শিশুদের স্ক্রিনটাইম কমিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী করার সেরা সব উপায়

সর্বাধিক আলোচিত

মোবাইল সরিয়ে নিলেই কান্না, পড়ার কথা বললে বিরক্তি, আর সুযোগ পেলেই ভিডিও বা গেম—এ অবস্থায় শুধু ডিভাইস কেড়ে নিলে অভ্যাসটি সাধারণত বদলায় না। শিশুদের স্ক্রিনটাইম কমানোর উপায় হলো ব্যবহার কখন ও কেন বাড়ছে তা বোঝা, ধীরে সীমা তৈরি করা এবং ডিভাইসের জায়গায় শিশুর পছন্দের অন্য কাজ রাখা।

শিশু কত মিনিট স্ক্রিন দেখছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্ক্রিনের কারণে তার ঘুম, পড়াশোনা, খেলাধুলা, পারিবারিক সময় বা বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা কমে যাচ্ছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। বয়স, স্বভাব, স্কুলের চাপ এবং পরিবারের বাস্তবতা অনুযায়ী নিয়ম কিছুটা আলাদা হতে পারে।

বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন ব্যবহারের সীমা বুঝুন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য বসে বসে স্ক্রিন দেখা সুপারিশ করে না। এক বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও এমন স্ক্রিন ব্যবহার এড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে। দুই বছর বয়সী এবং তিন থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের বসে স্ক্রিন দেখার সময় দিনে এক ঘণ্টার বেশি না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; কম হলে আরও ভালো। এগুলো পাঁচ বছরের কম বয়সী সুস্থ শিশুদের জন্য আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা, কোনো দেশের আইনি নিয়ম নয়।

স্কুলপড়ুয়া শিশুদের জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। American Academy of Pediatrics বা AAP-এর ২০২৬ সালের নীতিতে সময়ের পাশাপাশি শিশুটি কী দেখছে, কেন দেখছে এবং স্ক্রিনের কারণে ঘুম, খেলাধুলা, পড়া, বাড়ির কাজ বা পারিবারিক সময় বাদ পড়ছে কি না, সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে পরিবারের রুটিন অনুযায়ী বিনোদনমূলক স্ক্রিনের সীমা ঠিক করতে হবে।

অনলাইন ক্লাস, ভিডিও কল, স্কুলের গবেষণা এবং বিনোদনমূলক ভিডিও একভাবে বিচার করা ঠিক নয়। তবে “শিক্ষামূলক” লেখা থাকলেই কোনো কনটেন্ট সীমাহীনভাবে দেখা উপকারী হয়ে যায় না।

১. কয়েক দিনের বাস্তব ব্যবহার লিখে রাখুন

সীমা দেওয়ার আগে কয়েক দিন লক্ষ্য করুন, শিশু ঠিক কখন ও কী কারণে ডিভাইস চাইছে।

লিখে রাখতে পারেন:

  • কোন সময়ে সে নিজে থেকে ফোন বা ট্যাব চায়
  • কোন অ্যাপ, গেম বা ভিডিওতে বেশি সময় কাটায়
  • খাওয়ানো, কান্না থামানো বা ঘুম পাড়াতে স্ক্রিন দেওয়া হয় কি না
  • পড়তে বসার আগে বা পরে স্ক্রিনের চাহিদা বাড়ে কি না
  • স্কুলের কাজের বাইরে বিনোদনমূলক ব্যবহার কতক্ষণ হচ্ছে

অনেক ফোন ও ট্যাবেই ব্যবহারের সময় এবং বেশি ব্যবহৃত অ্যাপের তথ্য দেখা যায়। সংখ্যার পাশাপাশি ব্যবহারের প্রেক্ষাপটও লিখুন। এতে বোঝা যাবে সমস্যাটি মোট সময়ের, নির্দিষ্ট কনটেন্টের নাকি বিরক্তি ও অস্বস্তি সামলাতে স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত। AAP-এর কাঠামোতেও শিশুর কনটেন্ট, শান্ত হওয়ার জন্য স্ক্রিন ব্যবহার এবং স্ক্রিনের কারণে অন্য কাজ বাদ পড়ার বিষয়গুলো আলাদাভাবে দেখতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: AI Bias কীভাবে সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে: চাকরি, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনের উদাহরণ

২. হঠাৎ বন্ধ না করে স্পষ্ট সীমা তৈরি করুন

হঠাৎ বন্ধ না করে স্পষ্ট সীমা তৈরি করুন

দীর্ঘদিনের অভ্যাস এক দিনে বদলাতে গেলে অনেক শিশুই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তাই নিরাপত্তাজনিত জরুরি কারণ না থাকলে সময়টি ছোট ধাপে কমানো বেশি বাস্তবসম্মত। স্ক্রিন বন্ধ করার কিছুক্ষণ আগে শিশুকে জানান। টাইমার বা ডিভাইসের সময়সীমার সেটিং ব্যবহার করা যায়। ভিডিও বা গেমের মাঝখানে হঠাৎ বন্ধ করার বদলে আগে থেকেই ঠিক করুন—একটি পর্ব, একটি রাউন্ড অথবা টাইমার শেষ হলে ডিভাইস রাখতে হবে।

কত মিনিট করে সময় কমাতে হবে, তার কোনো সর্বজনীন নিয়ম নেই। শিশুর বর্তমান অভ্যাস, বয়স এবং প্রতিক্রিয়া দেখে এমন পরিবর্তন করুন, যা পরিবার ধারাবাহিকভাবে মেনে চলতে পারবে।

নিয়ম বারবার বদলালে শিশু বুঝতে পারে না কোন সীমাটি সত্যি। কান্না শুরু হলেই ফোন ফিরিয়ে না দিয়ে শান্তভাবে আগের সিদ্ধান্তে স্থির থাকুন। AAP-এর অভিভাবক নির্দেশনায় সীমা নিয়ে আগে আলোচনা, ডিভাইসের টাইমার ব্যবহার এবং রাগের সময় দীর্ঘ বক্তৃতা না দিয়ে শান্ত থাকার পরামর্শ রয়েছে।

৩. সারাদিনের বদলে নির্দিষ্ট স্ক্রিন সময় রাখুন

সারাদিন অল্প অল্প করে ডিভাইস দেওয়ার চেয়ে এক বা দুইটি নির্দিষ্ট সময় রাখা সহজ। যেমন, স্কুলের কাজ ও বিকেলের খেলাধুলার পর সীমিত বিনোদনমূলক স্ক্রিন রাখা যেতে পারে।

একটি নমুনা বিকেলের রুটিন:

সময়ের ধাপ সম্ভাব্য কাজ
স্কুল থেকে ফেরার পর খাবার, বিশ্রাম ও পরিবারের সঙ্গে কথা
এরপর ছোট পড়ার সেশন
বিরতি দৌড়ঝাঁপ, সাইকেল বা মুক্ত খেলা
নির্ধারিত সময় সীমিত বিনোদনমূলক স্ক্রিন
সন্ধ্যা হোমওয়ার্ক, বই বা পারিবারিক কাজ
ঘুমের আগে স্ক্রিন ছাড়া শান্ত সময়

এটি কোনো বাধ্যতামূলক সময়সূচি নয়। পরিবারের কাজ, স্কুলের সময় এবং শিশুর বয়স অনুযায়ী বদলে নিন। মূল লক্ষ্য হলো, শিশু যেন আগে থেকেই জানে কখন স্ক্রিন পাওয়া যাবে।

৪. খাবার, পড়া ও ঘুমের সময় স্ক্রিনমুক্ত রাখুন

পুরো বাড়ি একসঙ্গে স্ক্রিনমুক্ত করার প্রয়োজন নেই। শুরুতে কয়েকটি স্পষ্ট জায়গা বা সময় বেছে নিন:

  • খাবার টেবিল
  • বাড়ির কাজ বা পড়ার সময়
  • শিশুর শোবার ঘর
  • ঘুমের আগের এক ঘণ্টা

AAP পরিবারের জন্য খাবারের সময়, শোবার ঘর, বাড়ির কাজ এবং ঘুমের আগের এক ঘণ্টায় ফোন ও অন্যান্য স্ক্রিন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। ব্যবহার না হলে টিভি বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে। রাতে ডিভাইস চার্জ দেওয়ার জন্য বসার ঘর বা অভিভাবকের কক্ষে একটি নির্দিষ্ট জায়গা রাখা যেতে পারে। এতে বিছানায় লুকিয়ে ফোন ব্যবহারের সুযোগ কমে।

৫. স্ক্রিন সরানোর আগেই বিকল্প দিন

“ফোন দেখা যাবে না” বলার সঙ্গে শিশুকে কী করা যাবে, সেটিও জানাতে হবে। বিকল্প না থাকলে সে দ্রুত বিরক্ত হয়ে আবার ডিভাইস চাইতে পারে।

বয়স অনুযায়ী সহজ কিছু কাজ সামনে রাখুন:

  • ছবি আঁকা, রং করা বা কাগজ দিয়ে কিছু বানানো
  • ব্লক, পাজল বা লেগো
  • বল খেলা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানো
  • গল্প বানানো বা অভিনয়
  • গাছের যত্ন নেওয়া
  • বোর্ড গেম
  • রান্নাঘরের নিরাপদ ছোট কাজে সাহায্য

UNICEF-এর স্ক্রিনবিহীন কাজের তালিকায় প্রকৃতি দেখা, ঘরের মধ্যে জিনিস খোঁজা, গল্প বানানো, পোশাক পরে অভিনয় এবং পরিবারের সঙ্গে সৃজনশীল খেলার মতো কাজ রয়েছে। রং-পেনসিল আলমারির ভেতরে এবং ফোন টেবিলের ওপর থাকলে শিশু সহজে ফোনই বেছে নেবে। তাই বিকল্প কাজের উপকরণ দৃশ্যমান ও সহজে নেওয়ার মতো জায়গায় রাখুন।

৬. পড়ার সময় ছোট রাখুন এবং কাজ ভাগ করুন

দীর্ঘ সময় স্ক্রিন দেখার পর সরাসরি দীর্ঘ পড়ার সেশন দিলে শিশুর অনীহা বাড়তে পারে। শুরুতে এমন একটি ছোট সময় বেছে নিন, যতক্ষণ সে বাস্তবে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে। এরপর পানি পান, হালকা নড়াচড়া বা অল্প বিরতি দিন।

“সব অঙ্ক শেষ করো” বলার বদলে “আগে তিনটি অঙ্ক করি” বলা সহজে অনুসরণ করা যায়। সীমিত পছন্দও দেওয়া যেতে পারে—বাংলা আগে পড়বে নাকি গণিত, টেবিলে বসবে নাকি নির্ধারিত পড়ার কোণে। পড়ার আগে বই, খাতা ও পেনসিল গুছিয়ে রাখুন। পাশে টিভি চলা বা ফোনে বারবার নোটিফিকেশন এলে মনোযোগ ধরে রাখা আরও কঠিন হয়।

৭. শেখাকে শিশুর আগ্রহের সঙ্গে মেলান

শুধু পাঠ্যবই দিয়ে সব শিশুর পড়ার আগ্রহ তৈরি হয় না। গাড়ি পছন্দ করলে খেলনা গাড়ি গুনে যোগ-বিয়োগ শেখানো যায়। রান্নার সময় মাপ ও সংখ্যা নিয়ে কথা বলা যায়। গল্প পড়ার পর ছবি আঁকতে বা নিজের ভাষায় গল্পটি বলতে দিন।

ভুল দেখামাত্র থামিয়ে না দিয়ে আগে ভাবার সময় দিন। প্রশংসাও নির্দিষ্ট করুন। “খুব ভালো” বলার বদলে “কঠিন শব্দটি তুমি ধীরে ধীরে পড়ে ফেলেছ” বললে শিশু বুঝতে পারে কোন প্রচেষ্টাটি কাজে এসেছে।

এ অংশে “শিশুর মনোযোগ বাড়াতে সেরা ৫টি মাইন্ড গেম” নিবন্ধটির প্রকৃত URL অভ্যন্তরীণ লিংক হিসেবে যোগ করা যেতে পারে।

৮. প্রতিদিন বইয়ের জন্য আলাদা সময় রাখুন

প্রতিদিন বইয়ের জন্য আলাদা সময় রাখুন

পড়ার অভ্যাস মানেই শুধু স্কুলের বই নয়। ছবির বই, ছড়া, কমিকস, ছোট গল্প বা শিশুর পছন্দের তথ্যভিত্তিক বই দিয়েও শুরু করা যায়। ছোট শিশুর সঙ্গে বসে পড়ুন। বড় শিশুকে বই বেছে নিতে দিন। অনিয়মিত দীর্ঘ সময়ের চেয়ে প্রতিদিন অল্প সময় ধরে রাখা অনেক পরিবারের জন্য সহজ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বসে থাকার সময়ে স্ক্রিনের বদলে অভিভাবকের সঙ্গে বই পড়া, গল্প বলা, গান ও পাজলের মতো কাজকে মূল্যবান বলে উল্লেখ করেছে।

৯. পরিবারের বড়দেরও একই নিয়ম মানতে হবে

অভিভাবক খাবার টেবিলে ফোন দেখলে শিশুকে একই কাজ থেকে বিরত রাখা কঠিন। তাই স্ক্রিনমুক্ত নিয়মটি শুধু শিশুর জন্য না রেখে পরিবারের সবার জন্য করুন। প্রয়োজনীয় কাজে ফোন ধরলে সংক্ষেপে জানানো যায়, “এই বার্তাটির উত্তর দিয়ে ফোন রেখে দিচ্ছি।” কেউ না দেখলেও পটভূমিতে টিভি চালিয়ে রাখার অভ্যাস থাকলে সেটিও বদলান।

AAP পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে মিডিয়া পরিকল্পনা তৈরি এবং অভিভাবকদের স্বাস্থ্যকর ব্যবহার দেখানোর পরামর্শ দিয়েছে।

১০. অটোপ্লে, নোটিফিকেশন ও অ্যাপের সহজ প্রবেশাধিকার কমান

ভিডিও শেষ হলেই পরের ভিডিও চালু হওয়া বা বারবার নোটিফিকেশন আসা ব্যবহার থামানো কঠিন করতে পারে। AAP অটোপ্লে ও অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং ব্যবহার না করা স্ক্রিন বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছে।

বিনোদনের অ্যাপ হোম স্ক্রিন থেকে সরিয়ে ফোল্ডারে রাখা যায়। শিশুর ব্যক্তিগত ট্যাবের বদলে পরিবারের যৌথ ডিভাইস ব্যবহার করলে ব্যবহার নজরে রাখা এবং সীমা কার্যকর করা সহজ হতে পারে। AAP-এর ২০২৬ সালের নীতিতেও যৌথ পারিবারিক ট্যাব বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহারের সময় সতর্কতা

Google Family Link দিয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ তত্ত্বাবধানকৃত Android ডিভাইস ও Chromebook-এ দৈনিক সময়সীমা, ঘুমের সময়সূচি, অ্যাপ ব্যবহার এবং Google Play-এর কিছু ডাউনলোড ও কেনাকাটার অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে iPhone, iPad এবং Chromebook ছাড়া অন্য কম্পিউটারকে শিশুর তত্ত্বাবধানকৃত ডিভাইস হিসেবে Family Link দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। কিছু সক্ষমতা দেশ, অ্যাকাউন্ট ও ডিভাইসভেদে বদলাতে পারে।

Apple Screen Time দিয়ে শিশুর iPhone বা iPad-এর ব্যবহারের সারাংশ, Downtime, App Limits এবং Content & Privacy Restrictions পরিচালনা করা যায়। Family Sharing ও শিশুর Apple Account-এর সেটআপের ওপর নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নির্ভর করে। বয়সসংক্রান্ত কিছু নিয়ম অঞ্চলভেদে আলাদা হতে পারে। প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সহায়ক ব্যবস্থা। এটি আলোচনা, নিয়ম এবং অভিভাবকের উপস্থিতির বিকল্প নয়।

১১. কান্না বা রাগের সময় দীর্ঘ তর্ক করবেন না

স্ক্রিন বন্ধ করার পর শিশু রেগে গেলে কম কথা বলুন। অনুভূতিটি স্বীকার করুন, কিন্তু আগের নিয়মটি বদলাবেন না।

যেমন বলা যেতে পারে:

“ভিডিও বন্ধ হওয়ায় তোমার খারাপ লাগছে, বুঝতে পারছি। আজকের সময় শেষ। এখন তুমি ছবি আঁকবে, নাকি বল খেলবে?”

রাগের মুহূর্তে নিয়মের দীর্ঘ ব্যাখ্যা না দিয়ে শান্ত থাকা, কম কথা বলা এবং শিশুকে নিরাপদ জায়গায় শান্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে AAP। ছোট শিশুকে অপমান করা, ভয় দেখানো বা নিরাপত্তাহীন অবস্থায় একা রাখা উচিত নয়।

সব যত্নদাতার জন্য একই নিয়ম রাখুন

বাড়িতে এক নিয়ম, আত্মীয়ের কাছে আরেক নিয়ম এবং পরিচর্যাকারীর কাছে কোনো নিয়ম না থাকলে শিশুর পক্ষে সীমা বোঝা কঠিন হয়। দৈনিক সময়, অনুমোদিত কনটেন্ট এবং খাবার বা ঘুমের সময়ে স্ক্রিন ব্যবহার করা যাবে কি না—এসব সবাইকে জানান।

শিশু যদি বিরক্তি, একাকিত্ব বা মন খারাপ সামলাতে বারবার ফোন চায়, সময়সীমা দিয়েই পুরো সমস্যার সমাধান হবে না। তার সঙ্গে কথা বলা, খেলা এবং একসঙ্গে কাজ করার সময়ও রাখতে হবে। AAP-এর নির্দেশনায় শান্ত হওয়ার প্রধান উপায় হিসেবে স্ক্রিন ব্যবহারের কারণ খুঁজতে এবং স্ক্রিনের বাইরে আবেগ সামলানোর কৌশল তৈরির কথা বলা হয়েছে।

এখানে “শিশুর সঙ্গে প্রতিদিন মানসম্মত সময় কাটানোর সহজ নিয়ম” নিবন্ধটির প্রকৃত URL যোগ করা যেতে পারে।

কখন চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীর পরামর্শ নেবেন

ফোন সরালে কিছুটা বিরক্তি বা কান্না করলেই শিশুকে “মোবাইল আসক্ত” বলা ঠিক নয়। সমস্যাজনক ব্যবহার বোঝার জন্য দেখতে হবে, আচরণটি নিয়মিতভাবে শিশুর ঘুম, পড়াশোনা, শরীরচর্চা বা পারিবারিক জীবনে বাধা দিচ্ছে কি না।

নিচের লক্ষণগুলো বারবার দেখা দিলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন:

  • স্ক্রিন না পেলে নিয়মিত তীব্র রাগ বা বিরক্তি
  • পড়াশোনা বা পারিবারিক কাজে অংশ নেওয়া কমে যাওয়া
  • পর্যাপ্ত ঘুম ও শরীরচর্চায় বাধা সৃষ্টি হওয়া
  • স্ক্রিনই একমাত্র পছন্দের কাজ বা কথার বিষয় হয়ে ওঠা
  • খাওয়া, পরিচ্ছন্নতা বা সামাজিক আচরণে পরিবর্তন
  • বিরক্তি বা অপেক্ষার সামান্য সময়ও স্ক্রিন ছাড়া সহ্য করতে না পারা
  • পরিবার ও বন্ধুদের থেকে সরে গিয়ে অনলাইনে বেশি সময় কাটানো

AAP এগুলোকে সম্ভাব্য সমস্যাজনক মিডিয়া ব্যবহারের লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে শিশু-কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর কাছে পাঠাতে পারেন। অনলাইনে অপরিচিত কারও সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগ, ভয় দেখানো, যৌন কনটেন্ট বা আত্মক্ষতির কনটেন্টের মতো নিরাপত্তা সমস্যা দেখা দিলে শুধু সময় কমানোর পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ থাকবেন না। শিশুর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উপযুক্ত পেশাজীবী বা কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিন।

প্রথম সপ্তাহে তিনটি পরিবর্তন দিয়ে শুরু করুন

এক দিনে সব নিয়ম বদলানোর চেষ্টা করবেন না। প্রথম সপ্তাহে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:

১. কয়েক দিনের স্ক্রিন ব্যবহারের হিসাব লিখে রাখুন।
২. খাবারের সময় ও ঘুমের আগের এক ঘণ্টা স্ক্রিন বন্ধ রাখুন।
৩. প্রতিদিন অন্তত একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিনবিহীন কাজের সুযোগ দিন।

এরপর শিশুর প্রতিক্রিয়া দেখে বিনোদনমূলক ব্যবহার ধীরে কমান এবং পড়ার ছোট সেশন যোগ করুন। শিশুদের স্ক্রিনটাইম কমানোর উপায় তখনই ধরে রাখা সহজ হয়, যখন ফোন সরানোর পাশাপাশি খেলাধুলা, বই, সৃজনশীল কাজ এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বাস্তব সুযোগ থাকে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

শিশুর হাত থেকে একবারেই মোবাইল সরিয়ে নেওয়া কি ঠিক?

অনুপযুক্ত কনটেন্ট, রাতে গোপনে ব্যবহার বা নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণ অভ্যাসের ক্ষেত্রে আগে থেকে জানানো, ব্যবহার ধীরে কমানো এবং বিকল্প কাজ রাখা অনেক পরিবারের জন্য বেশি বাস্তবসম্মত।

শিক্ষামূলক ভিডিও কি স্ক্রিনটাইমের মধ্যে পড়ে?

হ্যাঁ, সেটিও স্ক্রিন ব্যবহার। তবে বয়সোপযোগী কনটেন্ট, অভিভাবকের সঙ্গে দেখা এবং শেখা বিষয়টি পরে বাস্তবে অনুশীলন করা নিছক একের পর এক ভিডিও দেখার মতো নয়। ঘুম, খেলাধুলা, বই ও সরাসরি শেখার সময় যেন বাদ না পড়ে।

পড়াশোনা শেষ করলে স্ক্রিন পুরস্কার হিসেবে দেওয়া যাবে?

নির্ধারিত স্ক্রিন সময় রুটিনের অংশ হতে পারে। তবে প্রতিটি কাজের একমাত্র পুরস্কার হিসেবে ফোন ব্যবহার না করে প্রশংসা, একসঙ্গে খেলা, গল্প বা পছন্দের পারিবারিক কাজের মতো বিকল্পও রাখুন।

ছুটির দিনে স্ক্রিনের সময় কি বাড়ানো যায়?

স্কুলের দিন ও ছুটির দিনের সীমা একই হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। AAP-ও পরিবারের প্রয়োজন এবং স্কুলের দিন ও ছুটির দিনের পার্থক্য অনুযায়ী সময়ের সীমা বদলাতে পারে বলে উল্লেখ করেছে। তবে ঘুম, খেলাধুলা, বই এবং পরিবারের সময় যেন বাদ না পড়ে।

সর্বশেষ