ভুয়া অ্যাপ চেনার উপায়: ইনস্টল করার আগে প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোর যাচাই

সর্বাধিক আলোচিত

ব্যাংকের অ্যাপ খুঁজতে গিয়ে একই নামের কাছাকাছি কয়েকটি ফলাফল পেলেন। লোগোও প্রায় এক। এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয় তাড়াহুড়োয়—প্রথম ফলাফলটি খুলে রেটিং দেখে ইনস্টল করে দেওয়া।

ভুয়া অ্যাপ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে আসলে কোনো একক লক্ষণ নেই। ভালো রেটিং থাকতে পারে, স্ক্রিনশট দেখতে পেশাদার হতে পারে, এমনকি নামের মধ্যেও “অফিশিয়াল” লেখা থাকতে পারে। তাই ভুয়া অ্যাপ শনাক্ত করার ভালো পদ্ধতি হলো কয়েকটি তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে দেখা: অ্যাপটি কে প্রকাশ করেছে, প্রতিষ্ঠানের নিজের ওয়েবসাইট সেটির দিকে পাঠাচ্ছে কি না, কী অনুমতি চাইছে এবং অ্যাপ স্টোরের বাকি তথ্যগুলো পরস্পরের সঙ্গে মেলে কি না।

ভুল অ্যাপ ইনস্টল করার ঝুঁকিও এক রকম নয়। একটি নকল ওয়ালপেপার অ্যাপ বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে; আবার ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা বা দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণের অ্যাপের ছদ্মবেশে থাকা কিছু ক্ষতিকর সফটওয়্যার লগইন, একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড বা অন্য সংবেদনশীল তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ হিসাব বা অর্থের সঙ্গে যুক্ত অ্যাপের ক্ষেত্রে যাচাইটা একটু বেশি হওয়া স্বাভাবিক।

প্রথমে দেখুন অ্যাপটি কে প্রকাশ করেছে

নাম আর লোগো সহজে নকল করা যায়। প্রকাশক বা নির্মাতার পরিচয় সেই তুলনায় বেশি কাজে লাগে। গুগল প্লে-এর অ্যাপ পাতায় অ্যাপ সহায়তা, ডেভেলপার যোগাযোগ বা ডেভেলপার সম্পর্কে ধরনের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। অ্যাপ স্টোরেও ডেভেলপারের নাম দেখা যায়। মেনু বা অংশের নাম স্টোরের সংস্করণ ও অঞ্চলভেদে কিছুটা বদলাতে পারে।

ধরা যাক, পরিচিত একটি ব্যাংকের নামে একটি অ্যাপ পেলেন। লোগো ঠিকই আছে, কিন্তু ডেভেলপারের নাম একেবারেই অপরিচিত। ব্যাংকের ওয়েবসাইট খুলেও ওই অ্যাপের কোনো লিংক পাওয়া গেল না। এখানে ডাউনলোডের সংখ্যা বা তারকা-রেটিং দিয়ে সন্দেহটি মুছে ফেলা ঠিক হবে না।

ব্যাংক, সরকারি সেবা বা অর্থপ্রদানের অ্যাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ পথ হলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকেই প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে যাওয়া। সার্চ ফলাফলের বিজ্ঞাপন, ফেসবুক পোস্ট বা চ্যাটে পাওয়া ডাউনলোড লিংক থেকে অ্যাপ নেওয়ার চেয়ে এতে ভুল করার সুযোগ কমে।

আরেকটি জিনিস চোখে রাখুন—নামের বানান। আসল নামের সঙ্গে একটি অক্ষর বদলে দেওয়া, অথবা “সিকিউর”, “প্রো”, “অফিশিয়াল”, “আপডেট” ইত্যাদি যোগ করে কাছাকাছি নাম বানানো হতে পারে। স্ক্রিনশট ও বর্ণনাও দেখুন, তবে এগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেবেন না। পেশাদার দেখতে স্ক্রিনশট বা সুন্দর বর্ণনা নিজে কোনো নিরাপত্তার প্রমাণ নয়।

আরও পড়ুন: Phishing Message চেনার ১২টি লক্ষণ: SMS, Email ও Messenger-এর উদাহরণ

রেটিং ভালো হলেই নিশ্চিন্ত হওয়ার কারণ নেই

রেটিং ভালো হলেই নিশ্চিন্ত হওয়ার কারণ

গুগল প্লে-এর তালিকায় ডাউনলোডস হিসেবে একটি ধাপভিত্তিক সংখ্যা দেখা যায়। যেমন ১০ লক্ষের বেশি, ১০ কোটির বেশি বা ১,০০০ কোটির বেশি। এগুলো সুনির্দিষ্ট মোট ডাউনলোড সংখ্যা নয়, তবে অ্যাপ কতটা ছড়িয়েছে তার একটি ধারণা দেয়।

খুব পরিচিত কোনো বৈশ্বিক সেবার নামে অ্যাপ পেলেন, অথচ ডাউনলোড অস্বাভাবিকভাবে কম—এটি সন্দেহ করার কারণ হতে পারে। তবে উল্টোটা সত্য নয়: বেশি ডাউনলোড মানেই অ্যাপ নিরাপদ, এমন কোনো নিয়ম নেই।

রেটিংও একইভাবে দেখতে হবে। পাঁচ-তারকার মোট সংখ্যা দেখে থামার বদলে সাম্প্রতিক কিছু কম রেটিংয়ের পর্যালোচনা পড়ুন। কেউ লগইন নিয়ে সমস্যা, হঠাৎ অদ্ভুত অনুমতি, সাবস্ক্রিপশনের আচরণ বদলে যাওয়া বা হালনাগাদের পর সন্দেহজনক কিছু দেখেছেন কি না—এসব মন্তব্য বেশি কাজে আসতে পারে।

গুগল প্লে সন্দেহজনক রেটিং ও পর্যালোচনা কার্যক্রম ঠেকাতে নতুন রেটিং ও পর্যালোচনা কিছু সময় প্রকাশ্যে না-ও দেখাতে পারে। অর্থাৎ পর্যালোচনা ব্যবস্থা নিজেও কিছু বাছাই করে। তারপরও পর্যালোচনা একটি ইঙ্গিত, পরিচয় যাচাইয়ের বিকল্প নয়।

অ্যাপ স্টোরে গুগল প্লে-এর মতো প্রকাশ্য ডাউনলোডের ধাপ দেখানো হয় না। ফলে আইফোন ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে ডেভেলপারের নাম, সাম্প্রতিক পর্যালোচনা, অ্যাপের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট তুলনামূলক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

হালনাগাদ পুরোনো হলে কী ভাববেন

কোনো অ্যাপ বহুদিন হালনাগাদ হয়নি মানেই সেটি ভুয়া নয়। আবার প্রতি মাসে হালনাগাদ হচ্ছে বলে সেটিকে বিশ্বাস করাও ঠিক নয়।

অ্যাপ স্টোরে সংস্করণের ইতিহাস, আর গুগল প্লে-এ সর্বশেষ হালনাগাদের তারিখ দেখা যায়। একটি ব্যাংকিং বা নিয়মিত অনলাইন সেবার অ্যাপ বেশ পুরোনো মনে হলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বর্তমান অ্যাপের লিংক মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

এখানে মূল বিষয় হালনাগাদের বয়স নয়; তথ্যগুলো একে অন্যের সঙ্গে মেলে কি না। ডেভেলপারের নাম এক রকম, বর্ণনা অন্য রকম, স্ক্রিনশট পুরোনো সেবার, আবার ওয়েবসাইটে ওই অ্যাপের উল্লেখ নেই—এ ধরনের অসামঞ্জস্য বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

অনুমতি চাইলে আগে কাজটির সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন

অ্যাপের অনুমতি বোঝার জন্য অ্যান্ড্রয়েড নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ জ্ঞান দরকার নেই।

ভিডিও কলের অ্যাপ ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন চাইতে পারে—স্বাভাবিক। মানচিত্র বা পথনির্দেশের অ্যাপ অবস্থান জানতে চাইতে পারে। কিন্তু একটি সাধারণ ক্যালকুলেটর কেন পরিচিতির তালিকা, খুদে বার্তা বা মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি চাইছে, সেটি প্রশ্ন করার মতো বিষয়।

অ্যান্ড্রয়েডে সাধারণত:

সেটিংস > অ্যাপস > সংশ্লিষ্ট অ্যাপ > পারমিশনস

থেকে কোন অ্যাপ কী অনুমতি পেয়েছে দেখা যায়। ফোনের ব্র্যান্ড ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ অনুযায়ী পথটি একটু আলাদা হতে পারে।

সংবেদনশীল অনুমতি চাইছে মানেই অ্যাপটি ক্ষতিকর সফটওয়্যার নয়। কিন্তু “অনুমতি দিন” চাপার আগে সেটি অ্যাপের কাজের সঙ্গে মেলে কি না একবার ভাবা দরকার। সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য এটিই সবচেয়ে কার্যকর পরীক্ষাগুলোর একটি।

ডেটা সেফটি দেখে কী বোঝা যায়, আর কী যায় না

গুগল প্লে-এর ডেটা সেফটি অংশে ডেভেলপার জানায় অ্যাপ কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ বা অন্য পক্ষের সঙ্গে ভাগ করতে পারে। অবস্থান, ব্যক্তিগত তথ্য, আর্থিক তথ্য, তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে তথ্য ভাগ করা, তথ্য এনক্রিপশন কিংবা তথ্য মুছে ফেলার ব্যবস্থা—এসবের উল্লেখ সেখানে থাকতে পারে।

এটি দেখার মতো অংশ, কিন্তু নিরাপত্তার সনদ নয়। তথ্যটি ডেভেলপার জমা দেয় এবং সঠিক ও হালনাগাদ রাখার দায়িত্বও ডেভেলপারের।

এখানে অ্যাপের অনুমতির সঙ্গে ডেটা সেফটিকে গুলিয়ে ফেলা সহজ।

অনুমতি বলে অ্যাপ ফোনের কোন সুবিধা বা তথ্য ব্যবহার করতে পারে। ডেটা সেফটি বলে ডেভেলপারের ঘোষণামতে তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, ভাগ বা পরিচালনা করা হয়। ফলে দুই জায়গার তথ্য হুবহু এক না-ও হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো অ্যাপ ফোনের ভেতরেই একটি তথ্য ব্যবহার করতে পারে। তার জন্য অনুমতি প্রয়োজন হলেও সেই তথ্য ডেভেলপারের সার্ভারে না গেলে ডেটা সেফটিতে “সংগৃহীত” হিসেবে দেখানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে।

আইফোনে কাছাকাছি ধরনের ধারণা পাওয়া যায় অ্যাপ প্রাইভেসি অংশে। সেখানে অ্যাপ কী ধরনের তথ্য নিতে পারে, সেটি ব্যবহারকারীর পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে কি না এবং অনুসরণ বা ট্র্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহার হতে পারে কি না—এসব ডেভেলপার ঘোষণা করে।

অ্যাপ ইনস্টল হয়ে যাওয়ার পর আইফোনের:

সেটিংস > প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি

থেকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, ছবি, পরিচিতির তালিকা ও অবস্থানের অনুমতি দেখা যায়। আরও বিস্তারিত দেখতে চাইলে অ্যাপ প্রাইভেসি রিপোর্ট চালু করা যায়। এটি চালু হওয়ার পর অ্যাপের অনুমতি ব্যবহার এবং কোন নেটওয়ার্ক ঠিকানার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, সে বিষয়ে তথ্য জমা হতে শুরু করে।

প্লে প্রোটেক্ট আছে বলে অচেনা এপিকে নিরাপদ হয়ে যায় না

প্লে প্রোটেক্ট আছে বলে অচেনা এপিকে নিরাপদ হয়ে যায় না

অ্যান্ড্রয়েডে গুগল প্লে প্রোটেক্ট সাধারণত চালু থাকে। প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে এটি নিরাপত্তা পরীক্ষা করে এবং অন্য উৎস থেকে পাওয়া সম্ভাব্য ক্ষতিকর অ্যাপও পরীক্ষা করতে পারে। ঝুঁকি পেলে সতর্কবার্তা দিতে পারে, অ্যাপ নিষ্ক্রিয় করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকর অ্যাপ সরিয়েও দিতে পারে। যাচাই না-হওয়া অ্যাপ সংবেদনশীল অনুমতি চাইলে ইনস্টল আটকে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

সেটিং সাধারণত এখানে পাওয়া যায়:

গুগল প্লে স্টোর > প্রোফাইল আইকন > প্লে প্রোটেক্ট > সেটিংস

সেখানে স্ক্যান অ্যাপস উইথ প্লে প্রোটেক্ট চালু আছে কি না দেখে রাখা যায়। তবে প্লে প্রোটেক্টকে “যা খুশি ইনস্টল করার অনুমতি” হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিশেষ করে এপিকে যদি হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, খুদে বার্তা বা অচেনা ওয়েবসাইট থেকে আসে, উৎসটিই আগে যাচাই করা দরকার।

কেউ যদি বলে—

“কেওয়াইসি হালনাগাদ করতে এই এপিকে লাগবে”,
“ব্যাংক অ্যাপের নতুন সংস্করণ স্টোরে নেই”,
“অ্যাকাউন্ট যাচাই করতে এই অ্যাপ ইনস্টল করুন”,
অথবা
“সহায়তা দিতে রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ লাগবে”—

তাহলে অ্যাপ ইনস্টল করার আগে কথোপকথন থামিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচিত ওয়েবসাইট বা সহায়তা নম্বর দিয়ে যাচাই করুন।

রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণার ঝুঁকি আলাদা করে বোঝার প্রয়োজন হলে Editorialge-এ এ বিষয়ে বিস্তারিত একটি গাইডও আছে—রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ স্ক্যাম: ফোনের নিয়ন্ত্রণ কাউকে দিলে কী হতে পারে।

আইফোনে স্টোরের বাইরের অ্যাপ নিয়ে একটি ব্যতিক্রম আছে

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য স্টোরের বাইরের অ্যাপ নিয়ে নিয়ম দেশভেদে এক নয়। এই লেখা হালনাগাদের সময় অ্যাপলের বিকল্প অ্যাপ বিতরণ ব্যবস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো, ব্রাজিল ও জাপানে চালু আছে; বাংলাদেশ ও ভারতে একই সুবিধা পাওয়া যায় না।

এই পথে বিতরণ করা অ্যাপও অ্যাপলের নোটারাইজেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। তবে অ্যাপ স্টোরের সব ব্যবসায়িক নিয়ম ও বিষয়বস্তু-সংক্রান্ত মানদণ্ড সেখানে একইভাবে প্রযোজ্য নয়।

বাংলাদেশ বা ভারতে থাকা অধিকাংশ আইফোন ব্যবহারকারীর জন্য এই অংশটি দৈনন্দিন ব্যবহারে খুব প্রাসঙ্গিক নয়। তবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে থাকলে অ্যাপ কোন মার্কেটপ্লেস বা পরিবেশকের কাছ থেকে আসছে, সেটিও ডেভেলপারের পরিচয়ের মতোই দেখা দরকার।

ভুল অ্যাপ ইনস্টল হয়ে গেলে

সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল হওয়ার পর আতঙ্কে সঙ্গে সঙ্গে কারখানা-অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া বা ফ্যাক্টরি রিসেট দেওয়ার দরকার নেই। প্রথমে অ্যাপটিকে আর কোনো সংবেদনশীল তথ্য দেবেন না। পাসওয়ার্ড, পিন, একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড, কার্ডের তথ্য বা ব্যাংকিং তথ্য লিখে ফেললে অবশ্য বিষয়টি বেশি জরুরি।

অ্যান্ড্রয়েড হলে অ্যাপের অনুমতি দেখে অপ্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার বন্ধ করুন, তারপর অ্যাপটি আনইনস্টল করে প্লে প্রোটেক্ট দিয়ে পরীক্ষা করতে পারেন। আইফোন বা আইপ্যাডে কোনো তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নিয়ে ক্ষতিকর সফটওয়্যারের সতর্কবার্তা দেখালে অ্যাপল সেটি মুছে ফেলার পরামর্শ দেয়।

অ্যাপে পাসওয়ার্ড লিখে থাকলে সেটি পরিবর্তন করুন। ফোনটি এখনও আক্রান্ত থাকতে পারে বলে সন্দেহ হলে অন্য একটি বিশ্বস্ত যন্ত্র থেকে পাসওয়ার্ড বদলানো ভালো। একই পাসওয়ার্ড অন্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা থাকলে সেগুলোও বদলাতে হবে।

ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার তথ্য দিয়ে থাকলে তাদের অফিসিয়াল সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অচেনা লেনদেন দেখলে দ্রুত যোগাযোগ করা উচিত।

একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড বা যাচাইকরণ কোড দিয়ে থাকলে অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম, নতুন লগইন, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং অচেনা যন্ত্র পরীক্ষা করুন। একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড নিয়ে প্রতারণার সাধারণ কৌশল নিয়ে Editorialge-এর ওটিপি প্রতারণা কীভাবে ঘটে: পরিবারের সবাইকে শেখানোর সহজ নিরাপত্তা নিয়ম লেখায় আরও বিস্তারিত আলোচনা আছে।

ফ্যাক্টরি রিসেট কখন যুক্তিযুক্ত

অ্যাপ ইনস্টল হয়েছে—এই একটি কারণেই ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করার দরকার হয় না। প্রথমে সন্দেহজনক অ্যাপ সরানো, নিরাপত্তা হালনাগাদ দেখা এবং অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা যায়। এরপরও ক্ষতিকর সফটওয়্যারের লক্ষণ থাকলে ফোন নির্মাতার সহায়তা নেওয়া বা যন্ত্রটি পুনরায় সেট করার প্রয়োজন হতে পারে।

অ্যাপ সরানোর পরও যদি ফোনে অস্বাভাবিক আচরণ চলতে থাকে এবং ক্ষতিকর সফটওয়্যারের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়, ফ্যাক্টরি রিসেট একটি পুনরুদ্ধারের উপায়। তবে এতে ফোনের স্থানীয় তথ্য মুছে যায়। তাই ব্যাকআপ এবং প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রস্তুত না থাকলে তাড়াহুড়ো করে রিসেট দেওয়া উচিত নয়।

ইনস্টল করার আগে একটু থামাই সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস

ভুয়া অ্যাপ শনাক্তকরণকে আলাদা কোনো জটিল নিরাপত্তা পরীক্ষা বানানোর দরকার নেই। গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অভ্যাসে আনাই যথেষ্ট।

কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ হলে তাদের ওয়েবসাইট থেকে স্টোরে যান। ডেভেলপারের নাম মিলিয়ে নিন। গুগল প্লে হলে ডাউনলোড ও সাম্প্রতিক পর্যালোচনা দেখুন। অ্যাপ চালু হলে অনুমতির লেখা না পড়ে “অনুমতি দিন” চাপবেন না।

আর একটি লক্ষণের ওপর সিদ্ধান্ত দেবেন না।

লোগো একটু আলাদা—এতেই অ্যাপ ভুয়া প্রমাণ হয় না। ডাউনলোড কম—এটাও একা যথেষ্ট নয়। কিন্তু ডেভেলপারের পরিচয় মেলে না, লিংক এসেছে অচেনা বার্তা থেকে, বর্ণনা সন্দেহজনক এবং অ্যাপ আবার অস্বাভাবিক অনুমতি চাইছে—এগুলো একসঙ্গে দেখা গেলে ইনস্টল না করাই ভালো।

ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এই কয়েক মিনিটের যাচাই পরে বড় ঝামেলা এড়াতে পারে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ভুয়া অ্যাপ কি শুধু থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইটেই পাওয়া যায়?

না। Play Store বা App Store-এ অ্যাপ থাকলেই সেটি শতভাগ নিরাপদ—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই অ্যাপ স্টোরে পাওয়া গেলেও ডেভেলপারের পরিচয়, রিভিউ, গোপনীয়তার তথ্য এবং অ্যাপের চাওয়া অনুমতি মিলিয়ে দেখা উচিত।

কোনো অ্যাপ অনেকবার ডাউনলোড হলে কি সেটিকে আসল ধরে নেওয়া যায়?

না। বেশি ডাউনলোড একটি সহায়ক সংকেত হতে পারে, কিন্তু সেটি অ্যাপের সত্যতা বা নিরাপত্তার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। বিশেষ করে ব্যাংকিং বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ হলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া স্টোর লিংকের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

অ্যাপ অপ্রয়োজনীয় অনুমতি চাইলে কী করা উচিত?

প্রথমে দেখুন অনুমতিটির সঙ্গে অ্যাপের মূল কাজের সম্পর্ক আছে কি না। সম্পর্ক পরিষ্কার না হলে অনুমতি না দিয়ে অ্যাপটি সম্পর্কে আরও যাচাই করুন। ইতিমধ্যে অনুমতি দিয়ে থাকলে ফোনের সেটিংস থেকে সেটি বন্ধ করা যায়।

ভুয়া অ্যাপে পাসওয়ার্ড বা ওটিপি দিয়ে ফেললে কী করবেন?

সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড যত দ্রুত সম্ভব পরিবর্তন করুন এবং অচেনা লগইন বা যন্ত্র আছে কি না পরীক্ষা করুন। ব্যাংকিং বা আর্থিক তথ্য দিয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ফোনটি আক্রান্ত বলে সন্দেহ হলে বিশ্বস্ত অন্য একটি যন্ত্র থেকে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা ভালো।

Play Protect চালু থাকলে কি বাইরে থেকে পাওয়া এপিকে ইনস্টল করা নিরাপদ?

না। Play Protect একটি অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর, কিন্তু অচেনা উৎসের এপিকে নিরাপদ হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। WhatsApp, Telegram, SMS বা অচেনা ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া অ্যাপ ইনস্টল করার আগে উৎস ও ডেভেলপার যাচাই করা জরুরি।

iPhone-এ App Privacy দেখলেই কি অ্যাপটি নিরাপদ বোঝা যায়?

না। App Privacy থেকে অ্যাপ কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ বা ব্যবহার করতে পারে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, কিন্তু এটি স্বাধীন নিরাপত্তা যাচাই নয়। ডেভেলপারের পরিচয়, রিভিউ এবং প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটও দেখা উচিত।

সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করলে কি সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাক্টরি রিসেট করতে হবে?

সাধারণত না। প্রথমে অ্যাপটি সরিয়ে দিন, অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ করুন, নিরাপত্তা হালনাগাদ পরীক্ষা করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা দেখুন। অ্যাপ সরানোর পরও অস্বাভাবিক আচরণ চলতে থাকলে বা ক্ষতিকর সফটওয়্যারের সংক্রমণ নিশ্চিত হলে ফ্যাক্টরি রিসেট বিবেচনা করা যেতে পারে।

সর্বশেষ