ইতিহাসের ক্যানভাসে ১৬ই জানুয়ারি তারিখটি কোনো সাধারণ দিন নয়। এটি এমন এক সন্ধিক্ষণ যেখানে ক্ষমতার দম্ভের বিপরীতে মানুষের বিবেকের জয়ধ্বনি শোনা যায়, যেখানে সাহিত্যের কলম রাজতন্ত্রের ভিত কাঁপিয়ে দেয়, আর যেখানে অজানাকে জানার নেশায় মানুষ পাড়ি জমায় মহাকাশের সীমানায়।
প্রাচীন রোমের সাম্রাজ্যিক ঘোষণা থেকে শুরু করে বাঙালির প্রাণের কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের বিদায়— এই দিনটি আমাদের শেখায় যে সময় বহমান, কিন্তু আদর্শ চিরন্তন। নিচে এই ঐতিহাসিক দিনটির প্রতিটি অধ্যায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
এক নজরে: বছর, অঞ্চল ও প্রভাব
| বছর | অঞ্চল | ঘটনা | দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| ২৭ খ্রিস্টপূর্ব | রোম | অক্টাভিয়ান “অগাস্টাস” উপাধি পান | রোমান সাম্রাজ্যের জন্ম; শাসনের ব্র্যান্ডিং রাজনীতির সূচনা |
| ১৫৪৭ | রাশিয়া | ইভান চতুর্থ ত্সার হিসেবে অভিষিক্ত | কেন্দ্রীভূত রাশিয়ান রাষ্ট্রের আদর্শ প্রতিষ্ঠা |
| ১৬০৫ | স্পেন | ডন কিহোতে প্রথম খণ্ড প্রকাশ | আধুনিক উপন্যাসের ভিত্তি, ব্যঙ্গ ও আত্ম-প্রতিফলনের নতুন ধারা |
| ১৭৬১ | ভারত | ব্রিটিশরা পন্ডিচেরি দখল করে | উপনিবেশিক শক্তি হিসেবে ব্রিটেনের দক্ষিণ ভারতের উপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি |
| ১৭৮৬ | যুক্তরাষ্ট্র | Virginia Statute for Religious Freedom গৃহীত | ধর্ম ও রাষ্ট্র আলাদা রাখার ধারণা, আধুনিক ধর্মীয় স্বাধীনতার ভিত্তি |
| ১৯০১ | ভারত | মহাদেব গোবিন্দ রানাডের মৃত্যু | ভারতীয় সমাজসংস্কার ও বিচারব্যবস্থায় উদার ধারণার পথিকৃৎ |
| ১৯৩৮ | বাংলা | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু | দক্ষিণ এশীয় সাহিত্য, নারীচরিত্র ও সিনেমার ভাষা পাল্টে দেন |
| ১৯৬৯ | চেকোস্লোভাকিয়া | ইয়ান প্যালাকের আত্মাহুতি | সোভিয়েত দমননীতির বিরুদ্ধে নৈতিক প্রতিবাদের বিশ্ব-প্রতীক |
| ১৯৭৯ | ইরান | শাহ পাহলভির দেশত্যাগ | ইরান বিপ্লবের অপরিবর্তনীয় মোড়; মধ্যপ্রাচ্যের জিওপলিটিক্স বদলে যায় |
| ১৯৮০ | যুক্তরাষ্ট্র | লিন-ম্যানুয়েল মিরান্ডার জন্ম | Hamilton ও আধুনিক ব্রডওয়ে মিউজিক্যালের নতুন ভাষা তৈরি |
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: কলমের নীরব বিপ্লব

বাংলা সাহিত্যের আকাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যদি হন মধ্যগগনের সূর্য, তবে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হলেন সেই স্নিগ্ধ চাঁদ, যার আলো সরাসরি প্রবেশ করেছে বাঙালির অন্দরমহলে। তাঁকে বলা হয় ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’। কিন্তু এই উপাধির আড়ালে লুকিয়ে আছে একজন বিদ্রোহী, যিনি কোনো অস্ত্র হাতে নয়, বরং কলমের কালিতে ঘটিয়েছিলেন এক নীরব বিপ্লব।
শরৎচন্দ্রের সাহিত্যকর্ম নিছক গল্পবলা ছিল না; তা ছিল তৎকালীন ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থা, কুসংস্কার এবং নারীর অবদমনের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ।
তাঁর শৈশব-কৈশোর দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তায় কাটলেও, সেই জীবনসংগ্রামই তাঁকে সাধারণ মানুষের মনের সবচেয়ে কাছাকাছি করে তুলেছিল।
তাঁর সাহিত্যিক গুরুত্ব বিস্তৃত করলে কিছু দিক স্পষ্ট হয়:
-
চরিত্র নির্মাণ: দেবদাস, পার্বতী, কমললতা, অভয়া, ইন্দ্রনাথ–এই সব চরিত্র শুধু কাহিনির অংশ নয়, দক্ষিণ এশীয় আবেগের স্থায়ী রূপক।
-
নারীর অবস্থান: যখন সমাজ নারীর কণ্ঠ চাপা দিতে চাইছিল, তখন শরৎচন্দ্র তাঁর নারীচরিত্রের মধ্যে প্রতিবাদ, আত্মসম্মান ও আভ্যন্তরীণ শক্তি আঁকলেন।
-
সিনেমাটিক প্রভাব: ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ সমগ্র উপমহাদেশে তাঁর উপন্যাসগুলোর অসংখ্য চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনিক রূপান্তর হয়েছে—দেবদাসই একাধিক ভাষায় বহুবার নির্মিত।
তাঁর জীবনও নাটকীয়—রেঙ্গুনে নীচতলার এক শ্রমিকের মেয়েকে শোষণ থেকে বাঁচাতে তিনি নিজেই বিয়ে করেন; পরের দিকে স্ত্রী ও এক বছরের ছেলে প্লেগে মারা গেলে তাঁর মানসিক জগতে গভীর পরিবর্তন আসে।
ভারত: জানুয়ারির নাগরিক ও উৎসব-মানসিকতা
১৬ জানুয়ারি সরাসরি কোনো রাষ্ট্রীয় দিবস না হলেও, এটি দাঁড়িয়ে থাকে একটি প্রতীকী “সংযোগ-সূত্র” হিসেবে।
-
১৫ জানুয়ারি সেনাবাহিনী দিবস; ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস—এর মাঝখানে রাষ্ট্র, সেনা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে ভাবনার এক চাপা সময় থাকে।
-
মকর সংক্রান্তি, পঙ্গল, মাঘ বিহু–এসব সৌর উৎসব প্রায়ই ১৩–১৬ জানুয়ারির মধ্যে বিস্তৃত থাকে, ফলে ১৬ জানুয়ারিও বহু পরিবারের জন্য উৎসব-পরিবেশের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
অর্থনৈতিক উদারীকরণের পর ১৯৯০-এর দশকে জানুয়ারির এই সময়টায় ভারত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, বিনিয়োগ সম্মেলন ইত্যাদির মাধ্যমে ‘গ্লোবাল’ ভারত ভাবমূর্তি জোরালো করতে থাকে—যা “জাতীয় পরিচয় ও বৈশ্বিকীকরণ”–এর দ্বৈত মানসিকতা তৈরি করেছে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক পালা
National Religious Freedom Day (যুক্তরাষ্ট্র)
১৬ জানুয়ারি ১৭৮৬ সালে ভার্জিনিয়া জেনারেল অ্যাসেম্বলি থমাস জেফারসনের রচিত Virginia Statute for Religious Freedom গৃহীত করে।
এই আইনে বলা হয়, কোনো মানুষকে তার ধর্মবিশ্বাসের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে দণ্ডিত করা যাবে না, আর রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকেই বিশেষ সুবিধা দিতে পারবে না।
এই ধারনা পরে মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে “Congress shall make no law respecting an establishment of religion…” বাক্যে রূপ পায়, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার বৈশ্বিক কথাবার্তার আদর্শমূলক রেফারেন্স হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজও এই দিনটির বার্তা গুরুত্বপূর্ণ:
-
ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে ধর্মীয় পরিচয় ও নাগরিকত্বের সম্পর্ক নিয়ে যে বিতর্ক, সেখানে এই ধারণা এক ধরনের নৈতিক মানদণ্ড হয়ে ওঠে।
-
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রেসিডেন্টের ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে এই দিনটিকে স্মরণ করা হয়, এবং বিভিন্ন সংগঠন ধর্মীয় সংলাপ, আন্তধর্মীয় আলোচনা ইত্যাদি আয়োজন করে।
অন্যান্য দেশ ও আঞ্চলিক দিবস
-
নাইজেরিয়ার Armed Forces Remembrance–এ সামরিক বাহিনীর শহিদদের স্মরণ করা হয়, যদিও সুনির্দিষ্ট তারিখ অঞ্চলভেদে mid-January সময়সীমায় থেকে যায়।
-
মালাউইতে John Chilembwe Day ঔপনিবেশিকবিরোধী সংগ্রামের এক পুরোধা নেতাকে স্মরণের মাধ্যমে আফ্রিকান প্রতিরোধের ইতিহাস সামনে আনে।
-
মিশরের Arbor Day পরিবেশ সচেতনতা, বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নের প্রতীক।
-
উত্তর কোরিয়ার Korean Alphabet Day (কিছু ক্যালেন্ডারে এই সময়ে উল্লেখ থাকে) ভাষা, লিপি ও জাতীয় সত্তার অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণের সুযোগ হিসেবে ধরা হয়।
ইউরোপ, রোম ও প্রতিবাদের রাজনীতি
অক্টাভিয়ান থেকে “অগাস্টাস”: ক্ষমতার ভাষা
২৭ খ্রিস্টপূর্বে রোমান সিনেট যখন অক্টাভিয়ানকে “অগাস্টাস” উপাধি দেয়, তখন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্রাট ঘোষিত হন এবং রোম “গণতন্ত্র” থেকে সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত হয়।
এই পরিবর্তন শুধু ক্ষমতা বদল নয়, রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং–এর জন্ম—যেখানে উপাধি, পোশাক, প্রতীক আর স্থাপত্যের মাধ্যমে ক্ষমতাকে “স্বাভাবিক” ও “দিব্য” বলে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
আজকের সময়ে রাষ্ট্রনেতাদের ইমেজ ম্যানেজমেন্ট, রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন ও স্লোগানের রাজনীতি এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার সাথে আশ্চর্যভাবে মিল রাখে।
ডন কিহোতে: সাহিত্য, পাগলামি ও বাস্তবতা
১৬০৫ সালের ১৬ জানুয়ারি মিগেল দে সার্ভান্টেসের Don Quixote–এর প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয় বলে বহু উৎস উল্লেখ করে।
বইটি এমন এক মানুষকে নিয়ে, যিনি পুরোনো বীরগাঁথার ন্যায়পরায়ণতা বাস্তব জগতে বাঁচিয়ে রাখতে চান—ফলে সমাজের চোখে তিনি ‘পাগল’।
এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
-
আত্মচেতনা: বর্ণনাকারী কাহিনির সত্যতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলে—এতে জন্ম নেয় “unreliable narrator” ধারণা, যা আধুনিক উপন্যাসের মূল কৌশল।
-
ব্যঙ্গ ও সমালোচনা: সামন্ততান্ত্রিক রোম্যান্টিক বীরত্বের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, সমাজের বাস্তবতার সাথে পুরোনো স্বপ্নের টানাপোড়েন দেখায়।
বাংলা ও দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যে পরবর্তীকালে যে ধরনের আত্ম-সমালোচনামূলক উপন্যাস ও ব্যঙ্গধর্মী সামাজিক কাহিনি তৈরি হয়, তার শিকড় অনেকেই সার্ভান্টেসের সাহিত্যিক ধারা পর্যন্ত টেনে নেন।
ইয়ান প্যালাক: এক দেহের আগুন, বহু প্রজন্মের স্মৃতি
১৯৬৯ সালের ১৬ জানুয়ারি, প্রাগে চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র ইয়ান প্যালাক নিজের দেহে আগুন ধরিয়ে দেন, সোভিয়েত দখল আর “Normalisation”–এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে।
কয়েক দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়, কিন্তু তাঁর আত্মাহুতি অনেকের জন্য এক “নৈতিক আয়না” হয়ে থাকে।
-
তাঁর শেষ চিঠিতে তিনি চেক সমাজকে “অলসতা ও আপসকামিতা” থেকে বেরিয়ে আসতে আহ্বান করেন।
-
পরবর্তী দশকগুলোতে মানবাধিকার আন্দোলন, পরিবেশবাদী আন্দোলন কিংবা আরব বসন্ত–অন্য অনেক ক্ষেত্রে তাঁর নাম এক প্রতীক হিসেবে ফিরে এসেছে—কিভাবে একজন ব্যক্তি সব হারিয়েও নৈতিক অবস্থান নেয়।
ইরান, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বরাজনীতি
১৯৭৯ সালের ১৬ জানুয়ারি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ইরান ত্যাগ করলে, কার্যত রাজতন্ত্রের অধ্যায় শেষের পথে চলে যায়।
এই একটি ঘটনা থেকে কয়েকটি স্তর তৈরি হয়:
-
অভ্যন্তরীণ রাজনীতি: শাহের কর্তৃত্ববাদী শাসন, গোপন পুলিশ সাভাক, এবং পশ্চিমা সমর্থিত আধুনিকায়ন নীতির বিরুদ্ধে ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী অসন্তোষ ফেটে পড়ে।
-
বৈশ্বিক প্রভাব: ইরান বিপ্লবের পর ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকট, এবং পরবর্তীতে ইরান–আমেরিকা দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার সমীকরণের বড় অংশ ১৬ জানুয়ারির এই প্রস্থান মুহূর্তের সাথে যুক্ত।
-
জ্বালানি রাজনীতি: ইরান তেলভিত্তিক অর্থনীতি ও ওপেক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ায়, বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে তেলের দাম, সরবরাহ, এবং ভূরাজনৈতিক চাপ—সবকিছুই পুনর্গঠিত হয়।
আরও কিছু উল্লেখযোগ্য জন্ম ও মৃত্যু
জন্মদিন
-
ফুলহেনসিও বাতিস্তা (জ. ১৯০১) – কিউবার স্বৈরশাসক; যার পতনের মধ্য দিয়েই ফিদেল কাস্ত্রোর কিউবান বিপ্লব দৃঢ় হয়।
-
এরিক লিডেল (জ. ১৯০২) – স্কটিশ অলিম্পিক দৌড়বিদ, যার জীবনের ওপর Chariots of Fire চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।
-
বিভিন্ন রাজা–সম্রাট – যেমন বেইননাung (বার্মার রাজা, জ. ১৫১৬) প্রমুখ, যাঁদের জন্ম এই তারিখে উল্লেখ আছে ঐতিহাসিক ক্যালেন্ডারে।
মৃত্যু
-
মহাদেব গোবিন্দ রানাডে (মৃ. ১৯০১) – বিচারপতি, সমাজসংস্কারক, যিনি বিধবা বিবাহ, শৈশববিবাহ নিরুৎসাহন, ও নারীশিক্ষার পক্ষে কথা বলেছিলেন।
-
কারোল লম্বার্ড (মৃ. ১৯৪২) – হলিউড অভিনেত্রী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তহবিল সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন, ফলে যুদ্ধকালীন আত্মত্যাগের এক প্রতীকী মুখে পরিণত হন।
-
ইউজিন সারনান (মৃ. ২০১৭) – অ্যাপোলো ১৭–এর নভোচারী; তিনিই এখনও পর্যন্ত চাঁদের মাটিতে শেষ পা রাখা মানুষ।
“Nothing Day” ও ক্যালেন্ডারের ক্লান্তি
২০ শতকে ১৬ জানুয়ারিকে ‘Nothing Day’ হিসেবে রসিকতার ছলে প্রস্তাব করা হয়—একটা দিন যেখানে কোনো ‘বিশেষ দিবস’ না রেখে মানুষকে ক্যালেন্ডারের চাপ থেকে মুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়।
এক অর্থে, এটি দেখায় যে আমাদের সময় এত বেশি “ওভার-কমেমোরেটেড” হয়ে গেছে যে, মানুষ কখনো কখনো “কিছু না করার স্বাধীনতা”কেও উদযাপন করতে চায়।
উক্তি ও ভাবনা
লিন-ম্যানুয়েল মিরান্ডার বিখ্যাত লাইন:“Love is love is love is love.”
এই বাক্য শুধু রোমান্টিক প্রেমের কথা বলে না; এটি বোঝায়—মানবিক ভালোবাসা, সহানুভূতি, পরিচয়ের সংগ্রাম—সবকিছুর মূলেই রয়েছে একই একতা, যা কোনো রাষ্ট্র, আইন বা মতাদর্শ দিয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না।
১৬ জানুয়ারি আমাদের কী শেখায়?
-
সাম্রাজ্যের জন্ম (অগাস্টাস) থেকে সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠা আগুন (ইয়ান প্যালাক)—১৬ জানুয়ারি ক্ষমতা ও বিবেকের টানাপোড়েনের প্রতীক।
-
একদিকে শরৎচন্দ্রের নীরব কিন্তু গভীর সাহিত্যিক বিপ্লব; অন্যদিকে ইরানের উত্তাল রাজনৈতিক বিপ্লব—দুটোই প্রমাণ করে, কলম আর সংগ্রাম দুটোই ইতিহাস বদলাতে পারে।
-
ধর্মীয় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র হোক বা আধুনিক মিউজিক্যালের মঞ্চ—আইন ও শিল্প দুটোই সমাজের নৈতিক মানচিত্র আঁকে।
শেষকথা
১৬ জানুয়ারি ইতিহাসের পাতায় এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এই দিনে বিশ্বজুড়ে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্ম ও প্রয়াণ আমাদের অতীতের সঙ্গে বর্তমানের যোগসূত্র তৈরি করে।
ইতিহাসের এসব স্মরণীয় মুহূর্ত শুধু তথ্যই নয়, বরং মানবসভ্যতার অগ্রগতি, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প বহন করে। এমন দিনগুলোকে স্মরণ করা আমাদেরকে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে এবং ভবিষ্যতের জন্য সচেতন ও অনুপ্রাণিত হতে সাহায্য করে।


