অনলাইন আয়ের দুনিয়ায় ফ্রিল্যান্সিং সাইটের অভাব নেই। তবে আপনি যদি সরাসরি নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে লম্বা রেসের ঘোড়া হতে চান, তবে Guru.com আপনার জন্য দারুণ এক জায়গা। এখানে জগাখিচুড়ি প্রতিযোগিতা কম, আর বড় প্রজেক্ট পাওয়ার সুযোগ অনেক বেশি। এই গাইডে আমরা একদম জিরো থেকে দেখব কীভাবে সঠিক নিয়মে এখানে আপনার ফ্রিল্যান্সিং জার্নি শুরু করবেন।
অনলাইন কাজের দুনিয়ায় টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো নিজের একটা শক্ত ব্র্যান্ড তৈরি করা। শুরুতে অনেকেই খেই হারিয়ে ফেলেন, বুঝতে পারেন না ভুলটা কোথায় হচ্ছে। তাই অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে ডলার পকেটে আসা পর্যন্ত প্রতিটি স্টেপ হওয়া চাই নিখুঁত। চলুন, সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক Guru.com-এ সফলভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন কীভাবে? প্রোফাইল, বিড ও পেমেন্ট সেটআপের আসল কৌশলগুলো।
অ্যাকাউন্ট তৈরি এবং প্রাথমিক সেটআপ
Guru.com-এ কাজ পাওয়ার প্রথম ধাপ হলো একটা প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট খোলা। সাইটে গিয়ে নাম, ইমেইল আর পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন-আপ করে নিন। এখানে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় দুটো অপশন পাবেন: ‘Freelancer’ আর ‘Employer’। আপনি যেহেতু কাজ করে আয় করতে চান, তাই চোখ বন্ধ করে ‘Freelancer’ সিলেক্ট করবেন। এরপর ইমেইলে একটা ভেরিফিকেশন লিঙ্ক যাবে, সেখানে ক্লিক করলেই অ্যাকাউন্ট সচল হয়ে যাবে।
শুরুতেই অ্যাকাউন্টের সিকিউরিটি কোশ্চেন আর টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। আরেকটা কথা, নাম আর ঠিকানা দেওয়ার সময় অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্টের সাথে মিলিয়ে লিখবেন। কারণ পরে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করার সময় এগুলো হুবху মিলতে হবে।
| ধাপ | করণীয় কাজ | প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট |
| সাইন-আপ | ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নাম ও ইমেইল দিয়ে রেজিস্টার করা | একটি সচল ইমেইল এড্রেস |
| অ্যাকাউন্ট টাইপ | Freelancer অপশনটি নিশ্চিত করা | নির্দিষ্ট কোনো ডকুমেন্ট লাগবে না |
| নিরাপত্তা | টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু করা | মোবাইল নম্বর বা অথেন্টিকেটর অ্যাপ |
অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের গুরুত্ব
গুরু ডটকমে কাজ পেতে হলে প্রোফাইল ভেরিফাইড হওয়া চাই-ই চাই। ক্লায়েন্টরা আনভেরিফাইড প্রোফাইলে টাকা ঢালতে ভয় পায়। তাই আইডি কার্ড দিয়ে শুরুতেই ভেরিফিকেশন পর্বটি চুকিয়ে ফেলুন।
সঠিক ইমেইল ও ইউজারনেম নির্বাচন
কাজের জন্য সবসময় একটা মার্জিত ইমেইল ব্যবহার করুন। rockstarboy@email.com জাতীয় নাম বাদ দিয়ে নিজের আসল নাম দিয়ে ইউজারনেম ও ইমেইল তৈরি করুন। এতে প্রফেশনালিজম প্রকাশ পায়।
একটি আকর্ষণীয় প্রোফাইল তৈরি করার নিয়ম
একটা ফাঁকা বা অগোছালো প্রোফাইল নিয়ে কাজ খোঁজা আর বড়শিতে টোপ না দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করা একই কথা। Guru.com-এ ক্লায়েন্ট আপনাকে চেনে না, আপনার প্রোফাইল দেখেই সে আপনার যোগ্যতা মাপবে। তাই প্রোফাইল ১০০% কমপ্লিট করা জরুরি। প্রোফাইলে একটা হাসিমুখের পরিষ্কার ছবি দিন, যেখানে আপনাকে পেশাদার দেখায়।
আপনার সার্ভিসের একটা জুতসই ও স্পষ্ট টাইটেল বা শিরোনাম দিন। যেমন—আপনি যদি লোগো ডিজাইন করেন, তবে শুধু ‘Designer’ না লিখে ‘Expert UI/UX & Brand Identity Designer’ লিখুন। এতে ক্লায়েন্ট এক নজরেই বুঝবে আপনি ঠিক কোন কাজের ওস্তাদ।
| প্রোফাইলের অংশ | কী লিখবেন/যোগ করবেন | যে ভুলটি এড়ানো উচিত |
| প্রোফাইল ছবি | পরিষ্কার ও হাসিমুখে তোলা প্রফেশনাল ছবি | সেলফি, সানগ্লাস পরা বা ঝাপসা ছবি |
| সার্ভিস টাইটেল | আপনার মূল দক্ষতার স্পষ্ট বিবরণ | অনেকগুলো ভিন্ন ক্যাটাগরি একসাথে মেলানো |
| স্কিল ট্যাগ | আপনার কাজের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত কিওয়ার্ড | না জানা বা কম জানা স্কিল যোগ করা |
বায়ো বা ওভারভিউ লেখার কৌশল
বায়ো সেকশনে অযথা লম্বা গল্প লিখবেন না। ক্লায়েন্ট আপনার ইতিহাস জানতে চায় না, সে জানতে চায় আপনি তার সমস্যার সমাধান করতে পারবেন কি না। আপনার অভিজ্ঞতা ও কাজের পদ্ধতি সংক্ষেপে কিন্তু দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলুন।
পোর্টফোলিও সাজানোর সঠিক পদ্ধতি
আপনার আগের করা সেরা কাজের কিছু স্যাম্পল এখানে সাজিয়ে রাখুন। কাজের স্ক্রিনশটের পাশাপাশি একটি ছোট লাইনে লিখে দিন যে কাজটি আপনি ঠিক কীভাবে সফলভাবে করেছিলেন।
Guru.com-এ সফলভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন কীভাবে? Profile, Bid ও Payment

এই মার্কেটপ্লেসে সফল হতে হলে প্রোফাইল সাজানো, বিড করা আর পেমেন্ট মেথড ঠিক রাখার একটা অল-রাউন্ডার কম্বিনেশন লাগবে। অনেকে অ্যাকাউন্ট খুলেই অন্ধের মতো বিড করা শুরু করেন। এটা একদম ভুল রাস্তা। আগে নিজের ক্যাটাগরি ঠিক করুন এবং সেই অনুযায়ী পুরো প্রোফাইলটি অপ্টিমাইজ করুন।
এরপর আসবে সঠিক প্রজেক্ট খুঁজে বের করার পালা। আপনার দক্ষতার সাথে পুরোপুরি মেলে, এমন প্রজেক্ট ছাড়া অন্য কোথাও বিড করে মূল্যবান কানেক্ট নষ্ট করবেন না। পেমেন্ট নিরাপদে পাওয়ার জন্য গুরু ডটকমের নিজস্ব কিছু কড়া নিয়ম আছে, যা না জানলে খাটাখাটনি শেষে খালি হাতে ফিরতে হতে পারে। তাই এই তিনটি বিষয়ের সঠিক ব্যালেন্সই আপনাকে সফল ফ্রিল্যান্সার বানাবে।
| মূল স্তম্ভ | প্রধান কাজ | সাফল্যের মূল মন্ত্র |
| Profile | সম্পূর্ণ তথ্য ও পোর্টফোলিও আপলোড | প্রফেশনাল ও গোছানো উপস্থাপন |
| Bid | প্রজেক্টের রিকোয়ারমেন্ট বুঝে কাস্টম প্রস্তাব পাঠানো | কপি-পেস্ট প্রপোজাল না দেওয়া |
| Payment | সেফপে (Safepay) ও সঠিক উইথড্রয়াল মেথড সেটআপ | কাজের আগে ফান্ড নিশ্চিত করা |
স্কিল ও ক্যাটাগরি সিলেকশন
আপনার মূল দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ২০টি স্কিল ট্যাগ যোগ করতে পারবেন। সবসময় ট্রেন্ডিং এবং আপনার কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ট্যাগগুলোই বাছাই করুন।
মেম্বারশিপ প্ল্যান ও এর সুবিধা
Guru.com-এ ফ্রি অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি কিছু পেইড মেম্বারশিপ আছে (যেমন Basic+, WebPro)। নতুন অবস্থায় ফ্রি অ্যাকাউন্ট দিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে বেশি বিড ও কম ফি-র জন্য পেইড প্ল্যানে যেতে পারেন। ফ্রি মেম্বারশিপে প্রতি মাসে ১০টি বিড (কানেক্ট) পাওয়া যায়।
প্রজেক্ট খোঁজা এবং সঠিক নিয়মে বিড (Bid) করা
কাজ পাওয়ার আসল যুদ্ধটা শুরু হয় বিড বা প্রপোজাল পাঠানোর মাধ্যমে। গুরু ডটকমে প্রতিদিন হাজারো প্রজেক্ট পোস্ট হয়। আপনাকে ‘Find Work’ সেকশনে গিয়ে নিজের স্কিল ফিল্টার করে কাজ খুঁজতে হবে। হুটহাট যেকোনো প্রজেক্টে ক্লিক করবেন না। আগে ক্লায়েন্টের রিকোয়ারমেন্ট ভালো করে পড়ে বুঝুন তিনি আসলে কী চাচ্ছেন।
অনেকের একটা বাজে অভ্যাস আছে—একটা কমন প্রপোজাল লিখে রেখে সব প্রজেক্টে সেটাই কপি-পেস্ট করে দেওয়া। এই ভুলটি ভুলেও করবেন না। ক্লায়েন্টরা চতুর, তারা দেখলেই বোঝে কোনটা মন থেকে লেখা আর কোনটা কপি করা। প্রপোজালের শুরুতে ক্লায়েন্টের সমস্যার কথা বলুন এবং আপনি কীভাবে তা সমাধান করবেন তার একটা শর্টকাট আইডিয়া দিন।
| বিডিংয়ের ধাপ | করণীয় | যা করা যাবে না |
| প্রজেক্ট যাচাই | ক্লায়েন্টের রিভিউ এবং পেমেন্ট স্ট্যাটাস দেখা | আনভেরিফাইড ও খারাপ রিভিউ থাকা ক্লায়েন্টের প্রজেক্টে বিড করা |
| প্রপোজাল লিখন | প্রজেক্টের মূল সমস্যা ও সমাধানের উপায় নিয়ে লেখা | নিজের বিশাল গুণগান গেয়ে অপ্রাসঙ্গিক কথা লেখা |
| বাজেট ও ডেডলাইন | কাজের জটিলতা অনুযায়ী সঠিক দাম ও সময় নির্ধারণ | কাজ পাওয়ার লোভে অতি কম দাম হাঁকানো |
কাস্টম প্রপোজাল লেখার ফরম্যাট
প্রপোজালটি ছোট ও কাজের কথায় ভরপুর রাখুন। প্রথম তিন লাইনের মধ্যে ক্লায়েন্টের নজর কাড়ুন। আপনার করা প্রাসঙ্গিক কাজের ২-৩টি লিঙ্ক দিন এবং শেষে একটা প্রশ্ন রেখে প্রপোজাল শেষ করুন, যেন ক্লায়েন্ট রিপ্লাই দিতে বাধ্য হয়।
বিড কাউন্ট ও কোটেশন ম্যানেজমেন্ট
ফ্রি মেম্বাররা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিছু ফ্রি বিড নেন। বিড ফুরিয়ে গেলে টাকা দিয়ে কিনতে হয়। তাই প্রতিটি বিড সাবধানে এবং শতভাগ নিশ্চিত হয়ে তবেই ব্যবহার করুন।
পেমেন্ট মেথড সেটআপ এবং নিরাপদ লেনদেন
দিনশেষে পকেট গরম না হলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোনো মূল্য নেই। কাজ করার পর টাকা যেন নিরাপদে আপনার হাতে আসে, তার ব্যবস্থা আগে করতে হবে। বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সবচেয়ে সহজ আর সেরা মাধ্যম হলো Payoneer (পায়োনিয়ার)। পায়োনিয়ার অ্যাকাউন্ট গুরু ডটকমের সাথে লিংক করে নিলে সরাসরি দেশের যেকোনো লোকাল ব্যাংকে টাকা নিয়ে আসা যায়।
লেনদেন ১০০% নিরাপদ করার জন্য গুরু ডটকমের একটা দারুণ অস্ত্র আছে, যার নাম ‘Safepay’। এটা মূলত একটা জামিনদার বা এসক্রো (Escrow) সিস্টেম। কাজ শুরু করার আগেই ক্লায়েন্টকে কাজের পুরো বা আংশিক টাকা এই সেফপে-তে জমা রাখতে হয়। টাকা জমা হওয়ার সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই কেবল কাজ শুরু করবেন, তার আগে এক ফোঁটাও নয়।
| পেমেন্ট মেথড | সুবিধা | প্রসেসিং টাইম |
| Payoneer | সরাসরি লোকাল ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার করা যায় | সাধারণত ২-৩ কার্যদিবস |
| Wire Transfer | বড় অ্যামাউন্টের জন্য নিরাপদ | ৫-৭ কার্যদিবস, ফি একটু বেশি |
| Safepay Protection | ক্লায়েন্ট ও ফ্রিল্যান্সার উভয়ের অর্থের নিশ্চয়তা | ইনস্ট্যান্ট (কাজের মাইলস্টোন অনুযায়ী) |
সেফপে (Safepay) এর কার্যকারিতা
সেফপে হলো আপনার পারিশ্রমিকের গ্যারান্টি। ক্লায়েন্ট ফান্ড জমা করলে গুরু ডটকম সেই টাকা নিজের জিম্মায় লক করে রাখে। কাজ ঠিকঠাক জমা দিলে ক্লায়েন্ট তা রিলিজ করে দেয় এবং টাকা সোজা আপনার ব্যালেন্সে চলে আসে।
লোকাল ব্যাংকে টাকা তোলার নিয়ম
আপনার পায়োনিয়ার অ্যাকাউন্টটি গুরু ডটকমের সাথে লিংক করে নিন。এরপর সেখান থেকে টাকা পায়োনিয়ারে এনে বিকাশ বা যেকোনো স্থানীয় ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।
অ্যাডভান্সড ফ্রিল্যান্সিং স্ট্র্যাটেজি (Guru.com-এর বিশেষ ফিচারসমূহ)
গুরু ডটকমে সাধারণ কাজের বাইরেও কিছু দারুণ ফিচার আছে যা অন্যান্য মার্কেটপ্লেসে সহজে দেখা যায় না। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘WorkGroups’। এই ফিচারের মাধ্যমে আপনি একা কাজ না করে একটি ভার্চুয়াল টিম বা এজেন্সি তৈরি করতে পারেন। বড় প্রজেক্ট বা মাল্টি-টাস্কিং কাজের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ক্লায়েন্টের ইনভয়েস ম্যানেজমেন্ট। গুরু ডটকমে আপনি দুই ধরণের কাজের সুযোগ পাবেন: Hourly (ঘণ্টা চুক্তি) এবং Fixed-Price (নির্ধারিত মূল্য)। ঘণ্টাপ্রতি কাজের জন্য গুরু ডটকমের নিজস্ব টাইম ট্র্যাকার সফটওয়্যার রয়েছে, যা আপনার কাজের স্ক্রিনশট ও অ্যাক্টিভিটি ক্লায়েন্টের কাছে পাঠায়। এটি ব্যবহার করলে পেমেন্ট নিয়ে কোনো ঝামেলা হওয়ার সুযোগ থাকে না।
| অ্যাডভান্সড ফিচার | কীভাবে ব্যবহার করবেন | মূল সুবিধা |
| WorkGroups | বিশ্বস্ত বন্ধুদের নিয়ে টিম বা সাব-কন্ট্রাক্ট তৈরি করা | বড় বাজেটের প্রজেক্ট একসাথে সামলানো |
| Time Tracker | Hourly কাজের সময় সফটওয়্যার অন রাখা | কাজের ঘণ্টার শতভাগ সঠিক পেমেন্ট নিশ্চিত করা |
| Quick Quotes | ক্লায়েন্ট সরাসরি ইনবক্স করলে ঝটপট বাজেট পাঠানো | ইন্টারভিউ পর্ব ছাড়াই দ্রুত প্রজেক্ট লক করা |
ক্লায়েন্ট হান্টিং ও ইনবাউন্ড লিড
যখন আপনার প্রোফাইলে বেশ কিছু ভালো রিভিউ জমা হবে, তখন গুরু ডটকমের অ্যালগরিদম আপনার প্রোফাইল ক্লায়েন্টদের সার্চ রেজাল্টের ওপরের দিকে দেখাবে। তখন বিড করা ছাড়াই ক্লায়েন্টরা সরাসরি আপনাকে মেসেজ বা ‘Invite to Bid’ পাঠাবে।
গুরুর ডিসপুট রেজোলিউশন (Dispute Resolution)
অনেক সময় ক্লায়েন্টের সাথে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। টাকা যদি সেফপে-তে ব্লক থাকে এবং ক্লায়েন্ট অন্যায়ভাবে তা রিলিজ না করে, তবে আপনি অফিশিয়াল ডিসপুট ওপেন করতে পারেন। গুরুর মধ্যস্থতাকারী টিম দুই পক্ষের কাজের প্রমাণ ও মেসেজ হিস্ট্রি চেক করে সঠিক রায় দেয়।
ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশন ও দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার গঠন
শুধু ভালো কাজ জানলেই হবে না, ক্লায়েন্টের মন জয় করার জন্য দরকার চটপটে যোগাযোগ দক্ষতা। ক্লায়েন্ট মেসেজ দেওয়া মাত্রই যত দ্রুত সম্ভব রেসপন্স করুন। কোনো কাজ বুঝতে খটকা লাগলে আন্দাজে কাজ না করে সরাসরি ক্লায়েন্টকে প্রশ্ন করুন। ক্লায়েন্টরা স্পষ্ট কথা বলা ফ্রিল্যান্সারদের পছন্দ করে।
একটা প্রজেক্ট সফলভাবে শেষ করার পর ক্লায়েন্টের কাছ থেকে ফাইভ-স্টার রিভিউ চেয়ে নিতে লজ্জা পাবেন না। Guru.com-এ ভালো রিভিউ আপনার প্রোফালের ভ্যালু বাড়িয়ে দেয়। আর একজন ক্লায়েন্ট যদি আপনার কাজে আর ব্যবহারে খুশি হয়, তবে সে ঘুরেফিরে আপনাকেই বারবার কাজ দেবে। এতে আপনার আয়ের একটা স্থায়ী উৎস তৈরি হবে।
| যোগাযোগের ক্ষেত্র | সঠিক আচরণ | নেতিবাচক আচরণ |
| মেসেজের উত্তর | নম্র ও প্রফেশনাল ভাষায় দ্রুত রেসপন্স করা | অতিরিক্ত দেরি করা বা ইনফরমাল ভাষা ব্যবহার |
| কাজের আপডেট | নিয়মিত কাজের অগ্রগতি বা ড্রাফট শেয়ার করা | ডেডলাইনের আগে কোনো যোগাযোগ না রাখা |
| ফিডব্যাক | ভদ্রভাবে ফাইভ স্টার রিভিউ ও মন্তব্য আশা করা | জোর করে বা বারবার রিভিউয়ের জন্য বিরক্ত করা |
ক্লায়েন্ট রিটেনশন কৌশল
কাজ শেষ করার পর ক্লায়েন্টকে বলুন যে ভবিষ্যতে এই ধরণের কোনো প্রয়োজন হলে আপনি আবারও সাহায্য করতে পেরে খুশি হবেন। এতে তাদের মাথায় আপনার নাম গেঁথে থাকবে।
ইনভয়েস ও মাইলস্টোন তৈরি
বড় প্রজেক্টের ক্ষেত্রে পুরো কাজকে ছোট ছোট ভাগে বা মাইলস্টোনে ভাগ করে নিন। প্রতি ভাগের কাজ শেষ হবে, ইনভয়েস জেনারেট হবে এবং পেমেন্ট ক্লিয়ার হবে—এতে কাজের চাপ ও ঝুঁকি দুই-ই কমে।
শেষ কথা
সোজা কথায়, ফ্রিল্যান্সিং কোনো লটারি নয় যে আজ রাতেই আপনি কোটিপতি হয়ে যাবেন। এখানে টিকে থাকতে হলে ধৈর্য, চেষ্টা আর সঠিক টেকনিক লাগবে। আমরা এই আর্টিকেলে ধাপে ধাপে দেখলাম Guru.com-এ সফলভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন কীভাবে? প্রোফাইল, বিডিং ও পেমেন্ট গোছানোর আসল স্ট্র্যাটেজিগুলো।
শুরুতে হয়তো নক পেতে একটু সময় লাগবে, কিন্তু দমে যাবেন না। নিজের পোর্টফোলিওকে আরও ধারালো করুন এবং নিয়ম মেনে প্রতিদিন বিড করে যান। সততা আর কাজের কোয়ালিটি ধরে রাখলে এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই আপনি আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. Guru.com-এ ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে কত শতাংশ ফি নেওয়া হয়?
Guru.com আপনার মেম্বারশিপ প্ল্যানের ওপর ভিত্তি করে প্রতি ইনভয়েসের ৫% থেকে ৯% পর্যন্ত ফি কেটে নেয়। ফ্রি মেম্বারদের জন্য ফি একটু বেশি (৯%), তবে পেইড মেম্বারশিপ নিলে এই ফি ৫%-এ নামিয়ে আনা সম্ভব।
২. আমি কি একটি অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক বিষয়ের কাজ করতে পারব?
হ্যাঁ, পারবেন। আপনি একই প্রোফাইলের ভেতরে আলাদা আলাদা সার্ভিস পেজ তৈরি করে ভিন্ন ভিন্ন স্কিলের কাজ দেখাতে পারেন। তবে প্রোফাইলটিকে খিচুড়ি না বানিয়ে নির্দিষ্ট ২-৩টি সম্পর্কিত কাজের ওপর ফোকাস করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. ক্লায়েন্ট যদি সেফপে (Safepay) তে টাকা জমা না করে, তবে কি কাজ শুরু করব?
একেবারেই না। ক্লায়েন্ট মুখে যত মিষ্টি কথাই বলুক, সেফপে-তে ডলার লোড না হওয়া পর্যন্ত কাজ হাতও দেবেন না। ফান্ড জমা না দেখে কাজ করলে পরে টাকা না পাওয়ার ঝুঁকি ১০০% আপনার নিজে।
৪. কাজ জমা দেওয়ার পর ক্লায়েন্ট যদি টাকা না দিয়ে হাওয়া হয়ে যায়, তখন কী হবে?
যদি টাকা সেফপে-তে জমা থাকে, তবে ক্লায়েন্ট চাইলেই টাকা তুলে নিয়ে যেতে পারবে না। আপনি কাজের প্রমাণসহ গুরু ডটকমের ‘Arbitration’ বা বিরোধ নিষ্পত্তি টিমের কাছে আপিল করতে পারবেন। তারা সব দেখে সঠিক রায় দেবে।
৫. প্রতি মাসে ফ্রি মেম্বারশিপে কতটি কানেক্ট বা বিড পাওয়া যায় এবং তা কি পরের মাসে রোল-ওভার হয়?
ফ্রি অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ১০টি বিড বা কোটেশন দেওয়া হয়। মনে রাখবেন, ফ্রি অ্যাকাউন্টের অব্যবহৃত বিডগুলো পরবর্তী মাসে যোগ বা রোল-ওভার হয় না। তবে পেইড মেম্বারশিপ থাকলে রোল-ওভারের সুবিধা পাওয়া যায়।

