১ লাখ টাকার নিচে বাংলাদেশের সেরা ৫টি ইলেকট্রিক বাইক: দাম, চার্জে চলার দূরত্ব ও বিস্তারিত রিভিউ

সর্বাধিক আলোচিত

যানজটের এই শহরে প্রতিদিনের যাতায়াত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং পরিবেশ দূষণের কারণে মানুষ এখন যাতায়াতের বিকল্প মাধ্যম খুঁজছে। এই পরিস্থিতিতে ইলেকট্রিক বাইক বা ই-বাইক একটি চমৎকার এবং সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

বিশেষ করে যারা প্রতিদিন অফিস বা ব্যবসায়িক কাজে বের হন, তাদের জন্য এটি দারুণ কার্যকরী একটি বাহন। অনেকেই বাজেটের মধ্যে ভালো মানের বাইক কিনতে চান, কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে বিভ্রান্ত হন। তাই এই আর্টিকেলে আমরা ১ লাখ টাকার নিচে বাংলাদেশের সেরা ইলেকট্রিক বাইক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

সেরা ৫টি ইলেকট্রিক বাইকের একনজরে তুলনা

মডেলের নাম ব্যাটারির ধরন রেঞ্জ (প্রতি চার্জে) সর্বোচ্চ গতি আনুমানিক দাম
ওয়ালটন তাকিওন লিও (Walton Takyon Leo) লিথিয়াম আয়ন ৭০-৮০ কি.মি. ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা ৪৯,৮৫০ টাকা
রিভো এ১০ (Revoo A10) গ্রাফিন লেড এসিড ৬০-৭০ কি.মি. ৪০ কি.মি./ঘণ্টা ৭৯,৯০০ টাকা
রিভো এ১১ (Revoo A11) লিথিয়াম আয়ন ৬০-৭০ কি.মি. ৪৫ কি.মি./ঘণ্টা ৮৯,৯০০ টাকা
ইবিএ অ্যাসেন্ট (EBA Assent) লেড এসিড ৬০-৮০ কি.মি. ৫০ কি.মি./ঘণ্টা ৯৯,৯০০ টাকা
টেইলজি মেংসু আর৩০ (TailG MENGSU R30) গ্রাফিন লেড এসিড ৭০-৮০ কি.মি. ৫০ কি.মি./ঘণ্টা ৯৯,৯৯০ টাকা

ব্যবহারকারীদের রিভিউ অনুযায়ী বিশেষ পছন্দ

  • সবচেয়ে সাশ্রয়ী: ওয়ালটন তাকিওন লিও (Walton Takyon Leo)। এটি দামের দিক থেকে সবচেয়ে সস্তা এবং এতে পোর্টেবল ব্যাটারি রয়েছে।
  • শহরের জন্য সেরা: রিভো এ১০ (Revoo A10)। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় খুব সহজে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং রাইডিং বেশ আরামদায়ক।
  • সেরা ডিজাইন: টেইলজি মেংসু আর৩০ (TailG MENGSU R30)। এর প্রিমিয়াম লুক এবং আধুনিক ফিচার একে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

১ লাখ টাকার নিচে বাংলাদেশের সেরা ইলেকট্রিক বাইক: বিস্তারিত রিভিউ

১. ওয়ালটন তাকিওন লিও (Walton Takyon Leo)

ওয়ালটন বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত দেশীয় ব্র্যান্ড যা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রযুক্তি পণ্য সরবরাহ করে। তাদের তৈরি তাকিওন লিও মডেলটি বাজেটের মধ্যে চমৎকার একটি অপশন হিসেবে বাজারে এসেছে। এটি মূলত সাধারণ ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য এটি দারুণ পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি

এই বাইকটির ডিজাইন বেশ ছিমছাম এবং সাধারণ। প্লাস্টিক বডি হওয়ার কারণে এর ওজন তুলনামূলকভাবে বেশ কম। ফলে নতুন রাইডাররা খুব সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে হালকা ওজনের কারণে হাইওয়েতে চালানোর সময় কিছুটা ভারসাম্যহীন মনে হতে পারে।

মোটর ও ব্যাটারি পারফরম্যান্স

তাকিওন লিও মডেলে একটি ১২০০ ওয়াটের শক্তিশালী মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো পোর্টেবল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। আপনি চাইলে ব্যাটারিটি বাইক থেকে খুলে বাসায় বা অফিসে নিয়ে গিয়ে চার্জ করতে পারবেন। একবার সম্পূর্ণ চার্জ হতে এটি প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় নেয়।

ব্রেকিং ও সাসপেনশন

নিরাপদ রাইডিংয়ের জন্য এতে সামনে এবং পেছনে উন্নতমানের ব্রেকিং সিস্টেম দেওয়া হয়েছে। এর হাইড্রোলিক সাসপেনশন সিস্টেম বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। উঁচু নিচু রাস্তায় চালানোর সময় চালক এবং আরোহী দুজনেই বেশ আরাম অনুভব করবেন।

এক নজরে ওয়ালটন তাকিওন লিও:

ফিচার বিবরণ
মোটর ১২০০ ওয়াট বিএলডিসি
ব্যাটারি ৭২ ভোল্ট, ২০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার
রেঞ্জ ৭০-৮০ কিলোমিটার
দাম ৪৯,৮৫০ টাকা

সুবিধা:

  • দাম অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে।
  • পোর্টেবল ব্যাটারির কারণে যেকোনো স্থানে চার্জ করা সহজ।
  • দেশীয় ব্র্যান্ড হওয়ায় এর সার্ভিসিং ও স্পেয়ার পার্টস সব জায়গায় পাওয়া যায়।

সমস্যা:

  • এর বডি প্লাস্টিকের হওয়ায় খুব বেশি টেকসই বা মজবুত নয়।
  • বাইকের সর্বোচ্চ গতি কিছুটা কম হওয়ায় দীর্ঘ যাত্রায় সময় বেশি লাগে।

২. রিভো এ১০ (Revoo A10)

রিভো ব্র্যান্ডের স্কুটারগুলো স্টাইলিশ ডিজাইনের কারণে বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই মডেলটি প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য খুবই আরামদায়ক একটি স্কুটার। এটি শহরের ট্রাফিকের মধ্যে খুব সহজে এবং নিরাপদে চালানো যায়।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি

রিভো এ১০ স্কুটারটির ডিজাইন আধুনিক এবং বেশ আকর্ষণীয়। এর অ্যারোডাইনামিক শেপ বাতাস কেটে সহজে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। বডির প্লাস্টিক কোয়ালিটি বেশ উন্নত যা সহজে ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে না।

মোটর ও ব্যাটারি পারফরম্যান্স

এই স্কুটারে ১০০০ ওয়াটের একটি মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একবার চার্জ দিলে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত অনায়াসে চলতে পারে। এর ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ হতে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হয়।

ব্রেকিং ও সাসপেনশন

ব্রেকিংয়ের জন্য এর সামনের চাকায় ডিস্ক ব্রেক এবং পেছনের চাকায় ড্রাম ব্রেক রয়েছে। এটি যেকোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত স্কুটার থামাতে সাহায্য করে। এর সাসপেনশন সিস্টেম শহরের রাস্তার জন্য বেশ উপযোগী।

এক নজরে রিভো এ১০:

ফিচার বিবরণ
মোটর ১০০০ ওয়াট
টায়ার টিউবলেস
রেঞ্জ ৬০-৭০ কিলোমিটার
দাম ৭৯,৯০০ টাকা

সুবিধা:

  • শহরের ব্যস্ত রাস্তায় সহজে ঘোরানো এবং চালানো যায়।
  • অ্যান্টি থেফট অ্যালার্ম সিস্টেম থাকায় বাইক চুরির ঝুঁকি কম থাকে।
  • এর মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অত্যন্ত কম।

সমস্যা:

  • সিটের নিচে স্টোরেজ স্পেস কিছুটা কম হওয়ায় বড় হেলমেট রাখা কঠিন।
  • হাইওয়েতে চালানোর জন্য এই স্কুটারটি খুব একটা মানানসই নয়।

Comparison of best electric bike in Bangladesh

৩. রিভো এ১১ (Revoo A11)

রিভো এ১০ এর সাফল্যের পর একটু বেশি ফিচারের সাথে রিভো এ১১ মডেলটি বাজারে এসেছে। এর ডিজাইন বেশ স্পোর্টি এবং এটি চমৎকার মাইলেজ দিতে সক্ষম। যারা স্টাইল এবং দৈনন্দিন পারফরম্যান্স দুটোই চান তাদের জন্য এটি ভালো একটি পছন্দ। বাজারে উপলব্ধ বাংলাদেশের সেরা ইলেকট্রিক বাইক গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম একটি মডেল।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি

এই স্কুটারটির বডি প্যানেল বেশ চওড়া এবং দেখতে প্রিমিয়াম লাগে। এর সিটিং পজিশন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা দীর্ঘ যাত্রায় চালককে ক্লান্ত হতে দেয় না। পায়ের কাছে বেশ ভালো জায়গা থাকায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহজে বহন করা যায়।

মোটর ও ব্যাটারি পারফরম্যান্স

এতে ১২০০ ওয়াটের মোটর এবং শক্তিশালী লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ডিজিটাল স্পিডোমিটারে ব্যাটারির চার্জ এবং গতির সঠিক পরিমাপ দেখা যায়। ফুল চার্জে এটি প্রায় ৭০ কিলোমিটার রেঞ্জ দিতে পারে।

ব্রেকিং ও সাসপেনশন

এই স্কুটারের সাসপেনশন অনেক বেশি রেসপন্সিভ যা গর্ত বা স্পিড ব্রেকারে দারুণ কাজ করে। এর স্পিড কন্ট্রোল এবং ব্যালেন্সিং সিস্টেম চালককে আত্মবিশ্বাসের সাথে রাইড করতে সাহায্য করে। পার্কিংয়ে সাহায্য করার জন্য এতে রিভার্স গিয়ার সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।

এক নজরে রিভো এ১১:

ফিচার বিবরণ
মোটর ১২০০ ওয়াট
মিটার স্মার্ট ফুল ডিজিটাল
রেঞ্জ ৬০-৭০ কিলোমিটার
দাম ৮৯,৯০০ টাকা

সুবিধা:

  • উন্নত সাসপেনশনের কারণে যেকোনো রাস্তায় রাইডিং বেশ আরামদায়ক হয়।
  • দীর্ঘ যাত্রার জন্য এর সিটিং পজিশন অত্যন্ত চমৎকার।
  • মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইস চার্জ করার জন্য ইউএসবি পোর্ট রয়েছে।

সমস্যা:

  • বাইকটির ওজন কিছুটা বেশি হওয়ায় অনেকের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।
  • দাম প্রায় নব্বই হাজার টাকা হওয়ায় বাজেট ব্যবহারকারীদের জন্য একটু ব্যয়বহুল।

৪. ইবিএ অ্যাসেন্ট (EBA Assent)

ইবিএ অ্যাসেন্ট মডেলটি মূলত এর স্থায়িত্ব এবং শক্তিশালী ব্যাটারি পারফরম্যান্সের জন্য সুপরিচিত। যারা রাফ এবং টাফ ব্যবহারের জন্য বাইক খুঁজছেন তাদের জন্য এটি সেরা অপশন। মজবুত গঠনের কারণে এটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য বেশ উপযুক্ত।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি

এই বাইকটির ফ্রেম বেশ মজবুত ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি। এর বিল্ড কোয়ালিটি অত্যন্ত প্রিমিয়াম যা সহজে নষ্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। চওড়া সিট থাকায় দুজন যাত্রী খুব আরামদায়কভাবে বসতে পারেন।

মোটর ও ব্যাটারি পারফরম্যান্স

ইবিএ অ্যাসেন্টে ১৫০০ ওয়াটের বিএলডিসি মোটর ব্যবহার করা হয়েছে যা বেশ শক্তিশালী। এটি ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে ফলে খুব দ্রুত ব্যাটারি চার্জ করে নেওয়া যায়। একবার ফুল চার্জে এটি ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম।

ব্রেকিং ও সাসপেনশন

নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এর সামনের এবং পেছনের উভয় চাকায় ডুয়েল ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয়েছে। এর ব্রেকিং সিস্টেম অত্যন্ত নিরাপদ এবং দ্রুত কাজ করে। সাসপেনশন সিস্টেম শক্ত হওয়ায় ভারী ওজন নিয়েও সহজে চলাচল করা যায়।

এক নজরে ইবিএ অ্যাসেন্ট:

ফিচার বিবরণ
মোটর ১৫০০ ওয়াট বিএলডিসি
ব্রেক ডুয়েল ডিস্ক ব্রেক
রেঞ্জ ৬০-৮০ কিলোমিটার
দাম ৯৯,৯০০ টাকা

সুবিধা:

  • বাইকের বিল্ড কোয়ালিটি অত্যন্ত মজবুত এবং টেকসই।
  • শক্তিশালী মোটর থাকায় উঁচু ব্রিজে বা ঢালু রাস্তায় সহজে ওঠা যায়।
  • ডুয়েল ডিস্ক ব্রেকের কারণে ব্রেকিং অত্যন্ত নিরাপদ।

সমস্যা:

  • সব সময় স্থানীয় বাজারে এর স্পেয়ার পার্টস বা যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় না।
  • এর লেড এসিড ব্যাটারি দীর্ঘমেয়াদে পরিবর্তন করা কিছুটা ব্যয়বহুল।

৫. টেইলজি মেংসু আর৩০ (TailG MENGSU R30)

টেইলজি ব্র্যান্ডের এই বাইকটি আধুনিক ডিজাইন এবং উন্নত প্রযুক্তির এক দারুণ সমন্বয়। এর কন্ট্রোলিং সিস্টেম বেশ উন্নত হওয়ায় নতুন চালকরাও খুব সহজে এটি চালাতে পারবেন। বাজেট ১ লাখের কাছাকাছি হলেও এর শক্তিশালী পারফরম্যান্স আপনাকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করবে।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি

এর ডিজাইন অনেকটা রেসিং স্কুটারের মতো স্পোর্টি এবং অ্যাগ্রেসিভ। প্রজেক্টর হেডলাইট এবং শার্প লাইনের কারণে এটি দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় লাগে। এর অ্যালয় হুইল বাইকটিকে একটি প্রিমিয়াম লুক প্রদান করে।

মোটর ও ব্যাটারি পারফরম্যান্স

এই মডেলে ১৫০০ ওয়াটের মোটর এবং গ্রাফিন লেড এসিড ব্যাটারি রয়েছে। এর ক্রুজ কন্ট্রোল সিস্টেম দীর্ঘ ফাঁকা রাস্তায় চালানোর সময় দারুণ কাজে আসে। এটি একবার চার্জ দিলে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ প্রদান করে।

ব্রেকিং ও সাসপেনশন

এতে মজবুত টিউবলেস টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে যা রাস্তায় ভালো গ্রিপ দেয়। এর ব্রেকিং সিস্টেম এবং হাইড্রোলিক সাসপেনশন চালককে দারুণ আত্মবিশ্বাস যোগায়। স্মুথ এক্সিলারেশনের কারণে রাইডিং অভিজ্ঞতা অনেক বেশি প্রিমিয়াম মনে হয়।

এক নজরে টেইলজি মেংসু আর৩০:

ফিচার বিবরণ
মোটর ১৫০০ ওয়াট
লাইট এলইডি প্রজেক্টর
রেঞ্জ ৭০-৮০ কিলোমিটার
দাম ৯৯,৯৯০ টাকা

সুবিধা:

  • স্মার্ট কি লেস এন্ট্রি এবং পুশ স্টার্ট বাটন ব্যবহারের আধুনিক সুবিধা রয়েছে।
  • রাতে নিরাপদে চালানোর জন্য প্রজেক্টর হেডলাইটের আলো খুবই স্পষ্ট।
  • ক্রুজ কন্ট্রোলের মতো প্রিমিয়াম ফিচার এই বাজেটে পাওয়া যাচ্ছে।

সমস্যা:

  • এই ব্র্যান্ডের শোরুম এবং সার্ভিস সেন্টার সারা দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই।
  • বাইরের বডি পার্টস ভেঙে গেলে তা পরিবর্তন করা বেশ সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল।

কীভাবে সঠিক ই-বাইক নির্বাচন করবেন?

বাজারে এখন অসংখ্য ব্র্যান্ড এবং মডেলের ই-বাইক পাওয়া যায়। এর মধ্যে থেকে নিজের জন্য সঠিকটি বেছে নেওয়া বেশ বিভ্রান্তিকর হতে পারে। একটি ভালো ই-বাইক কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত।

  • ব্যাটারির ধরন ও লাইফ সাইকেল: ই-বাইকের প্রধান অংশ হলো এর ব্যাটারি। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির আয়ুষ্কাল বেশি হয় এবং এটি ওজনে হালকা হয়। লেড এসিড ব্যাটারির দাম কম হলেও এর ওজন বেশি এবং আয়ুষ্কাল কিছুটা কম থাকে।
  • মোটরের ক্ষমতা: আপনার প্রতিদিনের যাতায়াতের দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে মোটর নির্বাচন করুন। সমতল রাস্তার জন্য ১০০০ থেকে ১২০০ ওয়াটের মোটর যথেষ্ট। তবে উঁচু রাস্তা বা ব্রিজে ওঠার জন্য ১৫০০ ওয়াটের মোটর ভালো পারফর্ম করে।
  • বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন: বর্তমানে বাংলাদেশে নির্দিষ্ট গতির ওপর ভিত্তি করে ই-বাইকের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাইক কেনার আগে অবশ্যই জেনে নিন আপনার নির্বাচিত মডেলটির জন্য বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন লাগবে কি না।
  • সার্ভিসিং এবং স্পেয়ার পার্টস: বাইক কেনার পর সার্ভিসিং একটি বড় চিন্তার বিষয়। যেই ব্র্যান্ডের আফটার সেলস সার্ভিস ভালো এবং পার্টস সহজে পাওয়া যায় সেই ব্র্যান্ডটি বেছে নিন।
  • চার্জিং সুবিধা: বাসায় বা গ্যারেজে সহজে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে কি না তা আগে নিশ্চিত করুন। প্রয়োজন হলে পোর্টেবল ব্যাটারি যুক্ত মডেলগুলো বিবেচনা করতে পারেন যা সহজে খুলে চার্জ করা যায়।

শেষ কথা

বর্তমানে প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য একটি ই-বাইক বেশ সময়োপযোগী এবং পরিবেশবান্ধব একটি সিদ্ধান্ত। জ্বালানি খরচ বাঁচানোর পাশাপাশি এটি মেইনটেন্যান্সের ঝামেলাও অনেক কমিয়ে দেয়। নিজের প্রয়োজন এবং বাজেট অনুযায়ী সঠিক মডেলটি বেছে নেওয়া সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি আমাদের এই বিস্তারিত তালিকাটি আপনাকে বাংলাদেশের সেরা ইলেকট্রিক বাইক খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। বাইক চূড়ান্তভাবে কেনার আগে অবশ্যই আপনার কাছের শোরুমে গিয়ে পছন্দের মডেলটির একটি টেস্ট রাইড করে নেওয়া ভালো।

সর্বশেষ