ইতিহাসের পাতায় আজকের এই গভীর যাত্রায় আপনাকে স্বাগত! ইতিহাস কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় লেখা কিছু প্রাণহীন তারিখের সমষ্টি নয়; এটি মানবজাতির চূড়ান্ত বিজয়, চরম ট্র্যাজেডি এবং যুগান্তকারী পরিবর্তনের এক জীবন্ত দলিল। আপনি যদি কখনো ভেবে থাকেন যে ক্যালেন্ডারের পাতায় ১৯ জুলাই দিনটি কেন এতোটা বিশেষ, তবে আপনি একেবারে সঠিক জায়গায় এসেছেন।
অতীতের ঠিক এই দিনটিতে বিশ্ব দেখেছে বিশাল সব সামাজিক বিপ্লবের সূচনা থেকে শুরু করে চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম হাঁটার প্রস্তুতি। এই বিস্তারিত গাইডে আমরা সময়ের টাইমমেশিনে চড়ে ফিরে যাবো অতীতে এবং উন্মোচন করব ১৯ জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সব ঘটনা, বিখ্যাত ব্যক্তিদের জন্ম এবং উল্লেখযোগ্য মৃত্যুর ইতিহাস। আপনার পড়ার সুবিধার্থে আমরা পুরো বিষয়টিকে বিভিন্ন ভাগে সাজিয়েছি এবং সাথে যুক্ত করেছি ছক বা টেবিল, যাতে এক নজরেই সব তথ্য পেয়ে যান।
বঙ্গীয় বলয় ও ভারতীয় উপমহাদেশ
ভারতীয় উপমহাদেশ, বিশেষ করে বঙ্গীয় বলয়ের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং একইসঙ্গে ঘটনাবহুল। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং আধুনিক রাজনৈতিক আন্দোলনের এক অন্যতম সন্ধিক্ষণ হলো এই ১৯ জুলাই।
ঐতিহাসিক ঘটনাবলী
১৯০৫: বঙ্গভঙ্গের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
১৯০৫ সালের ১৯ জুলাই ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা প্রেসিডেন্সি ভাগের (বঙ্গভঙ্গ) ঘোষণা দেন। ব্রিটিশ প্রশাসনের যুক্তি ছিল— বাংলা আয়তনে অনেক বড় এবং জনবহুল একটি অঞ্চল, তাই প্রশাসনিক সুবিধার জন্যই এই বিভাজন প্রয়োজন। কিন্তু ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতারা খুব দ্রুতই ব্রিটিশদের এই ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ (Divide and Rule) নীতিটি ধরে ফেলেন। এই বিভাজনের ফলে মুসলিম অধ্যুষিত পূর্ববঙ্গ (বর্তমান বাংলাদেশ ও আসাম) এবং হিন্দু অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গ (পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা) আলাদা হয়ে যায়। কার্জনের এই একটি মাত্র সিদ্ধান্ত পুরো বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় তোলে এবং জন্ম দেয় ঐতিহাসিক ‘স্বদেশী আন্দোলন’-এর। এর ফলে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস একটি সাধারণ মধ্যবিত্তের সংগঠন থেকে ব্রিটিশবিরোধী এক বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়। পরবর্তীতে প্রবল গণবিক্ষোভের মুখে ১৯১১ সালে ব্রিটিশরা বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
১৯৬৯: ভারতে ব্যাংক জাতীয়করণ
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৯ সালের ১৯ জুলাই দেশের ১৪টি বড় বাণিজ্যিক ব্যাংককে জাতীয়করণ করেন। সেই সময়ে দেশের মোট ব্যাংক আমানতের ৮৫ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করত এই ব্যাংকগুলো। এই অর্ডিন্যান্সের আগে বেসরকারি ব্যাংকগুলো মূলত বড় বড় শিল্পপতিদের ঋণ দিত এবং কৃষি বা গ্রামীণ খাতকে একেবারেই অবহেলা করত। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণের মাধ্যমে সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল কৃষক, ক্ষুদ্র শিল্প এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে ঋণ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। এই সিদ্ধান্তটি ভারতের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকের শাখা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের আর্থিক কাঠামোর চেহারা চিরতরে বদলে দেয়।
২০২৪: বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থান
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে দেশব্যাপী কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ট্র্যাজিক দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করলেও জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে তা তীব্র আকার ধারণ করে, যা ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে পরিচিতি পায়। ১৯ জুলাই এবং এর আশেপাশের দিনগুলোতে শিক্ষার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক ও ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়, যাতে বহু তাজা প্রাণ ঝরে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সরকার দেশব্যাপী কঠোর কারফিউ জারি করে এবং সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট (ইন্টারনেট বন্ধ) করে দেয়। স্বাধীন বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাসে এটি এক গভীর ক্ষত এবং যুগান্তকারী মোড় হিসেবেই লেখা থাকবে।
এই অঞ্চলের বিখ্যাত জন্ম ও মৃত্যু
| নাম | বছর | পেশা/ভূমিকা | অবদান ও পরিচিতি |
| মঙ্গল পাণ্ডে | ১৮২৭ (জন্ম) | বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রির সিপাহী | ব্যারাকপুরে তাঁর বিদ্রোহই ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের স্ফুলিঙ্গ ছিল। |
| বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় | ১৮৯৯ (জন্ম) | বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও চিকিৎসক | ‘বনফুল’ ছদ্মনামে লিখতেন। তিনি হাজারেরও বেশি ছোটগল্প ও কবিতার স্রষ্টা। |
| জয়ন্ত নার্লিকার | ১৯৩৮ (জন্ম) | ভারতীয় জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী | বিখ্যাত ‘হয়েল-নার্লিকার মহাকর্ষ তত্ত্ব’ (Hoyle-Narlikar theory) তৈরি করেন। |
| হুমায়ূন আহমেদ | ২০১২ (মৃত্যু) | বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক ও নির্মাতা | ‘হিমু’ এবং ‘মিসির আলি’র মতো কালজয়ী চরিত্রের স্রষ্টা। |
মঙ্গল পাণ্ডে
মঙ্গল পাণ্ডে ছিলেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ৩৪তম বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রিতে কর্মরত একজন ভারতীয় সিপাহী। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ ব্যারাকপুরে ব্রিটিশ অফিসারদের মুখোমুখি হয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করার মতো নাটকীয় প্রতিরোধের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। ভারতীয় সৈন্যদের মধ্যে সামরিক বৈষম্য, দুর্ব্যবহার, সাংস্কৃতিক হস্তক্ষেপ এবং গরু ও শুকরের চর্বি মাখানো বলে বিবেচিত বিতর্কিত কার্তুজ নিয়ে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মধ্যেই তাঁর এই পদক্ষেপের ঘটনাটি ঘটে।
পাণ্ডেকে গ্রেপ্তার করা হয়, সামরিক আদালতে তাঁর বিচার হয় এবং ১৮৫৭ সালের ৮ই এপ্রিল তাঁর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। যদিও বৃহত্তর অভ্যুত্থানটি কয়েক সপ্তাহ পরে মিরাটে শুরু হয়েছিল, তবুও তাঁর বিদ্রোহকে প্রায়শই ১৮৫৭ সালের ভারতীয় বিদ্রোহের অন্যতম প্রথম স্ফুলিঙ্গ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। পরবর্তীকালে তিনি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী প্রতীক হয়ে ওঠেন এবং প্রায়শই ভারতের অন্যতম প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে সম্মানিত হন।
ঐতিহ্যবাহী চন্দ্র ক্যালেন্ডার থেকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে রূপান্তরের পার্থক্যের কারণে কিছু ঐতিহাসিক রেকর্ড এবং ক্যালেন্ডারে তাঁর সঠিক জন্মতারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে, ১৮২৭ সালের ১৯শে জুলাই তারিখটি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর জন্মবার্ষিকী হিসেবে পালিত হয়।
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়, “বনফুল”
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়, যিনি তাঁর ছদ্মনাম ‘বনফুল’ নামেই বেশি পরিচিত, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম স্বতন্ত্র একটি কণ্ঠস্বর ছিলেন। ১৮৯৯ সালের ১৯শে জুলাই জন্মগ্রহণ করা এই সাহিত্যিক চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি এক অসাধারণ সাহিত্যভাণ্ডার গড়ে তুলেছিলেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁকে বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণী, ব্যক্তিত্ব এবং পটভূমির মানুষের সংস্পর্শে এনেছিল, যা তাঁর গল্পের জন্য সমৃদ্ধ রসদ জুগিয়েছিল।
বনফুল তাঁর উল্লেখযোগ্যভাবে সংক্ষিপ্ত ছোটগল্পের জন্য বিশেষভাবে বিখ্যাত হয়েছিলেন, যেগুলোকে প্রায়শই বাংলার “অণুগল্প” হিসেবে বর্ণনা করা হয়। মাত্র কয়েক লাইন বা অনুচ্ছেদের মধ্যেই তিনি একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে, উত্তেজনা তৈরি করতে, সামাজিক ভণ্ডামি উন্মোচন করতে এবং একটি অপ্রত্যাশিত আবেগপূর্ণ বা দার্শনিক মোড় দিয়ে গল্প শেষ করতে পারতেন। তাঁর লেখা ছিল পরিমিত, তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণশীল, হাস্যরসাত্মক এবং কখনো কখনো তীব্র ব্যঙ্গাত্মক।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি হাজার হাজার কবিতা, প্রায় ৬০টি উপন্যাস এবং প্রায় ৬০০টি ছোটগল্পের পাশাপাশি নাটক, প্রবন্ধ এবং অন্যান্য সাহিত্যকর্ম রচনা করেছেন। সহজ ভাষার মাধ্যমে মানব আচরণের জটিলতাকে তুলে ধরার তাঁর এই ক্ষমতা বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের প্রধান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে তাঁর স্থান নিশ্চিত করেছে।
হুমায়ূন আহমেদ

আধুনিক বাংলাদেশী সাহিত্য এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হুমায়ূন আহমেদ, ২০১২ সালের ১৯শে জুলাই নিউ ইয়র্ক সিটিতে কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তাঁর মৃত্যুতে সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে আসে। পাঠক, অভিনয়শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিক্ষার্থী এবং অনুরাগীরা এমন একজন লেখকের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেন, যিনি কয়েক দশক ধরে তাদের কল্পনাকে রূপ দিয়েছিলেন।
একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়ূন আহমেদ ২০০টিরও বেশি বই রচনা করেছেন। তাঁর সহজ অথচ আবেগগতভাবে শক্তিশালী গল্প বলার ধরণ এমন পাঠকদেরও আকৃষ্ট করেছিল, যাদের হয়তো সাহিত্যের প্রতি তেমন কোনো আগ্রহই ছিল না। তিনি পারিবারিক সম্পর্ক, একাকীত্ব, প্রেম, সামাজিক বৈষম্য, মুক্তিযুদ্ধ এবং দৈনন্দিন জীবনের নীরব অসংগতিগুলো নিয়ে লিখেছেন।
তাঁর সৃষ্ট বেশ কয়েকটি কাল্পনিক চরিত্র সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত হয়েছে। হলুদ পাঞ্জাবি পরা ‘হিমু’ তার অন্তর্জ্ঞাান এবং অপ্রচলিত দর্শনের দ্বারা পরিচালিত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। অন্যদিকে, ‘মিসির আলি’ আপাতদৃষ্টিতে অতিপ্রাকৃত ঘটনাগুলোর তদন্ত করতে যুক্তি এবং মনস্তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করেন। ‘শুভ্র’-এর মতো চরিত্রগুলোরও একনিষ্ঠ অনুরাগী তৈরি হয়েছিল।
হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিলেন এবং ‘আগুনের পরশমণি’-র মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর এক দশকেরও বেশি সময় পর, আজও তাঁর স্থায়ী স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পাঠকেরা নুহাশ পল্লীতে তাঁর কবর জিয়ারত করেন, তাঁর বইগুলো পুনরায় পড়েন, স্মরণসভার আয়োজন করেন এবং তাঁর সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর মতো পোশাক পরেন।
আন্তর্জাতিক দিবস ও ছুটির দিন
বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ও সম্প্রদায়ের কাছে ১৯ জুলাই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে এই দিনে পালিত হওয়া কিছু প্রধান আন্তর্জাতিক ও জাতীয় দিবসের তালিকা দেওয়া হলো:
| দেশ / সংস্থা | ছুটির দিন / দিবস | তাৎপর্য |
| মিয়ানমার | শহীদ দিবস (Martyrs’ Day) | ১৯৪৭ সালে জেনারেল অং সান-এর গুপ্তহত্যার দিনটি স্মরণ করে। |
| নিকারাগুয়া | স্বাধীনতা দিবস (Liberation Day) | ১৯৭৯ সালে সোমোজা একনায়কতন্ত্রের পতনের দিন। |
| বিশ্বব্যাপী | ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট সেফটি প্রফেশনালস ডে | বিমানের কেবিন ক্রুদের জীবন রক্ষাকারী ভূমিকার সম্মানার্থে। |
| যুক্তরাজ্য (ডানমো) | ফ্লিচ ডে (Flitch Day) | দীর্ঘস্থায়ী ও সুখী দাম্পত্য জীবনকে পুরস্কৃত করার এক অদ্ভুত ঐতিহাসিক প্রথা। |
-
শহীদ দিবস (মিয়ানমার): এটি মিয়ানমারের একটি অত্যন্ত ভাবগম্ভীর জাতীয় ছুটির দিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে আধুনিক মিয়ানমারের জনক এবং জাতীয়তাবাদী নেতা জেনারেল অং সান-সহ আরও সাতজন নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের মাত্র কয়েকমাস আগে একটি কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠক চলাকালীন এই মর্মান্তিক গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটেছিল।
-
স্বাধীনতা দিবস (নিকারাগুয়া): একে FSLN রেভোলিউশন ডে-ও বলা হয়। ১৯৭৯ সালের এই দিনে সন্দিনিস্তা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট সফলভাবে নিকারাগুয়ায় সোমোজা পরিবারের নিষ্ঠুর একনায়কতন্ত্রের পতন ঘটায়, যারা কয়েক দশক ধরে দেশটিকে শোষণের শেকলে বেঁধে রেখেছিল।
-
ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট সেফটি প্রফেশনালস ডে: এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা আকাশে কেবল খাবার পরিবেশনকারী নন। তাঁরা হলেন অত্যন্ত উচ্চ-প্রশিক্ষিত ফার্স্ট রেসপন্ডার, যারা আকাশে যেকোনো মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি, জরুরি বিমান থেকে বের হওয়া এবং যেকোনো নিরাপত্তা হুমকি সামলাতে সদা প্রস্তুত থাকেন।
বিশ্ব ইতিহাস

ইতিহাস প্রতিদিন পৃথিবীর কোনো না কোনো প্রান্তে তৈরি হচ্ছে। ১৯ জুলাই তারিখটি বহু রাজবংশের উত্থান-পতন, যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক অর্জন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের বিশাল পরিবর্তনের সাক্ষী।
যুক্তরাষ্ট্র
-
১৮৪৮: সেনেকা ফলস কনভেনশনের সূচনা
নিউইয়র্কের সেনেকা ফলসে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম নারী অধিকার সম্মেলন শুরু হয়। লুক্রেশিয়া মট এবং এলিজাবেথ ক্যাডি স্ট্যানটনের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানটি ছিল আমেরিকার নারী ভোটাধিকার আন্দোলনের এক বিশাল ভিত্তিপ্রস্তর। ৩০০ জন মানুষের উপস্থিতিতে এই সম্মেলনে “ডিক্লারেশন অফ সেন্টিমেন্টস” প্রকাশ করা হয়, যেখানে সাহসের সাথে ঘোষণা করা হয় যে— “সকল নারী ও পুরুষকে সমানভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে।” অংশগ্রহণকারীরা নারীদের প্রতি হওয়া পদ্ধতিগত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের কড়া প্রতিবাদ জানান এবং নারীদের ভোটাধিকার দাবি করেন।
-
১৯৬৯: অ্যাপোলো ১১ মহাকাশযান চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছায়
নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিন এবং মাইকেল কলিন্সকে বহনকারী ঐতিহাসিক মহাকাশযান ‘অ্যাপোলো ১১’ সফলভাবে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে। এই অত্যন্ত জটিল কৌশলটিই ঠিক পরের দিন চাঁদের বুকে প্রথম মানব অবতরণের রাস্তা পরিষ্কার করে দিয়েছিল। নাসার মিশন কন্ট্রোল রুমে সেসময় চরম উত্তেজনা ও পিনপতন নীরবতা কাজ করছিল, কারণ এই অরবিটাল ইনসার্শন (কক্ষপথে প্রবেশ) ছিল পুরো মিশনের সবচেয়ে বিপজ্জনক ধাপগুলোর একটি।
যুক্তরাজ্য
-
১৫৪৫: মেরি রোজ জাহাজের সলিল সমাধি
ফরাসি নৌবহরের বিরুদ্ধে ব্যাটল অব দ্য সোলেন্ট (Battle of the Solent) চলাকালীন রাজা অষ্টম হেনরির প্রিয় যুদ্ধজাহাজ ‘মেরি রোজ’ ডুবে যায়। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এটি শত্রুর গোলার আঘাতে ধ্বংস হয়নি। হঠাৎ বাতাসের এক বিশাল ঝাপটায় জাহাজটি একদিকে মারাত্মকভাবে হেলে পড়ে এবং খোলা গানপোর্ট (কামান রাখার ছিদ্র) দিয়ে হুড়মুড় করে পানি ঢুকে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে জাহাজটি ডুবে যায়। এতে ৪০০ জনেরও বেশি ক্রু প্রাণ হারান। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্বের এক বিশাল অভিযানের মাধ্যমে জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
-
১৫৫৩: রানী প্রথম মেরির সিংহাসন আরোহণ
মাত্র নয় দিন শাসন করা লেডি জেন গ্রেকে সরিয়ে মেরি টিউডর আনুষ্ঠানিকভাবে ইংল্যান্ডের রানী হিসেবে সিংহাসনে বসেন। মেরি প্রথম ছিলেন ইংল্যান্ডের প্রথম নারী শাসক (Queen Regnant)। পরবর্তীতে ইতিহাসে তিনি “ব্লাডি মেরি” বা রক্তপিপাসু মেরি নামে কুখ্যাতি পান। কারণ তাঁর শাসনামল ছিল ইংলিশ রিফর্মেশনকে বাতিল করে জোরপূর্বক পুনরায় ক্যাথলিক ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার এক নিষ্ঠুর অধ্যায়, যেখানে শত শত প্রোটেস্ট্যান্টকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
ইউরোপ
-
১৮৭০: ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ান যুদ্ধের সূচনা
সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়নের নেতৃত্বে ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে প্রুশিয়ার (জার্মানি) বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। নয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জার্মানি এক বিশাল ও চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে। এই যুদ্ধের ফলাফল ছিল ইউরোপের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; এর প্রত্যক্ষ প্রভাবেই জার্মানি একত্রিত হয়, ফরাসি দ্বিতীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং ইউরোপের ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি পাল্টে যায়।
-
১৯০০: প্যারিস মেট্রোর যাত্রা শুরু
বিখ্যাত ১৯০০ বিশ্বমেলা (World’s Fair) চলাকালীন সাধারণ মানুষের জন্য প্যারিস মেট্রোর একেবারে প্রথম লাইনটি উন্মুক্ত করা হয়। আজও এটি বিশ্বের সবচেয়ে ঘন এবং আইকনিক আন্ডারগ্রাউন্ড পাবলিক ট্রানজিট সিস্টেমগুলোর একটি, যা প্রতিদিন লাখ লাখ যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
-
১৯০৩: প্রথম ট্যুর ডি ফ্রান্স-এর সমাপ্তি
ফরাসি সাইক্লিস্ট মরিস গারিন ইতিহাসের সর্বপ্রথম ‘ট্যুর ডি ফ্রান্স’ (Tour de France) জয় করেন। অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এই রেসটি দীর্ঘ ২,৪২৮ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ছিল। এই বিশাল আয়োজনের মাধ্যমেই সাইক্লিং জগতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইভেন্টটি স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
রাশিয়া
-
১৯৮০: মস্কো গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক বয়কট
মস্কোতে ১৯৮০ সালের অলিম্পিক গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়, তবে এই ঐতিহাসিক ইভেন্টটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত তার ‘অনুপস্থিতি’র জন্য। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তানে আগ্রাসনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে প্রায় ৬০টি দেশ এই অলিম্পিক গেমস বয়কট করে। অলিম্পিকের ইতিহাসে এটিই আজ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বয়কটের ঘটনা।
বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত
-
২০০৩: এইডস-কে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আনুষ্ঠানিকভাবে এইচআইভি/এইডস-কে একটি বৈশ্বিক মহামারী বা প্যানডেমিক হিসেবে ঘোষণা করে। এই হৃদয়বিদারক ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নীতিতে একটি বিশাল পরিবর্তন আনে। এটি সারা বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোকে একত্রিত হতে বাধ্য করে এবং আফ্রিকা-সহ বিশ্বের অন্যান্য স্থানে এইডস গবেষণা, প্রতিরোধ এবং অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসার জন্য তহবিল উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
বিখ্যাত জন্ম ও মৃত্যু (আন্তর্জাতিক)
১৯ জুলাই তারিখে জন্ম নিয়েছেন দূরদর্শী সব উদ্ভাবক, কিংবদন্তি শিল্পী এবং পপ সংস্কৃতির আইকনরা। আবার এই দিনেই আমরা হারিয়েছি ইতিহাসের বেশ কয়েকজন কালজয়ী ব্যক্তিত্বকে।
বিখ্যাত জন্ম
| নাম | বছর | জাতীয়তা | পেশা / খ্যাতি |
| স্যামুয়েল কোল্ট | ১৮১৪ | আমেরিকান | শিল্পপতি এবং রিভলবারের উদ্ভাবক। |
| এদগার দেগা | ১৮৩৪ | ফরাসি | ইমপ্রেশনিস্ট ধারার বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর। |
| ব্রায়ান মে | ১৯৪৭ | ব্রিটিশ | বিখ্যাত ব্যান্ড ‘কুইন’-এর লিড গিটারিস্ট এবং জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী। |
| ভিতালি ক্লিচকো | ১৯৭১ | ইউক্রেনীয় | হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন এবং কিয়েভ শহরের মেয়র। |
| বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ | ১৯৭৬ | ব্রিটিশ | প্রশংসিত অভিনেতা (শার্লক, ডক্টর স্ট্রেঞ্জ খ্যাত)। |
-
স্যামুয়েল কোল্ট (জন্ম ১৮১৪): আমেরিকার এই বিখ্যাত শিল্পপতি কোল্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা। রিভলবারের ব্যাপক উৎপাদন ও জনপ্রিয় করার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। এই অস্ত্রটি আমেরিকার সামরিক ইতিহাস এবং পশ্চিমা বিস্তারের গতিপথ উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিয়েছিল।
-
এদগার দেগা (জন্ম ১৮৩৪): ফরাসি চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর দেগা ছিলেন ইমপ্রেশনিস্ট মুভমেন্টের এক অন্যতম প্রধান চরিত্র। ব্যালে ড্যান্সার, রেসের ঘোড়া এবং আধুনিক প্যারিসের নৈশজীবনের অতি সূক্ষ্ম ও জীবন্ত চিত্রায়নের জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
-
ব্রায়ান মে (জন্ম ১৯৪৭): কিংবদন্তি রক ব্যান্ড ‘কুইন’ (Queen)-এর লিড গিটারিস্ট হিসেবেই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত। “We Will Rock You”-এর মতো ক্লাসিক রক অ্যান্থেম লেখার পাশাপাশি তাঁর ঝুলিতে রয়েছে অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে পিএইচডি ডিগ্রি! এছাড়াও তিনি ‘সেভ মি ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং যুক্তরাজ্যে পশু অধিকার রক্ষায় ব্যাপকভাবে কাজ করে চলেছেন।
-
ভিতালি ক্লিচকো (জন্ম ১৯৭১): ইউক্রেনের এই প্রখ্যাত হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন তাঁর অসাধারণ নকআউট রেশিওর জন্য বিখ্যাত। বক্সিং রিং থেকে অবসরের পর ক্লিচকো রাজনীতিতে নামেন এবং কিয়েভের মেয়র নির্বাচিত হন। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার আগ্রাসনের সময় অত্যন্ত সংকটপূর্ণ মুহূর্তে তিনি শহরটির নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।
-
বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ (জন্ম ১৯৭৬): বহুমুখী ও অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত এই এমি-বিজয়ী ব্রিটিশ অভিনেতা। বিবিসির ‘শার্লক’ (Sherlock) সিরিজে বুদ্ধিমান গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্ববাসীর নজর কাড়েন এবং পরবর্তীতে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ হিসেবে নিজেকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যান।
বিখ্যাত মৃত্যু
| নাম | বছর | জাতীয়তা | অবদান / পরিচিতি |
| পেত্রার্ক | ১৩৭৪ | ইতালীয় | প্রারম্ভিক রেনেসাঁর কবি এবং হিউম্যানিজম বা মানবতাবাদের প্রতিষ্ঠাতা। |
| ফ্র্যাঙ্ক ম্যাককোর্ট | ২০০৯ | আমেরিকান-আইরিশ | পুলিৎজার বিজয়ী লেখক, ‘অ্যাঞ্জেলা’স অ্যাশেজ’-এর রচয়িতা। |
| জেমস গার্নার | ২০১৪ | আমেরিকান | অত্যন্ত জনপ্রিয় টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র অভিনেতা। |
| গ্যারি মার্শাল | ২০১৬ | আমেরিকান | কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও টেলিভিশন ক্রিয়েটর। |
-
পেত্রার্ক (মৃত্যু ১৩৭৪): প্রারম্ভিক ইতালীয় রেনেসাঁর একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী পণ্ডিত ও কবি। তাঁকে প্রায়শই হিউম্যানিজম বা মানবতাবাদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সিসেরোর চিঠিগুলো তাঁর হাতে পুনরাবিষ্কার হওয়ার মাধ্যমেই ১৪শ শতকের রেনেসাঁর সূচনা হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
-
ফ্র্যাঙ্ক ম্যাককোর্ট (মৃত্যু ২০০৯): আইরিশ-আমেরিকান এই লেখক তাঁর বিখ্যাত স্মৃতিকথা অ্যাঞ্জেলা’স অ্যাশেজ (Angela’s Ashes) দিয়ে বিশ্ববাসীর হৃদয় জয় করেছিলেন। আয়ারল্যান্ডের লিমেরিকে কাটানো তাঁর চরম দারিদ্র্যপীড়িত শৈশবের নিখুঁত বর্ণনা ছিল বইটিতে। এটি তাঁকে পুলিৎজার পুরস্কার এনে দেয় এবং টানা ১১৭ সপ্তাহ নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্টসেলার তালিকায় জায়গা ধরে রাখে।
-
জেমস গার্নার (মৃত্যু ২০১৪): সাবলীল আকর্ষণ ও রুক্ষ রসিকতার জন্য উদযাপিত এক আইকনিক আমেরিকান অভিনেতা। ম্যাভেরিক এবং দ্য রকফোর্ড ফাইলস-এর মতো ক্লাসিক টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করে তিনি সবার ঘরে ঘরে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছিলেন। ৮৬ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
-
গ্যারি মার্শাল (মৃত্যু ২০১৬): হলিউডের এক কিংবদন্তি পরিচালক, প্রযোজক ও লেখক। তিনি হ্যাপি ডেজ এবং মর্ক অ্যান্ড মিন্ডি-এর মতো সুপারহিট সিটকম তৈরি করেছেন এবং প্রিটি ওম্যান ও দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ-এর মতো দর্শকপ্রিয় সব রোমান্টিক কমেডি সিনেমা পরিচালনা করেছেন।
আপনি কি জানেন?
পরবর্তী কোনো আড্ডায় বন্ধুদের তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো কিছু চমৎকার ও স্বল্পপরিচিত তথ্য খুঁজছেন? ১৯ জুলাইয়ের সাথে জড়িয়ে থাকা এমন কিছু মজার ও অদ্ভুত ঘটনা নিচে দেওয়া হলো:
-
কুখ্যাত লিজি বর্ডেনের জন্মদিন: ১৮৯২ সালে ম্যাসাচুসেটসে কুঠার দিয়ে নিজের বাবা ও সৎ মাকে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন, অত্যন্ত আলোড়িত চরিত্র লিজি বর্ডেন জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৬০ সালের ১৯ জুলাই। যদিও শেষ পর্যন্ত বিচারে তিনি খালাস পেয়েছিলেন, কিন্তু পশ্চিমা দুনিয়ায় একটি ভৌতিক জাম্প-রোপ রাইমের (ছড়া) মাধ্যমে আজও তাঁর নাম মানুষের মুখে মুখে ঘোরে।
-
স্পেশাল অলিম্পিকের শুরু: ১৯৬৮ সালের এই দিনে শিকাগোর সোলজার ফিল্ডে প্রথমবারের মতো স্পেশাল অলিম্পিক গেমসের পর্দা ওঠে। ইউনিস কেনেডি শ্রিভারের প্রতিষ্ঠিত এই উদ্বোধনী ইভেন্টে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী প্রায় ১,০০০ অ্যাথলিট ট্র্যাক ও সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন।
-
প্রথম জিপিএস সিগন্যাল প্রেরণ: ১৯৭৭ সালের ১৯ জুলাই নেভিগেশন টেকনোলজি স্যাটেলাইট ২ থেকে বিশ্বের একেবারে প্রথম গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (GPS) সিগন্যাল সম্প্রচার করা হয়েছিল। আইওয়ার সিডার র্যাপিডস থেকে নিঃশব্দে এই সিগন্যাল রিসিভ করা হয়েছিল, যা মূলত এমন এক প্রযুক্তির সূচনা করেছিল, যা আজ আমাদের পুরো আধুনিক বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে।
-
বেকন জেতার অদ্ভুত প্রথা: ইংল্যান্ডের প্রাচীন শহর গ্রেট ডানমোতে ১৯ জুলাই ঐতিহাসিকভাবে “ফ্লিচ ডে” হিসেবে পরিচিত। এই অদ্ভুত প্রথায় একটি বিবাহিত দম্পতিকে একটি “ফ্লিচ” (শুয়োরের মাংসের একটি বড় টুকরো বা বেকন) দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়, যদি তারা একটি ছদ্ম-জুরির সামনে সফলভাবে প্রমাণ করতে পারে যে বিয়ের পর গত এক বছর ও এক দিনে তারা নিজেদের বিয়ে নিয়ে বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত হয়নি!
শেষ কথা
মঙ্গল পাণ্ডের সেই বারুদ মাখা বিদ্রোহ থেকে শুরু করে অ্যাপোলো ১১-এর মহাশূন্যে নীরবে ভেসে চলা— ১৯ জুলাই বারবার প্রমাণ করেছে যে এটি কেবল একটি সাধারণ দিন নয়, বরং এটি বড় কোনো সূচনার এবং অনেক কিছুর শেষ হওয়ার দিন। এটি এমন এক দিন যা ভারতীয় উপমহাদেশের মানচিত্র বদলে দিয়েছে, নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলনকে তরান্বিত করেছে এবং পৃথিবীর বুকে নিয়ে এসেছে সর্বকালের সেরা কিছু শৈল্পিক মনকে।
ইতিহাস হলো এক অবিচ্ছিন্ন সুতো, যা আমাদের অতীতকে বর্তমানের সাথে জুড়ে রাখে। এই দিনে ঠিক কী কী ঘটেছিল তা জানার মাধ্যমে আমরা আজকের এই আধুনিক বিশ্বকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারি। বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচের সাথে আজ যদি আপনারও জন্মদিন হয়ে থাকে, অথবা আপনি যদি কেবলই মানবজাতির এই দীর্ঘ ঐতিহাসিক যাত্রা নিয়ে একটু ভাবতে বসেন— বৈশ্বিক ক্যালেন্ডারে ১৯ জুলাই দিনটি সবসময়ই এক বিশেষ মর্যাদার জায়গায় থাকবে।

