ফ্রেশার সিভিতে এক্সপেরিয়েন্স না থাকলে প্রজেক্ট কীভাবে দেখাবেন?

সর্বাধিক আলোচিত

স্নাতক শেষ করে প্রথম চাকরির জন্য জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করতে গিয়ে অনেকেই অভিজ্ঞতার অংশে আটকে যান। আগে কোথাও চাকরি করেননি। ফলে সেখানে কী লিখবেন, বুঝে উঠতে পারেন না। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে করা গবেষণা, দলীয় অ্যাসাইনমেন্ট, নিজের তৈরি ওয়েবসাইট কিংবা স্বাধীনভাবে করা কোনো কাজও আপনার দক্ষতার পরিচয় দিতে পারে।

চাকরির অভিজ্ঞতা না থাকলে জীবনবৃত্তান্তে ‘প্রকল্প’ নামে আলাদা একটি বিভাগ রাখুন। সেখানে প্রাসঙ্গিক প্রকল্পের নাম, নিজের দায়িত্ব, ব্যবহৃত দক্ষতা এবং কাজের ফলাফল সংক্ষেপে তুলে ধরতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট বা ব্যক্তিগত উদ্যোগকে চাকরির অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখানো যাবে না।

নতুন চাকরিপ্রার্থীর জীবনবৃত্তান্তে প্রকল্প সাজানোর ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হলো, আপনি যেসব কাজ করেছেন, তার মধ্যে কোনগুলো নিয়োগকর্তার কাছে প্রাসঙ্গিক। একটি ছোট প্রকল্পও কাজে আসতে পারে, যদি সেখানে আপনার দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। আবার বড় কোনো অ্যাসাইনমেন্টও বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, যদি আবেদন করা চাকরির সঙ্গে সেটির সম্পর্ক না থাকে।

কোন ধরনের প্রকল্প জীবনবৃত্তান্তে রাখা যায়?

প্রকল্পের কথা শুনলে অনেকের মাথায় প্রথমে সফটওয়্যার তৈরি বা প্রকৌশলবিষয়ক কাজের কথা আসে। বাস্তবে বিষয়টি এত সীমিত নয়। ব্যবসায় শিক্ষার একজন শিক্ষার্থী বাজার বিশ্লেষণ করেছেন, গণযোগাযোগের শিক্ষার্থী জরিপ চালিয়েছেন কিংবা চারুকলার শিক্ষার্থী কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য পরিচিতিমূলক নকশার নমুনা তৈরি করেছেন। এসব কাজও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সের অংশ হিসেবে করা গবেষণা, থিসিস, সমাপনী প্রকল্প বা পরীক্ষাগারের কাজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকল্প হিসেবে দেখানো যায়। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি ওয়েবসাইট, অ্যাপ, নকশার কাজের নমুনা কিংবা তথ্য বিশ্লেষণের কাজও জীবনবৃত্তান্তে জায়গা পেতে পারে।

কোনো গ্রাহকের জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করলে সেটি পেশাগত অভিজ্ঞতা হিসেবেও উল্লেখ করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবের অনুষ্ঠান আয়োজন, প্রচার পরিকল্পনা বা স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে থাকলে সেগুলোও বিবেচনায় রাখুন।

তবে একটি পার্থক্য মনে রাখা দরকার। ক্লাসে অংশ নেওয়া, উপস্থাপনা তৈরি করা এবং একটি প্রকল্প সম্পন্ন করা এক ধরনের কাজ নয়। ধরা যাক, কোনো কোর্সে আপনাকে একটি বিষয়ের ওপর উপস্থাপনা তৈরি করতে বলা হয়েছিল। সেখানে কয়েকটি তথ্য সংগ্রহ করে উপস্থাপনার জন্য ছবি ও লেখা সাজিয়েছেন। একই কোর্সে যদি নিজে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ করে থাকেন, তাহলে দ্বিতীয় কাজটির মাধ্যমে আপনার গবেষণার দক্ষতা তুলনামূলক স্পষ্টভাবে দেখানো সম্ভব।

জীবনবৃত্তান্তে প্রকল্পের নাম রাখার আগে ভেবে দেখুন, সেখানে নিজের কাজ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু বলতে পারবেন কি না।

আরও পড়ুন: এটিএস (ATS) বান্ধব সিভি কী? মানুষ ও সফটওয়্যার দুজনের জন্য পড়তে সহজ সিভি

চাকরির সঙ্গে মিলিয়ে প্রকল্প বাছাই করুন

চাকরির সঙ্গে মিলিয়ে প্রকল্প বাছাই করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরে অনেক অ্যাসাইনমেন্ট করতে হয়। সবগুলো জীবনবৃত্তান্তে রাখলে নিয়োগকর্তার পক্ষে আপনার প্রাসঙ্গিক দক্ষতা খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই প্রকল্প বাছাইয়ের কাজটি শুরু করুন চাকরির বিজ্ঞাপন থেকে।

বিজ্ঞাপনে কী ধরনের কাজের কথা বলা হয়েছে? কোন সফটওয়্যার বা দক্ষতা চাওয়া হয়েছে? নিয়োগকর্তা কি তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারেন এমন কাউকে খুঁজছেন, নাকি যোগাযোগ ও লেখালেখির দক্ষতা বেশি প্রয়োজন?

এরপর নিজের করা কাজগুলোর সঙ্গে এসব চাহিদা মিলিয়ে দেখুন। তথ্য বিশ্লেষকের পদে আবেদন করলে এক্সেলে তথ্য বিশ্লেষণ, তথ্যের ভুল সংশোধন কিংবা বিভিন্ন হিসাবের সারসংক্ষেপ তৈরির প্রকল্প প্রাসঙ্গিক হতে পারে। সফটওয়্যার নির্মাতার পদের জন্য ওয়েব অ্যাপ, প্রোগ্রামিং ও তথ্যভান্ডারভিত্তিক কাজের নমুনা দেখানো যায়।

অন্যদিকে অনলাইন বিপণনের চাকরিতে বিষয়বস্তু পরিকল্পনা, প্রচারাভিযানের বিশ্লেষণ বা দর্শকের ধরন নিয়ে করা কাজ গুরুত্ব পেতে পারে। হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী বাজেট প্রস্তুত ও আর্থিক বিশ্লেষণের প্রকল্প দেখাতে পারেন। গবেষণাসংক্রান্ত পদের জন্য জরিপ, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিবেদন তৈরির অভিজ্ঞতা প্রাসঙ্গিক।

চিত্র ও নকশাশিল্পীর ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। সেখানে প্রকল্পের বিবরণের পাশাপাশি কাজের নমুনা দেখানোর সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। জীবনবৃত্তান্তে জায়গা কম থাকলে দুই থেকে তিনটি প্রাসঙ্গিক প্রকল্প দিয়ে শুরু করতে পারেন। তবে এটি কোনো বাধ্যতামূলক সংখ্যা নয়। কাজের মান, পদের চাহিদা এবং জীবনবৃত্তান্তে কতটা জায়গা আছে, সেগুলো দেখে সিদ্ধান্ত নিন।

যে প্রকল্পের কাজ ও নিজের অবদান ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবেন, সেটিকে অগ্রাধিকার দিন। কেবল কঠিন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে কোনো প্রকল্প জীবনবৃত্তান্তে রাখার প্রয়োজন নেই।

জীবনবৃত্তান্তের কোথায় প্রকল্পের বিভাগ রাখবেন?

চাকরির অভিজ্ঞতা না থাকলে খালি অভিজ্ঞতার বিভাগ রাখার প্রয়োজন নেই। প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী ‘প্রকল্প’, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকল্প’ কিংবা ‘প্রাসঙ্গিক প্রকল্প’ শিরোনাম ব্যবহার করতে পারেন।

একজন সদ্য স্নাতকের জীবনবৃত্তান্তে প্রথমে নাম, যোগাযোগের তথ্য ও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে পারে। এরপর প্রাসঙ্গিক দক্ষতা এবং প্রকল্পের বিভাগ রাখা যায়। প্রশিক্ষণ, সনদ ও অন্যান্য কার্যক্রমের তথ্য প্রয়োজন অনুযায়ী পরের অংশে থাকবে।

তবে এই ক্রম সবার জন্য এক নয়।

ধরা যাক, আপনি সফটওয়্যার নির্মাতার পদে আবেদন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কয়েকটি প্রাসঙ্গিক অ্যাপ তৈরি করেছেন। সেগুলো আপনার আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলে প্রকল্পের বিভাগটি ওপরে রাখতে পারেন।

আবার একটি উল্লেখযোগ্য থিসিস বা গবেষণার কাজ শিক্ষাগত যোগ্যতার নিচে দেখানোও যুক্তিসংগত। শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করা বা স্বাধীনভাবে কোনো গ্রাহকের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলে সেটি অভিজ্ঞতার বিভাগে রাখা যায়। সে ক্ষেত্রে আপনার প্রকৃত ভূমিকা পরিষ্কার থাকতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্পে কাজ করার অর্থ এই নয় যে আপনি সেখানে নিয়মিত কর্মী ছিলেন।

একই প্রকল্প দুই জায়গায় বিস্তারিত লিখে জীবনবৃত্তান্ত দীর্ঘ করারও প্রয়োজন নেই। অনেক প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরির জন্য এক পাতার জীবনবৃত্তান্ত দিয়ে শুরু করা ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা বেশি থাকলে দীর্ঘ জীবনবৃত্তান্তও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। বাংলাদেশ, ভারত কিংবা অন্য দেশে আবেদন করার সময় নিয়োগকর্তার নির্ধারিত কাঠামো ও নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

একটি প্রকল্পের বিবরণে আসলে কী লিখবেন?

এই জায়গায় অনেকের জীবনবৃত্তান্ত দুর্বল হয়ে যায়। প্রকল্পের নামের নিচে কয়েকটি সফটওয়্যারের নাম লিখে দেন, কিন্তু নিজের কাজ সম্পর্কে তেমন কিছু জানান না। ধরা যাক, আপনি বিভিন্ন হিসাব ও তথ্য এক জায়গায় দেখানোর ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। জীবনবৃত্তান্তে শুধু ‘এক্সেলে তথ্যের সারসংক্ষেপ তৈরি’ লিখলেন। এতে কী বোঝা গেল? আপনি একটি কাজ করেছেন, কিন্তু কোন তথ্য নিয়ে কাজ করেছেন, কীভাবে করেছেন কিংবা শেষ পর্যন্ত কী তৈরি হয়েছে, তা পরিষ্কার নয়।

প্রকল্পের বিবরণ লেখার সময় নামের পাশাপাশি কাজের ধরন ও সময়কাল উল্লেখ করুন। তারপর নিজের দায়িত্ব এবং কাজের ফলাফল তুলে ধরুন।

অস্পষ্ট বর্ণনার বদলে নির্দিষ্ট কাজ লিখুন

ধরা যাক, আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিপণনবিষয়ক প্রকল্পে কাজ করেছেন।

জীবনবৃত্তান্তে লিখলেন:

‘একটি বিপণন প্রকল্পে কাজ করেছি।’

বাক্যটি ভুল নয়। কিন্তু এখানে আপনার কাজ সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানা যাচ্ছে না।

একই কাজের বিবরণ এভাবে দেওয়া যেতে পারে:

‘সম্ভাব্য গ্রাহকদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে বিশ্লেষণ করেছি এবং সাপ্তাহিক প্রকাশনার সময়সূচি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের একটি নমুনা পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছি।’ দ্বিতীয় বাক্যটি থেকে বোঝা যায়, আপনি কী করেছেন এবং কীভাবে করেছেন।

জীবনবৃত্তান্তে ‘তৈরি করেছি’, ‘বিশ্লেষণ করেছি’, ‘নকশা করেছি’, ‘গবেষণা করেছি’, ‘প্রস্তুত করেছি’, ‘পরীক্ষা করেছি’ কিংবা ‘সমন্বয় করেছি’ ধরনের ক্রিয়াপদ ব্যবহার করতে পারেন। তবে শব্দের চাকচিক্যের চেয়ে নির্ভুলতা বেশি জরুরি। কারও নির্দেশনায় কাজ করলে সেটিকে নিজের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করবেন না। প্রতিটি বিবরণ এমনভাবে লিখুন, যাতে পরে নিজের কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে পারেন।

বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রকল্প লিখবেন?

একই নিয়ম মেনে সবাইকে একই ধরনের প্রকল্প তৈরি করতে হবে না। আপনার বিষয়, দক্ষতা এবং আবেদন করা পদের সঙ্গে মিলিয়ে প্রকল্পের বিবরণ বদলাবে।

নিচের উদাহরণগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক। জীবনবৃত্তান্ত তৈরির নমুনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। নিজের বাস্তব কাজ ছাড়া এসব বিবরণ সরাসরি ব্যবহার করবেন না।

তথ্যপ্রযুক্তি বা তথ্য বিশ্লেষণের শিক্ষার্থী

তথ্যপ্রযুক্তি বা তথ্য বিশ্লেষণের শিক্ষার্থী

ধরা যাক, আপনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের খরচের হিসাব বিশ্লেষণ করার জন্য এক্সেলে একটি তথ্যচিত্রভিত্তিক সারসংক্ষেপ তৈরি করেছেন।

প্রকল্পের নাম: শিক্ষার্থীদের মাসিক খরচ বিশ্লেষণ

প্রকল্পের ধরন: ব্যক্তিগত উদ্যোগ

ব্যবহৃত সফটওয়্যার: মাইক্রোসফট এক্সেল

  • খরচের নমুনা তথ্য বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে একটি সুশৃঙ্খল তথ্যতালিকা তৈরি করেছি।
  • পিভট সারণি ও লেখচিত্রের সাহায্যে বিভিন্ন মাসের খরচের ধরন তুলনা করেছি।
  • খরচের শ্রেণিভিত্তিক সারসংক্ষেপ দেখানোর জন্য একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছি।

এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করার বিষয়টি স্পষ্ট। পাশাপাশি তথ্য সাজানো, বিশ্লেষণ করা এবং ফলাফল উপস্থাপনের দক্ষতাও বোঝানো হয়েছে। নমুনা তথ্য ব্যবহার করলে সেটিকে বাস্তব প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলে দাবি করা যাবে না।

বিপণন ও ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোর্সে একটি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইন বিপণন পরিকল্পনা তৈরি করে থাকলে সেটিও প্রকল্প হিসেবে দেখাতে পারেন।

প্রকল্পের নাম: অনলাইন বিপণন ও প্রচারাভিযানের পরিকল্পনা

প্রকল্পের ধরন: বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমভিত্তিক কাজ

  • প্রকাশ্যে পাওয়া প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রচারসামগ্রী বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য গ্রাহকদের বিভিন্ন শ্রেণি চিহ্নিত করেছি।
  • প্রচারের বিষয় এবং প্রকাশনার সময়সূচি নির্ধারণ করে একটি নমুনা পরিকল্পনা তৈরি করেছি।
  • কোর্সের অ্যাসাইনমেন্টের অংশ হিসেবে পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করেছি।

এ ধরনের প্রকল্পে গবেষণা, পরিকল্পনা ও উপস্থাপনার দক্ষতা তুলে ধরা যায়।

তবে পরিকল্পনা তৈরি করা আর বাস্তবে প্রচারাভিযান পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। কোনো প্রচারাভিযান চালানো না হলে বিক্রয় বৃদ্ধি কিংবা গ্রাহক অর্জনের দাবি করবেন না।

গ্রাফিক ডিজাইন বা চিত্রনকশার শিক্ষার্থী

নকশার ক্ষেত্রে শুধু প্রকল্পের বিবরণ পড়েই দক্ষতা বিচার করা কঠিন হতে পারে। তাই কাজের নমুনা দেখানোর ব্যবস্থা রাখা উপকারী। ধরা যাক, আপনি একটি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের প্রতীকচিহ্ন, রং, অক্ষরের নকশা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের নকশা তৈরি করেছেন।

জীবনবৃত্তান্তে লিখতে পারেন:

প্রকল্পের নাম: একটি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান পরিচিতি তৈরি

প্রকল্পের ধরন: ব্যক্তিগত উদ্যোগ

‘একটি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতীকচিহ্ন, অক্ষরের নকশা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারের উপযোগী কয়েকটি নমুনা নকশা তৈরি করেছি।’ এর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কাজের নমুনার লিংক রাখতে পারেন। নিয়োগকর্তা সেখানে আপনার নকশাগুলো দেখতে পারবেন। কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের কাজকে বাস্তব গ্রাহকের জন্য করা প্রকল্প বলে পরিচয় দেবেন না।

হিসাববিজ্ঞান ও অর্থায়নের শিক্ষার্থী

হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী বাজেট প্রস্তুত, আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা পরিকল্পিত ও প্রকৃত ব্যয়ের পার্থক্য নিয়ে কাজ করে থাকলে সেটি জীবনবৃত্তান্তে দেখাতে পারেন।

যেমন:

প্রকল্পের নাম: বাজেট প্রস্তুত ও ব্যয়ের পার্থক্য বিশ্লেষণ

প্রকল্পের ধরন: বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমভিত্তিক কাজ

  • কাল্পনিক আর্থিক তথ্য ব্যবহার করে একটি নমুনা পরিচালন বাজেট প্রস্তুত করেছি।
  • পরিকল্পিত ও প্রকৃত হিসাবের তুলনা করে বাজেটের পার্থক্য চিহ্নিত করেছি।
  • বিশ্লেষণের ফলাফল নিয়ে একটি আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করেছি।

এখানে হিসাব প্রস্তুত ও বিশ্লেষণের দক্ষতা বোঝানো যায়। তবে কাল্পনিক আর্থিক তথ্য ব্যবহার করলে সেটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

দলীয় প্রকল্পে নিজের কাজটুকু আলাদা করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যাসাইনমেন্ট দলগতভাবে করতে হয়। জীবনবৃত্তান্তে এসব প্রকল্প দেখানোর সময় একটি প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার রাখুন: দলের কাজের কোন অংশটি আপনি করেছেন? ধরা যাক, পাঁচজনের একটি দল গবেষণা করেছে। একজন প্রশ্নমালা তৈরি করেছেন, অন্যজন তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং আরেকজন বিশ্লেষণের দায়িত্বে ছিলেন।

আপনি যদি তথ্য বিশ্লেষণ করে থাকেন, সেটিই লিখুন। পুরো গবেষণা একা পরিচালনা করেছেন, এমন ধারণা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

দলীয় প্রকল্পের মাধ্যমে যোগাযোগ, সময় ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের দক্ষতাও দেখানো সম্ভব। তবে জীবনবৃত্তান্তে শুধু ‘দলগত কাজে দক্ষ’ লেখার চেয়ে নিজের দায়িত্ব উল্লেখ করা ভালো। উদাহরণ হিসেবে, দলের কাজের সময়সূচি তৈরি করেছেন এবং সদস্যদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছেন, এমন হলে সেটি লিখতে পারেন।

এই বিবরণ থেকে নিয়োগকর্তা আপনার কাজের ধরন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাবেন।

প্রকল্পের ফলাফল সংখ্যায় না দেখাতে পারলে সমস্যা আছে?

জীবনবৃত্তান্ত লেখার অনেক নির্দেশিকায় অর্জন সংখ্যায় প্রকাশ করতে বলা হয়। পরামর্শটি কাজে লাগতে পারে, কিন্তু সব একাডেমিক বা ব্যক্তিগত প্রকল্পের ফলাফল সংখ্যায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ধরা যাক, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণার ফল কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করা হয়নি। এ অবস্থায় ওই কাজের কারণে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে কিংবা খরচ কমেছে, এমন দাবি করার ভিত্তি নেই।

প্রকল্প শেষে কী তৈরি হয়েছে, সেটিই ফলাফল হিসেবে লিখতে পারেন। সেটি হতে পারে একটি গবেষণা প্রতিবেদন, তথ্যচিত্রভিত্তিক সারসংক্ষেপ, প্রাথমিক পরীক্ষামূলক নমুনা বা নকশা। পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো সমস্যা শনাক্ত করে সংশোধন করে থাকলেও তা উল্লেখযোগ্য।

আবার কতটি জরিপের উত্তর বিশ্লেষণ করেছেন বা কতটি পরীক্ষার ধাপ সম্পন্ন করেছেন, তার নথি থাকলে সেই সংখ্যা ব্যবহার করতে পারেন। জীবনবৃত্তান্তে সংখ্যা যোগ করার জন্য অনুমানভিত্তিক অর্জন লিখবেন না। কোনো ফলাফল পরিমাপ করা না হলে সেটিকে পরিমাপ করা হয়েছে বলে দেখানোর দরকার নেই।

প্রকল্পের সঙ্গে গিটহাব বা কাজের নমুনার লিংক কখন দেবেন?

জীবনবৃত্তান্তে কোনো প্রকল্পের নাম দেখলে নিয়োগকর্তা সেটির নমুনা দেখতে চাইতে পারেন। অনলাইনে কাজ দেখানোর ব্যবস্থা থাকলে প্রাসঙ্গিক লিংক যুক্ত করতে পারেন। সফটওয়্যার তৈরির প্রকল্পের জন্য গিটহাবের কোড সংরক্ষণাগার, নকশার জন্য বিহ্যান্সে রাখা কাজের নমুনা কিংবা গবেষণার জন্য প্রকাশযোগ্য প্রতিবেদন ব্যবহার করা যায়।

তবে যেকোনো লিংক দিলেই হবে না।

জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর আগে লিংক খুলে পরীক্ষা করুন। আপনার উল্লেখ করা কাজটি সেখানে আছে কি না, সেটিও দেখুন। ফাঁকা সংরক্ষণাগার কিংবা অপ্রাসঙ্গিক নমুনায় ভরা কাজের সংগ্রহ আবেদন মূল্যায়নে খুব বেশি সাহায্য নাও করতে পারে।

স্বাধীনভাবে গ্রাহকের জন্য করা কাজের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যবসায়িক নথি, সফটওয়্যারের মূল কোড বা গোপন নকশা প্রকাশ করবেন না। প্রয়োজনে সংবেদনশীল তথ্য বাদ দিয়ে কাজের প্রক্রিয়া ও নিজের অবদানের বিবরণ তৈরি করতে পারেন। তবে সেটি প্রকাশের অনুমতি আছে কি না, আগে নিশ্চিত করুন।

প্রকল্প অসম্পূর্ণ থাকলে জীবনবৃত্তান্তে রাখা যাবে?

কোনো প্রকল্পের কাজ চলছে মানেই সেটি জীবনবৃত্তান্ত থেকে বাদ দিতে হবে, এমন নয়। বাস্তবে কাজ শুরু করেছেন এবং কিছু অংশ সম্পন্ন হয়েছে, এমন হলে প্রকল্পের পাশে ‘কাজ চলমান’ লিখতে পারেন।

উদাহরণ হিসেবে, একটি ওয়েব অ্যাপের ব্যবহারকারী ইন্টারফেস তৈরি করেছেন, কিন্তু তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযোগের কাজ শেষ হয়নি। সে ক্ষেত্রে সম্পন্ন হওয়া অংশটির বিবরণ দিন। পুরো অ্যাপ তৈরি হয়ে গেছে, এমন দাবি করবেন না।

একইভাবে, কোনো গবেষণায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি বলে সেটি গুরুত্বহীন হয়ে যায় না। গবেষণার পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহ কিংবা সমস্যা শনাক্ত করার কাজ আবেদন করা পদের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

তবে ভবিষ্যতে করার ইচ্ছা আছে, এমন প্রকল্পকে চলমান কাজ হিসেবে দেখাবেন না।

উল্লেখযোগ্য কোনো প্রকল্প না থাকলে কী করবেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সবাই বড় গবেষণা, বাস্তব গ্রাহকের কাজ কিংবা উল্লেখযোগ্য কোনো প্রকল্প করার সুযোগ পান না। ফলে জীবনবৃত্তান্তের প্রকল্প বিভাগে রাখার মতো কিছু না থাকাও অস্বাভাবিক নয়। এ ক্ষেত্রে শুধু জীবনবৃত্তান্ত পূরণ করার জন্য পুরোনো অ্যাসাইনমেন্টের নাম বাড়িয়ে লেখার প্রয়োজন নেই। বরং যে ধরনের চাকরিতে আবেদন করতে চান, তার সঙ্গে সম্পর্কিত ছোট একটি স্বাধীন প্রকল্প শুরু করতে পারেন।

তথ্য বিশ্লেষণের কাজ করতে চাইলে ব্যবহারের অনুমতি আছে এমন প্রকাশ্য তথ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন বা তথ্যচিত্র তৈরি করা যায়। বিপণনে আগ্রহী হলে কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রচার পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে পারেন। লেখালেখির চাকরির জন্য নিজের সম্পাদিত নমুনা প্রতিবেদন গুছিয়ে রাখা সম্ভব।

প্রকল্পের পরিধি ছোট হলেও সমস্যা নেই। কাজটি সম্পন্ন করুন এবং দেখানোর মতো নির্দিষ্ট কিছু তৈরি করুন। কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অনুশীলনমূলক প্রকল্প তৈরি করলে সেটিকে সেই প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কাজ হিসেবে উপস্থাপন করবেন না।

একই জীবনবৃত্তান্ত কি সব চাকরিতে পাঠাবেন?

একই শিক্ষার্থীর একাধিক ধরনের দক্ষতা থাকতে পারে। কিন্তু সব দক্ষতা প্রতিটি চাকরির জন্য সমান প্রাসঙ্গিক নয়। ধরা যাক, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আপনি জরিপ করেছেন, এক্সেলে তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন এবং একটি অনুষ্ঠানের প্রচারসামগ্রী তৈরি করেছেন। তথ্য বিশ্লেষকের পদে আবেদন করলে তথ্য বিশ্লেষণের প্রকল্পটিকে গুরুত্ব দিন। আবার বিপণনসংক্রান্ত পদে আবেদন করলে প্রচার পরিকল্পনা বা দর্শকসংক্রান্ত কাজ ওপরে রাখতে পারেন।

পুরো জীবনবৃত্তান্ত প্রতিবার নতুন করে লেখার প্রয়োজন নেই। একটি মূল সংস্করণ সংরক্ষণ করুন। তারপর চাকরির বিজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রকল্পের ক্রম, বিবরণ ও প্রাসঙ্গিক দক্ষতা সংশোধন করুন। বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা কোনো দক্ষতা বাস্তবে কাজে লাগিয়ে থাকলে সেটির নাম জীবনবৃত্তান্তে ব্যবহার করুন। তবে চাকরির বিজ্ঞাপনের সব শব্দ নিজের জীবনবৃত্তান্তে বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।

জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার আগে কয়েকটি ভুল খুঁজে দেখুন

প্রকল্পের বিবরণ যতই ভালো হোক, কিছু সাধারণ ভুলের কারণে সেটি অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। শুধু ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প’ বা ‘চূড়ান্ত অ্যাসাইনমেন্ট’ লিখেছেন? প্রকল্পের প্রকৃত বিষয়টি উল্লেখ করুন। দলীয় কাজের বর্ণনায় নিজের দায়িত্ব বাদ পড়ে গেছে কি না, দেখুন।

কোনো প্রকল্পের নিচে শুধু সফটওয়্যারের নাম থাকলে সেখানে কী কাজ করেছেন, সেটি যোগ করুন। অনুমানভিত্তিক সফলতার হার, গ্রাহকসংখ্যা বা আর্থিক ফলাফল থাকলে সরিয়ে দিন। একই কাজ শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রকল্পের বিভাগে বারবার লিখেছেন কি না, সেটিও পরীক্ষা করুন।

অনলাইনে আবেদন করার সময় নিয়োগকর্তার নির্ধারিত ফাইলের ধরন, জীবনবৃত্তান্তের বিন্যাস এবং জমা দেওয়ার নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এরপর সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতির কথা ভাবুন। জীবনবৃত্তান্তে লেখা প্রতিটি প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে পারবেন তো? কেন কাজটি করেছিলেন, নিজের দায়িত্ব কী ছিল, কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং কোথায় সমস্যায় পড়েছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা থাকা দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদন, নকশার ফাইল, কোড বা অন্য প্রাসঙ্গিক নথি নিজের কাছে গুছিয়ে রাখুন। প্রয়োজনে সেগুলোর সাহায্যে নিজের কাজ ব্যাখ্যা করতে পারবেন।

অভিজ্ঞতার ঘাটতি নয়, নিজের কাজের পরিচয় দিন

প্রথম চাকরির জীবনবৃত্তান্তে অভিজ্ঞতার বিভাগ খালি থাকতেই পারে। সেটি আড়াল করার জন্য কোনো কাল্পনিক পদবি বা প্রতিষ্ঠানের নাম যোগ করার প্রয়োজন নেই। নতুন চাকরিপ্রার্থীর জীবনবৃত্তান্তে প্রকল্প সাজাতে প্রথমে নিজের সম্পন্ন করা কাজগুলোর তালিকা করুন। তারপর আবেদন করতে চাওয়া পদের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রকল্পগুলো বেছে নিন। কোনটিতে কী দায়িত্ব পালন করেছেন, কী দক্ষতা ব্যবহার করেছেন এবং কাজ শেষে কী তৈরি হয়েছে, সেটি লিখুন।

সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট কাজের নমুনা সংযুক্ত করুন। আর প্রকল্পের বিবরণ এমন রাখুন, যাতে সাক্ষাৎকারে প্রতিটি দাবি ব্যাখ্যা করতে পারেন।

ভালোভাবে উপস্থাপিত প্রকল্প চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। তবে আগে কোথাও চাকরি না করলেও আপনি কী ধরনের কাজ করতে পারেন, সে সম্পর্কে নিয়োগকর্তাকে ধারণা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। প্রথম জীবনবৃত্তান্তে এই স্বচ্ছতাই বজায় রাখা প্রয়োজন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রকল্প কি জীবনবৃত্তান্তে রাখা যাবে?

হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রকল্পও জীবনবৃত্তান্তে রাখা যায়, যদি সেটি আবেদন করা চাকরির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হয়। প্রকল্পটি কত বছর আগে করেছেন, তার চেয়ে সেখানে কী কাজ করেছেন এবং কোন দক্ষতা ব্যবহার করেছেন, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই বিষয়ে সাম্প্রতিক ও উন্নত কাজ থাকলে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো।

২. কোনো প্রকল্পের সনদ না থাকলেও কি জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করা যায়?

অবশ্যই। ব্যক্তিগত বা একাডেমিক প্রকল্প জীবনবৃত্তান্তে দেখানোর জন্য আলাদা সনদ থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে প্রকল্পটি সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য দিতে হবে। প্রয়োজনে কাজের নমুনা, প্রতিবেদন, নকশা বা তৈরি করা সফটওয়্যার দেখাতে পারলে আপনার অবদান বোঝানো সহজ হবে।

৩. অনলাইন প্রশিক্ষণ দেখে তৈরি করা প্রকল্প কি জীবনবৃত্তান্তে দেখানো যায়?

দেখানো যায়, তবে কাজটির প্রকৃত ধরন গোপন করা উচিত নয়। কোনো প্রশিক্ষকের নির্দেশনা অনুসরণ করে হুবহু প্রকল্প তৈরি করলে সেটিকে সম্পূর্ণ স্বাধীন উদ্যোগ হিসেবে দেখাবেন না। প্রশিক্ষণের বাইরে নিজের উদ্যোগে নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত করলে বা কোনো সমস্যা সমাধান করলে সেই অবদান আলাদাভাবে উল্লেখ করতে পারেন।

৪. জীবনবৃত্তান্তে প্রকল্পের নাম বাংলায় লিখবেন, নাকি ইংরেজিতে?

এটি নির্ভর করবে চাকরির আবেদনের ভাষা ও নিয়োগকর্তার নির্দেশনার ওপর। ইংরেজিতে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করলে প্রকল্পের নাম ও বিবরণ ইংরেজিতে রাখাই সাধারণত সুবিধাজনক। বাংলায় আবেদন করলে বাংলায় লেখা যায়। তবে সফটওয়্যার, প্রযুক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক নাম অকারণে পরিবর্তন করবেন না। পুরো জীবনবৃত্তান্তে ভাষার সামঞ্জস্য বজায় রাখুন।

৫. প্রকল্পের কাজ অনলাইনে প্রকাশ করা না গেলে কীভাবে দক্ষতা দেখাবেন?

সব প্রকল্পের নমুনা প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে গ্রাহকের গোপনীয় তথ্য বা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নথি নিয়ে কাজ করলে প্রকাশের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। এমন অবস্থায় অনুমোদিত তথ্য ব্যবহার করে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, নিজের দায়িত্ব, ব্যবহৃত পদ্ধতি এবং কাজের ফলাফল সংক্ষেপে লিখুন। গোপনীয়তার শর্ত ভঙ্গ করে কোনো নথি বা তথ্য প্রকাশ করবেন না।

সর্বশেষ