ব্যক্তিগত ধনী হিসেবে ইলন মাস্ক বা জেফ বেজোসের নাম আমরা প্রায়ই শুনি। কিন্তু যখন পারিবারিক সম্পদের কথা আসে, তখন সেই অর্থের পরিমাণ এবং ক্ষমতার ব্যাপ্তি কল্পনার সীমানা ছাড়িয়ে যায়। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, বিশ্বে সবচেয়ে ধনী ১০ পরিবার বর্তমানে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করছে, যা বিশ্বের অনেক বড় দেশের জিডিপির (GDP) চেয়েও বেশি।
পারিবারিক ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যগুলো সাধারণত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকে। কিন্তু কীভাবে? শুধুমাত্র উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদই কি তাদের এই অবস্থানে রেখেছে, নাকি এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ব্যবসায়িক কৌশল? ২০২৬ সালের শুরুতে দাঁড়িয়ে আমরা দেখব, কোন ১০টি পরিবার বিশ্ব অর্থনীতিতে ছড়ি ঘোরাচ্ছে এবং তাদের আয়ের উৎসগুলো আসলে কতটা শক্তিশালী।
১. ওয়ালটন পরিবার (Walton Family): রিটেইল দুনিয়ার অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজা
আমেরিকার আরকানসাস রাজ্যে স্যাম ওয়ালটনের হাত ধরে ১৯৪৫ সালে যে ছোট ব্যবসার শুরু হয়েছিল, তা আজ বিশ্বের বৃহত্তম রিটেইল চেইন ‘ওয়ালমার্ট’ (Walmart)। টানা কয়েক বছর ধরে ওয়ালটন পরিবার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী পরিবারের স্থানটি ধরে রেখেছে।
ব্যবসায়িক কৌশল ও বর্তমান অবস্থা: ওয়ালটন পরিবারের সাফল্যের মূল মন্ত্র হলো “কম লাভে বেশি বিক্রি” (Economy of Scale)। বর্তমানে তারা ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজনের সাথে পাল্লা দিয়ে ডিজিটাল রিটেইলিংয়েও বিশাল বিনিয়োগ করেছে। পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম—রব, জিম এবং অ্যালিস ওয়ালটন—এখন শুধুমাত্র ব্যবসায়িক শেয়ারহোল্ডার নন, বরং তারা আধুনিক প্রযুক্তি এবং সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে কোম্পানিকে আরও লাভজনক করেছেন।
টেবিল: ওয়ালটন পরিবারের সম্পদের খতিয়ান
| প্যারামিটার | তথ্য (২০২৬ প্রাক্কলন) |
| মোট সম্পদ | $৫১৩.৪ বিলিয়ন (আনুমানিক) |
| মূল কোম্পানি | ওয়ালমার্ট (Walmart) |
| মালিকানাধীন শেয়ার | প্রায় ৪৭% |
| সাফল্যের কৌশল | সাশ্রয়ী মূল্য নির্ধারণ ও শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন |
| অবস্থান | বেন্টনভিল, যুক্তরাষ্ট্র |
২. আল নাহিয়ান পরিবার (Al Nahyan Family): মরুভূমির বুকে স্বর্ণালী সাম্রাজ্য
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির শাসকগোষ্ঠী আল নাহিয়ান পরিবার গত কয়েক বছরে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। তারা এখন শুধুমাত্র রাজপরিবার নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম সফল বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী।
আয়ের উৎস ও প্রভাব: অনেকে মনে করেন তাদের সম্পদ শুধুই তেলভিত্তিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শেখ তাহনুন বিন জায়েদের নেতৃত্বে তাদের বিনিয়োগ সংস্থা ‘রয়্যাল গ্রুপ’ এবং ‘আইএইচসি’ (IHC) প্রযুক্তি, গ্রিন এনার্জি, রিয়েল এস্টেট এবং স্পোর্টস (ম্যানচেস্টার সিটি এফসি) খাতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তাদের এই বহুমুখী বিনিয়োগই তাদের ওয়ালটন পরিবারের খুব কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
টেবিল: আল নাহিয়ান পরিবারের বিস্তারিত
| প্যারামিটার | তথ্য |
| মোট সম্পদ | $৩৩৫.৯ বিলিয়ন+ |
| মূল শক্তি | তেল রিজার্ভ ও গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট |
| বিনিয়োগ ক্ষেত্র | স্পেসএক্স, রিয়েল এস্টেট, ফাস্ট ফুড চেইন |
| নেতৃত্ব | শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান |
| দেশ | সংযুক্ত আরব আমিরাত |
৩. আল সৌদ পরিবার (Al Saud Family): কালো সোনার একচ্ছত্র অধিপতি
সৌদি আরবের রাজপরিবার ‘আল সৌদ‘-এর ইতিহাস এবং সম্পদ দুটোই রাজকীয়। প্রায় ১০০ বছর ধরে তারা সৌদি আরব শাসন করছে এবং তাদের আয়ের মূল উৎস রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা (ভিশন ২০৩০): ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে পরিবারটি এখন তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনছে। তারা নিওম (NEOM) প্রজেক্ট, পর্যটন এবং গেমিং ইন্ডাস্ট্রিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১৫,০০০-এর বেশি হলেও মূল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করেন হাতেগোনা কয়েকজন শীর্ষ নেতা।
টেবিল: আল সৌদ পরিবারের সম্পদ চিত্র
| প্যারামিটার | তথ্য |
| মোট সম্পদ | $২১৩.৬ বিলিয়ন (রক্ষণশীল হিসাব) |
| মূল উৎস | সৌদি আরামকো (তেল ও গ্যাস) |
| নতুন বিনিয়োগ | প্রযুক্তি, পর্যটন ও বিনোদন |
| সদস্য সংখ্যা | ১৫,০০০+ |
| দেশ | সৌদি আরব |
৪. হার্মিস পরিবার (Hermès Family): বিলাসিতার ৬ষ্ঠ প্রজন্ম
ফরাসি বিলাসদ্রব্য বা লাক্সারি ফ্যাশনের সমার্থক শব্দ হলো ‘হার্মিস’। ১৮৩৭ সালে টিয়েরি হার্মিস যে ব্র্যান্ডটি তৈরি করেছিলেন, তা আজ ষষ্ঠ প্রজন্মের হাতে আরও বেশি জৌলুসপূর্ণ।
ব্র্যান্ড এক্সক্লুসিভিটি: হার্মিস পরিবারের সবচেয়ে বড় কৌশল হলো তাদের পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাখা। তাদের তৈরি ‘বার্কিন ব্যাগ’ কিনতে গ্রাহকদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। এই ‘দুষ্প্রাপ্যতা’ বা Scarcity Model-ই তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং শেয়ারের দাম আকাশচুম্বী করে রেখেছে। এলভিএমএইচ-এর মতো জায়ান্টরা তাদের কেনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে পারিবারিক ঐক্যের কারণে।
টেবিল: হার্মিস পরিবারের ব্যবসায়িক তথ্য
| প্যারামিটার | তথ্য |
| মোট সম্পদ | $১৮৪.৫ বিলিয়ন |
| ব্র্যান্ড | হার্মিস (Hermès) |
| মূল পণ্য | চামড়াজাত পণ্য, স্কার্ফ, পারফিউম |
| মালিকানা কাঠামো | পারিবারিক নিয়ন্ত্রণাধীন পাবলিক কোম্পানি |
| দেশ | ফ্রান্স |
৫. আল থানি পরিবার (Al Thani Family): গ্যাসের শক্তিতে বলীয়ান

কাতারের রাজপরিবার আল থানি, ভৌগোলিক আকারের তুলনায় অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রপ্তানিকারক হিসেবে তাদের আয় অকল্পনীয়।
বিনিয়োগের ধরণ: তারা শুধুমাত্র গ্যাসের ওপর বসে নেই। লন্ডন এবং প্যারিসের দামী রিয়েল এস্টেট, ভ্যালেন্টিনো ফ্যাশন হাউজ এবং হ্যারডস ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক তারা। এছাড়া কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির (QIA) মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তাদের বিশাল শেয়ার রয়েছে।
টেবিল: আল থানি পরিবারের সম্পদ
| প্যারামিটার | তথ্য |
| মোট সম্পদ | $১৯৯.৫ বিলিয়ন |
| মূল উৎস | এলএনজি (LNG) ও সভরেন ফান্ড |
| আইকনিক সম্পদ | হ্যারডস, দ্য শার্ড (লন্ডন) |
| দেশ | কাতার |
৬. মার্স পরিবার (Mars Family): চকলেট থেকে প্রাণীসেবা
আমরা ‘মার্স’ পরিবারকে চিনি স্নিকার্স বা এম অ্যান্ড এম চকলেটের জন্য। কিন্তু তাদের আয়ের একটি বিশাল অংশ আসে এখন ‘পেট কেয়ার’ বা পশুপাখির চিকিৎসা ও খাদ্য থেকে।
ববসায়ে বৈচিত্র্য: ফ্র্যাঙ্ক মার্সের হাতে গড়া এই কোম্পানিটি এখন পেডিগ্রি (Pedigree) এবং রয়্যাল ক্যানিন (Royal Canin)-এর মতো ব্র্যান্ডের মালিক। এমনকি আমেরিকার বড় বড় ভেটেরিনারি হসপিটাল চেইনও তাদের মালিকানাধীন। অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষাকারী এই পরিবারটি কখনো শেয়ার বাজারে তাদের কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করেনি।
টেবিল: মার্স পরিবারের প্রোফাইল
| প্যারামিটার | তথ্য |
|---|---|
| মোট সম্পদ | $১৪৩.৪ বিলিয়ন |
| শিল্প | কনফেকশনারি ও পেট কেয়ার |
| জনপ্রিয় ব্র্যান্ড | Snickers, Whiskas, Pedigree |
| বিশেষত্ব | ১০০% পারিবারিক মালিকানাধীন (প্রাইভেট) |
| দেশ | যুক্তরাষ্ট্র |
৭. কোচ পরিবার (Koch Family): রাজনীতির আড়ালে শিল্পসম্রাট
কোচ ইন্ডাস্ট্রিজ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাইভেট কোম্পানি। ফ্রেড সি. কোচ ১৯৪০ সালে যে তেল শোধনাগার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছিলেন, তার ওপর ভিত্তি করেই এই সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যবসা: চার্লস কোচ এবং তার প্রয়াত ভাই ডেভিড কোচ আমেরিকান রাজনীতিতে রিপাবলিকান পার্টির বড় দাতা হিসেবে পরিচিত। তেল ছাড়াও তারা পেপার (Dixie cups), কেমিক্যাল এবং সারের ব্যবসায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছে।
টেবিল: কোচ পরিবারের তথ্য
| প্যারামিটার | তথ্য |
| মোট সম্পদ | $১৫০.৫ বিলিয়ন |
| কোম্পানি | কোচ ইন্ডাস্ট্রিজ |
| সেক্টর | জ্বালানি, কেমিক্যাল, ফাইন্যান্স |
| নেতৃত্ব | চার্লস কোচ ও জুলিয়া কোচ (ডেভিডের স্ত্রী) |
| দেশ | যুক্তরাষ্ট্র |
৮. আম্বানি পরিবার (Ambani Family): এশিয়ার পাওয়ার হাউস
এশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বে সবচেয়ে ধনী ১০ পরিবার এর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ভারতের আম্বানি পরিবার। ধীরুভাই আম্বানির ছোট টেক্সটাইল ব্যবসা আজ ভারতের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও গ্রিন এনার্জি: মুকেশ আম্বানি বর্তমানে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে বর্তমানে তার তিন সন্তান—আকাশ, ইশা এবং অনন্ত আম্বানির মধ্যে রিটেইল, টেলিকম (Jio) এবং গ্রিন এনার্জির দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা আগামী ৫ বছরে গ্রিন এনার্জি সেক্টরে ৮০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
টেবিল: আম্বানি পরিবারের সাম্রাজ্য
| প্যারামিটার | তথ্য |
|---|---|
| মোট সম্পদ | $১০৫.৬ বিলিয়ন+ |
| মূল কোম্পানি | রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লি. |
| বাসস্থান | অ্যান্টিলিয়া (বিশ্বের দামী বাড়ি) |
| প্রভাব | টেলিকম, রিটেইল, পেট্রোকেমিক্যাল |
| দেশ | ভারত |
৯. ওয়ের্থাইমার পরিবার (Wertheimer Family): নিভৃতচারী ফ্যাশন আইকন
ফরাসি ফ্যাশন হাউজ ‘চ্যানেল’ (Chanel)-এর মালিক ওয়ের্থাইমার পরিবার। তারা এতটাই প্রচারবিমুখ যে, প্যারিসের ফ্যাশন শো-তে তারা সামনের সারিতে না বসে পেছনের সারিতে বসেন যাতে কেউ তাদের চিনতে না পারে।
উত্তরাধিকার ও কৌশল: ১৯২৪ সালে কোকো চ্যানেলের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে এই ব্যবসার শুরু। বর্তমানে অ্যালেন এবং জেরাড ওয়ের্থাইমার ভাইরা কোম্পানিটি চালাচ্ছেন। ক্লাসিক ফ্যাশন এবং পারফিউম (Chanel No. 5) তাদের আয়ের মূল ভিত্তি।
টেবিল: ওয়ের্থাইমার পরিবারের তথ্য
| প্যারামিটার | তথ্য |
|---|---|
| মোট সম্পদ | $৮৫.৬ বিলিয়ন |
| ব্র্যান্ড | চ্যানেল (Chanel) |
| কৌশল | হাই-এন্ড লাক্সারি ও প্রাইভেসি |
| অবস্থান | লন্ডন/প্যারিস |
| দেশ | ফ্রান্স |
১০. কার্গিল ও ম্যাকমিলান পরিবার (Cargill, MacMillan Family): খাদ্যের জোগানদাতা
তালিকায় নতুন করে উঠে আসা বা প্রায়ই অবস্থান ধরে রাখা একটি নাম হলো কার্গিল পরিবার। আমেরিকার এই পরিবারটি বিশ্বের বৃহত্তম কৃষি কোম্পানি ‘কার্গিল ইনকর্পোরেটেড’-এর মালিক।
কৃষি ও সাপ্লাই চেইন: বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে শস্য, ভোজ্য তেল এবং মাংস পরিবহনে এদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আপনি যদি ম্যাকডোনাল্ডসের বার্গার খান, সম্ভবত সেই মাংস কার্গিলই সরবরাহ করেছে। ১৮৬৫ সাল থেকে তারা এই ব্যবসায় রয়েছে।
টেবিল: কার্গিল-ম্যাকমিলান পরিবারের তথ্য
| প্যারামিটার | তথ্য |
|---|---|
| মোট সম্পদ | $৬৫.২ বিলিয়ন (আনুমানিক) |
| কোম্পানি | কার্গিল ইনক. |
| শিল্প | কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ |
| মালিকানা | প্রায় ৯০% পারিবারিক মালিকানাধীন |
| দেশ | যুক্তরাষ্ট্র |
(দ্রষ্টব্য: থমসন পরিবার এবং কার্গিল পরিবারের অবস্থান প্রায়শই ১০ এবং ১১ নম্বরে ওঠানামা করে। সাম্প্রতিক কৃষি পণ্যের দাম বাড়ায় কার্গিল পরিবার বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে)
শেষকথা ও শিক্ষণীয় বিষয়
বিশ্বে সবচেয়ে ধনী ১০ পরিবার-এর তালিকা বিশ্লেষণ করলে আমরা কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই যা তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি:
১. বৈচিত্র্যকরণ (Diversification): তারা কেউই এক ব্যবসার ওপর নির্ভর করে বসে নেই। যেমন, মার্স পরিবার চকলেটের পাশাপাশি পশুখাদ্য বিক্রি করছে, আল নাহিয়ান তেলের টাকা প্রযুক্তিতে খাটাচ্ছে।
২. পারিবারিক ঐক্য: যেসব পরিবার তাদের সম্পদ ভাগাভাগি না করে একত্রিত রেখেছে (যেমন ওয়ালটন বা হার্মিস), তারাই দীর্ঘমেয়াদে ধনী হয়েছে।
৩. ভবিষ্যৎমুখী বিনিয়োগ: আম্বানিদের গ্রিন এনার্জি বা সৌদিদের নিওম প্রজেক্ট প্রমাণ করে তারা বর্তমানের চেয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি চিন্তিত।
পারিবারিক ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা থাকলে তা যে কতটা বিশাল উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, এই ১০টি পরিবার তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। ২০২৬ সাল এবং তার পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার এই পরিবারগুলোর সম্পদের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


