গুগল সার্চ কনসোল থেকে হঠাৎ স্ট্রাকচার্ড ডেটা ইস্যু বা এরর সংক্রান্ত ইমেইল এলে অনেক ওয়েবসাইট মালিকই রিচ স্নিপেট হারানো বা সার্চ র্যাংকিং কমার আশঙ্কায় পড়ে যান। ইমেইলটিতে মূলত জানানো হয়, আপনার ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট কিছু পেজে স্কিমা মার্কআপ জনিত সমস্যা পাওয়া গেছে। সার্চ ইঞ্জিনকে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট স্পষ্টভাবে বোঝানোর জন্য স্ট্রাকচার্ড ডেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই কোডের কোনো অংশ বাদ পড়লে বা ভুল থাকলে গুগল তা ঠিকমতো পড়তে পারে না এবং সার্চ কনসোলে সরাসরি এরর দেখায়। ঠিক কোন প্লাগইন বা কোডের কারণে এই সমস্যা হচ্ছে, তা বের করে গুগলের কাছে ভ্যালিডেশন রিকোয়েস্ট পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি অনেকের কাছেই বেশ জটিল মনে হতে পারে। বিশেষ করে যারা নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন বা কারিগরি বিষয়ে খুব বেশি পারদর্শী নন, তাদের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সঠিক নির্দেশিকা অনুসরণ করলে কোনো বিশেষজ্ঞের সাহায্য ছাড়াই এই কারিগরি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। নিচে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করেছি কীভাবে আপনি নিজেই ওয়েবসাইটের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করতে পারবেন এবং তা চিরতরে সমাধান করতে পারবেন।
স্কিমা মার্কআপ এরর কেন আসে এবং ট্রাফিকের ওপর এর প্রভাব
ওয়েবসাইটের কনটেন্ট যেমন আর্টিকেল, রেসিপি, বা প্রোডাক্ট রিভিউ গুগলের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের জন্য স্কিমা মার্কআপ ব্যবহার করা হয়। মার্কআপের কোডে কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য বা রিকোয়ার্ড প্রপার্টিজ অনুপস্থিত থাকলে গুগল ওই পেজটির জন্য রিচ রেজাল্ট দেখাতে পারে না। বর্তমান সময়ের সার্চ ইঞ্জিন অ্যালগরিদম অনেক বেশি ভিজ্যুয়াল এবং ব্যবহারকারীদের জন্য তথ্যনির্ভর ফলাফল দেখাতে পছন্দ করে। মনে রাখা জরুরি, স্ট্রাকচার্ড ডেটা এরর সরাসরি আপনার ওয়েবসাইটের বর্তমান র্যাংকিং কমিয়ে দেয় না।
তবে পেজটি যদি আগে সার্চ রেজাল্টে রিচ স্নিপেট হিসেবে দেখাত, এররের কারণে গুগল সেই বাড়তি তথ্যগুলো দেখানো পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। এর ফলে সাধারণ সার্চ রেজাল্ট হিসেবে পেজটি দেখালে ব্যবহারকারীদের ক্লিক করার প্রবণতা বা ক্লিক-থ্রু রেট আগের চেয়ে অনেক কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ই-কমার্স বা রেসিপি ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে রিভিউ স্টার বা দাম না দেখালে প্রতিযোগী ওয়েবসাইটের তুলনায় ট্রাফিক উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। তাই এই কারিগরি সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করা ওয়েবসাইটের সার্বিক এসইও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সার্চ কনসোলে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ত্রুটিগুলো
সার্চ কনসোলে সাধারণত দুই ধরনের নোটিফিকেশন আসে, যার একটি হলো এররস যা লাল রঙের দেখায় এবং ওয়েবসাইটের স্বার্থে অবশ্যই ঠিক করতে হয়। অন্যটি হলো ওয়ার্নিংস যা হলুদ রঙের দেখায় এবং ঠিক না করলেও পেজ ইনডেক্স হয়, তবে ঠিক করা ভালো। নিচে বহুল প্রচলিত কিছু ত্রুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
মিসিং ফিল্ড নেম এরর

আর্টিকেল বা পণ্যের নাম স্কিমা ডেটায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে গুগল এই ধরনের এরর দেখায়। সার্চ ইঞ্জিন যখন কোনো পেজ ক্রল করে, তখন সে স্কিমা কোডের মাধ্যমে জানতে চায় ওই পেজের মূল বিষয়বস্তুর নাম আসলে কী। যদি আপনার প্রোডাক্ট পেজে পণ্যের নাম বা ব্লগ পোস্টে আর্টিকেলের নাম কোডের মধ্যে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে, তবে গুগল কনটেন্টটির মূল পরিচয় বুঝতে ব্যর্থ হয়। ওয়ার্ডপ্রেসের ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যবহৃত থিম বা পেজ বিল্ডারের ত্রুটির কারণে এই ডেটাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেট হতে পারে না।
এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য কনটেন্টের টাইটেল ট্যাগ সঠিকভাবে পূরণ করা আছে কি না তা আগে নিশ্চিত করতে হয়। এছাড়াও এসইও প্লাগইনের সেটিংসে গিয়ে ডিফল্ট টাইটেল প্যারামিটার ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক নাম যুক্ত থাকলে সার্চ ইঞ্জিন দ্রুত বিষয়বস্তু বুঝতে পারে এবং প্রাসঙ্গিক সার্চ কুয়েরিতে ওয়েবসাইট প্রদর্শন করে।
মিসিং ফিল্ড অথর এরর
ব্লগের লেখকের নাম স্কিমা ডেটায় যুক্ত না থাকলে সাধারণত সার্চ কনসোল এই নির্দিষ্ট ত্রুটির নোটিফিকেশন পাঠায়। গুগলের বর্তমান গাইডলাইন অনুযায়ী, যেকোনো তথ্যমূলক আর্টিকেলের ক্ষেত্রে লেখকের পরিচিতি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ওয়েবসাইটের বিশ্বস্ততা বা ই-এ-এ-টি মানদণ্ড বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অনেক সময় ওয়েবসাইটের অ্যাডমিন প্যানেলে লেখকের প্রোফাইল সম্পূর্ণ না থাকলে প্লাগইন এই ডেটাটি কোডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে পারে না।
ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ড্যাশবোর্ড থেকে ইউজার্স এবং প্রোফাইল অপশনে গিয়ে ডিসপ্লে নেম সঠিকভাবে দেওয়া আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। লেখক হিসেবে কোনো নাম দেওয়া না থাকলে গুগল সার্চ রেজাল্টে লেখকের নাম দেখাতে পারে না, যা সাধারণ পাঠকের কাছে কনটেন্টের গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। তাই প্রতিটি ব্লগ পোস্টের সাথে একজন নির্দিষ্ট লেখকের নাম যুক্ত করা বাধ্যতামূলক একটি কাজ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। নাম আপডেট করার পরপরই ক্যাশে ক্লিয়ার করলে সমস্যাটি দ্রুত কেটে যায়।
মিসিং ফিল্ড ইমেজ এরর
ওয়েবসাইটের কনটেন্টে কোনো ফিচারড ইমেজ না থাকলে বা স্কিমায় ইমেজের লিংক সঠিকভাবে যুক্ত না হলে গুগল সরাসরি এই এরর প্রদর্শন করে। রিচ স্নিপেট বা ডিসকভার ফিডে কনটেন্ট দেখানোর জন্য একটি মানসম্মত ছবি থাকা গুগলের অন্যতম প্রধান শর্ত। অনেক সময় মূল আর্টিকেলের ভেতরে অনেক ছবি থাকলেও নির্দিষ্ট ফিচারড ইমেজ সেট না করার কারণে স্কিমা প্লাগইন কোনো ছবির ইউআরএল খুঁজে পায় না।
এর ফলে গুগল কোড পড়ার সময় ইমেজের ঘরটি ফাঁকা পায় এবং সার্চ কনসোলে লাল রঙের এরর অ্যালার্ট পাঠিয়ে দেয়। এটি সমাধানের জন্য প্রতিটি পেজ বা পোস্টে অন্তত একটি উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি ফিচারড ইমেজ হিসেবে যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি এসইও প্লাগইনের গ্লোবাল সেটিংসে গিয়ে ডিফল্ট ফFallback ইমেজ সেট করে রাখলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত এরর থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ছবি যুক্ত করার সময় অবশ্যই এর সঠিক সাইজ এবং প্রাসঙ্গিক অল্টার টেক্সট ব্যবহার করা নিশ্চিত করতে হবে।
মিসিং ফিল্ড রিভিউ বা অ্যাগ্রিগেট রেটিং এরর
প্রোডাক্ট, রেসিপি বা সফটওয়্যার রিভিউ স্কিমায় ব্যবহারকারীদের রেটিং সংক্রান্ত তথ্য না থাকলে এই জটিল সমস্যাটি দেখা দেয়। ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলোর ক্ষেত্রে সার্চ রেজাল্টে স্টার রেটিং দেখানো ট্রাফিক বাড়ানোর জন্য খুবই কার্যকর একটি উপায় বলে প্রমাণিত। কিন্তু যদি আপনার প্রোডাক্ট পেজে কোনো ক্রেতা রিভিউ না দিয়ে থাকেন, অথচ কোডের মধ্যে রিভিউ স্কিমা চালু করা থাকে, তবে গুগল রিকোয়ার্ড ডেটা না পেয়ে এরর ধরবে।
অনেকেই বাড়তি ট্রাফিকের আশায় ফেক রেটিং যুক্ত করার চেষ্টা করেন, যা গুগলের পলিসির সম্পূর্ণ পরিপন্থি এবং এর ফলে ওয়েবসাইট যেকোনো সময় পেনাল্টি খেতে পারে। সঠিক সমাধানের উপায় হলো, যদি কোনো পণ্যের রিভিউ না থাকে, তবে সেই পেজের জন্য রিভিউ স্কিমা অপশনটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা। আর যদি আসল রেটিং থাকে, তবে নিশ্চিত করতে হবে প্লাগইনটি যেন সঠিকভাবে রেটিংয়ের সংখ্যা এবং গড় মান স্কিমা কোডে যুক্ত করে।
পার্সিং এরর বা কোড ভেঙে যাওয়া
কাস্টম কোড বা জেসন-এলডি ব্যবহার করার সময় কোনো কমা বা ব্র্যাকেট দিতে ভুলে গেলে পুরো কোডটি অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং পার্সিং এরর দেখায়। যারা কোডিং না জেনে অনলাইন জেনারেটর ব্যবহার করে ম্যানুয়ালি স্কিমা বসান, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। স্কিমা কোডগুলো সাধারণত একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়, যেখানে একটি ছোট যতিচিহ্নের ভুলেও সার্চ ইঞ্জিনের বট পুরো কোডটি পড়া বন্ধ করে দেয়।
এই ত্রুটি দেখা দিলে গুগল পেজের কোনো স্ট্রাকচার্ড ডেটাই রেন্ডার করতে পারে না, ফলে রিচ রেজাল্ট পাওয়ার সুযোগ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। কোড ঠিক করার জন্য গুগলের রিচ রেজাল্ট টেস্ট টুলে সম্পূর্ণ কোডটি পেস্ট করে দেখতে হবে ঠিক কোন লাইনে সিনট্যাক্স ভুল রয়েছে। এরপর সাবধানে সেই ভুল সংশোধন করে পুনরায় ওয়েবসাইটের হেড সেকশনে আপডেট করলেই কারিগরি সমস্যাটি পুরোপুরি মিটে যায়।
আরও পড়ুন: Technical SEO Audit কোথা থেকে শুরু করবেন: ধাপে ধাপে পূর্ণ গাইড
স্ট্রাকচার্ড ডেটা এরর সমাধানের ধাপে ধাপে পদ্ধতি
সার্চ কনসোলের ইংরেজি ডকুমেন্টেশন অনেক সময় সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে বেশ জটিল এবং দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। নিচে সমস্যাটি চিহ্নিত ও সমাধানের একটি পরীক্ষিত ও বিস্তারিত প্রক্রিয়া দেওয়া হলো।
ধাপ ১: সার্চ কনসোল থেকে ত্রুটি শনাক্ত করা
প্রথমে আপনার গুগল সার্চ কনসোল অ্যাকাউন্টে লগইন করে মূল ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করুন। বাঁ পাশের মেনু বার থেকে এনহ্যান্সমেন্টস বা শপিং সেকশনের নিচে থাকা অপশনগুলোতে যেমন আর্টিকেল, প্রোডাক্ট, বা ব্রেডক্রাম্বস মেনুতে ক্লিক করুন। সেখানে আপনি দেখতে পাবেন কোন কোন স্কিমা টাইপে সমস্যা রয়েছে এবং তার বর্তমান ইনডেক্সিং অবস্থা কী। যেখানে লাল রঙের ইনভ্যালিড বা এরর লেখা দেখবেন, ঠিক সেখানে ক্লিক করলে গুগল আপনাকে একটি বিস্তারিত গ্রাফ ও রিপোর্ট দেখাবে।
এই রিপোর্টে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকবে ঠিক কোন পেজগুলোতে সমস্যা রয়েছে এবং সমস্যার নির্দিষ্ট ধরনটি কী। এই তালিকাটি থেকে যেকোনো একটি প্রভাবিত পেজের ইউআরএল কপি করে নিন, যা পরবর্তী ধাপে সমস্যাটি কোথায় তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য কাজে লাগবে। তাই তাড়াহুড়ো না করে সঠিক পেজগুলো খুঁজে বের করা এই ধাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটি পরবর্তীতে সমস্যা সমাধানে আপনার অনেক মূল্যবান সময় বাঁচাবে।
ধাপ ২: রিচ রেজাল্ট টেস্ট টুলের ব্যবহার

সার্চ কনসোল শুধু পেজের লিংক এবং সমস্যার নাম জানায়, কিন্তু কোডের ঠিক কোথায় ভুল তা সরাসরি দেখায় না। এই নিখুঁত কাজটি করার জন্য গুগলের নিজস্ব রিচ রেজাল্ট টেস্ট টুল ব্যবহার করা সবচেয়ে বেশি কার্যকর। গুগলে সার্চ করে এই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করুন এবং আগের ধাপে কপি করা পেজের ইউআরএলটি নির্দিষ্ট বক্সে পেস্ট করে টেস্ট ইউআরএল বাটনে ক্লিক করুন। এক থেকে দুই মিনিট লাইভ স্ক্যান করার পর টুলটি ডান পাশে দেখাবে পেজটিতে কোন কোন স্কিমা মার্কআপ বর্তমানে চালু আছে এবং কোনটিতে ক্রিটিক্যাল ইস্যু রয়েছে।
ত্রুটির নামের ওপর ক্লিক করলে টুলটি আপনাকে বাঁ পাশের সোর্স কোডের ঠিক সেই নির্দিষ্ট লাইনে নিয়ে যাবে, যেখানে তথ্যটি মিসিং বা ভুল অবস্থায় আছে। সোর্স কোডটি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করলে আপনি সহজেই প্লাগইনের সীমাবদ্ধতা বা ম্যানুয়াল কোডিংয়ের ভুলগুলো ধরতে পারবেন। এর মাধ্যমে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন ওয়েবসাইটের ঠিক কোন অংশের জন্য এই এরর তৈরি হচ্ছে।
ধাপ ৩: ত্রুটি সমাধান করার উপায়
ত্রুটির সঠিক স্থান জানার পর আপনার ওয়েবসাইট পরিচালনার ধরনের ওপর ভিত্তি করে তা যথাযথভাবে সমাধান করতে হবে। ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে র্যাংকম্যাথ, ইয়োস্ট এসইও বা স্কিমা প্রো-এর মতো প্লাগইনগুলো কনটেন্টের ধরন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্কিমা তৈরি করে। যদি লেখকের নাম মিসিং থাকে, তবে ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড থেকে ইউজার্স প্রোফাইলে গিয়ে ডিসপ্লে নেম সঠিকভাবে দেওয়া আছে কি না তা চেক করে দ্রুত আপডেট করুন।
ইমেজের সমস্যা হলে আর্টিকেলে ফিচারড ইমেজ যুক্ত করা নিশ্চিত করুন এবং এসইও প্লাগইনের সেটিংসে গিয়ে নির্দিষ্ট পোস্ট টাইপের জন্য সঠিক স্কিমা নির্বাচন করা আছে কি না তা যাচাই করুন। অন্যদিকে, যারা ওয়েবসাইটে কাস্টম জেসন-এলডি স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করেন, তাদের ম্যানুয়ালি কোডের ভুল লাইনে গিয়ে বাদ পড়া কমা বা উদ্ধৃতি চিহ্ন বসিয়ে কোডটি ঠিক করতে হবে। সমাধান করার পর রিচ রেজাল্ট টুলে পেজটি আবার পরীক্ষা করে দেখতে হবে পূর্বের দেখানো সমস্যাটি আসলেই দূর হয়েছে কি না।
ধাপ ৪: ভ্যালিডেশন রিকোয়েস্ট পাঠানো
ওয়েবসাইটের সকল ত্রুটি সংশোধনের পর আপনার ক্যাশে প্লাগইন ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের সমস্ত ক্যাশে ফাইল ভালোভাবে ক্লিয়ার করে নিন। ক্যাশে ক্লিয়ার না করলে গুগল পুনরায় পুরোনো কোড ক্রল করতে পারে, যার ফলে আপনার করা সমাধানটি কাজ করবে না। এরপর গুগল সার্চ কনসোলে ফিরে গিয়ে যে ত্রুটিটি ঠিক করেছেন, তার বিস্তারিত পেজে প্রবেশ করুন।
পেজের ওপরের দিকে থাকা ভ্যালিডেট ফিক্স নামের বাটনে ক্লিক করলে গুগল তাৎক্ষণিকভাবে আপনার কয়েকটি পেজ লাইভ স্ক্যান করে দেখবে সমস্যাটি আসলেই সমাধান করা হয়েছে কি না। প্রাথমিক স্ক্যানে সবকিছু ঠিক থাকলে এররের স্ট্যাটাস পরিবর্তন হয়ে পেন্ডিং দেখাবে এবং গুগল বট ধীরে ধীরে ওয়েবসাইটের সবগুলো পেজ পুনরায় ক্রল করা শুরু করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে শেষ হতে গুগলের সিস্টেমে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ক্রলিং শেষ হওয়ার পর ভ্যালিডেশন সফল হলে গুগল আপনাকে সরাসরি ইমেইল করে পাসড হওয়ার খবরটি জানিয়ে দেবে।
সতর্কতা ও পরবর্তী করণীয়
স্কিমা মার্কআপ এরর কোনো ধরনের ম্যানুয়াল পেনাল্টি নয়, বরং এটি ওয়েবসাইটের ডেটা গুগলের কাছে আরও নির্ভুলভাবে উপস্থাপনের একটি চমৎকার সুযোগ। তবে যেকোনো কারিগরি সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে নতুন করে কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়। ওয়েবসাইটের কোড বা প্লাগইন সেটিংসে বড় কোনো পরিবর্তনের আগে ওয়েবসাইটের একটি সম্পূর্ণ ব্যাকআপ নিয়ে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। এর ফলে কোনো কিছু ভুল হলে খুব সহজেই ওয়েবসাইটকে তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসইও প্লাগইনগুলো নিয়মিত আপডেট রাখা, লেখকদের প্রোফাইল সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে সাজিয়ে রাখা এবং প্রতিটি কনটেন্টে প্রাসঙ্গিক ফিচারড ইমেজ ব্যবহারের মাধ্যমে এ ধরনের ত্রুটি সহজেই এড়ানো যায়। পাশাপাশি প্রতি মাসে অন্তত একবার গুগলের টুল ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের স্ট্রাকচার্ড ডেটা পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তুললে এসইও পারফরম্যান্স সবসময় ভালো থাকে। এসকল ছোটখাটো কারিগরি দিকে নিয়মিত নজর রাখলে গুগলের নতুন অ্যালগরিদম আপডেটেও ওয়েবসাইট পুরোপুরি নিরাপদ থাকে। আপনার এসইও কৌশল দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে স্ট্রাকচার্ড ডেটার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
Warnings (হলুদ নোটিফিকেশন) কি ঠিক করা বাধ্যতামূলক?
না, Warnings বা “Recommended field missing” এররগুলো ঠিক করা বাধ্যতামূলক নয়। এগুলো ঠিক না করলেও পেজ ইনডেক্স হবে এবং রিচ রেজাল্ট দেখাতে পারে। তবে ভিডিও স্কিমায় ডুরেশন বা প্রোডাক্ট স্কিমায় ব্র্যান্ডের মতো অতিরিক্ত তথ্যগুলো যুক্ত করলে সার্চ রেজাল্টে পারফরম্যান্স ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ভ্যালিডেশন রিকোয়েস্ট ফেইল (Failed) হলে কী করবেন?
ভ্যালিডেশন ফেইল হওয়ার প্রধান কারণ হলো—সমস্যাটি ওয়েবসাইটের সব পেজ থেকে দূর হয়নি, অথবা ক্যাশে ক্লিয়ার না করায় গুগল পুরোনো কোডটিই ক্রল করেছে। ক্যাশে পুরোপুরি ক্লিয়ার করে Rich Results Test টুলে আবার যাচাই করুন এবং নতুন করে Validate Fix-এ ক্লিক করুন।
থিম পরিবর্তনের কারণে কি স্কিমা এরর হতে পারে?
হ্যাঁ, অনেক ওয়ার্ডপ্রেস থিমের নিজস্ব ইনবিল্ট স্কিমা মার্কআপ থাকে। থিম পরিবর্তন করলে আগের থিমের স্কিমা স্ট্রাকচার হারিয়ে যেতে পারে বা এসইও প্লাগইনের স্কিমার সঙ্গে কনফ্লিক্ট করতে পারে। থিমের ইনবিল্ট স্কিমা বন্ধ করে শুধুমাত্র একটি এসইও প্লাগইনের স্কিমা ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।

