থিন কনটেন্ট কী: শব্দসংখ্যা কম হলেই কি সমস্যা?

সর্বাধিক আলোচিত

একটি আর্টিকেলে ৪০০ শব্দ আছে বলেই সেটিকে ১,৫০০ শব্দে টেনে নেওয়ার দরকার নেই—যদি ৪০০ শব্দেই পাঠকের প্রশ্নের পূর্ণ, নির্ভুল ও ব্যবহারযোগ্য উত্তর দেওয়া যায়। থিন কনটেন্ট এসইও নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণার বড় অংশ তৈরি হয়েছে শব্দসংখ্যাকে কনটেন্টের মানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কারণে।

গুগল কোনো নির্দিষ্ট পছন্দের শব্দসংখ্যা অনুসরণ করতে বলে না। তাদের মানুষকেন্দ্রিক কনটেন্ট নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কনটেন্টটি মানুষের কাজে লাগছে কি না, প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছে কি না এবং অন্য উৎসের তথ্য শুধু নতুন ভাষায় সাজানোর বদলে বাস্তব মূল্য যোগ করছে কি না—এসব বিষয়ে।

তাই ৩০০ শব্দের একটি পেজ কার্যকর হতে পারে, আবার ৩,০০০ শব্দের আর্টিকেলও কম-মূল্যের হতে পারে। মূল প্রশ্ন হলো: পাঠকের প্রয়োজন কতটা পূরণ হচ্ছে?

থিন কনটেন্ট আসলে কী?

এসইওতে থিন কনটেন্ট বলতে সাধারণত এমন কনটেন্ট বোঝানো হয়, যেখানে ব্যবহারকারীর জন্য যথেষ্ট মৌলিক বা কার্যকর মূল্য নেই।

গুগল সার্চ কনসোলের ম্যানুয়াল অ্যাকশনস প্রতিবেদনে এখনও “সামান্য বা কোনো বাড়তি মূল্য নেই—এমন থিন কনটেন্ট” নামে একটি শ্রেণি রয়েছে। সেখানে কম-মূল্যের বা অগভীর পেজের উদাহরণ হিসেবে থিন অ্যাফিলিয়েট পেজ, অন্য উৎস থেকে নেওয়া কম-মূল্যের কনটেন্ট এবং ডোরওয়ে পেজ উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ “থিন” শব্দটি শুধু দৈর্ঘ্য বোঝায় না।

একটি পেজে অনেক শব্দ থাকতে পারে। কিন্তু সেখানে যদি একই তথ্য ঘুরিয়ে বলা হয়, অন্য ওয়েবসাইটের তথ্য সামান্য বদলে প্রকাশ করা হয় বা ব্যবহারকারীর আসল প্রশ্নের উত্তরই না থাকে, তাহলে সেটি কম-মূল্যের কনটেন্ট হতে পারে।

অন্যদিকে “এক কিলোমিটারে কত মিটার?” ধরনের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিতে কয়েক হাজার শব্দ প্রয়োজন নেই। অপ্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা যোগ করলে মূল উত্তর খুঁজে পেতেই বরং বেশি সময় লাগে।

গুগলের মানুষকেন্দ্রিক কনটেন্ট নির্দেশনাতেও পাঠক লেখা শেষ করার পর নিজের প্রয়োজন মেটানোর মতো যথেষ্ট তথ্য পেলেন কি না এবং সন্তোষজনক অভিজ্ঞতা পেলেন কি না—এসব প্রশ্ন দিয়ে কনটেন্ট মূল্যায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত কনটেন্ট আর থিন কনটেন্ট এক নয়

দুটি বিষয় কাছাকাছি মনে হলেও এক নয়।

কনটেন্টের অবস্থা সম্পাদকীয় মূল্যায়ন
৩০০ শব্দে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর সংক্ষিপ্ত, কিন্তু কার্যকর হতে পারে
১,৮০০ শব্দে একই কয়েকটি বিষয় বারবার বলা দীর্ঘ হলেও কম-মূল্যের হতে পারে
প্রস্তুতকারকের পণ্যের বিবরণ হুবহু ব্যবহার মৌলিক মূল্য কম
কয়েক লাইনের বিভাগীয় পেজ, যেখানে কার্যকর প্রাসঙ্গিক তথ্য নেই উন্নতির প্রয়োজন হতে পারে
সংক্ষিপ্ত ক্যালকুলেটর বা রূপান্তর পেজ, যা সঙ্গে সঙ্গে কাজটি করে কম শব্দ হলেও উপকারী হতে পারে
এলাকার নাম বদলে প্রায় একই লেখা দিয়ে বহু পেজ তৈরি আলাদা মূল্য না থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে

শব্দসংখ্যা একটি মাপ, কিন্তু কনটেন্টের মানের নির্ভরযোগ্য সূচক নয়। একটি পেজ ৭০০ শব্দে কেন শেষ হয়েছে, সেটিই দেখার বিষয়। প্রয়োজনীয় উত্তর ৭০০ শব্দেই সম্পূর্ণ হয়েছে, নাকি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়েছে—এই পার্থক্যটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গুগল কি কম শব্দের আর্টিকেলকে শাস্তি দেয়?

গুগল কি কম শব্দের আর্টিকেলকে শাস্তি দেয়?

শুধু কম শব্দসংখ্যা থাকার কারণে কোনো পেজকে থিন কনটেন্ট হিসেবে গণ্য করতে হবে—গুগল এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম প্রকাশ করেনি।

গুগলের মানুষকেন্দ্রিক কনটেন্ট নির্দেশনায় এমনকি এই প্রশ্নও রাখা হয়েছে—কোনো প্রকাশক কি শুধু এই ধারণা থেকে নির্দিষ্ট শব্দসংখ্যা অনুসরণ করছেন যে গুগলের পছন্দের কোনো শব্দসংখ্যা আছে? গুগলের বক্তব্য, এমন কোনো নির্দিষ্ট শব্দসংখ্যা নেই।

তাই “সব ব্লগ পোস্ট কমপক্ষে ২,০০০ শব্দ হতে হবে” বা “১,০০০ শব্দের নিচের আর্টিকেল গুগল র‍্যাঙ্ক করবে না”—এ ধরনের বক্তব্যকে গুগলের নিয়ম হিসেবে দেখানোর ভিত্তি নেই।

দীর্ঘ আর্টিকেল প্রয়োজন হতে পারে যখন বিষয়টি জটিল, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দরকার, সিদ্ধান্ত নিতে তুলনা ও উদাহরণ প্রয়োজন অথবা কোনো ধাপে-ধাপে নির্দেশনার প্রক্রিয়ায় অনেক ধাপ রয়েছে। ভুল সিদ্ধান্তে বাস্তব ক্ষতির ঝুঁকি থাকলেও বাড়তি ব্যাখ্যা দরকার হতে পারে।

অন্যদিকে সংজ্ঞা, ছোট সমস্যা সমাধানের উত্তর, সূত্র, কারিগরি বিবরণ বা সরাসরি তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন অনেক কম শব্দেই যথেষ্ট হতে পারে।

কখন কনটেন্ট সত্যিই কম-মূল্যের হয়ে যায়

শুধু দৈর্ঘ্য নয়, পেজটির উদ্দেশ্য এবং ব্যবহারকারীর জন্য এর মূল্য পরীক্ষা করা দরকার।

পাঠকের মূল প্রশ্নের উত্তর নেই

শিরোনাম যদি হয় “ওয়ার্ডপ্রেসে এক্সএমএল সাইটম্যাপ কীভাবে তৈরি করবেন”, অথচ আর্টিকেলের বড় অংশ সাইটম্যাপের ইতিহাস ও এসইওর সাধারণ সুবিধা নিয়ে চলে এবং বাস্তব ধাপ অস্পষ্ট থাকে, তাহলে বেশি শব্দ কোনো বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে না।

এখানে সমস্যা শব্দসংখ্যা নয়; ব্যবহারকারীর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়া।

অন্য উৎসের তথ্য নতুন মূল্য ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে

একাধিক ওয়েবসাইটের একই তথ্য সামান্য শব্দ বদলে প্রকাশ করলে পেজটির নিজস্ব মূল্য কোথায়, সেই প্রশ্ন আসে।

গুগলের স্প্যাম নীতিমালায় অন্য সাইটের কনটেন্ট নিয়ে মৌলিক মূল্য না যোগ করে পুনরায় প্রকাশ করাকে অপব্যবহারমূলক স্ক্র্যাপিংয়ের উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন পেজের তথ্য একত্র করেও যদি ব্যবহারকারীর জন্য নতুন কোনো মূল্য তৈরি না হয়, তা ব্যাপক পরিসরে কনটেন্ট অপব্যবহারের আওতায় পড়তে পারে।

প্রচুর ছাঁচভিত্তিক পেজ তৈরি হয়েছে

ধরা যাক, একটি ব্যবসা অনেক এলাকার জন্য আলাদা ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করেছে। প্রতিটি পেজে শুধু এলাকার নাম বদলেছে, বাকি তথ্য প্রায় একই।

সব ছাঁচভিত্তিক পেজ নিজে থেকে স্প্যাম নয়। সমস্যা হয় যখন বিপুল সংখ্যক পেজ মূলত সার্চ র‍্যাঙ্কিং প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয় এবং প্রতিটি পেজ ব্যবহারকারীর জন্য আলাদা কোনো কার্যকর মূল্য দেয় না।

অ্যাফিলিয়েট পেজে নিজস্ব অবদান নেই

কোনো খুচরা বিক্রেতার পণ্যের বিবরণ ও পর্যালোচনা হুবহু নিয়ে অ্যাফিলিয়েট লিংক বসালেই একটি কার্যকর পর্যালোচনা তৈরি হয় না।

গুগলের স্প্যাম নীতিমালায় থিন অ্যাফিলিয়েশন আলাদাভাবে উল্লেখ আছে। বিক্রেতার দেওয়া তথ্যের বাইরে মৌলিক পর্যালোচনা, অতিরিক্ত পণ্যের তথ্য, তুলনা, পরীক্ষা বা সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক তথ্য থাকলে অ্যাফিলিয়েট পেজ বাস্তব মূল্য যোগ করতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় শব্দ দিয়ে আর্টিকেল বড় করা হয়েছে

একটি ধারণা পরিষ্কার করার পর একই বক্তব্য নতুন বাক্যে বারবার বললে কনটেন্ট গভীর হয় না।

এতে পাঠকের দরকারি উত্তর খুঁজে পেতে বেশি সময় লাগতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের গুরুত্ব কমে যেতে পারে এবং লেখা অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ হয়।

নতুন প্রয়োজনীয় তথ্য যোগ করার সুযোগ না থাকলে শুধু শব্দসংখ্যা বাড়ানোর জন্য লেখা টেনে নেওয়ার যুক্তি নেই।

আরও পড়ুন: SEO Title লিখবেন কীভাবে: Clickbait ছাড়াই CTR বাড়ানোর কৌশল

থিন কনটেন্ট কি ওয়েবসাইটের ট্রাফিক কমাতে পারে?

কম-মূল্যের কনটেন্ট গুগল সার্চে দুর্বল ফল করতে পারে। গুগলের নথিতে নিম্নমানের কনটেন্টকে কোনো পেজ ইনডেক্স না হওয়া বা সার্চ ফলাফলে না আসার সম্ভাব্য কারণগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ট্রাফিক কমেছে মানেই থিন কনটেন্ট দায়ী—এ সিদ্ধান্ত ঠিক নয়।

সার্চ থেকে পাওয়া স্বাভাবিক ট্রাফিক কমার পেছনে আরও কারণ থাকতে পারে:

  • অ্যালগরিদম বা র‍্যাঙ্কিং হালনাগাদ;
  • ক্রলিং, ইনডেক্সিং বা অন্য কারিগরি সমস্যা;
  • স্প্যাম সমস্যা বা ম্যানুয়াল অ্যাকশন;
  • মৌসুমি পরিবর্তন বা মানুষের অনুসন্ধানের আগ্রহ বদলে যাওয়া;
  • সাইট স্থানান্তর বা ইউআরএল পরিবর্তন;
  • সার্চ ফলাফলের স্বাভাবিক পরিবর্তন।

তাই ট্রাফিক কমলেই কনটেন্ট মুছে দেওয়া বা শব্দসংখ্যা বাড়ানো উচিত নয়। আগে পতনের ধরন এবং সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করা দরকার।

ওয়েবসাইটের থিন কনটেন্ট কীভাবে চিহ্নিত করবেন

বড় ওয়েবসাইটে প্রতিটি পেজ একসঙ্গে পরীক্ষা করার বদলে সার্চ কনসোলের তথ্য ব্যবহার করে আগে সম্ভাব্য দুর্বল ইউআরএলের একটি ছোট তালিকা তৈরি করা বেশি বাস্তবসম্মত।

সার্চ কনসোল থেকে সম্ভাব্য পেজ বের করুন

পারফরম্যান্স প্রতিবেদনে পেজ ও অনুসন্ধান করা প্রশ্ন দেখা যায়। ক্লিক, ইমপ্রেশন এবং সিটিআর দেখে কোন পেজ বা প্রশ্নের ফল বদলাচ্ছে, তা শনাক্ত করা যায়।

বিশেষভাবে দেখা যেতে পারে:

  • দীর্ঘ সময় ধরে খুব কম ইমপ্রেশন পাওয়া পেজ;
  • ইমপ্রেশন থাকলেও সিটিআর কম;
  • যে প্রশ্নগুলোতে পেজটি দেখা যাচ্ছে, তার সঙ্গে কনটেন্টের মিল;
  • আগে ভালো চললেও ধারাবাহিকভাবে ক্লিক বা অবস্থান কমেছে এমন পেজ।

কম সিটিআর একটি সংকেত হতে পারে যে সার্চ ফলাফল দেখার পর ব্যবহারকারীরা পেজটিকে তাদের প্রশ্নের জন্য যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক মনে করছেন না। সে ক্ষেত্রে শিরোনাম, বিবরণ এবং প্রশ্নের সঙ্গে মূল কনটেন্টের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা যায়।

তবে কম ট্রাফিক বা কম সিটিআর থিন কনটেন্টের প্রমাণ নয়। এগুলো শুধু কোন পেজ আগে যাচাই করবেন, সে বিষয়ে ইঙ্গিত দেয়।

অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য পরীক্ষা করুন

সন্দেহজনক পেজটি পড়ে দেখুন:

  • শিরোনামের প্রতিশ্রুতি কি লেখাটি পূরণ করছে?
  • প্রয়োজনীয় উত্তর পেতে পাঠককে আবার সার্চ করতে হবে কি?
  • অন্য উৎসের তথ্য পুনরাবৃত্তির বাইরে পেজটির নিজস্ব মূল্য আছে কি?
  • তথ্য পুরোনো হয়ে গেছে কি?
  • কোনো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বা ব্যাখ্যা বাদ পড়েছে কি?

“আরও কত শব্দ যোগ করা যায়?” দিয়ে যাচাই শুরু না করে “কোন প্রয়োজনীয় তথ্য বা মূল্য অনুপস্থিত?”—এই প্রশ্নটি আগে করা বেশি কার্যকর।

একই অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের একাধিক পেজ আছে কি না দেখুন

দীর্ঘদিন কনটেন্ট প্রকাশ করতে গিয়ে একই বিষয় ও অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য নিয়ে একাধিক কাছাকাছি ধরনের ইউআরএল তৈরি হতে পারে।

যেমন:

  • “থিন কনটেন্ট কী”
  • “থিন কনটেন্ট এসইও”
  • “থিন কনটেন্ট কীভাবে ঠিক করবেন”

তিনটি ইউআরএলেই যদি প্রায় একই তথ্য থাকে এবং আলাদা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন পূরণ না করে, প্রতিটি পেজ আলাদাভাবে বড় করার চেয়ে একটি শক্তিশালী কনটেন্টে তথ্য একত্র করার সুযোগ থাকতে পারে।

থিন কনটেন্ট ঠিক করার চারটি বাস্তব উপায়

সব দুর্বল ইউআরএলের জন্য একই সমাধান প্রযোজ্য নয়।

দরকারি পেজ হলে আগে ঘাটতি পূরণ করুন

প্রথমে দেখুন পেজটিতে বাস্তবে কী অনুপস্থিত। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার ধাপ, উদাহরণ, তুলনা, সীমাবদ্ধতা, সাধারণ ভুল, নির্ভরযোগ্য উৎস বা সিদ্ধান্ত নিতে প্রয়োজনীয় প্রাসঙ্গিক তথ্য যোগ করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে পুরোনো, অপ্রাসঙ্গিক বা পুনরাবৃত্ত অংশ বাদ দিন। কনটেন্ট হালনাগাদ মানেই শুধু নতুন অনুচ্ছেদ যোগ করা নয়।

একই ধরনের পেজ একত্র করুন

দুই বা একাধিক পেজ যদি একই প্রয়োজন পূরণ করে, প্রাসঙ্গিক তথ্য একটি পূর্ণাঙ্গ পেজে একত্র করা যেতে পারে।

একাধিক পুরোনো পেজের কনটেন্ট নতুন একত্রিত পেজে নেওয়া হলে পুরোনো ইউআরএল থেকে প্রাসঙ্গিক নতুন ইউআরএলে রিডাইরেক্ট করা যায়। রিডাইরেক্টের গন্তব্য অবশ্যই সম্পর্কিত হওয়া দরকার। বহু সম্পর্কহীন ইউআরএল শুধু হোমপেজে পাঠিয়ে দেওয়া সঠিক পদ্ধতি নয়।

সার্চে থাকার প্রয়োজন না থাকলে ইনডেক্সিং পুনর্বিবেচনা করুন

সার্চে থাকার প্রয়োজন না থাকলে ইনডেক্সিং পুনর্বিবেচনা করুন

প্রতিটি ওয়েবপেজের গুগল সার্চ থেকে ট্রাফিক পাওয়ার প্রয়োজন নেই।

কিছু অভ্যন্তরীণ সার্চ ফলাফল, কম-মূল্যের ব্যবহারকারী-তৈরি পেজ বা নির্দিষ্ট কাজের পেজ ব্যবহারকারীর কাজে লাগলেও সার্চ ফলাফলে রাখার দরকার নাও থাকতে পারে। এ ধরনের পেজের ক্ষেত্রে নোইনডেক্স ব্যবহার করা যায়।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত বিষয় আছে: গুগলবটকে পেজটি ক্রল করতে দিতে হবে, যাতে সে নোইনডেক্স নির্দেশনা দেখতে পারে। একই ইউআরএল রোবটস ডট টিএক্সটি দিয়ে ক্রল বন্ধ করে রাখলে গুগল ওই পেজের নোইনডেক্স নির্দেশনা দেখতে নাও পারে।

তাই শুধু শব্দসংখ্যা কম বলে নোইনডেক্স ব্যবহার করা উচিত নয়। পেজটি সার্চে ইনডেক্স থাকার প্রয়োজন আছে কি না, সেটিই মূল বিবেচনা।

বাস্তব প্রয়োজন না থাকলে সরানো বা একত্র করার কথা ভাবুন

কোনো পেজের আলাদা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন নেই, তথ্যের নিজস্ব মূল্যও নেই এবং অন্য একটি ভালো পেজ একই প্রয়োজন পূরণ করছে—এমন ক্ষেত্রে পেজ সরানো বা একত্র করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

তবে শুধু সাইটকে “নতুন” দেখানোর জন্য পুরোনো কনটেন্ট একসঙ্গে মুছে দেওয়ার ভিত্তি নেই। গুগলের মানুষকেন্দ্রিক নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু সার্চ র‍্যাঙ্কিং বাড়ানোর আশায় অনেক পুরোনো কনটেন্ট সরিয়ে সাইটকে নতুন দেখানোর চেষ্টা কাজে দেয় না।

পুরোনো কনটেন্ট এবং অসহায়ক কনটেন্ট তাই একই বিষয় নয়। পুরোনো হলেও কার্যকর কোনো পেজ শুধু বয়সের কারণে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

শব্দসংখ্যা ঠিক করতে তিনটি প্রশ্ন করুন

আর্টিকেলের জন্য আগে থেকেই বাধ্যতামূলক শব্দসংখ্যা ঠিক করার বদলে তিনটি বিষয় পরীক্ষা করা বেশি কার্যকর।

১. পাঠকের মূল কাজটি কি সম্পন্ন হয়েছে?
যে প্রশ্ন নিয়ে তিনি এসেছেন, উত্তর পাওয়ার পরও যদি প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য অন্য জায়গায় যেতে হয়, তাহলে কনটেন্টে ঘাটতি থাকতে পারে।

২. প্রতিটি অংশ কি নতুন মূল্য যোগ করছে?
কোনো অনুচ্ছেদ বাদ দিলে অর্থ বা উপযোগিতা একটুও না কমলে সেটি রাখা দরকার কি না আবার দেখুন।

৩. দৈর্ঘ্য কি বিষয়টির জটিলতার সঙ্গে মানানসই?
একটি সংজ্ঞার উত্তর এবং পূর্ণাঙ্গ কারিগরি সমস্যা সমাধানের নির্দেশিকা একই দৈর্ঘ্যের হওয়ার প্রয়োজন নেই।

এই পরীক্ষায় ৬০০ শব্দে কোনো লেখা সম্পূর্ণ হলে সেটি নিজে থেকে সমস্যা নয়। আবার কোনো বিষয় যথাযথভাবে বুঝিয়ে বলতে ২,৫০০ শব্দ প্রয়োজন হলে শুধু “সংক্ষিপ্ত কনটেন্ট ভালো” ভেবে দরকারি অংশ বাদ দেওয়াও ঠিক হবে না।

প্রথমে শব্দসংখ্যা নয়, কনটেন্টের মূল্য পরীক্ষা করুন

থিন কনটেন্ট এসইও সমস্যার সমাধান শুধু শব্দসংখ্যা বাড়ানো নয়। আগে দেখতে হবে পেজটি ব্যবহারকারীর জন্য কী মূল্য দিচ্ছে।

সার্চ কনসোল ও নিজের কনটেন্ট তালিকা থেকে সম্ভাব্য দুর্বল পেজ চিহ্নিত করুন। এরপর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য, তথ্যের মৌলিকতা, প্রয়োজনীয় গভীরতা এবং অন্য পেজের সঙ্গে বিষয়গত মিল পরীক্ষা করুন। কোথাও তথ্যের ঘাটতি থাকলে উন্নত করুন, একই প্রয়োজন পূরণ করা কনটেন্ট একত্র করুন এবং সার্চে থাকার প্রয়োজন নেই এমন ইউআরএলের ইনডেক্সিং কৌশল আলাদাভাবে বিবেচনা করুন।

কোনো পেজে ৫০০ শব্দ আছে বলেই সেটিকে ১,৫০০ শব্দ করতে হবে না। বরং শেষ প্রশ্নটি হওয়া উচিত: পাঠক এই পেজে এসে যে কাজটি করতে চেয়েছিলেন, সেটি কি নির্ভরযোগ্যভাবে শেষ করতে পারছেন?

উত্তর “হ্যাঁ” হলে কম শব্দসংখ্যা নিজে থেকে সমস্যা নয়। উত্তর “না” হলে শুধু আরও শব্দ নয়—আরও কার্যকর তথ্য দরকার।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. কম শব্দসংখ্যা থাকলেই কি কনটেন্ট থিন কনটেন্ট হয়ে যায়?

না। কম শব্দের লেখা নিজে থেকে থিন কনটেন্ট নয়। একটি ছোট পেজ যদি ব্যবহারকারীর প্রশ্নের নির্ভুল ও সম্পূর্ণ উত্তর দেয়, তাহলে সেটি কার্যকর কনটেন্ট হতে পারে। সমস্যা হয় যখন পেজে যথেষ্ট মৌলিক বা ব্যবহারযোগ্য তথ্য থাকে না।

২. থিন কনটেন্ট কি গুগল র‍্যাঙ্কিং কমিয়ে দিতে পারে?

কম-মূল্যের বা অসহায়ক কনটেন্ট গুগল সার্চে দুর্বল ফল করতে পারে। তবে র‍্যাঙ্কিং বা ট্রাফিক কমলেই থিন কনটেন্ট দায়ী—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কারিগরি এসইও সমস্যা, অ্যালগরিদম হালনাগাদ, মানুষের অনুসন্ধানের আগ্রহের পরিবর্তন বা ইনডেক্সিং সমস্যাও কারণ হতে পারে।

৩. একটি এসইও আর্টিকেল কত শব্দের হওয়া উচিত?

এসইও আর্টিকেলের জন্য গুগল কোনো নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন বা পছন্দের শব্দসংখ্যা নির্ধারণ করেনি। বিষয়টি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করতে যতটুকু লেখা প্রয়োজন, ততটুকুই হওয়া উচিত। অপ্রয়োজনীয়ভাবে শব্দ বাড়ানোর চেয়ে ব্যবহারকারীর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য পূরণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৪. ওয়েবসাইটের থিন কনটেন্ট কীভাবে খুঁজে বের করবেন?

গুগল সার্চ কনসোলের পেজ, প্রশ্ন, ক্লিক, ইমপ্রেশন এবং সিটিআর দেখে সম্ভাব্য দুর্বল পেজ আগে চিহ্নিত করা যায়। এরপর প্রতিটি পেজের অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য, তথ্যের মৌলিকতা, প্রয়োজনীয় গভীরতা এবং অন্য পেজের সঙ্গে বিষয়গত মিল পরীক্ষা করতে হবে।

৫. থিন কনটেন্ট পাওয়া গেলে মুছে ফেলবেন, নাকি হালনাগাদ করবেন?

সব ক্ষেত্রে পেজ মুছে দেওয়া ঠিক নয়। পেজটির আলাদা ব্যবহারিক মূল্য থাকলে প্রয়োজনীয় তথ্য যোগ করে হালনাগাদ করা ভালো। একই অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের একাধিক পেজ থাকলে সেগুলো একত্র করার কথা ভাবা যায়। আর সার্চে থাকার প্রয়োজন নেই এমন পেজের ক্ষেত্রে ইনডেক্সিং কৌশল আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।

সর্বশেষ