১১ সেপ্টেম্বর: ইতিহাসের এই দিনে – বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা, জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী

সর্বাধিক আলোচিত

ইতিহাস হলো আনন্দ, ট্র্যাজেডি, বিপ্লব এবং উদ্ঘাটনের সুতোয় বোনা এক বিশাল ক্যানভাস। ক্যালেন্ডারের পাতায় খুব কম দিনই ১১ সেপ্টেম্বরের মতো এত গভীর আবেগ বা ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। আধুনিক বিশ্ব এই দিনটিকে ২০০১ সালের মর্মান্তিক হামলার সাথে মিলিয়ে দেখলেও, ১১ সেপ্টেম্বরের শিকড় ইতিহাসের অনেক গভীরে এবং মহাদেশ জুড়ে বিস্তৃত। শিকাগোতে যুগান্তকারী আধ্যাত্মিক ভাষণ থেকে শুরু করে দক্ষিণ আমেরিকায় রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক অভ্যুত্থান, ভারতীয় উপমহাদেশে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বা স্কটল্যান্ডের পাহাড়ে প্রাচীন যুদ্ধ—এই দিনটি বারবার মানবভাগ্যকে নতুন রূপ দিয়েছে।

বাঙ্গালি বলয় ও ভারতীয় উপমহাদেশ

ভারতীয় উপমহাদেশ, বিশেষ করে বাংলা অঞ্চল, এক অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জটিল ইতিহাসের অধিকারী যা ঔপনিবেশিক প্রতিরোধ, সাংস্কৃতিক নবজাগরণ এবং অগণিত আত্মত্যাগে পরিপূর্ণ। ১১ সেপ্টেম্বর এই অঞ্চলে আধ্যাত্মিক অর্জন, রাজনৈতিক আন্দোলন এবং আধুনিক যুগের এক গভীর শোকের প্রতীক হয়ে আছে।

আধ্যাত্মিক বিজয় এবং আধুনিক ট্র্যাজেডি

  • ১৮৯৩: স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক শিকাগো ভাষণ: ১১ সেপ্টেম্বর ১৮৯৩, স্বামী বিবেকানন্দ নামে এক তুলনামূলকভাবে অপরিচিত ভারতীয় হিন্দু সন্ন্যাসী শিকাগোর বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় উপস্থিত হন। “আমেরিকার ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ” এই সহজ কয়েকটি শব্দ দিয়ে তিনি তার ভাষণ শুরু করেছিলেন। সাত হাজার মানুষের ভিড়ে টানা দুই মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে সম্মান জানানো হয়। এটি ছিল পূর্ব ও পশ্চিমের সম্পর্কের এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। তিনি পশ্চিমা বিশ্বের কাছে হিন্দু ধর্ম, যোগ এবং বেদান্তের দার্শনিক ভিত্তি তুলে ধরেন। তিনি ধর্মীয় ধর্মান্ধতা, গোঁড়ামি এবং সাম্প্রদায়িকতার তীব্র নিন্দা জানান এবং সার্বজনীন সহনশীলতার আহ্বান জানান।

  • ১৯০৬: মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু: দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালীন মহাত্মা গান্ধী ১৯০৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জোহানেসবার্গের এম্পায়ার থিয়েটারে হাজার হাজার ভারতীয়দের নিয়ে একটি বিশাল সভার আয়োজন করেন। সেখানে তারা ট্রান্সভাল সরকারের প্রস্তাবিত এশিয়াটিক রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট (যাকে কুখ্যাত “ব্ল্যাক অ্যাক্ট” বলা হতো) শান্তিপূর্ণভাবে অমান্য করার শপথ নেন। এই দিনটিই ছিল সত্যাগ্রহ—অহিংস প্রতিরোধের দর্শন ও অনুশীলনের আনুষ্ঠানিক জন্ম। এই আন্দোলনই পরবর্তীতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকে নাড়িয়ে দেয়।

  • ২০০১: ৯/১১ হামলায় বাংলাদেশী-আমেরিকানদের হারানো: ১১ সেপ্টেম্বরের ট্র্যাজেডি ছিল বৈশ্বিক। বাংলাদেশসহ ৭০টিরও বেশি দেশের নাগরিকরা প্রাণ হারান এই দিনে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিমান আঘাত হানার সময় অন্তত ছয়জন বাংলাদেশী-আমেরিকান নিহত হন। এদের মধ্যে ছিলেন নুরুল হক মিয়া, যিনি নর্থ টাওয়ারের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন, কিন্তু একই ভবনে কর্মরত তার স্ত্রী ইয়াসমিনকে খুঁজতে তিনি আবার মৃত্যুর মুখে ফিরে যান। আরেকজন ছিলেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী, পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই যুবক তার গর্ভবতী স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য নর্থ টাওয়ারের চূড়ায় ‘উইন্ডোজ অন দ্য ওয়ার্ল্ড’ রেস্টুরেন্টে ওয়েটার হিসেবে কাজ করছিলেন। তাদের এই গল্পগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ৯/১১ এর শিকার ব্যক্তিরা ছিলেন আমেরিকান স্বপ্নের খোঁজে আসা সাধারণ ও পরিশ্রমী অভিবাসীদের অংশ।

বিখ্যাত জন্ম ও মৃত্যু (উপমহাদেশ)

নাম বছর ধরন পেশা / অবদান
বিনোবা ভাবে ১৮৯৫ জন্ম অহিংসা ও মানবাধিকারের প্রবক্তা। ‘ভূদান’ আন্দোলনের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। তাকে মহাত্মা গান্ধীর আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রণব বর্ধন ১৯৩৯ জন্ম কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদের কাজ বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য এবং উন্নয়নের রাজনৈতিক অর্থনীতি সম্পর্কে আধুনিক ধারণাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
সুব্রহ্মণ্য ভারতী ১৯২১ মৃত্যু আধুনিক তামিল কবিতার পথিকৃৎ এবং স্বাধীনতা কর্মী। তিনি জাতপাতের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং নারী মুক্তির পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন।
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ মৃত্যু পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম গভর্নর-জেনারেল। দেশভাগের মাত্র এক বছর পর তার মৃত্যু সদ্য গঠিত রাষ্ট্রটিকে এক বিশাল রাজনৈতিক শূন্যতার দিকে ঠেলে দেয়।
মহাদেবী বর্মা ১৯৮৭ মৃত্যু বিখ্যাত হিন্দি কবি, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং শিক্ষাবিদ। তিনি হিন্দি সাহিত্যের ছায়াবাদ আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ এবং নারী অধিকারের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।
আন্তর্জাতিক দিবস ও পালনীয়

বিশ্বজুড়ে ১১ সেপ্টেম্বর গভীর স্মরণ, সাংস্কৃতিক গর্ব এবং নতুন সূচনার উৎসব হিসেবে পালিত হয়।

  • প্যাট্রিয়ট ডে (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র): ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২,৯৭৭ জন ভুক্তভোগীকে সম্মান জানাতে এই দিনটি জাতীয় সেবা ও স্মরণের দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বব্যাপী ঠিক যে সময়ে বিমানগুলো আঘাত হেনেছিল, সেই সময়ে নীরবতা পালন করা হয় এবং পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

  • কাতালোনিয়ার জাতীয় দিবস / ডায়াদা ন্যাসিওনাল দে কাতালুনিয়া (স্পেন): ১৭১৪ সালে স্প্যানিশ উত্তরাধিকার যুদ্ধে বার্সেলোনার পতনকে এই দিনটিতে স্মরণ করা হয়। সামরিক পরাজয় সত্ত্বেও এটি কাতালান সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং আধুনিক স্বাধীনতা আন্দোলনের এক বিশাল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

  • এনকুটাটাশ / ইথিওপিয়ান নববর্ষ (ইথিওপিয়া): সাধারণত ১১ সেপ্টেম্বর (অথবা লিপ ইয়ারে ১২ সেপ্টেম্বর) পালিত এই উৎসবমুখর দিনটি দীর্ঘ বর্ষাকালের সমাপ্তি এবং ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডারে নতুন বছরের সূচনা চিহ্নিত করে। এর নামের অর্থ “রত্নের উপহার,” যা রাণী শেবার রাজা সলোমনের সাথে দেখা করে ফেরার কিংবদন্তির সাথে যুক্ত।

  • শিক্ষক দিবস (লাতিন আমেরিকা): লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে এই দিনটি সাড়ম্বরে পালিত হয়। এটি মূলত আর্জেন্টিনার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এবং দক্ষিণ আমেরিকায় সরকারি শিক্ষার একনিষ্ঠ পথপ্রদর্শক ডোমিঙ্গো ফাউস্তিনো সারমিয়েন্তোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উদযাপিত হয়।

বিশ্ব ইতিহাস

ইতিহাস কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর একটি চেইন রিঅ্যাকশন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: যে দিন পৃথিবী থমকে দাঁড়িয়েছিল

  • ২০০১ – ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা: আধুনিক আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার দিন। আল-কায়েদা জঙ্গিরা চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে এবং তৃতীয়টি ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৯৩ পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এই হামলায় ২,৯৭৭ জন নিহত হন এবং এটি বিশ্বব্যাপী “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” শুরু করে।

  • ১৯৪১ – পেন্টাগনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: এক অদ্ভুত ও গা শিউরে ওঠা ঐতিহাসিক কাকতালীয় ঘটনা হলো, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগনের নির্মাণকাজ ১৯৪১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছিল। ঠিক ষাট বছর পর এই ভবনেরই পশ্চিম দিকে আছড়ে পড়ে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৭৭।

কানাডা: আকাশে মানবিকতা

  • ২০০১ – অপারেশন ইয়েলো রিবন: ৯/১১ হামলার পর মার্কিন আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে কানাডা এক নজিরবিহীন জরুরি এভিয়েশন প্রটোকল চালু করে। ২৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কানাডার বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়। নিউফাউন্ডল্যান্ডের গ্যান্ডার নামক ছোট্ট শহরটি (যার নিজস্ব জনসংখ্যা মাত্র ১০,০০০) হঠাৎ করেই প্রায় ৭,০০০ আটকা পড়া যাত্রীকে আশ্রয় দেয়।

রাশিয়া (এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন): সামরিক পরাশক্তি

  • ২০০৭ – “ফাদার অব অল বোম্বস” পরীক্ষা: রাশিয়ান সামরিক বাহিনী সফলভাবে এভিয়েশন থার্মোবারিক বম্ব অব ইনক্রিসড পাওয়ার (ATBIP) পরীক্ষা করে। ৪৪ টন টিএনটি-র সমতুল্য ধ্বংসক্ষমতা সম্পন্ন এই বোমাটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত (পারমাণবিক নয়) অস্ত্রে পরিণত হয়।

চীন ও ভারত: সীমান্ত সংঘাত

  • ১৯৬৭ – নাথু লা ঘটনা: হিমালয়ের রাজ্য সিকিমের (পরবর্তীতে ভারতের সাথে যুক্ত) নাথু লা-তে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ভারতীয় ঘাঁটিতে আক্রমণ করলে চীন ও ভারতের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাত শুরু হয়, যেখানে উভয় পক্ষের শত শত সৈন্য নিহত হয়।

যুক্তরাজ্য: অজেয় মিথের অবসান

  • ১২৯৭ – স্টার্লিং ব্রিজের যুদ্ধ: স্কটিশ স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধে কিংবদন্তি উইলিয়াম ওয়ালেস এবং অ্যান্ড্রু মরয়ের নেতৃত্বে স্কটিশ বাহিনী ইংরেজদের বিশাল ও সুসজ্জিত বাহিনীকে স্টার্লিং ব্রিজে অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে পরাজিত করে।

  • ১৯৯৭ – স্কটিশ ডিভোলিউশন গণভোট: স্টার্লিং ব্রিজের ঠিক ৭০০ বছর পর, স্কটল্যান্ডের ভোটাররা একটি নিজস্ব স্কটিশ সংসদ গঠনের পক্ষে বিশাল ভোট দেয়, যা যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে।

ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়া

  • ১৭০৯ – ম্যালপ্লাকেটের যুদ্ধ (ইউরোপ): স্প্যানিশ উত্তরাধিকার যুদ্ধের অন্যতম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। ব্রিটিশ, ডাচ ও অস্ট্রিয়ান জোট ফরাসিদের সাথে সংঘর্ষে জড়ায়।

  • ১৯১৪ – বিটা পাকার যুদ্ধ (অস্ট্রেলিয়া): প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, অস্ট্রেলিয়ান নৌ ও সামরিক বাহিনী জার্মান নিউ গিনি আক্রমণ করে প্রথম বড় জয় নিশ্চিত করে।

দক্ষিণ আমেরিকা: চিলির ক্যু

  • ১৯৭৩ – চিলির সামরিক অভ্যুত্থান: দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর একটি। চিলির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রপতি সালভাদর আয়েন্দের সরকারকে সিআইএ-সমর্থিত সশস্ত্র বাহিনী সহিংসভাবে ক্ষমতাচ্যুত করে। জেনারেল অগাস্টো পিনোশের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতি প্রাসাদে বোমাবর্ষণ করা হয়। আয়েন্দের মৃত্যুর পর সেখানে ১৭ বছরের এক নিষ্ঠুর সামরিক স্বৈরশাসন শুরু হয়, যেখানে হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মীকে গুম বা হত্যা করা হয়।

বিশ্বজুড়ে স্মরণীয় জন্ম ও মৃত্যু

ইতিহাস শেষ পর্যন্ত মানুষেরই গল্প। ১১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণকারী বা মৃত্যুবরণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সাহিত্য, রাজনীতি এবং সংস্কৃতিতে এক অমোচনীয় ছাপ রেখে গেছেন।

বিখ্যাত ব্যক্তিদের জন্ম

নাম বছর জাতীয়তা কেন বিখ্যাত
ডি. এইচ. লরেন্স ১৮৮৫ ইংরেজ বিংশ শতাব্দীর সাহিত্যের এক বিশাল নাম। তার “সন্স অ্যান্ড লাভারস” এবং “লেডি চ্যাটার্লিজ লাভার” উপন্যাসগুলো তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং মানুষের আদিম প্রবৃত্তিকে গভীরভাবে চ্যালেঞ্জ করেছিল।
ও. হেনরি ১৮৬২ আমেরিকান জনপ্রিয় ছোটগল্প লেখক যিনি গল্পের শেষে চমকপ্রদ মোড় (টুইস্ট এন্ডিং) দেওয়ার জন্য বিখ্যাত। তার সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ “দ্য গিফট অফ দ্য ম্যাজাই” আজও পাঠকপ্রিয়।
বাশার আল-আসাদ ১৯৬৫ সিরিয়ান সিরিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপতি। ২০১১ সালের আরব বসন্তের বিক্ষোভে তার কঠোর দমননীতি সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ উসকে দেয়, যা একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।
ফার্ডিনান্ড মার্কোস ১৯১৭ ফিলিপিনো ফিলিপিন্সের ১০ম রাষ্ট্রপতি যিনি ১৯৭২ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সামরিক আইনের অধীনে স্বৈরশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন। তার শাসনকাল ছিল চরম দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে পরিপূর্ণ।

বিখ্যাত ব্যক্তিদের মৃত্যু

নাম বছর জাতীয়তা কারণ / অবদান
সালভাদর আয়েন্দে ১৯৭৩ চিলিয়ান লাতিন আমেরিকার উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রথম মার্কসবাদী রাষ্ট্রপতি। সিআইএ সমর্থিত সামরিক ক্যুর সময় তিনি আত্মহত্যা করেন (ফিডেল কাস্ত্রোর দেওয়া অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়ে)। তিনি বিশ্বব্যাপী বামপন্থীদের কাছে এক শক্তিশালী শহীদ।
নিকিতা ক্রুশ্চেভ ১৯৭১ সোভিয়েত সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম সম্পাদক। ১৯৬২ সালে কিউবান মিসাইল ক্রাইসিসের সময় পারমাণবিক যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বিখ্যাত। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়।
পিটার তোশ ১৯৮৭ জ্যামাইকান বব মার্লের সাথে কিংবদন্তি রেগে ব্যান্ড ‘দ্য ওয়েলার্স’ এর অন্যতম মূল সদস্য। কিংস্টনে নিজ বাড়িতে এক সশস্ত্র ডাকাতির সময় তিনি মর্মান্তিকভাবে খুন হন।
জন রিটার ২০০৩ আমেরিকান ‘থ্রি’স কোম্পানি’ সিটকমের জন্য বিখ্যাত এই জনপ্রিয় কমেডি অভিনেতা টিভি শোয়ের রিহার্সালের সময় হঠাৎ মহাধমনী ছিঁড়ে গিয়ে মারা যান।
  • ম্যানহাটনের আবিষ্কার: ১৬০৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, ইংরেজ অভিযাত্রী হেনরি হাডসন ‘হাফ মুন’ (Halve Maen) জাহাজে করে নিউইয়র্ক উপসাগরে প্রবেশ করেন এবং ম্যানহাটন দ্বীপ আবিষ্কার করেন। ৩৯২ বছর পর একই তারিখে এই শহরটিই তার সবচেয়ে অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি হয়েছিল।

  • হুভার ড্যামে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু: ১৯৩৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কলোরাডো নদীর ওপর নির্মিত ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময় হুভার ড্যাম তার প্রথম জলবিদ্যুৎ জেনারেটর চালু করে। এটি লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথমবার বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আমেরিকার শুষ্ক দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবিশ্বাস্য নগর সম্প্রসারণের পথ প্রশস্ত করে।

  • মুকুট চুরি: ১৭৯২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ফরাসি বিপ্লবের চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার মধ্যে ছয়জন লোক ফরাসি রাজমুকুটের রত্নভান্ডারে প্রবেশ করে এক বিশাল চুরি করে। চুরি যাওয়া সম্পদের মধ্যে ছিল কিংবদন্তি ফ্রেঞ্চ ব্লু হীরা। কয়েক দশক পর এটি কেটে ছোট করে লন্ডনে কুখ্যাত এবং অভিশপ্ত “হোপ ডায়মন্ড” হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

শেষ কথা

১১ সেপ্টেম্বর দিনটি এক অদ্ভুত বৈপরীত্যে ঘেরা। এই দিনটি যেমন দক্ষিণ আফ্রিকায় অহিংস প্রতিরোধের জন্ম দেখেছিল, তেমনি আমেরিকার আকাশে চরম ভয়াবহতাও প্রত্যক্ষ করেছে। ও. হেনরির মতো কালজয়ী সাহিত্যিকের জন্ম যেমন এই দিনে, তেমনি চিলিতে গণতন্ত্রের নিষ্ঠুর পতনও ঘটেছিল এই একই তারিখে।

ইতিহাসের পাতায় “আজকের এই দিন” নিয়ে ফিরে তাকালে আমরা শুধু কিছু তারিখ বা নাম মুখস্থ করি না; বরং মানবজাতির বিজয়, সহনশীলতা এবং বেদনার এক নিরবচ্ছিন্ন পথচলা দেখতে পাই। নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অভিবাসীদের আত্মত্যাগ থেকে শুরু করে স্কটল্যান্ডের প্রাচীন যুদ্ধ—১১ সেপ্টেম্বর প্রমাণ করে যে ইতিহাস কখনোই স্থির নয়, আর অতীতকে ভালোভাবে বুঝেই কেবল আমরা ভবিষ্যতের পথে সঠিকভাবে পা বাড়াতে পারি।

সর্বশেষ