বাংলাদেশে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ১,০৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ভরি প্রতি ২,১৮,১১৭ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা ২২ ডিসেম্বর সোমবার সকাল থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার মূল্য। স্থানীয় বাজারে তেজাবি (বিশুদ্ধ) সোনার দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরে স্থানীয় বাজারে সোনার দাম ৮৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে – ৬০ বার বৃদ্ধি এবং ২৭ বার হ্রাস পেয়েছে।
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশে আজকের সোনার দাম
বাংলাদেশে সোনার বাজার সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বাজুস প্রতিটি সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ সোনার স্থানীয় বাজার মূল্য, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা এবং মুদ্রা বিনিময় হার বিবেচনা করে। ১৫ ডিসেম্বর বাজুস ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৭০ টাকা বৃদ্ধি করে ভরি প্রতি ২,১৭,০৬৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও দাম বৃদ্ধি পেয়ে ২,১৮,১১৭ টাকায় পৌঁছেছে।
ভরি প্রতি সোনার দাম (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫)
বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দাম নিম্নরূপ নির্ধারিত রয়েছে:
| ক্যারেট | প্রতি ভরি দাম (টাকা) | আগের দাম (১৫ ডিসেম্বর) | বৃদ্ধি |
|---|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,১৮,১১৭ | ২,১৭,০৬৭ | ১,০৫০ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২,০৮,২০২ | ২,০৭,২১১ | ৯৯১ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৭৮,৪৫৯ | ১,৭৭,৬৪৩ | ৮১৬ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৪৮,৫৯৯ | ১,৪৭,৯০০ | ৬৯৯ টাকা |
২২ ক্যারেট সোনা সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত হয়। এটি ৯১.৬৭% বিশুদ্ধ সোনা এবং বাকি অংশ অন্যান্য ধাতুর মিশ্রণ। ২১ ক্যারেট সোনা ৮৭.৫% বিশুদ্ধ এবং অনেক ঐতিহ্যবাহী অলংকারে ব্যবহৃত হয়। ১৮ ক্যারেট সোনা ৭৫% বিশুদ্ধ এবং আধুনিক ডিজাইনের গয়নায় এর ব্যবহার দেখা যায়। সনাতন পদ্ধতির সোনা স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি এবং এর বিশুদ্ধতা ভিন্ন হতে পারে।
গ্রাম, আনা ও রতি অনুযায়ী সোনার দাম
বাংলাদেশে সোনা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভরি, গ্রাম, আনা এবং রতি – এই চারটি একক ব্যবহৃত হয়। এক ভরি সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম, এক আনা সমান ০.৭২৯ গ্রাম এবং এক রতি সমান ০.১২১৫ গ্রাম। বর্তমান মূল্য অনুযায়ী বিভিন্ন একক হিসাবে সোনার দাম নিম্নরূপ:
| একক | ২২ ক্যারেট | ২১ ক্যারেট | ১৮ ক্যারেট |
|---|---|---|---|
| ১ ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) | ২,১৮,১১৭ টাকা | ২,০৮,২০২ টাকা | ১,৭৮,৪৫৯ টাকা |
| ১ গ্রাম | ১৮,৭০০ টাকা | ১৭,৮৫০ টাকা | ১৫,২৯৫ টাকা |
| ১ আনা (০.৭২৯ গ্রাম) | ১৩,৬৩২ টাকা | ১৩,০১৩ টাকা | ১১,১৫৪ টাকা |
| ১ রতি (০.১২১৫ গ্রাম) | ২,২৭২ টাকা | ২,১৬৯ টাকা | ১,৮৫৮ টাকা |
এই মূল্য শুধুমাত্র সোনার বেস দাম। ক্রেতাদের এর সাথে বাধ্যতামূলক ৫% সরকারি ভ্যাট এবং বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম ৬% মজুরি যোগ করতে হবে। তবে অলংকারের ডিজাইন এবং কারুকার্যের মানভেদে মজুরি বৃদ্ধি পেতে পারে।
মজুরি এবং ভ্যাটসহ প্রকৃত মূল্য
সোনার অলংকার কেনার সময় গ্রাহকদের বেস দামের সাথে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। বাংলাদেশ সরকার সোনার বিক্রয়ের উপর ৫% মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ করেছে। এছাড়া বাজুস সকল সদস্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যূনতম ৬% মজুরি নির্ধারণ করেছে।
মজুরি ও ভ্যাটসহ আনুমানিক খরচ (প্রতি ভরি)
| ক্যারেট | বেস দাম | ৬% মজুরি | ৫% ভ্যাট | মোট খরচ (আনুমানিক) |
|---|---|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,১৮,১১৭ টাকা | ১৩,০৮৭ টাকা | ১০,৯০৬ টাকা | ২,৪২,১১০ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২,০৮,২০২ টাকা | ১২,৪৯২ টাকা | ১০,৪১০ টাকা | ২,৩১,১০৪ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৭৮,৪৫৯ টাকা | ১০,৭০৮ টাকা | ৮,৯২৩ টাকা | ১,৯৮,০৯০ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৪৮,৫৯৯ টাকা | ৮,৯১৬ টাকা | ৭,৪৩০ টাকা | ১,৬৪,৯৪৫ টাকা |
বিশেষ ডিজাইন, জটিল কারুকার্য বা হস্তনির্মিত অলংকারের ক্ষেত্রে মজুরি ৬% থেকে ১৫% বা তার বেশি হতে পারে। স্বর্ণকারদের দক্ষতা এবং অলংকারের জটিলতা অনুযায়ী এই মজুরি পরিবর্তিত হয়। তাই ক্রয়ের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দোকান থেকে মোট খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
বাংলাদেশে রুপোর বর্তমান মূল্য (২৫ ডিসেম্বর ২০২৫)
রুপো সোনার তুলনায় সাশ্রয়ী মূল্যের একটি মূল্যবান ধাতু যা অলংকার, বাসনপত্র এবং বিনিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম সাম্প্রতিক মাসগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখিয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫-এর তৃতীয় সপ্তাহে রুপোর দাম ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে।
রুপোর দাম বিভিন্ন একক অনুযায়ী
বাংলাদেশে রুপোর বর্তমান মূল্য নিম্নরূপ:
| একক | মূল্য (টাকা) | মূল্য (রুপি) |
|---|---|---|
| প্রতি গ্রাম | ১৭৯.৬৪ টাকা | ১৩০.৭৬ রুপি |
| প্রতি ১০ গ্রাম | ১,৭৯৬.৪০ টাকা | ১,৩০৭.৬০ রুপি |
| প্রতি কিলোগ্রাম | ১,৭৯,৬৪০ টাকা | ১,৩০,৭৬০ রুপি |
| প্রতি আউন্স | ৮,২১৬.২০ টাকা | ৫,৯৮৩.৫০ রুপি |
২০২৫ সালে রুপোর গড় মূল্য ছিল প্রতি আউন্স ৪,৭৭০.৭৯ টাকা। ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রুপোর দাম সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছায় যা ছিল প্রতি আউন্স ৮,২১৬.২০ টাকা। গত ৩০ দিনে সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ২১ নভেম্বর প্রতি কিলোগ্রাম ১,৯২,২৪৭.২০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ১৮ ডিসেম্বর প্রতি কিলোগ্রাম ২,৬০,৬০৭.৮৮ টাকা।
রুপোর মূল্য বৃদ্ধির কারণ
রুপোর দাম বৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। শিল্প খাতে রুপোর চাহিদা বৃদ্ধি, বিশেষত সৌর প্যানেল এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে রুপোতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিনিময় হারের পরিবর্তন এবং মুদ্রাস্ফীতি রুপোর দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। গত ৯০ দিনে সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ১৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রতি কিলোগ্রাম ১,৫০,৯১২.৩৮ টাকা, যা বর্তমান মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
সোনার দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণসমূহ
বাংলাদেশে সোনার দাম ক্রমাগত বৃদ্ধির পেছনে একাধিক আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় কারণ বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি সরাসরি বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব ফেলে কারণ দেশের সোনার চাহিদার বেশিরভাগই আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অন্যান্য মুদ্রার মূল্য হ্রাস সোনার দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের রিজার্ভে সোনার পরিমাণ বৃদ্ধি করছে যা চাহিদা বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশী টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি আমদানি খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি, বিশেষত বিবাহ মৌসুমে সোনার অলংকারের চাহিদা বৃদ্ধি দাম বৃদ্ধির কারণ।
বাজুসের দাম সমন্বয় নীতি
বাজুস স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিত সোনার দাম সমন্বয় করে। ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত ৮৭ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে যা বাজারের অস্থিরতার প্রমাণ। তেজাবি সোনার স্থানীয় বাজার মূল্য হল প্রধান নির্ধারক যা আমদানি খরচ এবং স্থানীয় চাহিদার উপর নির্ভর করে। মুদ্রা বিনিময় হার পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলে কারণ সোনা ডলারে আমদানি করা হয়। সরকারি শুল্ক এবং কর কাঠামোও চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
সোনা কেনার সময় যা জানা জরুরি
সোনার অলংকার ক্রয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। তাই ক্রেতাদের সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি যাতে প্রতারণার শিকার না হন এবং সঠিক মূল্যে খাঁটি সোনা পান।
খাঁটি সোনা চেনার উপায়
-
বাজুসের সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে কেনাকাটা করুন যেখানে নিয়মিত তদারকি থাকে
-
হলমার্ক যাচাই করুন যা সোনার বিশুদ্ধতার সরকারি প্রমাণ
-
ক্যারেট সংখ্যা এবং ওজন লেখা ট্যাগ বা সার্টিফিকেট নিশ্চিত করুন
-
দোকানের লাইসেন্স এবং ব্যবসায়িক পারমিট দেখে নিন
-
অলংকারের ওজন কেনার সময় এবং বিক্রয়ের সময় একই থাকে কিনা নিশ্চিত করুন
মজুরি এবং অতিরিক্ত খরচ
মজুরি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে কিনুন কারণ এটি মোট খরচের একটি বড় অংশ। সাধারণ ডিজাইনের জন্য ৬-৮% মজুরি স্বাভাবিক। জটিল ডিজাইন বা হস্তনির্মিত অলংকারে ১০-১৫% বা তার বেশি মজুরি যুক্তিসঙ্গত। ভ্যাট ৫% অবশ্যই যুক্ত হবে এবং এটি সরকারি বাধ্যতামূলক কর। লিখিত বিল বা রশিদ সংরক্ষণ করুন যেখানে ক্যারেট, ওজন, মজুরি এবং ভ্যাট স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
পুরনো সোনা বিক্রয় বা বিনিময়
পুরনো সোনা বিক্রয়ের সময় শুধুমাত্র সোনার ওজন অনুযায়ী দাম পাবেন, মজুরি ফেরত পাবেন না। বর্তমান বাজার দরে সোনার মূল্য নির্ধারিত হবে। বিনিময়ের ক্ষেত্রে পুরনো সোনার মূল্য থেকে নতুন সোনার মূল্য বিয়োগ করে পার্থক্য পরিশোধ করতে হবে। নতুন অলংকারের মজুরি এবং ভ্যাট আলাদাভাবে প্রদান করতে হবে। বিভিন্ন দোকান থেকে দাম তুলনা করে সর্বোত্তম অফার বেছে নিন।
বিনিয়োগ হিসেবে সোনা: সুবিধা এবং সতর্কতা
সোনা দীর্ঘকাল ধরে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশে অনেকেই সঞ্চয়ের একটি অংশ সোনায় রাখেন।
সোনায় বিনিয়োগের সুবিধা
সোনা মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে এবং ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করে। দীর্ঘমেয়াদে সোনার দাম বৃদ্ধির প্রবণতা থাকে যা মূলধন বৃদ্ধিতে সহায়ক। তরল সম্পদ হওয়ায় প্রয়োজনে দ্রুত নগদে রূপান্তর করা সম্ভব। শেয়ার বা রিয়েল এস্টেটের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ। পরিবারের জন্য সম্পদ সংরক্ষণের ঐতিহ্যবাহী মাধ্যম যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তর হয়।
সতর্কতা এবং ঝুঁকি
সোনায় বিনিয়োগের সময় মনে রাখতে হবে যে স্বল্পমেয়াদে দামের ওঠানামা হতে পারে। মজুরি এবং ভ্যাট প্রদান করতে হয় কিন্তু বিক্রয়ের সময় ফেরত পাওয়া যায় না যা প্রাথমিক ক্ষতি। অলংকার হিসেবে রাখলে চুরি বা হারানোর ঝুঁকি থাকে তাই নিরাপদ সংরক্ষণ জরুরি। বাজার পর্যবেক্ষণ করে সঠিক সময়ে কেনা-বেচা করা দক্ষতার বিষয়। শুধুমাত্র বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কিনলে গোল্ড সেভিংস স্কিম বা ডিজিটাল গোল্ড বিবেচনা করা যেতে পারে যেখানে মজুরি খরচ কম।
ডিজিটাল গোল্ড এবং গোল্ড সেভিংস স্কিম
আধুনিক যুগে শারীরিক সোনা ছাড়াও বিনিয়োগের বিকল্প পদ্ধতি উপলব্ধ রয়েছে। কিছু ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ড সেভিংস অ্যাকাউন্ট অফার করে যেখানে নির্দিষ্ট সময় পর নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনা পাওয়া যায়। ডিজিটাল গোল্ড প্ল্যাটফর্মে ছোট পরিমাণ থেকে শুরু করে সোনা কেনা যায় এবং সংরক্ষণের ঝামেলা নেই। এসব পদ্ধতিতে মজুরি খরচ অনেক কম এবং বিক্রয় সহজ।
ব্যাংকের গোল্ড লোন সুবিধা
সোনা বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া যায় যা জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে কাজে আসে। সোনার মূল্যের ৭০-৮০% পর্যন্ত ঋণ পাওয়া সম্ভব। সুদের হার ব্যক্তিগত ঋণের তুলনায় কম থাকে। ঋণ পরিশোধের পর সোনা ফেরত পাওয়া যায়। তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ না করলে সোনা নিলামে বিক্রি হতে পারে।
শেষ কথা
বাংলাদেশে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে যেখানে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ২,১৮,১১৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ২,০৮,২০২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১,৭৮,৪৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১,৪৮,৫৯৯ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। এই দামের সাথে ৫% ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬% মজুরি যোগ হবে যা মোট খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। রুপোর দাম প্রতি গ্রাম ১৭৯.৬৪ টাকায় পৌঁছেছে যা এই বছরের সর্বোচ্চ মূল্য। আন্তর্জাতিক বাজারের উত্থান, স্থানীয় চাহিদা বৃদ্ধি এবং মুদ্রা বিনিময় হারের পরিবর্তন এই মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ। ক্রেতাদের সতর্কতার সাথে বাজুসের সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে কেনাকাটা করা, হলমার্ক যাচাই করা এবং সকল খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে ক্রয় করা উচিত। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং বাজার পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বাজার প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে আগামী মাসগুলোতেও সোনা এবং রুপোর দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সুযোগ এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ উভয়ই তৈরি করছে।


