চাকরির বিবরণ থেকে নিয়োগকারী কোন দক্ষতা খুঁজছেন বুঝবেন কীভাবে

সর্বাধিক আলোচিত

চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে মনে হলো, কাজটি আপনার পক্ষে করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় পড়াশোনা আছে, কিছু অভিজ্ঞতাও রয়েছে। জীবনবৃত্তান্ত পাঠালেন। কিন্তু সাক্ষাৎকারের ডাক এল না। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করেন। অথচ সমস্যাটি কখনো কখনো জীবনবৃত্তান্তে অভিজ্ঞতা তুলে ধরার ধরনেও থাকতে পারে।

একটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগকর্তা কী ধরনের কর্মী খুঁজছেন, তার অনেকটা ইঙ্গিত থাকে। কোন কাজগুলো করতে হবে, কোন দক্ষতা অবশ্যই প্রয়োজন, আর কোন যোগ্যতা থাকলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে, এসব তথ্য আলাদা করে বুঝতে হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে সব সময় চাহিদাগুলো সমান স্পষ্টভাবে লেখা থাকে না।

চাকরির বিবরণ বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য হলো এসব চাহিদা বোঝা এবং নিজের বাস্তব যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। এর ভিত্তিতে জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদনপত্র সাজালে নিয়োগকর্তার কাছে প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়। অবশ্য ভালো জীবনবৃত্তান্ত থাকলেই সাক্ষাৎকারের ডাক আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

পদের নাম দেখে নয়, কাজের বিবরণ পড়ে শুরু করুন

একই পদের নাম ব্যবহার করলেও দুই প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন অনেক আলাদা হতে পারে। ধরুন, দুটি প্রতিষ্ঠান বিপণন নির্বাহী নিয়োগ দিচ্ছে। প্রথম প্রতিষ্ঠানটি এমন কাউকে চাইছে, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়বস্তু প্রকাশ করবেন এবং প্রচারণার ফলাফল দেখবেন। দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজন এমন কর্মী, যিনি সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং বিক্রয় বাড়ানোর কাজে যুক্ত থাকবেন।

দুটির পদের নাম এক হলেও প্রয়োজনীয় দক্ষতা এক নয়। তাই চাকরির বিজ্ঞপ্তি পড়ার সময় প্রথমেই পদের দায়িত্বের অংশটি ভালোভাবে দেখুন। সাধারণত কাজের দায়িত্ব অংশে কর্মীকে কী কাজ করতে হবে, তা লেখা থাকে। আর যোগ্যতা বা প্রয়োজনীয় শর্তের অংশে উল্লেখ থাকে সেই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা।

বিজ্ঞপ্তিতে যদি লেখা থাকে, ‘এক্সেল ব্যবহার করে মাসিক বিক্রয় প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে’, তাহলে বোঝা যায়, এক্সেল ব্যবহার করে বিক্রয়ের তথ্য সাজানো এবং মাসিক প্রতিবেদন তৈরির দক্ষতা দরকার। কিন্তু ‘কম্পিউটার ব্যবহারে ভালো দক্ষতা থাকতে হবে’ লেখা থাকলে প্রয়োজনটি ততটা পরিষ্কার নয়। প্রতিষ্ঠানের অন্য দায়িত্বগুলোর দিকে তাকাতে হবে। সেখানে তথ্য সংরক্ষণ, প্রতিবেদন তৈরি কিংবা নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে কাজ করার উল্লেখ আছে কি না, তা দেখুন।

দীর্ঘ বিজ্ঞপ্তি হলে সেটি সংরক্ষণ করে আলাদাভাবে পড়া সুবিধাজনক। প্রথমবার পুরোটা পড়ুন। দ্বিতীয়বার কাজের দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতাগুলো চিহ্নিত করুন। আবেদন করার সময় বিজ্ঞপ্তিটি আবার দেখার প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন: এটিএস (ATS) বান্ধব সিভি কী? মানুষ ও সফটওয়্যার দুজনের জন্য পড়তে সহজ সিভি

চাকরির বিবরণ বিশ্লেষণ করে পাঁচ ধাপে প্রয়োজনীয় দক্ষতা খুঁজুন

দীর্ঘ চাকরির বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণের জন্য আলাদা কোনো সফটওয়্যার অপরিহার্য নয়। একটি সাধারণ নথি বা কাগজে তথ্য সাজিয়েও কাজটি করা সম্ভব।

১. সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি সংরক্ষণ করে পদের মূল কাজ বুঝুন

সম্পূর্ণ বিজ্ঞপ্তি সংরক্ষণ করে পদের মূল কাজ বুঝুন

শুরুতে বিজ্ঞপ্তিটি পিডিএফ বা সাধারণ লেখার নথি হিসেবে সংরক্ষণ করুন। চাকরির ওয়েবসাইট থেকে বিজ্ঞপ্তি সরিয়ে ফেলা হলে পরবর্তী সময়ে সেটি কাজে লাগতে পারে।

এরপর পদের নাম দেখে দায়িত্ব অনুমান না করে পুরো বিবরণ পড়ুন। একই বিপণন নির্বাহী পদে একটি প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার দায়িত্ব দিতে পারে। অন্য প্রতিষ্ঠান একই পদের কর্মীকে বিক্রয়ের সম্ভাব্য গ্রাহক খুঁজে বের করার কাজ দিতে পারে।

বিজ্ঞপ্তি পড়ে তিনটি প্রশ্নের উত্তর লিখে রাখুন।

  • নিয়মিত কোন কাজগুলো করতে হবে?
  • কাজের ফলাফল কীভাবে বোঝা যাবে?
  • কোন দায়িত্বগুলো অন্যগুলোর তুলনায় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে?

প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ পরিচিতির চেয়ে নির্দিষ্ট কাজের বিবরণ এখানে বেশি কাজে লাগবে।

২. বাধ্যতামূলক ও অগ্রাধিকারযোগ্য যোগ্যতা আলাদা করুন

চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে সব যোগ্যতার গুরুত্ব সমান নয়। ‘অবশ্যই থাকতে হবে’, ‘আবশ্যিক’, ‘বাধ্যতামূলক’ কিংবা ‘ন্যূনতম যোগ্যতা’ লেখা থাকলে সাধারণত অপরিহার্য শর্ত বোঝায়। অন্যদিকে ‘অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’, ‘থাকলে ভালো’ বা ‘অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে’ দিয়ে বাড়তি সুবিধাজনক যোগ্যতা বোঝানো হয়।

উদাহরণ হিসেবে একটি তথ্য বিশ্লেষক পদের বিজ্ঞপ্তিতে থাকতে পারে:

  • বাধ্যতামূলক যোগ্যতা: এক্সেল, এসকিউএল এবং তথ্য বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা।
  • অগ্রাধিকারযোগ্য যোগ্যতা: পাওয়ার বিআই বা ট্যাবলো ব্যবহারের অভিজ্ঞতা।

এখানে এক্সেল ও এসকিউএল-এর প্রয়োজনীয়তা বেশি। পাওয়ার বিআই না জানলেও আবেদন বিবেচনা করা যেতে পারে, যদি আবশ্যিক শর্তগুলো পূরণ করা সম্ভব হয়। তবে নিয়োগকর্তা কোনো বাধ্যতামূলক শর্তে ছাড় দেবেন, এমন ধরে নেওয়া যাবে না। বিশেষ করে পেশাগত নিবন্ধন, কাজের অনুমতি বা আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় যোগ্যতার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

অভিজ্ঞতার মেয়াদে ঘাটতি থাকলে আবেদন করা যাবে কি না, সেটিও বিজ্ঞপ্তির ভাষার ওপর নির্ভর করে। কোথাও সমতুল্য অভিজ্ঞতা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, আবার কোথাও ন্যূনতম শর্ত পূরণ না করলে আবেদন প্রাথমিক পর্যায়েই বাদ পড়তে পারে।

৩. কাজ বোঝানো শব্দগুলো চিহ্নিত করুন

বিজ্ঞপ্তিতে কখনো দক্ষতার নাম সরাসরি লেখা থাকে। আবার কখনো কাজের দায়িত্বের মধ্যেই প্রয়োজনীয় দক্ষতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যেমন, ‘গ্রাহকের তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে’ লেখা থাকলে তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা প্রয়োজন বলে বোঝা যায়। ‘একাধিক দলের সঙ্গে কাজের সমন্বয় করতে হবে’ থাকলে বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।

কাজের বিবরণে ব্যবহৃত ক্রিয়াপদগুলো লক্ষ করুন। বিশেষ করে নিচের শব্দগুলো থেকে দায়িত্বের ধরন বোঝা যায়।

  • বিশ্লেষণ: তথ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ বা সিদ্ধান্ত তৈরি করা।
  • সমন্বয়: একাধিক ব্যক্তি বা দলের কাজ মিলিয়ে পরিচালনা করা।
  • পরিকল্পনা বা উন্নয়ন: নতুন পরিকল্পনা, পদ্ধতি বা উপকরণ তৈরি করা।
  • পর্যবেক্ষণ: কাজের অগ্রগতি ও কার্যক্রম নিয়মিত পরীক্ষা করা।
  • উপস্থাপন: তথ্য বা কাজের ফলাফল অন্যদের সামনে তুলে ধরা।

একই দক্ষতার কথা বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকবার থাকলে সেটির ওপর বিশেষ নজর দিন। তবে কতবার একটি শব্দ এসেছে, শুধু তা গুনে গুরুত্ব নির্ধারণ করবেন না। একবার উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক শর্তও নিয়োগের জন্য অপরিহার্য হতে পারে।

৪. কারিগরি ও আচরণগত দক্ষতা আলাদা করে দেখুন

কারিগরি বা পেশাগত দক্ষতা হলো নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সক্ষমতা। পরীক্ষা, কাজের নমুনা বা প্রকল্পের মাধ্যমে এগুলোর ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখানো যায়।

যেমন এক্সেল, এসকিউএল, পাইথন, গ্রাফিক নকশা, হিসাবরক্ষণ, ভিডিও সম্পাদনা কিংবা গুগল অ্যানালিটিকস ব্যবহার।

আচরণগত ও আন্তব্যক্তিক দক্ষতার মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান, সময় ব্যবস্থাপনা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। জীবনবৃত্তান্তে কারিগরি দক্ষতার প্রমাণ দেখানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে। নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহার করে তৈরি প্রকল্প, প্রতিবেদন বা কাজের নমুনা দেখানো যায়।

আচরণগত দক্ষতার ক্ষেত্রে বাস্তব দায়িত্বের বিবরণ বেশি কাজে আসে। যেমন ‘চমৎকার যোগাযোগদক্ষতা রয়েছে’ লিখলে নিয়োগকর্তা আপনার দাবি জানতে পারেন, কিন্তু তার প্রমাণ পান না। কোনো প্রকল্পে বিভিন্ন দলের সদস্যদের সঙ্গে কাজের সমন্বয় করে থাকলে সেই অভিজ্ঞতা উল্লেখ করা বেশি অর্থবহ।

৫. সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক দক্ষতার তালিকা তৈরি করুন

বিজ্ঞপ্তি থেকে প্রধান দক্ষতাগুলো বের করার পর এক জায়গায় লিখুন। আবশ্যিক যোগ্যতা, প্রধান দায়িত্ব এবং বারবার উল্লেখ করা দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিন। প্রাথমিকভাবে পাঁচ থেকে সাতটি দক্ষতা নিয়ে কাজ শুরু করা সুবিধাজনক হতে পারে। এটি কোনো নিয়োগনীতি নয়; বিশ্লেষণ সহজ করার একটি পদ্ধতি। বিজ্ঞপ্তির চাহিদা অনুযায়ী তালিকা ছোট বা বড় হবে।

একই ধরনের দক্ষতাকে একটি বিভাগে আনতে পারেন। যেমন কোনো পদের ক্ষেত্রে প্রতিবেদন প্রস্তুত, তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি এবং মাসিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা পরস্পর সম্পর্কিত কাজ বোঝাতে পারে।

একটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে দেখা যাক

ধরা যাক, একটি প্রতিষ্ঠান জুনিয়র ডিজিটাল বিপণন নির্বাহী নিয়োগ দিচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে চারটি দায়িত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।

  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য বিষয়বস্তু পরিকল্পনা করা।
  • গুগল অ্যানালিটিকস ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের তথ্য পর্যবেক্ষণ করা।
  • মাসিক কার্যসম্পাদন প্রতিবেদন প্রস্তুত করা।
  • নকশা ও বিষয়বস্তু প্রস্তুতকারী দলের সঙ্গে কাজের সমন্বয় করা।

এটি একটি কাল্পনিক উদাহরণ। তবে এর সাহায্যে বিজ্ঞপ্তি থেকে দক্ষতা বের করার পদ্ধতিটি বোঝা যায়। প্রথম দায়িত্ব থেকে বিষয়বস্তু পরিকল্পনার দক্ষতার প্রয়োজন স্পষ্ট হচ্ছে। দ্বিতীয় দায়িত্বে গুগল অ্যানালিটিকসের কথা সরাসরি বলা হয়েছে। তৃতীয়টি প্রতিবেদন তৈরির সক্ষমতা এবং চতুর্থটি দলগত কাজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এখন একজন প্রার্থী কীভাবে নিজেকে যাচাই করবেন?

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কোনো প্রকল্পে বিষয়বস্তু প্রকাশের সময়সূচি তৈরি করে থাকলে সেই অভিজ্ঞতা দেখাতে পারেন। এক্সেল ব্যবহার করে তথ্য সাজিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে থাকলে সেটিও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

কিন্তু গুগল অ্যানালিটিকস ব্যবহার না করে থাকলে ওই দক্ষতা জীবনবৃত্তান্তে যোগ করা ঠিক হবে না। একইভাবে দলগত প্রকল্পে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও নিজের দায়িত্ব কী ছিল, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। বিজ্ঞপ্তির সব শব্দ জীবনবৃত্তান্তে বসানোর চেষ্টা না করে কোন কাজের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার মিল রয়েছে, সেটি খুঁজতে হবে।

নিজের যোগ্যতা মিলিয়ে দেখার সহজ পদ্ধতি

বিজ্ঞপ্তি থেকে প্রধান দক্ষতাগুলো বের করার পর প্রতিটির পাশে নিজের অভিজ্ঞতা লিখুন। কোন কাজটি আগে করেছেন এবং তার প্রমাণ দেখাতে পারবেন, সেটিকে সরাসরি মিল হিসেবে ধরুন। কাছাকাছি ধরনের কাজ করে থাকলেও নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বা পদ্ধতি না জানলে সেটি আংশিক মিল। আর যে বিষয়ে কোনো জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা নেই, সেটি ঘাটতি হিসেবে চিহ্নিত করুন।

ধরুন, একজন বিক্রয়কর্মী নিয়মিত গ্রাহকের তথ্য সংরক্ষণ এবং বিক্রয় প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। কিন্তু নতুন চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যে গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের নাম রয়েছে, সেটি কখনো ব্যবহার করেননি।

তাঁর তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেদন তৈরির অভিজ্ঞতা প্রাসঙ্গিক। কিন্তু নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহারে দক্ষতার দাবি করা ঠিক হবে না। এই তুলনা আবেদন করার সিদ্ধান্তেও সাহায্য করবে। কোথাও হয়তো দক্ষতার বড় অংশই মিলে যাচ্ছে, কোথাও আবার পদের প্রধান কাজগুলো করার প্রস্তুতি এখনো নেই।

একই জীবনবৃত্তান্ত সব চাকরিতে পাঠালে সমস্যা কোথায়?

একজন প্রার্থীর অভিজ্ঞতা একই থাকলেও সব চাকরির জন্য সেই অভিজ্ঞতার গুরুত্ব সমান নয়। কোনো বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য বিশ্লেষণের ওপর জোর দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, প্রশিক্ষণ ও কাজের অভিজ্ঞতা জীবনবৃত্তান্তে সহজে খুঁজে পাওয়া উচিত। আবার যোগাযোগ ও গ্রাহক ব্যবস্থাপনার পদ হলে প্রাসঙ্গিক দায়িত্বগুলো বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।

এর অর্থ আগের চাকরির পদবি, কর্মকাল বা দায়িত্ব বদলে দেওয়া নয়। বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য থেকে নতুন পদের জন্য প্রাসঙ্গিক অংশগুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করাই উদ্দেশ্য।

দায়িত্বের কথা লিখবেন, নাকি কী কাজ করেছেন তা দেখাবেন?

ধরা যাক, জীবনবৃত্তান্তে লেখা রয়েছে:

‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার দায়িত্বে ছিলাম।’

এতে বোঝা যায়, প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তিনি নিয়মিত কী কাজ করতেন, তা পরিষ্কার নয়। সত্যিই সংশ্লিষ্ট কাজ করে থাকলে আরও নির্দিষ্টভাবে লেখা যায়: ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য সাপ্তাহিক বিষয়বস্তু পরিকল্পনা করেছি, প্রকাশের সময়সূচি পরিচালনা করেছি এবং নকশা প্রস্তুতকারী দলের সঙ্গে কাজের সমন্বয় করেছি।’

দ্বিতীয় বাক্যে কাজের ধরন পরিষ্কার। নিয়োগকর্তাও বুঝতে পারবেন, প্রার্থী কী দায়িত্ব সামলেছেন।

কাজের ফলাফল সম্পর্কে যাচাইযোগ্য তথ্য থাকলে সেটিও যুক্ত করা যায়। তবে জীবনবৃত্তান্তকে আকর্ষণীয় করতে অনুমাননির্ভর শতাংশ, বিক্রয় বৃদ্ধির হিসাব বা সাফল্যের পরিসংখ্যান দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আরেকটি বিষয় হলো বিজ্ঞপ্তির পরিভাষা। কোনো পদে গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা চাওয়া হলে এবং প্রার্থীর সেই অভিজ্ঞতা থাকলে জীবনবৃত্তান্তে সেটি উল্লেখ করা যুক্তিসংগত।

কিন্তু নিয়োগকর্তার নজরে পড়ার আশায় একই শব্দ বারবার বসানো কিংবা বিজ্ঞপ্তির বাক্য হুবহু নকল করা ভালো পদ্ধতি নয়। জীবনবৃত্তান্তের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির ব্যাখ্যা সাক্ষাৎকারে দিতে পারতে হবে।

আবেদনপত্রে কোন অভিজ্ঞতার কথা বলবেন?

জীবনবৃত্তান্তে যোগ্যতা ও কাজের বিবরণ থাকে। আবেদনপত্রে বোঝানোর সুযোগ পাওয়া যায়, নির্দিষ্ট পদের জন্য সেই অভিজ্ঞতা কেন প্রাসঙ্গিক। এখানে পুরো কর্মজীবনের ইতিহাস লেখার প্রয়োজন নেই। বিজ্ঞপ্তির প্রধান দুই বা তিনটি দায়িত্ব বেছে নিয়ে সেগুলোর সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার সম্পর্ক দেখানো যথেষ্ট হতে পারে।

কোনো প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও প্রতিবেদন লেখার দক্ষতা চাওয়া হয়েছে, এমন পরিস্থিতি বিবেচনা করুন। একজন সদ্য স্নাতক প্রার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্পে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ করে থাকলে সেটি আবেদনপত্রে তুলে ধরতে পারেন। কী দায়িত্ব পালন করেছেন, তা লিখলে অভিজ্ঞতাটি আরও পরিষ্কার হবে।

শুধু চাকরিটি করতে আগ্রহী বলে জানানো এবং কেন কাজটি করতে পারবেন তার ব্যাখ্যা দেওয়া এক বিষয় নয়। অবশ্য সব চাকরিতে আলাদা আবেদনপত্র লাগে না। বিজ্ঞপ্তিতে এটি চাওয়া হয়েছে কি না, জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে কি না, তা আগে দেখুন।

চাকরির অভিজ্ঞতা নেই বা পেশা বদলাতে চান?

সদ্য স্নাতকদের সাধারণ সমস্যা হলো, বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া দক্ষতার কিছুটা থাকলেও পেশাগত অভিজ্ঞতা দেখানোর সুযোগ কম। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত কাজ, দলগত প্রকল্প, শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ, প্রশিক্ষণ কিংবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের অভিজ্ঞতা কাজে আসতে পারে।

ধরুন, কোনো পদের জন্য উপস্থাপনার দক্ষতা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প উপস্থাপনের অভিজ্ঞতা সেখানে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে একটি ক্লাসে উপস্থাপনা দেওয়ার অভিজ্ঞতাকে দীর্ঘদিন পেশাগত প্রশিক্ষণ পরিচালনার সমতুল্য হিসেবে দেখানো উচিত নয়।

পেশা পরিবর্তনকারীদের জন্যও একই সতর্কতা প্রযোজ্য।

একজন শিক্ষক কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মী প্রশিক্ষণ বিভাগে যেতে চাইলে পাঠ পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণসামগ্রী তৈরি এবং শ্রোতার সামনে বিষয় ব্যাখ্যা করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে। কিন্তু নতুন পদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বা কারিগরি জ্ঞান অপরিহার্য হলে আগের অভিজ্ঞতা দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

এ কারণে চাকরির বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ আবেদন করার পাশাপাশি নিজের শেখার প্রয়োজনগুলো চিহ্নিত করতেও সাহায্য করে।

স্বয়ংক্রিয় আবেদন ব্যবস্থার জন্য জীবনবৃত্তান্তে নির্দিষ্ট শব্দ বসানো কতটা জরুরি?

স্বয়ংক্রিয় আবেদন ব্যবস্থার জন্য জীবনবৃত্তান্তে নির্দিষ্ট শব্দ বসানো কতটা জরুরি?

চাকরির আবেদন নিয়ে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, জীবনবৃত্তান্তে নির্দিষ্ট শব্দ না থাকলে সফটওয়্যার সেটি বাদ দিয়ে দেয়।

বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়।

কিছু প্রতিষ্ঠান আবেদন সংগ্রহ ও পরিচালনার জন্য আবেদনকারী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ব্যবহার করে। কোনো ব্যবস্থায় জীবনবৃত্তান্ত থেকে তথ্য শনাক্ত করা হয়, কোথাও নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী আবেদন বাছাই করা যায়। নিয়োগকারীর সরাসরি পর্যালোচনাও থাকতে পারে।

তাই একটি নির্দিষ্ট শব্দ না থাকলেই আবেদন বাতিল হবে কিংবা কয়েকটি শব্দ বসালেই সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

জীবনবৃত্তান্ত তৈরির সময় পরিষ্কার বিন্যাস ব্যবহার করাই যুক্তিসংগত। দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার মতো পরিচিত বিভাগ রাখুন। অপ্রয়োজনীয় গ্রাফিকস, জটিল সারণি ও লেখার আলাদা বাক্স এড়িয়ে চলা ভালো।

জীবনবৃত্তান্তে প্রাসঙ্গিক দক্ষতার নাম ঠিকভাবে লিখুন। পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তিতে পিডিএফ, ওয়ার্ড নথি কিংবা অন্য কোনো বিন্যাস চাওয়া হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। কিছু আবেদনব্যবস্থায় সরাসরি ফরম পূরণ করতে হয়। কোথাও জীবনবৃত্তান্ত থেকে তথ্য অনুলিপি করে দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। একটি নথির বিন্যাস সব ব্যবস্থায় একইভাবে কাজ করবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে চাকরির বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করলে কতটা ভরসা করবেন?

দীর্ঘ চাকরির বিজ্ঞপ্তি থেকে কাজের দায়িত্ব ও দক্ষতার তালিকা আলাদা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জাম ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিজ্ঞপ্তির লেখা দিয়ে এমন নির্দেশনা দেওয়া যায়:

‘এই চাকরির বিবরণ থেকে বাধ্যতামূলক যোগ্যতা, অগ্রাধিকারযোগ্য যোগ্যতা, কারিগরি দক্ষতা, আচরণগত দক্ষতা এবং প্রধান দায়িত্বগুলো আলাদা করে দেখাও। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, এমন কোনো যোগ্যতা অনুমান করে যোগ করবে না।’

এতে একটি প্রাথমিক তালিকা পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেটিকে নিয়োগকর্তার চূড়ান্ত চাহিদা হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো অগ্রাধিকারযোগ্য দক্ষতাকে বাধ্যতামূলক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ নেই, এমন যোগ্যতার প্রয়োজনীয়তাও অনুমান করতে পারে। তাই তৈরি করা তালিকা মূল বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

নিজের জীবনবৃত্তান্ত এ ধরনের সরঞ্জাম দিয়ে বিশ্লেষণ করাতে চাইলে ব্যক্তিগত তথ্যের বিষয়েও সতর্ক থাকুন। নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত বিবরণ সরিয়ে দেওয়া ভালো। আগের কর্মস্থলের গোপন তথ্যও দেওয়া উচিত নয়।

এতে কিছু ঝুঁকি কমতে পারে, তবে ব্যবহৃত সেবার গোপনীয়তার শর্ত যাচাই করার প্রয়োজন থেকেই যায়। বেশির ভাগ সাধারণ চাকরিপ্রার্থীর জন্য প্রথমে নিজে বিজ্ঞপ্তিটি পড়ে মূল দক্ষতাগুলো আলাদা করা বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থাকলে সেটি সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ভিত্তি হিসেবে নয়।

কোন বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করার জন্য সময় দেবেন?

শত শত চাকরিতে একই জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর চেয়ে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত পদগুলো আগে বেছে নেওয়া যুক্তিসংগত। বিজ্ঞপ্তি পড়ে দেখুন, প্রধান দায়িত্বগুলো আপনার পরিচিত কি না। আবশ্যিক যোগ্যতা পূরণ করছেন কি না এবং চাকরিটি আপনার কর্মজীবনের লক্ষ্যের সঙ্গে মেলে কি না, সেটিও বিবেচনা করুন।

কিছু অগ্রাধিকারযোগ্য দক্ষতা না থাকলেও আবেদন করা যেতে পারে। অভিজ্ঞতার মেয়াদে সামান্য ঘাটতি থাকলে নিয়োগকর্তার শর্ত অনুযায়ী সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পেশাগত লাইসেন্স, কাজের অনুমতি বা অপরিহার্য কারিগরি দক্ষতা না থাকলে সেই বিষয়গুলো উপেক্ষা করবেন না।

আরেকটি বিষয় খেয়াল করা দরকার। অনেক সময় বিজ্ঞপ্তিতে দায়িত্বের বিবরণ এতটাই অস্পষ্ট থাকে যে পদের প্রকৃত কাজ বোঝা যায় না। এমন হলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবপেজ দেখুন। প্রয়োজনে নিয়োগকারীর কাছে দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন।

চাকরির বিজ্ঞপ্তির সত্যতাও যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানের পরিচয় অস্পষ্ট থাকলে, অস্বাভাবিক ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে কিংবা চাকরি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিতে ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ পাঠাতে বললে সতর্ক হোন। তবে আনুষ্ঠানিক আবেদন ফি এবং প্রতারণামূলক অর্থ দাবি এক নয়। বাংলাদেশে কিছু সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় নির্ধারিত আবেদন ফি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মূল বিজ্ঞপ্তিতে ফি, পরিমাণ ও অনুমোদিত পরিশোধপদ্ধতি মিলিয়ে দেখুন।

আবেদন পাঠানোর আগে এই তিনটি প্রশ্ন করুন

চাকরির বিজ্ঞপ্তি পড়া শেষ হলে নিজের জীবনবৃত্তান্তের দিকে আরেকবার তাকান।

নিয়োগকর্তা যে প্রধান কাজগুলোর কথা বলেছেন, সেগুলোর সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতার মিল কোথায়?

জীবনবৃত্তান্তে সেই অভিজ্ঞতা সহজে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে কি না, দেখুন। প্রাসঙ্গিক কাজ করে থাকলেও সেটি অস্পষ্টভাবে লেখা থাকলে বিবরণ সংশোধন করুন।

কোন দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারব, আর কোথায় ঘাটতি রয়েছে?

যে সফটওয়্যার ব্যবহার করেননি কিংবা যে দায়িত্ব পালন করেননি, সেটি নিজের অভিজ্ঞতা হিসেবে উপস্থাপন করবেন না। সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন এলে অসংগতি ধরা পড়তে পারে।

আবেদন করার জন্য প্রতিষ্ঠানের আবশ্যিক শর্তগুলো পূরণ করছি কি?

এই প্রশ্নের উত্তর না জেনে জীবনবৃত্তান্ত পরিবর্তনে অনেক সময় ব্যয় করা অর্থহীন হতে পারে। চাকরির বিবরণ বিশ্লেষণের ব্যবহারিক মূল্য এখানেই। এটি বিজ্ঞপ্তির ভাষা বোঝার পাশাপাশি কোথায় আবেদন করা যুক্তিসংগত এবং কোন অভিজ্ঞতা সামনে আনা উচিত, সে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

প্রতিটি আবেদনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন জীবনবৃত্তান্ত তৈরির প্রয়োজন নেই। একটি নির্ভুল মূল জীবনবৃত্তান্ত রাখুন। তারপর নির্বাচিত পদের দায়িত্ব ও যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে প্রাসঙ্গিক অংশগুলো সাজান।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন 

চাকরির বিজ্ঞপ্তি ইংরেজিতে হলে জীবনবৃত্তান্তও কি ইংরেজিতে লিখতে হবে?

বিজ্ঞপ্তিতে ভাষা সম্পর্কে নির্দেশনা থাকলে সেটি অনুসরণ করুন। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের কাজের ভাষা ও পদের ধরন বিবেচনা করুন। ইংরেজিতে প্রকাশিত অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরির জন্য ইংরেজি জীবনবৃত্তান্ত উপযুক্ত হতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের নিয়ম এক নয়।

একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক পদের জন্য কি একই জীবনবৃত্তান্ত ব্যবহার করা যায়?

পদগুলোর দায়িত্ব কাছাকাছি হলে একটি মূল জীবনবৃত্তান্ত ব্যবহার করে প্রাসঙ্গিক অংশ পরিবর্তন করতে পারেন। কিন্তু একটি পদে বিক্রয় এবং অন্যটিতে তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা বেশি প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞতার উপস্থাপন আলাদা হওয়া উচিত।

বিজ্ঞপ্তিতে তিন বছরের অভিজ্ঞতা চাইলে কম অভিজ্ঞতা নিয়ে আবেদন করা যাবে?

নিয়োগকর্তার শর্তের ওপর নির্ভর করবে। তিন বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক হলে প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শর্ত নমনীয় হলে প্রাসঙ্গিক প্রকল্প বা সমতুল্য কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচিত হতে পারে। তবে জীবনবৃত্তান্তে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে দেখানো যাবে না।

সর্বশেষ