ইঞ্জিন মারাত্মক বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়।
এই ডুপ্লিকেট কনটেন্টের সমস্যার কারণে অনেক সময় মূল পেজটিও তার কষ্টার্জিত র্যাঙ্কিং হারাতে পারে। সার্চ ইঞ্জিন তখন কোনো পেজকেই আর গুরুত্ব দেয় না এবং পুরো ক্যাটাগরির ট্রাফিক একদম কমে যায়। এ ছাড়া প্রতিটি পেজে একই ধরনের হেডিং ট্যাগ থাকলে সেটি এসইও-এর মৌলিক নিয়মগুলোর পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়।
তাই প্রতিটি পেজিনেশন পেজের জন্য আলাদা মেটা টাইটেল ব্যবহার করা উচিত, যেমন টাইটেলের সাথে পেজ নম্বর যুক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। এই ছোট পরিবর্তনটি সার্চ ইঞ্জিনকে বুঝতে সাহায্য করে যে পেজগুলো একে অপরের অনুলিপি নয়, বরং একটি দীর্ঘ তালিকার আলাদা আলাদা অংশ।
ইনফিনিট স্ক্রল এবং গুগলের ক্রলিং বাধা
গুগল বট মানুষের মতো স্ক্রল করতে পারে না
ইনফিনিট স্ক্রল ডিজাইন প্যাটার্ন ব্যবহারকারীদের জন্য বিরতিহীনভাবে কনটেন্ট দেখার দারুণ সুযোগ তৈরি করে, কারণ তাদের কোনো নির্দিষ্ট বাটনে ক্লিক করতে হয় না। ব্যবহারকারী মাউস বা আঙুল দিয়ে স্ক্রল করে নিচে নামতে থাকলে নতুন কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে লোড হতে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে এই পদ্ধতির ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়, কারণ এটি ব্যবহারকারীদের লম্বা সময় ধরে সাইটে আটকে রাখতে সাহায্য করে।
কিন্তু এসইও-এর দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো, গুগল বট সাধারণ মানুষের মতো ওয়েবসাইটে ঢুকে মাউস স্ক্রল করতে পারে না বা নিচে নামার চেষ্টা করে না। বট যখন কোনো পেজে প্রথম প্রবেশ করে, তখন স্ক্রিনে যতটুকু অংশ প্রাথমিকভাবে লোড হয় বা এইচটিএমএল ফাইলে উপস্থিত থাকে, বট কেবল ততটুকুই দেখতে বা পড়তে পারে।
যদি ইনফিনিট স্ক্রল শুধুমাত্র জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে তৈরি করা থাকে এবং পেজের নিচের দিকের কনটেন্টগুলোর জন্য আলাদা কোনো স্ট্যাটিক ইউআরএল না থাকে, তবে বটের কাছে সেই কনটেন্টগুলো চিরকাল অদৃশ্যই থেকে যাবে। এর ফলে স্ক্রলের নিচে থাকা হাজার হাজার প্রোডাক্ট বা আর্টিকেল গুগলের ইনডেক্সে যুক্ত হতে পারে না এবং সাইটের অর্গানিক ট্রাফিক ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
ইউআরএল পরিবর্তন না হওয়ার কারণে বুকমার্কিং ও শেয়ারিং সমস্যা
ইনফিনিট স্ক্রলের আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হয় যখন ব্যবহারকারীরা বিশাল কনটেন্টের তালিকা ধরে স্ক্রল করতে থাকেন, কিন্তু ব্রাউজারের ইউআরএল একই থেকে যায়। অনেক সময় ব্যবহারকারী হয়তো নিচে স্ক্রল করতে করতে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোডাক্ট বা আর্টিকেল খুঁজে পান যা তিনি পরে দেখার জন্য বুকমার্ক করতে চান। কিন্তু যেহেতু পেজের ঠিকানা বা ইউআরএল পরিবর্তন হয়নি, তাই বুকমার্ক করা লিঙ্কটি পুনরায় খুললে তাকে আবার একেবারে ওপরের দিক থেকে শুরু করতে হয়।
একই সমস্যা দেখা দেয় যখন কেউ নির্দিষ্ট একটি সেকশনের লিঙ্ক অন্য কারও সাথে শেয়ার করতে চান, কারণ শেয়ার করা লিঙ্কে প্রবেশ করলে প্রাপক সেই নির্দিষ্ট সেকশনটি আর দেখতে পান না। এই ধরনের সমস্যা ইউজার এক্সপেরিয়েন্সকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সার্চ ইঞ্জিনের বটও নির্দিষ্ট ইউআরএল ছাড়া আলাদা সেকশনগুলোকে আলাদাভাবে চিনতে পারে না। তাই ইনফিনিট স্ক্রল ব্যবহার করলেও ব্যবহারকারী স্ক্রল করার সাথে সাথে যেন ইউআরএল পরিবর্তিত হয়, সেই কারিগরি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এটি না হলে ব্যবহারকারী যেমন হতাশ হন, তেমনি সার্চ ইঞ্জিনও সাইটের সঠিক গঠন বুঝতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়।
এসইও-বান্ধব পেজিনেশন তৈরির সঠিক নিয়ম
সঠিক এইচটিএমএল লিঙ্ক এবং অ্যাঙ্কর ট্যাগের ব্যবহার
গুগল বট জাভাস্ক্রিপ্ট ইভেন্ট বা বাটনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করার চেয়ে সাধারণ এইচটিএমএল লিঙ্ক অনেক ভালোভাবে বুঝতে এবং অনুসরণ করতে পারে। পেজিনেশনের প্রতিটি নম্বর বা নেক্সট এবং প্রিভিয়াস বাটনে অবশ্যই সাধারণ অ্যাঙ্কর ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে। এই অ্যাঙ্কর ট্যাগের ভেতরে এইচরেফ অ্যাট্রিবিউট যুক্ত করে সেখানে গন্তব্য পেজের সঠিক ঠিকানা বসাতে হবে।
কোনোভাবেই জাভাস্ক্রিপ্টের অনক্লিক ইভেন্ট ব্যবহার করে পেজিনেশন তৈরি করা উচিত নয়, কারণ সার্চ ইঞ্জিন বট সাধারণত জাভাস্ক্রিপ্টের এই ধরনের ইভেন্টগুলোকে ক্লিক করে যাচাই করতে পারে না। সঠিক লিঙ্কিং কাঠামো তৈরি করলে বট সহজেই এক পেজ থেকে অন্য পেজে যাতায়াত করতে পারে এবং পেজিনেশনের ধারাবাহিকতা বুঝতে পারে।
গুগল সার্চ সেন্ট্রাল গাইডলাইনেও এই বিষয়টি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি সাইট তৈরির জন্য এইচটিএমএল লিঙ্কের কোনো বিকল্প নেই। তাই ডেভেলপারদের উচিত পেজিনেশন ডিজাইনের সময় বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এসইও নিয়মটি কঠোরভাবে মেনে চলা। এটি নিশ্চিত করলে সাইটের ভেতরের পেজগুলোর ইনডেক্সিং প্রক্রিয়া অনেকটাই নিরবচ্ছিন্ন হয়।
আরও পড়ুন: Technical SEO Audit কোথা থেকে শুরু করবেন: ধাপে ধাপে পূর্ণ গাইড
প্রতিটি পেজের জন্য আলাদা ইউআরএল প্যারামিটার নির্ধারণ
পেজিনেশনের প্রতিটি পেজের একটি নিজস্ব এবং স্বতন্ত্র ইউআরএল থাকতে হবে, যাতে সার্চ ইঞ্জিন প্রতিটি পেজকে আলাদাভাবে চিনতে এবং ইনডেক্স করতে পারে। ইউআরএল প্যারামিটার ব্যবহার করে এই কাজটি করা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, মূল পেজের ঠিকানার শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং পেজ নম্বর যুক্ত করে একটি ডায়নামিক ইউআরএল তৈরি করা যেতে পারে।
কোনোভাবেই ইউআরএল পরিবর্তন না করে শুধুমাত্র জাভাস্ক্রিপ্টের মাধ্যমে নতুন কনটেন্ট লোড করা এসইও-এর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ছাড়া ইউআরএলের মধ্যে হ্যাশ চিহ্ন ব্যবহার করে পেজিনেশন বোঝানোর চেষ্টা করাও ভুল, কারণ সার্চ ইঞ্জিন সাধারণত হ্যাশ চিহ্নের পরের অংশটুকু সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে যায়। তাই প্রতিটি পেজের জন্য পরিষ্কার এবং ডিরেক্টরি কাঠামো বা প্যারামিটারভিত্তিক ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে।
এতে করে গুগলের পাশাপাশি অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনও সহজেই পেজিনেশনের পুরো সিরিজটি সঠিকভাবে বুঝতে পারে। সঠিক ইউআরএল কাঠামো সাইটের এসইও স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং সার্চ ইঞ্জিনের কাছে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশাল ভূমিকা পালন করে থাকে।
সেলফ-রেফারেঞ্জিং ক্যানোনিকাল ট্যাগ যুক্ত করা
ওয়েবসাইটের পেজিনেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে এসইও ভুলটি দেখা যায়, তা হলো সবগুলো পেজ থেকে ক্যানোনিকাল ট্যাগ দিয়ে শুধুমাত্র প্রথম পেজটিকে মূল পেজ হিসেবে নির্দেশ করা। ডেভেলপাররা অনেক সময় ডুপ্লিকেট কনটেন্টের ভয়ে এই কাজটি করে থাকেন, যা সম্পূর্ণ ভুল একটি পদ্ধতি। পেজিনেশনের ক্ষেত্রে ক্যানোনিকাল ট্যাগ সবসময় সেলফ-রেফারেঞ্জিং বা আত্ম-নির্দেশক হতে হবে।
এর মানে হলো, পেজ দুইয়ের ক্যানোনিকাল ট্যাগ অবশ্যই পেজ দুইয়ের ঠিকানাকেই নির্দেশ করবে এবং পেজ তিনের ক্যানোনিকাল ট্যাগ পেজ তিনের ঠিকানাকেই নির্দেশ করবে। প্রথম পেজটি শুধুমাত্র তার নিজের ক্যানোনিকাল ট্যাগ ধারণ করবে। সার্চ ইঞ্জিনকে এটি বোঝানো জরুরি যে পেজিনেশনের প্রতিটি পেজ একটি বৃহত্তর সিরিজের অংশ হলেও এরা প্রত্যেকেই আলাদা এবং স্বতন্ত্র পেজ।
এই নিয়মটি মেনে চললে গুগল প্রতিটি পেজের মূল্য সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারে এবং ডুপ্লিকেট কনটেন্ট হিসেবে বাতিল করে দেয় না। ক্যানোনিকাল ট্যাগের এই সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সাইটের ভেতরের পেজগুলোর অর্গানিক ভিজিবিলিটি বা দৃশ্যমানতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।
নো-ইনডেক্স ট্যাগ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং মূল পেজকে র্যাঙ্ক করানো
অনেকে মনে করেন পেজিনেশনের দ্বিতীয় বা তৃতীয় পেজগুলো সার্চ ইঞ্জিনে চলে এলে তা মূল পেজের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে পারে, তাই তারা ওই পেজগুলোতে নো-ইনডেক্স ট্যাগ বসিয়ে দেন। এটি একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত, কারণ নো-ইনডেক্স ট্যাগ ব্যবহার করলে গুগল ওই পেজগুলোকে ইনডেক্স করা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়।
এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসেবে ওই পেজগুলোতে থাকা প্রোডাক্ট বা আর্টিকেলের লিঙ্কগুলোও বটের ক্রলিং থেকে চিরতরে বাদ পড়ে যেতে পারে। এর বদলে পেজগুলোকে স্বাভাবিকভাবে ক্রল ও ইনডেক্স হতে দিতে হবে। গুগল নিজেই বুঝতে পারে যে এগুলো একটি পেজিনেটেড সিরিজ এবং সাধারণত সার্চ রেজাল্টে তারা প্রথম পেজটিকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
পেজিনেশনের পেজগুলোকে মূল পেজের সাথে প্রতিযোগিতা থেকে দূরে রাখতে চাইলে সেগুলোর মেটা টাইটেল এবং ডেসক্রিপশনকে সাধারণ এবং কম অপ্টিমাইজ করে রাখা যেতে পারে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র প্রথম পেজটিতেই প্রধান কিওয়ার্ডগুলো টার্গেট করে অপ্টিমাইজেশন করতে হবে। এভাবেই প্রথম পেজটিকে সার্চ রেজাল্টে র্যাঙ্ক করানো সম্ভব এবং ভেতরের পেজগুলোর ইনডেক্সিংও নিরাপদ থাকে।
ইনফিনিট স্ক্রলকে এসইও-বান্ধব করার কারিগরি উপায়
হিস্ট্রি এপিআই ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় ইউআরএল পরিবর্তন
ওয়েবসাইটের ডিজাইন বা ইউজার এক্সপেরিয়েন্সের কারণে যদি ইনফিনিট স্ক্রল রাখাটা একেবারে বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে, তবে এটিকে এসইও-ফ্রেন্ডলি ইনফিনিট স্ক্রলে রূপান্তর করতে হবে। এর জন্য ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে পরিবর্তনটি আনতে হয়, তা হলো হিস্ট্রি এপিআই-এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। ব্যবহারকারী যখন স্ক্রল করে নিচের দিকে নামতে থাকেন এবং নতুন কনটেন্ট পেজে লোড হতে থাকে, ঠিক সেই মুহূর্তে ব্রাউজারের ইউআরএল বারেও ঠিকানার স্বয়ংক্রিয় পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।
এইচটিএমএল ফাইভ-এর পুশ-স্টেট পদ্ধতি ব্যবহার করে এই ডায়নামিক ইউআরএল পরিবর্তনের কাজটি খুব সহজেই করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, একজন ভিজিটর যখন প্রথম বিশটি প্রোডাক্ট দেখার পর স্ক্রল করে একুশ নম্বর প্রোডাক্টে পৌঁছাবেন, তখন পেজটি রিলোড না হয়েই ইউআরএল পরিবর্তিত হয়ে পেজ দুই-এর ঠিকানায় রূপান্তরিত হয়ে যাবে।
এর ফলে ব্যবহারকারী যেমন বর্তমান পেজটিকে বুকমার্ক করতে পারবেন, তেমনি সার্চ ইঞ্জিনও ভিন্ন ভিন্ন ইউআরএলের মাধ্যমে পেজের বিভিন্ন অংশকে আলাদা করে চিনতে পারবে। এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনটি ইনফিনিট স্ক্রলের সবচেয়ে বড় এসইও সীমাবদ্ধতা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর একটি সমাধান হিসেবে কাজ করে।
জাভাস্ক্রিপ্ট বন্ধ থাকলেও পেজিনেটেড ফলব্যাক ব্যবস্থা রাখা
ইনফিনিট স্ক্রলকে এসইও-বান্ধব করার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো একটি পেজিনেটেড ফলব্যাক ব্যবস্থা বা বিকল্প কাঠামো তৈরি করে রাখা। এর মানে হলো, যদি কোনো কারণে ব্যবহারকারীর ব্রাউজারে জাভাস্ক্রিপ্ট বন্ধ থাকে অথবা গুগল বট যদি স্ক্রল করতে ব্যর্থ হয়, তবুও যেন সাইটের কনটেন্টগুলো দেখা যায় বা পড়া যায়।
সহজ কথায়, ইনফিনিট স্ক্রলের বাইরের সুন্দর আবরণের পেছনে সার্ভার প্রান্তে একটি সাধারণ পেজিনেশন সিস্টেম সবসময় সচল থাকবে। যখন গুগল বট সরাসরি পেজ দুই বা পেজ তিনের ইউআরএলে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন জাভাস্ক্রিপ্টের কোনো রকম সাহায্য ছাড়াই ওই পেজের নির্দিষ্ট প্রোডাক্টগুলো সরাসরি ক্রল করতে পারে।
এই ফলব্যাক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে বটের ক্রলিং প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা সৃষ্টি হয় না এবং সাইটের শতভাগ কনটেন্ট ইনডেক্স হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ওয়েব ডেভেলপারদের উচিত ইনফিনিট স্ক্রল বাস্তবায়নের সময় এসইও বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে এই দ্বৈত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এটি না থাকলে সার্চ ইঞ্জিনের চোখে সাইটের বিশাল একটি অংশ চিরকাল অদৃশ্য থেকে যাওয়ার চরম ঝুঁকি থাকে।
পেজিনেশন নাকি ইনফিনিট স্ক্রল: আপনার ওয়েবসাইটের জন্য কোনটি উপযুক্ত?
ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য পেজিনেশনের কার্যকারিতা
এসইও গাইডলাইন এবং ব্যবহারকারীদের সার্বিক অভিজ্ঞতার কথা গভীরভাবে বিবেচনা করলে, ই-কমার্স ওয়েবসাইটের জন্য পেজিনেশন পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ এবং কার্যকর। ই-কমার্স সাইটে ক্রেতারা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু খুঁজেন এবং তারা অনেক সময় মনে রাখতে চান যে তারা তিন বা চার নম্বর পেজে একটি পছন্দসই প্রোডাক্ট দেখেছিলেন।
পরবর্তীতে সেই প্রোডাক্টটি খুঁজে পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পেজ নম্বরে ফিরে যাওয়া তাদের জন্য অনেক বেশি সহজ হয়। ইনফিনিট স্ক্রল ব্যবহার করলে একবার নিচে চলে যাওয়ার পর সেই পুরোনো প্রোডাক্টটি পুনরায় স্ক্রল করে খুঁজে বের করা ক্রেতাদের জন্য অত্যন্ত বিরক্তিকর ও কঠিন একটি কাজ হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া হাজার হাজার প্রোডাক্ট এক পেজে লোড হওয়ার কারণে ই-কমার্স সাইটের লোডিং স্পিড ভয়াবহভাবে কমে যেতে পারে, যা সরাসরি বিক্রি কমার কারণ হতে পারে।
পেজিনেশন পদ্ধতি সাইটের লোডিং স্পিড যেমন নিয়ন্ত্রণে রাখে, তেমনি সার্চ ইঞ্জিনকেও হাজার হাজার প্রোডাক্ট সুন্দরভাবে ক্রল করার সুযোগ করে দেয়। তাই যেকোনো মাঝারি বা বড় আকারের ই-কমার্স সাইটের জন্য পেজিনেশন পদ্ধতিকেই আদর্শ এবং নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সোশ্যাল মিডিয়া বা ইমেজ গ্যালারিতে ইনফিনিট স্ক্রলের সুবিধা
এমন অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য থাকে না, তারা শুধু সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে বা নতুন কিছু দেখার আশায় কনটেন্ট ব্রাউজ করে থাকেন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, পিন্টারেস্টের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বা বিভিন্ন ছবিভিত্তিক ওয়েবসাইটগুলো এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। এই ধরনের সাইটগুলোর মূল উদ্দেশ্য থাকে ব্যবহারকারীকে কোনো ধরনের বিরতি বা বাধা ছাড়াই লম্বা সময়ের জন্য স্ক্রিনের সামনে আটকে রাখা।
এসব ক্ষেত্রে ইনফিনিট স্ক্রল জাদুর মতো কাজ করে, কারণ নেক্সট বাটনে ক্লিক করার মতো কোনো বাধা না থাকায় ব্যবহারকারীরা অবচেতনভাবেই নিচের দিকে স্ক্রল করতে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিটি ফিড আইটেম বা ছবির আলাদা করে সার্চ ইঞ্জিনে র্যাঙ্ক করাটা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, তাই এখানে এসইও-এর চেয়ে ব্যবহারকারীর এঙ্গেজমেন্ট বাড়ানোটাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
যদি আপনার ওয়েবসাইটের মূল লক্ষ্য হয় মানুষকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে বিনোদন দেওয়া এবং এসইও র্যাঙ্কিং খুব একটা ম্যাটার না করে, তবে ইনফিনিট স্ক্রল নিঃসন্দেহে সেরা একটি পছন্দ হতে পারে। তবে সাধারণ ব্লগের ক্ষেত্রে এটি খুব বেশি উপকারী নাও হতে পারে।
ব্লগ বা নিউজ পোর্টালের জন্য লোড মোর বাটনের উপযোগিতা

ব্লগ ওয়েবসাইট বা নিউজ পোর্টালগুলোর ক্যাটাগরি পেজে কনটেন্ট সাজানোর জন্য পেজিনেশন বা লোড মোর বাটন ব্যবহার করা সবচেয়ে বেশি যৌক্তিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। লোড মোর বাটনটি মূলত পেজিনেশন এবং ইনফিনিট স্ক্রলের মাঝামাঝি একটি হাইব্রিড বা মিশ্র সমাধান হিসেবে কাজ করে। ব্যবহারকারী যখন পেজের নিচে পৌঁছান, তখন নতুন কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে লোড না হয়ে একটি লোড মোর বাটন দেখায়।
ব্যবহারকারী যদি আরও কনটেন্ট দেখতে আগ্রহী হন, তবেই তিনি বাটনটিতে ক্লিক করেন। এর ফলে পাঠকের ওপর জোর করে অতিরিক্ত কনটেন্ট চাপিয়ে দেওয়া হয় না এবং ব্রাউজারের মেমোরিও অকারণে খরচ হয় না। এসইও-এর দিক থেকে চিন্তা করলে, লোড মোর বাটনের পেছনে যদি সঠিক এইচটিএমএল লিঙ্ক বা অ্যাঙ্কর ট্যাগ বসানো থাকে, তবে সার্চ ইঞ্জিন খুব সহজেই পরবর্তী পেজগুলোতে প্রবেশ করতে পারে।
মোবাইল ডিভাইসের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, কারণ ছোট স্ক্রিনে পেজিনেশনের ছোট ছোট নম্বরগুলোতে ট্যাপ করা বেশ কষ্টকর। তাই নিউজ পোর্টাল বা দীর্ঘ আর্টিকেল সমৃদ্ধ সাইটগুলোর জন্য লোড মোর বাটন একই সাথে ব্যবহারকারীবান্ধব এবং সার্চ ইঞ্জিনবান্ধব একটি চমৎকার সমাধান।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ডেভেলপমেন্ট টিমের সাথে যা বিবেচনা করবেন
বাজেট, সময় এবং কারিগরি দক্ষতার মূল্যায়ন
ওয়েবসাইটের নেভিগেশন কাঠামো পরিবর্তন করার আগে প্রথমেই আপনার ডেভেলপমেন্ট টিমের সাথে বাজেট, সময় এবং কারিগরি সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন। সাধারণ পেজিনেশন তৈরি করা যেকোনো ডেভেলপারের জন্যই একটি বেশ সহজ এবং পরিচিত কাজ, যা প্রায় সব কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমেই আগে থেকে দেওয়া থাকে।
কিন্তু একটি ইনফিনিট স্ক্রলকে এসইও-বান্ধব হিসেবে তৈরি করা, যেমন হিস্ট্রি এপিআই যুক্ত করা এবং পেজিনেটেড ফলব্যাক সিস্টেম তৈরি করা—যথেষ্ট জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া। এর জন্য ফ্রন্ট-এন্ড এবং ব্যাক-এন্ড ডেভেলপমেন্টের মধ্যে দারুণ সমন্বয় থাকতে হয়। যদি আপনার ডেভেলপমেন্ট টিমের সেই পর্যায়ের কারিগরি দক্ষতা না থাকে বা পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না থাকে, তবে ইনফিনিট স্ক্রল নিয়ে অযথাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে যাওয়াটা চরম বোকামি হতে পারে।
অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ ইনফিনিট স্ক্রল পুরো ওয়েবসাইটের এসইও পারফরম্যান্স ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই টিমের সক্ষমতা এবং বাজেটের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে একটি মজবুত এবং সহজ পেজিনেশন কাঠামোতে টিকে থাকাই বেশিরভাগ ওয়েবসাইটের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ বলে বিবেচিত হয়।
ওয়েবসাইটের আকার এবং কনটেন্টের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত
আপনার ওয়েবসাইটে ঠিক কতগুলো প্রোডাক্ট বা আর্টিকেল রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে নেভিগেশনের ধরন নির্বাচন করতে হবে। যদি আপনার সাইটটি একেবারে নতুন হয় এবং সর্বমোট মাত্র বিশ থেকে ত্রিশটি প্রোডাক্ট বা আর্টিকেল থাকে, তবে জটিল কোনো পেজিনেশন বা ইনফিনিট স্ক্রলের খুব একটা প্রয়োজনই নেই। সবগুলো কনটেন্ট একটি পেজেই সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা যেতে পারে। কিন্তু কনটেন্টের সংখ্যা যখন শত বা হাজার ছাড়িয়ে যেতে শুরু করে, তখন পেজিনেশন ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।
বিশাল পরিমাণ ডেটা এক পেজে লোড করতে গেলে ওয়েবসাইটের স্পিড এতটাই কমে যাবে যে ব্যবহারকারীরা বিরক্ত হয়ে সাইট ছেড়ে চলে যাবেন। এ ছাড়া সার্চ ইঞ্জিন সবসময় দ্রুত লোড হওয়া সাইটগুলোকে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে রাখে।
তাই কনটেন্টের পরিমাণ বাড়ার সাথে সাথে ডেটাবেসের ওপর চাপ কমাতে এবং সার্ভারের পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে সঠিক ইউআরএল প্যারামিটার যুক্ত পেজিনেশন সিস্টেম তৈরি করতে হবে। ওয়েবসাইটের দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি এবং এসইও লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক সময়ে এই কারিগরি পরিবর্তনটি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি এবং ফলপ্রসূ একটি পদক্ষেপ।
মোবাইল ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা এবং নেভিগেশনের সহজলভ্যতা
বর্তমান সময়ে গুগলের মোবাইল ফার্স্ট ইনডেক্সিং নীতির কারণে যেকোনো ওয়েবসাইটের মোবাইল ভার্সনটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে থাকে। ডেস্কটপে পেজিনেশনের ছোট নম্বরগুলোতে ক্লিক করা সহজ হলেও, মোবাইল ডিভাইসের ছোট স্ক্রিনে আঙুল দিয়ে এক, দুই, তিন নম্বরগুলোতে নিখুঁতভাবে ট্যাপ করা অনেক সময় ভীষণ অসুবিধাজনক হয়ে দাঁড়ায়।
ভুল নম্বরে ট্যাপ লেগে যাওয়া বা বারবার জুম করে ক্লিক করার কারণে মোবাইল ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য মোবাইলের ক্ষেত্রে পেজিনেশন নম্বরের বদলে বড় আকারের লোড মোর বা নেক্সট বাটন ব্যবহার করা যেতে পারে, যা আঙুল দিয়ে ট্যাপ করার জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক। এই বাটনের পেছনে ব্যাক-এন্ডে অবশ্যই সঠিক এইচটিএমএল লিঙ্ক যুক্ত থাকতে হবে, যাতে এসইও-এর কারিগরি শর্তগুলো কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।
ডেস্কটপ এবং মোবাইলের জন্য আলাদা কিন্তু সামঞ্জস্যপূর্ণ নেভিগেশন ডিজাইন নিশ্চিত করলে ব্যবহারকারী এবং সার্চ ইঞ্জিন—উভয় পক্ষই অত্যন্ত সন্তুষ্ট থাকে। সাইটের বাউন্স রেট কমানোর পাশাপাশি সার্চ ইঞ্জিন র্যাঙ্কিং ধরে রাখতে এই ছোট কিন্তু কার্যকরী ডিজাইন পরিবর্তনগুলো বিশাল ভূমিকা পালন করে থাকে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
পেজিনেশনের পেজগুলোতে কি মেটা টাইটেল পরিবর্তন করা জরুরি?
হ্যাঁ, ডুপ্লিকেট টাইটেল এড়াতে পেজিনেশনের পেজগুলোতে নম্বরের উল্লেখ রাখা ভালো। যেমন: “Best Smartwatches in Bangladesh – Page ২”। এতে গুগল প্রতিটি পেজকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারে।
Infinite Scroll থাকলে গুগল কি আমার সব প্রোডাক্ট ইনডেক্স করবে?
যদি ইনফিনিট স্ক্রল শুধুমাত্র জাভাস্ক্রিপ্টের ওপর নির্ভরশীল হয় এবং পেজিনেশন লিঙ্ক (Fallback URL) না থাকে, তবে গুগল স্ক্রলের নিচে থাকা প্রোডাক্টগুলো ইনডেক্স করতে পারবে না।
পেজিনেশনের পেজগুলোতে ক্যানোনিকাল ট্যাগ কি মূল পেজকে (page ১) নির্দেশ করবে?
না। পেজিনেশনের ক্ষেত্রে ক্যানোনিকাল ট্যাগ সবসময় সেলফ-রেফারেঞ্জিং হতে হবে। অর্থাৎ, পেজ ৩-এর ক্যানোনিকাল ট্যাগ পেজ ৩-এর URL-কেই নির্দেশ করবে।

