কম্পিউটারের ফাইল হঠাৎ খুলছে না। ছবির নাম বদলে গেছে, কাজের নথিতে ক্লিক করলেও কিছু হচ্ছে না। তারপর চোখে পড়ল একটি বার্তা—ফাইল ফেরত চাইলে টাকা দিতে হবে।
র্যানসমওয়্যার আক্রান্ত অনেক ব্যবহারকারী সমস্যাটি প্রথম বুঝতে পারেন এই পর্যায়ে। কিন্তু আক্রমণের শুরু সাধারণত আরও আগে। হয়তো কোনো ইমেইলের সংযুক্তি খোলা হয়েছিল, অচেনা সফটওয়্যার ইনস্টল করা হয়েছিল, কিংবা বহুদিন ধরে হালনাগাদ না করা কোনো প্রোগ্রামের দুর্বলতা কাজে লাগানো হয়েছে।
তাই র্যানসমওয়্যার প্রতিরোধ বলতে শুধু সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করাকে বোঝালে প্রস্তুতি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের এমন ব্যাকআপ দরকার, যেটি মূল কম্পিউটার আক্রান্ত হলেও অক্ষত থাকবে। পাশাপাশি কম্পিউটার, অনলাইন অ্যাকাউন্ট এবং দৈনন্দিন ফাইল ব্যবহারের অভ্যাসও নিরাপদ রাখতে হবে।
র্যানসমওয়্যার হলে আসলে কী ঘটে
সব র্যানসমওয়্যার একই কাজ করে না। সবচেয়ে পরিচিত ধরনের আক্রমণে ছবি, নথি, হিসাবের ফাইল, ডেটাবেস কিংবা কাজের প্রকল্প এনক্রিপ্ট করে দেওয়া হয়। কম্পিউটার চালু থাকে, কিন্তু প্রয়োজনীয় ফাইল আর ব্যবহার করা যায় না। এরপর ডিক্রিপশন চাবি দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ চাওয়া হয়।
আবার কিছু র্যানসমওয়্যার পুরো কম্পিউটার ব্যবহারে বাধা দেয়। এগুলোকে সাধারণভাবে লকার র্যানসমওয়্যার বলা হয়।
আরেক ধরনের আক্রমণ আরও সমস্যাজনক। আক্রমণকারী প্রথমে তথ্য কপি করে নেয়, তারপর ফাইল এনক্রিপ্ট করে। অর্থ না দিলে সেই তথ্য প্রকাশের হুমকিও দিতে পারে। এই কৌশলটি সাধারণভাবে ডাবল এক্সটরশন নামে পরিচিত।
এ কারণেই ব্যাকআপ সব সমস্যার সমাধান নয়। ভালো ব্যাকআপ থাকলে এনক্রিপ্ট হওয়া ফাইল ফেরত পাওয়া সম্ভব হতে পারে, কিন্তু তথ্য আগে চুরি হয়ে গেলে সেই গোপনীয়তার ক্ষতি আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না।
আরও পড়ুন: Phishing Message চেনার ১২টি লক্ষণ: SMS, Email ও Messenger-এর উদাহরণ
আক্রমণ শুরু হয় কোথা থেকে
র্যানসমওয়্যার নিয়ে ভাবলে অনেকের মাথায় জটিল হ্যাকিংয়ের ছবি আসে। বাস্তবে প্রথম ধাপটি প্রায়ই অনেক সাধারণ।
ইমেইলের সংযুক্তি

পরিচিত প্রতিষ্ঠান, ডেলিভারি সেবা, ব্যাংক, সহকর্মী বা সম্ভাব্য গ্রাহকের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ইমেইল পাঠানো হতে পারে। সংযুক্তিতে থাকতে পারে চালান, জীবনবৃত্তান্ত, মূল্যপ্রস্তাব বা পেমেন্টের নথি।
ফাইলের নাম স্বাভাবিক দেখালেই সেটি নিরাপদ—এমন ধরে নেওয়া বিপজ্জনক। কোনো লিংকে ক্লিক করার পর আলাদা ফাইল নামিয়ে চালাতে বলা হলেও একই সতর্কতা দরকার।
ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটি বেশ বাস্তব। নতুন গ্রাহক জিপ ফাইল, স্ক্রিপ্ট বা প্রকল্পের প্যাকেজ পাঠিয়েছেন মানেই সেটি সরাসরি খোলা উচিত নয়। ফাইলের ধরন এবং প্রেরকের পরিচয়—দুটিই আগে দেখা দরকার।
চুরি হওয়া পাসওয়ার্ড
দূর থেকে কম্পিউটারে প্রবেশের সুবিধা চালু থাকলে দুর্বল বা চুরি হওয়া পাসওয়ার্ড আক্রমণকারীর কাজ সহজ করে দিতে পারে।
রিমোট ডেস্কটপ বা এ ধরনের সেবা প্রয়োজন হলে বহুস্তরীয় পরিচয় যাচাই, সীমিত প্রবেশাধিকার এবং ভালো পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা দরকার। ব্যবহারই না করলে অকারণে সেবা চালু রাখার কারণ নেই।
ইমেইল অ্যাকাউন্ট দখলও এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইমেইল থেকে অন্য অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলানোর লিংক, ক্লাউডের ফাইল কিংবা সংযুক্ত সেবায় যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
জিমেইলে অচেনা ডিভাইস বা সন্দেহজনক প্রবেশ দেখা গেলে Editorialge-এর জিমেইল হ্যাক হয়েছে কি না বুঝবেন কীভাবে গাইডটি কাজে লাগতে পারে।
পুরোনো সফটওয়্যার
অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার, পিডিএফ রিডার বা অফিস সফটওয়্যারে নিরাপত্তা দুর্বলতা পাওয়া গেলে পরে তার সংশোধনী প্রকাশ করা হয়। সেই হালনাগাদ না নিলে পরিচিত দুর্বলতাটি কম্পিউটারে থেকেই যায়।
তাই শুধু উইন্ডোজ আপডেট দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়। যেসব সফটওয়্যার নিয়মিত ব্যবহার করেন, সেগুলো এখনও নিরাপত্তা হালনাগাদ পাচ্ছে কি না সেটিও দেখা দরকার।
ক্র্যাক করা সফটওয়্যার
মূল্য পরিশোধের সফটওয়্যার বিনামূল্যে পাওয়ার আশায় অচেনা সাইট থেকে ইনস্টলার নামানো বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে। পরিবর্তিত ইনস্টলার বা কী-জেনারেটরের সঙ্গে ক্ষতিকর সফটওয়্যার থাকতে পারে।
কোনো ইনস্টলার শুরুতেই অ্যান্টিভাইরাস বন্ধ করতে বললে বা নিরাপত্তা ব্যতিক্রম যোগ করতে চাইলে সেটিকে স্বাভাবিক নির্দেশনা ধরে নেবেন না। কেন এমন অনুমতি চাইছে, সেটি আগে বোঝা দরকার।
ইউএসবি ড্রাইভ
অন্য কম্পিউটারে ব্যবহৃত ইউএসবি ড্রাইভেও ক্ষতিকর ফাইল থাকতে পারে। অচেনা ড্রাইভ লাগানোর পর সরাসরি ফাইল খোলার বদলে আগে স্ক্যান করাই নিরাপদ অভ্যাস।
ক্লাউডে ফাইল থাকলেও ব্যাকআপ নিয়ে ভুল ধারণা থাকতে পারে
অনেকে গুগল ড্রাইভ বা ওয়ানড্রাইভে একটি ফোল্ডার সিঙ্ক করেই ধরে নেন, ব্যাকআপের কাজ শেষ। আসলে সিঙ্ক আর স্বতন্ত্র ব্যাকআপ এক বিষয় নয়।
ধরা যাক, কম্পিউটারের একটি ফাইল র্যানসমওয়্যার এনক্রিপ্ট করল। সেই পরিবর্তিত ফাইল ক্লাউডেও সিঙ্ক হয়ে যেতে পারে। পুরোনো সংস্করণ বা নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থায় ফেরার ব্যবস্থা থাকলে সমস্যা সামলানো সম্ভব হতে পারে, কিন্তু সব সেবা বা সব পরিকল্পনায় একই সুবিধা থাকে না।
ওয়ানড্রাইভে পুরোনো সংস্করণ এবং র্যানসমওয়্যার পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা রয়েছে। পুরো ওয়ানড্রাইভকে আগের অবস্থায় ফেরানোর সুবিধা মাইক্রোসফট ৩৬৫ গ্রাহকদের জন্য এবং এটি গত ৩০ দিনের পরিবর্তন ফিরিয়ে নিতে পারে। পরিকল্পনা ও সুবিধা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই ক্লাউড রাখা ভালো, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের একমাত্র ভরসা হিসেবে সেটিকে ধরা ঠিক নয়।
৩-২-১ নিয়মের আসল উদ্দেশ্য
৩-২-১ ব্যাকআপ নিয়মটি বেশ পরিচিত। এর অর্থ হলো:
- গুরুত্বপূর্ণ ডেটার মোট ৩টি কপি রাখা;
- অন্তত ২ ধরনের সংরক্ষণমাধ্যম ব্যবহার করা;
- এবং ১টি কপি মূল জায়গার বাইরে রাখা।
কাগজে নিয়মটি সহজ। বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আক্রান্ত কম্পিউটার থেকে ব্যাকআপটি সত্যিই আলাদা কি না। কারণ বাহ্যিক হার্ডডিস্ক সব সময় কম্পিউটারে লাগানো থাকলে সেটিও আক্রমণের নাগালে থাকতে পারে। তাই “বাহ্যিক ড্রাইভে কপি আছে” আর “অফলাইন ব্যাকআপ আছে”—দুটি এক কথা নয়।
একজন ফ্রিল্যান্সারের জন্য খুব জটিল ব্যবস্থা দরকার হয় না। কাজের ফাইল ল্যাপটপে থাকবে। দ্বিতীয় কপি থাকতে পারে সংস্করণ-ইতিহাসসহ ক্লাউডে। তৃতীয়টি রাখা যায় বাহ্যিক হার্ডডিস্ক বা এসএসডিতে। ব্যাকআপ শেষ হলে সেটি খুলে রাখা হবে। এই শেষ ধাপটি বাদ দিলে পুরো ব্যবস্থার সুরক্ষা অনেকটাই কমে যায়।
কোন ফাইল আগে বাঁচাবেন
সব ফাইল সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। ব্যাকআপ শুরু করার সময় সেটি স্বীকার করাই সুবিধাজনক। প্রথমে রাখুন এমন ফাইল, যেগুলো হারালে আবার তৈরি করা কঠিন বা অসম্ভব। যেমন পারিবারিক ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি, থিসিস, পড়াশোনার কাজ, গ্রাহকের প্রকল্প, ব্যবসার হিসাব কিংবা প্রয়োজনীয় ডেটাবেস।
সংবেদনশীল পরিচয়পত্র বা ব্যবসায়িক নথি ক্লাউডে রাখলে শুধু পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভর না করে অ্যাকাউন্টের সুরক্ষাও দেখা দরকার। এরপর স্বয়ংক্রিয় ক্লাউড ব্যাকআপ বা সিঙ্ক চালু করা যায়। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে বহুস্তরীয় পরিচয় যাচাই রাখুন।
বাহ্যিক ড্রাইভের কপি কত ঘন ঘন নেবেন, সেটি আপনার কাজের ধরন ঠিক করবে। প্রতিদিন ফাইল বদলালে মাসে একবার ব্যাকআপের অর্থ হতে পারে কয়েক সপ্তাহের কাজ হারানো। তাই ব্যাকআপের সময়সূচি তৈরি করার সময় ভাবুন—সর্বোচ্চ কত দিনের কাজ হারানো আপনি মেনে নিতে পারবেন?
আরেকটি বিষয় প্রায়ই বাদ পড়ে: ব্যাকআপ থেকে ফাইল ফিরিয়ে আনা যায় কি না সেটি পরীক্ষা করা। শুধু “ব্যাকআপ সফল” লেখা দেখেই নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়। মাঝেমধ্যে কয়েকটি ফাইল অন্য জায়গায় ফিরিয়ে এনে খুলে দেখুন। ব্যবহার করার সময় বোঝা গেল ব্যাকআপ নষ্ট—এটি জানার সবচেয়ে খারাপ সময়।
২০২৬ সালে উইন্ডোজ ব্যবহার করলে একটি বিষয় আলাদা করে দেখুন

উইন্ডোজ ১০-এর সাধারণ সহায়তা ১৪ অক্টোবর ২০২৫-এ শেষ হয়েছে। ফলে সাধারণ উইন্ডোজ ১০ ইনস্টলেশন নিয়মিত নিরাপত্তা হালনাগাদ পায় না, যদি সেটি এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেটস বা অন্য সমর্থিত ব্যবস্থার আওতায় না থাকে।
২০২৬ সালে এখনও উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করলে আগে দেখুন আপনার কম্পিউটার নিরাপত্তা হালনাগাদ পাচ্ছে কি না।
এখানে অ্যান্টিভাইরাসকে বিকল্প ভাবার সুযোগ নেই। অ্যান্টিভাইরাস ক্ষতিকর সফটওয়্যার শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু সমর্থনহীন অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা দুর্বলতা নিজে থেকে ঠিক করে দেয় না।
উইন্ডোজের কয়েকটি সেটিংও কাজে লাগতে পারে
উইন্ডোজ সিকিউরিটি বা বিশ্বস্ত অন্য নিরাপত্তা সফটওয়্যার অকারণে বন্ধ রাখবেন না। প্রয়োজন হলে ভাইরাস অ্যান্ড থ্রেট প্রোটেকশন থেকে স্ক্যান চালানো যায়।
আরেকটি সুবিধা হলো কন্ট্রোলড ফোল্ডার অ্যাক্সেস। এটি নির্দিষ্ট ফোল্ডারের ফাইল অজানা বা অনুমোদনহীন অ্যাপ পরিবর্তন করা থেকে আটকাতে সাহায্য করে।
সেটিংসটি পাওয়া যায়:
উইন্ডোজ সিকিউরিটি → ভাইরাস অ্যান্ড থ্রেট প্রোটেকশন → ম্যানেজ র্যানসমওয়্যার প্রোটেকশন → কন্ট্রোলড ফোল্ডার অ্যাক্সেস
এটি চালু করলে ডকুমেন্টস, পিকচারস, ভিডিওস, মিউজিক ও ডেস্কটপের মতো পরিচিত ফোল্ডার সুরক্ষিত হতে পারে। তবে এটিকে “চালু করলেই সব ঠিক” ধরনের সুবিধা ভাবা উচিত নয়। বৈধ কোনো অ্যাপও কখনো আটকে যেতে পারে। তখন পুরো সুরক্ষা বন্ধ না করে আগে অ্যাপটি যাচাই করে শুধু সেটিকে অনুমতি দেওয়া ভালো।
দৈনন্দিন কাজের জন্য সব সময় প্রশাসক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করাও প্রয়োজন নেই। যেখানে সম্ভব সাধারণ ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টে কাজ করা বাড়তি প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার কমায়। ইমেইল ও ক্লাউড অ্যাকাউন্টে বহুস্তরীয় পরিচয় যাচাই রাখা উচিত। কোনো সেবা পাসকি সমর্থন করলে সেটিও বিবেচনা করা যায়। পাসকি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে Editorialge-এর পাসকি কী এবং পাসওয়ার্ডের চেয়ে কেন আলাদা নিবন্ধটি পড়তে পারেন।
আক্রান্ত হলে তাড়াহুড়া করে ফরম্যাট করবেন না
র্যানসমওয়্যার ধরা পড়লে প্রথম কাজ ডেটা ফেরানোর চেষ্টা নয়। আগে সংক্রমণ যেন অন্য জায়গায় ছড়াতে না পারে, সেটি দেখুন। ওয়াই-ফাই বন্ধ করুন। ইথারনেট তার থাকলে খুলুন। অন্য সক্রিয় নেটওয়ার্ক সংযোগও বিচ্ছিন্ন করুন। এরপর মুক্তিপণের নোট, পরিবর্তিত ফাইলের নাম বা দৃশ্যমান ত্রুটির বার্তার ছবি রাখুন।
লগইন তথ্য চুরি হওয়ার সন্দেহ থাকলে অন্য একটি বিশ্বস্ত ডিভাইস থেকে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলান।
একটি ভুল এড়িয়ে চলুন: সঙ্গে সঙ্গে অফলাইন ব্যাকআপ আক্রান্ত কম্পিউটারে লাগাবেন না। আগে সিস্টেম পরিষ্কার বা নতুন করে প্রস্তুত হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া দরকার।
ব্যবসায়িক নথি, গ্রাহকের তথ্য বা সংবেদনশীল ব্যক্তিগত ডেটা জড়িত থাকলে দক্ষ সাইবার নিরাপত্তা বা তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত। পরিস্থিতি গুরুতর হলে সংশ্লিষ্ট দেশের সাইবার অপরাধ রিপোর্টিং ব্যবস্থাও ব্যবহার করা যেতে পারে।
র্যানসমওয়্যারের ধরন শনাক্ত করা গেলে বিনামূল্যের বৈধ ডিক্রিপশন সরঞ্জাম আছে কি না দেখা যায়। ইউরোপোল-সমর্থিত নো মোর র্যানসম সেবায় কিছু র্যানসমওয়্যার পরিবারের জন্য এমন সরঞ্জাম পাওয়া যায়। সব ক্ষেত্রে সমাধান পাওয়া যাবে—এমন নয়।
মুক্তিপণ দেওয়ার আগে যে বাস্তবতা জানা দরকার
অর্থ দিলেই ফাইল ফিরে আসবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। এফবিআই মুক্তিপণ দেওয়াকে সমর্থন করে না। অর্থ দেওয়ার পর ফাইল ডিক্রিপ্ট হবে, চুরি করা তথ্য প্রকাশ হবে না অথবা আক্রমণকারী সিস্টেমে আর থাকবে না—কোনোটিই নিশ্চিত নয়।
এই জায়গায় আগের প্রস্তুতির মূল্য সবচেয়ে বেশি বোঝা যায়। ভালো ব্যাকআপ থাকলে অন্তত ফাইল ফেরত পাওয়ার জন্য অপরাধীর ওপর নির্ভর করতে হয় না।
শুরু করার সবচেয়ে বাস্তব উপায়
একদিনে পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বদলানোর দরকার নেই। আজ গুরুত্বপূর্ণ ছবি, নথি ও কাজের ফাইলের একটি স্বয়ংক্রিয় ক্লাউড কপি তৈরি করুন। অ্যাকাউন্টে বহুস্তরীয় পরিচয় যাচাই চালু করুন।
এরপর সুযোগমতো একটি বাহ্যিক ড্রাইভে দ্বিতীয় ব্যাকআপ নিন এবং কাজ শেষে সেটি খুলে রাখুন। তারপর দেখে নিন আপনার অপারেটিং সিস্টেম ও নিয়মিত ব্যবহৃত সফটওয়্যার এখনও নিরাপত্তা হালনাগাদ পাচ্ছে কি না।
র্যানসমওয়্যার প্রতিরোধের সবচেয়ে দরকারি প্রশ্নটি আসলে প্রযুক্তিগত নয়: এই কম্পিউটারটি যদি আজই ব্যবহার অযোগ্য হয়ে যায়, আপনার প্রয়োজনীয় ফাইল অন্য কোথাও থেকে ফেরত পাওয়া যাবে কি? উত্তর যদি পরিষ্কার “হ্যাঁ” না হয়, নতুন নিরাপত্তা সফটওয়্যার খোঁজার আগে ব্যাকআপ ব্যবস্থাটিই ঠিক করা বেশি জরুরি।
সাধারণ প্রশ্ন
র্যানসমওয়্যার কি অ্যান্টিভাইরাস থাকলেও কম্পিউটারে ঢুকতে পারে?
হ্যাঁ। অ্যান্টিভাইরাস অনেক পরিচিত হুমকি শনাক্ত ও আটকে দিতে পারে, কিন্তু প্রতিটি নতুন বা পরিবর্তিত র্যানসমওয়্যার ধরতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। নিরাপত্তা হালনাগাদ, সন্দেহজনক ফাইল এড়িয়ে চলা, অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা এবং বিচ্ছিন্ন ব্যাকআপ একসঙ্গে ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর।
গুগল ড্রাইভ বা ওয়ানড্রাইভে ফাইল রাখলেই কি আলাদা ব্যাকআপের প্রয়োজন নেই?
প্রয়োজন থাকতে পারে। ক্লাউড সিঙ্কে স্থানীয় ফাইলের পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাউডেও চলে যেতে পারে। ফলে র্যানসমওয়্যার এনক্রিপ্ট করা সংস্করণও সিঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সংস্করণ-ইতিহাস বা পুনরুদ্ধারের সুবিধা সহায়ক হলেও গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের জন্য আলাদা ব্যাকআপ রাখা বেশি নিরাপদ।
বাহ্যিক হার্ডডিস্ক সব সময় কম্পিউটারে লাগিয়ে রাখলে সমস্যা কী?
ড্রাইভটি সব সময় সংযুক্ত থাকলে র্যানসমওয়্যার বা আক্রমণকারী সেটিতেও পরিবর্তন করার সুযোগ পেতে পারে। তাই ব্যাকআপ নেওয়ার পর ড্রাইভটি বিচ্ছিন্ন করে রাখা ভালো। শুধু বাহ্যিক ড্রাইভে কপি থাকলেই সেটিকে অফলাইন ব্যাকআপ বলা যায় না।
র্যানসমওয়্যার আক্রান্ত হলে প্রথমেই কি কম্পিউটার ফরম্যাট করা উচিত?
না। আগে আক্রান্ত কম্পিউটারকে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা বেশি জরুরি। এরপর মুক্তিপণের নোট ও দৃশ্যমান তথ্য সংরক্ষণ, প্রয়োজন হলে অন্য নিরাপদ ডিভাইস থেকে গুরুত্বপূর্ণ পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং পরিষ্কার ব্যাকআপ আছে কি না যাচাই করা উচিত। ব্যবসায়িক বা সংবেদনশীল ডেটা জড়িত থাকলে পেশাদার সহায়তা নেওয়া ভালো।
৩-২-১ ব্যাকআপ নিয়ম মানলেই কি র্যানসমওয়্যার থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকা যায়?
না। ৩-২-১ নিয়ম ডেটা হারানোর ঝুঁকি কমাতে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে, কিন্তু এটি নিজে থেকেই র্যানসমওয়্যার ঠেকায় না। অন্তত একটি ব্যাকআপ যেন আক্রান্ত কম্পিউটার থেকে সত্যিই বিচ্ছিন্ন থাকে, পাশাপাশি সফটওয়্যার হালনাগাদ, নিরাপদ লগইন ও সতর্ক ফাইল ব্যবহারের অভ্যাসও বজায় রাখতে হবে।

