৮ সেপ্টেম্বর, এমন একটি দিন যা সাম্রাজ্যের ভাগ্য বদলে দিয়েছে, নতুন করে আঁকড়ে ধরেছে বিশ্বের মানচিত্র, আর জন্ম দিয়েছে এমন কিছু মানুষের, যারা বদলে দিয়েছেন সংস্কৃতির রূপরেখা। ফ্লোরেন্সের রাস্তায় রেনেসাঁর সেই অমর ভাস্কর্য উন্মোচন থেকে শুরু করে আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ—এই দিনটি মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, তার শিল্পের সাধনা, আর ক্ষমতার পালাবদলের এক বিশাল ক্যানভাস।
আসুন, ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখি এই দিনটিতে আমাদের বাংলা, উপমহাদেশ এবং পুরো বিশ্বে কী কী ঘটেছিল।
আমাদের বাংলা ও উপমহাদেশের ইতিহাস
ভারত উপমহাদেশ আর আমাদের বাঙালিদের ইতিহাসে ৮ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
-
তিন বিঘা করিডোর চুক্তি (২০১১): ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকে চলে আসা সীমানা জটিলতার একটা বড় অবসান ঘটে এই দিনে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক এক চুক্তি, যার ফলে তিন বিঘা করিডোরে বাংলাদেশিদের ২৪ ঘণ্টা অবাধ যাতায়াতের পথ খুলে যায়। এই একটুখানি ভারতীয় ভূখণ্ড দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলকে মূল বাংলাদেশ থেকে বিছিন্ন করে রেখেছিল। এই চুক্তির ফলে হাজার হাজার মানুষের কার্যত বন্দিদশার অবসান হয়, তারা পায় চিকিৎসা, শিক্ষা আর স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার।
-
দিল্লিতে নতুন সুলতান (১৩২০): গিয়াসউদ্দিন তুঘলক দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় তুঘলক রাজবংশের পথচলা। তাঁর শাসনামলে উপমহাদেশে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অনেক বড় বড় সংস্কার হয় এবং সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটে।
উল্লেখযোগ্য জন্ম:
-
ভূপেন হাজারিকা (১৯২৬): আসামের শাদিয়াতে জন্মেছিলেন এই কিংবদন্তি। গায়ক, গীতিকার এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তিনি ভাষা আর ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে বাংলা ও অসমীয়া—দুই সংস্কৃতিকেই প্রবলভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। তাঁর সেই মন্দ্র কণ্ঠস্বরে আমরা শুনেছি সাম্য, সার্বজনীন বিচার আর মানবিকতার গান। মরণোত্তর ‘ভারতরত্ন’ খেতাবে ভূষিত এই মানুষটির গান এখনো আমাদের হৃদয়ে বাজে।
-
হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী (১৮৯২): পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে জন্মগ্রহণ করা এই মানুষটি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি রাজনীতিক। নাগরিক অধিকারের চ্যাম্পিয়ন এবং বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল মুসলিম লীগের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেদেশের প্রাথমিক গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরিতে ভূমিকা রাখেন।
-
আশা ভোঁসলে (১৯৩৩): ভারতের প্লেব্যাক সংগীতের অন্যতম দিকপাল আশা ভোঁসলে জন্মগ্রহণ করেন মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলিতে। আট দশকের বেশি সময় ধরে তিনি গান গাইছেন। সবচেয়ে বেশি স্টুডিও রেকর্ডিংয়ের জন্য গিনেস বুকে তাঁর নাম আছে। ভারতীয় চলচ্চিত্রের সোনালী যুগ তাঁর জাদুকরী কণ্ঠ ছাড়া অপূর্ণ।
উল্লেখযোগ্য মৃত্যু:
-
ফিরোজ গান্ধী (১৯৬০): ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী, রাজনীতিক এবং সাংবাদিক। লোকসভার সদস্য হিসেবে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক সোচ্চার কণ্ঠস্বর ছিলেন।
-
শেখ আবদুল্লাহ (১৯৮২): “শেরে কাশ্মীর” বা কাশ্মীরের সিংহ হিসেবে পরিচিত শেখ আবদুল্লাহ ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতির এক কেন্দ্রীয় চরিত্র। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে তাঁর সমীকরণ কাশ্মীরের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছে।
আন্তর্জাতিক দিবস ও উদযাপন

বিশ্ব জুড়ে ৮ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কারণে পালিত হয়।
-
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস: ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। শিক্ষা যে মানুষের মৌলিক অধিকার, সেটাই এই দিনের মূল কথা। এখনো বিশ্বের প্রায় ৭৭ কোটির বেশি পূর্ণবয়স্ক মানুষ লিখতে বা পড়তে পারে না—এই দিনটি আমাদের সেই নির্মম সত্যটি মনে করিয়ে দেয়।
-
বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস: ১৯৯৬ সাল থেকে এই দিনটি পালিত হচ্ছে। মানুষকে সুস্থ, সচল এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে ফিজিওথেরাপিস্টদের যে অপরিসীম অবদান, তাকে স্বীকৃতি দিতেই এই দিন।
বিভিন্ন দেশের জাতীয় দিবস:
-
উত্তর মেসিডোনিয়ার স্বাধীনতা দিবস: ১৯৯১ সালের এই দিনে এক গণভোটের মাধ্যমে তারা যুগোস্লাভিয়া থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন প্রজাতন্ত্র গঠন করে, তাও আবার বলকান অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মতো কোনো রক্তপাত ছাড়াই।
-
অ্যান্ডোরার জাতীয় দিবস: ১২৭৮ সালে এই দিনে স্বাক্ষরিত ‘প্যারেজ’ (Pareatge) চুক্তির মাধ্যমে অ্যান্ডোরার বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থার সূচনা হয়।
-
মাল্টার বিজয় দিবস (Victory Day): এই একটি দিনে মাল্টায় তিনটি ঐতিহাসিক বিজয় উদযাপিত হয়। ১৫৬৫ সালে দ্য গ্রেট সিজ অব মাল্টার অবসান, ১৮০০ সালে ব্রিটিশদের কাছে ফরাসিদের আত্মসমর্পণ এবং ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতালির যুদ্ধবিরতি—এই তিনটি ঘটনাকে স্মরণ করা হয়।
-
কুমারী মেরির জন্মোৎসব: ক্যাথলিক এবং অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের কাছে এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র দিন, যেদিন ভার্জিন মেরির জন্ম উদযাপন করা হয়।
বিশ্ব ইতিহাসে ৮ সেপ্টেম্বর
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র:
-
সেন্ট অগাস্টিনের প্রতিষ্ঠা (১৫৬৫): স্প্যানিশ অ্যাডমিরাল পেদ্রো মেনেনদেজ দে আভিলেস ফ্লোরিডায় অবতরণ করেন এবং সেন্ট অগাস্টিন শহর প্রতিষ্ঠা করেন। জেমসটাউন প্রতিষ্ঠারও ৪০ বছর আগে তৈরি হওয়া এই শহরটি আমেরিকায় ইউরোপীয়দের সবচেয়ে পুরোনো, একটানা টিকে থাকা শহর।
-
নিউ আমস্টারডামের পতন (১৬৬৪): ডাচদের উপনিবেশ ‘নিউ আমস্টারডাম’ বিনা রক্তপাতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। ব্রিটিশরা এই বন্দর নগরীর নাম দেয় ‘নিউ ইয়র্ক’, যা পরবর্তীতে আমেরিকার অর্থনীতি আর সংস্কৃতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
-
গ্যালভেস্টন হারিকেন (১৯০০): টেক্সাসের সমৃদ্ধ দ্বীপশহর গ্যালভেস্টনে আঘাত হানে ক্যাটাগরি ৪ হারিকেন। ১৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় পুরো শহর। আট থেকে বারো হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এটি এখনও আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
-
প্রেসিডেন্টের ক্ষমা (১৯৭৪): প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির জন্য প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে নিঃশর্ত ক্ষমা করে দেন। এই সিদ্ধান্তের কারণে হয়তো ১৯৭৬ সালের নির্বাচনে ফোর্ড হেরে গিয়েছিলেন, কিন্তু চরমভাবে বিভক্ত একটি জাতিকে শান্ত করার জন্যই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্য:
-
রানির প্রয়াণ (২০২২): ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শাসক রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ৯৬ বছর বয়সে বালমোরাল ক্যাসলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ৭০ বছরের শাসনামলে তিনি দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন এবং আধুনিক ডিজিটাল যুগের শুরু। তাঁর মৃত্যুর পরপরই “অপারেশন লন্ডন ব্রিজ” চালু হয় এবং রাজা তৃতীয় চার্লস সিংহাসনে বসেন।
-
লন্ডনে ভি-২ রকেটের আঘাত (১৯৪৪): জার্মানি প্রথমবারের মতো লন্ডনে ভি-২ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এটি ছিল সুপারসনিক, যা কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই আকাশ থেকে নেমে আসত। আধুনিক যুদ্ধের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল সেদিন।
ইউরোপ:
-
মাইকেলেঞ্জেলোর ‘ডেভিড’ (১৫০৪): দীর্ঘ তিন বছরের অমানুষিক পরিশ্রমের পর ফ্লোরেন্সের পিয়াজ্জা দেলা সিনিওরিয়াতে মাইকেলেঞ্জেলো তাঁর ১৭ ফুট উঁচু অমর ভাস্কর্য ‘ডেভিড’ উন্মোচন করেন। এটি শুধু একটি ভাস্কর্য ছিল না, ফ্লোরেন্সের মানুষের নাগরিক অধিকার এবং স্বাধীনতার এক শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।
-
ক্যাসিবিলে যুদ্ধবিরতি (১৯৪৩): মার্কিন জেনারেল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ইতালির সাথে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির একটা বড় অংশের পতন ঘটে, যদিও এর পরপরই জার্মানরা ইতালিতে নির্মম দখলদারিত্ব শুরু করে।
রাশিয়া:
-
কুলিকোভোর যুদ্ধ (১৩৮০): ডন নদীর তীরে গ্র্যান্ড প্রিন্স দিমিত্রি ডনস্কয়ের নেতৃত্বে রুশ বাহিনী গোল্ডেন হোর্ডের (মঙ্গোল) বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক এক বিজয় লাভ করে। যদিও মঙ্গোলদের শাসন আরও এক শতাব্দী ছিল, কিন্তু এই যুদ্ধ মঙ্গোলদের অজেয় থাকার মিথ ভেঙে দেয় এবং মস্কোকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ক্ষমতা সুসংহত হয়।
-
লেনিনগ্রাদ অবরোধ শুরু (১৯৪১): জার্মান বাহিনী লেনিনগ্রাদ (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) শহরের চারপাশ ঘিরে ফেলে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ৮৭২ দিন ধরে চলা এই অবরোধ ছিল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এক অবরোধ, যেখানে অনাহারে প্রায় দশ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
চীন ও এশিয়া:
-
কোরিয়া বিভাজন (১৯৪৫): জাপানের আত্মসমর্পণের পর মার্কিন সেনারা ৩৮তম সমান্তরাল রেখার দক্ষিণে এবং সোভিয়েত বাহিনী উত্তরে অবস্থান নেয়। তাড়াহুড়ো করে টানা এই রেখাই পরবর্তীতে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমানায় পরিণত হয়, যার ফলশ্রুতিতে ঘটে ভয়াবহ কোরীয় যুদ্ধ।
-
সান ফ্রান্সিসকো চুক্তি (১৯৫১): প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টেনে ৪৯টি দেশ জাপানের সাথে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন এই চুক্তিতে সই করেনি, আর চীনকে (পিআরসি বা আরওসি কাউকেই) আমন্ত্রন জানানো হয়নি।
অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য:
-
সিয়াটো (SEATO) গঠন (১৯৫৪): এশিয়ায় কমিউনিজমের প্রভাব ঠেকাতে ম্যানিলা চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয় ‘সাউথইস্ট এশিয়া ট্রিটি অর্গানাইজেশন’ বা সিয়াটো। অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র মিলে ন্যাটোর আদলে এই প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলে।
বিশ্বের কিছু বিখ্যাত মানুষের জন্ম ও মৃত্যু
জন্ম:
-
রিচার্ড দ্য লায়নহার্ট (১১৫৭): ইংল্যান্ডের রাজা। তৃতীয় ক্রুসেডের সময় তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান খ্রিস্টান সেনাপতি এবং দুর্ধর্ষ এক যোদ্ধা।
-
অ্যান্টোনিন ডভোরজাক (১৮৪১): বিখ্যাত চেক সুরকার, যিনি ধ্রুপদী সঙ্গীতে লোকজ সুরের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন। তাঁর ‘নিউ ওয়ার্ল্ড সিম্ফনি’ বিশ্ববিখ্যাত।
-
প্যাটসি ক্লাইন (১৯৩২): আমেরিকান কান্ট্রি এবং পপ মিউজিকের কিংবদন্তি শিল্পী। “ক্রেজি”-র মতো গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
-
বার্নি স্যান্ডার্স (১৯৪১): মার্কিন সিনেটর এবং প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ, যিনি আধুনিক আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন চিন্তার জন্ম দিয়েছেন।
-
রুবি ব্রিজেস (১৯৫৪): নাগরিক অধিকার আন্দোলনের এক আইকন। মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলের একটি শেতাঙ্গদের স্কুলে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্রী হিসেবে ভর্তি হয়ে ইতিহাস গড়েন।
-
পিংক (অ্যালিসিয়া মুর) (১৯৭৯): তিনবার গ্র্যামি বিজয়ী আমেরিকান গায়িকা, তাঁর শক্তিশালী কণ্ঠ আর অনবদ্য মঞ্চ পরিবেশনার জন্য তিনি সারা বিশ্বে জনপ্রিয়।
মৃত্যু:
-
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ (২০২২): ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন রানি। ৭০ বছর রাজত্বের পর তিনি মারা যান।
-
রিচার্ড স্ট্রস (১৯৪৯): জার্মান সুরকার, তাঁর ‘অলসো স্প্রাচ জারাথুস্ট্রা’ (Also sprach Zarathustra)-র মতো কাজের জন্য তিনি চিরস্মরণীয়।
-
লেনি রিফেনস্টাল (২০০৩): জার্মান চলচ্চিত্র পরিচালক। আধুনিক সিনেমা নির্মাণে তাঁর কৌশলগুলো যুগান্তকারী হলেও, নাৎসি প্রোপাগান্ডা ফিল্ম (যেমন: ‘ট্রায়াম্ফ অফ দ্য উইল’) বানানোর কারণে তিনি চরম সমালোচিত।
-
প্রিন্স বাস্টার (২০১৬): জ্যামাইকান গায়ক এবং প্রযোজক। ষাটের দশকে ‘স্কা’ (Ska) মিউজিক জনপ্রিয় করার পেছনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল।
মজার কিছু তথ্য
-
স্টার ট্রেক-এর যাত্রা শুরু: ১৯৬৬ সালের এই দিনে এনবিসি (NBC) টিভিতে বিখ্যাত সাই-ফাই সিরিজ ‘স্টার ট্রেক’-এর প্রথম পর্ব সম্প্রচারিত হয়। জিনি রডেনবেরি তৈরি এই সিরিজটি আমেরিকান টিভিতে প্রথম ভিন্ন বর্ণের মানুষের মধ্যে চুম্বনের দৃশ্য দেখিয়ে সামাজিক প্রথা ভেঙেছিল।
-
প্লেজ অফ অ্যালিজেন্স: ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, শিশুদের একটি ম্যাগাজিনে প্রথম আমেরিকার ‘প্লেজ অফ অ্যালিজেন্স’ (Pledge of Allegiance) ছাপা হয়। ফ্রান্সিস বেলামি এটি লিখেছিলেন।
-
স্কচ টেপের আবিষ্কার: ১৯৩০ সালে থ্রি-এম (3M) কোম্পানির কর্মী রিচার্ড ড্রিউ ‘স্কচ টেপ’ বাজারে আনেন। মূলত গাড়ির মেকানিকদের রং করার সুবিধার জন্য বানানো হলেও, মহামন্দার সময় ভেঙে যাওয়া জিনিস জোড়া লাগাতে এটি ঘরে ঘরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
-
হোম রানের রেকর্ড: ১৯৯৮ সালের এই দিনে বেসবল খেলোয়াড় মার্ক ম্যাকগুয়্যার তাঁর ৬২তম হোম রান করে রজার মারিসের ৩৭ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেন।
শেষ কথা
৮ সেপ্টেম্বরের দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই, এই দিনটি মানুষের জয় আর ট্র্যাজেডির এক অদ্ভুত মোহনা। মাইকেলেঞ্জেলোর ‘ডেভিড’ গড়ার হাতুড়ির শব্দ থেকে শুরু করে তিন বিঘা করিডোর চুক্তির কলমের আঁচড়—এই দিনটি বারবার প্রমাণ করেছে পৃথিবীটাকে নিজেদের মতো করে সাজানোর মানুষের যে অদম্য ইচ্ছা, তার কোনো শেষ নেই।
এই দিনেই আমরা যেমন গ্যালভেস্টনের ঘূর্ণিঝড় বা লেনিনগ্রাদ অবরোধের মতো ভয়াবহতা দেখেছি, তেমনি ডভোরজাকের অসাধারণ সুরের মূর্ছনা বা রুবি ব্রিজেসের মতো ছোট্ট মেয়ের অসীম সাহসের গল্পও শুনেছি। ২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস শুধু ক্যালেন্ডারের কতগুলো তারিখ নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ৮ সেপ্টেম্বর আমাদের টিকে থাকার, নতুন কিছু সৃষ্টি করার এবং সব সীমাবদ্ধতা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতার এক অসামান্য দলিল।

