ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টালে আমরা প্রায়ই দেখতে পাই যে কিছু নির্দিষ্ট তারিখের এক অভাবনীয় এবং অবর্ণনীয় গুরুত্ব রয়েছে। এই দিনগুলোতেই মানব ইতিহাসের বুনন কখনো প্রসারিত হয়েছে, কখনো ছিঁড়ে গেছে, আবার কখনো অপূর্ব নিপুণতায় নতুন করে বোনা হয়েছে। ১২ই এপ্রিল নিঃসন্দেহে এমনই একটি জাদুকরী এবং ভারাক্রান্ত দিন। এটি এমন একটি তারিখ যা আমেরিকার মাটিতে হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতের সূচনা দেখেছে, শিশুদের জন্য এক ভয়াবহ পঙ্গুত্বকারী রোগের সমাপ্তি ঘটিয়েছে, মহাশূন্যে মানবতার প্রথম বিজয়োল্লাস শুনেছে এবং বাংলাদেশের বুকে বহুল প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক সুবিচারের সাক্ষী হয়েছে।
ইতিহাস কেবল অতীতের কোনো স্থির দলিল নয়; এটি একটি জীবন্ত, চলমান সংলাপ যা আমাদের বর্তমানকে প্রভাবিত করে এবং ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরি করে। ঠিক এই দিনে ঘটা যুগান্তকারী ঘটনাগুলো, এই দিনে জন্মানো অসামান্য মেধাবী মানুষগুলো এবং চিরবিদায় নেওয়া কিংবদন্তিদের সম্পর্কে গভীরভাবে জানার মাধ্যমে আমরা আজকের জটিল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটকে আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারি। এই বিস্তৃত ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় আমরা রাজনৈতিক বিপ্লব, সাংস্কৃতিক মাইলফলক এবং বৈজ্ঞানিক যুগান্তরের সেই গভীর আর্কাইভে ডুব দেব, যা ১২ই এপ্রিলের এক অনন্য উত্তরাধিকার তৈরি করেছে।
আমাদের এই সময়ের যাত্রা শুরু হবে সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং ঐতিহাসিকভাবে নিবিড় ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে, যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক পুনর্জাগরণ, রাজকীয় ক্ষমতার একত্রীকরণ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক এই নির্দিষ্ট তারিখটিতে এক অমোচনীয় ছাপ রেখে গেছে।
বাঙালি বিশ্ব ও উপমহাদেশের প্রেক্ষাপট
উপমহাদেশের ইতিহাস সর্বদা বৈচিত্র্যময় এবং ১২ই এপ্রিল তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চলুন গভীরভাবে জেনে নিই এই দিনে ঘটা কিছু যুগান্তকারী ঘটনা এবং তাদের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে উইলিয়াম কেরির অবদান এবং মহারাজা রণজিৎ সিংয়ের উত্থান
১৮০১ সালের ১২ই এপ্রিল ব্রিটিশ মিশনারি উইলিয়াম কেরি কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা ভাষার অধ্যাপক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিযুক্ত হন। এটি নিছক কোনো নিয়োগ ছিল না; বরং এটি ছিল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আধুনিকীকরণের এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে বাংলা ভাষার প্রামাণ্যকরণ, ব্যাকরণ রচনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসারে কেরির এই পদক্ষেপ এক বিশাল রূপান্তর নিয়ে আসে। তাঁর এই নিরলস কাজগুলো পরোক্ষভাবে বেঙ্গল রেনেসাঁ বা নবজাগরণের অগ্নিশিখায় ঘি ঢেলেছিল। এর ফলে বাঙালি জাতি তাদের শত শত বছরের সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে আধুনিক যুগে তুলে ধরার এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সংস্কৃতিকে শক্তভাবে দাঁড় করানোর এক অমূল্য হাতিয়ার পেয়েছিল।
অন্যদিকে, সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, ঠিক একই দিনে (১৮০১ সালে) বাংলার পশ্চিমে এক তরুণ এবং তীব্র উচ্চাভিলাষী যোদ্ধা রণজিৎ সিং নিজেকে পাঞ্জাবের মহারাজা হিসেবে ঘোষণা করেন। বিভক্ত শিখ দলগুলোকে (মিসল) সফলভাবে ঐক্যবদ্ধ করে তিনি এক অজেয় শিখ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। একদিকে যখন কলম ও কালির মাধ্যমে বাংলায় বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব ঘটছিল, ঠিক তখনই পশ্চিমে তলোয়ার এবং অসামান্য রণকৌশলের মাধ্যমে ব্রিটিশ সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও সামরিক দুর্গ গড়ে উঠছিল। রণজিৎ সিংয়ের এই উত্থান দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুনভাবে এঁকেছিল এবং ব্রিটিশদের দীর্ঘ সময়ের জন্য আটকে রেখেছিল।
উপমহাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মাইলফলকগুলো সহজে মনে রাখার জন্য নিচে একটি তালিকা দেওয়া হলো:
| সাল | ঘটনা | ঐতিহাসিক তাৎপর্য |
| ১৮০১ | উইলিয়াম কেরি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। | বাংলা ভাষাকে প্রমিত রূপ দেন এবং বেঙ্গল রেনেসাঁয় বিশাল অবদান রাখেন। |
| ১৮০১ | রণজিৎ সিং পাঞ্জাবের মহারাজা হিসেবে মুকুট পরেন। | শিখ সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং উপমহাদেশে শক্তিশালী শিখ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। |
| ১৯৭৮ | ভারতীয় রেলওয়ে ‘সিংহগড় এক্সপ্রেস’ চালু করে। | ভারতে প্রথমবারের মতো ডাবল-ডেকার বা দ্বিতল ট্রেনের সূচনা হয়, যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব আনে। |
| ২০১৭ | ১৯৭১ সালের ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের সম্মান জানায় বাংলাদেশ। | মুক্তিযুদ্ধের সময়কার যৌথ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি বড় মাপের কূটনৈতিক পদক্ষেপ। |
| ২০২০ | বাংলাদেশের ঢাকায় ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। | ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দায়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার সম্পন্ন হয়। |
উপমহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে যদি আমরা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাকাই, তবে দেখতে পাব ১২ই এপ্রিল দিনটি যেমন ভয়াবহ সংঘাতের, তেমনি মানুষের অসামান্য অর্জনেরও সাক্ষী।
বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় ১২ই এপ্রিল

বিশ্বের লেন্স দিয়ে ১২ই এপ্রিলকে দেখলে এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, দিনটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ এবং মানবজাতির অতুলনীয় সাফল্যের সমার্থক। আমেরিকার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শুরু করে এশিয়ার রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযান এবং রাশিয়ার মহাকাশ যাত্রার সূচনা—সব মিলিয়ে এই দিনে পৃথিবী খুব কম সময়ই স্থির থেকেছে।
আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সূচনা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের অলৌকিক জয়
১৮৬১ সালের ১২ই এপ্রিল আমেরিকার ইতিহাসে এমন একটি দিন হিসেবে খোদাই করা আছে, যেদিন পুরো জাতি নিজেদেরকে দু’টুকরো করে ফেলেছিল এবং ভ্রাতৃঘাতী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা করেছিল। এদিন ভোরে কনফেডারেট আর্টিলারি বাহিনী সাউথ ক্যারোলিনার চার্লসটন বন্দরে অবস্থিত ফেডারেল আউটপোস্ট ‘ফোর্ট সামটার’-এ গোলাবর্ষণ শুরু করে। দাসপ্রথা এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর অধিকার নিয়ে কয়েক দশক ধরে চলা তীব্র উত্তেজনার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ছিল এই আক্রমণ। টানা ৩৪ ঘণ্টার এই গোলাবর্ষণের মাধ্যমে শুরু হয় আমেরিকার গৃহযুদ্ধ, যা চার বছর ধরে চলে, শত শত মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় এবং আমেরিকান সমাজের কাঠামো চিরতরে বদলে দেয়।
যুদ্ধ ও ধ্বংসের প্রায় এক শতাব্দী পর, ১৯৫৫ সালের এই দিনে মানবজাতি পেয়েছিল মুক্তির এক নতুন সংবাদ। মিশিগান ইউনিভার্সিটির একটি পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে ডা. টমাস ফ্রান্সিস জুনিয়র এমন এক ঘোষণা দেন যার জন্য সারা বিশ্বের বাবা-মায়েরা উৎকণ্ঠার সাথে প্রার্থনায় বসে ছিলেন। ডা. জোনাস সল্কের আবিষ্কৃত পোলিও টিকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে “নিরাপদ, কার্যকর এবং শক্তিশালী” ঘোষণা করা হয়। পোলিও তখন এমন এক বিভীষিকা ছিল যা প্রতি বছর হাজার হাজার শিশুকে পঙ্গু করে দিত। আনন্দের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে আমেরিকার রাস্তায় রাস্তায় মানুষ কেঁদে ফেলেছিল। ডা. জোনাস সল্ক তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের কোনো প্যাটেন্ট বা স্বত্বাধিকার নিতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ তিনি চেয়েছিলেন এই টিকা যেন বিনামূল্যে বা অত্যন্ত কম খরচে বিশ্বের প্রতিটি কোণায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। তাঁর এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের ফলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম বড় একটি জয় সাধিত হয়।
মহাকাশ বিজয় এবং প্রাচীন সাম্রাজ্যের পতন
১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ঘটনাটি ঘটে আমাদের চেনা পৃথিবীর সীমানার বাইরে, মেঘের অনেক ওপরে। সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের বৈকানুর কসমোড্রোম থেকে ২৭ বছর বয়সী মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিনকে নিয়ে ‘ভস্টক ১’ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করে। মাত্র ১০৮ মিনিটের সেই যাত্রায় গ্যাগারিন পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশ জয়ের বিরল ইতিহাস গড়েন। স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনার সেই সময়ে মহাকাশ প্রতিযোগিতায় গ্যাগারিনের এই যাত্রা সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্য একটি বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও প্রযুক্তিগত জয় ছিল, যা মহাকাশ গবেষণার গতিপথ চিরতরে বদলে দেয় এবং মানব সক্ষমতার চূড়ান্ত সীমাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে।
এর বহু শতক আগে, ১২০৪ সালে ইউরোপ দেখেছিল এক অন্ধকার ১২ই এপ্রিল। চতুর্থ ক্রুসেডের সেনাবাহিনী কনস্টান্টিনোপলের বিশাল সামুদ্রিক প্রাচীর ভেঙে ফেলে, যা আগে সম্পূর্ণ দুর্ভেদ্য বলে মনে করা হতো। মিত্রতার ছদ্মবেশে ঘটা এই আক্রমণ এবং লুটপাটের ফলে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় এবং খ্রিস্টান বিশ্বের মাঝে এক স্থায়ী বিভাজনের দেয়াল তৈরি হয়।
নিচে বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া বড় ধরনের কিছু পরিবর্তনের একটি সারসংক্ষেপ সারণি দেওয়া হলো:
| সাল | অঞ্চল | ঘটনা | ঐতিহাসিক প্রভাব |
| ১২০৪ | ইউরোপ | ক্রুসেডাররা কনস্টান্টিনোপলের পতন ঘটায়। | বাইজেন্টাইন রাজধানীর মর্মান্তিক পতন এবং খ্রিস্টান বিশ্বের বিভাজন। |
| ১৬০৬ | যুক্তরাজ্য | রাজা প্রথম জেমস ‘ইউনিয়ন জ্যাক’ গ্রহণ করেন। | ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের পতাকাকে যুক্ত করে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত একটি পতাকার জন্ম। |
| ১৮৬১ | যুক্তরাষ্ট্র | কনফেডারেট বাহিনী ফোর্ট সামটারে গুলি চালায়। | দাসপ্রথা নিয়ে বিরোধের জেরে আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকান গৃহযুদ্ধ শুরু। |
| ১৯২৭ | চীন | সাংহাই গণহত্যা সংঘটিত হয়। | কুওমিনতাং বাহিনী কমিউনিস্টদের হত্যা করে, যার ফলে রক্তক্ষয়ী চীনা গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। |
| ১৯৩৭ | যুক্তরাজ্য | প্রথম জেট ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা। | স্যার ফ্রাঙ্ক হুইটলের এই উদ্ভাবন উচ্চ-গতির বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের আধুনিক যুগের সূচনা করে। |
| ১৯৫৫ | যুক্তরাষ্ট্র | সল্কের পোলিও ভ্যাকসিনকে নিরাপদ ঘোষণা করা হয়। | বিংশ শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ একটি শৈশবকালীন রোগকে কার্যকরভাবে নির্মূল করে। |
| ১৯৬১ | রাশিয়া | ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশে যান। | মানব মহাকাশযাত্রার যুগের সূচনা এবং স্নায়ুযুদ্ধের প্রযুক্তিগত লড়াইকে তীব্রতর করে। |
| ১৯৮০ | লাইবেরিয়া | প্রেসিডেন্ট টলবার্টকে সহিংসভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। | আমেরিকো-লাইবেরিয়ান রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান এবং দশকের পর দশক জুড়ে অস্থিরতার সূচনা। |
| ১৯৮১ | যুক্তরাষ্ট্র | স্পেস শাটল কলম্বিয়ার প্রথম উড্ডয়ন। | পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান এবং গভীর-মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপনের ৩০ বছরের যুগের সূচনা। |
শুধু অতীতের ইতিহাস নয়, বর্তমান পৃথিবীতেও ১২ই এপ্রিল নানা কারণে উদযাপিত ও পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে এই দিনটি মানুষের অসীম সাহসকে স্বীকৃতি দেওয়ার, দুর্বলদের পক্ষে দাঁড়ানোর এবং আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক নবায়নের প্রস্তুতির জন্য সংরক্ষিত।
আন্তর্জাতিক দিবস ও উদযাপন
জাতিসংঘ ২০১১ সালে এই দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মানব মহাকাশ উড্ডয়ন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে, যা গ্যাগারিনের অগ্রণী যাত্রাকে সম্মান জানায় এবং মানবতার কল্যাণে মহাকাশ বিজ্ঞানের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ওপর জোর দেয়। অন্যদিকে বলিভিয়ায় এই দিনটি সম্পূর্ণভাবে শিশুদের জন্য নিবেদিত, যেখানে শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা এবং মানসিক অধিকার ও কল্যাণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। আমাদের বাংলা পঞ্জিকায় এই দিনটি প্রায়শই চৈত্র সংক্রান্তি বা পহেলা বৈশাখের আগের দিনগুলোতে পড়ে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে এটি ‘বৈসাবি’ উৎসবের প্রস্তুতির এক অত্যন্ত আনন্দঘন ও ব্যস্ত দিন। ত্রিপুরা, মারমা এবং চাকমা সম্প্রদায় এই দিনটিতে একত্রিত হয়ে তাদের ঐতিহ্যবাহী জল উৎসব ও সাংস্কৃতিক আনন্দ উদযাপনের প্রস্তুতি নেয়।
ইতিহাস তৈরি হয় মানুষের হাতে, আর ১২ই এপ্রিল এমন কিছু অসাধারণ প্রতিভার জন্ম দিয়েছে যারা বিশ্বকে বদলে দিয়েছেন।
বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের জন্মদিন: ১২ই এপ্রিলের কিংবদন্তিরা
১২ই এপ্রিলের প্রসূতিগারগুলো আমাদের উপহার দিয়েছে যুগান্তকারী ইতিহাসবিদ, সাহিত্যের দিকপাল, টক-শো জগতের বিপ্লবী এবং সংগীতের বিস্ময়কর প্রতিভাদের, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন।
রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে টম ক্ল্যান্সি ও ডেভিড লেটারম্যান
১৮৮৫ সালের এই দিনে বাংলার মুর্শিদাবাদে জন্ম নেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ এবং প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (আর. ডি. ব্যানার্জি)। তাঁর জীবনব্যাপী সাধনা এবং নিখুঁত খননকার্যের ফলেই ১৯২২ সালে প্রাচীন মহেঞ্জোদারো শহরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়। এই আবিষ্কারটি কেবল একটি শহরের সন্ধান ছিল না; এটি সমগ্র বিশ্বকে প্রমাণ করে দেখিয়েছিল যে ভারতীয় উপমহাদেশে মিশর বা মেসোপটেমিয়ার মতোই এক অত্যন্ত উন্নত, সুপরিকল্পিত ও পরিশীলিত সিন্ধু সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল।
আধুনিক বিনোদন এবং সাহিত্যের জগতেও ১২ই এপ্রিল দিনটি অসামান্য প্রতিভার জন্ম দিয়েছে। ১৯৪৭ সালে জন্ম নেন বিখ্যাত মার্কিন লেখক টম ক্ল্যান্সি, যিনি ‘দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর’-এর মতো উপন্যাসের মাধ্যমে আধুনিক মিলিটারি-টেকনো থ্রিলার জনরার সংজ্ঞা নতুন করে লিখেছেন। তাঁর লেখনীর নিখুঁত প্রযুক্তিগত বিবরণ এবং বাস্তবসম্মত গুপ্তচরবৃত্তির গল্প পাঠককে এক নতুন জগতের স্বাদ দিয়েছিল। একই দিনে জন্ম নেন কিংবদন্তি টেলিভিশন হোস্ট ডেভিড লেটারম্যান, যিনি তাঁর তীক্ষ্ণ, স্বকীয় এবং বুদ্ধিদীপ্ত রসবোধের মাধ্যমে লেট-নাইট টক শোয়ের চিরাচরিত রূপ ভেঙে দিয়েছিলেন। তিনি প্রথাগত কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে পরবর্তী প্রজন্মের কমেডিয়ানদের জন্য এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেন। জ্যাজ সংগীতের মহীরুহ হার্বি হ্যানককও ১৯৪০ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। সিন্থেসাইজারের উদ্ভাবনী ব্যবহার এবং প্রথাগত জ্যাজের সাথে ফাঙ্ক ও সোলের মিশ্রণ ঘটিয়ে তিনি আধুনিক জ্যাজ সংগীতে যে বিপ্লব এনেছেন, তার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৪টি গ্র্যামি এবং একটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ড জয় করেন।
বিভিন্ন যুগের এই অসাধারণ গুণীজনদের একনজরে দেখতে নিচের সারণিটি লক্ষ্য করুন:
| সাল | নাম | জাতীয়তা | খ্যাতির কারণ |
| ১৫৭৭ | ক্রিশ্চিয়ান চতুর্থ | ডেনিশ | ডেনমার্ক ও নরওয়ের রাজা, যাঁর ৫৯ বছরের রাজত্ব স্ক্যান্ডিনেভিয়ার রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। |
| ১৭২৪ | লাইম্যান হল | আমেরিকান | যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী এবং ফাউন্ডিং ফাদারদের একজন। |
| ১৮৮৫ | রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় | ভারতীয় (বাঙালি) | প্রতিভাবান প্রত্নতত্ত্ববিদ যিনি বিখ্যাত প্রাচীন শহর মহেঞ্জোদারো আবিষ্কার করেছিলেন। |
| ১৯১৭ | ভিনু মানকদ | ভারতীয় | কিংবদন্তি ক্রিকেট অলরাউন্ডার যিনি ভারতের হয়ে ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই ওপেন করতেন। |
| ১৯৪০ | হার্বি হ্যানকক | আমেরিকান | জ্যাজ পিয়ানোবাদক এবং সুরকার, যিনি ভিন্ন ভিন্ন সংগীতের ধারাকে মেশানোর জন্য পরিচিত। |
| ১৯৪৬ | এড ও’নিল | আমেরিকান | ‘ম্যারিড… উইথ চিলড্রেন’ এবং ‘মডার্ন ফ্যামিলি’র জন্য পরিচিত জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা। |
| ১৯৪৭ | টম ক্ল্যান্সি | আমেরিকান | অত্যন্ত বাস্তবসম্মত সামরিক এবং গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে লেখা উপন্যাসের বেস্টসেলার লেখক। |
| ১৯৪৭ | ডেভিড লেটারম্যান | আমেরিকান | আইকনিক লেট-নাইট টেলিভিশন হোস্ট এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী কমেডিয়ান। |
| ১৯৫৬ | অ্যান্ডি গার্সিয়া | কিউবান-আমেরিকান | ‘দ্য গডফাদার পার্ট থ্রি’ এবং ‘ওশানস ইলেভেন’-এ অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হলিউড অভিনেতা। |
| ১৯৫৪ | সায়োরসে রোনান | আইরিশ-আমেরিকান | ‘লেডি বার্ড’ এবং ‘লিটল উইমেন’-এর জন্য পরিচিত সমালোচকদের প্রশংসিত অভিনেত্রী। |
যাঁদের জন্ম দিয়ে ১২ই এপ্রিল আনন্দিত হয়েছে, তেমনি অনেক কিংবদন্তির বিদায়ে এই দিনটি শোকাহতও হয়েছে। তাঁদের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার আজও আমাদের পথ দেখায়।
বিদায়ের দিন: যাঁদের আমরা হারিয়েছি
ইতিহাসের যে মহান ব্যক্তিরা ১২ই এপ্রিল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গভীরভাবে প্রভাবশালী একজন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট, যুদ্ধক্ষেত্রের এক অগ্রগামী সেবিকা এবং এমন একজন বিনোদনশিল্পী যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গুপ্তচর হিসেবেও কাজ করেছিলেন।
ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট, ক্লারা বার্টন এবং জোসেফিন বেকার
১৯৪৫ সালের এই দিনে মারা যান আমেরিকার ৩২তম প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট। মহামন্দার চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিনগুলোতে তিনি আমেরিকাকে ‘নিউ ডিল’ নীতির মাধ্যমে নতুন করে পথ দেখিয়েছিলেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রবাহিনীকে চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো বিশ্ব শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, ১৯১২ সালে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন “অ্যাঞ্জেল অফ দ্য ব্যাটলফিল্ড” খ্যাত ক্লারা বার্টন। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর নিঃস্বার্থ সেবা এবং পরবর্তীতে আমেরিকান রেড ক্রস প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আজও কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়ে চলেছে। ১৯৭৫ সালে বিদায় নেন জোসেফাইন বেকার। তিনি কেবল প্যারিসের মঞ্চ কাঁপানো একজন কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পীই ছিলেন না, বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফরাসি রেজিস্ট্যান্সের হয়ে নিজের শিট মিউজিকের কাগজে অদৃশ্য কালিতে লিখে গোপন তথ্য পাচার করা এক দুঃসাহসী গুপ্তচরও ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নাগরিক অধিকার আন্দোলনের একজন অগ্রগামী কর্মী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই দিনেই বক্সিং দুনিয়া হারিয়েছিল তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ দুই রত্নকে। ১৯৮১ সালে মারা যান কিংবদন্তি হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন জো লুইস এবং ১৯৮৯ সালে মারা যান ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা বক্সার শুগার রে রবিনসন।
এই দিনে পৃথিবী ছেড়ে যাওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিচের সারণিটি দেওয়া হলো:
| সাল | নাম | জাতীয়তা | রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার |
| ১৫৫৫ | কুইন জোয়ানা অফ ক্যাস্টিল | স্প্যানিশ | ইতিহাসে “জোয়ানা দ্য ম্যাড” নামে পরিচিত, যিনি ১৫০৪ সাল থেকে ক্যাস্টিলের নামেমাত্র রানি ছিলেন। |
| ১৯১২ | ক্লারা বার্টন | আমেরিকান | যুদ্ধক্ষেত্রের অসামান্য সেবিকা এবং আমেরিকান রেড ক্রস সংস্থার নিবেদিতপ্রাণ প্রতিষ্ঠাতা। |
| ১৯৪৫ | ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট | আমেরিকান | ৩২তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি মহামন্দা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাতিকে নেতৃত্ব দেন। |
| ১৯৭৫ | জোসেফিন বেকার | আমেরিকান-ফরাসি | বিশ্ববিখ্যাত বিনোদনশিল্পী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গুপ্তচর এবং নাগরিক অধিকার কর্মী। |
| ১৯৮১ | জো লুইস | আমেরিকান | কিংবদন্তি হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন এবং আফ্রিকান-আমেরিকানদের প্রাথমিক সাংস্কৃতিক নায়ক। |
| ১৯৮৯ | শুগার রে রবিনসন | আমেরিকান | ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রতিভাবান বক্সার হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত। |
| ২০২০ | স্টার্লিং মস | ব্রিটিশ | ফর্মুলা ওয়ান কিংবদন্তি, যাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ না জেতা সর্বশ্রেষ্ঠ চালক হিসেবে ধরা হয়। |
ইতিহাসের মূল ধারার বাইরেও ১২ই এপ্রিল নিয়ে রয়েছে কিছু অদ্ভুত এবং চমকপ্রদ তথ্য, যা সত্যিই অবাক করার মতো।
অজানা তথ্য: ১২ই এপ্রিলের চমকপ্রদ ইতিহাস
ঐতিহাসিক আখ্যানগুলো প্রায়শই অদ্ভুত এবং অত্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু তথ্যের সাথে জড়িয়ে থাকে। প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট যখন স্ট্রোক করেন, তখন শিল্পী এলিজাবেথ শউমাটফ তাঁর একটি জলরঙের প্রতিকৃতি আঁকছিলেন। আকস্মিক মৃত্যুর কারণে পেইন্টিংটি আর শেষ করা সম্ভব হয়নি। “দ্য আনফিনিশড পোর্ট্রেট” নামে পরিচিত এই ছবিটির ডান দিকটি আজও সম্পূর্ণ ফাঁকা, যা একটি অসম্পূর্ণ জীবনের এক অবিস্মরণীয় প্রতীক হয়ে আছে। অন্যদিকে, ১৯৯৯ সালের ১২ই এপ্রিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন মনিকা লিউইনস্কি স্ক্যান্ডালে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হন। সিনেমা জগতেও এই দিনটি এক বিরল ইতিহাসের সাক্ষী। ১৯৮৮ সালের ১২ই এপ্রিল বার্নার্ডো বের্তোলুচ্চির মহাকাব্যিক সিনেমা ‘দ্য লাস্ট এম্পেরর’ অস্কারে ৯টি বিভাগে মনোনীত হয়ে ৯টিতেই জয়লাভ করে এক অবিশ্বাস্য ক্লিন সুইপ করেছিল।
উপসংহারে পৌঁছানোর আগে বলা যায়, ১২ই এপ্রিলের এই সুবিশাল ব্যাপ্তি সত্যিই বিস্ময়কর এবং ভাবনার উদ্রেককারী।
সময়ের পাতায় ১২ই এপ্রিলের অমলিন পদচিহ্ন
১২ই এপ্রিলের ইতিহাসের পাতাগুলো বন্ধ করার সময়, মাত্র ২৪ ঘণ্টার একটি চক্রে আবদ্ধ মানব অভিজ্ঞতার এই বিশাল পরিসর দেখে গভীরভাবে আলোড়িত না হয়ে উপায় নেই। একটি স্বাধীন জাতির জনকের হত্যার বিচার ঢাকায় সম্পন্ন হওয়া থেকে শুরু করে স্যার ফ্রাঙ্ক হুইটলের তৈরি গগনবিদারী জেট ইঞ্জিন; ফোর্ট সামটারের সেই কামানগুলোর গগনবিদারী গর্জন যা একটি দেশকে বিভক্ত করেছিল, সেখান থেকে ইউরি গ্যাগারিনের পৃথিবীর বুকে ভাসমান নিঃশব্দ, ওজনহীন বিস্ময়—আজকের দিনটি সত্যিই অবিশ্বাস্য চরম বৈপরীত্যের এক অনন্য দলিল।
এই তারিখটি আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মানুষের অগ্রগতি কখনোই সরলরেখায় চলে না। এটি বিধ্বংসী যুদ্ধ, রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযান এবং অলৌকিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আবিষ্কারের মতো বিন্দু দিয়ে চিহ্নিত। আমরা এফডিআর-এর মতো মহান এবং পথপ্রদর্শক নেতাদের হারিয়েছি, আবার ঠিক একই দিনে টম ক্ল্যান্সি এবং ডেভিড লেটারম্যানের মতো নতুন, তীক্ষ্ণ মেধাবীরা আমাদের সংস্কৃতি এবং গল্প বলার ধরনকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পৃথিবীতে এসেছেন। আজ যখন আমরা নিজেদের ১২ই এপ্রিলে পা রাখছি, তখন আমরা এই সমস্ত ঐতিহাসিক আত্মাদের ওজন এবং বিস্ময়কে আমাদের সাথেই বহন করে চলেছি। আমরা এই পরম সত্যটি অনুধাবন করছি যে, এই মুহূর্তে আমরা যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছি, তা সক্রিয়ভাবেই আগামীকালের ইতিহাস লিখে চলেছে।


