বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত: যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত কি কেবল ইমিগ্রেশন নাকি ভূরাজনীতির নতুন বার্তা?

সর্বাধিক আলোচিত

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি বৈশ্বিক অভিবাসন ব্যবস্থায় যে ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে, তার কম্পন ঢাকা থেকে শুরু করে ল্যাটিন আমেরিকা পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে। আগামী ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নির্দেশনায় বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ‘ইমিগ্র্যান্ট ভিসা’ বা স্থায়ী অভিবাসন প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

একজন বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে দেখলে, এটিকে নিছক কোনো প্রশাসনিক বিরতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিরই একটি স্পষ্ট এবং কঠোর প্রতিফলন। এই লেখায় আবেগের বাইরে থেকে তথ্য ও বাস্তবতার আলোকে বোঝার চেষ্টা করা হবে—আসলে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এর পেছনের কারণ কী, এবং এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব কার ওপর পড়তে যাচ্ছে।

মূল কথাঃ

এটি সাময়িক প্রশাসনিক বিরতি নয়: বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্তটি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ও মেধা-ভিত্তিক অভিবাসন নীতির একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অভিবাসনের পথ আরও সংকুচিত করতে পারে।

বাংলাদেশ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসনের বড় অংশ পরিবারভিত্তিক হওয়ায় (F ও IR ক্যাটাগরি), এই স্থগিতাদেশ সরাসরি হাজারো পরিবারের পুনর্মিলনের স্বপ্ন অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে।

নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা চালু থাকলেও বাধা বেড়েছে: পর্যটক, ছাত্র ও অস্থায়ী কর্মী ভিসা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও, কঠোর ভেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রিনিং এবং উচ্চ অঙ্কের ভিসা বন্ড সাধারণ বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতকে কার্যত কঠিন করে তুলবে।

মানবিকের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে: পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা, ভিসা জট বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে নতুন অভিবাসন কমে যাওয়ার ফলে রেমিট্যান্স ও প্রবাসী কমিউনিটির সম্প্রসারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কূটনীতি ও লবিং এখন জরুরি: এই সিদ্ধান্ত মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সমন্বিত লবিংই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার স্বরূপ: কোনটি বন্ধ, কোনটি খোলা?

Details of US Immigrant Visa Suspension Bangladesh

জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে শুরুতেই আমাদের বুঝতে হবে কোন ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ এবং কোনগুলো চালু থাকলেও কঠিন শর্তের মুখে পড়েছে। বিষয়টি সহজ করার জন্য নিচে বিস্তারিত তথ্য ও টেবিল দেওয়া হলো।

১. ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (স্থগিত): তথ্যের গভীরতা

‘ইমিগ্র্যান্ট ভিসা’ হলো সেই চাবি, যা দিয়ে একজন বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের এবং পরবর্তীতে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পান (গ্রিনকার্ড)। নতুন নির্দেশনায় নিচের ক্যাটাগরিগুলো বাংলাদেশিদের জন্য সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়েছে:

  • ফ্যামিলি প্রেফারেন্স (F Categories): এটি বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিনকার্ডধারীদের ভাই-বোন, অবিবাহিত বা বিবাহিত সন্তানদের ভিসা এটি।
  • ইমিডিয়েট রিলেটিভ (IR Categories): মার্কিন নাগরিকদের স্বামী/স্ত্রী বা নাবালক সন্তান। এটি সাধারণত কোটামুক্ত থাকলেও, নতুন আদেশে এদের প্রসেসিংও থমকে যাবে।
  • ডাইভারসিটি ভিসা (DV Lottery): যেসব দেশ এই তালিকায় আছে, তাদের ডিভি লটারি প্রোগ্রাম থেকেও বাদ দেওয়া হতে পারে।

একনজরে স্থগিত ভিসা ক্যাটাগরি:

ভিসা কোড বিবরণ (যাদের জন্য বন্ধ) বাংলাদেশিদের ওপর প্রভাব
IR1 / CR1 মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী হাজারো নবদম্পতি বিচ্ছেদের শঙ্কায় পড়বেন।
IR5 মার্কিন নাগরিকের পিতা-মাতা বয়োজ্যেষ্ঠ বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পথ বন্ধ।
F1 মার্কিন নাগরিকের অবিবাহিত সন্তান (২১+) দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই স্থগিতাদেশ বড় হতাশার।
F3 মার্কিন নাগরিকের বিবাহিত সন্তান পরিবারসহ অভিবাসনের সুযোগ আপাতত নেই।
F4 মার্কিন নাগরিকের ভাই-বোন বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি আবেদন এই ক্যাটাগরিতে; ১০-১২ বছরের অপেক্ষা এখন অনিশ্চিত।
E1 / E2 এমপ্লয়মেন্ট বা দক্ষ কর্মী (গ্রিনকার্ড) বাংলাদেশ থেকে সরাসরি জবে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ।

২. নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (চালু আছে, তবে শর্তসাপেক্ষ):

পর্যটক, ছাত্র বা ব্যবসায়ীদের ভিসা (নন-ইমিগ্র্যান্ট) পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, কিন্তু এখানে ‘ভেটিং’ বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চরম কঠোর করা হয়েছে। মূল পরিবর্তনগুলো হলো:

  • ভিসা বন্ড (Visa Bond): সন্দেহভাজন পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত বন্ড বা জামানত রাখতে হতে পারে।
  • ইন্টারভিউ ওয়েভার বাতিল: আগে যারা নবায়নের ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ ছাড়া ভিসা পেতেন, তাদের এখন সশরীরে হাজির হতে হবে।
  • সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রিনিং: গত ৫ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া হিস্ট্রি বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করা হবে।

শর্তসাপেক্ষ চালু ভিসার তালিকা:

ভিসা কোড বিবরণ নতুন শর্ত ও সতর্কতা
B1 / B2 ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা ফেরার নিশ্চয়তা না পেলে রিজেকশন রেট বাড়বে। ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত বন্ড চাওয়ার সম্ভাবনা।
F1 / M1 স্টুডেন্ট ভিসা পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার ‘ইনটেন্ট’ বা ইচ্ছা প্রমাণ করতে না পারলে ভিসা মিলবে না।
J1 এক্সচেঞ্জ ভিজিটর স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের ক্লিয়ারেন্স কঠোরভাবে দেখা হবে।
H-1B স্কিলড ওয়ার্কার (অস্থায়ী) প্রসেসিং টাইম বাড়বে এবং আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই হবে।

বাংলাদেশ কেন এই তালিকায়? নেপথ্যের কারণ ও উপাত্ত

অনেকের মনে প্রশ্ন, ভারত বা চীনের মতো দেশ বাদ পড়লেও বাংলাদেশ কেন এই ৭৫ দেশের তালিকায়? মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের বিভিন্ন রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলে তিনটি প্রধান কারণ উঠে আসে:

ক. চেইন মাইগ্রেশন বা ফ্যামিলি ভিসার আধিক্য

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন মেধা-ভিত্তিক অভিবাসনের পক্ষে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীদের প্রায় ৬৫-৭০% পারিবারিক কোটায় (ভাই-বোন বা বাবা-মা) যান, যা মার্কিন প্রশাসন ‘চেইন মাইগ্রেশন’ হিসেবে অভিহিত করে নিরুৎসাহিত করতে চায়। তারা মনে করে, এতে দক্ষ জনশক্তির চেয়ে নির্ভরশীল জনসংখ্যা বাড়ে।

খ. ওভারস্টে রেট (Overstay Rate)

নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় গিয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ফিরে না আসার প্রবণতা বা ‘ওভারস্টে রেট’ বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক। মার্কিন ডিএইচএস (DHS) এর সর্বশেষ রিপোর্টে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু ভিসায় বাংলাদেশিদের ওভারস্টে রেট ১০% এর ওপরে, যা এই নিষেধাজ্ঞার অন্যতম টেকনিক্যাল কারণ।

গ. ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি সুবিধানির্ভরতা

মার্কিন কনস্যুলার অফিসারদের কাছে নির্দেশনা রয়েছে যে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি অনুদান (Food stamps, Medicaid) এর ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তাদের ভিসা দেওয়া হবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীরা করদাতাদের ওপর বোঝা সৃষ্টি করছেন।

নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ৭৫টি দেশের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও ব্যাপ্তি

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের লিক হওয়া ড্রাফট অনুযায়ী, এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোই এই তালিকার বড় অংশ। নিচে রিজিয়ন বা অঞ্চলভিত্তিক তালিকাটি দেওয়া হলো:

(দ্রষ্টব্য: এই তালিকাটি সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এবং প্রশাসনিক আদেশে পরিবর্তন হতে পারে)

অঞ্চলভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহ

অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহ
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কিরগিজস্তান।
মধ্যপ্রাচ্য ইরান, ইরাক, ইয়েমেন, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, ফিলিস্তিন (West Bank/Gaza residents), ওমান, কাতার (আংশিক), মিসর।
আফ্রিকা নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সুদান, দক্ষিণ সুদান, লিবিয়া, চাদ, ইরিত্রিয়া, তানজানিয়া, কেনিয়া, ঘানা, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, গাম্বিয়া, সেনেগাল, মালি, বুরকিনা ফাসো, কঙ্গো (DRC), ক্যামেরুন, উগান্ডা, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, মালাউই, মোজাম্বিক, অ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি, জিবুতি, মৌরিতানিয়া, টোগো, বেনিন, আইভরি কোস্ট, গিনি।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মিয়ানমার (বার্মা), লাওস, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন (আংশিক ক্যাটাগরি), ইন্দোনেশিয়া, পূর্ব তিমুর।
ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান হাইতি, কিউবা, ভেনেজুয়েলা, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, ডমিনিকান রিপাবলিক, গায়ানা, সুরিনাম, বলিভিয়া, ইকুয়েডর।
অন্যান্য উত্তর কোরিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, ফিজি, সামোয়া।

বাংলাদেশের ওপর প্রভাব: একটি মানবিক ও কূটনৈতিক সংকট

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব হবে বহুমুখী এবং দীর্ঘমেয়াদী।

১. পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা: হাজার হাজার বাংলাদেশি পরিবার বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন তাদের প্রিয়জনকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য। অনেকে ১০-১২ বছর ধরে এফ-৪ (ভাই-বোন) ক্যাটাগরির ভিসার জন্য অপেক্ষা করছেন। এই স্থগিতাদেশ তাদের অপেক্ষাকে অনির্দিষ্টকালের অনিশ্চয়তায় ফেলে দিল।

২. ভিসা জট (Backlog) বৃদ্ধি: ইতোমধ্যেই ঢাকা মার্কিন দূতাবাসে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই স্থগিতাদেশের ফলে পুরনো কেসগুলো আরও পিছিয়ে যাবে এবং যখন পুনরায় প্রসেসিং শুরু হবে (যদি হয়), তখন জট সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।

৩. অর্থনৈতিক প্রভাব: বাংলাদেশি অভিবাসীরা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান। নতুন অভিবাসন বন্ধ হলে দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

৪. ভিজিট ভিসায় ‘বন্ড’ আতঙ্ক: নন-ইমিগ্র্যান্ট বা ভিজিট ভিসার ক্ষেত্রে যে ‘বন্ড’ বা জামানতের কথা শোনা যাচ্ছে (১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত), তা সাধারণ মধ্যবিত্ত বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ প্রায় অসম্ভব করে তুলবে। এটি পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে? কূটনৈতিক করণীয়

এই সিদ্ধান্ত কি সাময়িক? ট্রাম্প প্রশাসনের অতীত ইতিহাস বলে, ‘সাময়িক’ স্থগিতাদেশগুলো প্রায়শই দীর্ঘমেয়াদী পলিসিতে রূপ নেয় বা এমন সব কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় যা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের করণীয়:

  • শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতা: বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে ওয়াশিংটনের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে হবে। এটি যে কেবল ‘ওয়েলফেয়ার’ এর বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশি কমিউনিটি যে মার্কিন অর্থনীতিতে অবদান রাখছে, সেই তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরতে হবে।
  • প্রবাসীদের লবিং: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। তাদের স্থানীয় কংগ্রেসম্যান এবং সিনেটরদের মাধ্যমে এই জেনারেলাইজড বা ঢালাও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে।
  • বিকল্প ভাবনা: কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে, দক্ষ জনশক্তিকে ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাজারের দিকে ধাবিত করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে।

শেষ কথা

২১ জানুয়ারির এই ভিসা স্থগিতাদেশ বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় কূটনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিশ্বায়নের উল্টো স্রোতের একটি বহিঃপ্রকাশ। আবেগের বশবর্তী না হয়ে, বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং প্রবাসী কমিউনিটির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই পারে এই অচলায়তন ভাঙতে। আপাতত, হাজারো স্বপ্নবাজ বাংলাদেশির চোখ থাকবে ওয়াশিংটনের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে।

সর্বশেষ