২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ড্র প্রকাশ: ৪৮ দেশের মহাযুদ্ধ শুরু হবে ১১ জুন থেকে – জানুন সম্পূর্ণ ফিক্সচার ও গ্রুপ বিন্যাস

সর্বাধিক আলোচিত

ফিফা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের ড্র সম্পন্ন হয়েছে ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে, যেখানে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করবে এই মেগা টুর্নামেন্ট, যা শুরু হবে ২০২৬ সালের ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে এবং সমাপ্তি ঘটবে ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ড্রতে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ব্রাজিল, স্পেন এবং ইংল্যান্ডের মতো দিকপালদের পাশাপাশি তিন আয়োজক দেশও নিজ নিজ গ্রুপে জায়গা পেয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মোট ১২টি গ্রুপে ৪৮টি দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যেখানে প্রতিটি গ্রুপে চারটি করে দল থাকবে। টুর্নামেন্টে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে গ্রুপ পর্বেই খেলা হবে ৭২টি ম্যাচ। প্রতিটি গ্রুপ থেকে প্রথম দুই দল সরাসরি রাউন্ড অব ৩২-তে উঠবে এবং সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারীরাও পরবর্তী পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। এই নতুন ফরম্যাট বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘতম টুর্নামেন্টের জন্ম দিয়েছে, যা ৩৯ দিন ধরে চলবে।

গ্রুপ পর্ব থেকে নকআউট পর্যন্ত যাত্রা

নতুন ফরম্যাটে গ্রুপ পর্ব শেষে সরাসরি রাউন্ড অব ৩২ হবে, যা ২৮ জুন থেকে শুরু হবে। এরপর রাউন্ড অব ১৬ অনুষ্ঠিত হবে ৪-৭ জুলাই, কোয়ার্টার ফাইনাল ৯-১১ জুলাই, সেমিফাইনাল ১৪-১৫ জুলাই এবং ফাইনাল ১৯ জুলাই। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৮ জুলাই মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে। সেমিফাইনালের দুটি ম্যাচ খেলা হবে ডালাসের এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়াম এবং আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে।

সম্পূর্ণ গ্রুপ বিন্যাস: কারা কাদের বিপক্ষে

গ্রুপ এ থেকে এফ: প্রথম ব্লক

গ্রুপ দেশসমূহ
গ্রুপ এ মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, প্লে-অফ ডি বিজয়ী (ডেনমার্ক/চেকিয়া/নর্থ ম্যাসেডোনিয়া/আয়ারল্যান্ড)
গ্রুপ বি কানাডা, সুইজারল্যান্ড, কাতার, প্লে-অফ এ বিজয়ী (ইতালি/উত্তর আয়ারল্যান্ড/ওয়েলস/বসনিয়া)
গ্রুপ সি ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি, স্কটল্যান্ড
গ্রুপ ডি যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, প্লে-অফ সি বিজয়ী (তুরস্ক/স্লোভাকিয়া/রোমানিয়া/কসোভো)
গ্রুপ ই জার্মানি, কুরাসাও, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর
গ্রুপ এফ নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়া, প্লে-অফ বি বিজয়ী (ইউক্রেন/সুইডেন/পোল্যান্ড/আলবেনিয়া)

গ্রুপ এ-তে আয়োজক মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে। গ্রুপ বি-তে কানাডা তাদের প্রথম হোম বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ড এবং কাতারের বিরুদ্ধে লড়বে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় গ্রুপ সি-তে রয়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। গ্রুপ ডি-তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়া এবং প্যারাগুয়ের সাথে প্রতিযোগিতায় নামবে।

গ্রুপ জি থেকে এল: দ্বিতীয় ব্লক

গ্রুপ দেশসমূহ
গ্রুপ জি বেলজিয়াম, মিশর, ইরান, নিউজিল্যান্ড
গ্রুপ এইচ স্পেন, কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে
গ্রুপ আই ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, প্লে-অফ ২ বিজয়ী (বলিভিয়া/সুরিনাম/ইরাক)
গ্রুপ জে আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান
গ্রুপ কে পর্তুগাল, কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান, প্লে-অফ ১ বিজয়ী (নিউ ক্যালিডোনিয়া/জ্যামাইকা/ডিআর কঙ্গো)
গ্রুপ এল ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা

গ্রুপ এইচ সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গ্রুপগুলির একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ফিফা র‍্যাঙ্কিং-এ প্রথম স্থানের স্পেন এবং দুইবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে রয়েছে। গ্রুপ আই-তে ২০১৮ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং ২০২২-এর রানার্সআপ হিসেবে প্রবল ফেভারিট। গ্রুপ জে-তে রিগনিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার মতো শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের মুখোমুখি হবে। ইংল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়া গ্রুপ এল-এ পুনরায় মুখোমুখি হবে, যা ২০১৮ সেমিফাইনালের পুনর্মিলন।

ম্যাচ সময়সূচী এবং আয়োজক শহর

গ্রুপ পর্বের প্রথম সপ্তাহ: উত্তেজনার সূচনা

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন ২০২৬ তারিখে মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায়, যেখানে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করবে, যা আগে ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের ফাইনাল আয়োজন করেছিল। পরদিন ১২ জুন, কানাডা টরন্টোতে এবং যুক্তরাষ্ট্র লস এঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে। মার্কিন দল প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান শুরু করবে, যেখানে মেজবান দেশের ভক্তদের বিশাল সমর্থন থাকবে।

প্রধান শহর এবং স্টেডিয়াম

যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১১টি শহরে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি, লস এঞ্জেলেস, ডালাস, আটলান্টা, মিয়ামি, ফিলাডেলফিয়া, বস্টন, সিয়াটেল, সান ফ্রান্সিসকো, হিউস্টন এবং কানসাস সিটি। মেক্সিকোতে তিনটি শহর – মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা এবং মন্তেরেই – এবং কানাডায় দুটি শহর – টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভার – ম্যাচ আয়োজন করবে। সর্ববৃহৎ স্টেডিয়াম হল ডালাসের এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়াম, যার ধারণক্ষমতা ৯৪,০০০ দর্শক, যা সেমিফাইনাল আয়োজন করবে।

তিন আয়োজক দেশের বিশেষ সময়সূচী

মেক্সিকো: ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা

মেক্সিকো তাদের তিনটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচই হোম মাটিতে খেলবে। প্রথম ম্যাচ ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে, দ্বিতীয় ম্যাচ ১৮ জুন গুয়াদালাহারার এস্তাদিও আক্রনে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এবং শেষ গ্রুপ ম্যাচ ২৪ জুন আবার মেক্সিকো সিটিতে। এল ত্রি তাদের ভক্তদের সামনে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নকআউট পর্বে উঠতে চাইবে। মেক্সিকো সিটির উচ্চতা এবং পরিবেশ প্রতিপক্ষ দলের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র: পূর্ব-পশ্চিম যাত্রা

যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রথম এবং শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলবে লস এঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে – ১২ জুন প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে এবং ২৫ জুন প্লে-অফ বিজয়ীর বিরুদ্ধে। মাঝখানে ১৯ জুন সিয়াটেলের লুমেন ফিল্ডে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ইউএসএমএনটি। পশ্চিম উপকূলে হোম ম্যাচ খেলার সুবিধা মার্কিন দলকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় অঞ্চলের সাথে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করবে। মার্কিন দল ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবার হোম মাটিতে বিশ্বকাপ খেলবে এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাইরে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

কানাডা: প্রথম হোম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা

কানাডা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার ঘরের মাটিতে খেলার সুযোগ পাবে। তিনটি গ্রুপ ম্যাচই কানাডিয়ান মাটিতে – প্রথম ম্যাচ ১২ জুন টরন্টোতে, দ্বিতীয় ম্যাচ ১৮ জুন ভ্যাঙ্কুভারে এবং তৃতীয় ম্যাচ ২৪ জুন আবার ভ্যাঙ্কুভারে। কানাডা সুইজারল্যান্ড, কাতার এবং একটি ইউরোপীয় প্লে-অফ বিজয়ীর সাথে গ্রুপ বি-তে লড়বে। লেস রুজেস তাদের ক্রমবর্ধমান ফুটবল সংস্কৃতি এবং হোম সাপোর্টের উপর নির্ভর করে গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করতে চাইবে।

শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিশ্লেষণ

আর্জেন্টিনা: পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন

রিগনিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা গ্রুপ জে-তে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডানের বিরুদ্ধে খেলবে। লিওনেল মেসি, যিনি টুর্নামেন্টের সময় ৩৯ বছর বয়সী হবেন, তার সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেবেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম শিরোপা জেতার পর, আর্জেন্টিনা ১৯৫৮ এবং ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে পরপর দুটি বিশ্বকাপ জিততে চাইছে। লা আলবিসেলেস্তের শক্তিশালী স্কোয়াডে মেসি ছাড়াও আছেন লাউতারো মার্তিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ এবং এঞ্জেল দি মারিয়ার মতো তারকারা।

ফ্রান্স: প্রতিশোধের আগুন

২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যাওয়ার পর ফ্রান্স প্রতিশোধ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি ২০২২ বিশ্বকাপে আট গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন, লে ব্লুর প্রধান অস্ত্র হবেন। ফ্রান্স ২০১৮ সালে রাশিয়ায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং ২০২৬ সালে তৃতীয় শিরোপা জিতলে ১৯৫৮-১৯৬২ ব্রাজিল এবং ১৯৩৪-১৯৩৮ ইতালির পর তৃতীয় দল হিসেবে পরপর দুই বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার হতাশা কাটাতে চাইবে। গ্রুপ আই-তে সেনেগাল এবং নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্স ফেভারিট হিসেবে শুরু করবে।

স্পেন: ফিরে আসা চ্যাম্পিয়ন

ফিফা র‍্যাঙ্কিং-এ প্রথম স্থানের স্পেন ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জেতার পর, লা রোজা ২০১৪-তে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল এবং ২০১৮ ও ২০২২-তে রাউন্ড অব ১৬-তে ছিটকে গিয়েছিল। তবে বর্তমান স্কোয়াড তরুণ প্রতিভায় ভরপুর এবং লামিন ইয়ামাল, পেদ্রি, গাভি এবং রোদ্রির মতো খেলোয়াড়দের সাথে স্পেন সবচেয়ে সম্পূর্ণ দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গ্রুপ এইচ-তে উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে স্পেনের কঠিন পরীক্ষা হবে।

ব্রাজিল: সেলেসাওর পুনর্জাগরণ

পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি এবং ২০২৬ সালে এই খরা শেষ করতে বদ্ধপরিকর। গ্রুপ সি-তে মরক্কো, স্কটল্যান্ড এবং হাইতির বিপক্ষে সেলেসাওকে সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষ করে মরক্কো যারা ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রোদ্রিগো এবং এন্দ্রিকের মতো তরুণ প্রতিভা ব্রাজিলের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারের হতাশা কাটিয়ে উঠতে হবে তাদের।

নকআউট পর্বের গতিপথ এবং মুখোমুখি সম্ভাবনা

রাউন্ড অব ৩২: জুন ২৮-জুলাই ৩

গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর সরাসরি রাউন্ড অব ৩২ শুরু হবে ২৮ জুন থেকে। প্রতিটি গ্রুপের প্রথম দুই দল এবং সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারীরা এই পর্বে খেলবে। উল্লেখযোগ্য ম্যাচ হবে গ্রুপ এ রানার-আপ বনাম গ্রুপ বি রানার-আপের মধ্যে ২৮ জুন লস এঞ্জেলেসে, যেখানে সম্ভাব্যভাবে মেক্সিকো বা কানাডা খেলতে পারে। ২৯ জুন বস্টনে গ্রুপ ই বিজয়ী (সম্ভবত জার্মানি) তৃতীয় স্থানের একটি দলের মুখোমুখি হবে। নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সিতে ৩০ জুন গ্রুপ আই বিজয়ী (সম্ভবত ফ্রান্স) খেলবে।

কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফাইনাল: জুলাই ৯-১৯

কোয়ার্টার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৯-১১ জুলাই চারটি শহরে – বস্টন, লস এঞ্জেলেস, মিয়ামি এবং কানসাস সিটিতে। এই পর্যায়ে বড় দলগুলির মধ্যে সম্ভাব্য মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেমিফাইনাল দুটি ১৪ এবং ১৫ জুলাই ডালাস এবং আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে যথাক্রমে ৯৪,০০০ এবং ৭৫,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতা রয়েছে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হবে ১৮ জুলাই মিয়ামিতে এবং চূড়ান্ত ফাইনাল ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যেখানে ৮২,৫০০ দর্শক সামনে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে।

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান এবং তথ্য

টুর্নামেন্ট রেকর্ড এবং মাইলস্টোন

বিষয় সংখ্যা/তথ্য
মোট দল ৪৮টি (প্রথমবার)
মোট ম্যাচ ১০৪টি
গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ৭২টি
আয়োজক দেশ ৩টি (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো)
আয়োজক শহর ১৬টি
টুর্নামেন্টের সময়কাল ৩৯ দিন (১১ জুন – ১৯ জুলাই ২০২৬)
বৃহত্তম স্টেডিয়াম এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়াম, ডালাস (৯৪,০০০)
ফাইনাল আয়োজক মেটলাইফ স্টেডিয়াম, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি

২০২৬ বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করবে এবং এটি মোট ১৬টি শহরে ছড়িয়ে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ১১টি শহরে সর্বাধিক ম্যাচ আয়োজন করবে, মেক্সিকো তিনটি শহরে এবং কানাডা দুটি শহরে। উত্তর আমেরিকা জুড়ে বিস্তৃত এই টুর্নামেন্ট ভৌগোলিকভাবে সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হবে। আনুমানিক ৬ মিলিয়নেরও বেশি দর্শক স্টেডিয়ামে সরাসরি ম্যাচ দেখবেন এবং বিশ্বব্যাপী বিলিয়ন দর্শক টেলিভিশনে দেখবেন।

মহাদেশ ভিত্তিক অংশগ্রহণ

২০২৬ বিশ্বকাপে ইউরোপ থেকে সর্বাধিক ১৬টি দল অংশগ্রহণ করবে, যার মধ্যে রয়েছে স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল এবং নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দল। আফ্রিকা থেকে ৯টি দল, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ৬টি দল, এশিয়া থেকে ৮টি দল এবং কনকাকাফ থেকে ৬টি দল (তিন আয়োজক সহ) খেলবে। ওশেনিয়া থেকে ১টি দল এবং বাকি স্লট প্লে-অফের মাধ্যমে পূরণ হবে। এই বিস্তৃত প্রতিনিধিত্ব বিশ্বকাপকে সত্যিকারের বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত করেছে।

প্লে-অফ এবং অমীমাংসিত স্লট

বর্তমানে চারটি প্লে-অফ স্লট এখনও অমীমাংসিত রয়েছে, যা ২০২৬ সালের মার্চ মাসে নির্ধারিত হবে। ইউরোপীয় প্লে-অফ এ-তে ইতালি, উত্তর আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস এবং বসনিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যেখানে বিজয়ী গ্রুপ বি-তে কানাডার সাথে যোগ দেবে। প্লে-অফ বি-তে ইউক্রেন, সুইডেন, পোল্যান্ড এবং আলবেনিয়া গ্রুপ এফ-এর একটি স্লটের জন্য লড়বে। প্লে-অফ সি-তে তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, রোমানিয়া এবং কসোভো যুক্তরাষ্ট্রের গ্রুপ ডি-তে জায়গার জন্য প্রতিযোগিতা করবে। ফিফা প্লে-অফ ১ এবং ২ ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান এবং এশিয়ার দলগুলি অংশ নেবে।

অর্থনৈতিক প্রভাব এবং পর্যটন

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ তিন আয়োজক দেশে বিশাল অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফিফা এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই টুর্নামেন্ট উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব তৈরি করবে এবং প্রায় ৪০,০০০ অস্থায়ী চাকরির সৃষ্টি করবে। প্রতিটি আয়োজক শহর পর্যটন, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পরিবহন খাত থেকে উল্লেখযোগ্য আয়ের আশা করছে। আনুমানিক ১.৫ থেকে ২ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটক তিন দেশে ভ্রমণ করবেন, যা স্থানীয় ব্যবসায় এবং অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখবে। টিকিট বিক্রয় থেকে আনুমানিক ১.৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আশা করা হচ্ছে।

টিভি সম্প্রচার এবং মিডিয়া কভারেজ

বিশ্বব্যাপী ২০০টিরও বেশি দেশে এই বিশ্বকাপ সরাসরি সম্প্রচারিত হবে এবং আনুমানিক ৫ বিলিয়ন দর্শক বিভিন্ন মাধ্যমে ম্যাচগুলি দেখবেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফক্স স্পোর্টস এবং টেলিমুন্দো, যুক্তরাজ্যে বিবিসি এবং আইটিভি, এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্থানীয় সম্প্রচারকরা সম্পূর্ণ কভারেজ প্রদান করবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ম্যাচের হাইলাইটস, লাইভ আপডেট এবং বিশেষ বিষয়বস্তু উপলব্ধ হবে, যা তরুণ দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। ফিফা ডিজিটাল অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে।

নিরাপত্তা এবং লজিস্টিক ব্যবস্থা

তিনটি দেশ এবং ১৬টি শহরে বিস্তৃত এই টুর্নামেন্ট নিরাপত্তা এবং লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করবে। ফিফা এবং আয়োজক দেশগুলি ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যাতে রয়েছে সাইবার নিরাপত্তা, স্টেডিয়াম নিরাপত্তা এবং পরিবহন নিরাপত্তা। দল এবং ভক্তদের মধ্যে ভ্রমণের জন্য বিশেষ চার্টার ফ্লাইট এবং হাই-স্পিড ট্রেন সেবা উপলব্ধ হবে। প্রতিটি স্টেডিয়ামে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন করা হবে। আন্তর্জাতিক ভক্তদের জন্য ভিসা সুবিধা এবং বিশেষ ট্যুরিস্ট প্যাকেজ প্রদান করা হচ্ছে, যা সহজ ভ্রমণ নিশ্চিত করবে।

শেষ কথা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত চিহ্নিত করবে, যেখানে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ এবং তিনটি আয়োজক দেশ একসাথে এই মহান টুর্নামেন্ট উদযাপন করবে। ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ড্র ১২টি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গ্রুপ তৈরি করেছে, যেখানে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ব্রাজিল, স্পেন এবং ইংল্যান্ডের মতো ফুটবল মহাশক্তিগুলি তাদের আধিপত্য প্রমাণ করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো হোম সাপোর্টের সুবিধা পাবে এবং তাদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের চেষ্টা করবে। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বিস্তৃত এই টুর্নামেন্ট ১০৪টি ম্যাচে অবিশ্বাস্য ফুটবল, নাটকীয়তা এবং অবিস্মরণীয় মুহূর্তের প্রতিশ্রুতি দেয়। বিশ্বের সর্বত্র ফুটবল ভক্তরা এখন উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছেন এই মহাযজ্ঞের জন্য, যা নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ঘোষণার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে।

সর্বশেষ