মেডিকেল শিক্ষার্থী থেকে বিপ্লবী: চে গুয়েভারা কে বদলে দিয়েছিল যে পথযাত্রা

সর্বাধিক আলোচিত

১৯৫২ সালের জানুয়ারি। ২৩ বছর বয়সী এক মেডিকেল শিক্ষার্থী তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে নিয়ে বুয়েনস আইরেসে একটি পুরোনো মোটরসাইকেলে চেপে বসলেন। উদ্দেশ্য ছিল নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে বেরিয়ে পড়া, দক্ষিণ আমেরিকার বাকি অংশটা ঘুরে দেখা। কিন্তু সেই সফর শেষে যখন বাড়ি ফিরলেন, তখন তিনি আর আগের মানুষটি ছিলেন না। এ গল্প চে গুয়েভারার জীবন বদলে দেওয়া সেই পথযাত্রার, যে কয়েক মাসের ভ্রমণ তাঁকে ধীরে ধীরে বিপ্লবের পথে নিয়ে গিয়েছিল।

২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর বলিভিয়ায় চের মৃত্যুর ৫৯ বছর পূর্ণ হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে পোস্টারে দেখা সেই মানুষটিকে বুঝতে হলে তাই ফিরে তাকাতে হবে তাঁর তরুণ বয়সের এই সফরের দিকে।

চে হয়ে ওঠার আগে কেমন ছিলেন আর্নেস্তো?

১৯২৮ সালের ১৪ জুন আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরে জন্ম নেন Ernesto Guevara। তাঁর পরিবার ছিল মধ্যবিত্ত ও বইপড়ায় অভ্যস্ত। সারা জীবন হাঁপানিতে ভুগেছেন তিনি। তবু রাগবি খেলতেন, ভালোবাসতেন দূরদূরান্তে ঘুরে বেড়াতে।

১৯৫২ সালে তিনি তখনো বুয়েনস আইরেসে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ছেন। বন্ধুরা তাঁকে ডাকতেন ‘Fuser’ নামে, চে নামে নয়। চে নামটি এসেছে আরও পরে। কিউবানরা খেয়াল করেছিলেন, কথা বলার সময় তিনি প্রায়ই আর্জেন্টিনায় প্রচলিত ‘চে’ শব্দটি ব্যবহার করেন। কাউকে ‘এই শোনো, বন্ধু’ বলে সম্বোধন করার মতো একটি শব্দ এটি। জীবন বদলে দেওয়া সেই সফরের আগে আর্নেস্তো ছিলেন মেধাবী, অস্থিরচিত্ত এক তরুণ। নিজের জীবন নিয়ে তখনো তাঁর কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা ছিল না।

১৯৫২ সালে চে গুয়েভারার জীবন বদলে দেওয়া সফর

দুই বন্ধু আর একটি পুরোনো মোটরসাইকেল নিয়ে যাত্রার পরিকল্পনা

এই সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন ২৯ বছর বয়সী প্রাণরসায়নবিদ আলবার্তো গ্রানাদো (Alberto Granado)। তিনি কুষ্ঠরোগীদের নিয়ে কাজ করতেন। কুষ্ঠরোগে মানুষের ত্বক ও স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় এই রোগে আক্রান্ত মানুষদের প্রায়ই সমাজ থেকে আলাদা করে রাখা হতো।

১৯৫২ সালের ৪ জানুয়ারি তাঁরা যাত্রা শুরু করেন। বাহন ছিল গ্রানাদোর ১৯৩৯ সালের Norton 500 মোটরসাইকেল। দুজন মিলে এর নাম রেখেছিলেন La Poderosa II, অর্থাৎ ‘দ্বিতীয় শক্তিমান’। নামটা ছিল অনেকটা রসিকতা করেই রাখা। মোটরসাইকেলটি ছিল পুরোনো, মালপত্রের ভারে জর্জরিত। আর পথে বারবার বিকল হয়ে পড়ছিল।

তাঁদের লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ আমেরিকা পাড়ি দিয়ে পেরুর আমাজন অঞ্চলের একটি কুষ্ঠরোগীদের আবাসে পৌঁছানো। সেখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার পরিকল্পনাও ছিল। সব মিলিয়ে চের জীবন বদলে দেওয়া সেই সফরে তাঁরা ৮,০০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন, যা প্রায় ৫,০০০ মাইল।

পথে কী দেখেছিলেন তিনি?

চিলির সান্তিয়াগো শহরের দক্ষিণে লস এঞ্জেলেস নামে একটি শহরে এসে মোটরসাইকেলটি চিরতরে বিকল হয়ে যায়। এরপর তাঁদের ভরসা ছিল যখন যা পাওয়া যায়। কখনো ট্রাকে, কখনো হেঁটে, কখনো নৌকায়, আবার কখনো অপরিচিত মানুষের কাছে গাড়িতে তুলে নেওয়ার অনুরোধ করে এগিয়েছেন। পরে বোঝা যায়, এই পরিবর্তনই ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মোটরসাইকেল না থাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি মেশার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। আর সেই মানুষগুলোর সঙ্গে পরিচয়ই এই সফরকে চের জীবন বদলে দেওয়া এক অভিজ্ঞতায় পরিণত করে।

চিলির তামার খনিতে যা দেখলেন

উত্তর চিলিতে তাঁরা ঘুরে দেখেন চুকিকামাতা (Chuquicamata)। এটি বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত তামার খনিগুলোর একটি। সে সময় খনিটি পরিচালনা করত মার্কিন কোম্পানিগুলো।

সেখানে যাওয়ার পথে কাজের খোঁজে ঘুরে বেড়ানো এক দরিদ্র দম্পতির সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। কমিউনিস্ট হওয়ার কারণে স্বামীকে কারাগারে যেতে হয়েছিল। প্রচণ্ড ঠান্ডায় সেই মরু অঞ্চলে রাত কাটানোর জন্য দম্পতির কাছে একটি কম্বলও ছিল না। আর্নেস্তো ও তাঁর বন্ধু নিজেদের কম্বল তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। এই সাক্ষাতের কথা আর্নেস্তো গভীর আবেগ নিয়ে লিখেছিলেন। চের জীবন বদলে দেওয়া সেই সফরে এটি ছিল এমন এক অভিজ্ঞতা, যেখানে তিনি প্রথম দিকেই কাছ থেকে দেখেন শ্রমজীবী মানুষের জীবন কতটা কঠিন, আর নিজেদের ভাগ্য বদলানোর ক্ষমতা তাঁদের হাতে কত কম।

পেরুর প্রাচীন সভ্যতার দেশে

পেরুতে এসে চের জীবন বদলে দেওয়া সেই সফর তাঁদের নিয়ে যায় কুজকো ও মাচু পিচুর ধ্বংসাবশেষে। প্রাচীন ইনকা সভ্যতা আর্নেস্তোকে বিস্মিত করেছিল। একই সঙ্গে নিজের দেশেই আদিবাসী মানুষের দুর্দশা দেখে তিনি ব্যথিত হন। তাঁদের অনেকেই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করতেন, অথচ সম্পদের বড় অংশ ছিল অল্প কয়েকজনের হাতে।

লিমায় তাঁদের পরিচয় হয় কুষ্ঠরোগ বিশেষজ্ঞ ড। হুগো পেস (Dr. Hugo Pesce)-এর সঙ্গে। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ছিল বেশ দৃঢ়। তিনি তাঁদের কুষ্ঠরোগীদের আবাসে পৌঁছাতে সাহায্য করেন। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের সঙ্গে নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। আর্নেস্তো পরে বলেছিলেন, এসব আলোচনা তাঁর চিন্তাভাবনা গড়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

আমাজনের তীরে কুষ্ঠরোগীদের সেই আবাস

আমাজন নদীর তীরে ছিল সান পাবলো কুষ্ঠরোগীদের আবাস। নদীর এক পাশে থাকতেন সেখানকার কর্মীরা। অন্য পাশে থাকতেন রোগীরা।

আর্নেস্তো ও আলবের্তো সে সময়ের প্রচলিত নিয়ম মানেননি। তাঁরা কোনো দস্তানা না পরেই রোগীদের সঙ্গে হাত মেলাতেন, একসঙ্গে খেতেন, ফুটবল খেলতেন। বহু বছর পর রোগীরা স্মরণ করেছিলেন, আর্নেস্তো তাঁদের জড়িয়ে ধরতে কিংবা একসঙ্গে খাবার খেতে কোনো ভয় পেতেন না।

১৯৫২ সালের ১৪ জুন সান পাবলো-তেই আর্নেস্তো তাঁর ২৪তম জন্মদিন পালন করেন। ছোট্ট এক অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, মেক্সিকো থেকে মহাদেশের একেবারে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার মানুষ আসলে একই জনগোষ্ঠীর অংশ। দেশগুলোর মাঝখানের সীমান্ত তাঁদের সত্যিকারের বিভাজন নয়। সেখান থেকে বিদায় নেওয়ার আগে হাঁপানির সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তিনি সাঁতরে আমাজনের প্রশস্ত নদী পেরিয়ে রোগীদের থাকার পাশে পৌঁছেছিলেন।

চের জীবন বদলে দেওয়া এই সফরের সব গন্তব্যের মধ্যে অনেক পাঠকের চোখে সান পাবলো-ই গল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কীভাবে শেষ হয়েছিল সেই যাত্রা?

সান পাবলো ছেড়ে যাওয়ার সময় রোগীরা তাঁদের একটি কাঠের ভেলা উপহার দেন। তাঁরা সেটির নাম রাখেন ‘Mambo Tango’। সেই ভেলায় চেপে আমাজনের স্রোত ধরে এগিয়ে ১৯৫২ সালের জুলাই মাসে তাঁরা কলম্বিয়ার লেতিসিয়া (Leticia) শহরে পৌঁছান।

সেখান থেকে কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকা পেরিয়ে তাঁরা যান ভেনেজুয়েলার কারাকাসে। গ্রানাদো একটি কুষ্ঠরোগ চিকিৎসাকেন্দ্রে চাকরি নেন এবং সেখানেই থেকে যান। আর্নেস্তো দেশে ফেরার জন্য বিমানে ওঠেন। তাঁর ফ্লাইটের যাত্রাবিরতি ছিল মায়ামিতে। কিন্তু সেখানে আটকা পড়ে যান তিনি। আর্জেন্টিনায় ফেরার বিমানে ওঠার আগে প্রায় এক মাস তাঁকে মায়ামিতে থাকতে হয়। এ সময় খরচ চালাতে নানা ধরনের ছোটখাটো কাজও করেছিলেন।

এভাবেই চের জীবন বদলে দেওয়া সেই সফর শেষ হয়েছিল নিঃশব্দে। এক বন্ধু থেকে গেলেন ভিনদেশে, অন্যজন একাই বিমানে বাড়ি ফিরলেন।

চিকিৎসক থেকে বিপ্লবী হয়ে ওঠার পথ

মেডিকেল ছাত্র থেকে বিপ্লবী

বুয়েনস আইরেসে ফিরে আর্নেস্তো দ্রুত পড়াশোনা শেষ করার কাজে মন দেন। ১৯৫৩ সালের জুনে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর আবার দেশ ছাড়েন। এবার আর স্থায়ীভাবে ফিরে আসেননি।

তিনি যান গুয়াতেমালায়। সেখানে তাঁর পছন্দের একটি সরকারকে ১৯৫৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হতে দেখেন। এই ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসকে আরও কঠোর করে তোলে। ১৯৫৫ সালে মেক্সিকোয় তাঁর পরিচয় হয় ফিদেল কাস্ত্রো (Fidel Castro)-র সঙ্গে। কিউবার স্বৈরশাসককে উৎখাতের পরিকল্পনায় যোগ দেন তিনি। একসময়ের তরুণ চিকিৎসক হয়ে ওঠেন গেরিলা যোদ্ধা, তারপর কিউবার বিপ্লবের একজন নেতা।

পেছনে ফিরে তাকালে বোঝা যায়, চের জীবন বদলে দেওয়া সেই সফর ছিল তাঁর বিপ্লবী হয়ে ওঠার প্রথম পদক্ষেপ। দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ আর ঐক্যবদ্ধ লাতিন আমেরিকার স্বপ্ন সেই সফর থেকেই শক্তি পেয়েছিল। অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার অধ্যায় এসেছে আরও পরে। সেই পথের শেষটা কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে পড়তে পারেন বলিভিয়ায় চে গুয়েভারার শেষ ১০০ দিনের কাহিনি।

সেই ভ্রমণের দিনলিপি যেভাবে বই ও চলচ্চিত্র হলো

ভ্রমণের সময় আর্নেস্তো একটি দিনলিপি লিখতেন। পরে সেই লেখাগুলো নতুন করে সাজিয়ে বইয়ের রূপ দেন। কিন্তু কয়েক দশক ধরে বইটি প্রকাশিত হয়নি। অবশেষে ১৯৯৩ সালে স্প্যানিশ ভাষায় এবং ১৯৯৫ সালে ইংরেজিতে The Motorcycle Diaries নামে বইটি প্রকাশিত হয়।

বইটির শুরুতেই এমন একটি কথা আছে, যা পুরো সফরের তাৎপর্য তুলে ধরে। আর্নেস্তো লিখেছিলেন, যিনি এই নোটগুলো লিখেছিলেন, তিনি ‘আবার আর্জেন্টিনার মাটিতে পা রাখার মুহূর্তেই মারা গিয়েছিলেন’। আর যিনি এখন সেই লেখাগুলো নতুন করে লিখছেন, তিনি আর আগের সেই মানুষটি নেই।

২০০৪ সালে পরিচালক ওয়াল্টার সালেস (Walter Salles) এই দিনলিপি অবলম্বনে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। আর্নেস্তোর চরিত্রে অভিনয় করেন গেয়েল গার্সিয়া বার্নাল (Gael García Bernal) এবং আলবের্তোর চরিত্রে ছিলেন রদ্রিগো দে লা সেরনা (Rodrigo de la Serna)। ছবিটির ‘Al otro lado del río’ গানের জন্য সেরা মৌলিক গানের অস্কার জেতেন জর্জ আবনার ড্রেক্সলার প্রাদা (Jorge Drexler)। বহু তরুণের কাছে এই চলচ্চিত্রই চের জীবন বদলে দেওয়া সেই পথযাত্রার সঙ্গে প্রথম পরিচয়।

এত বছর পরও কেন গুরুত্বপূর্ণ সেই সফর?

চের জীবনের সবচেয়ে সহজে ভালো লাগার মতো অধ্যায় সম্ভবত ১৯৫২ সালের এই সফর। এখানে দেখা যায় এমন এক তরুণকে, যিনি অসুস্থ ও দরিদ্র মানুষের কথা ভাবতেন। বিশ্বজুড়ে টি-শার্টে তাঁর মুখের ছবি আজও বিক্রি হওয়ার এটিও একটি কারণ। টি-শার্টের ছবির আড়ালে থাকা মানুষটিকে নিয়ে আমাদের লেখায় বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।

কিন্তু তাঁর পুরো জীবনের গল্প এতটা সহজ নয়। সেই সফরে যে বিশ্বাসগুলো তাঁর মধ্যে গড়ে উঠেছিল, পরবর্তী সময়ে সেগুলোই তাঁকে সশস্ত্র সংগ্রাম এবং কিউবার বিপ্লবের পর শত্রুদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে দাঁড়াতে প্রভাবিত করে। কারও চোখে তিনি দরিদ্র মানুষের নায়ক। আবার কারও কাছে তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি খুব সহজেই সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছিলেন। চের উত্তরাধিকারের সঙ্গে এই দুই দৃষ্টিভঙ্গিই জড়িয়ে আছে। তাঁকে নিয়ে সৎভাবে শ্রদ্ধা জানাতে হলে দুটো দিকই স্বীকার করতে হবে।

আলবার্তো গ্রানাদো তাঁর বন্ধুর চেয়ে অনেক বেশি দিন বেঁচে ছিলেন। তিনি কিউবায় চলে যান এবং ২০১১ সালে ৮৮ বছর বয়সে হাভানায় মারা যান।

শেষ কথা

চের জীবন বদলে দেওয়া সেই পথযাত্রা তাঁকে রাতারাতি বিপ্লবী বানায়নি। বরং নিজের মহাদেশের এমন এক বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছিল, যা আগে তিনি এত কাছ থেকে দেখেননি। সেখানে ছিলেন কম্বলহীন খনিশ্রমিক, জমিহীন আদিবাসী কৃষক আর সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা রোগীরা। এসব দেখে তাঁর মনে যে ক্ষোভ জন্মেছিল, তা দিয়ে পরবর্তী জীবনে তিনি যা করেছেন, তা নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে।

চেকে বুঝতে চাইলে তাঁর যাত্রা যেখানে শুরু হয়েছিল, সেখান থেকেই শুরু করুন। The Motorcycle Diaries পড়ুন কিংবা চলচ্চিত্রটি দেখুন। তারপর নিজেকে সেই প্রশ্নটি করুন, যার মুখোমুখি হয়েছিলেন ২৪ বছর বয়সী আর্নেস্তো: যাঁদের জীবন আপনার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন, তাঁদের প্রতি আপনার দায় কতটুকু?

সর্বশেষ