প্রজাতন্ত্র দিবস ২০২৬: বাস কন্ডাক্টর থেকে আদিবাসী শিল্পী—ভারতের নেপথ্য নায়কদের পদ্মশ্রী সম্মাননা

সর্বাধিক আলোচিত

ভারতে আরও একটি জানুয়ারি মাস। সকালের বাতাসে হিমেল স্পর্শ, সন্ধ্যাটাও বেশ ঠান্ডা। কিন্তু পুরো দেশজুড়ে মানুষের হৃদয়ে উষ্ণতার এক ভিন্ন আমেজ। মানুষের মুখে মুখে আলোচনা, ঠোঁটে হাসি, আর হাঁটাচলায় গর্বের ছাপ। সবাই কথা বলছে প্রজাতন্ত্র দিবস নিয়ে।

প্রজাতন্ত্র দিবস মানে শুধু ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ বা সাধারণ ছুটির দিন নয়। দিল্লির রাজপথের কুচকাওয়াজও এর একমাত্র পরিচয় নয়। এই দিনটি ভারতের আত্মার স্পন্দন। এটি এমন একটি দিন, যেদিন ‘পদ্ম পুরস্কার’ পুরো জাতিকে মনে করিয়ে দেয়—ক্ষমতা বা খ্যাতির চেয়েও সেবা, আত্মত্যাগ এবং নীরবে করে যাওয়া কাজের মূল্য অনেক বেশি। এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়, ভারতের প্রতিটি মানুষের গুরুত্ব রয়েছে। মনে করিয়ে দেয়, ভারতের সংবিধান শুধু কাগজের কিছু শব্দ নয়; বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য এবং মর্যাদার প্রতীক।

প্রতি বছরের মতো এবারও প্রজাতন্ত্র দিবসের সঙ্গে ঘোষিত হয়েছে পদ্ম পুরস্কার। তবে এবারের পুরস্কার তালিকা একটু ভিন্ন। এবার খ্যাতি বা যশের চেয়ে সেবা, অদম্য জেদ এবং নিঃস্বার্থ অবদানকে বেশি সম্মান জানানো হয়েছে। ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ এই বেসামরিক সম্মাননা এবার এমন মানুষদের দেওয়া হয়েছে, যারা খুব সাধারণ বা অসাধারণ উপায়ে ভারতকে আরও ভালো একটি রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন।

এবারের তালিকায় কোনো চমকপ্রদ সেলিব্রেটি বা মিডিয়ার বড় বড় নাম নেই। বরং তালিকায় উঠে এসেছে এমন কিছু নাম, যাদের গল্প যেন ভারতের হৃদস্পন্দন। খুব সাধারণ ঘর থেকে উঠে আসা মানুষ, যারা নীরবে অন্যের জীবন বদলে দিয়েছেন, অথচ কখনোই প্রচারের আলো চাননি। এই সাধারণ মানুষগুলোর স্বীকৃতিই এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসকে অবিস্মরণীয় করে তুলেছে।

আসুন, এমন তিনজন মানুষের গল্প শোনা যাক।

পদ্মশ্রী সম্মাননা ২০২৬: 

আঙ্কে গৌড়া: সকলের জন্য লাইব্রেরি গড়ে তোলা এক বাস কন্ডাক্টর

Anke Gowda

কর্নাটকের মহীশূরের (মাইসুরু) কাছে হারালাহাল্লি নামের ছোট্ট এক গ্রামে থাকেন আঙ্কে গৌড়া। জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি ছিলেন নিতান্তই সাধারণ এক কর্মজীবী। যৌবনে কাজ করেছেন বাস কন্ডাক্টর হিসেবে, পরে কাজ করেছেন চিনিকলে। খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন, কিন্তু তার ছিল এক বিশাল ভালোবাসা—বই।

২০ বছর বয়সে, যখন তিনি প্রথম চাকরিতে ঢোকেন, তখন থেকেই বই সংগ্রহ শুরু করেন। সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস—প্রায় সব বিষয়ের বই। ধীরে ধীরে তার সংগ্রহ বাড়তে থাকে। একসময় নিজের বাড়িতে আর বই রাখার জায়গা হচ্ছিল না। তাই বইগুলোর জন্য তিনি তৈরি করলেন একটি আলাদা জায়গা, নাম দিলেন ‘পুস্তক মানে’ (Pustak Mane), যার অর্থ ‘বইয়ের ঘর’।

এটি কোনো সাধারণ লাইব্রেরি নয়। কয়েক দশকের মধ্যে এটি এমন এক জায়গায় পরিণত হয়েছে, যাকে ভারতের বৃহত্তম ‘ফ্রি-অ্যাকসেস’ বা সবার জন্য উন্মুক্ত লাইব্রেরি বলা হচ্ছে। এখানে ২০টিরও বেশি ভাষার দশ লক্ষাধিক বই রয়েছে, যার মধ্যে আছে দুর্লভ বিদেশি গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপি।

পড়াশোনা ও শেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে। পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থী, প্রাচীন লিপি নিয়ে কাজ করা গবেষক, লেখক, চিন্তাবিদ—এমনকি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থী ও পণ্ডিতরাও এখানে আসেন।

আঙ্কে গৌড়া এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি তার লাইব্রেরিতে কোনো ফি রাখেননি। কোনো মেম্বারশিপ কার্ডেরও প্রয়োজন নেই। যে কেউ এখানে এসে বই পড়তে পারেন।

এই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে গত পাঁচ দশক ধরে নিজের আয়ের সিংহভাগ বই কিনতেই খরচ করেছেন আঙ্কে। লাইব্রেরি বড় করতে তিনি মহীশূরে নিজের বাড়িটিও বিক্রি করে দিয়েছেন।

প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করেছে। সাধারণ অবস্থা থেকে উঠে আসা এই মানুষটি আজ সবার জন্য জ্ঞানের এক অভয়ারণ্য গড়ে তোলার স্বীকৃতি পেলেন। আঙ্কে গৌড়া আজও তার বইগুলোর মাঝেই থাকেন। নীরবে বইগুলো আগলে রাখেন, আগত পাঠকদের স্বাগত জানান এবং বিশ্বাস করেন—বই সবার জন্য বিনামূল্যে হওয়া উচিত।

ডা. আর্মিদা ফার্নান্দেজ : নবজাতকদের জীবন বাঁচাতে নিবেদিতপ্রাণ এক চিকিৎসক

Dr Armida Fernandes

মুম্বাইয়ের ব্যস্ত নগরীতে নীরবে কাজ করে যাওয়া আরেক সংগ্রামী নারী ডা. আর্মিডা ফার্নান্দেস। তিনি একজন শিশু বিশেষজ্ঞ, যার কাজ অসংখ্য শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছে। যদিও চিকিৎসা জগতের বাইরে খুব কম মানুষই এতদিন তার নাম জানতেন।

ডা. ফার্নান্দেসের বিশ্বাস ছিল খুব সহজ—প্রতিটি শিশুর জীবনে একটি শক্তপোক্ত শুরু প্রয়োজন। অনেক হাসপাতালে নবজাতক দুর্বল বা অপরিণত হলে ফর্মুলা দুধ দেওয়া হয়। এটি কাজ দিলেও মায়ের বুকের দুধের মতো প্রাকৃতিক পুষ্টি এতে থাকে না। মায়ের দুধে থাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি, অ্যান্টিবডি এবং জীবনশক্তি।

তাই ডা. ফার্নান্দেস ভারতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন। তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন এশিয়ার প্রথম ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’ বা মাতৃদুগ্ধ ব্যাংক।

এটি এমন একটি জায়গা যেখানে সুস্থ মায়েরা তাদের বুকের দুধ দান করেন। সেই দুধ সতর্কতার সাথে পরীক্ষা ও প্রক্রিয়াজাত করে এমন নবজাতকদের দেওয়া হয় যাদের এটি খুব প্রয়োজন—যাদের মায়েরা পর্যাপ্ত দুধ দিতে পারছেন না, বা যাদের ছোট্ট শরীর মায়ের দুধ ছাড়া বাঁচতে পারবে না।

এই মিল্ক ব্যাংকের কারণে হাজার হাজার শিশু আজ বেঁচে থাকার নতুন আশা পেয়েছে। তারা সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে, পরিবারগুলো দেখছে নতুন স্বপ্ন। ডা. ফার্নান্দেস কখনোই খবরের শিরোনাম হতে চাননি। তিনি শুধু প্রয়োজনটা বুঝেছিলেন এবং তা পূরণ করেছেন। নীরবে, একনিষ্ঠভাবে কাজ করে গেছেন। প্রজাতন্ত্র দিবসে তিনিও অন্য পদ্মশ্রী প্রাপকদের সাথে দাঁড়িয়ে তার জীবন রক্ষাকারী অবদানের স্বীকৃতি গ্রহণ করলেন।

ভিকাল্যা লাডক্যা ঢিন্ডা: আদিবাসী সংস্কৃতির সুর জিইয়ে রাখা শিল্পী

Bhiklya Ladakya Dhinda

এরপর যার কথা বলব, তিনি ভিকলিয়া লাদাকিয়া ধিন্দা। নামটি অনেকের কাছে অপরিচিত হতে পারে, কিন্তু এখন তা জাতির স্মৃতিতে গেঁথে গেছে।

ভিকলিয়া মহারাষ্ট্রের ৯০ বছর বয়সী এক আদিবাসী সংগীতশিল্পী। তিনি বাজান ‘তারপা’ (Tarpa)—লাউ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি এক ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, যা থেকে বের হয় তার সম্প্রদায়ের নিজস্ব গভীর ও ছন্দময় সুর। আধুনিক ও বিশ্বায়নের যুগে যখন তারপার মতো যন্ত্রগুলো হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল, তখন ভিকলিয়া হাল ছাড়েননি।

প্রতিদিন তিনি বাজাতেন। উৎসবে, অনুষ্ঠানে, শিশুদের জন্য যারা আগে কখনো এই সুর শোনেনি, প্রতিবেশীদের জন্য—যে কেউ শুনতে চাইলেই তিনি বাজাতেন। তিনি খ্যাতির জন্য বা পুরস্কারের জন্য বাজাননি। তিনি বাজিয়েছেন কারণ এই সংগীত তার অস্তিত্বের অংশ, তার শেকড়ের অংশ।

তিনি তরুণ প্রজন্মকে শিখিয়েছেন কীভাবে যন্ত্রটি ধরতে হয়, কীভাবে তালের সঙ্গে শ্বাস নিতে হয়, কীভাবে নীরবতা ভেঙে সুর তুলতে হয়। তিনি তার সম্প্রদায়ের অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে এক জীবন্ত সেতুবন্ধনে পরিণত হয়েছেন।

প্রজাতন্ত্র দিবসে রাষ্ট্র তার এই আজীবনের সাধনাকে স্বীকৃতি দিয়ে পদ্মশ্রী প্রদান করেছে। ৯০ বছর বয়সে তার এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সংস্কৃতি কোনো মৃত বস্তু নয় যা কেবল জাদুঘর বা পাঠ্যবইয়ে থাকে। মানুষ যখন সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, তখনই তা টিকে থাকে।

এই গল্পগুলো আমাদের কী শেখায়?

আপাতদৃষ্টিতে এই তিনটি জীবনের মধ্যে কোনো মিল নেই। একজন বাস কন্ডাক্টর, একজন ডাক্তার এবং একজন আদিবাসী শিল্পী। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই দেখা যাবে তাদের গল্পের মোহনা এক। তারা সবাই অন্যের সেবা করেছেন। টাকার জন্য নয়, প্রশংসার জন্য নয়, খ্যাতির জন্য নয়।

তারা সেবা করেছেন কারণ তারা জানতেন তারা পরিবর্তন আনতে পারেন। কেউ তাদের বলেনি, তবুও তারা এগিয়ে এসেছেন। তারা বিশ্বাস করতেন জীবন মানে কেবল রুটিন মাফিক চলা নয়। আর তাদের সেই বিশ্বাসই হাজারো মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল ভিত্তিও এটাই। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারত একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। শুধু স্বাধীন নয়, বরং জনগণের দ্বারা পরিচালিত, নিজেদের তৈরি এক সংবিধানের অধীনে। যে সংবিধান ঘোষণা করে—প্রতিটি নাগরিক সমান, প্রতিটি কণ্ঠস্বর মূল্যবান এবং প্রতিটি জীবন অর্থবহ।

যখন রাষ্ট্র পদ্ম পুরস্কারের মতো সম্মাননা ঘোষণা করে, তখন এটি শুধু মেডেল দেওয়া নয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র সবাইকে বলে: “আমরা তোমাকে দেখছি। আমরা তোমাকে শুনছি। আমরা তোমাকে মূল্যায়ন করছি।”

এ বছর সেই বার্তাটি আরও জোরালো হয়েছে। মনোযোগ আকর্ষণের জন্য যেখানে হাজারো মানুষ চিৎকার করছে, সেখানে এই ‘নিভৃতচারী বীরেরা’ আলাদা হয়ে দাঁড়িয়েছেন—তাদের নীরব কাজের মাধ্যমে, তাদের প্রভাবের মাধ্যমে।

সারা ভারতে প্রজাতন্ত্র দিবস

ভারতজুড়ে চিরাচরিত আড়ম্বরের সাথেই প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হয়েছে। কুচকাওয়াজ, পতাকা উত্তোলন, গান আর উল্লাসে মেতেছিল দেশ।

নয়া দিল্লির রাজপথে বাবা-মায়ের সাথে শিশুরা দাঁড়িয়েছিল। নিখুঁত সজ্জায় কুচকাওয়াজ করেছে সৈন্যরা। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে উড়েছে জাতীয় পতাকা। দেশের গানে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

কিন্তু এর মাঝেও ছিল ছোট ছোট কিছু মুহূর্ত। প্রত্যন্ত গ্রামে শিশুরা গর্বভরে পতাকাকে স্যালুট জানিয়েছে। শহরে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সংবিধানের পাঠ দিয়েছেন। ঘরে ঘরে পরিবারগুলো টিভিতে কুচকাওয়াজ উপভোগ করেছে। আর হাসপাতাল, লাইব্রেরি ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে সাধারণ নাগরিকরা তাদের কাজ চালিয়ে গেছেন।

এটাই প্রজাতন্ত্র দিবস। সবার দিন। এটি শুধু বড় আয়োজনের দিন নয়, বরং ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে জাতি গড়ার দিন। কারণ একটি জাতি মানে শুধু তার ইমারত নয়, আইন নয়—জাতি মানে তার মানুষ।

কোটি কোটি মানুষ যারা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধান্ত নেয়—সাহায্য করার, গড়ার, রক্ষা করার, শেখানোর, সুস্থ করার বা সৃষ্টি করার। লক্ষ-কোটি বার নেওয়া এই সিদ্ধান্তগুলোই একটি প্রজাতন্ত্র তৈরি করে। আর এ কারণেই প্রজাতন্ত্র দিবস এত গুরুত্বপূর্ণ।

কেন এই গল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ?

আমরা প্রতিদিন নানা খবর শুনি। কিছু ভালো, কিছু খারাপ, আর বেশিরভাগই মাঝামাঝি। কিন্তু আঙ্কে গৌড়া, ডা. ফার্নান্দেস বা ভিকলিয়ার মতো গল্পগুলো আমাদের বাস্তব কিছু মনে করিয়ে দেয়।

তারা মনে করিয়ে দেন, মহত্ত্ব সবসময় ক্ষমতা থেকে আসে না। প্রায়ই তা আসে জীবনের উদ্দেশ্য বা ‘পারপাস’ থেকে। অন্যের সেবা করার জন্য কোনো পদবির প্রয়োজন হয় না, শুধু কাজ করার ইচ্ছাটাই যথেষ্ট। এমনকি সবচেয়ে নিভৃত জীবনও লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আপনি যখন এই গল্পগুলো পড়েন, তখন শুধু দেশের জন্য গর্ববোধ হয় না, মানুষের ওপর বিশ্বাস ফিরে আসে। যখন কেউ বলে “আমি সাহায্য করতে পারি” এবং সত্যিই তা করে দেখায়—তখন কী ঘটতে পারে, তা আমরা দেখি।

প্রজাতন্ত্র দিবস মানুষের এই সম্ভাবনারই উদযাপন। শুধু ইতিহাসের নয়, প্রতিষ্ঠানের নয়—বরং মানবিক সম্ভাবনার। যখনই একজন মানুষ আরেকজনকে বুদ্ধি, সমাজ বা আবেগের দিক থেকে উপরে তোলে, তখনই প্রজাতন্ত্র দিবসের চেতনা বেঁচে থাকে।

তাই এই প্রজাতন্ত্র দিবসে…

একটু থামুন। ভাবুন এই দিনটির মর্মার্থ কী। শুধু কুচকাওয়াজ নয়, পুরস্কার বা ভাষণ নয়। মনে রাখুন সেই মানুষদের কথা। সেই কোটি কোটি ভারতীয়দের কথা যারা একটি সুন্দর আগামী গড়ছেন। এবারের পদ্মশ্রী পাওয়া সেই নেপথ্যের নায়কদের কথা, যাদের কাজ হয়তো প্রতিদিন খবরের কাগজের প্রথম পাতায় আসে না, কিন্তু যাদের প্রভাব যেকোনো শিরোনামের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল।

সাধারণ মানুষ, যারা অসাধারণ কাজ করছেন। যারা পাওয়ার আশা না করেই সেবা করছেন। জীবনকে সুন্দর করছেন। এটাই প্রজাতন্ত্র দিবসের আসল গল্প।

সর্বশেষ