বাংলাদেশে সোনা ও রুপোর দাম ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২৪ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ মূল্য। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে এই মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বর্তমান সোনার দাম: সম্পূর্ণ বিবরণ
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য তালিকা অনুসারে ডিসেম্বর ২০২৫ এর শেষ সপ্তাহে সোনার দাম রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ডিসেম্বরের শুরু থেকে পাঁচবার সোনার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভরি অনুযায়ী সোনার মূল্য
বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার ভরি প্রতি মূল্য নিম্নরূপ:
| ক্যারেট | প্রতি ভরি মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,২৬,২৮২ |
| ২১ ক্যারেট | ২,১৬,০১৭ |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৮৫,১৬৬ |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৫৪,৩১৫ |
এই মূল্য তালিকা থেকে স্পষ্ট যে ২২ ক্যারেট সোনা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা অতিক্রম করেছে। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ২৩ ডিসেম্বর রাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
গ্রাম অনুযায়ী সোনার দাম
প্রতি ভরি সোনার দামের পাশাপাশি গ্রাম হিসেবে মূল্য জানা জরুরি। যেহেতু এক ভরি সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম, সেই হিসেবে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার প্রতি গ্রামের আনুমানিক মূল্য:
| ক্যারেট | প্রতি গ্রাম মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ১৯,৪০০ (আনুমানিক) |
| ২১ ক্যারেট | ১৮,৫২০ (আনুমানিক) |
| ১৮ ক্যারেট | ১৫,৮৭৫ (আনুমানিক) |
| সনাতন পদ্ধতি | ১৩,২৩০ (আনুমানিক) |
ক্রেতাদের জন্য এই তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যারা ছোট পরিমাণে সোনা কিনতে ইচ্ছুক বা গহনা তৈরির জন্য নির্দিষ্ট গ্রাম সোনা প্রয়োজন।
আনা ও রতি হিসেবে সোনার মূল্য
ঐতিহ্যবাহী পরিমাপ পদ্ধতি অনুসারে সোনার দাম জানা অনেক ক্রেতার জন্য সুবিধাজনক। এক ভরিতে ১৬ আনা এবং এক আনায় ৬ রতি হয়। এই হিসেবে:
২২ ক্যারেট সোনার জন্য:
-
প্রতি আনা: প্রায় ১৪,১৪২ টাকা (২,২৬,২৮২ ÷ ১৬)
-
প্রতি রতি: প্রায় ২,৩৫৭ টাকা (১৪,১৪২ ÷ ৬)
২১ ক্যারেট সোনার জন্য:
-
প্রতি আনা: প্রায় ১৩,৫০১ টাকা
-
প্রতি রতি: প্রায় ২,২৫০ টাকা
১৮ ক্যারেট সোনার জন্য:
-
প্রতি আনা: প্রায় ১১,৫৭৩ টাকা
-
প্রতি রতি: প্রায় ১,৯২৯ টাকা
এই পরিমাপ পদ্ধতি বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় এখনও ব্যাপকভাবে প্রচলিত রয়েছে এবং অনেক ক্রেতা এই হিসেবেই সোনা ক্রয় করতে অভ্যস্ত।
রুপোর বর্তমান বাজার মূল্য
সোনার পাশাপাশি রুপোর দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজুসের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী রুপোর ভরিপ্রতি ১৭৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে রুপোর মূল্য নিম্নরূপ:
| ক্যারেট/ধরন | প্রতি ভরি মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ৫,১৩২ |
| ২১ ক্যারেট | ৪,৮৯৯ |
| ১৮ ক্যারেট | ৪,১৯৯ |
| সনাতন পদ্ধতি | ৩,১৪৯ |
গ্রাম অনুযায়ী রুপোর দাম
এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) হিসেবে রুপোর প্রতি গ্রামের আনুমানিক মূল্য:
| ক্যারেট/ধরন | প্রতি গ্রাম মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ৪৪০ (আনুমানিক) |
| ২১ ক্যারেট | ৪২০ (আনুমানিক) |
| ১৮ ক্যারেট | ৩৬০ (আনুমানিক) |
| সনাতন পদ্ধতি | ২৭০ (আনুমানিক) |
আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম ২০২৫ সালে প্রায় ১৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বব্যাপী রুপো এখন আউন্স প্রতি ৭৭.৩০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে, যা একটি নতুন রেকর্ড।
দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণসমূহ
বাংলাদেশে সোনা ও রুপোর দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে যা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন:
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
বিশ্ববাজারে সোনার দাম ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭৯ সালের পর এটি সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি, যা প্রায় ৭১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড এবং সিলভারের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। বাজুস তাদের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
মুদ্রা বিনিময় হার

মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশী টাকার মূল্যের ওঠানামা সোনার দামকে প্রভাবিত করে। যেহেতু সোনা আমদানি করতে হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর মূল্য ডলারে নির্ধারিত হয়, তাই বিনিময় হারের পরিবর্তন সরাসরি স্থানীয় দামের উপর প্রভাব ফেলে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে বৈশ্বিক মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা এই মূল্য বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারণ।
চাহিদা ও সরবরাহ
বাংলাদেশে বিবাহ ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য সোনার চাহিদা সারা বছরই থাকে। বিশেষ করে শীতকালে বিবাহের মৌসুমে সোনার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনাকে বেছে নেয়, যা চাহিদা আরও বাড়িয়ে দেয়।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা
বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার আশঙ্কাও সোনার দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
মূল্য বৃদ্ধির ধারা: ডিসেম্বর ২০২৫
ডিসেম্বর মাসে পাঁচবার সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ক্রেতাদের জন্য একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সোনার দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে:
-
১৬ ডিসেম্বর: ২২ ক্যারেট সোনা ভরিতে ২,১৭,০০০ টাকা (১,৪৭০ টাকা বৃদ্ধি)
-
২১ ডিসেম্বর: ২২ ক্যারেট সোনা ভরিতে ২,১৮,১১৭ টাকা
-
২৩ ডিসেম্বর: ২২ ক্যারেট সোনা ভরিতে ২,২২,০৮৩ টাকা (৩,৯৬৬ টাকা বৃদ্ধি)
-
২৪ ডিসেম্বর: ২২ ক্যারেট সোনা ভরিতে ২,২৬,২৮২ টাকা (৪,১৯৯ টাকা বৃদ্ধি)
মাত্র তিন দিনে এক ভরি সোনার দাম ৯ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে। বাজুস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী সপ্তাহগুলোতেও দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ভ্যাট ও মজুরি
বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, সোনার বিক্রয়মূল্যের সাথে আবশ্যিকভাবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। এর অর্থ হলো:
-
মূল সোনার দাম: যেমন ২,২৬,২৮২ টাকা (২২ ক্যারেট)
-
৫% ভ্যাট: ১১,৩১৪ টাকা
-
৬% মজুরি (ন্যূনতম): ১৩,৫৭৭ টাকা
-
মোট: প্রায় ২,৫১,১৭৩ টাকা প্রতি ভরি
ক্রেতাদের এই অতিরিক্ত খরচ সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত এবং কেনাকাটার সময় বিস্তারিত বিল চাওয়া প্রয়োজন।
হলমার্ক সচেতনতা
বাংলাদেশে হলমার্কযুক্ত সোনা কেনা বাধ্যতামূলক। হলমার্ক সোনার বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে এবং ক্রেতাদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করে। সোনা কেনার সময় নিশ্চিত করুন যে:
-
গহনায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর হলমার্ক আছে
-
ক্যারেট সংখ্যা স্পষ্টভাবে উল্লেখিত রয়েছে
-
বিক্রেতা থেকে সঠিক বিল ও ওয়ারেন্টি কার্ড সংগ্রহ করুন
হলমার্কযুক্ত সোনা বিক্রয় বা বিনিময়ের সময়ও ভালো মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে সোনায় বিনিয়োগ করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকা জরুরি। মূল স্বর্ণের মূল্যের সাথে ১৫% পলিশ কাটা, ৬% মজুরি এবং ৫% ভ্যাট মিলে মোট ২৬% খরচ বাদ যায়। তাই আজকে কেনা সোনার দাম ভবিষ্যতে ৪০% এর বেশি না বাড়লে সোনা বিনিয়োগে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে দীর্ঘমেয়াদে (৫-১০ বছর) সোনা একটি নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক তুলনা
বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের বাজারে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩০,৪৮০ ভারতীয় রুপি এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,১৯,৬০০ রুপি। বাংলাদেশী টাকায় রূপান্তর করলে এই দাম প্রায় সমান পর্যায়ে রয়েছে, যা নিশ্চিত করে যে আঞ্চলিক বাজার একই প্রবণতা অনুসরণ করছে।
বিশ্ব বাজারে সোনার দাম আউন্স প্রতি প্রায় ২,৬৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৫,৪৭,০০০ টাকা প্রতি আউন্স। এই হিসেবে স্থানীয় বাজারের দাম বৈশ্বিক মূল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা ও পূর্বাভাস
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ এবং বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন যে ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকেও সোনার দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। এর কারণগুলো হলো:
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকায় কেন্দ্রীয় বৈঙ্কগুলোর মুদ্রানীতি অনিশ্চিত রয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে জল্পনা চলছে, যা সোনার চাহিদা বাড়াতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঠেলে দেয়। সোনা ঐতিহ্যগতভাবে এমন সময়ে পছন্দের বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্থানীয় চাহিদা
বাংলাদেশে বিবাহের মৌসুম এবং বিভিন্ন উৎসবে সোনার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। আগামী কয়েক মাসে এই চাহিদার ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, যা দাম স্থিতিশীল বা ঊর্ধ্বমুখী রাখতে সহায়ক হবে।
ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
সঠিক সময়ে ক্রয়
যদিও দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবুও প্রয়োজন অনুসারে সোনা কিনতে দেরি না করাই ভালো। কারণ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন দাম আরও বাড়তে পারে। তবে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাজার পর্যবেক্ষণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশ্বস্ত বিক্রেতা নির্বাচন
শুধুমাত্র বাজুস-এর সদস্য এবং স্বীকৃত জুয়েলারী দোকান থেকে সোনা কিনুন। এতে হলমার্কের নিশ্চয়তা এবং ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
দাম তুলনা
একাধিক দোকান থেকে দাম জেনে নিন। যদিও বাজুস নির্ধারিত মূল্য সব জায়গায় একই, তবে মজুরিতে পার্থক্য থাকতে পারে। সরল ডিজাইনের গহনায় মজুরি কম হয়, যা মোট খরচ কমাতে সাহায্য করে।
নথি সংরক্ষণ
সোনা কেনার সময় প্রাপ্ত সব বিল, ওয়ারেন্টি কার্ড এবং হলমার্ক সার্টিফিকেট যত্নসহকারে সংরক্ষণ করুন। ভবিষ্যতে বিক্রয় বা বিনিময়ের সময় এগুলো প্রয়োজন হবে।
সোনা ও রুপোর দৈনিক মূল্য জানার উপায়
বাংলাদেশে সোনা ও রুপোর দাম প্রায়শই পরিবর্তিত হয়। সর্বশেষ মূল্য জানার জন্য:
-
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং সামাজিক মাধ্যম পেজ অনুসরণ করুন
-
নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যম যেমন যুগান্তর, প্রথম আলো, বিডি প্রতিদিন নিয়মিত পড়ুন
-
অনলাইন গোল্ড প্রাইস ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন যা দৈনিক আপডেট প্রদান করে
-
স্থানীয় বিশ্বস্ত জুয়েলারদের সাথে যোগাযোগ রাখুন
বাজুস সাধারণত বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে সাপ্তাহিক বা দ্বি-সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মূল্য সমন্বয় করে এবং সন্ধ্যায় বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যা পরদিন থেকে কার্যকর হয়।
শেষ কথা
বাংলাদেশে সোনা ও রুপোর দাম ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারী উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকায় স্থির হওয়া দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈশ্বিক বাজারের প্রভাবকে প্রতিফলিত করে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ক্রেতাদের জন্য হলমার্কযুক্ত সোনা কেনা, বিশ্বস্ত বিক্রেতা নির্বাচন এবং বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী নিকট ভবিষ্যতে দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, তাই সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সোনা শুধুমাত্র অলংকার নয়, বরং একটি নিরাপদ সম্পদ এবং জরুরি সময়ের আর্থিক নিরাপত্তা হিসেবেও বিবেচিত হয়, যা বাংলাদেশী সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে।


