ডিসকভার ট্রাফিক এবং ওয়েব সার্চ ট্রাফিকের মধ্যে পার্থক্য

সর্বাধিক আলোচিত

গুগল সার্চ কনসোলে ডিসকভার থেকে আসা পাঠকের সংখ্যা কখনো হঠাৎ বেড়ে যায়, আবার কয়েক দিনের মধ্যে অনেক কমে আসে। একই সময়ে গুগলের সাধারণ সার্চ থেকে আসা পাঠকের সংখ্যায় হয়তো তেমন পরিবর্তন নেই। দুটি চিত্র পাশাপাশি দেখলে একটি প্রশ্ন সামনে আসে। ওয়েবসাইটের এসইওতে সমস্যা হয়েছে, নাকি ডিসকভারের ট্রাফিক এমনই?

গুগল ডিসকভার বনাম সার্চ ট্রাফিকের মূল পার্থক্য বুঝতে হলে জানতে হবে, পাঠক কোথা থেকে এবং কেন আসছেন। গুগল সার্চে মানুষ নিজে তথ্য খোঁজেন। ডিসকভারে গুগল তাঁদের আগ্রহ অনুযায়ী লেখা, সংবাদ বা অন্যান্য বিষয়বস্তু সামনে আনে। ফলে একই নিবন্ধ দুই জায়গা থেকে পাঠক পেলেও সেই পাঠকদের আসার ধরন এক রকম হয় না।

যাঁরা নিয়মিত খবর, প্রযুক্তিবিষয়ক নিবন্ধ কিংবা নির্দেশিকা প্রকাশ করেন, তাঁদের জন্য বিষয়টি আরও প্রাসঙ্গিক। ডিসকভার একটি লেখাকে অল্প সময়ে অনেক পাঠকের সামনে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সার্চ থেকে পাঠক পাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে শুধু ডিসকভারের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ।

গুগল ডিসকভার ও ওয়েব সার্চের আসল পার্থক্য কোথায়?

পাসপোর্ট নবায়নের নিয়ম জানতে কেউ গুগলে সার্চ করলেন। ফলাফলে যে নিবন্ধগুলো এল, সেগুলোর মধ্যে একটি খুলে পড়লেন। এখানে পাঠক নিজেই তথ্য খুঁজতে এসেছেন।

গুগল ওয়েব সার্চ মূলত এভাবেই কাজ করে। ব্যবহারকারীর প্রশ্নের সঙ্গে কোন লেখা বেশি প্রাসঙ্গিক, গুগল সেটি নির্ধারণ করে ফলাফল সাজায়। কীওয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সার্চে ভালো অবস্থান পাওয়ার জন্য সেটুকুই যথেষ্ট নয়। বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা, তথ্যের মান, উপযোগিতা এবং বিভিন্ন মান নির্ধারণের সংকেতও বিবেচনায় আসে।

ডিসকভারে পরিস্থিতি আলাদা। ক্রিকেটে আগ্রহী একজন ব্যবহারকারীর সামনে নতুন কোনো ম্যাচ বিশ্লেষণ আসতে পারে। তিনি হয়তো সেই ম্যাচ নিয়ে কিছু খুঁজছিলেন না। কিন্তু বিষয়টি তাঁর আগ্রহের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় নিবন্ধটি খুললেন।

এখানেই দুই মাধ্যমের মূল ফারাক। সার্চ ব্যবহারকারীর সক্রিয় অনুসন্ধানের ওপর নির্ভর করে। ডিসকভার আগ্রহের ভিত্তিতে লেখা সামনে নিয়ে আসে। ডিসকভারে শুধু নতুন খবর দেখানো হয়, এমন ধারণাও ঠিক নয়। পুরোনো কোনো নিবন্ধ প্রাসঙ্গিক হলে গুগল সেটিও দেখাতে পারে। ফলে প্রতিদিন প্রচুর সংবাদ প্রকাশ না করেও একটি ওয়েবসাইট ডিসকভারে প্রদর্শনের উপযুক্ত হতে পারে।

তবে প্রদর্শনের উপযুক্ত হওয়া এবং বাস্তবে পাঠক পাওয়া আলাদা বিষয়।

গুগল ডিসকভার বনাম সার্চ ট্রাফিক: তুলনা একনজরে

বিষয় গুগল ডিসকভার গুগল ওয়েব সার্চ
পাঠক কীভাবে আসেন আগ্রহের ভিত্তিতে লেখা দেখে নিজে সার্চ করে
কীওয়ার্ডের ভূমিকা সরাসরি অনুসন্ধান করার প্রয়োজন নেই অনুসন্ধানের শব্দ গুরুত্বপূর্ণ
পাঠকের সংখ্যার পরিবর্তন বেশি ওঠানামা করতে পারে দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত পাঠক পাওয়ার সুযোগ বেশি
লেখার ধরন আগ্রহভিত্তিক প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক লেখা নির্দেশিকা, ব্যাখ্যা, তুলনা, সংবাদ ও সমস্যার সমাধান
ছবির গুরুত্ব বড় ও প্রাসঙ্গিক ছবি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলের ধরন অনুযায়ী গুরুত্ব বদলায়
সার্চ কনসোলের পরিমাপক ক্লিক, প্রদর্শনসংখ্যা, ক্লিকের হার ক্লিক, প্রদর্শনসংখ্যা, ক্লিকের হার, গড় অবস্থান

টেবিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি পাঠকপ্রবাহের স্থায়িত্বে। সার্চে কোনো তথ্যের চাহিদা দীর্ঘদিন থাকলে ভালো একটি নিবন্ধ নিয়মিত পাঠক পেতে পারে। ডিসকভারে জনপ্রিয় হওয়া কোনো লেখার ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি পাঠক পাওয়া অসম্ভব নয়, কিন্তু তা অনেক বেশি অনিশ্চিত। এ কারণে ডিসকভারের একটি সফল নিবন্ধকে সার্চের দীর্ঘমেয়াদি সফলতার সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না।

ডিসকভার থেকে পাঠক আসা হঠাৎ কমে যায় কেন?

ডিসকভার থেকে পাঠক আসা হঠাৎ কমে যায় কেন?

ডিসকভার নিয়ে ওয়েবসাইট মালিকদের একটি বড় উদ্বেগ হলো পাঠকসংখ্যার আকস্মিক পতন। গত সপ্তাহে ভালো ক্লিক পাওয়া নিবন্ধটি এই সপ্তাহে অনেক কম পাঠক পাচ্ছে। অথচ লেখায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

এমন পরিস্থিতির ব্যাখ্যা সব সময় ওয়েবসাইটের ভেতরে পাওয়া যাবে না।

বিষয়টির প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে

বড় কোনো ক্রিকেট ম্যাচের আগে দল, খেলোয়াড় ও সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকে। ম্যাচ শেষ হলে আলোচনার বিষয়ও বদলে যায়।

ফলে সেই ম্যাচ নিয়ে লেখা পুরোনো নিবন্ধটি ডিসকভারে কম প্রদর্শিত হতে পারে।

প্রযুক্তি কিংবা বিনোদনের খবরের ক্ষেত্রেও বিষয়ের প্রতি আগ্রহ দ্রুত বদলাতে পারে। নতুন আলোচনা সামনে আসার সঙ্গে ব্যবহারকারীদের ডিসকভারে প্রদর্শিত লেখাও বদলায়।

নতুন লেখা সামনে আসতে পারে

একই বিষয়ে অন্য প্রকাশনার নতুন প্রতিবেদন বা বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশিত হতে পারে। ব্যবহারকারীর আগ্রহের পরিবর্তনের সঙ্গে ডিসকভারে কোন লেখা দেখানো হচ্ছে, সেটিও বদলাতে পারে।

কিন্তু এখানে একটি ভুল এড়ানো দরকার। প্রতিযোগী প্রকাশনার নতুন নিবন্ধ এসেছে বলেই নিজের ওয়েবসাইটের পাঠকসংখ্যা কমেছে, এমন সিদ্ধান্তের যথেষ্ট ভিত্তি নেই। ডিসকভারের প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনে কোন কারণ কতটা কাজ করেছে, তা সার্চ কনসোল থেকে সরাসরি জানা যায় না।

গুগলের হালনাগাদ প্রভাব ফেলতে পারে

গুগল সার্চের বিভিন্ন ব্যবস্থা ডিসকভারেও ব্যবহৃত হয়। ফলে কোনো হালনাগাদের প্রভাব ডিসকভার থেকে আসা পাঠকের সংখ্যায় পড়তে পারে।

কিন্তু পাঠক কমার সঙ্গে কোনো হালনাগাদের সময় মিলে গেলেই সেটিকে নিশ্চিত কারণ বলা যায় না। গুগলের নিজস্ব নির্দেশনায় বলা হয়েছে, লেখার মান বা প্রকাশের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও ডিসকভারের পাঠকসংখ্যা বদলাতে পারে।

সুতরাং শুধু গ্রাফ নিচে নেমেছে বলে পুরোনো নিবন্ধ মুছে ফেলা, শিরোনাম বদলে দেওয়া কিংবা প্রকাশের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়ার যুক্তি নেই।

কখনো সমস্যাটি প্রতিবেদনের তথ্যেও থাকে

সার্চ কনসোলের সাম্প্রতিক তথ্য সব সময় চূড়ান্ত নয়। তথ্য সংগ্রহের কাজ চলতে থাকলে পরে সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। আবার কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রতিবেদনেও ভুল দেখা যায়।

এর একটি বাস্তব উদাহরণ ২০২৬ সালের ১৩ আগস্ট।

ওই দিনের ডিসকভারের কার্যক্ষমতা প্রতিবেদনে তথ্য সংরক্ষণের ত্রুটি গুগলের নথিতে রয়েছে। ফলে ক্লিক ও প্রদর্শনসংখ্যা প্রকৃত হিসাবের চেয়ে কম দেখানো হয়েছিল। সমস্যাটি তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল; এটি প্রকৃত পাঠকসংখ্যা কমার প্রমাণ নয়।

এমন ঘটনা প্রতিদিন ঘটে না। তবে একটি অস্বাভাবিক গ্রাফ দেখেই যে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, ঘটনাটি তার ভালো উদাহরণ।

সার্চ কনসোলে কোন প্রতিবেদন কী বলছে?

দুই মাধ্যমের পাঠকপ্রবাহ বুঝতে গুগল সার্চ কনসোলই প্রথমে দেখার জায়গা। তবে অনুসন্ধানের ফলাফল এবং ডিসকভারের প্রতিবেদনের সংখ্যা পড়তে গিয়ে কয়েকটি পার্থক্য মনে রাখতে হবে।

ওয়েব সার্চের প্রতিবেদনে কী দেখবেন

নিজের ওয়েবসাইটের সার্চ কনসোল খুলে কার্যক্ষমতা অংশ থেকে অনুসন্ধানের ফলাফল নির্বাচন করুন।

এখানে চারটি প্রধান পরিমাপক রয়েছে।

  • মোট ক্লিক: গুগল সার্চ থেকে কতবার আপনার ওয়েবসাইটে ক্লিক করা হয়েছে।
  • মোট প্রদর্শনসংখ্যা: সার্চ ফলাফলে আপনার ওয়েবসাইটের লেখা কতবার প্রদর্শিত হয়েছে।
  • গড় ক্লিকের হার: প্রদর্শনসংখ্যার তুলনায় কত শতাংশ ক্ষেত্রে ক্লিক হয়েছে।
  • গড় অবস্থান: সার্চ ফলাফলে ওয়েবসাইটের সবচেয়ে ওপরের ফলাফলের অবস্থানের গড় হিসাব। নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা বা অন্য বিভাগ নির্বাচন করলে সেই অনুযায়ী হিসাব দেখানো হয়।

সবচেয়ে কাজে লাগে অনুসন্ধানের শব্দ ও পৃষ্ঠাভিত্তিক তথ্যের অংশ দুটি। অনুসন্ধানের শব্দ থেকে জানা যায় কোন প্রশ্ন বা শব্দ লিখে খোঁজার সময় ওয়েবসাইট প্রদর্শিত হচ্ছে। পৃষ্ঠাভিত্তিক তথ্যে বোঝা যায় কোন নিবন্ধগুলো ক্লিক পাচ্ছে।

কোনো গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধের প্রদর্শনসংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু ক্লিক বাড়ছে না? সে ক্ষেত্রে প্রথমে দেখুন সেটি কোন অনুসন্ধানে প্রদর্শিত হচ্ছে। লেখার শিরোনাম এবং ভেতরের তথ্য ব্যবহারকারীর চাহিদার সঙ্গে মিলছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা দরকার।

তবে ক্লিকের হার কম হওয়া মানেই শিরোনামে সমস্যা নয়। সার্চ ফলাফলে অবস্থান, প্রতিযোগী ফলাফল এবং অনুসন্ধানের ধরনও ক্লিকের হার বদলে দিতে পারে। অনুসন্ধানের ধরন অনুযায়ী তথ্য বাছাই করে ওয়েব, ছবি, ভিডিও ও সংবাদ অনুসন্ধানের ফল আলাদা করা যায়।

ওয়েব সার্চে লেখাভিত্তিক ও বহুমাধ্যমভিত্তিক অনুসন্ধানের বিভাগও রয়েছে। গুগল লেন্স বা সার্কেল টু সার্চের মাধ্যমে ছবির সাহায্যে করা অনুসন্ধান বহুমাধ্যমভিত্তিক সার্চের উদাহরণ। মনে রাখতে হবে, গুগল সার্চের সংবাদ বিভাগ থেকে আসা পাঠকসংখ্যা এবং গুগল নিউজের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের আলাদা প্রতিবেদন একই তথ্য নয়।

আরও পড়ুন: গুগল সার্চ কনসোল পারফরম্যান্স রিপোর্ট কীভাবে পড়বেন

ডিসকভার প্রতিবেদনে যে তথ্যগুলো আলাদা

ডিসকভার প্রতিবেদনে যে তথ্যগুলো আলাদা

সার্চ কনসোলের কার্যক্ষমতা অংশ থেকে ডিসকভার নির্বাচন করলে ক্লিক, প্রদর্শনসংখ্যা ও গড় ক্লিকের হার পাওয়া যায়। পৃষ্ঠা, দেশ, তারিখ এবং ডিসকভারে প্রদর্শনের ধরন অনুযায়ী তথ্য বিশ্লেষণ করা যায়।

এখানে গড় অবস্থান দেখানো হয় না। কারণ ডিসকভার সাধারণ সার্চ ফলাফলের মতো অবস্থানভিত্তিক তালিকা নয়। আরেকটি বিষয় অনেকের বিভ্রান্তির কারণ হয়। সব ওয়েবসাইটে ডিসকভার প্রতিবেদন দেখা যায় না। নির্ধারিত ন্যূনতম প্রদর্শনসংখ্যা না পেলে সার্চ কনসোল এই প্রতিবেদন দেখাতে না-ও পারে।

প্রতিবেদন না দেখানো মানেই সাইটে ত্রুটি আছে, এমন নয়।

পৃষ্ঠাভিত্তিক তথ্যের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ডিসকভারের ক্লিক ও প্রদর্শনসংখ্যা মূল বা ক্যানোনিক্যাল ইউআরএলের অধীনে গণনা করা হয়। একই লেখার একাধিক ওয়েব ঠিকানা থাকলে বিকল্প ঠিকানায় আলাদা ক্লিক দেখা না-ও যেতে পারে।

আবার কমবার প্রদর্শিত কোনো পৃষ্ঠা প্রতিবেদনের তালিকায় না থাকলেও তার তথ্য মোট হিসাবে যুক্ত হতে পারে। তাই পৃষ্ঠাভিত্তিক সংখ্যাগুলো যোগ করে ওপরের মোট সংখ্যার সঙ্গে মিল না পেলে সেটিকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের ত্রুটি ধরে নেওয়া যাবে না।

দুই প্রতিবেদনের ক্লিকের হার সরাসরি তুলনা করবেন না

এটি সার্চ কনসোল বিশ্লেষণের একটি সাধারণ ভুল। ডিসকভারে কোনো লেখার কার্ড স্ক্রল করে দৃশ্যমান হলে সেটির একটি প্রদর্শন গণনা করা হয়। একই ব্যবহারকারী একই সেশনে কার্ডটি আবার দেখলে সাধারণত সেটির জন্য নতুন প্রদর্শন গণনা করা হয় না।

সার্চের ক্ষেত্রে ফলাফলের ধরন এবং তথ্য একত্র করার পদ্ধতি অনুযায়ী প্রদর্শনসংখ্যার হিসাব বদলাতে পারে। ফলে ডিসকভারের ক্লিকের হার বেশি এবং সার্চের ক্লিকের হার কম দেখালেই ডিসকভারের পাঠকেরা লেখাটি বেশি পছন্দ করছেন, এমন সিদ্ধান্ত টানা যায় না।

দুই মাধ্যমের ফল নিজের আগের সময়ের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করাই বেশি কার্যকর। সাধারণ দৈনিক প্রতিবেদনে আরেকটি বিষয় মাথায় রাখুন। সার্চ কনসোল প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় ব্যবহার করে। তবে ২৪ ঘণ্টার হিসাবে ব্রাউজারের সময় অঞ্চল অনুযায়ী স্থানীয় সময় দেখানো হয়। বাংলাদেশ বা ভারত থেকে দৈনিক পাঠকসংখ্যা বিশ্লেষণের সময় এই পার্থক্য কাজে আসে।

ডিসকভারের জন্য লেখা তৈরিতে কী বদলাবেন?

ডিসকভার থেকে পাঠক পেতে আলাদা কোনো গোপন এসইও পদ্ধতি নেই। গুগলে সূচিবদ্ধ হওয়া এবং ডিসকভারের প্রকাশনা নীতিমালা পূরণ করা পৃষ্ঠাগুলো প্রদর্শনের উপযুক্ত হতে পারে। বিশেষ কোনো প্রযুক্তিগত চিহ্নায়নও বাধ্যতামূলক নয়।

তারপরও সম্পাদকীয় প্রস্তুতিতে কিছু পার্থক্য রাখা যুক্তিসংগত।

জনপ্রিয় বিষয়ের পেছনে ছোটা যথেষ্ট নয়

কোন বিষয় নিয়ে মানুষের আগ্রহ রয়েছে, সেটি জানা দরকার। কিন্তু জনপ্রিয় বিষয়ে আরেকটি সাধারণ প্রতিবেদন প্রকাশ করলেই পাঠক সেটি পড়বেন, এমন নয়।

একটি প্রযুক্তি সংবাদে নতুন কী জানা যাচ্ছে? কোনো খেলার বিশ্লেষণে এমন কী ব্যাখ্যা রয়েছে, যা সাধারণ ফলাফলভিত্তিক সংবাদে নেই? পাঠকের জন্য বিষয়টির প্রাসঙ্গিকতা কোথায়?

প্রকাশের আগে এসব প্রশ্নের উত্তর থাকা ভালো। ডিসকভার পুরোনো লেখাও দেখাতে পারে। ফলে শুধু দ্রুত সংবাদ প্রকাশের জন্য তথ্যের নির্ভুলতা বা লেখার গভীরতা কমিয়ে দেওয়ার যুক্তি নেই।

ছবিকে গুরুত্ব দিন, কিন্তু সেটিকে একমাত্র সমাধান ভাববেন না

ডিসকভারের জন্য বড় ও প্রাসঙ্গিক ছবি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে গুগল। নির্দেশনা অনুযায়ী, ছবির প্রস্থ অন্তত ১২০০ পিক্সেল হওয়া উচিত। মোট পিক্সেলসংখ্যা ৩ লাখের বেশি এবং ছবির অনুপাত ১৬:৯ রাখার সুপারিশ রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে ১২৮০ × ৭২০ পিক্সেলের একটি ছবি এসব আকারসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করে। তবে ছবি শুধু বড় হলেই চলবে না। নিবন্ধের বিষয় যেন পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় এবং ছবি কাটছাঁট করার সময় গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ না পড়ে, তা দেখতে হবে।

ওয়েবসাইটে বড় ছবির পূর্বরূপ দেখানোর অনুমতি দিতে সংশ্লিষ্ট মেটা নির্দেশনা ব্যবহার করা যায়। সমর্থিত ত্বরিত মোবাইল পৃষ্ঠার ব্যবস্থাও একটি বিকল্প। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে ছবির তথ্য এবং উপযুক্ত কাঠামোবদ্ধ তথ্যের মাধ্যমে নিবন্ধের প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি নির্ধারণ করা উচিত।

লোগো, বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কহীন সাধারণ ছবি কিংবা অতিরিক্ত লেখায় ভরা ছবি এড়িয়ে চলার নির্দেশনাও রয়েছে। এত কিছু ঠিক করার পরও ডিসকভারে প্রদর্শনের নিশ্চয়তা নেই। কারণ ছবি লেখার সামগ্রিক মূল্যায়নের একটি অংশমাত্র।

ক্লিকযোগ্য শিরোনাম আর বিভ্রান্তিকর শিরোনাম এক নয়

শিরোনাম এমন হতে হবে, যাতে পাঠক বুঝতে পারেন নিবন্ধে কী পাবেন। কোনো স্মার্টফোনের হালনাগাদে ব্যাটারিসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান হলে সেটিই শিরোনামে পরিষ্কার করে লেখা যায়। কিন্তু ‘এই হালনাগাদে ফোন পুরো বদলে যাবে’ ধরনের অস্পষ্ট ও অতিরঞ্জিত দাবি পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে।

গুগল ডিসকভারের নির্দেশনায়ও অযথা চাঞ্চল্য তৈরি করা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে কৌতূহল বাড়ানোর কৌশল এড়াতে বলা হয়েছে। শিরোনামের কাজ পাঠককে ভুল প্রত্যাশা দিয়ে ক্লিক করানো নয়। নিবন্ধের প্রকৃত বিষয়টি আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা।

ওয়েব সার্চের জন্য আলাদা পরিকল্পনা কেন দরকার?

ডিসকভারের আলোচনা করতে গিয়ে সার্চের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনাকে অবহেলা করা ঠিক হবে না। একটি ভালো নির্দেশিকামূলক নিবন্ধ প্রকাশের দিন খুব বেশি পাঠক না পেলেও পরে সার্চ থেকে নিয়মিত ক্লিক পেতে পারে। তবে সেটি নির্ভর করে বিষয়ের চাহিদা, লেখার প্রাসঙ্গিকতা এবং প্রতিযোগিতার ওপর।

এই ধরনের লেখা তৈরি করতে প্রথমে পাঠকের অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য বুঝতে হবে। ‘গুগল সার্চ কনসোল কী’, ‘সার্চ কনসোল চালু করার নিয়ম’ এবং ‘সার্চ কনসোলে পাঠকসংখ্যা কমে গেছে’—তিনটি অনুসন্ধান কাছাকাছি বিষয়ের হলেও পাঠকের প্রয়োজন আলাদা।

প্রথমটির জন্য ব্যাখ্যা, দ্বিতীয়টির জন্য ধাপে ধাপে নির্দেশনা এবং তৃতীয়টির জন্য সমস্যা শনাক্ত করার পদ্ধতি দরকার। সব প্রশ্নের উত্তর একটি দীর্ঘ নিবন্ধে ঢুকিয়ে দিলেই ভালো লেখা তৈরি হয় না। কোন প্রশ্নের জন্য আলাদা লেখা দরকার, সেটিও সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত।

নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ করাও জরুরি। পুরোনো সফটওয়্যার নির্দেশিকা, বদলে যাওয়া সেটিং কিংবা অচল ধাপ রেখে দিলে পাঠকের সমস্যার সমাধান হবে না।

সার্চের জন্য প্রস্তুত নিবন্ধে পরিষ্কার উত্তর, প্রাসঙ্গিক শিরোনাম, কার্যকর অভ্যন্তরীণ সংযোগ এবং সঠিক সূচিবদ্ধকরণের দিকে মনোযোগ দিন। মূল ওয়েব ঠিকানা নির্ধারণে বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকলে সেগুলোও ঠিক করতে হবে।

শুধু প্রকাশের তারিখ বদলে পুরোনো নিবন্ধকে নতুন দেখানোর মধ্যে খুব বেশি সম্পাদকীয় মূল্য নেই। তথ্য সংশোধন বা নতুন ব্যাখ্যা যোগ হলে তবেই হালনাগাদের প্রকৃত উপকার পাওয়া যায়।

একটি বিষয় থেকে দুই ধরনের পাঠক পাওয়ার সুযোগ

সার্চ ও ডিসকভারের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা লেখার বিভাগ তৈরির দরকার নেই। বরং একটি বিষয়কে ঘিরে পাঠকের দুটি চাহিদা শনাক্ত করা যায়।

নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের কথাই বিবেচনা করা যাক।

সংস্করণটি প্রকাশের সময় কী পরিবর্তন এসেছে, কোন সুবিধাগুলো উল্লেখযোগ্য এবং ব্যবহারকারীদের কী জানা দরকার—এসব নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি হতে পারে। পরে একই বিষয়ের ওপর বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা যায়। সেখানে কোন ফোনে হালনাগাদ পাওয়া যাবে, কীভাবে তা পরীক্ষা করবেন এবং সমস্যা হলে কী করবেন, তা থাকবে।

প্রথম লেখাটি চলমান আগ্রহের সঙ্গে মানানসই। দ্বিতীয়টি নির্দিষ্ট তথ্য খোঁজা পাঠকের কাজে লাগতে পারে। দুটি নিবন্ধের মধ্যে প্রাসঙ্গিক অভ্যন্তরীণ সংযোগ রাখলে পাঠকেরাও সহজে এক লেখা থেকে অন্য লেখায় যেতে পারবেন। তবে একই তথ্য সামান্য বদলে একাধিক নিবন্ধ প্রকাশ করা উচিত নয়। প্রতিটি লেখার আলাদা উদ্দেশ্য এবং পাঠকের জন্য নতুন মূল্য থাকা দরকার।

ডিসকভার থেকে পাঠক কমলে কী করবেন?

পাঠক কমার পর কী পরিবর্তন করতে হবে, তা ঠিক করার আগে কোথায় পরিবর্তন হয়েছে, সেটি বুঝুন। সার্চ কনসোলে নিচের বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করা যায়।

১. সময়সীমা মিলিয়ে দেখুন। একদিনের পতন, নাকি কয়েক সপ্তাহের? সাম্প্রতিক তথ্য এখনো প্রাথমিক অবস্থায় আছে কি না, সেটিও খেয়াল করুন।

২. কোন পৃষ্ঠাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেখুন। কয়েকটি জনপ্রিয় নিবন্ধের পাঠক কমেছে, নাকি অনেক পৃষ্ঠাতেই একই অবস্থা?

৩. সার্চের সঙ্গে তুলনা করুন। একই সময়ে ওয়েব সার্চ থেকেও ক্লিক কমেছে কি না পরীক্ষা করুন।

৪. প্রযুক্তিগত সমস্যা খুঁজুন। গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠার সূচিবদ্ধকরণ, মূল ওয়েব ঠিকানা, অনুসন্ধানযন্ত্রের প্রবেশসংক্রান্ত নির্দেশনা এবং সার্ভারের অবস্থা যাচাই করুন।

৫. তথ্য সংগ্রহের ত্রুটি ও হালনাগাদ পরীক্ষা করুন। গুগল কোনো পরিচিত সমস্যা নথিভুক্ত করেছে কি না দেখুন।

৬. বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বিবেচনা করুন। যে নিবন্ধটি আগে বেশি ক্লিক পাচ্ছিল, সেটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ এখনো একই রকম আছে কি না মূল্যায়ন করুন।

এই পরীক্ষার ফল অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত বদলাবে। একটি নির্দিষ্ট খবরের প্রতি আগ্রহ কমে গেলে সেটিকে প্রযুক্তিগত এসইও সমস্যা ধরে কাজ করার প্রয়োজন নেই। আবার সার্চ ও ডিসকভার—দুই জায়গাতেই অনেক পৃষ্ঠার পাঠক কমলে সাইটের অবস্থা আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা উচিত।

কোন মাধ্যমকে অগ্রাধিকার দেবেন?

ওয়েবসাইটের ধরন অনুযায়ী অগ্রাধিকার কিছুটা বদলাবে। নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ করা একটি ওয়েবসাইটের জন্য ডিসকভার উল্লেখযোগ্য পাঠকসংখ্যার উৎস হয়ে উঠতে পারে। সময়োপযোগী প্রতিবেদন, নিজস্ব বিশ্লেষণ এবং ভালো ছবি সেখানে পাঠকের মনোযোগ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

অন্যদিকে টিউটোরিয়াল, প্রযুক্তিগত নির্দেশিকা বা সমস্যার সমাধানভিত্তিক ওয়েবসাইটের জন্য সার্চ থেকে পাঠক পাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ধারাবাহিক কাজ করা বেশি যুক্তিসংগত। অধিকাংশ তথ্যনির্ভর ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে সম্পাদকীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এমন একটি লেখার ভিত্তি তৈরি করা, যা মানুষের নিয়মিত অনুসন্ধানের উত্তর দেয়। ডিসকভার থেকে আসা অতিরিক্ত পাঠক সেই পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করতে পারেন।

গুগল ডিসকভার বনাম সার্চ ট্রাফিকের তুলনায় বেশি ক্লিক পাওয়া মাধ্যমটিই সব সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। দেখতে হবে কোন মাধ্যম থেকে আসা পাঠক ওয়েবসাইটের লেখার উদ্দেশ্যের সঙ্গে বেশি মানানসই।

শুরুতে সার্চ কনসোলের গত ২৮ দিনের দুটি প্রতিবেদন দেখুন। ডিসকভারে কোন বিষয়গুলো পাঠক পাচ্ছে এবং সার্চে কোন নিবন্ধগুলো ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করছে, সেগুলো আলাদা করুন। এই তথ্য থেকেই পরবর্তী লেখার পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব। ডিসকভারের গ্রাফ ওঠানামা করবেই। সেই পরিবর্তনের পেছনে প্রতিবার নতুন কোনো এসইও কৌশল খোঁজার দরকার নেই।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. গুগল ডিসকভার থেকে বেশি ক্লিক পেলে কি সার্চ র‍্যাঙ্কিং বাড়ে?

ডিসকভার থেকে বেশি ক্লিক পাওয়ার কারণে গুগল সার্চে কোনো নিবন্ধের অবস্থান সরাসরি বেড়ে যায়—এমন কোনো নিয়ম গুগল নিশ্চিত করেনি। দুটি মাধ্যমের কাজ এবং ফলাফল পরিমাপের পদ্ধতি আলাদা। তাই ডিসকভারে জনপ্রিয় হওয়া কোনো নিবন্ধ সার্চেও ভালো অবস্থানে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

২. সার্চ কনসোল ও গুগল অ্যানালিটিক্সে পাঠকসংখ্যা আলাদা দেখায় কেন?

দুটি টুল একই পদ্ধতিতে তথ্য গণনা করে না। সার্চ কনসোল গুগলের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আসা ক্লিকের হিসাব দেখায়। অন্যদিকে গুগল অ্যানালিটিক্স ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর প্রবেশ, কার্যক্রম ও সেশনের তথ্য সংগ্রহ করে। একই ব্যক্তি একাধিকবার ক্লিক করলেও তা একটি সেশন হিসেবে গণনা হতে পারে। আবার তথ্য সংগ্রহের অনুমতি বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেও সংখ্যায় পার্থক্য দেখা দিতে পারে।

৩. গুগল ডিসকভারে নিবন্ধ দেখানোর জন্য কি আলাদা সাইটম্যাপ জমা দিতে হয়?

না। ডিসকভারের জন্য আলাদা সাইটম্যাপ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। গুগলে সূচিবদ্ধ এবং ডিসকভারের নীতিমালা পূরণ করা নিবন্ধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শনের উপযুক্ত হতে পারে। তবে সাধারণ ওয়েবসাইটের সাইটম্যাপ সঠিকভাবে রাখা গুগলকে গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠা খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

৪. নতুন বা ছোট ওয়েবসাইট কি গুগল ডিসকভার থেকে পাঠক পেতে পারে?

পারে। ডিসকভারে প্রদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক দৈনিক পাঠক বা বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হওয়ার শর্ত নেই। নিবন্ধ গুগলে সূচিবদ্ধ হতে হবে এবং প্রাসঙ্গিক নীতিমালা পূরণ করতে হবে। তবে এসব শর্ত পূরণ করলেই নিবন্ধ প্রদর্শিত হবে বা উল্লেখযোগ্য পাঠক পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

৫. ডিসকভার থেকে প্রচুর ক্লিক এলেই কি একটি নিবন্ধ সফল?

শুধু ক্লিকের সংখ্যা দিয়ে সফলতা বিচার করা যথেষ্ট নয়। পাঠকেরা নিবন্ধটি পড়ছেন কি না, অন্য লেখায় যাচ্ছেন কি না এবং ওয়েবসাইটের কাঙ্ক্ষিত কাজ সম্পন্ন করছেন কি না, সেটিও দেখা দরকার। গুগল অ্যানালিটিক্সের পাঠকের সম্পৃক্ততা ও লক্ষ্যপূরণের তথ্য এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। একটি প্রকাশনার জন্য সফলতার অর্থ শুধু বেশি পাঠক পাওয়া নয়; উপযুক্ত পাঠকের কাছে পৌঁছানোও গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ