এআই সহকারীকে একটি প্রশ্ন করলেন, কিন্তু উত্তরটি প্রয়োজনের চেয়ে তিন গুণ বড়। আবার অন্য একটি প্রশ্নে দরকার ছিল ব্যাখ্যা, অথচ পাওয়া গেল কয়েকটি সাধারণ বাক্য। টেবিল চেয়েও দেখা গেল এমন পাঁচটি কলাম এসেছে, যার মধ্যে দুটির কোনো প্রয়োজনই ছিল না।
এ ধরনের সমস্যা অনেক সময় মডেলের চেয়ে নির্দেশনার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। আপনি কী জানতে চান, তার পাশাপাশি উত্তরটি কীভাবে পেতে চান—এটিও প্রম্পটে পরিষ্কার করা দরকার। এখানেই AI response formatting prompts কাজে আসে।
সহজভাবে ভাবলে একটি কার্যকর প্রম্পটে কয়েকটি বিষয় থাকতে পারে: কাজটি কী, উত্তর কার জন্য, কতটা বিস্তারিত দরকার, কোন ফরম্যাটে চাইছেন এবং কোন সীমা মানতে হবে। সব প্রশ্নে সবকিছু লিখতে হবে না। যে অংশটি আউটপুট বদলে দেবে, সেটিই যোগ করুন।
“বিষয়টি বুঝিয়ে বলো” কেন অনেক সময় যথেষ্ট নয়
ধরা যাক, আপনি লিখলেন:
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন শেখার সুবিধাগুলো বলো।
প্রশ্নটি বোঝা কঠিন নয়। কিন্তু এখান থেকে এআইকে আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিজে নিতে হচ্ছে। কতগুলো সুবিধা লিখবে? উত্তরটি কার জন্য? সাধারণ আলোচনা হবে, নাকি ব্যবহারিক? পাঁচটি পয়েন্ট যথেষ্ট, নাকি দীর্ঘ ব্যাখ্যা দরকার?
এবার নির্দেশটি একটু বদলানো যাক:
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন শেখার প্রধান সুবিধাগুলো ৫টি পয়েন্টে ব্যাখ্যা করো। প্রতিটি পয়েন্ট সর্বোচ্চ ২টি বাক্যে লিখবে। সময়, খরচ, কোর্সে প্রবেশাধিকার এবং নিজের গতিতে শেখার বিষয়কে অগ্রাধিকার দাও।
এখানে নতুন কোনো জটিল কৌশল যোগ হয়নি। শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু জায়গা আর এআইয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। প্রম্পট লেখার ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ নির্দেশ সব সময় ভালো নয়; পরিষ্কার নির্দেশ বেশি কার্যকর।
ছোট উত্তর চাইলে “সংক্ষেপে”র সঙ্গে একটি মাপ দিন
“সংক্ষেপে বলো” লিখলে সাধারণত উত্তর ছোট হয়। কিন্তু একটি রিপোর্টের জন্য ১৫০ শব্দ এবং মোবাইলে দ্রুত পড়ার জন্য ৪টি বাক্য—দুটোকেই সংক্ষিপ্ত বলা যায়।
কাজের ধরন অনুযায়ী সীমাটি ঠিক করে দেওয়া যায়।
উদাহরণ:
বিষয়টি ১০০ থেকে ১২০ শব্দের মধ্যে ব্যাখ্যা করো। আলাদা ভূমিকা লিখবে না। শুধু মূল কারণ এবং ব্যবহারিক প্রভাব রাখো।
আরও ছোট উত্তর দরকার হলে:
সর্বোচ্চ ৪টি বাক্যে উত্তর দাও। প্রথম বাক্যেই সরাসরি উত্তর দেবে।
দ্রুত স্ক্যান করার মতো আউটপুটের জন্য:
৫টি বুলেট পয়েন্টে লিখো। প্রতিটি পয়েন্ট এক বাক্যের মধ্যে রাখো।
কোনো সিদ্ধান্তের আগে দ্রুত কারণগুলো দেখতে চাইলে:
প্রথমে এক বাক্যে সিদ্ধান্ত দাও। এরপর সর্বোচ্চ ৩টি কারণ লিখো। মোট উত্তর ১৫০ শব্দের মধ্যে রাখো। এখানে একটি বাস্তব সীমাবদ্ধতা মনে রাখা দরকার। কঠোর প্রকাশনা সীমা থাকলে শুধু প্রম্পটের ওপর নির্ভর না করে শেষ লেখা আলাদাভাবে গুনে নেওয়াই ভালো। ১০০ শব্দ চাওয়ার অর্থ এই নয় যে সম্পাদকীয় যাচাই আর প্রয়োজন নেই।
গভীর উত্তর চাইলে গভীরতার মানদণ্ড দিন

“বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো” খুব পরিচিত নির্দেশ। সমস্যা হলো, বিস্তারিত বলতে কী বোঝানো হচ্ছে তা পরিষ্কার নয়। কখনো উত্তর লম্বা হয়, কিন্তু নতুন তথ্য খুব বেশি যোগ হয় না। ধরা যাক, ছোট ব্যবসার জন্য Google Sheets এবং Excel তুলনা দরকার। শুধু “বিস্তারিত তুলনা করো” না লিখে বলা যায়:
ছোট ব্যবসার জন্য Google Sheets এবং Excel তুলনা করো। সহযোগিতামূলক কাজ, অফলাইন ব্যবহার, জটিল হিসাব, শেখার সহজতা এবং খরচ—এই ৫টি দিক বিবেচনা করো। প্রতিটি ক্ষেত্রে সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করো। শেষে কোন পরিস্থিতিতে কোনটি বেশি যুক্তিযুক্ত, তা বলো।
এখানে উত্তরের দৈর্ঘ্যের চেয়ে বিশ্লেষণের দিকগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গবেষণাধর্মী আলোচনায় আরও একটি কাঠামো ব্যবহার করা যায়:
বিষয়টি বিশ্লেষণ করার সময় মূল দাবি, দাবির পক্ষে প্রমাণ, সীমাবদ্ধতা বা বিপরীত যুক্তি এবং কোন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে—এই চারটি বিষয় আলাদা করে দেখাও। নিশ্চিত তথ্য ও অনুমান একসঙ্গে মিশিয়ে লিখবে না।
কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দরকার হলে “আরও গভীরভাবে চিন্তা করো”র চেয়ে “কোন মানদণ্ডে তুলনা করেছ”, “মূল কারণগুলো কী” বা “কোথায় অনিশ্চয়তা আছে”—এসব জানতে চাওয়া বেশি নির্দিষ্ট।
টেবিল চাইলে আগে ঠিক করুন কী তুলনা করবেন
টেবিল মূলত পাশাপাশি তথ্য দেখার জন্য ভালো। কিন্তু শুধু “টেবিলে সাজাও” বললে কলাম নির্বাচনও এআইয়ের হাতে চলে যায়।
ধরা যাক, কয়েকটি ল্যাপটপ তুলনা করছেন। এভাবে নির্দেশ দেওয়া যায়:
৪টি ল্যাপটপ একটি টেবিলে তুলনা করো। শুধু এই কলামগুলো রাখবে: মডেল, প্রধান ব্যবহার, সুবিধা, সীমাবদ্ধতা, কার জন্য উপযোগী। প্রতিটি ঘরে সর্বোচ্চ ২৫ শব্দ লিখবে। টেবিলের পরে ৩ বাক্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।
অথবা কোনো কাজের অগ্রগতি সাজাতে:
৩টি কলাম রাখো: বিষয় | বর্তমান অবস্থা | করণীয়। অন্য কোনো কলাম যোগ করবে না।
এই ছোট নির্দেশটি অপ্রয়োজনীয় তথ্য অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
তবে সবকিছু টেবিলে ঢোকানোও ভালো সিদ্ধান্ত নয়। পাঁচ-ছয় কলামের বড় টেবিল মোবাইলে পড়তে বিরক্তিকর হতে পারে। ধাপ অনুসরণ করতে হলে নম্বরযুক্ত তালিকা, আর কয়েকটি ছোট ধারণা দ্রুত পড়তে হলে বুলেট বেশি স্বাভাবিক।
যেমন:
উত্তরটি ৬টি বুলেটে সাজাও। একটি বুলেটে একটি ধারণাই থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আগে রাখো।
অথবা:
কাজটি ধাপে ধাপে লিখো। প্রতিটি ধাপে কী করতে হবে এবং শেষে কী দেখা উচিত, তা বলো।
অর্থাৎ ফরম্যাট বাছাইয়ের আগে প্রশ্নটি হওয়া উচিত—পাঠক তথ্যটি তুলনা করবে, স্ক্যান করবে, নাকি অনুসরণ করবে?
ফরম্যাট বারবার ভুল হলে একটি নমুনা দিন
কিছু কাজে শুধু নির্দেশ যথেষ্ট। কিন্তু একই ধরনের অনেক আইটেম একই কাঠামোয় দরকার হলে একটি ছোট নমুনা বেশ কাজে দেয়।
ধরা যাক, কয়েকটি টুলের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি লিখতে হবে:
প্রতিটি টুলের জন্য এই চারটি তথ্য দাও:
নাম
মূল ব্যবহার
প্রধান সীমাবদ্ধতা
কাদের জন্য উপযোগী
এতেও কাঠামো বোঝা যায়। তবু যদি আউটপুট বারবার বদলে যায়, একটি নমুনা যোগ করা যায়:
কাঙ্ক্ষিত ধরন:
বিকল্প A
ব্যবহার: ছোট দলের দৈনিক কাজ
শক্তিশালী দিক: সহজ সহযোগিতা
সীমাবদ্ধতা: জটিল বিশ্লেষণে সীমিত
বাকি বিকল্পগুলোও একই বিন্যাসে লিখো।
এ ধরনের উদাহরণ বিশেষভাবে কাজে লাগে যখন নির্দিষ্ট ফরম্যাট ধরে অনেকগুলো আইটেম তৈরি করতে হবে। সাধারণ প্রশ্নে প্রতিবার নমুনা যোগ করার প্রয়োজন নেই।
প্রম্পট লেখার জন্য একটি সহজ কাঠামো
প্রম্পট তৈরি করতে গিয়ে অনেকেই অকারণে বড় টেমপ্লেট ব্যবহার করেন। বেশির ভাগ দৈনন্দিন কাজে কয়েকটি ছোট প্রশ্নই যথেষ্ট:
1. কী করতে হবে?
সারাংশ, তুলনা, ব্যাখ্যা, সম্পাদনা, তালিকা—কাজটি স্পষ্ট করুন।
2. কার জন্য লেখা হচ্ছে?
স্কুলশিক্ষার্থী ও বিষয়বিশেষজ্ঞের জন্য একই ব্যাখ্যা দরকার হবে না।
3. কোন দিকগুলো গুরুত্বপূর্ণ?
তুলনার মানদণ্ড বা বিশ্লেষণের বিষয় আগে বলে দিন।
4. উত্তর কীভাবে সাজানো হবে?
অনুচ্ছেদ, বুলেট, টেবিল, ধাপ—প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বেছে নিন।
5. কোন সীমা আছে?
শব্দসংখ্যা, পয়েন্টের সংখ্যা, বাদ দিতে হবে এমন বিষয় বা নির্দিষ্ট কলাম উল্লেখ করুন।
6. তথ্য নিয়ে কী সতর্কতা দরকার?
প্রয়োজনে বলুন—অনিশ্চিত তথ্য অনুমান করবে না, দেওয়া নথির বাইরে যাবে না বা সময়-সংবেদনশীল তথ্য আলাদা করবে।
সবগুলো একত্র করলে নির্দেশটি এমন হতে পারে:
বাংলাদেশের একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের জন্য মাসিক বাজেট তৈরির পদ্ধতি ৬টি ধাপে ব্যাখ্যা করো। প্রতিটি ধাপে একটি ছোট উদাহরণ দাও। মোট লেখা ৭০০ শব্দের মধ্যে রাখো। আয় বা খরচের কোনো সংখ্যা অনুমান করে তৈরি করবে না। শেষে ৫টি বিষয়ের একটি চেকলিস্ট দাও। এখানে আলাদা করে কোনো “বিশেষ প্রম্পট ফর্মুলা” মুখস্থ করতে হচ্ছে না। কাজের প্রয়োজনগুলোই একে একে বলা হয়েছে।
প্রথম উত্তর পছন্দ না হলে ঠিক কোন জায়গাটি ভুল, সেটি বলুন

প্রথম উত্তরই চূড়ান্ত হতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। বরং আগের ফল দেখে দ্বিতীয় নির্দেশটি ছোট ও নির্দিষ্ট করা যায়।
উত্তর প্রয়োজনের চেয়ে বড়?
মূল তথ্য রাখো, কিন্তু পুনরাবৃত্তি ও সাধারণ ব্যাখ্যা বাদ দিয়ে লেখাটি ছোট করো।
খুব ভাসা-ভাসা?
প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের সঙ্গে কারণ, বাস্তব প্রয়োগ এবং প্রাসঙ্গিক সীমাবদ্ধতা যোগ করো।
টেবিল বেশি জটিল?
টেবিলে শুধু নাম, মূল পার্থক্য, সীমাবদ্ধতা এবং উপযোগী ব্যবহারকারী—এই ৪টি কলাম রাখো।
এখানে সুবিধা হলো, প্রথম প্রম্পট আবার নতুন করে লেখার প্রয়োজন পড়ছে না। যে জায়গায় সমস্যা হয়েছে, শুধু সেটিই সংশোধন করা হচ্ছে।
গোছানো উত্তর মানেই সঠিক তথ্য নয়
প্রম্পট দিয়ে একটি উত্তরকে সুন্দরভাবে সাজানো যায়। কিন্তু সুন্দর ফরম্যাট কোনো দাবির সত্যতার প্রমাণ দেয় না। বিশেষ করে গবেষণা, স্বাস্থ্য, আইন, অর্থ, নিরাপত্তা, পণ্য কেনা বা সাম্প্রতিক তথ্যের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের কাজে নির্দেশের সঙ্গে যোগ করা যায়:
যাচাই করা যায় না এমন তথ্য অনুমান করে লিখবে না। কোনো তথ্য অনিশ্চিত বা সময়-সংবেদনশীল হলে তা আলাদা করে উল্লেখ করো। সাম্প্রতিক তথ্য প্রয়োজন হলে নির্ভরযোগ্য বর্তমান উৎস যাচাই করো।
কোনো নির্দিষ্ট নথি নিয়ে কাজ করলে আরও কঠোরভাবে সীমা দেওয়া যায়:
শুধু দেওয়া নথির তথ্য ব্যবহার করো। উত্তর নথিতে না থাকলে “তথ্য পাওয়া যায়নি” লিখবে। বাইরের তথ্য দিয়ে ফাঁক পূরণ করবে না। আর ব্যক্তিগত, গোপন বা প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এআই সেবার বর্তমান privacy ও data-use policy এবং নিজের প্রতিষ্ঠানের নিয়ম দেখা দরকার। প্রম্পট যত ভালোই হোক, সেটি তথ্য ব্যবস্থাপনার নীতির জায়গা নেয় না।
আরও পড়ুন: ChatGPT, Gemini ও Claude: কোন কাজের জন্য কোন AI Assistant বেছে নেবেন
মানুষের জন্য টেবিল, সফটওয়্যারের জন্য Structured Output
এখানে একটি পার্থক্য প্রায়ই উপেক্ষিত হয়।
আপনি যদি নিজে একটি তুলনা পড়তে চান, সাধারণ Markdown টেবিল যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু সেই আউটপুট যদি পরে কোনো সফটওয়্যার, অটোমেশন বা ডেটা প্রসেসিং সিস্টেম ব্যবহার করে, তখন শুধু “টেবিলে দাও” বলা যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়।
Gemini API-তে Structured Outputs ব্যবহার করে নির্দিষ্ট JSON Schema অনুযায়ী response তৈরি করা যায়। এ ধরনের সুবিধা মূলত machine-readable data-এর জন্য।
সহজভাবে:
- মানুষ পড়বে: টেবিল, বুলেট, তালিকা বা অনুচ্ছেদ।
- সফটওয়্যার পড়বে: API সমর্থন করলে schema-ভিত্তিক Structured Output।
চ্যাটে একটি টেবিল চাওয়া আর কোনো অ্যাপ্লিকেশনের জন্য নির্দিষ্ট JSON কাঠামো তৈরি করা একই কাজ নয়।
সরাসরি ব্যবহার করার মতো কয়েকটি প্রম্পট
দ্রুত সারাংশ
নিচের লেখাটি ১৫০ শব্দের মধ্যে সংক্ষেপ করো। মূল দাবি, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সিদ্ধান্ত রাখবে। উদাহরণ এবং পুনরাবৃত্ত ব্যাখ্যা বাদ দাও।
দুটি বিকল্পের গভীর তুলনা
[A] ও [B] তুলনা করো। খরচ, ব্যবহার সহজতা, সীমাবদ্ধতা, ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের দিক বিবেচনা করো। শেষে কোন পরিস্থিতিতে কোন বিকল্প যুক্তিযুক্ত, তা বলো।
পরিষ্কার টেবিল
তথ্যগুলো একটি টেবিলে সাজাও। কলাম থাকবে: বিষয় | সুবিধা | সীমাবদ্ধতা | উপযোগী পরিস্থিতি। প্রতিটি ঘরে সর্বোচ্চ ৩০ শব্দ লিখবে। অতিরিক্ত কলাম যোগ করবে না।
পড়ার নোট
বিষয়টি পরীক্ষার প্রস্তুতির নোটে রূপান্তর করো। প্রথমে ৫টি মূল ধারণা, এরপর গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা, শেষে ১০টি পুনরালোচনা প্রশ্ন দাও। আলাদা ভূমিকা লিখবে না।
যাচাই প্রয়োজন এমন কাজ
যাচাই করা তথ্য এবং অনুমান আলাদা রাখো। যাচাই করা যায় না এমন দাবি তৈরি করবে না। সময়-সংবেদনশীল তথ্যের তারিখ উল্লেখ করো। নির্ভরযোগ্য উৎসে মতভেদ থাকলে সেটিও স্পষ্ট করো।
শুরুতে তিনটি বিষয় ঠিক করলেই অনেক কাজ সহজ হয়
প্রতিটি কাজের জন্য বিশাল প্রম্পট বানানোর দরকার নেই। AI response formatting prompts ব্যবহার করার সময় শুরুতেই তিনটি বিষয় ঠিক করুন:
উত্তর কতটা বিস্তারিত হবে, কীভাবে সাজানো হবে এবং কোন বিষয়গুলো বাদ যাবে।
তারপর দরকার হলে পাঠক, প্রেক্ষাপট, তুলনার মানদণ্ড বা তথ্য যাচাইয়ের নিয়ম যোগ করুন।
প্রথম ফল ঠিক না হলে পুরো নির্দেশ বাতিল করারও প্রয়োজন নেই। উত্তর বেশি বড় হলে ছোট করতে বলুন, সাধারণ হলে মানদণ্ড যোগ করুন, টেবিল অগোছালো হলে কলাম বেঁধে দিন। এই পদ্ধতিতে প্রম্পট লেখার কাজও সহজ থাকে, আবার আউটপুটের ওপর নিয়ন্ত্রণও বাড়ে। তবে একটি বিষয় আলাদা রাখাই ভালো: ফরম্যাট ঠিক করা এবং তথ্য যাচাই করা দুইটি ভিন্ন কাজ। একটি পরিষ্কার উত্তর পড়তে সুবিধা দেয়; সেটি সত্য কি না, সেই যাচাই প্রয়োজনমতো আলাদাভাবেই করতে হবে।
শেষবার মনে রাখার বিষয়
ভালো প্রম্পট মানেই দীর্ঘ প্রম্পট নয়। বরং কোন তথ্য দরকার, কতটা বিস্তারিত উত্তর চান এবং সেটি কীভাবে সাজানো হবে—এই তিনটি বিষয় পরিষ্কার থাকলে বেশির ভাগ কাজেই আউটপুট অনেক বেশি ব্যবহারযোগ্য হয়।
প্রথমবারেই নিখুঁত নির্দেশ লেখার চেষ্টা না করে ফল দেখে প্রম্পট সামান্য বদলানো বেশি বাস্তবসম্মত। উত্তর বড় হলে সীমা দিন, সাধারণ হলে বিশ্লেষণের মানদণ্ড যোগ করুন, আর টেবিল অগোছালো হলে প্রয়োজনীয় কলাম নির্দিষ্ট করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, AI response formatting prompts উত্তর কীভাবে উপস্থাপিত হবে তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে; তথ্যটি সত্য কি না, সেটি নিশ্চিত করে না। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, সাম্প্রতিক তথ্য বা গবেষণাভিত্তিক কাজে তাই ফরম্যাটের পাশাপাশি তথ্য যাচাইকেও আলাদা ধাপ হিসেবে রাখুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বিস্তারিত উত্তর চাইলে কী লিখতে হবে?
“বিস্তারিত বলো”র সঙ্গে কোন দিকগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে সেটিও বলুন। যেমন, কোনো দুটি টুল তুলনা করলে খরচ, ব্যবহার সহজতা, সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তা বা নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর প্রয়োজন—যে মানদণ্ড প্রাসঙ্গিক, সেগুলো উল্লেখ করুন। এতে উত্তর শুধু দীর্ঘ হওয়ার বদলে নির্দিষ্ট বিষয়ে গভীর হতে পারে।
একই Prompt কি ChatGPT, Gemini ও Claude-এ একই উত্তর দেবে?
হুবহু একই উত্তর পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। মডেল ও প্ল্যাটফর্মভেদে আউটপুটের ধরন বদলাতে পারে। তবে কাজ, প্রেক্ষাপট, দৈর্ঘ্য, কাঠামো এবং সীমা স্পষ্ট করে দেওয়ার কৌশল বিভিন্ন এআই সহকারীতেই ব্যবহার করা যায়।
নির্দিষ্ট শব্দসংখ্যা দিলে কি ঠিক সেই সংখ্যক শব্দ পাওয়া যাবে?
শব্দসীমা দিলে আউটপুটের দৈর্ঘ্য নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়, তবে প্রকাশনার জন্য কঠোর সীমা থাকলে তৈরি লেখাটি আলাদাভাবে গুনে দেখা উচিত। শব্দসংখ্যা চাওয়াকে নির্দেশ হিসেবে ব্যবহার করুন, চূড়ান্ত সম্পাদনার বিকল্প হিসেবে নয়।
ভালো Prompt কি ভুল তথ্য বা hallucination আটকাতে পারে?
ভালো Prompt ভুল তথ্যের ঝুঁকি কমাতে কিছু নির্দেশ দিতে পারে—যেমন অনুমান না করা, অনিশ্চিত তথ্য আলাদা করা বা নির্ভরযোগ্য বর্তমান উৎস যাচাই করতে বলা। কিন্তু শুধু ভালো formatting Prompt তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে না।

