ব্রাউজার এক্সটেনশন নিরাপদ কি না পরীক্ষা করার নিয়ম

সর্বাধিক আলোচিত

একটি ব্রাউজার এক্সটেনশন ইনস্টল করতে কয়েক সেকেন্ড লাগে। সরাতে আরও কম। সমস্যাটা মাঝখানে—ইনস্টল করার সময় আমরা সাধারণত দেখি এটি কী সুবিধা দিচ্ছে, কিন্তু খুব কমই দেখি বিনিময়ে ব্রাউজারে কতটা প্রবেশাধিকার নিচ্ছে।

স্ক্রিনশট, বিজ্ঞাপন বন্ধ করা, পাসওয়ার্ড ম্যানেজ করা, অনুবাদ বা ট্যাব গুছিয়ে রাখার জন্য হাজারো এক্সটেনশন আছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো কাজের। তবু কোনো এক্সটেনশন যদি এমন তথ্য পড়তে চায় যা তার কাজের সঙ্গে মেলে না, অকারণে সব ওয়েবসাইটে চলতে চায়, অথবা ইনস্টলের পর সার্চ ইঞ্জিন, হোমপেজ কিংবা ব্রাউজারের আচরণ বদলে দেয়—তখন সেটিকে আর সাধারণ টুল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

নিরাপত্তা যাচাইয়ের সহজ সূত্র হলো: কে বানিয়েছে, কী কাজ করে, আর সেই কাজের জন্য কী অনুমতি চাইছে। এই তিনটি তথ্যের মধ্যে গরমিল থাকলেই সতর্ক হওয়ার কারণ তৈরি হয়।

প্রথমে অনুমতিগুলো দেখুন

অনেক ব্যবহারকারী এক্সটেনশন ইনস্টল করার সময় যে সতর্কবার্তা আসে, সেটি প্রায় না পড়েই এক্সটেনশন যোগ করুন বোতাম চাপেন। অথচ সবচেয়ে দরকারি তথ্যটি অনেক সময় ওই ছোট উইন্ডোতেই থাকে।

ধরা যাক, একটি সাধারণ স্ক্রিনশট টুল সব ওয়েবসাইটের তথ্য পড়া ও বদলানোর অনুমতি চাইছে। তার কাজের ধরন যদি এমন প্রবেশাধিকার ব্যাখ্যা না করে, তাহলে একটু থামা উচিত। একই অনুমতি আবার একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নাও হতে পারে, কারণ সেটিকে বিভিন্ন সাইটের লগইন ফর্ম শনাক্ত করতে হয়।

তাই “বড় অনুমতি মানেই বিপজ্জনক”—এ নিয়ম কাজ করে না।

দেখুন এক্সটেনশনটি ব্রাউজিং ইতিহাস, ডাউনলোড, ক্লিপবোর্ড, ট্যাব বা অনেক ওয়েবসাইটে একসঙ্গে কাজ করার অনুমতি চাইছে কি না। তারপর প্রশ্ন করুন, এর মূল কাজের জন্য এগুলো সত্যিই দরকার কি?

ক্রোম ওয়েব স্টোরের নীতিতেও ডেভেলপারদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অনুমতি না চাইতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো সুবিধায় লাগতে পারে—এমন সম্ভাবনার জন্য আগেই বাড়তি প্রবেশাধিকার নেওয়াকে সেখানে গ্রহণযোগ্য ধরা হয় না। ছদ্মবেশী বা ব্যক্তিগত ব্রাউজিং মোড কিংবা স্থানীয় ফাইল:// ঠিকানায় প্রবেশাধিকারের মতো কিছু অনুমতি আবার ক্রোমে আলাদাভাবে চালু করতে হয়। প্রয়োজন না থাকলে এগুলো চালু রাখারও দরকার নেই।

আরও পড়ুন: Phishing Message চেনার ১২টি লক্ষণ: SMS, Email ও Messenger-এর উদাহরণ

স্টোরে পাওয়া গেছে—ভালো। কিন্তু এখানেই যাচাই শেষ নয়

স্টোরে পাওয়া গেছে—ভালো। কিন্তু এখানেই যাচাই শেষ নয়

ক্রোম হলে ক্রোম ওয়েব স্টোর, ফায়ারফক্স হলে মজিলা অ্যাড-অনস, আর এজ হলে মাইক্রোসফট এজ অ্যাড-অনস থেকেই শুরু করা ভালো। এজ ব্যবহারকারীরা ক্রোম ওয়েব স্টোরের এক্সটেনশনও ব্যবহার করতে পারেন।

এই স্টোরগুলো একেবারে নিয়ন্ত্রণহীন নয়। নতুন বা হালনাগাদ করা এক্সটেনশন পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যায়, অভিযোগ এলে পরে আবারও পরীক্ষা হতে পারে। গুরুতর নীতিভঙ্গ বা ম্যালওয়্যার ধরা পড়লে এক্সটেনশন সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

কিন্তু এখানেই একটি সাধারণ ভুল হয়। অনেকে ধরে নেন, স্টোরে আছে মানেই নিরাপদ। বাস্তবে স্টোরকে প্রথম ছাঁকনি বলা যায়, চূড়ান্ত নিশ্চয়তা নয়। আর কোনো অচেনা ওয়েবসাইট যদি বলে ব্রাউজারের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করতে হবে, ডেভেলপার মোড চালু করতে হবে বা আলাদা ফাইল ডাউনলোড করে এক্সটেনশন বসাতে হবে, সাধারণ ব্যবহারকারীর সেখানে না এগোনোই ভালো।

ডেভেলপারকে চিনতে পারছেন?

রেটিং দেখার আগে বা পরে একবার ডেভেলপারের নামেও চোখ বুলিয়ে নিন। পরিচিত কোনো ব্র্যান্ডের নামে এক্সটেনশন পাওয়া গেলেই সেটি সেই প্রতিষ্ঠানের তৈরি—এমন ধরে নেওয়া যাবে না। ডেভেলপারের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখুন সেখানে ওই পণ্যের উল্লেখ আছে কি না। সহায়তা পাতা কাজ করছে কি না, গোপনীয়তা নীতি আছে কি না, এক্সটেনশন কী করে তা পরিষ্কারভাবে লেখা হয়েছে কি না—এসব খুব সাধারণ পরীক্ষা।

ছোট ডেভেলপার মানেই অনিরাপদ নয়। বড় কোম্পানির নামও একা নিশ্চয়তা নয়।

বরং গরমিল খুঁজুন। একটি পরিচিত সেবার মতো নাম, কিন্তু সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন ওয়েবসাইট; সহায়তার লিংক ভাঙা; গোপনীয়তা নীতি অস্পষ্ট; তথ্য কীভাবে ব্যবহার হয়, তার কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা নেই—এগুলো একসঙ্গে দেখা গেলে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।

এমন এক্সটেনশন না বসিয়েও সাধারণত কাজ চালানোর বিকল্প পাওয়া যায়। অকারণে ঝুঁকি নেওয়ার দরকার নেই।

গোপনীয়তা নীতি পুরোটা না পড়লেও কিছু তথ্য দেখা যায়

গোপনীয়তা নীতি কয়েক পৃষ্ঠা লম্বা হলে সবাই তা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বে—এটা বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা নয়। কিন্তু কয়েকটি বিষয় খুঁজে দেখা যায়। এক্সটেনশনটি কি ব্রাউজিংয়ের তথ্য নেয়? ওয়েবপেজের বিষয়বস্তু পড়তে পারে? অ্যাকাউন্ট বা ইমেইল-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে? সেই তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে যেতে পারে?

ক্রোম ওয়েব স্টোরের ২০২৬ সালের নীতিমালা হালনাগাদে তথ্য সংগ্রহ নিয়ে নিয়ম আরও কড়া হয়েছে। ঘোষিত মূল কাজের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের বাইরে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার বা পাঠানোর ওপর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তথ্য ব্যবহারের ধরন বদলালে সেটিও ব্যবহারকারীকে জানাতে হবে।

এই নীতির নতুন প্রয়োগ ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে।

এখানে সবচেয়ে সহজ পরীক্ষাটি হলো—স্টোরের বর্ণনা আর গোপনীয়তা নীতি এক কথা বলছে কি না। এক জায়গায় “তথ্য সংগ্রহ করি না”, অন্য জায়গায় তার উল্টো ধরনের ভাষা থাকলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

পাঁচ তারকা রেটিং দেখে নিশ্চিন্ত হবেন না

রেটিং দরকারি। ইনস্টলের সংখ্যাও কিছুটা ধারণা দেয়। কিন্তু দুটির কোনোটিই নিরাপত্তা পরীক্ষার বিকল্প নয়। ক্রোম ওয়েব স্টোর ভুয়া বা প্রণোদনাভিত্তিক পর্যালোচনা, রেটিং ও ডাউনলোড নিষিদ্ধ করে। এই নিয়ম থাকার অর্থই হলো, সংখ্যাগুলো সব সময় পুরো ছবি দেখায় না।

তাই একটি এক্সটেনশন দেখতে গেলে কয়েকটি সাম্প্রতিক খারাপ পর্যালোচনা পড়া অনেক সময় বেশি কাজে দেয়।

একজন লিখেছেন “ম্যালওয়্যার”—এতেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই। কিন্তু একই সময়ের একাধিক পর্যালোচনায় যদি বলা হয় হালনাগাদের পর বিজ্ঞাপন আসছে, সার্চ ইঞ্জিন বদলে যাচ্ছে, অচেনা সাইটে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা সরানোর পরও এক্সটেনশন ফিরে আসছে, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই আরও খতিয়ে দেখা দরকার।

পুরোনো পাঁচ তারকা পর্যালোচনার চেয়ে সাম্প্রতিক আচরণ এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বহুদিনের পরিচিত এক্সটেনশনও বদলে যেতে পারে

বহুদিনের পরিচিত এক্সটেনশনও বদলে যেতে পারে

একটি এক্সটেনশন এক বছর ভালোভাবে ব্যবহার করেছেন। তারপর হঠাৎ হালনাগাদের পর নতুন অনুমতি চাইছে। এখানে “এত দিন তো সমস্যা হয়নি” যুক্তিটা খুব কাজে আসে না। ক্রোমে হালনাগাদের সঙ্গে এমন নতুন বাধ্যতামূলক অনুমতি যোগ হলে, যার জন্য ব্যবহারকারীকে সতর্কবার্তা দেখানো দরকার, এক্সটেনশন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে। নতুন অনুমতি মেনে নিলে আবার চালু হয়।

সতর্কবার্তা এলে দেখুন, হালনাগাদে আসলে কী বদলেছে। নতুন কোনো সুবিধা এসেছে? সেই সুবিধার সঙ্গে চাওয়া অনুমতির সম্পর্ক আছে?

একইভাবে হালনাগাদের পর থেকেই হোমপেজ বদলানো, অচেনা সাইটে পাঠানো বা সার্চের আচরণ পরিবর্তন শুরু হলে এক্সটেনশনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেখা যায় সমস্যাটি থাকে কি না।

এখানে একটু সতর্ক থাকা দরকার। এক্সটেনশন বন্ধ করতেই সমস্যা থেমেছে মানে সেটি ম্যালওয়্যার—এ সিদ্ধান্তও তাড়াহুড়া করে নেওয়া যাবে না। সফটওয়্যারের ত্রুটি, মেমোরি ব্যবহার বা অন্য প্রযুক্তিগত সমস্যাও কারণ হতে পারে।

সব ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার দেওয়ার দরকার আছে?

এক্সটেনশন ইনস্টল করার পর এই সেটিংটি সবচেয়ে বেশি ভুলে যাওয়া হয়। ক্রোমের এক্সটেনশন ব্যবস্থাপনা অংশে সমর্থিত এক্সটেনশনের জন্য সাধারণত তিন ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকে:

  • নির্বাচন করলে
  • নির্দিষ্ট সাইটে
  • সব সাইটে

ধরা যাক, একটি গবেষণার টুল আপনি শুধু দু-তিনটি ওয়েবসাইটে ব্যবহার করেন। সে ক্ষেত্রে সব সাইটে সারাক্ষণ প্রবেশাধিকার দিয়ে রাখার খুব একটা কারণ নেই।

এজেও কাছাকাছি ব্যবস্থা আছে—এক্সটেনশনে ক্লিক করার সময়, বর্তমান সাইটে অথবা সব সাইটে প্রবেশাধিকার দেওয়া যায়। ব্যক্তিগত ব্রাউজিং মোড ও স্থানীয় ফাইলের প্রবেশাধিকার আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এটি ছোট একটি সেটিং, কিন্তু কাজে দেয়। এক্সটেনশন না সরিয়েও তার কাজের পরিধি কমিয়ে দেওয়া যায়।

ক্রোম, ফায়ারফক্স ও এজে কোথায় দেখবেন

ক্রোম ব্যবহার করলে ডেস্কটপ ব্রাউজারে এক্সটেনশন > এক্সটেনশন ব্যবস্থাপনা খুলুন। ঠিকানা লেখার ঘরে ক্রোম://এক্সটেনশনস লিখলেও একই জায়গায় যাওয়া যায়।

অচেনা বা আর ব্যবহার করেন না এমন এক্সটেনশনের বিস্তারিত দেখুন। সাইটে কতটা প্রবেশাধিকার দেওয়া আছে, ব্যক্তিগত ব্রাউজিং মোডে চলছে কি না—এসব সেখানেই পাওয়া যাবে। সন্দেহ হলে আগে চালু-বন্ধ করার বোতামটি বন্ধ করুন। ব্রাউজার কিছুক্ষণ ব্যবহার করে দেখুন আগের অস্বাভাবিক আচরণ ফিরে আসে কি না। দরকার না থাকলে সরিয়ে দিন।

ফায়ারফক্সে এক্সটেনশন ও থিম > এক্সটেনশন খুললে ইনস্টল করা অ্যাড-অন দেখা যায়। কোনো এক্সটেনশনের অনুমতি বা অনুমতি ও তথ্য অংশে তার প্রবেশাধিকার দেখা যায়। ঐচ্ছিক অনুমতি হলে সমর্থিত ক্ষেত্রে সেখান থেকেই বন্ধ করা যায়।

সরানোর জন্য তিন ডটের মেনুতে সরান আছে। কোনো অ্যাড-অন স্বাভাবিকভাবে না সরলে মজিলা সমস্যা সমাধান মোড ব্যবহার করে চেষ্টা করার পরামর্শ দেয়।

এজে এক্সটেনশন থেকে এক্সটেনশন ব্যবস্থাপনা খুললেই মূল নিয়ন্ত্রণগুলো পাওয়া যায়। বিস্তারিত > সাইটে প্রবেশাধিকার অংশে গিয়ে কোন সাইটে এক্সটেনশন চলবে তা দেখা যায়। প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে বন্ধ করুন বা মাইক্রোসফট এজ থেকে সরান ব্যবহার করুন।

ব্রাউজার হালনাগাদের সঙ্গে মেনুর নাম বা অবস্থান সামান্য বদলাতে পারে। তবে এক্সটেনশন ব্যবস্থাপনার পাতাই খোঁজার জায়গা।

কোন পরিবর্তনগুলোকে সাধারণ সফটওয়্যার ত্রুটি ভেবে এড়িয়ে যাবেন না

নতুন এক্সটেনশন বসানোর পর যদি হঠাৎ হোমপেজ বদলে যায়, ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন পাল্টে যায়, বারবার পপ-আপ আসে বা অচেনা বিজ্ঞাপনের পাতায় নিয়ে যায়, এক্সটেনশনটিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধরুন।

নিজে ইনস্টল করেননি এমন টুলবার বা এক্সটেনশন দেখা দেওয়াও ভালো লক্ষণ নয়। বিশেষ করে সরানোর পরও সেটি ফিরে এলে যন্ত্রে অন্য অনাকাঙ্ক্ষিত সফটওয়্যার আছে কি না দেখতে হবে।

ব্রাউজার ধীর হওয়া একটু আলাদা। কোনো এক্সটেনশন বন্ধ করার পর গতি ভালো হলে সেটি বেশি মেমোরি বা প্রসেসরের ক্ষমতা ব্যবহার করছে বলে সন্দেহ করা যায়। কিন্তু “ব্রাউজার ধীর মানেই ম্যালওয়্যার”—এটা ঠিক নয়।

এই পার্থক্যটি জরুরি। সব প্রযুক্তিগত সমস্যাকে নিরাপত্তা ভঙ্গ বললে যেমন ভুল হবে, তেমনি স্পষ্ট ব্রাউজার দখলের লক্ষণকে সাধারণ ত্রুটি ভেবেও বসে থাকা ঠিক নয়।

এক্সটেনশন সরানোর পরও যদি সন্দেহ থাকে

শুধু পপ-আপ বা কর্মক্ষমতার সমস্যা হলে এক্সটেনশন সরিয়ে ব্রাউজার আবার চালু করাই অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু একই সময়ে অ্যাকাউন্টে অচেনা লগইন দেখা গেল, পাসওয়ার্ড বদলে গেল বা অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের তথ্য পরিবর্তন হলো—তখন বিষয়টি শুধু ব্রাউজার পরিষ্কার করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা বা পুনরুদ্ধার পাতা ব্যবহার করুন। পাসওয়ার্ড চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ হলে সেটি বদলান। একই পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করলে সেখানেও আলাদা পাসওয়ার্ড দিন।

অচেনা লগইন করা যন্ত্র বা সক্রিয় সেশন থাকলে সরিয়ে দিন। সুযোগ থাকলে বহুস্তরীয় পরিচয় যাচাই বা দুই ধাপের যাচাই চালু করুন।

ব্যাংক বা অর্থপ্রদানের অ্যাকাউন্টে অচেনা লেনদেন দেখা গেলে ব্রাউজারের সেটিং ঠিক করেই থামবেন না। সরাসরি ব্যাংক বা অর্থপ্রদান সেবাদাতার আনুষ্ঠানিক প্রতারণা সহায়তা বা সহায়তা চ্যানেলে যোগাযোগ করতে হবে।

পুরোনো এক্সটেনশনগুলোকেও মাঝে মাঝে দেখুন

ঝুঁকি সব সময় গতকাল ইনস্টল করা এক্সটেনশন থেকে আসে না। ব্রাউজারে বছরের পর বছর এমন এক্সটেনশন পড়ে থাকতে পারে যা আর ব্যবহারই করা হয় না।

একদিন এক্সটেনশনের তালিকা খুলে শুধু এটুকু দেখুন—কোনগুলো সত্যিই দরকার?

যেটি আর ব্যবহার করেন না, সরিয়ে দিন। দরকার আছে কিন্তু সব ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার প্রয়োজন নেই, অনুমতি কমিয়ে দিন। বহুদিনের পুরোনো এক্সটেনশন হঠাৎ নতুন অনুমতি চাইলে সেটিকেও নতুন এক্সটেনশনের মতো করেই যাচাই করুন।

আলাদা নিরাপত্তা টুল ছাড়াই এই ছোট অভ্যাসে ব্রাউজারে অপ্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার অনেকটাই কমানো যায়।

মনে রাখার মতো তিনটি প্রশ্ন

নতুন কোনো এক্সটেনশন ইনস্টল করার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন:

কে বানিয়েছে? কী কাজ করে? সেই কাজের জন্য এতটা প্রবেশাধিকার দরকার কি?

তিনটির উত্তর যদি পরস্পরের সঙ্গে মেলে, ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। যদি গরমিল থাকে, ইনস্টল স্থগিত রাখাই ভালো।

ব্রাউজার এক্সটেনশনের নিরাপত্তাকে খুব জটিল বিষয় বানানোর প্রয়োজন নেই। বেশির ভাগ সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য অপ্রয়োজনীয় এক্সটেনশন সরিয়ে রাখা, সাইটে প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা এবং ব্রাউজারের আচরণ হঠাৎ বদলে গেলে সাম্প্রতিক এক্সটেনশনগুলোর দিকেই আগে নজর দেওয়া সবচেয়ে বাস্তবসম্মত অভ্যাস।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ব্রাউজার এক্সটেনশন নিরাপদ কি না দ্রুত বোঝার উপায় কী?

এক্সটেনশনটি কে তৈরি করেছে, কী কাজ করার দাবি করছে এবং সেই কাজের জন্য কী ধরনের অনুমতি চাইছে—এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে দেখুন। অপ্রয়োজনীয় বা কাজের সঙ্গে সম্পর্কহীন প্রবেশাধিকার চাইলে ইনস্টল করার আগে আরও যাচাই করা উচিত।

বেশি পারমিশন চাইলেই কি একটি এক্সটেনশন ম্যালওয়্যার?

না। কিছু এক্সটেনশনের কাজের জন্য বিস্তৃত প্রবেশাধিকার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন পাসওয়ার্ড ম্যানেজারকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লগইন ফর্ম শনাক্ত করতে হয়। তবে সাধারণ কোনো কাজের জন্য অস্বাভাবিক বেশি অনুমতি চাইলে তার কারণ খুঁজে দেখা দরকার।

ক্রোম ওয়েব স্টোরে থাকা সব এক্সটেনশন কি নিরাপদ?

না। ক্রোম ওয়েব স্টোরে এক্সটেনশন পর্যালোচনা ও নীতিমালা প্রয়োগের ব্যবস্থা আছে, কিন্তু স্টোরে উপস্থিতি শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়। ইনস্টলের আগে ডেভেলপার, অনুমতি, সাম্প্রতিক পর্যালোচনা এবং গোপনীয়তা নীতি দেখা উচিত।

সন্দেহজনক এক্সটেনশন সরানোর পর কি পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা দরকার?

শুধু এক্সটেনশন সন্দেহজনক মনে হয়েছে বলেই সব পাসওয়ার্ড বদলাতে হবে না। তবে একই সময়ে অচেনা লগইন, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, পুনরুদ্ধারের তথ্য বদলে যাওয়া বা অন্য সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট কার্যকলাপ দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং সক্রিয় সেশন পরীক্ষা করা উচিত।

ব্রাউজার ধীর হয়ে গেলে কি এক্সটেনশন ম্যালওয়্যার ধরে নিতে হবে?

না। কোনো এক্সটেনশন বেশি মেমোরি বা প্রসেসর ব্যবহার করলেও ব্রাউজার ধীর হতে পারে। এক্সটেনশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে কর্মক্ষমতা বদলায় কি না দেখা যায়, তবে ধীরগতি একাই ম্যালওয়্যারের প্রমাণ নয়।

পুরোনো এক্সটেনশনও কি নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?

হ্যাঁ, বিশেষ করে যদি সেটি আর ব্যবহার করা না হয়, নতুন অনুমতি চায় বা হালনাগাদের পর আচরণ বদলে যায়। তাই মাঝেমধ্যে ইনস্টল করা এক্সটেনশনের তালিকা দেখে অপ্রয়োজনীয়গুলো সরিয়ে দেওয়া ভালো।

সর্বশেষ