বাড়িতেই ফিটনেস: জিম ছাড়াই ফিট থাকার সেরা ১০টি উপায়

সর্বাধিক আলোচিত

জিমে যাওয়ার সময় বা সুযোগ না থাকলেও ঘরে বসে ফিট থাকা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব । বাড়িতে ফিটনেস এখন শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং ২০২৫ সালের অন্যতম জনপ্রিয় ফিটনেস ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে । গবেষণায় দেখা গেছে যে বডিওয়েট ট্রেনিং কোনো বিশেষ সরঞ্জাম ছাড়াই হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং মাত্র ১১ মিনিটের সাধারণ ব্যায়াম রুটিনও কার্ডিওরেসপিরেটরি ফিটনেস উন্নত করতে সক্ষম । বর্তমান ব্যস্ত জীবনে বাড়িতে ফিটনেস একটি সাশ্রয়ী, সুবিধাজনক এবং কার্যকর সমাধান।​

কেন বাড়িতে ফিটনেস করা জরুরি?

আধুনিক জীবনযাত্রায় অফিসের কাজ, পরিবারের দায়িত্ব এবং যাতায়াতের ঝামেলার মধ্যে জিমে যাওয়ার সময় বের করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বাড়িতে ফিটনেস এই সমস্যার একটি বাস্তবসম্মত সমাধান। জিম মেম্বারশিপের খরচ বাঁচানো যায়, নিজের সুবিধামতো সময়ে ব্যায়াম করা যায় এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে একসাথে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব হয় ।​

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে ঘরে ব্যায়াম করলেও কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়। একটি নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় দেখা গেছে যে ৫০ জন জিম-যাওয়া এবং ৫০ জন ঘরে-ব্যায়ামকারীর মধ্যে এক মাস পর উভয় গ্রুপেই শরীরের ওজন, কোমরের পরিধি এবং বিএমআই-তে উল্লেখযোগ্য উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে । এছাড়াও সপ্তাহে মাত্র ৫০০ ক্যালোরি অতিরিক্ত খরচ করলেই মৃত্যুঝুঁকি কমে যায়, যা দিনে মাত্র ৭০ ক্যালোরি বার্ন করার সমান ।​

বাড়িতে ফিটনেস শুরু করার আগে যা জানা প্রয়োজন

সঠিক মানসিকতা ও লক্ষ্য নির্ধারণ

বাড়িতে ফিটনেস শুরুর আগে মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং ধৈর্য ধরে কাজ করুন। ছোট থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যায়ামের তীব্রতা ও সময় বাড়ান । মনে রাখবেন, ধারাবাহিকতাই সফলতার চাবিকাঠি।​

উপযুক্ত স্থান নির্বাচন

ঘরের একটি নির্দিষ্ট কোণ বা জায়গা ব্যায়ামের জন্য নির্ধারণ করুন যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস রয়েছে । স্থানটি পরিষ্কার এবং নিরাপদ হওয়া উচিত। ব্যালকনি, ছাদ বা বসার ঘরের যেকোনো খোলা জায়গা ব্যবহার করতে পারেন।​

প্রাথমিক প্রস্তুতি

কোনো ব্যয়বহুল সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। একটি যোগ ম্যাট বা বড় তোয়ালে, আরামদায়ক পোশাক এবং পানির বোতল যথেষ্ট । শুরুতে বডিওয়েট এক্সারসাইজ দিয়ে শুরু করুন, পরে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সরঞ্জাম যোগ করতে পারেন।​

বাড়িতে ফিট থাকার সেরা ১০টি উপায়

১. বডিওয়েট এক্সারসাইজ: কোনো যন্ত্র ছাড়াই কার্যকর

বডিওয়েট এক্সারসাইজ হলো ঘরে বসে ফিট থাকার সবচেয়ে কার্যকর এবং সহজ উপায় । এই ব্যায়ামগুলির জন্য কোনো সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না এবং যেকোনো স্থানে করা যায়। পুশ-আপ বুক, কাঁধ এবং হাতের মাংসপেশি শক্তিশালী করে, স্কোয়াট পায়ের মাংসপেশি এবং নিতম্ব মজবুত করে এবং প্ল্যাঙ্ক কোর মাসল শক্তিশালী করতে ও পেটের চর্বি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর । গবেষণায় দেখা গেছে যে সাধারণ বডিওয়েট ট্রেনিং সপ্তাহে তিনদিন ছয় সপ্তাহ অনুশীলন করলে নিষ্ক্রিয় প্রাপ্তবয়স্কদের হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বৃদ্ধি করতে পারে ।​

ব্যায়াম লক্ষ্য মাংসপেশি সেট ও পুনরাবৃত্তি উপকারিতা
পুশ-আপ বুক, কাঁধ, ট্রাইসেপস ৩ সেট × ১০-১৫ বার উপরের শরীর শক্তিশালী করে
স্কোয়াট পা, নিতম্ব, কোর ৩ সেট × ১৫-২০ বার পায়ের শক্তি বৃদ্ধি করে
প্ল্যাঙ্ক কোর, পেট ৩ সেট × ৩০-৬০ সেকেন্ড পেটের চর্বি কমায়
লাঞ্জেস পা, নিতম্ব ৩ সেট × ১০-১২ বার প্রতি পায়ে ব্যালেন্স ও শক্তি বাড়ায়

২. যোগব্যায়াম: শরীর ও মনের সম্পূর্ণ সুস্থতা

যোগব্যায়াম শুধু শারীরিক সুস্থতা নয়, মানসিক স্বাস্থ্যও উন্নত করে । বাড়িতে ফিটনেস রুটিনে যোগব্যায়াম যুক্ত করলে নমনীয়তা বৃদ্ধি পায়, মানসিক চাপ কমে এবং শরীরের ভারসাম্য উন্নত হয়। সূর্য নমস্কার সম্পূর্ণ শরীরের ওয়ার্কআউট, বৃক্ষাসন ব্যালেন্স বৃদ্ধি করে এবং শবাসন শরীর ও মনকে শিথিল করে। প্রতিদিন সকালে ১৫-২০ মিনিট যোগব্যায়াম অনুশীলন করলে সারাদিন শক্তি ও তৃপ্তি অনুভব হয় ।​

যোগাসন সময়কাল প্রধান উপকারিতা উপযুক্ত সময়
সূর্য নমস্কার ১০-১৫ মিনিট সম্পূর্ণ শরীর সক্রিয় করে সকাল
ভুজঙ্গাসন ৩০-৬০ সেকেন্ড পিঠের ব্যথা কমায় যেকোনো সময়
ত্রিকোণাসন ৩০ সেকেন্ড × ২ পাশে হজমশক্তি বৃদ্ধি করে সন্ধ্যা
শবাসন ৫-১০ মিনিট মানসিক চাপ দূর করে ব্যায়ামের পরে

৩. জাম্পিং জ্যাক ও কার্ডিও এক্সারসাইজ

হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে এবং ক্যালোরি দ্রুত বার্ন করতে কার্ডিও এক্সারসাইজ অপরিহার্য । জাম্পিং জ্যাক, হাই নিজ এবং বার্পিজ এমন ব্যায়াম যা ছোট জায়গায় করা যায় এবং সম্পূর্ণ শরীরকে সক্রিয় করে। বার্পিজ বিশেষভাবে কার্যকর কারণ এটি হাত, বুক, পেট এবং পায়ের মাংসপেশি একসাথে কাজ করায় । দৈনিক ২০-৩০ মিনিট কার্ডিও করলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে ।​

ব্যায়াম ক্যালোরি বার্ন (প্রতি ১০ মিনিট) তীব্রতা শুরুর জন্য সেট
জাম্পিং জ্যাক ৮০-১০০ ক্যালোরি মধ্যম ৩ সেট × ২০-৩০ বার
হাই নিজ ৯০-১২০ ক্যালোরি উচ্চ ৩ সেট × ৩০ সেকেন্ড
বার্পিজ ১০০-১৫০ ক্যালোরি খুব উচ্চ ৩ সেট × ১০-১৫ বার
মাউন্টেন ক্লাইম্বার ৮৫-১১০ ক্যালোরি উচ্চ ৩ সেট × ২০-৩০ বার

৪. সিঁড়ি বেয়ে ওঠা: সহজ কিন্তু শক্তিশালী

বাড়িতে সিঁড়ি থাকলে এটি একটি দুর্দান্ত কার্ডিও টুল। প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করলে পায়ের মাংসপেশি শক্তিশালী হয়, হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং ক্যালোরি দ্রুত বার্ন হয় । এই ব্যায়ামে কোনো বিশেষ দক্ষতা বা সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। শুরুতে ধীর গতিতে ৫ মিনিট করে শুরু করুন, পরে ধীরে ধীরে সময় ও গতি বাড়ান ।​

সিঁড়ি ব্যায়ামের ধরন সময় ক্যালোরি বার্ন লক্ষ্য
সাধারণ ওঠানামা ১৫ মিনিট ১২০-১৫০ ক্যালোরি সাধারণ ফিটনেস
দ্রুত ওঠানামা ১০ মিনিট ১৫০-২০০ ক্যালোরি কার্ডিও তীব্রতা
দুই ধাপ এক সাথে ১০ মিনিট ১৪০-১৮০ ক্যালোরি পায়ের শক্তি
পার্শ্ব ধাপ ১০ মিনিট ১৩০-১৬০ ক্যালোরি নিতম্বের মাংসপেশি

10 Ways to Stay Fit Without the Gym

৫. ঘরের জিনিসপত্র ব্যবহার করে ওয়েট ট্রেনিং

ডাম্বেল না থাকলেও চিন্তার কিছু নেই। পানির বোতল, চালের বস্তা বা ব্যাগ ভরে ওজন তৈরি করতে পারেন । এগুলো দিয়ে বাইসেপ কার্ল, শোল্ডার প্রেস এবং ট্রাইসেপস এক্সটেনশন করা যায়। মেয়েদের জন্য ২-৩ কেজি এবং পুরুষদের জন্য ৫-৭ কেজি ওজন দিয়ে শুরু করা ভালো । সপ্তাহে ৩-৪ দিন এই ব্যায়ামগুলো করলে হাতের মাংসপেশি দৃঢ় হয় এবং শক্তি বৃদ্ধি পায়।​

ব্যায়াম ঘরোয়া সরঞ্জাম পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য মাংসপেশি
বাইসেপ কার্ল পানির বোতল (২ লিটার) ৩ সেট × ১২-১৫ বার বাইসেপস
শোল্ডার প্রেস চালের ব্যাগ (৫ কেজি) ৩ সেট × ১০-১২ বার কাঁধ
ট্রাইসেপস এক্সটেনশন পানির বোতল ৩ সেট × ১২-১৫ বার ট্রাইসেপস
গবলেট স্কোয়াট ভারী বই বা ব্যাগ ৩ সেট × ১৫ বার পা ও কোর

৬. নিয়মিত স্ট্রেচিং: নমনীয়তা বৃদ্ধি করুন

প্রতিদিন সকালে এবং ব্যায়ামের আগে-পরে স্ট্রেচিং করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । স্ট্রেচিং পেশি শিথিল রাখে, আঘাতের ঝুঁকি কমায় এবং শরীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে। হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেচ, কোয়াড্রিসেপস স্ট্রেচ, ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ এবং শোল্ডার স্ট্রেচ দৈনিক রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করুন। প্রতিটি স্ট্রেচ ২০-৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং ৩-৪ বার পুনরাবৃত্তি করুন ।​

স্ট্রেচিং ধরন সময়কাল সেরা সময় উপকারিতা
নেক স্ট্রেচ ৩০ সেকেন্ড × ৩ বার সকাল/সন্ধ্যা ঘাড়ের ব্যথা কমায়
হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেচ ৩০ সেকেন্ড × ৩ বার ব্যায়ামের পরে পায়ের নমনীয়তা
ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ ১ মিনিট সকাল মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্য
শোল্ডার স্ট্রেচ ৩০ সেকেন্ড × ৩ বার যেকোনো সময় কাঁধের দৃঢ়তা দূর করে

৭. অনলাইন ফিটনেস ক্লাস ও অ্যাপ ব্যবহার

২০২৫ সালে হোম ফিটনেস প্রযুক্তি অত্যন্ত উন্নত হয়েছে । ইউটিউব, ফিটনেস অ্যাপ বা লাইভ ক্লাসের মাধ্যমে পেশাদার প্রশিক্ষকদের গাইডেন্স নিয়ে ঘরে ব্যায়াম করা যায় । ওয়্যারেবল টেকনোলজি যেমন ফিটনেস ট্র্যাকার এবং স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করে আপনার অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে মনিটর করতে পারেন । এআই-পাওয়ারড স্মার্ট মিরর এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সিস্টেম লিভিং স্পেসকে একটি নিমগ্ন ওয়ার্কআউট পরিবেশে রূপান্তরিত করে ।​​

প্ল্যাটফর্ম/অ্যাপ ধরন বিশেষত্ব খরচ
ইউটিউব ভিডিও ক্লাস বিনামূল্যে বাংলা ও ইংরেজি ক্লাস বিনামূল্য
ফিটবিট ফিটনেস ট্র্যাকার ওয়্যারেবল ডিভাইস সংযোগ প্রিমিয়াম
হোম ওয়ার্কআউট অ্যাপ মোবাইল অ্যাপ কাস্টমাইজড রুটিন বিনামূল্য/প্রিমিয়াম
লাইভ ক্লাস অনলাইন প্রশিক্ষক রিয়েল-টাইম ফিডব্যাক পেইড

৮. হাঁটা ও দৌড়ানো: ছাদ বা ব্যালকনিতে

ছাদ বা ব্যালকনিতে হাঁটা বা হালকা জগিং করা একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ব্যায়াম । এটি কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং কোনো সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। সকালে ২০-৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা শরীরকে চাঙ্গা রাখে এবং মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে । স্পট জগিং (একই জায়গায় দৌড়ানো) ছোট জায়গায় করা যায় এবং সমান কার্যকর।​

ব্যায়ামের ধরন সময় ক্যালোরি বার্ন উপযুক্ত
হালকা হাঁটা ৩০ মিনিট ১০০-১২০ ক্যালোরি শুরুর জন্য
দ্রুত হাঁটা ৩০ মিনিট ১৫০-২০০ ক্যালোরি মধ্যম ফিটনেস
স্পট জগিং ২০ মিনিট ১৮০-২৫০ ক্যালোরি উচ্চ তীব্রতা
ইন্টারভাল ওয়াকিং ২৫ মিনিট ১৭০-২২০ ক্যালোরি ওজন কমানোর জন্য

৯. নাচ: মজার উপায়ে ক্যালোরি বার্ন

নাচ হলো একটি আনন্দদায়ক উপায়ে বাড়িতে ফিটনেস বজায় রাখার । জুম্বা, বলিউড নাচ বা নিজের পছন্দের গানে মুক্ত নাচ করে মজা করার সাথে সাথে প্রচুর ক্যালোরি বার্ন করা যায়। নাচ শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যও উন্নত করে এবং স্ট্রেস কমায় । প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট নাচলে কার্ডিও এক্সারসাইজের উপকার পাওয়া যায়।​

নাচের ধরন ক্যালোরি বার্ন (প্রতি ৩০ মিনিট) তীব্রতা উপযুক্ত
জুম্বা ২৫০-৩৫০ ক্যালোরি উচ্চ সবার জন্য
বলিউড নাচ ২০০-৩০০ ক্যালোরি মধ্যম শুরুর জন্য
হিপ-হপ ২৫০-৪০০ ক্যালোরি খুব উচ্চ উন্নত স্তর
ফ্রিস্টাইল ১৮০-২৮০ ক্যালোরি মধ্যম সবার জন্য

১০. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার

বাড়িতে ফিটনেস শুধু ব্যায়াম নয়, সঠিক বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবারও অপরিহার্য । প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা মানসম্পন্ন ঘুম পেশি পুনর্গঠন এবং শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য জরুরি । প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মুরগি, ডাল, ফলমূল, শাকসবজি এবং বাদাম খান। প্রতিদিন ২-৩ লিটার পানি পান করুন এবং ব্যায়ামের ১-২ ঘণ্টা আগে হালকা খাবার খান ।​​

পুষ্টি উপাদান দৈনিক প্রয়োজন উৎস উপকারিতা
প্রোটিন শরীরের ওজনের প্রতি কেজিতে ১-১.৫ গ্রাম ডিম, মাছ, মাংস, ডাল মাংসপেশি তৈরি করে
জটিল শর্করা ৪৫-৬৫% ক্যালোরি লাল চাল, লাল আটা, ওটস শক্তি প্রদান করে
স্বাস্থ্যকর চর্বি ২০-৩৫% ক্যালোরি বাদাম, মাছের তেল, অলিভ অয়েল হরমোন ভারসাম্য রক্ষা করে
পানি ২-৩ লিটার পানি, ডাবের পানি শরীর হাইড্রেটেড রাখে

বাড়িতে ফিটনেস রুটিন তৈরির কৌশল

একটি কার্যকর বাড়িতে ফিটনেস রুটিন তৈরি করতে সাপ্তাহিক প্ল্যান করা জরুরি। সপ্তাহে কমপক্ষে ৪-৫ দিন ৩০-৪৫ মিনিট ব্যায়াম করার লক্ষ্য রাখুন । সোমবার ও বৃহস্পতিবার শক্তি প্রশিক্ষণ, মঙ্গলবার ও শুক্রবার কার্ডিও, বুধবার যোগব্যায়াম এবং শনিবার মিশ্র ব্যায়াম করতে পারেন। বৈচিত্র্য আনতে একই ব্যায়াম বারবার না করে বিভিন্ন ধরনের এক্সারসাইজ মিশিয়ে করুন । নোটবুক বা ফিটনেস অ্যাপে আপনার ব্যায়াম রেকর্ড রাখুন এবং অগ্রগতি ট্র্যাক করুন ।​

বাড়িতে ফিটনেস করার অসাধারণ সুবিধা

বাড়িতে ফিটনেস অনুশীলন করলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায় । সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হয় কারণ জিম মেম্বারশিপ এবং যাতায়াতের খরচ বাঁচে। নিজের গতিতে এবং পছন্দের সময়ে ব্যায়াম করার স্বাধীনতা পাওয়া যায়। পরিবারের সবাই মিলে একসাথে ব্যায়াম করা যায় যা সম্পর্ক মজবুত করে এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলে । হাইব্রিড মেম্বারশিপের মতো আধুনিক সমাধান ঘর এবং জিম উভয় স্থানেই ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়ার সুবিধা দেয় ।​

এড়িয়ে চলুন এই সাধারণ ভুলগুলো

বাড়িতে ফিটনেস করার সময় কিছু সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি । ওয়ার্ম-আপ না করে সরাসরি ব্যায়াম শুরু করলে আঘাতের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত ব্যায়াম করে শরীরে চাপ দেবেন না, বিশ্রাম নেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভুল ভঙ্গিতে ব্যায়াম করলে কোনো উপকার হয় না এবং আঘাত হতে পারে, তাই প্রয়োজনে ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখুন । ব্যায়ামের সময় এবং পরে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে ডিহাইড্রেশন হতে পারে ।​​

আজই শুরু করুন বাড়িতে ফিটনেস যাত্রা

জিম ছাড়াই ঘরে বসে ফিট থাকা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব এবং অত্যন্ত কার্যকর। বাড়িতে ফিটনেস শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং আধুনিক জীবনযাত্রায় একটি বাস্তবসম্মত এবং টেকসই সমাধান । ছোট পদক্ষেপে শুরু করুন, প্রতিদিন ২০ মিনিট দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়ান। নিয়মিত অনুশীলন এবং ধৈর্য ধরলে অবশ্যই ফলাফল পাবেন। মনে রাখবেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য ধারাবাহিকতাই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য বাড়িতে ফিটনেস একটি দুর্দান্ত এবং কার্যকর বিকল্প।​

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১. বাড়িতে ফিটনেস করতে কি বিশেষ কোনো যন্ত্রপাতি লাগে?

না, বডিওয়েট এক্সারসাইজ, যোগব্যায়াম এবং কার্ডিও দিয়ে কোনো যন্ত্র ছাড়াই শুরু করা যায় । শুরুতে একটি যোগ ম্যাট বা তোয়ালে এবং আরামদায়ক পোশাক যথেষ্ট। পরে প্রয়োজনে পানির বোতল বা ঘরের অন্যান্য জিনিস ব্যবহার করে ওজন তৈরি করতে পারেন ।​

২. প্রতিদিন কতক্ষণ ব্যায়াম করা উচিত?

শুরুতে ২০-৩০ মিনিট এবং ধীরে ধীরে ৪৫-৬০ মিনিট পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে । সপ্তাহে কমপক্ষে ৪-৫ দিন ব্যায়াম করা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে যে দৈনিক ১১ মিনিটের সাধারণ বডিওয়েট ব্যায়ামও হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বৃদ্ধি করতে পারে ।​

৩. ওজন কমাতে বাড়িতে ব্যায়াম কতটা কার্যকর?

বাড়িতে ব্যায়াম ওজন কমাতে খুবই কার্যকর। কার্ডিও এক্সারসাইজ, হাই ইন্টেনসিটি ট্রেনিং এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের সাথে ঘরে ব্যায়াম করে ওজন কমানো সম্ভব । একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ঘরে ব্যায়ামকারীরা কোমরের পরিধি এবং বিএমআই-তে উল্লেখযোগ্য উন্নতি অর্জন করেছেন ।​

৪. বাড়িতে ব্যায়াম করার সেরা সময় কখন?

সকালে খালি পেটে বা সন্ধ্যায় যেকোনো সময় করতে পারেন । আপনার সুবিধামতো একটি নির্দিষ্ট সময় বেছে নিন এবং প্রতিদিন সেই সময়েই ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। নিয়মিততা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।​

৫. ঘরে ব্যায়াম করার সময় কীভাবে নিজেকে মোটিভেটেড রাখবো?

স্পষ্ট এবং বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং নোটবুক বা অ্যাপে অগ্রগতি ট্র্যাক করুন । পরিবারের সদস্যদের সাথে একসাথে ব্যায়াম করুন এবং অনলাইন ফিটনেস কমিউনিটিতে যুক্ত হন । প্রতি সপ্তাহে ছোট ছোট মাইলস্টোন পূরণ করলে নিজেকে পুরস্কৃত করুন।​​

৬. বাড়িতে ব্যায়ামের জন্য কোন খাবার খাওয়া ভালো?

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মুরগি, মাছ এবং ডাল খান । ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন । ব্যায়ামের ১-২ ঘণ্টা আগে হালকা শর্করা ও প্রোটিন যুক্ত খাবার এবং ব্যায়ামের পরে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান ।

সর্বশেষ