কোনো ডেটা ব্রিচে নিজের ইমেইল ঠিকানা পাওয়া গেলে প্রথম যে ভুলটা করা সহজ, তা হলো ধরে নেওয়া—ইমেইল অ্যাকাউন্টটাই হ্যাক হয়েছে। বাস্তবে ঘটনা অনেক সময় এতটা সরাসরি নয়।
ধরুন, কয়েক বছর আগে কোনো অনলাইন দোকানে জিমেইল ঠিকানা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। পরে সেই প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডার ফাঁস হলো। সেখানে আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা থাকতে পারে, কিন্তু জিমেইলের পাসওয়ার্ড নাও থাকতে পারে। আবার কোনো ডেটা ব্রিচে পাসওয়ার্ড হ্যাশ, ফোন নম্বর, জন্মতারিখ বা অন্য ব্যক্তিগত তথ্যও বেরোতে পারে।
এই পার্থক্যটাই সবচেয়ে আগে বোঝা দরকার। ডেটা ব্রিচে করণীয় শুরু হবে “সব পাসওয়ার্ড বদলে ফেলি” দিয়ে নয়; আগে দেখতে হবে কোন তথ্য ফাঁস হয়েছে এবং সেই তথ্য অন্য কোথায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ডেটা ব্রিচের সতর্কবার্তা পেলেই লিংকে চাপবেন না
এ ধরনের সতর্কবার্তা নিজেও ফিশিংয়ের অংশ হতে পারে।
“আপনার পাসওয়ার্ড ফাঁস হয়েছে”, “এখনই অ্যাকাউন্ট যাচাই করুন” বা “অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে”—এ ধরনের বার্তা তাড়াহুড়ো করাতে চায়। দেখতে আসল প্রতিষ্ঠানের মতো হলেও লিংকটি ভুয়া প্রবেশপাতায় নিয়ে যেতে পারে।
তাই কোনো ডেটা ব্রিচের সতর্কবার্তা পেলে বার্তার লিংক ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট সেবার অ্যাপ নিজে খুলুন। ব্রাউজার ব্যবহার করলে পরিচিত সরকারি বা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ওয়েব ঠিকানা নিজে লিখুন অথবা আগে থেকে সংরক্ষিত বুকমার্ক ব্যবহার করুন। প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তি বা ডেটা ব্রিচ-সংক্রান্ত ঘোষণা আছে কি না দেখে নিন।
একই নিয়ম ফোন নম্বর ও সংযুক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সন্দেহজনক বার্তায় দেওয়া যোগাযোগের তথ্যকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ভরযোগ্য ধরে নেওয়ার দরকার নেই।
হ্যাভ আই বিন পনড কী জানাতে পারে, আর কী পারে না

হ্যাভ আই বিন পনড বা এইচআইবিপি-তে ইমেইল ঠিকানা দিয়ে খুঁজলে পরিচিত কোনো ডেটা ব্রিচে সেটি পাওয়া গেছে কি না দেখা যায়।
এটি বেশ উপকারী, বিশেষ করে পুরোনো কোনো ডেটা ব্রিচের কথা আপনি জানতেন না এমন ক্ষেত্রে। ফলাফলে সাধারণত ডেটা ব্রিচের নাম, ঘটনার আনুমানিক সময় এবং কী ধরনের তথ্য আক্রান্ত হয়েছিল তার তালিকা থাকে।
এখানেই একটি জায়গায় অনেকের ভুল বোঝাবুঝি হয়।
কোনো ডেটা ব্রিচের তথ্যের ধরনে যদি “ইমেইল ঠিকানা” এবং “পাসওয়ার্ড” দুটোই লেখা থাকে, তার মানে ওই ঘটনায় এই ধরনের তথ্য ছিল। এর অর্থ এই নয় যে এইচআইবিপি আপনার ইমেইলের পাশে আপনার প্রকৃত পাসওয়ার্ড দেখাচ্ছে বা নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ডটি কোনটি ছিল তা জানাচ্ছে।
উল্টো দিকটাও মনে রাখা দরকার। এইচআইবিপি-তে কোনো ফলাফল না পাওয়া মানেই ইমেইল ঠিকানা কোথাও কখনো ফাঁস হয়নি—এমন নিশ্চয়তা নেই। সব ডেটা ব্রিচ প্রকাশ্যে আসে না, আর সব তথ্য ফাঁসের ঘটনা এইচআইবিপির তথ্যভান্ডারেও পৌঁছায় না।
তাই এটি ভালো প্রাথমিক পরীক্ষা, চূড়ান্ত নিরাপত্তা সনদ নয়।
আরও পড়ুন: Phishing Message চেনার ১২টি লক্ষণ: SMS, Email ও Messenger-এর উদাহরণ
এখন আসল প্রশ্ন: কী তথ্য বেরিয়েছে?
শুধু ইমেইল ঠিকানা ও নাম ফাঁস হয়ে থাকলে পাসওয়ার্ডও চুরি হয়েছে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তবে ওই ইমেইল ব্যবহার করে আরও বিশ্বাসযোগ্য ফিশিং বার্তা পাঠানো হতে পারে। বিশেষ করে বার্তায় যদি আপনার আসল নাম বা ব্যবহৃত কোনো সেবার নাম থাকে, সেটি সহজেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে।
পাসওয়ার্ড বা প্রবেশ-সংক্রান্ত তথ্য আক্রান্ত হওয়ার কথা থাকলে বিষয়টি বেশি জরুরি। সেই অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলান এবং একই পাসওয়ার্ড অন্য কোথাও ব্যবহার করেছিলেন কি না খুঁজে দেখুন।
ফোন নম্বর বা অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার-সংক্রান্ত তথ্য বের হলে ওটিপি, অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার বা “যাচাই” নামে আসা খুদে বার্তা ও ফোনকল নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকুন।
কার্ড বা অর্থপ্রদানের তথ্য আক্রান্ত হওয়ার কথা জানানো হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, কার্ড প্রদানকারী বা অর্থপ্রদান সেবার নির্ধারিত যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করুন। লেনদেনের ইতিহাস দেখে অচেনা লেনদেন থাকলে তাদের কার্ড বন্ধ, প্রতিস্থাপন, প্রতারণা অভিযোগ বা বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
সব ডেটা ব্রিচের জন্য একই প্রতিক্রিয়া দরকার হয় না—কোন তথ্যটি বেরিয়েছে, সেটিই পরবর্তী কাজ ঠিক করে।
একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় থাকলে ঝুঁকি বাড়ে
ডেটা ব্রিচের পরে সবচেয়ে বেশি কাজে আসে এমন একটি পরীক্ষা হলো একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে কি না দেখা।
ধরুন, কোনো পুরোনো অনলাইন দোকান আর আপনার ইমেইল অ্যাকাউন্ট—দুটিতেই একই পাসওয়ার্ড ছিল। অনলাইন দোকানের পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে আক্রমণকারী সেই পরিচয়তথ্য অন্য জায়গায়ও চেষ্টা করতে পারে। সমস্যা তখন আর ওই একটি ওয়েবসাইটে আটকে থাকে না।
গুগল পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের পাসওয়ার্ড চেকআপ সংরক্ষিত পাসওয়ার্ডের মধ্যে ফাঁস হওয়া, দুর্বল ও পুনর্ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড শনাক্ত করতে পারে। অন্য প্রতিষ্ঠিত পাসওয়ার্ড ম্যানেজারেও অনুরূপ সুবিধা থাকতে পারে।
যেখানে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়, সেখানে আলাদা পাসওয়ার্ড দিন।
পুরোনো পাসওয়ার্ডের শেষে শুধু ১, ১২৩ বা নতুন সাল যোগ করে বদলে ফেলার অভ্যাসও ভালো নয়। ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ডের খুব কাছাকাছি নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি করলে সেটি অনুমানযোগ্যই থেকে যেতে পারে।
এ কারণেই পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার অনেকের জন্য বাস্তবসম্মত। প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড মনে রাখার বদলে ম্যানেজার সেটি তৈরি ও সংরক্ষণ করতে পারে। তবে তার প্রধান পাসওয়ার্ড অন্য কোথাও ব্যবহার করা উচিত নয়। বহুস্তরীয় যাচাইকরণ থাকলে সেটিও চালু রাখা ভালো।
প্রতি কয়েক মাসে সব পাসওয়ার্ড বদলাবেন?
এখনও অনেকে নিরাপত্তার নিয়ম হিসেবে নিয়মিত সব পাসওয়ার্ড পাল্টান। কিন্তু বর্তমান এনআইএসটি এসপি ৮০০-৬৩বি-৪ নির্দিষ্ট সময় পরপর বাধ্যতামূলক পাসওয়ার্ড পরিবর্তন সমর্থন করে না।
পাসওয়ার্ড বা পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যম আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ থাকলে অবশ্যই বদলাতে হবে। কিন্তু কোনো সমস্যা না থাকলে শুধু নির্দিষ্ট সময় ধরে পাসওয়ার্ড পাল্টানোর চেয়ে পুনর্ব্যবহৃত বা ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ড সরানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কোন অ্যাকাউন্ট আগে দেখবেন, সেটাও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে

প্রধান ইমেইল অ্যাকাউন্ট সাধারণত বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বহু ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের লিংক সেখানে আসে। ইমেইল অ্যাকাউন্ট দখল হলে অন্য অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করাও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
এরপর ব্যাংক, কার্ড ও অর্থপ্রদান অ্যাকাউন্ট, গুগল বা অ্যাপলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়ভিত্তিক অ্যাকাউন্ট, অনলাইন সংরক্ষণাগার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা যেতে পারে।
তবে এটিকে স্থির ক্রম ভাবার দরকার নেই। কারও অনলাইন সংরক্ষণাগারে গুরুত্বপূর্ণ কাজের নথি থাকতে পারে, অন্য কারও আর্থিক অ্যাকাউন্ট বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কোন অ্যাকাউন্ট অন্য অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার বা অর্থের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই ভালো মাপকাঠি।
আর ডেটা ব্রিচ হওয়া সেবায় যদি সম্পূর্ণ আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকেন, একই পরিচয়তথ্য পুনর্ব্যবহারের ঝুঁকি অন্য অ্যাকাউন্টে সরাসরি ছড়ায় না। যদিও অন্য ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি আলাদাই থাকে।
দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করুন, তবে সব পদ্ধতি এক রকম নয়
বহুস্তরীয় পরিচয় যাচাইকরণ পাসওয়ার্ডের বাইরে আরও একটি যাচাইয়ের ধাপ যোগ করে। পাসওয়ার্ড কারও হাতে গেলেও এতে অ্যাকাউন্ট দখল করা কঠিন হয়।
সেবা অনুযায়ী খুদে বার্তার কোড, অথেনটিকেটর অ্যাপের একবার ব্যবহারযোগ্য কোড, অনুমোদন বার্তা, হার্ডওয়্যার নিরাপত্তা চাবি বা পাসকি পাওয়া যেতে পারে।
এগুলোর মধ্যে পার্থক্য আছে।
এনআইএসটির নির্দেশনা অনুযায়ী হাতে লিখে প্রবেশ করানো একবার ব্যবহারযোগ্য কোড ফিশিং-প্রতিরোধী নয়। অর্থাৎ অথেনটিকেটর অ্যাপের ছয় সংখ্যার কোডও ভুয়া প্রবেশপাতায় বসিয়ে দিলে আক্রমণকারী সেটি ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। খুদে বার্তার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে।
ফিডো/ওয়েবঅথন-ভিত্তিক পাসকি বা উপযুক্ত নিরাপত্তা চাবি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ফিশিং-প্রতিরোধী হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে এমন ব্যবস্থা থাকলে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া যুক্তিসংগত।
তবে শক্তিশালী বিকল্প নেই বলে বহুস্তরীয় যাচাইকরণ বন্ধ রাখবেন—এমনও নয়। সেবা যে বিকল্পগুলো দেয়, তার মধ্যে তুলনামূলক ভালোটি বেছে নিন।
পুনরুদ্ধার বা বিকল্প কোড পেলে এমন জায়গায় রাখুন যেখানে ফোন হারালেও পাওয়া যাবে, কিন্তু অন্য কেউ সহজে ব্যবহার করতে পারবে না।
ইমেইল অ্যাকাউন্টে অচেনা কিছু ঘটেছে কি না দেখুন
শুধু কোনো ডেটা ব্রিচে ইমেইল ঠিকানা পাওয়া গেছে বলে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে ধরে নেওয়ার দরকার নেই। কিন্তু কয়েকটি লক্ষণ থাকলে আর অপেক্ষা করা উচিত নয়।
নিজের নয় এমন প্রবেশ সতর্কবার্তা, অচেনা পাঠানো ইমেইল, পুনরুদ্ধারের ইমেইল বা ফোন নম্বর বদলে যাওয়া, অচেনা যন্ত্র, কিংবা নিজে তৈরি করেননি এমন ইমেইল পাঠানোর নিয়ম—এসব গুরুত্ব দিয়ে দেখুন।
গুগল অ্যাকাউন্টে সিকিউরিটি অ্যান্ড সাইন-ইন অংশ থেকে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনা এবং ইয়োর ডিভাইসেস → ম্যানেজ ডিভাইসেস থেকে সংযুক্ত যন্ত্র দেখা যায়।
জিমেইলের ব্রাউজার বা ডেস্কটপ সংস্করণে সেটিংস → সি অল সেটিংস খুলে অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ইমপোর্ট, ফিল্টারস অ্যান্ড ব্লকড অ্যাড্রেসেস এবং ফরওয়ার্ডিং অ্যান্ড পপ/আইম্যাপ অংশগুলোও পরীক্ষা করা যায়।
বিশেষভাবে অচেনা ফরওয়ার্ডিং ঠিকানা, মেইল ডেলিগেশন, “সেন্ড মেইল অ্যাজ” ঠিকানা এবং অচেনা ফিল্টার দেখুন। এসব সেটিংয়ের কিছু মোবাইল অ্যাপ থেকে সরাসরি পাওয়া যায় না।
মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে রিসেন্ট অ্যাক্টিভিটি পাতায় গত ৩০ দিনের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট কার্যক্রম দেখা যায়। সেখানে সব কার্যক্রম থাকে না, তবে অস্বাভাবিক প্রবেশ বা নিরাপত্তা পরিবর্তন শনাক্ত করতে এটি কাজে লাগে।
অন্য কারও প্রবেশাধিকার থাকার সন্দেহ হলে অ্যাডভান্সড সিকিউরিটি অপশনস থেকে সাইন আউট এভরিহোয়্যার ব্যবহার করা যায়। মাইক্রোসফটের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো সাইন-আউট হতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগতে পারে এবং এক্সবক্স কনসোল এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
পাসওয়ার্ড বদলালেও পুরোনো ফাঁস হওয়া তথ্য মুছে যায় না
এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেকেই মনে করেন পাসওয়ার্ড বদলানো মানেই ডেটা ব্রিচের সমস্যা শেষ। পাসওয়ার্ড বদলানো দরকার হতে পারে, কিন্তু আগে ফাঁস হওয়া ইমেইল ঠিকানা, নাম বা ফোন নম্বর আবার গোপন হয়ে যায় না। ফলে সেই তথ্য ব্যবহার করে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পরেও ফিশিং বার্তা আসতে পারে।
কোনো বার্তায় আপনার আসল নাম বা পরিচিত সেবার নাম থাকলেই সেটিকে সত্যি ধরে নেবেন না।
বিশেষ করে সতর্ক থাকুন যদি কেউ পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা পুনরুদ্ধার কোড চায়; জরুরি অর্থপ্রদান করতে বলে; অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার ভয় দেখায়; অপ্রত্যাশিত সংযুক্তি পাঠায়; অথবা প্রবেশের লিংক দিয়ে দ্রুত সাইন-ইন করতে চাপ দেয়।
পাসওয়ার্ড, অথেনটিকেটর কোড বা পুনরুদ্ধার কোড অন্য কাউকে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
অ্যাকাউন্ট সত্যিই দখল হয়ে গেলে
অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারছেন না, পুনরুদ্ধারের ইমেইল বা ফোন নম্বর বদলে গেছে, অথবা অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার অজান্তে বার্তা গেছে—এগুলো সাধারণ ডেটা ব্রিচের সতর্কবার্তার চেয়ে গুরুতর লক্ষণ।
তখন সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারীর নির্ধারিত অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পর পাসওয়ার্ড নতুন করে দিন, অচেনা যন্ত্র ও সক্রিয় প্রবেশ সরান, পুনরুদ্ধারের তথ্য পরীক্ষা করুন এবং তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের প্রবেশাধিকার দেখুন। ইমেইল অ্যাকাউন্ট হলে ফরওয়ার্ডিং ও ফিল্টারও আবার পরীক্ষা করা দরকার।
কারণ আক্রমণকারী পাসওয়ার্ড বদলানোর আগেই ফরওয়ার্ডিং নিয়ম তৈরি করে রাখতে পারে। শুধু পাসওয়ার্ড পাল্টে দিলে সেটি চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
ক্ষতিকর সফটওয়্যারের সন্দেহ থাকলে যন্ত্রের নিরাপত্তা সফটওয়্যার ও অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ করে স্ক্যান চালান। মাইক্রোসফটের আক্রান্ত অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার নির্দেশনায় উইন্ডোজ কম্পিউটারের ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের আগে ক্ষতিকর সফটওয়্যার পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নতুন ইমেইল ঠিকানা খুলবেন?
শুধু হ্যাভ আই বিন পনডে পুরোনো ডেটা ব্রিচের তথ্য দেখা যাচ্ছে বলে নতুন ইমেইল ঠিকানা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
পাসওয়ার্ড বদলানোর পরও এইচআইবিপিতে সেই পুরোনো ডেটা ব্রিচের ইতিহাস থাকবে। কারণ সেটি দেখায়, কোনো এক সময় ওই ঠিকানা ওই ডেটা ব্রিচের তথ্যের মধ্যে ছিল।
নতুন ইমেইল ঠিকানা নিলেও আগে ফাঁস হওয়া তথ্য মুছে যাবে না।
তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভালো ব্যবস্থা হলো—একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার বন্ধ করা, গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে বহুস্তরীয় যাচাইকরণ চালু করা এবং ফিশিং নিয়ে সতর্ক থাকা।
অবশ্য অবাঞ্ছিত ইমেইল খুব বেড়ে গেলে বা মেইলবক্স ব্যবস্থাপনার অন্য সমস্যা থাকলে নতুন ঠিকানা ব্যবহার করার আলাদা কারণ থাকতে পারে। সেটিকে ডেটা ব্রিচের সরাসরি “সমাধান” ভাবা ঠিক হবে না।
কোথা থেকে শুরু করবেন
সবকিছু একসঙ্গে করার দরকার নেই। প্রথমে ডেটা ব্রিচে কী তথ্য ফাঁস হয়েছে সেটি নিশ্চিত করুন। পাসওয়ার্ড আক্রান্ত হলে একই পাসওয়ার্ড যেখানে যেখানে আছে সেগুলো বদলান। তারপর প্রধান ইমেইল ও আর্থিক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা কার্যক্রম দেখে বহুস্তরীয় যাচাইকরণ চালু করুন।
এরপর সময় নিয়ে ফরওয়ার্ডিং নিয়ম, সংযুক্ত অ্যাপ, পুনরুদ্ধারের তথ্য এবং অন্য অ্যাকাউন্টগুলো পরীক্ষা করা যায়।
ডেটা ব্রিচে করণীয় ঠিক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল দুটি বিপরীত দিকে হয়—একদিকে অকারণে আতঙ্ক, অন্যদিকে “শুধু ইমেইলই তো” ভেবে কিছু না করা। মাঝের সঠিক পথ হলো ঝুঁকিটা আগে বোঝা, তারপর প্রয়োজনমতো ব্যবস্থা নেওয়া।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ডেটা ব্রিচে শুধু ইমেইল ঠিকানা ফাঁস হলে কি পাসওয়ার্ড বদলাতে হবে?
শুধু ইমেইল ঠিকানা ফাঁস হয়েছে এবং পাসওয়ার্ড আক্রান্ত হওয়ার কোনো তথ্য নেই—এমন হলে সব অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড তৎক্ষণাৎ বদলানোর প্রয়োজন নেই। তবে ওই সেবায় ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড অন্য কোথাও ব্যবহার করা হয়েছে কি না দেখে নেওয়া ভালো। একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় থাকলে সেগুলো আলাদা করুন।
হ্যাভ আই বিন পনড থেকে নিজের ইমেইল মুছে ফেলা যায় কি?
কোনো পুরোনো ডেটা ব্রিচের ঐতিহাসিক তথ্য শুধু পাসওয়ার্ড বদলানোর কারণে অদৃশ্য হয় না। সেখানে থাকা তথ্য মূলত দেখায় যে নির্দিষ্ট সময়ে ওই ইমেইল ঠিকানাটি কোনো ডেটা ব্রিচে পাওয়া গিয়েছিল। তাই রেকর্ডটি দেখা গেলেই বর্তমান অ্যাকাউন্ট এখনো হ্যাক অবস্থায় আছে—এমন নয়।
বহু বছর আগে ব্যবহৃত পুরোনো পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে এখনো ঝুঁকি আছে কি?
আপনি যদি সেই পাসওয়ার্ড আর কোথাও ব্যবহার না করেন, ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু একই বা কাছাকাছি পাসওয়ার্ড এখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে থাকলে সেটি বদলে দিন। পুরোনো ফাঁস হওয়া পরিচয়তথ্য ভবিষ্যতের ফিশিংয়েও ব্যবহার হতে পারে।
অথেনটিকেটর অ্যাপ ব্যবহার করলেই কি অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি নিরাপদ?
না। অথেনটিকেটর অ্যাপের কোড পাসওয়ার্ডের সঙ্গে অতিরিক্ত সুরক্ষা যোগ করে, কিন্তু হাতে লিখে দেওয়া একবার ব্যবহারযোগ্য কোডও ভুয়া প্রবেশপাতায় চুরি হতে পারে। কোনো সেবা পাসকি বা উপযুক্ত নিরাপত্তা চাবি সমর্থন করলে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে সেগুলো তুলনামূলক শক্তিশালী বিকল্প হতে পারে।
ডেটা ব্রিচে ব্যাংক বা কার্ডের তথ্য ফাঁস হলে প্রথমে কী করবেন?
ইমেইলে দেওয়া নম্বর বা লিংক ব্যবহার না করে সরাসরি ব্যাংক বা কার্ড প্রদানকারীর নির্ধারিত যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করুন। সাম্প্রতিক লেনদেন পরীক্ষা করুন এবং অচেনা লেনদেন থাকলে তাদের কার্ড বন্ধ, প্রতিস্থাপন, প্রতারণা অভিযোগ বা বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।

