ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ারে বিশেষজ্ঞ নাকি বহুমুখী মার্কেটার হবেন

সর্বাধিক আলোচিত

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার সময় একটা পর্যায়ে এসে প্রায় সবাই একই সমস্যায় পড়েন। এসইও ভালো লাগছে, কিন্তু অর্থপ্রদত্ত বিজ্ঞাপনও শেখা দরকার মনে হচ্ছে। কনটেন্ট নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছা করছে, আবার তথ্য বিশ্লেষণ না জানলে যেন কিছুই পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না।

তারপর প্রশ্ন আসে—একটা জায়গায় গভীর হব, নাকি সব দিকেই কাজ শিখব?

মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ বনাম বহুমুখী মার্কেটার নিয়ে আমার মতে সবচেয়ে কাজের উত্তরটি মাঝামাঝি। ক্যারিয়ারের শুরুতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র না বুঝে খুব দ্রুত বিশেষজ্ঞ হয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। আবার বছরের পর বছর সবকিছু একটু একটু করে শিখে গেলে নিজের শক্তির জায়গাটাও তৈরি হয় না।

তাই বেশির ভাগ নতুন পেশাজীবীর জন্য ভালো পথ হলো—আগে বিস্তৃত ধারণা, তারপর গভীর দক্ষতা। আগে মার্কেটিংয়ের বড় ছবিটা বুঝুন। তারপর একটি দক্ষতা বেছে নিয়ে সেখানে গভীর হন।

বিশেষজ্ঞ আর বহুমুখী মার্কেটারের পার্থক্যটা আসলে কাজে

বিশেষজ্ঞ সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সমস্যার পেছনে বেশি সময় দেন। একজন এসইও বিশেষজ্ঞ সার্চে দৃশ্যমানতা, কনটেন্টের ফলাফল, কারিগরি সমস্যা বা সার্চের তথ্য নিয়ে তুলনামূলক গভীরে যেতে পারেন। অর্থপ্রদত্ত বিজ্ঞাপন বিশেষজ্ঞ প্রচারাভিযানের সেটআপ, বাজেট, লক্ষ্য নির্ধারণ, পরীক্ষা ও ফলাফল নিয়ে কাজ করেন। ই-মেইল মার্কেটার আবার গ্রাহক বিভাজন, গ্রাহকের যাত্রাপথ, গ্রাহক ধরে রাখা বা স্বয়ংক্রিয়করণের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।

বহুমুখী মার্কেটারের দিনটা অন্য রকম হতে পারে।

সকালে কনটেন্ট পরিকল্পনা নিয়ে কথা বললেন, দুপুরে প্রচারাভিযানের প্রতিবেদন দেখলেন, পরে ল্যান্ডিং পেজের বার্তা নিয়ে মতামত দিলেন। পরদিন হয়তো ই-মেইলের ধারাবাহিক বার্তা বা ওয়েবসাইটের ভিজিটর নিয়ে কাজ করতে হলো।

এখানেই মূল পার্থক্য। বিশেষজ্ঞ সাধারণত একটি সমস্যার গভীরে যান। বহুমুখী মার্কেটার বিভিন্ন অংশ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করছে, সেটি বেশি দেখেন।

তবে চাকরির পদবির নাম দেখে এই পার্থক্য ধরতে গেলে ভুল হতে পারে। “ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ” লেখা একটি চাকরিতে সত্যিই বিশেষায়িত কাজ থাকতে পারে। অন্য কোথাও একই পদবির মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কনটেন্ট, প্রতিবেদন এবং অর্থপ্রদত্ত প্রচারাভিযান—সবই সামলাতে হতে পারে।

তাই পদবির নাম নয়, কাজের বিবরণ পড়ুন।

খুব তাড়াতাড়ি বিশেষজ্ঞ হওয়ারও সমস্যা আছে

খুব তাড়াতাড়ি বিশেষজ্ঞ হওয়ারও সমস্যা আছে

ধরুন, আপনি শুরুতেই ঠিক করলেন এসইও করবেন। এটা খারাপ সিদ্ধান্ত নয়। সমস্যা হবে যদি এসইও বলতে শুধু কীওয়ার্ড গবেষণার টুল বা কোনো ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন চালানো শেখেন। কিছুদিন পরই দেখবেন প্রশ্ন অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে। ভিজিটর বাড়ছে, কিন্তু মানুষ পেজে থাকছে না কেন? কনটেন্ট ঠিক আছে, কিন্তু কারিগরি সমস্যা আছে কি? র‍্যাঙ্কিং এসেছে, কিন্তু ব্যবসায়িক ফলাফল কোথায়? তথ্য সংগ্রহ ঠিকমতো হচ্ছে কি?

এখানে এসইও আর একা থাকে না। কনটেন্ট, তথ্য বিশ্লেষণ, ওয়েবসাইটের কাঠামো, ব্যবহারকারীর আচরণ—সব ঢুকে পড়ে।

একই ঘটনা অর্থপ্রদত্ত বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও হয়। গুগল অ্যাডস বা মেটা অ্যাডসের ব্যবহারবিধি জানা দরকার, কিন্তু কোন প্রচারাভিযান কেন চলছে, কোন পরিমাপক আসলে গুরুত্বপূর্ণ, কোথায় বাজেট নষ্ট হচ্ছে—এসব না বুঝলে শুধু টুল জানা খুব বেশি কাজে দেয় না।

এই কারণেই বিশেষজ্ঞ হওয়ার সময় একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার: প্ল্যাটফর্ম শিখবেন, কিন্তু ক্যারিয়ারটা প্ল্যাটফর্মের ওপর দাঁড় করাবেন না।

প্ল্যাটফর্ম বদলায়। ব্যবহারপদ্ধতি বদলায়। স্বয়ংক্রিয়করণ বাড়ে। কিন্তু শ্রোতা বা গ্রাহক বোঝা, পরিমাপ, পরীক্ষা, গ্রাহকের আচরণ বা ব্যবসায়িক লক্ষ্য বোঝার মতো দক্ষতা অনেক বেশি দিন কাজে থাকে।

বহুমুখী মার্কেটার হওয়ারও একটা বিপদ আছে

বহুমুখী মার্কেটার শব্দটা শুনলেই অনেকে ভাবেন, “সবই একটু একটু জানি।” এটাই দুর্বল বহুমুখী মার্কেটারের সমস্যা। এসইও একটু জানেন। ক্যানভা একটু জানেন। ফেসবুক অ্যাডস চালিয়েছেন। মেইলচিম্প দেখেছেন। গুগল অ্যানালিটিক্স খুলেছেন। কিন্তু কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “এর মধ্যে কোন সমস্যাটা আপনি সত্যিই ভালোভাবে সমাধান করতে পারেন?”—উত্তরটা অস্পষ্ট হয়ে যায়।

ভালো বহুমুখী মার্কেটার অন্য রকম। তিনি সবকিছুর বিশেষজ্ঞ নন, কিন্তু একটা প্রচারাভিযান কোথায় ভাঙছে সেটা ধরতে পারেন। কনটেন্টের সমস্যা, লক্ষ্য নির্ধারণের সমস্যা, অফারের সমস্যা নাকি পরিমাপের সমস্যা—কোন দিকে তাকাতে হবে, সেটা অন্তত বোঝেন।

ছোট দলে এই দক্ষতা খুব কাজে আসে। সেখানে আলাদা এসইও কর্মী, ই-মেইল মার্কেটার, তথ্য বিশ্লেষক বা কনটেন্ট কৌশলবিদ সব সময় নাও থাকতে পারে। একজন মানুষকেই কয়েকটি দিক সামলাতে হয়।

কিন্তু সেখানেও একটা সীমা টানতে হবে। বহুমুখী পরিচয় যদি এত বিস্তৃত হয়ে যায় যে আপনার নিজের কোনো গভীর দক্ষতা নেই, তখন ক্যারিয়ারে এগোনো ধীরে যেতে পারে। কারণ বাজারে আপনাকে কীসের জন্য মনে রাখা হবে, সেটাই স্পষ্ট থাকে না।

এই জায়গায় টি-আকৃতির মার্কেটার ধারণাটা কাজে দেয়

বিশেষজ্ঞ আর বহুমুখী মার্কেটারকে একেবারে বিপরীত দুই দিক হিসেবে দেখলে অনেক সময় সিদ্ধান্ত কঠিন হয়ে যায়। টি-আকৃতির মার্কেটার ধারণাটি মাঝখানে একটি কার্যকর পথ দেখায়।

“T”-এর ওপরের দাগটি বিস্তৃত জ্ঞান। নিচের লম্বা অংশটি গভীর দক্ষতা।

মানে, মার্কেটিংয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বুঝবেন, কিন্তু একটি ক্ষেত্রে অন্যগুলোর চেয়ে অনেক বেশি গভীরে যাবেন। ধরুন, আপনার মূল দক্ষতা এসইও।

আপনি কনটেন্ট কৌশল বোঝেন, তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারেন, অর্থপ্রদত্ত সার্চ কীভাবে স্বাভাবিক সার্চ থেকে আলাদা কাজ করে তা জানেন, ডেভেলপারের সঙ্গে কারিগরি সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারেন—কিন্তু এসইও-ই আপনার সবচেয়ে শক্ত জায়গা।

এটাই ভালো অবস্থান। কারণ আপনি শুধু নিজের ছোট বাক্সের মধ্যে আটকে নেই, আবার “সবই করি” বলেও নিজেকে অস্পষ্ট করছেন না। টি-আকৃতির মার্কেটার কোনো আনুষ্ঠানিক চাকরির পদবি নয়। এটি বরং নিজের দক্ষতার পরিধি সাজানোর একটি উপায়।

আরও পড়ুন: কোন Career আপনার জন্য মানানসই: আগ্রহ, দক্ষতা ও জীবনযাপন মিলিয়ে দেখুন

নতুন হলে আগে কী শিখবেন

শুরুতেই পাঁচটা সনদ সংগ্রহ করার চেয়ে কয়েকটা ছোট কাজ করে দেখা বেশি কাজে দেয়। প্রথমে মার্কেটিংয়ের ভিত্তিটা বুঝুন। মানুষ কেন কিনবে, কার জন্য পণ্য, প্রস্তাব কী, গ্রাহক কোথা থেকে আসে, কোথায় আগ্রহ হারায়—এসব না বুঝে সরাসরি টুল শেখা শুরু করলে পরে অনেক কিছু বিচ্ছিন্ন লাগে।

তারপর কনটেন্ট ও কপির মৌলিক বিষয় বুঝুন। কপিরাইটার হওয়ার দরকার নেই, কিন্তু শিরোনাম, বার্তা এবং করণীয় নির্দেশনা কেন গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে হবে। সার্চের ক্ষেত্রে এসইও আর অর্থপ্রদত্ত সার্চের পার্থক্য বুঝুন। ই-মেইল মার্কেটিংয়ে শুধু সংবাদপত্রের মতো বার্তা পাঠানো নয়, গ্রাহকের যাত্রাপথ ধরে যোগাযোগ কীভাবে বদলায় সেটাও দেখুন।

আর তথ্য বিশ্লেষণ বাদ দেবেন না। মার্কেটিংয়ে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত আসে একটি পরিমাপক দেখে। ভিজিটর বেড়েছে মানেই প্রচারাভিযান ভালো—এমন নয়। ক্লিক বেড়েছে মানেই ব্যবসায়িক ফলাফল এসেছে—এটাও নয়। তথ্য পড়ার অভ্যাস যত আগে তৈরি হবে, পরে তত সুবিধা পাবেন।

কোন দিকে গভীর হবেন?

এখানে অন্যের পরামর্শের চেয়ে নিজের কাজের ধরন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

  • এসইও ভালো লাগতে পারে যদি সার্চ আচরণ, কনটেন্ট, তথ্য এবং কারিগরি সমস্যা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ থাকে।
  • অর্থপ্রদত্ত বিজ্ঞাপন বা ফলাফলভিত্তিক মার্কেটিং বেশি মানাতে পারে যদি বাজেট, পরীক্ষা, সংখ্যা এবং দ্রুত ফলাফল দেখে সিদ্ধান্ত নিতে ভালো লাগে।
  • কনটেন্ট মার্কেটিং বেছে নিতে পারেন যদি গবেষণা, লেখা, সম্পাদকীয় পরিকল্পনা এবং শ্রোতা বোঝা আপনার শক্ত জায়গা হয়।
  • ই-মেইল বা গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা-এর কাজ ভালো লাগতে পারে যদি গ্রাহকের যাত্রাপথ, গ্রাহক ধরে রাখা, বিভাজন এবং স্বয়ংক্রিয়করণ নিয়ে ভাবতে পছন্দ করেন।
  • আর মার্কেটিং তথ্য বিশ্লেষণ স্বাভাবিক পছন্দ হতে পারে যদি তথ্য দেখে ধারা বের করা, ড্যাশবোর্ড তৈরি করা এবং ফলাফল ব্যাখ্যা করতে ভালো লাগে।

একবার বেছে নিলে সারাজীবন সেখানেই থাকতে হবে—এমনও নয়। কনটেন্ট থেকে এসইওতে যাওয়া যায়। এসইও থেকে তথ্য বিশ্লেষণে যাওয়া যায়। অর্থপ্রদত্ত বিজ্ঞাপন থেকে প্রবৃদ্ধিভিত্তিক মার্কেটিং ভূমিকায় যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়। ক্যারিয়ারের পথ অনেক সময় কাজ করতে করতেই পরিষ্কার হয়।

চাকরির বিজ্ঞাপন পড়ার সময় পদবির নাম বাদ দিয়ে যা দেখবেন

চাকরির বিজ্ঞাপন পড়ার সময় পদবির নাম বাদ দিয়ে যা দেখবেন

একটি “মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ” পদ দেখলেন। আবেদন করার আগে একটু থামুন। দেখুন দিনের বেশির ভাগ সময় কী করতে হবে। প্রচারাভিযান বাস্তবায়ন করবেন, নাকি কৌশল নির্ধারণেও থাকবেন? কনটেন্ট লিখতে হবে? প্রতিবেদন করবেন? ডিজাইন দল আছে? ডেভেলপার আছে? বাজেটের দায়িত্ব আপনার? মূল কর্মদক্ষতার সূচক কী?

দলের আকারও অনেক কিছু বদলে দেয়। চার-পাঁচজনের ছোট দলে বিশেষজ্ঞ হয়েও আপনাকে অনেক ধরনের কাজ করতে হতে পারে। বড় প্রতিষ্ঠানে একই পদ অনেক বেশি নির্দিষ্ট হতে পারে।

এই পার্থক্য না বুঝলে চাকরিতে ঢোকার পর মনে হতে পারে, পদবির নাম একটা ছিল, কাজ আরেকটা।

সনদ আছে, কিন্তু দেখানোর মতো কাজ নেই—এটা সমস্যা

সনদ দরকারি হতে পারে। গুছানো কোর্স অনেক বিষয় দ্রুত বুঝতে সাহায্য করে। কিন্তু জীবনবৃত্তান্তে সনদের নামের লম্বা তালিকা দেখিয়েই দক্ষতা প্রমাণ করা কঠিন।

  • এসইও শিখেছেন? একটি ছোট সাইট নিরীক্ষা দেখান।
  • কনটেন্ট শিখেছেন? একটি কনটেন্ট পরিকল্পনা দেখান।
  • ই-মেইল মার্কেটিং শিখেছেন? একটি স্বাগত বার্তার ধারাবাহিকতা তৈরি করুন।
  • তথ্য বিশ্লেষণ শিখেছেন? একটি সাধারণ প্রতিবেদন তৈরি করে দেখান কোন পরিমাপক কেন দেখছেন।
  • অর্থপ্রদত্ত বিজ্ঞাপন শিখছেন? একটি নমুনা প্রচারাভিযান পরিকল্পনা বানান—উদ্দেশ্য কী, শ্রোতা কারা, কোন পরিমাপক দেখবেন, কীভাবে পরীক্ষা করবেন।

এগুলো নিখুঁত হতে হবে না। নতুনদের পোর্টফোলিওর কাজই হলো দেখানো যে আপনি শুধু কোর্স দেখেননি, কিছু বানিয়েছেন এবং নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে পারেন।

প্রথম কয়েক মাসে বিস্তৃত জ্ঞান রাখুন, তারপর ধীরে ধীরে ক্ষেত্র সংকুচিত করুন

শেখার শুরুতে অনেকেই একটি ভুল করেন—এক সপ্তাহ এসইও, পরের সপ্তাহ ফেসবুক অ্যাডস, তারপর ই-মেইল মার্কেটিং, তারপর তথ্য বিশ্লেষণ। কয়েক মাস পরে দেখেন, অনেক শব্দ চেনেন, কিন্তু হাতে কিছু নেই।

এর চেয়ে ভালো হলো কয়েকটি ক্ষেত্র ছুঁয়ে দেখে তারপর ধীরে ধীরে একটি জায়গায় বেশি সময় দেওয়া।

একটি ওয়েবসাইট নিয়ে প্রাথমিক এসইও নিরীক্ষা করতে পারেন। এরপর একটি ছোট কনটেন্ট পরিকল্পনা। তারপর একটি ই-মেইল ধারাবাহিকতা বা প্রচারাভিযান প্রতিবেদন।

কোন কাজ করতে গিয়ে আপনার বেশি প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, সেটাও লক্ষ্য করুন।

কোন কাজ শেষ করে মনে হচ্ছে, “এটা নিয়ে আরেকটু জানতে চাই”?

সেই জায়গাটাই অনেক সময় বিশেষায়নের শুরু।

বেতনের কথা শুনে ক্যারিয়ারের পথ ঠিক করবেন না

ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে আলোচনা হলেই একটা কথা আসে—বিশেষজ্ঞ বেশি আয় করেন, নাকি বহুমুখী মার্কেটার?

এভাবে প্রশ্ন করলে খুব কাজে দেয় না। একজন জ্যেষ্ঠ এসইও বিশেষজ্ঞ এবং নতুন ডিজিটাল মার্কেটিং নির্বাহীকে তুলনা করা অর্থহীন। একইভাবে একজন অভিজ্ঞ মার্কেটিং ব্যবস্থাপকের পারিশ্রমিক অনেক বিশেষজ্ঞ পদের চেয়ে বেশি হতে পারে।

দেশ, প্রতিষ্ঠান, অভিজ্ঞতা, শিল্পখাত, দলের আকার, আয়ের দায়িত্ব—সবকিছু বদলালে বেতনও বদলায়। তাই “এই দক্ষতা শিখলে এত টাকা” ধরনের পোস্ট দেখে ক্যারিয়ারের পথ ঠিক করার চেয়ে কয়েকটি আসল চাকরির বিবরণ পড়ুন।

দেখুন প্রতিষ্ঠানগুলো কী চাইছে। সেখানেই বাজারের বাস্তব চাহিদা অনেক পরিষ্কার দেখা যায়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে চিন্তা করবেন, কিন্তু ভয় পেয়ে বিশেষায়ন ছাড়বেন না

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যে মার্কেটিংয়ের অনেক নিয়মিত কাজ দ্রুত করছে। বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন সংস্করণ তৈরি, কপির খসড়া, প্রতিবেদন, গবেষণা—অনেক ক্ষেত্রেই স্বয়ংক্রিয়করণ বাড়ছে।

তার মানে এই নয় যে বিশেষজ্ঞ হওয়ার আর দরকার নেই।

বরং শুধু বোতাম চাপার দক্ষতার মূল্য কমলে সমস্যা সমাধানের দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ে।

আপনি যদি শুধু একটি সফটওয়্যার চালাতে পারেন, ঝুঁকি বেশি।

কিন্তু আপনি যদি বুঝতে পারেন কোন প্রচারাভিযান কেন কাজ করছে না, কোন পরিমাপক ভুল সংকেত দিচ্ছে, শ্রোতা কোথায় আগ্রহ হারাচ্ছে বা কোন পরীক্ষা করা উচিত—সেই দক্ষতা সহজে একটি টুলের সঙ্গে শেষ হয়ে যায় না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সময় বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রশ্ন তাই “বিশেষজ্ঞ হব কি না” নয়।

বরং—কীসের বিশেষজ্ঞ হব?

শেষ পর্যন্ত কোন পথটি বেশি বাস্তবসম্মত?

একেবারে নতুন হলে বিশেষজ্ঞ বনাম বহুমুখী মার্কেটারকে দুইটা আলাদা রাস্তা হিসেবে দেখার দরকার নেই।

আগে মার্কেটিংয়ের বড় ছবিটা বুঝুন।

এরপর একটি দক্ষতা বেছে নিন যেটাতে আপনি অন্যগুলোর চেয়ে বেশি সময় দিতে রাজি। সেখানে প্রকল্প করুন। ভুল করুন। আবার করুন। কিছুদিন পর ওই দক্ষতাই আপনার পেশাগত পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠবে।

যদি শুরু থেকেই এসইও বা তথ্য বিশ্লেষণের প্রতি পরিষ্কার আগ্রহ থাকে, সেখানে আগে গভীর হওয়া যায়। কিন্তু পাশের বিষয়গুলো পুরোপুরি বাদ দেবেন না।

আর যদি এখনো নিশ্চিত না হন, বহুমুখী ভিত্তি দিয়ে শুরু করুন। তবে সেই অবস্থায় আটকে থাকবেন না।

মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ বনাম বহুমুখী মার্কেটার নিয়ে সবচেয়ে ব্যবহারিক সিদ্ধান্ত হলো: প্রথমে যথেষ্ট বিস্তৃত ধারণা তৈরি করুন, তারপর এমন একটি গভীর দক্ষতা গড়ুন যার জন্য মানুষ আপনাকে আলাদা করে মনে রাখবে।

পদবির নাম পরে আসবে। দক্ষতা আগে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে নতুন হলে প্রথমে বিশেষজ্ঞ হওয়া উচিত, নাকি বহুমুখী মার্কেটার?

একেবারে শুরুতে একটি ক্ষেত্রেই নিজেকে আটকে ফেলার দরকার নেই। এসইও, কনটেন্ট, অর্থপ্রদত্ত বিজ্ঞাপন, ই-মেইল মার্কেটিং এবং তথ্য বিশ্লেষণের মৌলিক ধারণা তৈরি করলে কোন ধরনের কাজ আপনার বেশি ভালো লাগে, সেটি বোঝা সহজ হয়। এরপর একটি ক্ষেত্রে তুলনামূলক গভীর দক্ষতা তৈরি করা যেতে পারে।

বহুমুখী মার্কেটার কি পরে বিশেষজ্ঞ হতে পারেন?

হ্যাঁ। অনেকেই বিভিন্ন মার্কেটিং কাজ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং পরে এসইও, কনটেন্ট, তথ্য বিশ্লেষণ, অর্থপ্রদত্ত বিজ্ঞাপন বা ই-মেইল মার্কেটিংয়ের মতো একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে গভীর হন। আগের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা তখন অন্য দলের সঙ্গে কাজ করা এবং পুরো মার্কেটিং প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে কাজে আসে।

টি-আকৃতির মার্কেটার বলতে কী বোঝায়?

টি-আকৃতির মার্কেটার এমন একজন পেশাজীবী, যিনি মার্কেটিংয়ের একাধিক ক্ষেত্র সম্পর্কে কাজের উপযোগী ধারণা রাখেন, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তুলনামূলক গভীর দক্ষতা তৈরি করেন। যেমন, একজন এসইও বিশেষজ্ঞ কনটেন্ট, তথ্য বিশ্লেষণ ও অর্থপ্রদত্ত সার্চ সম্পর্কেও মৌলিক ধারণা রাখতে পারেন।

চাকরির জন্য সনদ নাকি পোর্টফোলিও—কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

সনদ শেখার প্রমাণ দিতে পারে, কিন্তু সেটি একাই বাস্তব দক্ষতা দেখায় না। নিজের করা এসইও নিরীক্ষা, কনটেন্ট পরিকল্পনা, ই-মেইল ধারাবাহিকতা, প্রচারাভিযানের পরিকল্পনা বা তথ্য বিশ্লেষণের নমুনা পোর্টফোলিওতে রাখলে আপনি কীভাবে সমস্যা সমাধান করেন, সেটি আরও পরিষ্কারভাবে দেখানো যায়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কি ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞদের চাহিদা কমে যাবে?

কিছু নিয়মিত ও পুনরাবৃত্ত কাজ স্বয়ংক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে, কিন্তু তাই বলে সব বিশেষায়িত ভূমিকার প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে না। শুধু একটি সফটওয়্যার চালানোর দক্ষতার ওপর নির্ভর না করে তথ্য বিশ্লেষণ, পরীক্ষা, গ্রাহকের আচরণ বোঝা, কৌশল নির্ধারণ এবং ফলাফল ব্যাখ্যা করার দক্ষতা তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ