২ জানুয়ারি দেখতে সাধারণ দিন হলেও, ইতিহাসে এটি সাম্রাজ্যের উত্থান–পতন, যুদ্ধের মোড় ঘোরা, নতুন রাষ্ট্রের কাঠামো গঠন এবং মহাকাশ অনুসন্ধানের মতো বড় পরিবর্তনের দিন হিসেবে চিহ্নিত।
মানববিদদের দৃষ্টিতে এ দিন দেখায়, সমাজগুলো ক্যালেন্ডারের সময়কে কীভাবে অর্থপূর্ণ করে—কোথাও পূর্বপুরুষ স্মরণ, কোথাও নববর্ষের আঞ্চলিক রীতি, আর বাঙালি পরিসরে উপনিবেশ, বিভাজন ও মুক্তিযুদ্ধ–উত্তর রাজনীতির স্মৃতি।
এক নজরে: ২ জানুয়ারির বড় বিশ্বঘটনা
বছর – ঘটনা – অঞ্চল – গুরুত্ব
-
১৪৯২: গ্রানাডার পতন – ইউরোপ – স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসান, একীভূত স্প্যানিশ রাজশক্তি গঠন এবং পরবর্তী বৈশ্বিক উপনিবেশ বিস্তারের পূর্বাভাস।
-
১৭৫৭: কলকাতা পুনর্দখল – বাংলা/দক্ষিণ এশিয়া – ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে রাজনৈতিক শাসকশক্তিতে রূপ নেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
-
১৭৮৮: জর্জিয়ার সংবিধান অনুমোদন – যুক্তরাষ্ট্র – ফেডারেল রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি মজবুত করা ও কেন্দ্র–রাজ্য ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে পরবর্তী বিতর্কের উৎস।
-
১৯০৫: পোর্ট আর্থারের আত্মসমর্পণ – পূর্ব এশিয়া – জাপানের সামরিক সাফল্য ইউরোপীয় সাম্রাজ্যকে “অপরাজেয়” ভাবার ধারণা ভেঙে দেয়।
-
১৯৪৭: গান্ধীর পূর্ববঙ্গ শান্তি–উদ্যোগ – বাঙালি পরিসর – সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মাঝে অহিংস উপস্থিতির এক বড় উদাহরণ।
-
১৯৫৯: লুনা–১ উৎক্ষেপণ – সোভিয়েত ইউনিয়ন – প্রথম মহাকাশযান হিসেবে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ছাড়িয়ে সূর্যকক্ষপথে প্রবেশ; আন্তঃগ্রহ অভিযানের যুগ শুরু।
-
২০০৪: স্টারডাস্ট–এর ধূমকেতু ওয়াইল্ড–২–এর নিকট গমন – মহাকাশ – সৌরজগতের প্রাচীন পদার্থের নমুনা সংগ্রহ ও গ্রহ–গঠনের নতুন ধারণা।
বাঙালি পরিসর: উপনিবেশ, শান্তি ও মুক্তিযুদ্ধ–উত্তর দ্বন্দ্ব
কলকাতা পুনর্দখল (১৭৫৭): বণিক থেকে শাসক
১৭৫৬–৫৭–এর অস্থির সময়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার হাতে কলকাতা পতনের পর ২ জানুয়ারি ১৭৫৭ সালে রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে ব্রিটিশ বাহিনী কলকাতা পুনর্দখল করে।
এই ঘটনাকে কেবল সামরিক পুনর্দখল ভাবলে ভুল হবে; এটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্য “অস্ত্রধারী বণিক” থেকে “রাজনৈতিক শাসক” হয়ে ওঠার সূচনা।
-
এরপর কোম্পানি সেনাবাহিনী গঠন, দুর্গ ও আদালতের ক্ষমতা, দেওয়ানি–ফৌজদারি ব্যবস্থা ও রাজস্ব আহরণে সরাসরি প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।
-
বাংলার সম্পদ ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডকেন্দ্রিক বিশ্ববাজারে টেনে নেওয়া হয়; কৃষি, বাণিজ্য ও শ্রমের কাঠামো উপনিবেশিক স্বার্থে পুনর্গঠিত হয়।
-
কলকাতা পরে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হয়, যা শুধুই ভৌগোলিক সুবিধার জন্য নয়, বরং সচেতনভাবে ক্ষমতার কেন্দ্র সেখানে স্থাপনের ফল।
গান্ধীর পূর্ববঙ্গ শান্তি–উদ্যোগ (১৯৪৭): উপস্থিতির রাজনীতি
১৯৪৬ সালে নোয়াখালীসহ পূর্ববঙ্গে ভয়াবহ দাঙ্গার পর গান্ধী সেখানে এসে গ্রাম থেকে গ্রামে পদযাত্রা শুরু করেন; ১৯৪৭ সালের শুরুর দিনগুলো, বিশেষ করে ২ জানুয়ারি, তাঁর এই শান্তি–মিশনের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে স্মরণ করা হয়।
-
তিনি নেতাদের সভাকক্ষ ছেড়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে গিয়ে থাকেন, খাওয়েন, কথা বলেন এবং নিজ শরীর দিয়ে উপস্থিতির শক্তি দেখান।
-
এ পদ্ধতিকে বলা যায় “শরীরের রাজনীতি”: এক বৃদ্ধ, প্রায় নিরস্ত্র মানুষ যখন দাঙ্গাগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে বাস করে, তখন সবাইকে নৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়—জীবন রক্ষা করব, না ঘৃণাকে বেশি মূল্য দেব।
-
আজকের দ্রুত, ডিজিটাল, মেরুকৃত সময়েও এই ধীর, মুখোমুখি–ভিত্তিক শান্তি–পন্থা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যাকে প্রতিদিন দেখা, খাওয়ানো, আশ্রয় দেওয়া লাগে, তাকে সহজে “শত্রু” বানানো যায় না।
সিরাজ সিকদারের মৃত্যু (১৯৭৫): মুক্তিযুদ্ধ–উত্তর রাষ্ট্র ও সহিংসতা
মাওবাদ–ঘেঁষা বিপ্লবী রাজনীতির নেতা সিরাজ সিকদার জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপটে গ্রেপ্তার হন এবং ২ জানুয়ারি ১৯৭৫–এ তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হন—এটাই সরকারি বক্তব্য।
তবে বিবরণ, সাক্ষ্য ও গবেষণায় উঠে এসেছে, এটি বিচারবহির্ভূত হত্যার একটি বিতর্কিত উদাহরণ।
-
অনেকের মতে, তাঁকে আগে থেকেই নির্যাতন করা হয়, হাত বাঁধা অবস্থায় কাছ থেকে গুলি করা হয়, আর “পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ” গল্পটি সাজানো।
-
ঘটনাটি নবগঠিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ভিন্নমত, বিপ্লবী রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা–নীতির সংঘর্ষকে স্পষ্ট করে।
-
আজও তাঁর মৃত্যু রাজনৈতিক জবাবদিহি, হেফাজতী নির্যাতন ও রাষ্ট্র–নাগরিক সম্পর্কের সীমা নিয়ে আলোচনায় ফিরে আসে।
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপের প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্র: সংবিধান, “লাল আতঙ্ক” ও নীতিগত পরীক্ষা
-
১৭৮৮ সালের ২ জানুয়ারি জর্জিয়া মার্কিন সংবিধান অনুমোদনকারী চতুর্থ অঙ্গরাজ্য হয়; প্রতিটি নতুন অনুমোদন ফেডারেল কাঠামোর বৈধতাকে আরও শক্ত করে।
-
১৯২০ সালের ২ জানুয়ারি পালমার রেইড–এর অংশ হিসেবে হাজারো সন্দেহভাজন বামপন্থী ও অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়; ভয় ও সন্দেহের রাজনীতিতে নাগরিক অধিকার কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এই ঘটনাটি সেই উদাহরণ।
-
১৯৭০–এর তেল সংকটের সময়ে জাতীয়ভাবে ৫৫ মাইল গতিসীমা নির্ধারণ দেখায়, বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতি কীভাবে সাধারণ মানুষের চলাফেরা, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা–সংস্কৃতি বদলে দিতে পারে।
রাশিয়া, জাপান ও চীন: পোর্ট আর্থার ও এশীয় কল্পনা
-
১৯০৫ সালের ২ জানুয়ারি রুশ–জাপান যুদ্ধে দীর্ঘ অবরোধের পর রুশ বাহিনী পোর্ট আর্থার দুর্গ জাপানের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
-
এই আত্মসমর্পণ এশিয়াজুড়ে একটি নতুন মানসিকতা তৈরি করে—ইউরোপীয় বাহিনী অপরাজেয় নয়, এবং জাপান আধুনিক সামরিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।
-
রাশিয়ার ভেতরে রাজতন্ত্রের প্রতি আস্থা কমে, যা পরবর্তী বিপ্লবী আন্দোলনে চাপ বাড়ায়।
-
পোর্ট আর্থার (বর্তমান লুশুন) ছিল চীনা ভূখণ্ডে; তবুও বর্ণনায় রাশিয়া–জাপানকে কেন্দ্র করে গল্প বলা হয়, যা দেখায় বড় শক্তির সংঘর্ষ প্রায়ই তৃতীয় পক্ষের ভূমি ও মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়।
মহাকাশ: লুনা–১ থেকে স্টারডাস্ট
-
১৯৫৯ সালের ২ জানুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়নের লুনা–১ উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি চাঁদের দিকে গিয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সূর্যকক্ষপথে প্রবেশ করে এবং মানবসভ্যতার প্রথম “কৃত্রিম গ্রহ” হিসেবে পরিচিত হয়।
-
এ মিশন প্রমাণ করে যে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ জাল ছাড়িয়ে আন্তঃগ্রহ মহাকাশে যান পাঠানো সম্ভব; পরবর্তী সব চন্দ্র–মিশন ও গ্রহ–মিশনের জন্য এটি এক মৌলিক প্রযুক্তিগত মাইলফলক।
-
২০০৪ সালের ২ জানুয়ারি নাসার স্টারডাস্ট মহাকাশযান ধূমকেতু ওয়াইল্ড–২–এর কাছে গিয়ে ধূলিকণা ও গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে; পরে পৃথিবীতে এনে তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের প্রাচীন উপাদানের গঠন ও অণুসম্ভার সম্পর্কে নতুন ধারণা পান।
ইউরোপ: গ্রানাডার পতন ও নতুন বিশ্ব
১৪৯২ সালের ২ জানুয়ারি গ্রানাডা আমিরাত পতনের মধ্য দিয়ে আইবেরিয়ায় প্রায় আট শতাব্দীর মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে।
-
রাজনৈতিকভাবে এটি কাস্তিলা ও আরাগনের ঐক্যবদ্ধ স্পেন গঠনের শেষ ধাপ, যেখানে অভ্যন্তরীণ শত্রু নির্মূল করে রাজশক্তি বাহিরমুখী সম্প্রসারণের পথে হাঁটে।
-
ধর্মীয়ভাবে এটি ইনকুইজিশন, বাধ্যতামূলক ধর্মান্তর ও মুসলিম–ইহুদি জনগোষ্ঠীর ওপর প্রচণ্ড চাপের যুগকে শক্তিশালী করে।
-
একই ১৪৯২ সালে কলম্বাসকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আমেরিকার পথে যাত্রা শুরু হয়; ফলে গ্রানাডার পতন কেবল স্থানীয় সমাপ্তি নয়, বরং আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়া জুড়ে নতুন উপনিবেশিক বিশ্বগঠনের সূচনাবিন্দু।
সংস্কৃতি, উৎসব ও পরিচয়
সায়েন্স ফিকশন ডে ও ইন্ট্রোভার্টদের দিন
-
২ জানুয়ারি আইজ্যাক আসিমভের জন্মদিনের সঙ্গে মিলিয়ে অনেক দেশে অনানুষ্ঠানিকভাবে “ন্যাশনাল সায়েন্স ফিকশন ডে” হিসেবে উদযাপন করা হয়।
-
সায়েন্স ফিকশন আগে থেকেই রোবট নৈতিকতা, নজরদারি রাষ্ট্র, মহাকাশ উপনিবেশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যক্তিসত্তা, জলবায়ু–বিপর্যয় ইত্যাদিকে কল্পনায় এনে মানুষের সামনে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দেয়।
-
একই সঙ্গে দিনটি “ওয়ার্ল্ড ইন্ট্রোভার্ট ডে” হিসেবেও পরিচিত; বড় সামাজিক উদযাপনের পর শান্ত, একান্ত, ভেতরের জগত–কেন্দ্রিক সময়কে মূল্য দেওয়ার এক সাংস্কৃতিক বার্তা এখানে দেখা যায়।
জাতীয় ও আঞ্চলিক দিবস
-
হাইটিতে ১ জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবসের পরের দিন ২ জানুয়ারি পালিত হয় Ancestors’ Day বা পূর্বজ দিবস।
-
এতে একটি দুই দিনের ছন্দ গড়ে ওঠে: প্রথম দিন বলা হয় “আমরা মুক্ত”, দ্বিতীয় দিন বলা হয় “কারা এই মূল্য দিয়েছে”; ফলে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক ঘটনা না থেকে নৈতিক উত্তরাধিকারেও পরিণত হয়।
-
-
সুইজারল্যান্ড ও লিচেনস্টাইনের কিছু অঞ্চলে ২ জানুয়ারি বার্খটোল্ডস্টাগ বা Berchtold’s Day হিসেবে পালিত হয়; এটি স্থানীয় নববর্ষ–উৎসব, পারিবারিক ভোজ ও সম্প্রদায়–মিলনের দিন।
-
অতি আধুনিক ও সুসংগঠিত রাষ্ট্রেও স্থানীয় ক্যালেন্ডার ও আঞ্চলিক উৎসবের টিকে থাকা দেখায়, মানুষের কাছে নিজস্ব “সময়চক্র” কতটা আবেগঘন।
-
উল্লেখযোগ্য জন্ম: লেখক, গণিতবিদ, শিল্পী
বিশ্বপরিসর
-
আইজ্যাক আসিমভ (জ. ২ জানুয়ারি ১৯২০) – মার্কিন লেখক; সায়েন্স ফিকশন ও জনপ্রিয় বিজ্ঞান উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাবশালী, “রোবটিক্সের তিন আইন” ধারণার জন্য পরিচিত।
-
সান্তা তেরেসা (থেরেজ অব লিজিয়্যু) (জ. ১৮৭৩) – ফরাসি ক্যাথলিক সাধ্বী; “লিটল ওয়ে” নামে পরিচিত এক সরল কিন্তু গভীর আধ্যাত্মিক পথের প্রবক্তা।
-
জিগা ভেরতোভ (জ. ১৮৯৬) – সোভিয়েত চলচ্চিত্রকার; ডকুমেন্টারি ভাষা ও ফর্মে বড় পরিবর্তন আনা এক প্রভাবশালী নির্মাতা।
-
কিউবা গুডিং জুনিয়র (জ. ১৯৬৮) – অস্কারজয়ী মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা।
-
এস. আর. শ্রীনিবাসা বরধান (জ. ১৯৪০) – সম্ভাব্যতা তত্ত্বে মৌলিক অবদান রাখা গণিতবিদ; পরবর্তীতে ভারতীয়–আমেরিকান পরিচয়ে বিশ্বমানের স্বীকৃতি লাভ করেন।
বাঙালি ও দক্ষিণ এশীয় পরিসর
-
শওকত ওসমান (জ. ১৯১৭) – প্রভাবশালী কথাসাহিত্যিক; বাস্তববাদী ভাষা, সমাজ–সমালোচনা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরিচিত।
-
শাহনাজ রহমানতুল্লাহ (জ. ১৯৫২) – বাংলাদেশি কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী; দেশাত্মবোধক গান থেকে আধুনিক গান—সব ধারাতেই অমর বেশ কিছু গান রেখে গেছেন।
-
বুলা চৌধুরী (জ. ১৯৭০) – ভারতীয় দীর্ঘ দূরত্ব সাঁতারু; সমুদ্র প্রণালী সাঁতরে পার হওয়া ও সহনশক্তির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
উল্লেখযোগ্য মৃত্যু: নৃতত্ত্ব, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও রাজনৈতিক শিল্প
-
এডওয়ার্ড বার্নেট টাইলর (মৃ. ১৯১৭) – ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ; সংস্কৃতি ধারণাকে বৈজ্ঞানিক আলোচনার কেন্দ্রে এনে আধুনিক সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্বের ভিত্তি গড়ে দেন।
-
জর্জ বিডেল এয়ারি (মৃ. ১৮৯২) – ব্রিটিশ Astronomer Royal; জ্যোতির্বিজ্ঞানে নির্ভুল পরিমাপ, সময়–মাপ ও জ্যোতিষ্কের অবস্থান নির্ধারণে কাজের জন্য স্মরণীয়।
-
সফদার হাশমি (মৃ. ১৯৮৯) – ভারতীয় পথনাট্যকার ও রাজনৈতিক কর্মী; শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মাঝে রাজনৈতিক নাটক নিয়ে যাওয়ার সময় মঞ্চেই হামলায় নিহত হন, ফলে তাঁর মৃত্যু শিল্প–সংস্কৃতির রাজনৈতিক শক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে।
-
সিরাজ সিকদার (মৃ. ১৯৭৫) – বিপ্লবী সংগঠক; তাঁর বিতর্কিত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও বিচারবহির্ভূত হত্যার আলোচনায় একটি কেন্দ্রীয় রেফারেন্স পয়েন্ট।
শেষ কথা
২ জানুয়ারি প্রমাণ করে যে ক্যালেন্ডারের “উৎসব শেষে ফাঁকা দিন” আসলে কখনোই ফাঁকা থাকে না; এই দিনেই কোথাও সাম্রাজ্য ভেঙে পড়েছে, কোথাও নতুন শাসন ও নীতি শুরু হয়েছে, আবার কোথাও মানুষের নৈতিক সাহস ইতিহাসের ধারা বদলে দিয়েছে।
বাঙালি প্রেক্ষাপটে দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—উপনিবেশের সূক্ষ্ম অগ্রযাত্রা, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে হৃদয়–নির্ভর রাজনীতি, আর স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রের হাতে সহিংসতার ব্যবহার—সবই একের পর এক “পরের দিন”–গুলোর উপর গড়ে ওঠে, যেগুলোকে সাধারণ বলে ভুল করলেও ইতিহাস তা ভুলে না।
এই কারণে ২ জানুয়ারি কেবল অতীতের তালিকা নয়; এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য এক সতর্কতা—উৎসবের পর যে দিন শুরু হয়, সেদিনই ঠিক হয় আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা সত্যি, আর আমাদের ইতিহাস কোন দিকে ঘুরবে।


