গুগল সার্চ কনসোলে দেখা যাচ্ছে, ওয়েবসাইটে সার্চ থেকে আসা ক্লিক বেড়েছে। অথচ গুগল অ্যানালিটিক্স ৪ (জিএ৪)-এর প্রতিবেদনে সেই অনুপাতে সেশন বাড়েনি। কোনো কোনো পৃষ্ঠায় উল্টো সেশন কম দেখা যাচ্ছে। মাসিক সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) প্রতিবেদন তৈরির সময় এমন অমিল চোখে পড়লে প্রথম সন্দেহ যায় ব্যবহারকারীর কার্যক্রম শনাক্ত করার ব্যবস্থার দিকে। গুগলের শনাক্তকরণ সংকেত ঠিক আছে তো? অ্যানালিটিক্স কি সব পরিদর্শনের তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে?
এই সন্দেহ অমূলক নয়। কিন্তু প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা পরীক্ষা করার আগে আরও মৌলিক একটি বিষয় বোঝা দরকার। গুগল সার্চ কনসোল এবং জিএ৪ একই ঘটনার হিসাব রাখে না। একটি দেখায় গুগল অনুসন্ধান থেকে কতবার ক্লিক হয়েছে, অন্যটি ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর সেশন ও কার্যক্রমের তথ্য দেয়।
ফলে জিএ৪ ও গুগল সার্চ কনসোলের তথ্যের পার্থক্য মানেই ওয়েবসাইটে কোনো সমস্যা হয়েছে, এমন নয়। আবার সব অমিলকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়াও ভুল। কোন সংখ্যাটি কী বোঝাচ্ছে, তা না জেনে প্রতিবেদন তৈরি করলে ওয়েবসাইটের কার্যকারিতা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
গুগল থেকে ক্লিক এসেছে, কিন্তু সেশনের হিসাব কোথায়?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই ক্লিক আর সেশনের পার্থক্য বুঝতে হবে। গুগল সার্চ কনসোলের কার্যকারিতা প্রতিবেদনে যে ক্লিকের সংখ্যা দেখা যায়, তা গুগলের অনুসন্ধান ফলাফল থেকে ওয়েবসাইটের সংযোগে গণনা হওয়া ক্লিক। প্রদর্শনের সংখ্যা দিয়ে বোঝা যায়, নির্ধারিত নিয়মে সেই সংযোগ কতবার অনুসন্ধান ফলাফলে দেখানো হয়েছে। সঙ্গে ক্লিকের হার ও গড় অবস্থানের তথ্যও পাওয়া যায়।
জিএ৪-এর হিসাব শুরু হয় ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম থেকে। সেখানে সেশন, ব্যবহারকারী, পৃষ্ঠা দেখা, সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন ঘটনার তথ্য রয়েছে।
একজন পাঠক গুগলে কিছু খুঁজে ওয়েবসাইটের একটি নিবন্ধে এলেন। কয়েক মিনিট পর আবার গুগলে ফিরে অন্য কিছু খুঁজলেন। সেখান থেকে একই ওয়েবসাইটের আরেকটি নিবন্ধ খুললেন। সার্চ কনসোল তার নিয়ম অনুযায়ী দুটি ক্লিক গণনা করতে পারে। কিন্তু জিএ৪-এ দুটি আলাদা সেশন তৈরি হওয়ার কথা নয়।
কারণ জিএ৪-এ সাধারণভাবে ৩০ মিনিট নিষ্ক্রিয় থাকার পর একটি সেশন শেষ হয়। প্রয়োজনে এই সময় পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। আগের সেশন সক্রিয় থাকা অবস্থায় আবার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে সেই কার্যক্রম একই সেশনের মধ্যে থাকতে পারে।
এখানেই ক্লিক ও সেশনের হিসাব আলাদা হয়ে যায়।
আবার সার্চ কনসোলের চেয়ে জিএ৪-এ বেশি অর্গানিক সেশন দেখা যাওয়াও সম্ভব। গুগল থেকে প্রথমবার আসা কেউ পরে সরাসরি ওয়েবসাইটে ফিরলে জিএ৪-এর আগমনের উৎস নির্ধারণের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সেশন আগের অর্গানিক উৎসের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। বিষয়টি তথ্যের উৎস নির্ধারণে ব্যবহৃত প্রযোজ্য সময়সীমা এবং উপলব্ধ তথ্যের ওপর নির্ভর করে।
এ জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের ক্লিক আর সেশনের সংখ্যা সমান হবে, এমন প্রত্যাশা করার কারণ নেই। ব্যবহারকারীর হিসাবেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। সার্চ কনসোলের ক্লিক দিয়ে কতজন আলাদা মানুষ ওয়েবসাইটে এসেছেন, তা জানা যায় না। একজন ব্যক্তি একাধিকবার ক্লিক করতে পারেন।
জিএ৪-এর ব্যবহারকারীর সংখ্যাও প্রকৃত মানুষের নিখুঁত গণনা নয়। এটি ব্যবহারকারী শনাক্ত করার জন্য উপলব্ধ পরিচিতি-সংক্রান্ত তথ্য ও নির্বাচিত শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে। সাধারণ প্রতিবেদনে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বলতে মূলত সক্রিয় ব্যবহারকারীদের বোঝানো হয়, আর মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা আলাদা পরিমাপক। কাজেই কোনো গ্রাহককে ওয়েবসাইটের মোট পাঠকসংখ্যা বোঝাতে গিয়ে সার্চ কনসোলের ক্লিকের সংখ্যা ব্যবহার করা ঠিক হবে না।
সব ক্লিকের তথ্য গুগল অ্যানালিটিক্স পর্যন্ত পৌঁছায় না

হিসাবের পদ্ধতি আলাদা হওয়া এক বিষয়। কিন্তু সার্চ কনসোলে ক্লিক থাকার পরও জিএ৪-এ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম না পাওয়ার কারণ কখনো প্রযুক্তিগতও হতে পারে।
সার্চ কনসোল গুগল অনুসন্ধানের ক্লিকের তথ্য সংরক্ষণ করে। জিএ৪-এর সাধারণ ওয়েব পর্যবেক্ষণব্যবস্থার জন্য পৃষ্ঠায় গুগল ট্যাগ বা শনাক্তকরণ সংকেত কাজ করতে হয়। এই দুই ঘটনার মাঝখানে কিছু কার্যক্রমের তথ্য বাদ পড়ার সুযোগ রয়েছে।
পাঠক অনুসন্ধান ফলাফলে ক্লিক করার পর পৃষ্ঠা পুরোপুরি খোলার আগেই সেটি বন্ধ করে দিতে পারেন। দুর্বল ইন্টারনেট, ব্রাউজারের তথ্য সংগ্রহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কিংবা জাভাস্ক্রিপ্ট-সংক্রান্ত সমস্যার কারণেও জিএ৪ প্রয়োজনীয় তথ্য নাও পেতে পারে।
ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাতেও ভুল থাকতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট পৃষ্ঠায় গুগলের শনাক্তকরণ সংকেত বসানো হয়নি, অথবা ট্যাগ ব্যবস্থাপনার সেটিং ঠিক নেই। এমন অবস্থায় সার্চ কনসোলে ক্লিক দেখা গেলেও জিএ৪-এ সেই পৃষ্ঠার কার্যক্রম অনুপস্থিত থাকতে পারে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব পৃষ্ঠায় একই ধরনের সমস্যা হবে না। ওয়েবসাইটের মূল পৃষ্ঠায় অ্যানালিটিক্স ঠিকভাবে কাজ করলেও অন্য কোনো ধরনের পৃষ্ঠায় তথ্য সংগ্রহ ব্যাহত হতে পারে। কুকি ব্যবহারের সম্মতিও এখন এই হিসাবের অংশ। ওয়েবসাইটে সম্মতি ব্যবস্থাপনা চালু থাকলে ব্যবহারকারীর সম্মতি অনুযায়ী অ্যানালিটিক্সের তথ্য সংগ্রহের ধরন বদলায়।
উন্নত সম্মতি ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট কুকিবিহীন সংকেত পাঠানো সম্ভব। গুগলের নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে ব্যবহারকারীর আচরণের পরিসংখ্যানভিত্তিক অনুমানের মাধ্যমে অনুপস্থিত কিছু কার্যক্রমের আনুমানিক হিসাবও তৈরি হতে পারে। কিন্তু সব ওয়েবসাইট এই সুবিধার যোগ্য নয়। সংগৃহীত তথ্যের পরিমাণ, সম্মতির সেটিং এবং ব্যবহারকারী শনাক্ত করার পদ্ধতির ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।
এসব প্রযুক্তিগত বিষয় থেকে একটি ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়। জিএ৪-এ সেশন কম দেখলেই পুরো ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা নষ্ট হয়েছে বলা যাবে না। আগে দেখতে হবে, পার্থক্যটি সব পৃষ্ঠায় একই রকম, নাকি নির্দিষ্ট কিছু পৃষ্ঠায় বেশি। আর যদি নতুন নকশা চালু করা, ট্যাগ ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন বা ওয়েবসাইটের কাঠামো বদলানোর পর অমিল হঠাৎ বেড়ে যায়, তখন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা পরীক্ষা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
একই মাসের প্রতিবেদনও সব দিক থেকে তুলনাযোগ্য নয়
এবার সময়ের হিসাবটি দেখা যাক। গুগল সার্চ কনসোলের সাধারণ কার্যকারিতা প্রতিবেদনে দৈনিক তথ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় অনুযায়ী গণনা করা হয়। বিশেষ ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে স্থানীয় সময় ব্যবহার করা হয়। জিএ৪-এ হিসাব হয় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির জন্য নির্ধারিত সময় অঞ্চল অনুসারে।
বাংলাদেশের কোনো ওয়েবসাইটে জিএ৪-এর সময় অঞ্চল ঢাকা নির্ধারিত থাকলে সার্চ কনসোলের সাধারণ দৈনিক হিসাবের সঙ্গে দিনের শুরু ও শেষ মিলবে না। ফলে দিনের সীমান্তবর্তী সময়ে হওয়া কিছু কার্যক্রম আলাদা তারিখে পড়তে পারে।
শুধু সময় অঞ্চল নয়, তথ্য প্রক্রিয়াকরণের সময়ও আলাদা। সার্চ কনসোলের তথ্য সাধারণত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পাওয়া যায়। জিএ৪-এর সম্পূর্ণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এ জন্য সদ্য শেষ হওয়া দিনের সংখ্যা দিয়ে ওয়েবসাইটে দর্শনার্থীর আগমন বেড়েছে বা কমেছে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত নয়।
আরেকটি বিষয় প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। জিএ৪-এর অর্গানিক অনুসন্ধান মানেই কেবল গুগল থেকে আসা দর্শনার্থী নয়। জিএ৪-এর অর্গানিক অনুসন্ধান বিভাগে গুগল ছাড়াও বিং, ইয়াহু কিংবা অন্য স্বীকৃত সার্চ ইঞ্জিন থেকে আসা দর্শনার্থীদের তথ্য থাকতে পারে। সার্চ কনসোলের অনুসন্ধান ফলাফলের প্রতিবেদন দেখায় গুগল অনুসন্ধানের কার্যক্রম।
এই অবস্থায় জিএ৪-এর সব অর্গানিক সেশনের সঙ্গে সার্চ কনসোলের ক্লিক তুলনা করলে শুরুতেই ভিন্ন পরিধির তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। গুগল থেকে আসা অর্গানিক সেশন আলাদা করতে জিএ৪-এ সেশনের উৎস ও মাধ্যম অনুযায়ী ‘গুগল / অর্গানিক’ নির্বাচন করা যায়। এতে অন্য সার্চ ইঞ্জিনের দর্শনার্থীদের তথ্য বাদ যায়। অবশ্য এরপরও দুটি পরিমাপের সংখ্যা সমান হবে না, কারণ তাদের গণনার পদ্ধতি আলাদা।
সার্চ কনসোলের কোন অনুসন্ধান ধরন নির্বাচন করা হয়েছে, সেটিও দেখতে হবে। ওয়েব, ছবি, ভিডিও ও সংবাদ অনুসন্ধানের তথ্য আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করার ব্যবস্থা রয়েছে। গুগল ডিসকভার ও গুগল নিউজের জন্যও পৃথক কার্যকারিতা প্রতিবেদন আছে।
ওয়েবসাইটের আওতার পার্থক্যও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সার্চ কনসোলের ডোমেইনভিত্তিক প্রপার্টি বিভিন্ন সাবডোমেইন ও সংযোগবিধির তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। নির্দিষ্ট ওয়েব ঠিকানাভিত্তিক প্রপার্টি কেবল তার আওতায় থাকা তথ্য দেখায়।
একটি প্রতিবেদনে পুরো ডোমেইনের হিসাব এবং অন্যটিতে কেবল নির্দিষ্ট অংশের দর্শনার্থীর তথ্য থাকলে সংখ্যায় বড় পার্থক্য দেখা অস্বাভাবিক নয়।
একই নিবন্ধ, কিন্তু দুই জায়গায় আলাদা ওয়েব ঠিকানা
পৃষ্ঠাভিত্তিক প্রতিবেদনে আরও একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। একটি নিবন্ধের মূল ঠিকানার পাশাপাশি মোবাইল সংস্করণ, অতিরিক্ত পরামিতিযুক্ত ওয়েব ঠিকানা অথবা অন্য ঠিকানায় পাঠানোর মাধ্যমে বিকল্প ঠিকানা থাকতে পারে।
সার্চ কনসোল সাধারণভাবে গুগলের নির্বাচিত মূল বা ক্যানোনিক্যাল ওয়েব ঠিকানার অধীনে পৃষ্ঠার কার্যক্রম দেখায়। কিছু পরিস্থিতিতে অবশ্য প্রকৃত ওয়েব ঠিকানার অধীনেও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে জিএ৪-এর প্রবেশপৃষ্ঠার প্রতিবেদনে সেশনের প্রথম পৃষ্ঠা দেখার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ওয়েব ঠিকানার পথ ও অতিরিক্ত পরামিতি ব্যবহার করা হয়।
ফলে সার্চ কনসোলে একটি ওয়েব ঠিকানার অধীনে ক্লিক পাওয়া গেলেও জিএ৪-এ সেশন অন্য প্রবেশপৃষ্ঠার ঠিকানার অধীনে থাকতে পারে। এটি বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম, ব্লগ ও অনলাইন কেনাকাটার ওয়েবসাইটের পৃষ্ঠাভিত্তিক বিশ্লেষণে মনে রাখা প্রয়োজন। একই বিষয়বস্তুর একাধিক ওয়েব ঠিকানা থাকলে শুধু পৃষ্ঠার শিরোনাম মিলিয়ে দুই প্রতিবেদনের তথ্য তুলনা করা যথেষ্ট নয়।
সার্চ কনসোলের নিজের হিসাবও সব সময় মেলে না
সার্চ কনসোলের কার্যকারিতা প্রতিবেদনে মোট ক্লিক যত দেখা যায়, অনুসন্ধান শব্দের তালিকায় থাকা দৃশ্যমান সারিগুলো যোগ করলে অনেক সময় তার চেয়ে কম পাওয়া যায়।
এটি দেখে সার্চ কনসোল ভুল তথ্য দিচ্ছে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এখানে তথ্য প্রকাশের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার জন্য কিছু অনুসন্ধান শব্দের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয় না। সাধারণ সার্চ কনসোলের পর্দায় সারণিতে সর্বোচ্চ ১,০০০টি সারি দেখানোর সীমাও রয়েছে। ফলে মোট হিসাবে থাকা সব অনুসন্ধান শব্দ তালিকায় পাওয়া যায় না।
পৃষ্ঠা অনুযায়ী বাছাই কিংবা অনুসন্ধান ফলাফলে প্রদর্শনের ধরন অনুযায়ী বাছাই ব্যবহার করলেও রেখাচিত্র ও সারণির সংখ্যায় পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
জিএ৪-এর ক্ষেত্রেও বিভিন্ন তথ্য বাছাইয়ের নিয়ম, গোপনীয়তা রক্ষায় তথ্য প্রদর্শনের সীমা এবং ব্যবহারকারী শনাক্ত করার পদ্ধতির প্রভাব রয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনুমানভিত্তিক তথ্য সমন্বয় প্রতিবেদনের সংখ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দুটি প্ল্যাটফর্ম তুলনা করার আগে তাদের নিজস্ব প্রতিবেদনে কী ধরনের তথ্য দেখানো হচ্ছে, সেটি বোঝা প্রয়োজন।
জিএ৪-এ সেশন কম দেখালে কোন জায়গা থেকে পরীক্ষা শুরু করবেন?

অমিলের কারণ খুঁজতে গিয়ে শুরুতেই গুগলের শনাক্তকরণ সংকেত নতুন করে বসানোর দরকার নেই। এতে বিদ্যমান ব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন হতে পারে। প্রথমে একই ওয়েবসাইটের তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে কি না নিশ্চিত করুন। সার্চ কনসোল ও জিএ৪-এ একই সময়সীমা নির্বাচন করুন। সাম্প্রতিক অসম্পূর্ণ দিন বাদ রাখুন।
এরপর সার্চ কনসোলের কার্যকারিতা → অনুসন্ধান ফলাফল অংশে গিয়ে অনুসন্ধানের ধরন, দেশ, যন্ত্র ও পৃষ্ঠা অনুযায়ী তথ্য বাছাইয়ের নিয়ম পরীক্ষা করুন।
জিএ৪-এর প্রতিবেদন → দর্শনার্থী সংগ্রহ → দর্শনার্থী আসার উৎসসংক্রান্ত প্রতিবেদন খুলে সেশনের উৎস ও মাধ্যম নির্বাচন করুন। সেখানে ‘গুগল / অর্গানিক’ সারির সেশন দেখুন।
এখানে ব্যবহারকারী প্রথম কোথা থেকে এসেছেন, সেই উৎসের প্রতিবেদন ব্যবহার করলে তুলনার ভিত্তি বদলে যাবে। কারণ সেটি ব্যবহারকারীর প্রথম আগমনের উৎস বোঝায়। সেশনভিত্তিক বিশ্লেষণের জন্য দর্শনার্থী আসার উৎসসংক্রান্ত প্রতিবেদন বেশি প্রাসঙ্গিক।
যদি কোনো নির্দিষ্ট পৃষ্ঠার তথ্য না মেলে, তাহলে জিএ৪-এর প্রবেশপৃষ্ঠার প্রতিবেদন দেখুন। সাধারণভাবে প্রতিবেদন → সম্পৃক্ততা → প্রবেশপৃষ্ঠার প্রতিবেদন থেকে এটি খোলা যায়। প্রয়োজন হলে সেশনের উৎস ও মাধ্যমকে দ্বিতীয় বিশ্লেষণমাত্রা হিসেবে যোগ করে গুগলের অর্গানিক দর্শনার্থীদের তথ্য আলাদা করুন।
তারপর সার্চ কনসোলের নির্বাচিত মূল ওয়েব ঠিকানার সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে নিন।
এসব যাচাইয়ের পরও বড় অমিল থাকলে গুগল ট্যাগ অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় শনাক্তকরণ সংকেত কাজ করছে কি না পরীক্ষা করুন। জিএ৪-এর তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পৌঁছাচ্ছে কি না বোঝা যায়। আরও বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য ত্রুটি শনাক্তকরণ দৃশ্য ব্যবহার করা সম্ভব, তবে আগে ত্রুটি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা সক্রিয় করতে হবে।
ব্যবহারকারীর সম্মতি-সংক্রান্ত সেটিং, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কর্মীদের কার্যক্রম বাদ দেওয়ার নিয়ম এবং অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থাও পরীক্ষার মধ্যে রাখতে হবে।
কোনো প্রতিবেদন নির্ধারিত জায়গায় না থাকলে সেটি সরিয়ে রাখা হয়েছে কি না বা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে কি না দেখুন। এরপরও সমস্যার কারণ পাওয়া না গেলে ওয়েব নির্মাতা বা অ্যানালিটিক্স বাস্তবায়নকারীকে দিয়ে ট্যাগ ব্যবস্থাপনা ও তথ্যপ্রবাহ পরীক্ষা করানো উচিত।
দুটি প্ল্যাটফর্ম সংযুক্ত করলেই কি হিসাব মিলবে?
না। জিএ৪-এর সঙ্গে সার্চ কনসোল সংযুক্ত করা হলে ক্লিক ও সেশনের গণনার নিয়ম বদলায় না। তবে দুই প্ল্যাটফর্মের তথ্য একই প্রতিবেদন তৈরির পরিবেশে দেখা যায় বলে বিশ্লেষণ সহজ হয়। নিয়মিত এসইও প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়, এমন ওয়েবসাইটের জন্য এই সংযোগ কাজে আসতে পারে।
সংযোগ তৈরির জন্য জিএ৪ প্রপার্টিতে সম্পাদকের অনুমতি এবং সার্চ কনসোল প্রপার্টিতে যাচাইকৃত মালিকের অনুমতি প্রয়োজন। জিএ৪-এর প্রশাসন → পণ্য সংযোগ → সার্চ কনসোল সংযোগ অংশ থেকে নতুন সংযোগ নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সার্চ কনসোল প্রপার্টি এবং ওয়েব তথ্যপ্রবাহ নির্বাচন করে সংযোগ সম্পন্ন করা যায়।
একটি জিএ৪ ওয়েব তথ্যপ্রবাহ কেবল একটি সার্চ কনসোল প্রপার্টির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। একই সার্চ কনসোল প্রপার্টিও একটিমাত্র জিএ৪ ওয়েব তথ্যপ্রবাহের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। ভুল প্রপার্টি নির্বাচন করলে সংযোগ মুছে নতুন করে তৈরি করতে হবে।
সংযোগের পর প্রতিবেদন প্রথমে মূল তালিকায় নাও থাকতে পারে। প্রতিবেদন অংশের সংগ্রহশালা থেকে সার্চ কনসোলের প্রতিবেদনসমষ্টি প্রকাশ করতে হয়। এ জন্য যথাযথ সম্পাদনার অনুমতি প্রয়োজন। সেখানে গুগলের অর্গানিক অনুসন্ধান শব্দ এবং গুগলের অর্গানিক অনুসন্ধান থেকে আসা দর্শনার্থীদের তথ্যসংক্রান্ত দুটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রথমটিতে অনুসন্ধান শব্দ অনুযায়ী ক্লিক ও প্রদর্শনের সংখ্যা দেখা যায়। দ্বিতীয়টিতে প্রবেশপৃষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত গুগল অনুসন্ধান ও অ্যানালিটিক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করা যায়। দেশ ও যন্ত্র অনুযায়ী তথ্য দেখার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে সার্চ কনসোলের পরিমাপের সঙ্গে জিএ৪-এর সব বিশ্লেষণমাত্রা ব্যবহার করা সম্ভব নয়। সমর্থিত বিশ্লেষণমাত্রা মূলত প্রবেশপৃষ্ঠা, দেশ ও যন্ত্রের মধ্যে সীমিত।
তথ্যপ্রাপ্যতার ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত রয়েছে। সার্চ কনসোল সর্বোচ্চ ১৬ মাসের তথ্য সংরক্ষণ করে। সংযুক্ত জিএ৪ প্রতিবেদনে কত দিনের পুরোনো তথ্য পাওয়া যাবে, তা ওয়েব তথ্যপ্রবাহ তৈরির সময় এবং সার্চ কনসোলে মালিকানা যাচাইয়ের তারিখের ওপর নির্ভর করে। সার্চ কনসোল থেকে সংগৃহীত তথ্য সাধারণত ৪৮ ঘণ্টা পর সংযুক্ত জিএ৪ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: গুগল সার্চ কনসোল পারফরম্যান্স রিপোর্ট কীভাবে পড়বেন
এসইও প্রতিবেদনে কোন তথ্য ব্যবহার করা উচিত?
এখানে প্রথমে ঠিক করতে হবে, প্রতিবেদনে কোন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হচ্ছে। গুগল অনুসন্ধানে ওয়েবসাইটের দৃশ্যমানতা, অনুসন্ধান শব্দ, ক্লিক কিংবা পৃষ্ঠার গড় অবস্থান জানতে সার্চ কনসোলের তথ্য ব্যবহার করুন। প্রদর্শনের সংখ্যা, ক্লিক, ক্লিকের হার এবং গড় অবস্থান এসব বিশ্লেষণে কাজে আসে।
তবে গড় অবস্থান একটি গড় হিসাব। প্রতিটি অনুসন্ধানে ওয়েবসাইট একই অবস্থানে ছিল, এমন নয়। অন্যদিকে ওয়েবসাইটে এসে ব্যবহারকারীরা কী করছেন, তা বুঝতে জিএ৪ বেশি প্রাসঙ্গিক। সেশন, সম্পৃক্ত সেশন, সম্পৃক্ততার হার এবং নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তথ্য এখানে ব্যবহার করা যায়।
এই দুই ধরনের তথ্য আলাদা রাখলে প্রতিবেদনের অর্থ পরিষ্কার থাকে। একটি ভুল বিশেষভাবে এড়িয়ে চলা দরকার। সার্চ কনসোলের ক্লিক দিয়ে জিএ৪-এর সেশন ভাগ করে সেটিকে কাঙ্ক্ষিত কার্যসম্পাদনের হার বলা যায় না। এই হার হিসাবের জন্য সংশ্লিষ্ট ঘটনা এবং উপযুক্ত ব্যবহারকারী বা সেশনভিত্তিক গণনার ভিত্তি নির্ধারণ করতে হবে।
বড় ওয়েবসাইটে গুগল লুকার স্টুডিও দিয়ে দুটি প্ল্যাটফর্মের তথ্য নিয়ে সমন্বিত তথ্যচিত্র তৈরি করা সম্ভব। তবে সেখানে পুরো ওয়েবসাইটের প্রদর্শন সংখ্যা ও নির্দিষ্ট ওয়েব ঠিকানার প্রদর্শন সংখ্যার পার্থক্য বোঝা দরকার। পৃষ্ঠাভিত্তিক বিশ্লেষণে নির্দিষ্ট ওয়েব ঠিকানার প্রদর্শন সংখ্যা বেশি প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
জিএ৪-এর প্রবেশপৃষ্ঠার ঠিকানা ও সার্চ কনসোলের নির্বাচিত মূল ওয়েব ঠিকানা আলাদা হলে সরাসরি তথ্য যুক্ত করে ভুল ফলাফল পাওয়া সম্ভব। তথ্য মিলিয়ে যুক্ত করার শনাক্তকারী ঠিক না থাকলে অথবা একই পৃষ্ঠার একাধিক ওয়েব ঠিকানা ব্যবহার করলে সমন্বিত তথ্যচিত্রে সংখ্যা অকারণে বেড়ে যেতে পারে।
তাই সব প্রতিষ্ঠানের জন্য শুরুতেই জটিল তথ্যচিত্র তৈরি করা জরুরি নয়। সাধারণ মাসিক এসইও প্রতিবেদনে সার্চ কনসোলের অনুসন্ধান কার্যকারিতা এবং জিএ৪-এর ব্যবহারকারীর কার্যক্রম পৃথকভাবে দেখানোও যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে।
গ্রাহক বা ব্যবস্থাপনা দলের কাছে প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় গুগল অনুসন্ধান থেকে পাওয়া ক্লিক ও গুগল অর্গানিক অনুসন্ধান থেকে আসা সেশন আলাদা নামে উল্লেখ করুন। ক্লিক বেড়েছে মানেই সমান হারে নতুন ব্যবহারকারী এসেছে, এমন দাবি করা যাবে না। আবার জিএ৪-এ সেশন কম দেখালেই গুগল অনুসন্ধান থেকে কম ক্লিক এসেছে, সেটিও ঠিক নয়।
কোন সময়সীমা, আগমনের উৎস এবং পৃষ্ঠার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি জানানো উচিত। কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা যাচাই করে পাওয়া গেলে তার প্রভাব উল্লেখ করুন। আর কারণ এখনো নিশ্চিত না হলে অনুমানকে চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে দেখাবেন না।
অমিল থাকলেই তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা বদলানোর প্রয়োজন নেই
জিএ৪ ও সার্চ কনসোলের সংখ্যার মধ্যে কত শতাংশ পার্থক্য স্বাভাবিক, তার কোনো নির্দিষ্ট সর্বজনীন সীমা নেই। ওয়েবসাইটের ধরন, তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা, ব্যবহারকারীর সম্মতি এবং আগমনের উৎস অনুযায়ী এই পার্থক্য বদলে যেতে পারে।
তবে আগে যে ওয়েবসাইটে দুই প্রতিবেদনের মধ্যে ধারাবাহিক পার্থক্য ছিল, সেখানে হঠাৎ অমিল অনেক বেড়ে গেলে বিষয়টি পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে নতুন নকশা, ট্যাগ ব্যবস্থাপনা বা ওয়েবসাইটের কাঠামো পরিবর্তনের পর জিএ৪-এর অর্গানিক সেশন কমে গেলে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠার তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা পরীক্ষা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
আবার সার্চ কনসোলে নির্দিষ্ট প্রবেশপৃষ্ঠার ক্লিক থাকলেও জিএ৪-এ কার্যক্রম না পাওয়া গেলে গুগলের শনাক্তকরণ সংকেত, সম্মতির সেটিং, অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা ও তথ্যপ্রবাহ যাচাই করতে হবে।
কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে দুই প্রতিবেদনের সংখ্যা আলাদা থাকলেও উভয়ের নিজস্ব প্রবণতা স্বাভাবিক এবং পরীক্ষায় কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা পাওয়া যায়নি, এমন ক্ষেত্রে শুধু সংখ্যার অমিলকে ত্রুটি বলা যাবে না।
জিএ৪ ও গুগল সার্চ কনসোলের তথ্য বিশ্লেষণে মূল কাজ সংখ্যা সমান করা নয়। কোন প্ল্যাটফর্ম কী হিসাব করছে এবং সেই তথ্য দিয়ে ওয়েবসাইটের কার্যকারিতা সম্পর্কে কতটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, সেটি বোঝা।
নিয়মিত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত পরিমাপক, তারিখ, সময় অঞ্চল ও তথ্য বাছাইয়ের নিয়মের বিবরণ সংরক্ষণ করে রাখুন। পরবর্তী মাসে কোনো বড় পরিবর্তন দেখা দিলে তখন আগের হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সহজ হবে।
দুটি প্ল্যাটফর্মের সংখ্যাকে তাদের নিজস্ব অর্থে ব্যবহার করলে ওয়েবসাইটে দর্শনার্থীদের আগমনের একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যায়। আর কোথাও প্রকৃত প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকলে সেটিও স্বাভাবিক তথ্যের পার্থক্য ভেবে উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা কমে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. গুগল সার্চ কনসোলে ইমপ্রেশন বাড়লেও ক্লিক বাড়ছে না কেন?
ইমপ্রেশন বাড়ার অর্থ হলো, গুগল অনুসন্ধানের ফলাফলে ওয়েবসাইটের পৃষ্ঠা বেশি প্রদর্শিত হচ্ছে। কিন্তু ব্যবহারকারীরা সেই ফলাফলে ক্লিক করছেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য, পৃষ্ঠার শিরোনাম, ফলাফলে অবস্থান এবং অন্যান্য ফলাফলের কারণে ক্লিকের হার কম হতে পারে। এটি সরাসরি জিএ৪-এর তথ্য সংগ্রহের সমস্যা নির্দেশ করে না।
২. জিএ৪-এ ব্যবহারকারীর সংখ্যার চেয়ে সেশন বেশি দেখায় কেন?
একজন ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাধিকবার ওয়েবসাইটে আসতে পারেন। আগের সেশন শেষ হওয়ার পর আবার কার্যক্রম শুরু হলে নতুন সেশন তৈরি হতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীর সংখ্যার চেয়ে সেশন বেশি হওয়া স্বাভাবিক। তবে জিএ৪-এ ব্যবহারকারীর সংখ্যা শনাক্তকরণ পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে, তাই একে প্রকৃত ব্যক্তির নিখুঁত হিসাব ধরা উচিত নয়।
৩. জিএ৪ ও সার্চ কনসোলের সংখ্যার পার্থক্যকে কি হারানো দর্শনার্থীর সংখ্যা বলা যায়?
না। সার্চ কনসোলের ক্লিক থেকে জিএ৪-এর সেশন বাদ দিয়ে পাওয়া সংখ্যাকে হারানো দর্শনার্থীর হিসাব বলা যাবে না। ক্লিক ও সেশনের গণনার নিয়ম আলাদা। একই সেশনে একাধিক ক্লিক থাকতে পারে, আবার কিছু ক্লিকের পর জিএ৪ কার্যক্রম শনাক্ত নাও করতে পারে। প্রকৃত ট্র্যাকিং সমস্যার পরিমাণ জানতে আলাদাভাবে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা প্রয়োজন।
৪. সার্চ কনসোলে একটি পৃষ্ঠার ক্লিক আছে, কিন্তু জিএ৪-এ সেশন শূন্য দেখালে কী করবেন?
প্রথমে দুই প্রতিবেদনের সময়সীমা, ট্রাফিক উৎস এবং ওয়েব ঠিকানা মিলিয়ে দেখুন। সার্চ কনসোলে নির্বাচিত মূল ওয়েব ঠিকানা ও জিএ৪-এর প্রবেশপৃষ্ঠার ঠিকানা আলাদা হতে পারে। এগুলো ঠিক থাকলে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় গুগলের শনাক্তকরণ সংকেত কাজ করছে কি না পরীক্ষা করুন। ব্যবহারকারীর সম্মতি, অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের বিলম্বও বিবেচনায় রাখুন।
৫. জিএ৪ ও সার্চ কনসোলের তথ্য কত দিন পর তুলনা করা ভালো?
সাম্প্রতিক অসম্পূর্ণ দিনের তথ্য দিয়ে চূড়ান্ত তুলনা করা ঠিক নয়। সার্চ কনসোলের তথ্য সাধারণত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পাওয়া যায়। জিএ৪-এর সম্পূর্ণ তথ্য প্রক্রিয়াকরণে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। তাই উভয় প্ল্যাটফর্মের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ শেষ হয়েছে, এমন সময়কাল নির্বাচন করুন। পাশাপাশি সময় অঞ্চলের পার্থক্যও বিবেচনায় রাখতে হবে।

