প্রবাসী বাংলাদেশিরা যারা দেশে টাকা পাঠান, তাদের জন্য সঠিক বিনিময় হার জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে সরকারি ২.৫% প্রণোদনাসহ সর্বোচ্চ টাকা নিশ্চিত করা যায় । নিচে ১৫-১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের সরকারি ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার তুলে ধরা হলো ।
আজকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার
| মুদ্রার নাম | ১ ইউনিটের মূল্য (BDT) | বাজারের অবস্থা | ব্যাংক রেট | বিকাশ/মোবাইল ওয়ালেট | ক্যাশ রেট |
| মালয়েশিয়ান রিংগিত (MYR) | ৳২৯.৭৭ | — | ২৯.৭৭ | ২৯.৬০ | ২৯.৬০ |
| সৌদি রিয়াল (SAR) | ৳৩২.৬১ | — | ৩২.৬১ | ৩২.৬১ | ৩২.৪১ |
| মার্কিন ডলার (USD) | ৳১২২.৩৭ | — | ১২২.৩৭ | ১২২.৩৭ | ১২৩.০৮ |
| ইউরোপীয় ইউরো (EUR) | ৳১৪৫.৫৬ | ↓ | ১৪৫.৫৬ | ১৪৫.৫৬ | ১৪৫.৫৬ |
| ইতালিয়ান ইউরো (EUR) | ৳১৪৫.৫৬ | ↓ | ১৪৫.৫৬ | ১৪১.৯৯ | ১৪৫.৫৬ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) | ৳১৬২.৯২ | ↓ | ১৬২.৯২ | ১৫৯.৬৯ | ১৬৩.০৯ |
| সিঙ্গাপুর ডলার (SGD) | ৳৯৪.৭৫ | ↓ | ৯৪.৭৫ | ৯৪.৭৯ | ৯৪.২০ |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD) | ৳৮০.৯১ | ↓ | ৮০.৯১ | ৮০.৮৮ | ৮০.০২ |
| নিউজিল্যান্ড ডলার (NZD) | ৳৬৯.৮৯ | ↓ | ৬৯.৮৯ | ৬৯.৫২ | ৬৭.১৫ |
| কানাডিয়ান ডলার (CAD) | ৳৯১.৮০ | ↓ | ৯১.৮০ | ৮৮.২০ | ৯১.৭২ |
| ইউএই দিরহাম (AED) | ৳৩৩.২৯ | — | ৩৩.২৯ | ৩৩.২৯ | ৩৩.২৯ |
| ওমানি রিয়াল (OMR) | ৳৩১৭.৫০ | — | ৩১৭.৫০ | ৩১৭.৫০ | ৩১৭.৫০ |
| বাহরাইনি দিনার (BHD) | ৳৩২৪.২৬ | — | ৩২৪.২৬ | ৩২৪.২৬ | ৩২৩.৯৫ |
| কাতারি রিয়াল (QAR) | ৳৩৩.৬০ | — | ৩৩.৬০ | ৩৩.৬০ | ৩৩.৬০ |
| কুয়েতি দিনার (KWD) | ৳৪০০.৩৩ | ↑ | ৪০০.৩৩ | ৪০০.৩৩ | ৩৯৫.৫০ |
| সুইস ফ্রাঁ (CHF) | ৳১৫০.২১ | ↓ | ১৫০.২১ | ১৪৯.৭৮ | ১৫১.৩০ |
| দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড (ZAR) | ৳৭.২৮ | ↓ | ৭.২৮ | — | — |
| জাপানি ইয়েন (JPY) | ৳০.৭৮৫ | ↓ | ০.৭৮৫ | ০.৭৮৫ | ০.৭৮৫ |
| দক্ষিণ কোরিয়ান ওন (KRW) | ৳০.০৮২৪৬ | ↑ | ০.০৮২৪৬ | ০.০৮১৮৪ | ০.০৮১৮৪ |
| ভারতীয় রুপি (INR) | ৳১.৩৩ | ↑ | ১.৩৩ | ১.৩৩ | ১.৩৩ |
পরিবর্তনের চিহ্ন ব্যাখ্যা
এই তালিকায় ব্যবহৃত চিহ্নের অর্থ: ↑ মানে গতদিনের তুলনায় বিনিময় হার বৃদ্ধি, ↓ মানে হ্রাস, এবং — মানে হার অপরিবর্তিত অথবা গতদিনের তুলনামূলক তথ্য পাওয়া যায়নি । উপরোক্ত তালিকায় গতদিনের সাথে তুলনামূলক তথ্য সরকারি সূত্রে প্রকাশিত না হওয়ায় সব মুদ্রার জন্য — চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে ।
রেট ভিন্ন হওয়ার কারণ ও সতর্কতা
বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল ওয়ালেট (বিকাশ, নগদ), এক্সচেঞ্জ হাউস ও এজেন্টে রেমিট্যান্স রেট ভিন্ন হতে পারে । এর কারণগুলো হলো: লেনদেনের ধরন (টিটি, ক্যাশ, ক্লিন বিল), সেবা চার্জ, এজেন্ট কমিশন, স্থান-কাল ভেদে চাহিদা-সরবরাহ, এবং ট্রান্সফার পদ্ধতি । তাই গুগল কারেন্সি কনভার্টার বা সাধারণ অ্যাপ ব্যবহার করবেন না—এগুলো শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের গড় রেট দেখায়, বাংলাদেশে প্রকৃত প্রাপ্য টাকা নয় । টাকা পাঠানোর আগে ব্যাংক বা বৈধ এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে সরাসরি নিশ্চিত হয়ে নিন কত টাকা পৌঁছাবে ।
সরকারি ২.৫% রেমিট্যান্স প্রণোদনা
বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে ২.৫% নগদ প্রণোদনা প্রদান করছে । এই প্রণোদনা মজুরি আয়কারী প্রবাসী এবং ক্ষতিপূরণ রেমিট্যান্সের (compensation remittances) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবাসীরা বা তাদের পরিবার শুধুমাত্র তখনই ২.৫% প্রণোদনা পাবেন যদি তহবিল আইনত বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয় এবং বৈধ উৎস থেকে আসে । এই প্রণোদনা সাধারণত মূল রেমিট্যান্স পরিমাণের সাথে প্রাপকের হিসাবে জমা হয় । তবে টাকা পাঠানোর আগে অবশ্যই ব্যাংক বা সেবা প্রদানকারীর কাছে নিশ্চিত হয়ে নিন যে তারা এই প্রণোদনা প্রদান করে কিনা ।
সঠিক রেট পেতে করণীয়
-
প্রতিদিন ব্যাংকের আপডেট রেট চেক করুন—সকাল-বিকেলে রেট পরিবর্তন হতে পারে
-
শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি ব্যাংক (সোনালী, আগ্রানী, জনতা, রূপালী) এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে টাকা পাঠান
-
হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেল এড়িয়ে চলুন—এতে প্রণোদনা পাবেন না এবং আইনি ঝুঁকি থাকে
-
মোবাইল ওয়ালেট (বিকাশ, নগদ) ব্যবহার করলে তাদের চার্জ ও রেট আগে জেনে নিন
-
পরিবারকে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও সঠিক ব্যাংক/মোবাইল অ্যাকাউন্ট তথ্য প্রদান করুন প্রণোদনা পেতে
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধা (Bonds & Savings)
কেবলমাত্র দেশে টাকা পাঠানোই শেষ কথা নয়, সেই টাকা সঠিক পথে বিনিয়োগ করাও সমান জরুরি। বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কিছু বন্ড ও স্কিম চালু রেখেছে, যা সাধারণ সঞ্চয়পত্রের চেয়ে বেশি মুনাফা দেয়:
-
ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড (Wage Earner’s Development Bond): এতে প্রবাসীরা তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বিনিয়োগ করতে পারেন। বর্তমানে এতে আকর্ষণীয় মুনাফা ও মেয়াদ শেষে মৃত্যুর ঝুঁকি সুবিধা (Death Risk Benefit) পাওয়া যায়।
-
ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইনভেস্টমেন্ট বন্ড: যাদের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা আছে, তারা সরাসরি ডলারে এই বন্ড কিনতে পারেন। এতে টাকার মান কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না এবং মেয়াদ শেষে ডলারে বা টাকায় মুনাফা তোলা যায়।
-
প্রবাসী পেনশন স্কিম (Probashi Pension Scheme): সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় প্রবাসীরা এই স্কিমে অংশ নিয়ে ভবিষ্যৎ জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন। এটি সম্পূর্ণ অনলাইনে পরিচালনা করা সম্ভব।
২. রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমগুলোর তুলনা
কোন মাধ্যমটি আপনার জন্য সেরা হবে তা নির্ভর করে টাকার পরিমাণ এবং জরুরি অবস্থার ওপর:
| মাধ্যমের নাম | সুবিধা | অসুবিধা | কাদের জন্য সেরা? |
| ব্যাংক টু ব্যাংক (SWIFT) | সবচেয়ে নিরাপদ, বড় অংকের জন্য ভালো। | সময় বেশি লাগতে পারে (২-৩ দিন)। | যারা বড় অংকের টাকা বা জমি কেনার জন্য টাকা পাঠাচ্ছেন। |
| এক্সচেঞ্জ হাউস (Western Union, MoneyGram) | খুব দ্রুত (ইনস্ট্যান্ট) টাকা পাওয়া যায়। | রেট কিছুটা কম হতে পারে, ফি বেশি হতে পারে। | জরুরি চিকিৎসার বা তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে। |
| মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) | সরাসরি প্রাপকের মোবাইলে জমা হয়, ব্যাংকে যাওয়ার ঝামেলা নেই। | লেনদেনের সীমা (Limit) আছে, বড় অংকের জন্য অনুপযুক্ত। | গ্রামের বাড়িতে ছোট অংকের খরচ পাঠানোর জন্য। |
হুন্ডি কেন এড়িয়ে চলবেন? (বিস্তারিত সতর্কতা)
অনেকে সামান্য বেশি রেটের আশায় হুন্ডিতে টাকা পাঠান। এর দীর্ঘমেয়াদী কুফলগুলো হলো:
-
আইনি জটিলতা: আপনার পাঠানো টাকা যদি কোনো অপরাধমূলক কাজে (যেমন: মানি লন্ডারিং বা জঙ্গি অর্থায়ন) ব্যবহৃত হয়, তবে প্রেরক হিসেবে আপনিও আন্তর্জাতিক কালো তালিকায় পড়ে যেতে পারেন। এতে আপনার ভিসা বাতিল বা জেল হতে পারে।
-
দেশীয় ক্ষতি: হুন্ডির মাধ্যমে টাকা আসলে তা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে জমা হয় না। ফলে ডলার সংকট বাড়ে এবং দেশে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়, যার ভুক্তভোগী শেষ পর্যন্ত আপনার পরিবারই হয়।
-
টাকা খোয়া যাওয়ার ঝুঁকি: হুন্ডিতে কোনো আইনি গ্যারান্টি নেই। মধ্যস্বত্বভোগী টাকা নিয়ে পালিয়ে গেলে অভিযোগ করার কোনো জায়গা থাকে না।
দ্রষ্টব্য: এই রেটগুলো শুধুমাত্র ইন্ডিকেটিভ—একই দিনে বিভিন্ন সময়ে রেট পরিবর্তিত হতে পারে । চূড়ান্ত লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা সেবা প্রদানকারীর ডিলিং রুম থেকে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন ।


