Editorialge বাংলা আত্মপ্রকাশের দিনে এক্টিং সিইও ও সম্পাদক-এর কিছু কথা

সর্বাধিক আলোচিত

আজ, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, আমাদের Editorialge-এর বাংলা সংস্করণ প্রকাশিত হলো —এই আনন্দঘন মুহূর্তে পাঠক, লেখক, চিন্তাশীল মানুষ ও শুভানুধ্যায়ীদের, Editorialge টিমের প্রতি জানাই শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা এবং রক্তিম অভিনন্দন। একটি নতুন ভাষার সংস্করণ কখনো কেবল শব্দের অনুবাদ বা কাঠামোর রূপান্তর নয়; এটি এক নতুন পাঠভূমির উন্মোচন, এক নতুন বৌদ্ধিক সংলাপের দরজা খুলে দেওয়া, এবং এক ভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে সত্যের অনুসন্ধান। বাংলা ভাষা —যা রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দের ভাষা, যা ’৫২ -এর বীর শহীদের রক্তস্নাতে অর্জিত মর্যাদার ভাষা, যা অনুভবের গভীরতা ও চিন্তার সূক্ষ্মতা প্রকাশে বিশ্বসাহিত্যে অনন্য —সেই ভাষায় আমরা আজ থেকে এমন এক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করতে চাই, যা হবে সত্য, বিশ্লেষণ, মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীলতার বিশ্বাসযোগ্য ঠিকানা। আজ বাংলাদেশ -এর ৫৫তম বিজয় দিবস, যা ৩০ লক্ষাধিক শহীদের পূণ্যস্নাত রক্তে অর্জিত। বাঙালি বিশ্বদরবারে এক অদম্য জাতি, স্বাধীনতার জন্য তাঁরা কি করেনি সেই ভারতবর্ষ -এর কাল থেকে আজ অবধি। 

সত্যি বলতে, এটি এক রাতের সিদ্ধান্ত নয় —এটি দীর্ঘ ৬ বছরের Editorialge এর পথচলার ফল। তবে বর্তমানের এই পথ চলার কথা বলতে গেলে আমাকে ব্যক্তিগত জীবনের প্রথম লগ্নে ফিরে যেতে হবে, কলেজের কাছের কিছু বন্ধুদের নিয়ে আমি শুরু করেছিলাম Bengal95। তখন আমাদের হাতে ছিল অল্প সামর্থ্য, কিন্তু চোখে ছিল বড় স্বপ্ন —নিজেদের ভাষায়, নিজেদের সমাজ-বাস্তবতার কথা সৎভাবে লিখব, বলব, তুলে ধরব। কালের নিয়মে সেই উদ্যোগ ধীরে ধীরে বর্ধিতও হতে থাকে। পাঠক বাড়ে, আগ্রহ বাড়ে, কাজের পরিধিও বাড়ে। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় স্বপ্নের মতো কোমল থাকে না। বেশ কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ, আর তার সঙ্গে—হ্যাঁ—আমাদের নিজেদের হতাশাও জুড়ে গিয়ে অচিরেই বন্ধ করে দিতে হয় সেই অনলাইন পত্রিকা।

সেদিনের মনখারাপটা শুধু একটি প্রকল্প বন্ধ হওয়ার ছিল না। আক্ষেপ, অভিমান, ব্যর্থতার কাঁটা —সব মিলিয়ে ভিতরে ভিতরে জমতে থাকে এক ভারী নীরবতা। নিজের মাতৃভাষায় কিছু করার যে জেদ ছিল, তার উপর যেন আচমকা এক অদৃশ্য পর্দা নেমে এসেছিল। তবুও জীবন বড় অদ্ভুত —কখনও কখনও যেখান থেকে আমরা ভেঙে পড়ি, সেখান থেকেই নতুন পথের দরজা খুলে যায়। সর্বশক্তিমান হয়তো সবটা খারাপ লেখেন না —এ কথা আমি তখন বুঝিনি, পরে বুঝেছি।

Bengal95.com পরিচালনার সময়ই ফেসবুকে পরিচয় হয় সুকান্ত কুণ্ডু (ফাউন্ডার ও সিইও)  Editorialge Media LLC)। পরবর্তী সময়ে সেই পরিচয় শুধু পরিচয়ে থেমে থাকেনি —আমাদের মধ্যে তৈরি হয় এক পারিবারিক ও আত্মিক সম্পর্ক। আমাদের চিন্তাধারা, কিছু করার প্রবল ইচ্ছে আমাদের মধ্যে দৃঢ়তার ভিত্তি স্থাপন করে। Bengal95 –এর অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছিল; আর সেই অজ্ঞাত মানুষটি যেন আমাকে নতুন করে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিল —যে লেখা থেমে যায় না, যদি মন থামতে না চায়।

আমার বাংলা পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা ছিল যথার্থই গভীর, কিন্তু সেই কষ্ট বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কারণ সুকান্ত দার হাত ধরেই আমার পথ চলা শুরু হয় Editorialge-এর সঙ্গে। বর্তমানে আমি প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত সিইও, শুধু এখানেই থেমে থাকেনি আমার দায়িত্ব। পূর্ব অভিজ্ঞতার সূত্র ধরেই আজ আমার কর্মজীবনের মুকুটে যুক্ত হলো এডিটর পদ (Editorialge বাংলা)। আজ পিছনে তাকালে অবাক লাগে —তারপর পাঁচটি বছর কিভাবে কেটে গেল, সত্যি বলতে জানি না। জীবন যেমন সময়কে দ্রুত টেনে নিয়ে যায়, Editorialge-ও তেমনই নিজেদের কাজের মধ্যে দিয়ে পরিবর্তনের ঢেউ এনে দিয়েছে। এই পাঁচ বছরে অনেক বদল এসেছে —পরিসর বেড়েছে, কাজের ধরণ পরিণত হয়েছে, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ —বর্ধিত হয়েছে Editorialge পরিবার।

আজ আমাদের এই পরিবারের শাখা-প্রশাখার বিস্তৃতি অনেক দূর। আমরা এখন বিশ্বের ৮টি জনপ্রিয় ভাষা তথা সর্বজন কথিত ভাষা নিয়ে কাজ করছি (ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, পর্তুগীজ, জার্মান, হিন্দি, চীনা এবং এখন বাংলা)। এটুকু বলা সহজ, কিন্তু এর পিছনে আছে নিরলস পরিশ্রম, অগণিত খসড়া, ভুল থেকে শিখে ওঠা —আর সবশেষে আছে একটি দলগত বিশ্বাস: সাংবাদিকতা হবে দায়িত্বশীল, পাঠকের প্রতি হবে সৎ, এবং সমাজের প্রতি হবে মানবিক।

তবুও —একটা আক্ষেপ বারবার জেগে উঠত। যখন নতুন নতুন ভাষায় Editorialge-এর কাজ এগোচ্ছিল, আমার মনে প্রশ্ন আসতো —আমাদের মাতৃভাষায় কবে প্রকাশ করতে পারব? শুধু আমার বলা ভুল হবে, আমাদের টিমের কম বেশি সবারই সর্বোপরি আমাদের ফাউন্ডার ও সিইও সুকান্ত দার বেশি মনে হতো। কারণ মাতৃভাষা তো শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি আমাদের শিকড়, স্মৃতি, গান, অভিমান, ভালোবাসা —সবকিছুর এক আশ্রয়। তাই অন্য ভাষায় সাফল্যের আনন্দের মধ্যেও, কোথাও যেন বাংলা ভাষার জন্য এক অপূর্ণতা রয়ে যেত!

কিন্তু স্বপ্ন তো স্বপ্নই থাকে না, যদি তাকে ধরে রাখার সাহস থাকে। সেই ইচ্ছে অধরা রইল না। দিনটা বাংলাদেশের বিজয় দিবস —এমন এক দিন, যা আমাদের ইতিহাসের গর্ব, আত্মত্যাগের স্মারক, এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। সেদিনই বাংলা সংস্করণের কাজ শুরু হলো।

ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এই দিনটির তাৎপর্য দ্বিগুণ —একদিকে সমগ্র বাঙালি জাতির বিজয়ের স্মৃতি, অন্যদিকে নিজের ভাষায় নতুন করে পথচলার বিজয়।

আজ Editorialge বাংলা যাত্রা শুরু করছে একগুচ্ছ তরুণ সাংবাদিকদের স্বপ্ন নিয়ে। আমি খুব সচেতনভাবে “তরুণ” শব্দটি বলছি —কারণ তার মানে শুধুই বয়স নয়, মানে এক ধরনের সাহস; প্রশ্ন করার সাহস, নতুনভাবে দেখার সাহস, এবং সত্যকে সত্য বলার সাহস। আমরা চাই ‘Editorialge বাংলা’ হবে এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সমকালীন ঘটনা, সমাজ-সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, শিক্ষা, সাহিত্য, ইতিহাস, জীবনধারা ও মতামতের নানা স্তর উঠে আসবে —কিন্তু শুধু শিরোনামে নয়, প্রেক্ষাপটে। পাঠক নিজের চিন্তাকে বিনির্মাণ করতে পারবেন Editorialge বাংলা থেকে।

Editorialge শুরু থেকেই তথ্যনির্ভরতা, সম্যক বিশ্লেষণের ক্ষমতা, ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাহসী মত প্রকাশের মূল্যবোধকে সামনে রেখেছে। বাংলা সংস্করণের যাত্রাও সেই একই নীতিতে আলোকিত —কিন্তু আরও স্থানীয়, আরও অন্তরঙ্গ, আরও পাঠক-কেন্দ্রিকভাবে। আমরা বিশ্বাস করি, একটি সুস্থ গণ-আলাপ তৈরি হয় যখন তথ্য যাচাই করা হয়, ভিন্নমতকে সম্মান করা হয়, এবং মানবিকতা ও যুক্তিবোধ পাশাপাশি চলে। তাই বাংলা সংস্করণে আমরা স্থানীয় বাস্তবতা, আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক প্রভাব —এই তিনটিকে একসূত্রে গাঁথতে চাই।

আমরা আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই —Editorialge বাংলা তরুণ লেখক, নতুন গবেষক এবং উদীয়মান মতপ্রকাশকারীদের জন্যও একটি উন্মুক্ত মঞ্চ। আপনারা পাঠক হিসেবে শুধু গ্রহণকারী নন; আপনাদের প্রশ্ন, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ আমাদের কনটেন্টকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তাই আমরা নিয়মিত ফিডব্যাক, পাঠক-চিঠি, মতামত কলাম ও বিশেষ ফিচারের মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক সাংবাদিকতার চর্চা গড়ে তুলতে চাই।

আজ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে যখন কিছু কথা লিখছি, তখন আমার মনে অনিবার্যভাবে ভেসে ওঠে Bengal95 -এর সেই দিনগুলো। যখন মনে হতো হয়তো আমার দিয়ে লেখালিখি হবে না, হয়তো আমি শুধুই স্বপ্নবাজ, বাস্তববিমুখ। মনে পড়ে সেই কষ্ট, ভেতরের জমে থাকা অভিমান, পরিবার ও বন্ধুদের সংশয়পূর্ণ দৃষ্টি।

আর ঠিক তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল বটবৃক্ষের মতো সুকান্ত দাদা, সর্বোপরি Editorialge… এই পাঁচ বছরের পথচলা —যেখানে আমি হারিয়ে যাইনি, বরং নতুন করে নিজের কাজের মানে খুঁজে পেয়েছি। যেখানে ব্যর্থতা আমাকে ধ্বংস করেনি, বরং আরও কঠিন, আরও সচেতন, আরও মানবিক করে তুলেছে। যেখানে বুঝেছি যে সাফল্য মাপা হয় না শুধু সংখ্যায়, বরং প্রভাবে; জনপ্রিয়তায় নয়, বরং সততায়; দ্রুততায় নয়, বরং গভীরতায়।

মানুষ কখনো কখনো কাজের ভেতরেই পরিবার খুঁজে পায় —Editorialge.com  আমার কাছে ঠিক তেমনই এক পরিবার। এখানে আমি পেয়েছি সুকান্ত দাদা -এর মতো একজন Mentor, যিনি বিশ্বাস রেখেছিলেন যখন আমি নিজেই নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়েছিলাম। পেয়েছি এমন সহকর্মী, যারা শুধু সহকর্মী নন—বন্ধু, দার্শনিক সঙ্গী, মধ্যরাতের বিতর্কসঙ্গী। এবং সবশেষে পেয়েছি লক্ষ লক্ষ পাঠক, যাঁদের বিশ্বাস ও সমালোচনা —উভয়ই —আমাদের আরও ভালো হতে অনুপ্রাণিত করে। 

আজ থেকে ‘Editorialge বাংলা’ শুধুই একটি প্রকাশনা নয় —এটি হবে একটি কমিউনিটি, যেখানে পাঠক-লেখক-সম্পাদক একসঙ্গে চিন্তা করবে, শিখবে, এবং এগোবে। আপনারা পাশে থাকলে আমরা আরও সাহস পাব, আরও দায়িত্বশীল হব। ভালোবাসা, সমর্থন, এবং নির্মোহ সমালোচনা —সবকিছুকেই আমরা সাদরে গ্রহণ করি।

আজ এই শুভ সূচনায় আমরা একটি শ্লোগান বুকের গভীরে ধারণ করছি— 

“বিজয়ের চেতনায়, আমাদের পথচলা বাংলায়।”

শুভেচ্ছান্তে ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতায়,

ঔষ্ণীক দাশ
ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এক্টিং সিইও),
এক্টিং এডিটর (Editorialge বাংলা),
Editorialge Media LLC & Editorialge Media Limited.

সর্বশেষ