প্রিয় পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোদ্ধা টিমমেট, কমরেডস, ম্যানেজমেন্ট, বিজ্ঞাপনদাতা এবং Editorialge পরিবারের সব সদস্য— বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ –এর গৌরবময় দিনে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমি গভীর আবেগে বলছি:
Editorialge বাংলা (bn.editorialge.com) –এর পথচলা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
আমার লেখালেখির যাত্রা ব্যক্তিগতভাবে শুরু হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। আর আমার প্রথম প্রকাশিত পদ্য ২০০০ সালের এপ্রিল মাসে— প্রথিতযশা বাংলা জাতীয় দৈনিক করতোয়া পত্রিকার কচিকাঁচাদের পাতা “সবুজ আসর”–এ। পদ্যটির নাম ছিল “নববর্ষ”। সেই প্রকাশনার পর থেকেই আমার ভেতরের লেখক যেন আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞা করেছিল— শব্দকে কাজের মতো করে লালন করবে, আর কাজকে স্বপ্নের মতো করে এগিয়ে নেবে।

এই পথচলার শুরুতে আমার অনুপ্রেরণা ছিলেন তিনজন মানুষ—
আমার দাদু, ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামী অনন্ত মোহন কুণ্ডু; আমার মার্ক্সবাদী শিক্ষক বাবা জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু; আর আমার শিক্ষিকা মা কণিকা রাণী কুণ্ডু— যাঁর ভালোবাসা আর সাহস আমাকে প্রতিটি বাঁকে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। আমি তাঁদের কাছে ঋণী— কারণ তাঁরা আমাকে কেবল লেখালেখি নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নৈতিকতা, বিবেকবোধ নিয়ে বাঁচতে শিখিয়েছেন।
সময় বদলেছে, মাধ্যম বদলেছে। কিন্তু লেখার প্রয়োজন বদলায়নি। ডিজিটাল দুনিয়ায় পথচলা শুরু হওয়ার পর আমি ২০০৯ সালে প্রথম বাংলা ব্লগিং শুরু করি। তখন আমি মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম পড়ছি— আর বুকের ভেতর একটাই তীব্র স্বপ্ন: একদিন আমি বাংলা ওয়েবসাইট সম্পাদনা করব, বাংলা কনটেন্টকে আরও শক্ত ভিত্তি দেব— এবং মানুষের জন্য কাজ করব।
সেই স্বপ্নের বড় এক ধাপ পূরণ হয় ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর, যখন Editorialge.com— আমাদের ইংরেজি ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম— প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি শুধু একটি ওয়েবসাইট নয়; এটি ছিল স্বপ্ন, বিশ্বজনীনতা, শৃঙ্খলা, ও সাহসের মিলিত কাঠামো।
আমার বড় মেয়ে অর্চিশা কুণ্ডু প্রাচুর্য–এর জন্মের পরই এই স্বপ্নের উদ্যোগটি আরও বৃহত্তর, আরও সর্বজনীন এক লক্ষ্য ও পরিসরে রূপ নেয়। এই স্বপ্নযাত্রায় সারথি হয়ে আমার পাশে ছিল আমার সহধর্মিণী মিতালী রায়, আর রক্তের সম্পর্কের সীমা ছাড়িয়ে যাকে আপন করে পেয়েছি—প্রাণপ্রিয় ছোটভাই ঔষ্ণীক দাশ।
এরপর ২০২৫ সালে আমরা আরও বড় পদক্ষেপ নিয়ে ইংরেজিসহ বিশ্বের সর্বাধিক প্রচলিত ৭টি ভাষায় কনটেন্ট প্রকাশ শুরু করি TEAM EDITORIALGE / Editorialgean —এর নেতৃত্বে। আমরা একটি সুসংগঠিত পরিবার, একটি কমিউনিটি, একটি অগ্রযাত্রা।
আজ আমাদের বাংলাদেশের বিজয় দিবসের এই দিনে, জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, সীমাবদ্ধতা আর বাস্তবতার সঙ্গে লড়াকু সৈনিকের মতো যুদ্ধ করে আমরা এসে দাঁড়ালাম আরেকটি স্বপ্নের দরজায়— যার নাম Editorialge বাংলা।
Editorialge বাংলা (এডিটোরিয়ালেজ বাংলা) কেন?
কারণ বাংলা শুধু ভাষা নয়— এটি চেতনা।
বাংলা মানে ইতিহাস, জনমানুষ, সংস্কৃতি, সংগ্রাম, বিজ্ঞানমনস্কতা, শিল্প— এবং সবচেয়ে বড় কথা— সত্যকে ভালোবাসার সাহস।
আমরা চাই Editorialge বাংলা হোক এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে—
- তথ্য হবে যাচাই করা, দায়িত্বশীল ও মানবিক এবং সার্বিক বা ৩৬০°
- কনটেন্ট হবে পাঠকের উপকারে লাগে এমন— জীবনঘনিষ্ঠ, প্রাসঙ্গিক, বিশ্বজনীন এবং সময়োপযোগী
- প্রতিটি লেখা হবে একটি আলো— যা ভুল তথ্যের অন্ধকারে দিশা দেখাবে
- আর প্রতিটি উদ্যোগ হবে একটি সেতু— পাঠক, লেখক, নির্মাতা, উদ্যোক্তা এবং সমাজের মধ্যে বন্ধন তৈরি করবে
আমি আজ আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই আমার প্রত্যেক টিম মেম্বারকে— যাঁরা নিঃশব্দে রাত জেগে কাজ করেছেন এই স্বপ্নযাত্রাকে বিশ্বদরবারে নিয়ে যেতে, মিলিয়ন পাঠক সমাদৃতা এনে দিতে।
কৃতজ্ঞতা জানাই আমার সার্বক্ষণিক কমরেডস ও টিম ম্যানেজমেন্টকে— যাঁরা কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন।
কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাই শুভাকাঙ্ক্ষী, পাঠক, এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের— আপনারা না থাকলে আমাদের এই যাত্রা সম্ভব হতো না।
আমাদের সামনে পথ দীর্ঘ। চ্যালেঞ্জ থাকবে। কিন্তু আমরা ভয় পাই না— কারণ আমাদের ভেতর আছে বিজয়ের শিক্ষা: সততা, শ্রম, আর সমবেত শক্তি।
আমরা চাই Editorialge বাংলা (এডিটোরিয়ালেজ বাংলা) হোক আরও উজ্জ্বল, উজ্জীবিত ও দ্বীগ্বিজয়ী— মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি সৎ ও স্বচ্ছ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
আজ এই শুভ সূচনায় আমরা একটি শ্লোগান বুকের গভীরে ধারণ করছি—
“বিজয়ের চেতনায়, আমাদের পথচলা বাংলায়।”
আপনাদের ভালোবাসা, পরামর্শ, সমালোচনা— সবই আমাদের পথ দেখাক।
চলুন, আমরা একসঙ্গে একটি দায়িত্বশীল বাংলা ডিজিটাল মিডিয়ার ভবিষ্যৎ নির্মাণ করি কোন প্রোপাগাণ্ডা ছাড়াই।
শুভেচ্ছান্তে ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতায়,
সুকান্ত কুণ্ডু (লেখক নাম: সুকান্ত পার্থিব)
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও),
Editorialge Media LLC ও Editorialge Media Limited.


