হলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০টি ছবি: বক্স অফিসের সেরা ব্লকবাস্টার

সর্বাধিক আলোচিত

সিনেমাপ্রেমীদের কাছে হলিউড মানেই এক অন্যরকম উন্মাদনা। জমকালো সেট, চোখধাঁধানো স্পেশাল ইফেক্ট আর দুর্দান্ত গল্প দিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের মন জয় করে আসছে এই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। তবে কিছু ছবি শুধু মানুষের মনই জয় করেনি, বিশ্বজুড়ে ব্যবসার দিক থেকেও তৈরি করেছে নতুন রেকর্ড। বিশ্বব্যাপী টিকিট বিক্রির আয়ের ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত এই তালিকা পরিবর্তিত হয়। আজকে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো হলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০টি ছবি সম্পর্কে, যা বিশ্ব চলচ্চিত্রের রূপরেখাই বদলে দিয়েছে।

বক্স অফিসের এই অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে মার্ভেলের সুপারহিরো থেকে শুরু করে জেমস ক্যামেরনের কল্পবিজ্ঞান বা সায়েন্স ফিকশন ঘরানার সিনেমা—সবই জায়গা করে নিয়েছে। এই ব্লকবাস্টার ছবিগুলো কীভাবে শত কোটি ডলারের ক্লাব পার করলো এবং কেন এগুলো দর্শককে সিনেমা হলে টানতে বাধ্য করেছিল, চলুন সেই গল্পটাই জেনে নেওয়া যাক।

১. অবতার (Avatar – 2009)

জেমস ক্যামেরন পরিচালিত ২০০৯ সালের সায়েন্স ফিকশন সিনেমা ‘অবতার’ বিশ্ব চলচ্চিত্র জগতের পুরো সমীকরণ বদলে দিয়েছিল। প্যান্ডোরা নামক এক কাল্পনিক গ্রহের নীল রঙের নাভি (Na’vi) জাতির গল্প এবং থ্রিডি (3D) প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহার দর্শকদের এক জাদুকরী দুনিয়ায় নিয়ে যায়। এই ছবিটি বিশ্বজুড়ে যে আয়ের রেকর্ড গড়েছে, তা আজও কেউ ভাঙতে পারেনি। হলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০টি ছবি তালিকার একদম শীর্ষে এর অবস্থান।

Avatar

বক্স অফিসের রাজত্ব এবং আয়ের বিবরণ

মুক্তির পর ছবিটি বিশ্বজুড়ে অবিশ্বাস্য সাড়া ফেলে এবং এর অনন্য সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা বারবার দর্শককে থিয়েটারে ফিরিয়ে আনে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এটি পুনরায় সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়া হয়, যা এর আয়ের পরিমাণকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে চীনের বাজারে এর পুনঃমুক্তি ছবিটিকে আয়ের দিক থেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছে।

প্রধান বিষয় তথ্য ও পরিসংখ্যান
পরিচালক জেমস ক্যামেরন
মুক্তির বছর ২০০৯
বিশ্বব্যাপী মোট আয় $২.৯২ বিলিয়ন ডলার
বাজেট $২৩৭ মিলিয়ন ডলার
প্রধান কাস্ট স্যাম ওয়ার্দিংটন, জো সালদানা
মূল আকর্ষণ মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তি ও থ্রিডি ভিজ্যুয়াল

২. অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম (Avengers: Endgame – 2019)

মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স (MCU) এর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের মহাকাব্যিক যাত্রার এক চূড়ান্ত সমাপ্তি ছিল এই ছবি। অ্যান্টনি ও জো রুসো পরিচালিত এই সিনেমাটি থ্যানোসের বিরুদ্ধে সুপারহিরোদের বাঁচা-মরার লড়াইকে কেন্দ্র করে নির্মিত। মার্ভেল ভক্তদের আবেগ ও উন্মাদনা এই ছবিটিকে বক্স অফিসে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায় এবং এটি দ্রুততম সময়ে ২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পার করে।

মার্ভেল ভক্তদের উন্মাদনা ও রেকর্ড বুক

বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই ছবিটি নিয়ে তুমুল উত্তেজনা ছিল, যার ফলে প্রথম সপ্তাহান্তেই এটি রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করে। সিনেমাটির অ্যাকশন দৃশ্য, টাইম ট্রাভেল বা সময় ভ্রমণের জটিল সমীকরণ এবং আয়রন ম্যান ও ব্ল্যাক উইডোর আবেগঘন সমাপ্তি দর্শকদের মনে আজীবন দাগ কেটে থাকবে।

প্রধান বিষয় তথ্য ও পরিসংখ্যান
পরিচালক অ্যান্টনি রুসো এবং জো রুসো
মুক্তির বছর ২০১৯
বিশ্বব্যাপী মোট আয় $২.৭৯ বিলিয়ন ডলার
বাজেট $৩৫৬ মিলিয়ন ডলার
প্রধান কাস্ট রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস ইভান্স, স্কারলেট জোহানসন
মূল আকর্ষণ ২২টি সিনেমার কাহিনীর এক মহাকাব্যিক সমাপ্তি

৩. অবতার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার (Avatar: The Way of Water – 2022)

প্রথম পর্বের দীর্ঘ ১৩ বছর পর জেমস ক্যামেরন দর্শকদের আবারও প্যান্ডোরা গ্রহে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এবার গল্প আবর্তিত হয় সমুদ্রের নিচের এক অপরূপ এবং রহস্যময় জগতকে কেন্দ্র করে। পানির নিচের দৃশ্য ধারণের জন্য ব্যবহৃত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং চমৎকার ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস দর্শকদের চোখ কপালে তুলতে বাধ্য করেছিল। মহামারী পরবর্তী সময়ে সিনেমা হলের ব্যবসা নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, তা এক তুড়িতে উড়িয়ে দেয় এই ছবি।

পানির নিচের জাদুকরী ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস

জেমস ক্যামেরন প্রমাণ করেছেন যে দর্শকরা ভালো ভিজ্যুয়াল এবং ইমোশনাল গল্পের জন্য সবসময়ই সিনেমা হলে আসতে প্রস্তুত। এই ছবিটির বিশাল সাফল্য তাকে হলিউডের একমাত্র পরিচালক হিসেবে তিনটি ২ বিলিয়ন ডলারের ছবি উপহার দেওয়ার রেকর্ড এনে দেয়।

প্রধান বিষয় তথ্য ও পরিসংখ্যান
পরিচালক জেমস ক্যামেরন
মুক্তির বছর ২০২২
বিশ্বব্যাপী মোট আয় $২.৩৩ বিলিয়ন ডলার
বাজেট $৩৫০ মিলিয়ন ডলার
প্রধান কাস্ট স্যাম ওয়ার্দিংটন, জো সালদানা, কেট উইন্সলেট
মূল আকর্ষণ পানির নিচে তৈরি করা সম্পূর্ণ নতুন এক বাস্তবসম্মত ইকোসিস্টেম

৪. টাইটানিক (Titanic – 1997)

১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘টাইটানিক’ সিনেমাটি রোমান্স এবং ট্র্যাজেডির এক নিখুঁত মেলবন্ধন। জ্যাক ও রোজের অমর প্রেমকাহিনীর পাশাপাশি বিশাল জাহাজের ডুবে যাওয়ার দৃশ্য মানুষকে থিয়েটারে কাঁদিয়েছিল। এটি অস্কারের history-তেও ১১টি পুরস্কার জিতে অনন্য রেকর্ড তৈরি করে। জেমস ক্যামেরন পরিচালিত এই কালজয়ী সিনেমাটি যুগের পর যুগ ধরে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

কালজয়ী প্রেম এবং ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির গল্প

মুক্তির পর টানা কয়েক মাস ধরে সিনেমা হলের টিকিট কাউন্টারে ভিড় লেগে ছিল। সিনেমাটির গান “My Heart Will Go On” এবং আবহ সঙ্গীত আজও বিশ্বজুড়ে সমান জনপ্রিয় এবং এটি রোমান্টিক ঘরানার ছবির মধ্যে আয়ের দিক থেকে এখনো রাজা।

প্রধান বিষয় তথ্য ও পরিসংখ্যান
পরিচালক জেমস ক্যামেরন
মুক্তির বছর ১৯৯৭
বিশ্বব্যাপী মোট আয় $২.২৫ বিলিয়ন ডলার
বাজেট $২০০ মিলিয়ন ডলার
প্রধান কাস্ট লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, কেট উইন্সলেট
মূল আকর্ষণ জ্যাক-রোজের কেমিস্ট্রি এবং টাইটানিক জাহাজের নিখুঁত সেট

Highest Grossing Hollywood Movies of All Time

৫. স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স (Star Wars: The Force Awakens – 2015)

স্টার ওয়ার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের যে পুরনো আবেগ রয়েছে, তারই প্রমাণ মেলে এই ছবির মাধ্যমে। জে জে আব্রামস পরিচালিত এই সিক্যুয়েলটি পুরনো এবং নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মাঝে একটি দারুণ সেতু বন্ধন তৈরি করে। উত্তর আমেরিকায় বা ডমেস্টিক বক্সে এটি আয়ের দিক থেকে একটি বিশাল রেকর্ড গড়েছিল, যা আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

নস্টালজিয়া এবং মহাজাগতিক অ্যাডভেঞ্চার

পুরনো চরিত্র যেমন হ্যারিসন ফোর্ডের ‘হান সোলো’ এর পর্দায় প্রত্যাবর্তন এবং নতুন হিরো ‘রে’ ও ‘ফিন’ এর আগমন দর্শকদের ভীষণভাবে টেনেছিল। সিনেমাটির অ্যাডভান্স টিকিট বিক্রির গতি তখনকার সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল।

প্রধান বিষয় তথ্য ও পরিসংখ্যান
পরিচালক জে জে আব্রামস
মুক্তির বছর ২০১৫
বিশ্বব্যাপী মোট আয় $২.০৬ বিলিয়ন ডলার
বাজেট $৪৪৭ মিলিয়ন ডলার (নেট)
প্রধান কাস্ট ডেইজি রিডলি, জন বোয়েগা, হ্যারিসন ফোর্ড
মূল আকর্ষণ ক্লাসিক স্টার ওয়ার্স নস্টালজিয়া এবং লাইটসেবারের দুর্দান্ত লড়াই

৬. অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার (Avengers: Infinity War – 2018)

ভিলেন থ্যানোসের ছয়টি ইনফিনিটি স্টোন বা মহাজাগতিক পাথর সংগ্রহের মিশনকে ঘিরে আবর্তিত হয় এই সিনেমা। মার্ভেলের ইতিহাসে এত বেশি সুপারহিরোকে একসাথে স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখাটা ছিল ভক্তদের জন্য এক দারুণ অভিজ্ঞতা। cinemas শেষ দৃশ্যের চমক বা ‘ক্লিফহ্যাঙ্গার’ দর্শকদের এতটাই স্তব্ধ করে দিয়েছিল যে পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

থ্যানোসের উত্থান এবং সুপারহিরোদের বড় ধাক্কা

ছবিটি মুক্তির প্রথম দিন থেকেই বিশ্বজুড়ে আয়ের ঝড় তোলে এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা পপ-কালচার ইভেন্টে পরিণত হয়। ভিলেনের জয় এবং নায়কদের পরাজয়ের এই সাহসী গল্প দর্শকরা লুফে নিয়েছিল।

প্রধান বিষয় তথ্য ও পরিসংখ্যান
পরিচালক অ্যান্টনি রুসো এবং জো রুসো
মুক্তির বছর ২০১৮
বিশ্বব্যাপী মোট আয় $২.০৪ বিলিয়ন ডলার
বাজেট $৩২৫ মিলিয়ন ডলার
প্রধান কাস্ট রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস হেমসোয়ার্থ, জশ ব্রোলিন
মূল আকর্ষণ ওয়াকান্দার যুদ্ধ এবং থ্যানোসের সেই বিখ্যাত ‘তুড়ি’ বা স্ন্যাপ

৭. স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ান হোম (Spider-Man: No Way Home – 2021)

মাল্টিভার্স বা সমান্তরাল মহাবিশ্বের ধারণা নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি ২০২১ সালে সিনেমা হলে এক নতুন জোয়ার নিয়ে আসে। টম হল্যান্ডের পাশাপাশি পুরনো স্পাইডার-ম্যান চরিত্রদের (টোবি ম্যাগুইয়ার ও অ্যান্ড্রু গারফিল্ড) একসঙ্গে পর্দায় দেখাটা ছিল সিনেমা হলের ভেতরে দর্শকদের চিৎকার ও করতালির মূল কারণ। কোনো চিনা বাজার ছাড়াই সিনেমাটি যে আয় করেছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।

মাল্টিভার্স বা সমান্তরাল মহাবিশ্বের ম্যাজিক

করোনা মহামারীর ঠিক পরপরই যখন সিনেমা হলগুলো দর্শক খরায় ভুগছিল, তখন এই সিনেমাটি ইন্ডাস্ট্রিকে এক নতুন জীবন দান করে। এটি প্রমাণ করে যে দর্শকদের মনমতো কনটেন্ট দিতে পারলে যেকোনো পরিস্থিতিতেই থিয়েটার হাউসফুল করা সম্ভব।

প্রধান বিষয় তথ্য ও পরিসংখ্যান
পরিচালক জন ওয়াটস
মুক্তির বছর ২০২১
বিশ্বব্যাপী মোট আয় $১.৯২ বিলিয়ন ডলার
বাজেট $২০০ মিলিয়ন ডলার
প্রধান কাস্ট টম হল্যান্ড, জেন্ডায়া, ටୋবি ম্যাগুইয়ার, অ্যান্ড্রু গারফিল্ড
মূল আকর্ষণ তিন প্রজন্মের স্পাইডার-ম্যানের ঐতিহাসিক স্ক্রিন শেয়ার

৮. ইনসাইড আউট ২ (Inside Out 2 – 2024)

অ্যানিমেশন সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে পিক্সার স্টুডিওর এই মাস্টারপিস। মানুষের মনের ভেতরের আবেগ—যেমন আনন্দ, দুঃখ, ভয় এবং নতুন যুক্ত হওয়া ‘দুশ্চিন্তা’ বা অ্যানজাইটিকে চমৎকার ও হাস্যরসাত্মকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। ছোট-বড় সব বয়সী দর্শক সিনেমাটির মূল ভাবনার সাথে নিজেদের মেলাতে পেরেছেন, যা এর আয়ের মূল চাবিকাঠি।

অ্যানিমেশন সিনেমার ইতিহাসে নতুন মাইলফলক

এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা অ্যানিমেটেড মুভি হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছে এবং পিক্সারকে এনে দিয়েছে এক বিশাল সাফল্য। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য এবং আবেগের দ্বন্দকে খুব সহজভাবে পর্দায় তুলে ধরায় এটি বক্স অফিসে ঝড় তোলে।

প্রধান বিষয় তথ্য ও পরিসংখ্যান
পরিচালক কেলসি মান
মুক্তির বছর ২০২৪
বিশ্বব্যাপী মোট আয় $১.৬৯ বিলিয়ন ডলার
বাজেট $২০০ মিলিয়ন ডলার
প্রধান কাস্ট (ভয়েস) অ্যামি পোহলার, মায়া হক, ফিলিস স্মিথ
মূল আকর্ষণ বয়ঃসন্ধিকালের মানসিক আবেগ ও ‘অ্যানজাইটি’ চরিত্রের নিখুঁত উপস্থাপন

৯. জুরাসিক ওয়ার্ল্ড (Jurassic World – 2015)

ডাইনোসরদের নিয়ে মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই, আর সেই কৌতুহলকে পুঁজি করেই নির্মিত হয়েছিল ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’। স্টিভেন স্পিলবার্গের মূল জুরাসিক পার্কের নস্টালজিয়াকে আধুনিক ভিএফএক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্দায় জীবন্ত করে তোলা হয়। কলিন ট্রেভরো পরিচালিত এই সিনেমাটি দর্শকদের থ্রিল এবং রোমাঞ্চের এক চমৎকার অভিজ্ঞতা দেয়।

ডাইনোসরদের পুনরাগমন এবং রোমাঞ্চকর থ্রিলার

নতুন ধরনের হাইব্রিড ডাইনোসর ‘ইন্দোমিনাস রেক্স’ এর তাণ্ডব এবং ক্রিস প্র্যাটের রেপ্টর বা ডাইনোসরদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার দৃশ্য দর্শকদের দারুণভাবে বিনোদিত করেছিল। নতুন রূপের থিম পার্কটি দেখার জন্য দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল।

প্রধান বিষয় তথ্য ও পরিসংখ্যান
পরিচালক কলিন ট্রেভরো
মুক্তির বছর ২০১৫
বিশ্বব্যাপী মোট আয় $১.৬৭ বিলিয়ন ডলার
বাজেট $১৫০ মিলিয়ন ডলার
প্রধান কাস্ট ক্রিস প্র্যাট, ব্রাইস ডালাস হাওয়ার্ড
মূল আকর্ষণ প্রাগৈতিহাসিক ডাইনোসর ও আধুনিক প্রযুক্তির রোমহর্ষক লড়াই

১০. দ্য লায়ন কিং (The Lion King – 2019)

১৯৯৪ সালের ক্লাসিক অ্যানিমেশন ছবি ‘দ্য লায়ন কিং’ এর এই লাইভ-অ্যাকশন রিমেকটি দর্শকদের আবেগকে স্পর্শ করেছিল। সিম্বা, মুফাসা আর স্কারের সেই চিরচেনা লড়াইকে ফটো-রিয়েলিস্টিক অ্যানিমেশনের মাধ্যমে কম্পিউটারে নতুনভাবে তৈরি করা হয়। ছবির প্রতিটি দৃশ্য এবং গান দর্শকদের ছোটবেলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।

The Lion King 2019

ফটো-রিয়েলিস্টিক টেকনোলজি এবং নস্টালজিয়ার মেলবন্ধন

ডিজনির এই আধুনিক রিমেক সংস্করণটি বিশ্বজুড়ে পরিবারের সবাইকে একসাথে প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল। আফ্রিকার বন্য জীবনকে কম্পিউটারে এতটা জীবন্ত করা সম্ভব, তা এই সিনেমা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

প্রধান বিষয় তথ্য ও পরিসংখ্যান
পরিচালক জন ফাভরিউ
মুক্তির বছর ২০১৯
বিশ্বব্যাপী মোট আয় $১.৬৫ বিলিয়ন ডলার
বাজেট $২৬০ মিলিয়ন ডলার
প্রধান কাস্ট (ভয়েস) ডোনাল্ড গ্লোভার, বিয়ন্সে, জেমস আর্ল জোন্স
মূল আকর্ষণ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি একদম বাস্তবসম্মত পশুপাখির জগত

হলিউড বক্স অফিসের আয়ের ধরন ও বিবর্তন

সময়ের সাথে সাথে চলচ্চিত্র নির্মাণের বাজেট ও প্রচারণার ধরনে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। আগেকার দিনে একটি ভালো গল্প ও চমৎকার অভিনয়ই সিনেমা সুপারহিট করার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি বা সিক্যুয়েল সংস্কৃতির আধিপত্য অনেক বেশি দেখা যায়। দর্শকরা এখন চেনা চরিত্র এবং তাদের প্রিয় মহাবিশ্ব বা ইউনিভার্সের গল্প দেখতে বেশি পছন্দ করেন।

ডিজিটাল যুগে বিশ্বব্যাপী একযোগে হাজার হাজার স্ক্রিনে সিনেমা মুক্তি দেওয়ার সুবিধা থাকায় ছবির আয় এখন খুব দ্রুত একশো বা দুইশো কোটি ডলার স্পর্শ করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজার, বিশেষ করে এশিয়ার সিনেমা হলগুলো এখন হলিউডের আয়ের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও উন্নত থ্রিডি ও আইম্যাক্স (IMAX) থিয়েটারের টিকিটের বেশি মূল্যও এই বিশাল আয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

শেষ কথা

বক্স অফিসের এই অবিশ্বাস্য আয়ের পরিসংখ্যান শুধু ছবিগুলোর ব্যবসায়িক সাফল্যকেই দেখায় না, বরং এগুলো বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। উন্নত প্রযুক্তি, দারুণ মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি এবং বৈশ্বিক দর্শকদের চাহিদাকে সঠিকভাবে বুঝতে পারার কারণেই এই ছবিগুলো ইতিহাস গড়তে পেরেছে। হলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০টি ছবি তালিকার দিকে তাকালে বোঝা যায় যে, জেমস ক্যামেরন এবং মার্ভেল স্টুডিওস কীভাবে পুরো বিনোদন জগতকে শাসন করছে। ভবিষ্যতে হয়তো নতুন কোনো প্রযুক্তি বা নতুন কোনো গল্প এসে এই তালিকার রেকর্ডগুলো ভেঙে চুরমার করে দেবে, আর আমরা সিনেমা হলের রুপোলি পর্দায় দেখবো নতুন কোনো ইতিহাস।

সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা

১. মুদ্রাস্ফীতি বা ইনফ্লেশন হিসাব করলে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সিনেমা কোনটি?

যদি মুদ্রাস্ফীতি বা টাকার মূল্যের পরিবর্তন হিসাব করা হয়, তবে ১৯৩৯ সালের ক্লাসিক সিনেমা “গন উইথ দ্য উইন্ড” (Gone with the Wind) আজ পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা। বর্তমান সময়ের বাজারে এর আয়ের মূল্য প্রায় ৩.৫ বিলিয়নেরও বেশি ডলার হতো।

২. জেমস ক্যামেরনের কয়টি সিনেমা এই সেরা ১০ এর তালিকায় রয়েছে?

এই তালিকায় জেমস ক্যামেরন পরিচালিত মোট ৩টি সিনেমা রয়েছে। সেগুলো হলো—অবতার (১ম স্থান), অবতার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার (৩য় স্থান) এবং টাইটানিক (৪র্থ স্থান)। এটি একজন পরিচালক হিসেবে এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড।

৩. সেরা ১০ আয়ের তালিকায় মার্ভেলের অবদান কী?

সেরা ১০টি সিনেমার মধ্যে ৩টি সিনেমাই মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের (MCU)। সিনেমাগুলো হলো—অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম, অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার এবং স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ান হোম।

৪. কোনো সিনেমার বক্স অফিস কালেকশন কীভাবে হিসাব করা হয়?

একটি সিনেমার বক্স অফিস কালেকশন মূলত বিশ্বব্যাপী সিনেমা হলের টিকিট বিক্রির মোট অর্থের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়। এর মধ্যে ডমেস্টিক (উত্তর আমেরিকা) এবং ইন্টারন্যাশনাল (বিশ্বের বাকি দেশসমূহ) আয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বা স্যাটেলাইট রাইটস এর আয় সাধারণত এতে যোগ করা হয় না।

৫. এই তালিকায় থাকা একমাত্র সম্পূর্ণ অ্যানিমেটেড ছবি কোনটি?

এই তালিকায় থাকা একমাত্র খাঁটি অ্যানিমেটেড ছবি হলো ২০২৪ সালের “ইনসাইড আউট ২”। যদিও ২০১৯ সালের ‘দ্য লায়ন কিং’ সম্পূর্ণ কম্পিউটারে তৈরি, তবুও সেটিকে ডিজনির পক্ষ থেকে লাইভ-অ্যাকশন ফরম্যাটে ধরা হয়।

সর্বশেষ