স্মার্টফোন প্রযুক্তির ইতিহাসে ২০২৬ সালটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। গত এক দশক ধরে আমরা দেখেছি কীভাবে ফোনগুলো বাটন থেকে টাচস্ক্রিনে এবং সেখান থেকে ফোল্ডেবল বা ভাজ করা স্ক্রিনে রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু স্যামসাং (Samsung) এবার সেই সীমানাও অতিক্রম করেছে।
প্রযুক্তি দুনিয়ায় এখন আলোচনার ঝড় তুলেছে Samsung Galaxy Z TriFold—বিশ্বের অন্যতম প্রথম স্মার্টফোন যা দুইবার ভাজ হয়ে পকেটে ঢুকে যায় এবং খুললে একটি পূর্ণাঙ্গ ১০ ইঞ্চির ট্যাবলেটে পরিণত হয়।
কল্পনা করুন, আপনি সকালে অফিসে যাওয়ার পথে বাসে বসে আপনার ফোনের ছোট স্ক্রিনে ইমেইল চেক করছেন। অফিসে পৌঁছে সেই একই ডিভাইসটি খুলে স্প্রেডশিটে কাজ করছেন, আর দুপুরে লাঞ্চের বিরতিতে সেটিই হয়ে উঠছে আপনার মিনি সিনেমা হল। ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এবং ফোনের এই অদ্ভুত সংমিশ্রণই হলো গ্যালাক্সি জেড ট্রাই-ফোল্ড। তবে প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের মতো ধুলোবালি ও গরম আবহাওয়ার দেশে এমন একটি জটিল মেকানিজমের ফোন কি আদৌ টেকসই হবে? আর এর আকাশচুম্বী দাম কি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে? এই আর্টিকেলে আমরা Samsung Galaxy Z TriFold Price in Bangladesh, এর প্রতিটি খুঁটিনাটি ফিচার, সুবিধা-অসুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
Samsung Galaxy Z TriFold Price in Bangladesh (বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও ট্যাক্স হিসাব)

বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে হাই-এন্ড বা ফ্ল্যাগশিপ ফোনের ক্ষেত্রে দামের একটি বড় অংশ চলে যায় সরকারি শুল্ক বা ট্যাক্সে। Samsung Galaxy Z TriFold একটি সুপার-ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস, তাই এর দাম সাধারণ প্রিমিয়াম ফোনের চেয়েও অনেক বেশি।
গ্লোবাল প্রাইস বনাম বাংলাদেশ প্রাইস: কেন এত দাম?
আন্তর্জাতিক বাজারে এই ফোনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খরচ, টাইটানিয়াম বডি এবং বিশেষ নমনীয় স্ক্রিন প্যানেলের ওপর ভিত্তি করে।
- গ্লোবাল বেস প্রাইস: $২,৬০০ ইউএস ডলার (প্রায় ৩,১২,০০০ টাকা)।
- বাংলাদেশের ট্যাক্স কাঠামো: বর্তমানে বাংলাদেশে স্মার্টফোন আমদানিতে প্রায় ৫৭% শুল্ক (CD, VAT, SD, AIT ইত্যাদি মিলিয়ে) দিতে হয়।
যদি অফিশিয়ালি এই ফোনটি বাংলাদেশে আসে, তবে এর দামের হিসাবটি দাঁড়াতে পারে অনেকটা এরকম:
- মূল দাম: ৩,১২,০০০ টাকা
- ট্যাক্স ও অন্যান্য খরচ (আনুমানিক ৪৫-৫০%): ১,৪০,০০০ – ১,৫৬,০০০ টাকা
- রিটেইলার লাভ ও ডিস্ট্রিবিউশন খরচ: ২০,০০০ – ৩০,০০০ টাকা
- সম্ভাব্য অফিশিয়াল খুচরা মূল্য: ৪,৭০,০০০ থেকে ৫,০০,০০০ টাকা।
আন-অফিশিয়াল বা লাগেজ মার্কেটের বাস্তবতা
অনেকেই ট্যাক্স এড়াতে আন-অফিশিয়াল মার্কেট বা লাগেজ পার্টির মাধ্যমে ফোন কেনেন। সেক্ষেত্রে দাম কিছুটা কম হতে পারে।
- আন-অফিশিয়াল দাম: ৩,৫০,০০০ – ৩,৮০,০০০ টাকা (নির্ভর করে কারেন্সি রেট এবং ডিমান্ডের ওপর)।
নিচে অফিশিয়াল এবং আন-অফিশিয়াল দামের একটি তুলনামূলক টেবিল দেওয়া হলো:
| ভেরিয়েন্ট (Storage) | আন্তর্জাতিক বাজার (USD) | বাংলাদেশে আন-অফিশিয়াল (সম্ভাব্য) | বাংলাদেশে অফিশিয়াল (সম্ভাব্য) |
|---|---|---|---|
| 16GB / 512GB | $2,600 | ৳৩,৬০,০০০ | ৳৪,৮০,০০০+ |
| 16GB / 1TB | $2,900 | ৳৪,১০,০০০ | ৳৫,৪০,০০০+ |
| 16GB / 2TB | $3,200 | ৳৪,৫০,০০০ | ৳৬,০০,০০০+ |
সতর্কবার্তা: আন-অফিশিয়াল ফোনে স্যামসাং বাংলাদেশ কোনো ওয়ারেন্টি সুবিধা দেয় না। ৩-৪ লাখ টাকার একটি ডিভাইসে ডিসপ্লে বা মাদারবোর্ড সমস্যা হলে নিজ খরচে মেরামত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বাংলাদেশে কবে পাওয়া যাবে? (Release Timeline)
- গ্লোবাল ঘোষণা: জানুয়ারি ২০২৬ (Galaxy Unpacked ইভেন্ট)।
- বাংলাদেশে প্রি-অর্ডার: ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর শেষ সপ্তাহ বা মার্চ ২০২৬ এর শুরু।
- মার্কেট রিলিজ: মার্চ-এপ্রিল ২০২৬।
Samsung Galaxy Z TriFold Full Specifications (গভীরভাবে দেখুন)
একটি ফোন কেনার আগে তার স্পেসিফিকেশন জানা জরুরি, কিন্তু সেই স্পেসিফিকেশন বাস্তব জীবনে কী প্রভাব ফেলে তা জানা আরও জরুরি।
| ক্যাটাগরি | স্পেসিফিকেশন (Specifications) | ব্যবহারকারীর লাভ (User Benefit) |
|---|---|---|
| মেইন ডিসপ্লে | ১০.২” QXGA+ Dynamic AMOLED 2X, ১-১২০ Hz | ট্যাবলেটের মতো বিশাল স্ক্রিনে কাজ ও বিনোদনের সুবিধা। ব্যাটারি বাঁচাতে রিফ্রেশ রেট অটোমেটিক কমে যায়। |
| কভার ডিসপ্লে | ৬.৫” FHD+ AMOLED, ২৬০০ নিটস | ফোন ভাজ থাকা অবস্থায় সাধারণ স্মার্টফোনের মতোই উজ্জ্বল ও শার্প স্ক্রিন। |
| প্রসেসর | Snapdragon 8 Elite (3nm) for Galaxy | পিসির মতো পারফরম্যান্স। হেভি ভিডিও এডিটিং বা গেমিংয়ে কোনো ল্যাগ হবে না। |
| র্যাম ও স্টোরেজ | ১৬GB LPDDR5X RAM, UFS 4.0 Storage | অ্যাপ ওপেন হবে চোখের পলকে। বড় ফাইল ট্রান্সফার হবে মুহূর্তের মধ্যে। |
| ক্যামেরা | ২০০ MP (Main) + ১২ MP (Ultra-wide) + ১০ MP (3x Telephoto) | ডিএসএলআর মানের ছবি এবং ৮কে ভিডিও রেকর্ডিং। |
| ব্যাটারি | ৫৬০০ mAh (Si/C Technology) | নতুন সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তির কারণে ব্যাটারি পাতলা কিন্তু বেশি শক্তিশালী। |
| অপারেটিং সিস্টেম | Android 16 with One UI 8.1 | বড় স্ক্রিনের জন্য অপটিমাইজড সফটওয়্যার এবং ৭ বছরের আপডেট গ্যারান্টি। |
ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি: টেকসই নাকি নাজুক?
ট্রাই-ফোল্ড ফোনের সবচেয়ে বড় ভয়ের জায়গা হলো এর স্থায়িত্ব। স্যামসাং এই ভীতি দূর করতে কী প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে?
১. অ্যাডভান্সড আর্মার ফ্লেক্স হিঞ্জ (Dual Hinge System)
সাধারণ ফোল্ডেবল ফোনে একটি হিঞ্জ থাকে, এখানে আছে দুটি। এই হিঞ্জগুলো ‘Multi-Axis Gear’ মেকানিজমে চলে।
- স্মুথ ফোল্ডিং: ফোনটি ভাজ করার সময় কোনো শব্দ হয় না এবং এটি অত্যন্ত মসৃণ।
- ডাস্ট রেজিস্ট্যান্স: হিঞ্জের ভেতরে অতি সূক্ষ্ম নাইলন ব্রাশ দেওয়া আছে যা ধুলোবালি বের করে দেয়। বাংলাদেশের রাস্তায় ধুলোবালির কথা মাথায় রাখলে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফিচার।
২. টাইটানিয়াম বডি ও গ্লাস
স্যামসাং এবার অ্যালুমিনিয়ামের বদলে ব্যবহার করেছে ‘Grade 5 Titanium’। এটি স্টিলের চেয়েও শক্ত কিন্তু ওজনে হালকা। ফলে হাত থেকে পড়লে বডি বেঁকে যাওয়ার বা ডেন্ট পড়ার সম্ভাবনা কম। সামনে এবং পেছনে ব্যবহার করা হয়েছে Corning Gorilla Glass Victus 2, যা স্ক্র্যাচ এবং ফাটল থেকে সুরক্ষা দেয়।
৩. হাতে ধরার অনুভূতি (Ergonomics)
ফোনটি ভাজ করা অবস্থায় ১২.৯ মিমি পুরু, যা সাধারণ ফোনের (৮-৯ মিমি) চেয়ে কিছুটা মোটা। তবে প্রস্থে এটি খুব বেশি চওড়া নয়, তাই এক হাতে গ্রিপ করা সহজ। আনফোল্ড করলে এটি মাত্র ৩.৯ মিমি পাতলা হয়ে যায়, যা দেখতে ফিউচারিস্টিক মনে হয়। ওজন ৩০৯ গ্রাম—এটি আইফোন প্রো ম্যাক্স বা এস২৫ আল্ট্রার চেয়ে ভারী, কিন্তু আইপ্যাডের চেয়ে হালকা।
ডিসপ্লে রিভিউ: ১০ ইঞ্চির ক্যানভাস
Samsung Galaxy Z TriFold-এর প্রধান আকর্ষণ এর ডিসপ্লে। এখানে স্যামসাং তাদের ডিসপ্লে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছে।
মেইন ডিসপ্লে: মাল্টি-টাস্কিংয়ের রাজা
১০.২ ইঞ্চির স্ক্রিনটি কার্যত একটি অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট।
- ভিজুয়াল কোয়ালিটি: Eco² OLED Plus প্যানেল ব্যবহার করায় এটি সাধারণ OLED এর চেয়ে ২৫% কম ব্যাটারি খরচ করে কিন্তু ১৬০০ নিটস পর্যন্ত উজ্জ্বলতা দেয়। নেটফ্লিক্স বা ইউটিউবে HDR কন্টেন্ট দেখার অভিজ্ঞতা অতুলনীয়। কালো রং একেবারে কুচকুচে কালো (Deep Black) দেখায়।
- Crease বা ভাজ: দুটি ভাজ থাকার কারণে অনেকেই চিন্তিত ছিলেন। তবে স্যামসাংয়ের নতুন UTG (Ultra Thin Glass) এবং ওয়াটার-ড্রপ হিঞ্জ ডিজাইনের কারণে ভাজগুলো আঙুল দিয়ে স্পর্শ না করলে বোঝা যায় না। স্ক্রিনটি সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট থাকে।
কভার ডিসপ্লে: কোনো আপোষ নয়
অনেক ফোল্ডেবল ফোনের বাইরের স্ক্রিনটি খুব সরু হয়, যা ব্যবহারে অস্বস্তি দেয়। কিন্তু এখানে ৬.৫ ইঞ্চির স্ট্যান্ডার্ড সাইজের ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে। এটি দিয়ে আপনি চ্যাট করা, ম্যাপ দেখা বা দ্রুত কোনো কাজ সেরে ফেলতে পারবেন ফোন না খুলেই।
পারফরম্যান্স: পিসির বিকল্প কি হতে পারে?
Snapdragon 8 Elite চিপসেটটি ২০২৬ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী মোবাইল প্রসেসর। এটি ৩ ন্যানোমিটার (3nm) আর্কিটেকচারে তৈরি, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কিন্তু পারফরম্যান্সে দুর্দান্ত।
১. গেমিং টেস্ট (Gaming Benchmark)
- Genshin Impact: সর্বোচ্চ সেটিংসে ৬০ এফপিএস (FPS) কনস্ট্যান্ট পাওয়া যায়। ১০ ইঞ্চি স্ক্রিনে গেমটির ভিজ্যুয়াল ডিটেইলস অসাধারণ লাগে।
- PUBG Mobile / Call of Duty: ১২০ এফপিএস মোডে খেলা যায়। বড় স্ক্রিনের কারণে শত্রুদের দূর থেকে দেখা সহজ হয়।
- থার্মাল ম্যানেজমেন্ট: স্যামসাং এই ফোনে গ্রাফাইট শিট এবং বড় ভ্যাপার চেম্বার ব্যবহার করেছে। ফলে টানা ১ ঘণ্টা গেম খেললেও ফোনটি ৪৫ ডিগ্রির উপরে গরম হয় না।
২. ভিডিও এডিটিং ও রেন্ডারিং
যারা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, তাদের জন্য এটি আশীর্বাদ। ‘LumaFusion’ বা ‘Adobe Premiere Rush’ অ্যাপে ৪কে ভিডিও এডিট করা এবং রেন্ডার করা যায় অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে। ১৬ জিবি র্যাম থাকায় লেয়ারিং এবং এফেক্ট ব্যবহারে কোনো ল্যাগ হয় না।
৩. Samsung DeX: পকেট পিসি
মনিটর বা টিভিতে তার ছাড়াই (Wireless DeX) কানেক্ট করে আপনি পিসির মতো ডেস্কটপ ইন্টারফেস পাবেন। অথবা ফোনের স্ক্রিনেই ব্লুটুথ কিবোর্ড লাগিয়ে ল্যাপটপের মতো কাজ করতে পারবেন। এক্সেল শিট, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন বা ওয়ার্ড ডকুমেন্ট তৈরির জন্য এটি ল্যাপটপের যোগ্য বিকল্প।
ক্যামেরা সেকশন: ফোল্ডেবল ফোনের সীমাবদ্ধতা জয়
সাধারণত ফোল্ডেবল ফোনে জায়গার অভাবে ছোট ক্যামেরা সেন্সর ব্যবহার করা হয়। কিন্তু Galaxy Z TriFold এখানে ব্যতিক্রম।
২০০ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা
Galaxy S25 Ultra-এর সেই আইকনিক ২০০ মেগাপিক্সেল সেন্সর এখানেও আছে।
- ডিটেইলস: ছবি জুম করলে ফাটে না। বিলবোর্ড প্রিন্ট করার মতো ডিটেইলস থাকে।
- কালার সায়েন্স: স্যামসাংয়ের কালার এখন অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। স্কিন টোন এবং আকাশের রং ন্যাচারাল থাকে।
পোট্রেট ও জুম
৩ গুণ অপটিক্যাল জুম লেন্সটি পোট্রেট তোলার জন্য সেরা। ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার বা বোকেহ ইফেক্ট ডিএসএলআর ক্যামেরার মতোই নিখুঁত। ৩০ গুণ ডিজিটাল জুম পর্যন্ত ছবি ব্যবহারযোগ্য থাকে, তবে ১০০ গুণ জুমে কিছুটা নয়েজ দেখা যায়।
সেলফি ও ভিডিও
- ফ্লেক্স মোড: ফোনটিকে ৯০ ডিগ্রি ভাজ করে টেবিলে রেখে আপনি হ্যান্ডস-ফ্রি ভিডিও কল বা ভ্লগ করতে পারেন।
- রিয়ার ক্যামেরা সেলফি: কভার স্ক্রিন প্রিভিউ অন করে পেছনের ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দিয়ে বিশ্বের সেরা মানের সেলফি তোলা সম্ভব।
ব্যাটারি ও চার্জিং: সারাদিন চলবে তো?
তিনটি স্ক্রিন চালানো ব্যাটারির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। স্যামসাং এখানে Stacked Battery Technology ব্যবহার করেছে।
- ব্যাকআপ: ৫৬০০ mAh ব্যাটারি সাধারণ ব্যবহারে (সোশ্যাল মিডিয়া, কল, মেইল) অনায়াসেই ১.৫ দিন চলে যায়। হেভি ইউজে (টানা গেমিং বা ভিডিও) এটি ৮-৯ ঘণ্টা স্ক্রিন অন টাইম (SOT) দেয়, যা ১০ ইঞ্চি ডিভাইসের জন্য অবিশ্বাস্য।
- চার্জিং: ৪৫ ওয়াট চার্জিং স্পিড ২০২৬ সালে কিছুটা কম মনে হতে পারে। ০ থেকে ১০০% হতে সময় লাগে প্রায় ৭০ মিনিট। তবে ২৫ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং বেশ সুবিধাজনক।
সফটওয়্যার: One UI 8.1 এবং Galaxy AI
স্যামসাংয়ের হার্ডওয়্যারের চেয়েও বড় শক্তি তাদের সফটওয়্যার। Android 16 এবং One UI 8.1 মিলে এই ফোনটিকে মাল্টি-টাস্কিং মনস্টারে পরিণত করেছে।
মাল্টি-টাস্কিং জেসচার
- থ্রি-ফিঙ্গার সোয়াইপ: তিন আঙুল দিয়ে সোয়াইপ করে স্ক্রিনকে দ্রুত তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- অ্যাপ পেয়ার (App Pair): আপনি আপনার পছন্দের ৩টি অ্যাপ (যেমন: ইউটিউব, নোটস, ক্রোম) একসাথে সেভ করে রাখতে পারেন। এক ক্লিকেই তিনটি অ্যাপ একসাথে চালু হবে।
Galaxy AI ফিচারসমূহ
- রিয়েল-টাইম ট্রান্সলেট: আপনি বাংলায় কথা বললে অপর প্রান্তে ইংরেজিতে শোনা যাবে এবং উল্টোটা।
- সার্কেল টু সার্চ: ভিডিও বা ছবির যেকোনো কিছুর ওপর গোল দাগ দিলেই গুগল সেটি খুঁজে বের করবে।
- ভয়েস রেকর্ডার সামারি: ১ ঘণ্টার মিটিং রেকর্ড করলে AI সেটি শুনে ১ মিনিটে টেক্সট সামারি তৈরি করে দেবে।
সুবিধা ও অসুবিধা (Pros and Cons)

| কেন কিনবেন? (Pros) | কেন কিনবেন না? (Cons) |
|---|---|
| ১. ২-ইন-১ ডিভাইস: ট্যাবলেট এবং ফোনের সুবিধা একই সাথে। | ১. অত্যাধিক দাম: ৫ লক্ষ টাকা অনেক বড় বিনিয়োগ। |
| ২. প্রোডাক্টিভিটি: অফিসের কাজ, এডিটিং ও বিনোদনের জন্য সেরা। | ২. নাজুকতা: যতই মজবুত হোক, ফোল্ডেবল স্ক্রিন সাধারণ স্ক্রিনের চেয়ে সংবেদনশীল। |
| ৩. ক্যামেরা: ফোল্ডেবল ফোনের মধ্যে সেরা ক্যামেরা সিস্টেম। | ৩. মেরামত খরচ: স্ক্রিন ভেঙে গেলে মেরামতের খরচ ১ লক্ষ টাকার বেশি হতে পারে। |
| ৪. সফটওয়্যার সাপোর্ট: ৭ বছর পর্যন্ত আপডেট নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যাবে। | ৪. ওজন: ৩০৯ গ্রাম ওজন দীর্ঘক্ষণ হাতে ধরে রাখা কষ্টকর হতে পারে। |
Samsung Galaxy Z TriFold vs Huawei Mate XT: কে সেরা?
হুয়াওয়ের মেট এক্সটি (Huawei Mate XT) বিশ্বের প্রথম ট্রাই-ফোল্ড ফোন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে স্যামসাং কেন এগিয়ে?
- গুগল ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশে হুয়াওয়ে ফোনে গুগল প্লে স্টোর, ইউটিউব বা জিমেইল সরাসরি চলে না, যা বড় সমস্যা। স্যামসাংয়ে সব অফিশিয়ালি চলে।
- স্থায়িত্ব: স্যামসাংয়ের হিঞ্জ এবং ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স (IP48) হুয়াওয়ের চেয়ে উন্নত এবং পরীক্ষিত।
- সার্ভিসিং: বাংলাদেশে স্যামসাংয়ের সার্ভিস সেন্টার প্রতিটি বড় শহরে আছে, কিন্তু হুয়াওয়ের হাই-এন্ড ফোনের পার্টস পাওয়া দুষ্কর।
তাই বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য স্যামসাং নিঃসন্দেহে নিরাপদ এবং বুদ্ধিমানের পছন্দ।
চূড়ান্ত রায়: ২০২৬ সালে এটি কি ভ্যালু ফর মানি?
Samsung Galaxy Z TriFold Price in Bangladesh বিবেচনা করলে এটি সাধারণের জন্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটি কাদের জন্য?
- সিইও বা এক্সিকিউটিভদের জন্য: যাদের সবসময় মেইল চেক, রিপোর্ট দেখা এবং সাইন করতে হয়, তাদের জন্য এটি ল্যাপটপ বহনের ঝামেলা কমাবে।
- ক্রিয়েটর ও আর্কিটেক্টদের জন্য: যারা অন-দ্য-গো ডিজাইন বা এডিটিং দেখাতে চান, তাদের জন্য ১০ ইঞ্চি স্ক্রিনটি পারফেক্ট।
- টেক এনথুসিয়াস্টদের জন্য: যারা নতুন প্রযুক্তির স্বাদ সবার আগে পেতে চান।
যদি আপনি ৩-৪টি আলাদা ডিভাইস (ফোন + ট্যাবলেট + কিন্ডল) এর কাজ একটি ডিভাইসে পেতে চান এবং বাজেট কোনো সমস্যা না হয়, তবে Samsung Galaxy Z TriFold আপনার জীবনের অন্যতম সেরা গ্যাজেট হতে যাচ্ছে। এটি শুধু একটি ফোন নয়, এটি আপনার পকেটের পাওয়ার হাউজ।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
১. বাংলাদেশে Samsung Galaxy Z TriFold এর অফিশিয়াল দাম কত হতে পারে?
অফিশিয়াল ট্যাক্সসহ এর দাম ৪,৭০,০০০ টাকা থেকে ৫,০০,০০০ টাকার মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
২. এই ফোনের স্ক্রিন প্রটেক্টর কি বাংলাদেশে পাওয়া যাবে?
স্যামসাং অফিশিয়ালি স্ক্রিনে প্রটেক্টর লাগিয়ে দেয়। এটি উঠে গেলে বা নষ্ট হলে শুধুমাত্র অথরাইজড সার্ভিস সেন্টার থেকে পরিবর্তন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাইরের সাধারণ দোকান থেকে লাগালে স্ক্রিনের ক্ষতি হতে পারে।
৩. সাধারণ সিম এবং ই-সিম (e-SIM) কি একসাথে ব্যবহার করা যাবে?
হ্যাঁ, এতে একটি ফিজিক্যাল ন্যানো সিম স্লট এবং একাধিক ই-সিম প্রোফাইল সাপোর্টের সুবিধা রয়েছে। আপনি একসাথে দুটি নম্বর সক্রিয় রাখতে পারবেন।
৪. ৪-৫ বছর ব্যবহারে কি ভাজের দাগ (Crease) বেড়ে যাবে?
স্যামসাং দাবি করে তাদের হিঞ্জ ২,০০,০০০ বার ভাজ করার পরও ঠিক থাকে। অর্থাৎ দিনে ১০০ বার ভাজ করলেও ৫ বছর অনায়াসেই চলবে। তবে দীর্ঘ ব্যবহারে ভাজের দাগ সামান্য স্পষ্ট হতে পারে, যা ফোল্ডেবল ফোনের ধর্ম।
৫. বক্সে কি কি থাকবে?
পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বক্সে শুধুমাত্র ফোন, সিম ইজেক্টর পিন এবং ইউএসবি-সি কেবল থাকবে। কোনো চার্জার বা কেস থাকবে না।


