একটি সাস পণ্য চালু করার পর বেশ পরিচিত একটি দৃশ্য দেখা যায়। লোকজন বিনামূল্যের ট্রায়াল নেয়, প্রথম দিন একটু ঘোরাঘুরি করে, তারপর আর ফেরে না। প্রতিষ্ঠাতা তখন ট্রায়ালের মেয়াদ নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। সাত দিন কি কম হয়ে গেল? ১৪ দিনের জায়গায় ৩০ দিন দিলে কি অর্থপ্রদানকারী গ্রাহক বাড়বে?
অনেক সময় প্রশ্নটাই ভুল জায়গায় করা হচ্ছে।
কারণ ব্যবহারকারী যদি প্রথম দুদিনেই বুঝতে না পারে আপনার পণ্য দিয়ে তার কী লাভ, তাকে আরও ১৬ দিন সময় দিলেও খুব বেশি কিছু বদলাবে না। আবার এমন সফটওয়্যারও আছে যেখানে তথ্য আমদানি, সংযোগ স্থাপন ও দল গুছিয়ে নিতেই কয়েক দিন চলে যায়। সেখানে সাত দিনের ট্রায়াল দিয়ে ব্যবহারকারীকে তাড়া দেওয়া অর্থহীন।
তাই সাস ফ্রি ট্রায়ালের দৈর্ঘ্য নিয়ে একেবারে শুরুতে একটি ব্যবহারযোগ্য উত্তর চাইলে বলা যায়: আগের তথ্য না থাকলে ১৪ দিন দিয়ে শুরু করুন। তারপর ব্যবহারকারীর আচরণ দেখে সময় কমান বা বাড়ান। ১৪ দিন কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত “সেরা” সংখ্যা নয়। এটিকে বরং কাজ শুরু করার একটি জায়গা হিসেবে দেখাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
১৪ দিন কেন মোটামুটি ভালো শুরু
ব্যবসা-ভিত্তিক সাস পণ্যে ১৪ দিনের ট্রায়াল খুব সাধারণ। ২০২৬ সালে চার্টমোগল, প্রোডাক্টলেড ও কাইল পোয়ারের ২০০টি ব্যবসা-ভিত্তিক সফটওয়্যার পণ্য নিয়ে করা জরিপে বিনামূল্যের ট্রায়াল দেওয়া পণ্যের ৬২ শতাংশে ১৪ দিনের মেয়াদ ছিল। ৭ ও ৩০ দিনের ট্রায়াল ছিল ১৪ শতাংশ করে।
এখানেই একটু থামা দরকার। এই সংখ্যার অর্থ এই নয় যে ১৪ দিনের ট্রায়াল সবচেয়ে বেশি কনভার্শন দেয়। জরিপটি শুধু দেখাচ্ছে, বাজারে এই মেয়াদটি বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।
তারপরও নতুন পণ্যের জন্য ১৪ দিন খারাপ প্রাথমিক সময়সীমা নয়। একজন ব্যবহারকারী মঙ্গলবার অ্যাকাউন্ট খুলে কাজের চাপে কয়েক দিন পণ্যে না ফিরলেও তার হাতে কিছু সময় থাকে। আবার পুরো এক মাস হাতে থাকায় “পরে দেখব” বলে অনির্দিষ্টভাবে ফেলে রাখার সুযোগও তুলনামূলক কম।
কিন্তু পণ্য চালু হওয়ার ছয় মাস পরও যদি ১৪ দিন শুধু এই কারণে রাখা হয় যে “সবাই ১৪ দিন দেয়”, তখন সেটি আর ভালো সিদ্ধান্ত নয়। নিজের তথ্য তখন অন্য কথা বলতেই পারে। ধরা যাক, যারা শেষ পর্যন্ত অর্থপ্রদানকারী গ্রাহক হচ্ছে তাদের ৮০ শতাংশই প্রথম তিন দিনের মধ্যে মূল সুবিধা ব্যবহার করে ফেলছে। সে ক্ষেত্রে ১৪ দিনের ট্রায়ালের শেষ ১১ দিন সত্যিই দরকার কি না, প্রশ্ন তোলা উচিত।
আবার যদি ব্যবহারকারীকে প্রথমে গুগল অ্যানালিটিক্স যুক্ত করতে হয়, পুরোনো তথ্য আনতে হয়, দলের সদস্য যোগ করতে হয়, তারপর প্রতিবেদন তৈরি হয়—তখন তিন দিনের ব্যবহার দেখে পণ্য বিচার করা যাবে না। এই জায়গায় ট্রায়ালের মেয়াদের চেয়ে বেশি কাজে আসে আরেকটি মাপ: টাইম টু ভ্যালু, অর্থাৎ ব্যবহারকারী কত দ্রুত প্রথম বাস্তব উপকার পাচ্ছে।
সহজ বাংলায়, অ্যাকাউন্ট খোলার পর ব্যবহারকারী প্রথমবার “আচ্ছা, এটা তো কাজে লাগছে” বলার মতো ফল পেতে কত সময় লাগছে। এখানে নিবন্ধন হওয়া কোনো ফল নয়। প্রোফাইল পূরণ করাও নয়।
একটি চালান তৈরির সফটওয়্যারে হয়তো প্রথম চালান পাঠানোই সেই মুহূর্ত। বিশ্লেষণধর্মী পণ্যে নিজের তথ্য থেকে দরকারি প্রতিবেদন পাওয়া। স্বয়ংক্রিয়করণ সফটওয়্যারে প্রথম কাজটি ঠিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হওয়া। এই সময়টা না জেনে ট্রায়ালের মেয়াদ ঠিক করা অনেকটা ঘড়ি দেখে রান্না করা, কিন্তু খাবার সেদ্ধ হয়েছে কি না না দেখা।
সাত দিন কখন ভালো কাজ করতে পারে

সাত দিনের ট্রায়াল শুনলে অনেকেরই মনে হয় এটি বেশ কড়া। কিছু পণ্যের জন্য সত্যিই তা হতে পারে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে নয়। পণ্য যদি শেখা সহজ হয়, সেটআপ প্রায় না থাকে এবং ব্যবহারকারী প্রথম দিনেই মূল কাজটি করতে পারে, সাত দিন যথেষ্ট হতে পারে।
একটি ছোট উৎপাদনশীলতা অ্যাপ, হালকা ডিজাইন টুল বা নির্দিষ্ট একটি কাজের সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর মাসখানেক সময় লাগার কথা নয়। সে সাধারণত দ্রুতই বুঝে ফেলে জিনিসটি তার কাজে লাগবে কি না।
এই জায়গায় একটি বড় সাস পরীক্ষা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স-এ প্রকাশিত গবেষণায় একটি সাস প্রতিষ্ঠানের নতুন ব্যবহারকারীদের ৭, ১৪ ও ৩০ দিনের ট্রায়ালে ভাগ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির তখনকার সাধারণ ট্রায়াল ছিল ৩০ দিনের। পরীক্ষার তথ্যে ৭ দিনের দলের সাবস্ক্রিপশন হার ছিল ১৫.৪৪ শতাংশ। ৩০ দিনের দলে ছিল ১৪.৬৩ শতাংশ। গবেষকদের হিসাবে এটি প্রায় ৫.৫৯ শতাংশ আপেক্ষিক বৃদ্ধি।
সংখ্যা দেখে “তাহলে সাত দিনই রাখি”—এই সিদ্ধান্তে যাওয়া লোভনীয়।
কিন্তু গবেষণার বাকি অংশ পড়লে গল্পটা আর এত পরিষ্কার থাকে না।
সব ব্যবহারকারী একইভাবে সাড়া দেয়নি। নতুন ও কম অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীর আচরণ এক রকম ছিল, বেশি অভিজ্ঞদের আচরণ আবার অন্য রকম। কিছু অভিজ্ঞ ব্যবহারকারী দীর্ঘ ট্রায়াল থেকে বেশি সুবিধা পেয়েছিল। দীর্ঘ ট্রায়ালের শেষ দিকে যারা অনেক দিন নিষ্ক্রিয় ছিল, তাদের সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার সম্ভাবনাও কম ছিল।
সুতরাং এখানে শেখার মতো বিষয় “৭ দিনই সেরা” নয়।
বরং, ব্যবহারকারী যদি দ্রুত উপকার পায়, অকারণে দীর্ঘ ট্রায়াল রাখার প্রয়োজন নাও থাকতে পারে।
এটি অনেক বেশি ব্যবহারযোগ্য সিদ্ধান্ত।
৩০ দিন রাখলে আগে একটি প্রশ্ন করুন
৩০ দিনের ট্রায়াল খারাপ—এমন কথাও সাস বিষয়ক লেখায় অনেকবার বলা হয়। বাস্তবে সেটিও অর্ধেক সত্য।
কিছু সফটওয়্যার আছে, যেখানে ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট খুলে সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করতে পারে না। পুরোনো ব্যবস্থা থেকে তথ্য আনতে হবে। অন্য সিস্টেমের সঙ্গে সংযোগ দিতে হবে। দলের আরও দুজনকে অ্যাকাউন্টে আনতে হবে। হয়তো ব্যবস্থাপকের অনুমোদনও লাগবে।
তারপর আসল কাজ শুরু করা যাবে। এই পুরো প্রক্রিয়াই যদি ১০–১২ দিন নেয়, সাত দিনের ট্রায়াল তো ব্যবহারকারীর পণ্য-অভিজ্ঞতা পরীক্ষা করছে না; পরীক্ষা করছে সে কত দ্রুত অফিসের ভেতরের প্রক্রিয়া সামলাতে পারে।
এই ধরনের পণ্যে ৩০ দিন একেবারেই অযৌক্তিক নয়।
আরেকটি ব্যাপারও আছে। সব সফটওয়্যার প্রতিদিন ব্যবহার করা হয় না।
ধরুন পণ্যের মূল প্রতিবেদন সপ্তাহে একবার তৈরি হয়। সাত দিনের ট্রায়াল শুরু করার সময়ের ওপর নির্ভর করে ব্যবহারকারী হয়তো পুরো প্রতিবেদন-চক্র একবারও ঠিকমতো দেখতে পারবে না। তবে ৩০ দিনের ট্রায়াল রাখার পর তথ্যে যদি দেখা যায় ব্যবহারকারী প্রথম সপ্তাহে তিন দিন পণ্য ব্যবহার করেছে, তারপর ২০ দিন আর ঢোকেইনি—তখন “আরও সময় দিলে কনভার্শন বাড়বে” যুক্তিটি বেশ দুর্বল হয়ে যায়। সেখানে ট্রায়ালের মেয়াদ নয়, ব্যবহার ধরে রাখার সমস্যাই বেশি সম্ভাব্য।
আসলে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, সেটি আগে বের করুন
ট্রায়াল থেকে অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকে রূপান্তরের হার কম হলে প্রতিষ্ঠাতারা সহজেই ট্রায়ালের মেয়াদ নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করেন। এটি মাপা যায়, তাই বদলানোও সহজ। কিন্তু সমস্যাটি অন্য জায়গায় হলে এই পরিবর্তনে লাভ হবে না।
উদাহরণ হিসেবে অনবোর্ডিং ধরা যাক।
ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট খুলেছে, কিন্তু প্রথম পর্দায় কী করবে বুঝতে পারছে না। পাঁচটি সেটআপ ধাপ, তিনটি সংযোগ আর কয়েকটি অচেনা শব্দ দেখে বেরিয়ে গেল। এখন তাকে ১৪ দিনের বদলে ৩০ দিন দিলে কী হবে?
সে ৩০ দিন ধরে বিভ্রান্ত থাকবে না। সে প্রথম দিনেই চলে যাবে।
একই সমস্যা ট্রায়ালের সুবিধা সীমিত রাখার ক্ষেত্রেও হয়। ট্রায়াল অ্যাকাউন্টে পণ্যের এমন সব সুবিধা বন্ধ রাখা হলো যে ব্যবহারকারী আসল উপকারটাই বুঝতে পারল না। পরে কনভার্শন কম দেখে বলা হলো, ট্রায়াল ছোট ছিল। আবার অর্থপ্রদানের জায়গায়ও বাধা থাকতে পারে। পণ্য পছন্দ হয়েছে, কিন্তু উন্নত পরিকল্পনায় যাওয়ার সময় দাম, অর্থপ্রদানের বিকল্প বা কেনাকাটার প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারী আটকে যাচ্ছে।
সেটিও ট্রায়ালের মেয়াদের সমস্যা নয়।
আরেকটি বিষয় প্রতিষ্ঠাতারা সব সময় শুনতে পছন্দ করেন না: অনেক বিনামূল্যের নিবন্ধন মানেই অনেক সম্ভাব্য গ্রাহক নয়।
“ফ্রি” দেখলে এমন ব্যবহারকারীও আসে, যার পণ্যের প্রয়োজন আছে কিন্তু টাকা দেওয়ার ইচ্ছা নেই। অর্থের বিনিময়ে প্রচার ভুল শ্রোতার কাছে গেলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
এই ধরনের দর্শকের কনভার্শন কম হওয়াই স্বাভাবিক।
তাই ট্রায়ালের মেয়াদ বদলানোর আগে অন্তত চারটি জিনিস দেখা দরকার: ব্যবহারকারী মূল সুবিধায় পৌঁছাচ্ছে কি না, সেখানে পৌঁছাতে কত সময় লাগছে, কোথায় ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে এবং অর্থপ্রদানের ধাপে কোথায় বাদ পড়ছে। এগুলো দেখা গেলে ৭, ১৪ ও ৩০ দিনের প্রশ্ন অনেক পরিষ্কার হয়ে যায়।
দুটি গবেষণা একই উত্তর দেয় না—এটাই স্বাভাবিক
ফ্রি ট্রায়াল নিয়ে গবেষণা পড়লে একটি বিষয় চোখে পড়ে: সব পরীক্ষা একই দিকে যায় না। আগের ৭, ১৪ ও ৩০ দিনের সাস পরীক্ষায় ছোট ট্রায়াল ভালো ফল দিয়েছিল। আবার ২০২৫ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি-তে প্রকাশিত আরেকটি বড় পরীক্ষায় ৩ ও ৭ দিনের ট্রায়াল তুলনা করা হয়।
সেখানে প্রায় ১৯০টি দেশের ৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৮ জন নতুন ব্যবহারকারী ছিল। পণ্যটি ছিল ছবি সম্পাদনার সাস সফটওয়্যার।
৩ দিনের বদলে ৭ দিনের ট্রায়াল দেওয়ার পর ফ্রি ট্রায়াল গ্রহণের হার ০.৮৫৬ শতাংশ থেকে ০.৯৫১ শতাংশে ওঠে। পরে সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার কিছু ফলও উন্নত হয়। তবে তাৎক্ষণিক কনভার্শন ০.২২৪ শতাংশ থেকে ০.২৪১ শতাংশে ওঠার পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল না।
আর এই ট্রায়ালে ক্রেডিট কার্ড আগেই দিতে হতো। ট্রায়াল শেষ হওয়ার আগে বাতিল না করলে অর্থপ্রদানের সাবস্ক্রিপশন শুরু হয়ে যেত। অর্থাৎ ক্রেডিট কার্ড ছাড়াই চালু করা ব্যবসা-ভিত্তিক সাস ট্রায়ালের সঙ্গে এটি এক জিনিস নয়।
এই দুই গবেষণাকে পাশাপাশি রাখলে বরং একটি দরকারি বিষয় বোঝা যায়: ফ্রি ট্রায়ালের জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একক সূত্র খোঁজার চেয়ে নিজের পণ্যের ব্যবহারকারীর আচরণ বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণা এখানে দিকনির্দেশ দিতে পারে, নিশ্চয়তা নয়।
আরও পড়ুন: SaaS Pricing ঠিক করবেন কীভাবে: খরচ নয়, কাস্টমার ভ্যালু থেকে শুরু
পরীক্ষা করতে চাইলে একবারে সবকিছু বদলাবেন না

ধরা যাক এখন ৩০ দিনের ট্রায়াল চলছে। তথ্যে দেখা গেল, অর্থপ্রদানকারী হয়ে ওঠা ব্যবহারকারীদের বেশির ভাগ প্রথম সপ্তাহেই মূল সুবিধা ব্যবহার করেছে। তখন ১৪ বনাম ৩০ দিনের পরীক্ষা করা যুক্তিযুক্ত।
ব্যবহারকারীর সংখ্যা যথেষ্ট হলে পরে ৭ বনাম ১৪ দিনও দেখা যেতে পারে। কিন্তু একই সময়ে মূল্য বদলালেন, অনবোর্ডিং বার্তা নতুন করলেন, সুবিধার সীমা খুলে দিলেন আর ট্রায়াল ৩০ থেকে ১৪ দিন করলেন—তারপর কনভার্শন বাড়ল।
কোন পরিবর্তন কাজ করল?
জানা যাবে না।
এই ভুল খুব সহজেই হয়।
ট্রায়ালের মেয়াদ পরীক্ষা করলে যতটা সম্ভব অন্য বড় শর্ত একই রাখুন। তারপর শুধু অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকে রূপান্তরের হার নয়, আরও কয়েকটি বিষয় দেখুন। ব্যবহারকারী প্রথম দরকারি কাজ করছে কি না। কত দিনে করছে। ট্রায়ালের কয় দিন সত্যিই সক্রিয় ছিল। অর্থপ্রদানকারী হওয়ার পর থেকেছে কি না।
শেষেরটি বিশেষ জরুরি। সাত দিনের ট্রায়াল হয়তো দ্রুত সিদ্ধান্ত করাল, কিন্তু ওই গ্রাহক যদি এক মাসের মধ্যেই সাবস্ক্রিপশন বাতিল করে, তাহলে প্রথম দিকের কনভার্শন দেখে খুব খুশি হওয়ার কারণ নেই।
বাংলাদেশের ব্যবহারকারী থাকলে আলাদা করে দেখুন, আলাদা নিয়ম বানাবেন না
বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো প্রমাণিত “১৪ দিন” বা “৩০ দিন” নিয়ম নেই। তাই “বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা সিদ্ধান্ত নিতে বেশি সময় নেয়” বা এর উল্টো কোনো ধারণা তথ্য ছাড়া ব্যবহার না করাই ভালো।
আপনার পণ্যে বাংলাদেশ থেকে যথেষ্ট নিবন্ধন এলে তাদের আলাদা ব্যবহারকারী-গোষ্ঠী হিসেবে দেখুন। একইভাবে ভারত, ইউরোপ বা অন্য বড় বাজারও আলাদা করে দেখা যায়। কিন্তু এখানে দেশই একমাত্র বিষয় নয়।
ফেসবুক বিজ্ঞাপন থেকে আসা ব্যবহারকারী আর গুগলে খুঁজে সমস্যার সমাধান করতে করতে আসা ব্যবহারকারীর আগ্রহ এক নাও হতে পারে। অন্য কারও সুপারিশে আসা ব্যবহারকারীর আচরণও আলাদা হতে পারে। কাজেই বাংলাদেশের কনভার্শন কম দেখলেই ৩০ দিনের ট্রায়াল চালু করার কারণ তৈরি হয় না। আগে দেখুন সমস্যাটা ব্যবহারকারী আনার পর্যায়ে, পণ্যের মূল সুবিধায় পৌঁছানোর পর্যায়ে, নাকি অর্থপ্রদানে।
কখন ফ্রি ট্রায়াল নিয়েই প্রশ্ন তোলা উচিত
সব সফটওয়্যারের জন্য সময়সীমাবদ্ধ ফ্রি ট্রায়াল খুব ভালো পদ্ধতি—এমনও নয়। কোনো পণ্য যদি মাসে একবার দরকার হয়, সাত দিনের ট্রায়াল দিয়ে তাকে বিচার করা কঠিন। সেখানে সীমিত সুবিধার স্থায়ী বিনামূল্যের পরিকল্পনা বেশি স্বাভাবিক হতে পারে।
আরেকটি মডেল হলো রিভার্স ট্রায়াল। এতে ব্যবহারকারী শুরুতে অর্থপ্রদানের পরিকল্পনার সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে পারে। নির্দিষ্ট সময় শেষে অ্যাকাউন্ট বিনামূল্যের পরিকল্পনায় নেমে আসে। ২০২৬ সালের চার্টমোগল জরিপেও এই মডেল দেখা গেছে, যদিও সাধারণ ফ্রি ট্রায়ালের তুলনায় কম।
এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে আবার অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যবহারকারীকে একা ছেড়ে দিলেই কাজ শেষ হয় না। অনেক পণ্যে ট্রায়াল চলার সময় বিক্রয় বা সহায়তা দল যুক্ত হয়। অর্থাৎ কখনো “ট্রায়াল কত দিন?” প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বোঝা যায়, আসলে ট্রায়ালের ধরনটাই বদলানো দরকার।
একটি বাস্তবসম্মত প্রাথমিক সময় চাইলে
নতুন পণ্য, আগের ব্যবহারযোগ্য তথ্য নেই?
১৪ দিন দিয়ে শুরু করুন।
তারপর অপেক্ষা করে শুধু কনভার্শনের প্রতিবেদন দেখবেন না। ব্যবহারকারী প্রথম উপকারী কাজটি কোন দিনে করছে, কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে, কয় দিন পণ্যে ফিরে আসছে—এসব দেখুন। প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই মূল্য পাওয়া যাচ্ছে এবং এরপর নিষ্ক্রিয়তা বাড়ছে? সাত দিনের ট্রায়াল পরীক্ষা করা যায়।
সেটআপ বা দলগত মূল্যায়নের জন্য সত্যিই বেশি সময় লাগছে? ৩০ দিন পরীক্ষা করুন। কনভার্শন কম? ট্রায়ালের দিনসংখ্যা ধরার আগে অনবোর্ডিং, সুবিধায় প্রবেশাধিকার, ব্যবহারকারীর মান এবং অর্থপ্রদানের ধাপ দেখুন।
সাস ফ্রি ট্রায়ালের দৈর্ঘ্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় তখনই, যখন অন্য পণ্যের ১৪ দিন বা ৩০ দিন দেখে সেটি নিজের পণ্যে বসিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিযোগী কত দিন দিচ্ছে, সেটি জানা ভালো। কিন্তু আপনার ব্যবহারকারী কবে আসল উপকার পাচ্ছে—সিদ্ধান্তটা আসলে সেখানেই।
প্রায়শ জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ফ্রি ট্রায়ালের জন্য ১৪ দিন কি সবচেয়ে ভালো সময়?
১৪ দিন অনেক SaaS পণ্যে প্রচলিত এবং নতুন পণ্যের জন্য ভালো শুরুর জায়গা হতে পারে। তবে এটি সবার জন্য সেরা নয়। ব্যবহারকারী কত দ্রুত পণ্যের আসল উপকার বুঝতে পারছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৭ দিনের ফ্রি ট্রায়াল কখন ব্যবহার করা ভালো?
পণ্য সহজ হলে, সেটআপে খুব কম সময় লাগলে এবং ব্যবহারকারী প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই মূল সুবিধা বুঝতে পারলে ৭ দিনের ট্রায়াল পরীক্ষা করা যেতে পারে। দীর্ঘ সেটআপ বা দলগত মূল্যায়নের প্রয়োজন হলে এই সময় কম হতে পারে।
৩০ দিনের ফ্রি ট্রায়াল কি কনভার্শন কমিয়ে দেয়?
অবশ্যই নয়। যেসব সফটওয়্যারে তথ্য স্থানান্তর, অন্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ, প্রশিক্ষণ বা দলগত মূল্যায়নে সময় লাগে, সেখানে ৩০ দিন যুক্তিযুক্ত হতে পারে। তবে ব্যবহারকারী যদি প্রথম সপ্তাহের পর আর ফিরে না আসে, শুধু সময় বাড়ানো সমস্যার সমাধান করবে না।
ফ্রি ট্রায়াল থেকে পেইড গ্রাহক কম হলে প্রথমে কী পরীক্ষা করা উচিত?
প্রথমে দেখুন ব্যবহারকারী মূল সুবিধায় পৌঁছাচ্ছে কি না, সেখানে পৌঁছাতে কত সময় নিচ্ছে, কোন পর্যায়ে ব্যবহার বন্ধ করছে এবং অর্থপ্রদানের ধাপে কোনো বাধা আছে কি না। সব সমস্যা ট্রায়ালের মেয়াদ থেকে আসে না।
নতুন SaaS পণ্যের জন্য ৭, ১৪ নাকি ৩০ দিন দিয়ে শুরু করা উচিত?
আগের ব্যবহার-তথ্য না থাকলে ১৪ দিন একটি বাস্তবসম্মত প্রাথমিক সময়সীমা। পরে ব্যবহারকারীর আচরণ দেখে ৭ বা ৩০ দিনের সঙ্গে পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

